قصة موسى الكليم عليه الصلاة والسلام
পৃষ্ঠা - ৬৪৭
নিয়ামত প্রদান করেছেন, তা স্মরণ করিয়ে দেন ৷ যেমন আল্লাহ্ তাআলা বনী ইসরাঈলকে
ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা করেহ্নেৰু এবং তাদেরকে যেন শকুনের দুইটি
পাখায় উঠিয়ে ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছেন ৷ অতঃপর আল্পাহ্ তাআলা মুসা
(আ)কে নির্দেশ দেন, তিনি যেন বনী ইসরাঈলকে পবিত্রতা অর্জন করতে, গোসল করতে,
কাপড়-চােপড় ধুয়ে তৃতীয় দিবসের জন্যে তৈরি হতে হুকুম দেন ৷ তৃতীয় দিন সমাগত হলে
তিনি নির্দেশ দেন, তারা যেন পাহাড়ের পাশে সমবেত হন, তবে তাদের মধ্য হতে কেউ যেন
মুসা (আ)-এর কাছে না আসে ৷ যদি তাদের মধ্য থেকে কেউ তার কাছে আসে তাহলে তাকে
হত্যা করা হবে ৷ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা শিংগার আওয়াজ শুনতে থাকবে, এমনকি একটি প্রাণীও
তখন তীর কাছে যেতে পারবে না ৷ যখন শিংগার আওয়াজ বন্ধ হয়ে যাবে তখন পাহাড়ে যাওয়া
তাদের জন্যে বৈধ হবে ৷ বনী ইসরাঈলও মুসা (আ)-এর কথা শুনলেন; তার আনুগত্য করলেন,
গোসল করলেন; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলেন; পবিত্রতা অর্জন করলেন ও খুশবু ব্যবহার করলেন ৷
তৃতীয় দিন পাহাড়ের উপর বিরাট মেঘখণ্ড দেখা দিল; সেখানে গর্জন শোনা (গল; বিদ্যুৎ
চমকাতে লাগল ও শিংগার বিকট আওয়াজ শোনা যেতে লাগল ৷ এতে বনী ইসরইিল ঘাবড়ে
গেল ও অভ্যস্ত আতৎকগ্রস্ত হয়ে পড়ল ৷ তারা ঘরের বের হল এবং পাহাড়ের কিনারায় র্দাড়াল ৷
পাহাড়কে বিরাট ঘেড়ায়ায় ঢেকে ফেলল , তার মধ্যে ছিল অনেকগুলো নুরের স্তম্ভ ৷
সমস্ত পাহাড় প্রচণ্ডভাবে র্কাপতে লাগল, শিংগার গত্তনি অব্যাহত রইল এবং ক্রমাগত তা
বৃদ্ধি পেতে লাগল ৷ মুসা (আ) ছিলেন পাহাড়ের উপরে, আল্লাহ্ তাআলা তার সাথে একান্তে
কথা বলছিলেন ৷ আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে নেমে যেতে হুকুম দিলেন ৷ মুসা (আ) বনী
ইসরাঈলকে আল্পাহ্ তাআলার কালাম শোনার জন্যে পাহাড়ের নিকটবর্তী হতে নির্দেশ
দিয়েছিলেন ৷ তাদের আলেমদেরকেও তিনি নিকটবর্তী হতে আদেশ দিয়েছিলেন ৷ অতঃপর
অধিক নৈকট্য অর্জন করার জন্যে তাদেরকে পাহাড়েও চড়তে হুকুম দিলেন ৷
উপরোক্ত সংবাদটি হলো কিতাবীদের গ্রন্থাদিতে লিখিত সংবাদ যা পরবর্তীতে রহিত হয়ে
যায়৷ )
মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! এরা পাহাড়ে চড়তে সক্ষম নয় আর তুমি পুর্বে
এ্যাকাজ করতে নিষেধ করেছিলে ৷ অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) কে তার ভাই হারুন
(আ)-কে নিয়ে আসতে হুকুম দিলেন ৷ আর আলিমগণ এবং বনী ইসরাঈলের অন্যরা যেন
নিকটে উপস্থিত থাকে ৷ মুসা (আ) তইি করলেন ৷ তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বললেন ৷
তখন আল্লাহ্ তাআলার্তাকে দশটি কলেমা বা উপদেশ বাণী দিলেন ৷
কিতাবীদের মতে, বনী ইসরাঈলরা আল্লাহ্র কালাম শুনেছিল কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি ,
যতক্ষণ না মুসা (আ) তাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ৷ আর মুসা (আ)-কে তারা বলতে লাগল,
আপনি প্রতিপালকের কাছ থেকে আমাদের কাছে উপদেশ বাণী পৌছিয়ে দিন ৷ আমরা
আশংকা করছি হয়তো আমরা যারা পড়ব ৷’ অতঃপর মুসা (আ) তাদের কাছে আল্লাহ্
তাআলার তরফ থেকে প্রাপ্ত দশটি উপদেশ বাণী পৌছিয়ে দেন ৷ আর এগুলো হচ্ছে : (এক)
লা-শরীক আল্লাহ তাআলার ইবড়াদতের নির্দেশ, (দুই) আল্লাহ্ তাআলার সাথে মিথ্যা শপথ
[فَصْلٌ فِي دُخُولِ بَنِي إِسْرَائِيلَ التِّيهَ وَمَا جَرَى لَهُمْ فِيهِ مِنَ الْأُمُورِ الْعَجِيبَةِ]
قَدْ ذَكَرْنَا نُكُولَ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنْ قِتَالِ الْجَبَّارِينَ، وَأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى عَاقَبَهُمْ بِالتِّيهِ، وَحَكَمَ بِأَنَّهُمْ لَا يَخْرُجُونَ مِنْهُ إِلَى أَرْبَعِينَ سَنَةً، وَلَمْ أَرَ فِي كِتَابِ أَهْلِ الْكِتَابِ قِصَّةَ نُكُولِهِمْ عَنْ قِتَالِ الْجَبَّارِينَ، وَلَكِنَّ فِيهَا أَنَّ يُوشَعَ جَهَّزَهُ مُوسَى لِقِتَالِ طَائِفَةٍ مِنَ الْكُفَّارِ، وَأَنَّ مُوسَى وَهَارُونَ، وَخُورَ، جَلَسُوا عَلَى رَأْسِ أَكَمَةٍ، وَرَفَعَ مُوسَى عَصَاهُ، فَكُلَّمَا رَفَعَهَا انْتَصَرَ يُوشَعُ عَلَيْهِمْ وَكُلَّمَا مَالَتْ يَدُهُ بِهَا مِنْ تَعَبٍ أَوْ نَحْوِهِ، غَلَبَهُ أُولَئِكَ، وَجَعَلَ هَارُونُ وَخُورُ يُدَعِّمَانِ يَدَيْهِ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ ذَلِكَ الْيَوْمَ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، فَانْتَصَرَ حِزْبُ يُوشَعَ عَلَيْهِ السَّلَامُ. وَعِنْدَهُمْ; أَنَّ يَثْرُونَ كَاهِنَ مَدْيَنَ، وَخَتَنَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بَلَغَهُ مَا كَانَ مِنْ أَمْرِ مُوسَى، وَكَيْفَ أَظْفَرَهُ اللَّهُ بِعَدُوِّهِ فِرْعَوْنَ فَقَدِمَ عَلَى مُوسَى مُسْلِمًا وَمَعَهُ ابْنَتُهُ صِفُّورَا زَوْجَةُ مُوسَى، وَابْنَاهَا مِنْهُ جَرْشُونُ، وَعَازِرُ، فَتَلَقَّاهُ مُوسَى وَأَكْرَمَهُ، وَاجْتَمَعَ بِهِ شُيُوخُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَعَظَّمُوهُ وَأَجَلُّوهُ. وَذَكَرُوا أَنَّهُ رَأَى كَثْرَةَ اجْتِمَاعِ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى مُوسَى، فِي الْخُصُومَاتِ الَّتِي تَقَعُ بَيْنَهُمْ، فَأَشَارَ عَلَى مُوسَى أَنْ يَجْعَلَ عَلَى النَّاسِ رِجَالًا أُمَنَاءَ، أَتْقِيَاءَ،
পৃষ্ঠা - ৬৪৮
করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা, (তিন) সারা ত’ সং রক্ষ্যণর জন্যে নির্দেশ ৷ তার অর্থ হচ্ছে সপ্তাহের
একদিন অর্থাৎ শনিবারকে ইবাদং তর জন্যে নির্দিষ্ট রাখা ৷ শনিবারকে রহিত করে আল্লাহ
তা আলা এর ৰিকল্পরুপে আমাদেরকে জুম আর দিন দান করেছেন ৷ (চার) তোমার
পিতা-মাতাকে সম্মান কর ৷ তাহলে পৃথিবীতে আল্লাহ্ তাআলা তোমার আয়ু বৃদ্ধি করে দেবেন,
(পাচ) নর হত্যা করবে না, (ছয়) ব্যভিচার করবে না, (সাত) চুরি করবে না, (আট) তোমার
প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না, (নয়) তোমার প্রতিবেশীর ঘরের প্রতি লোভের
দৃষ্টিতে ডাকা বে না (দশ) তোমার সাথীর শ্রী, গো লাম-রাদী, গরু-গাধা ইত্যাদি কোন জিনিসে
লোড করবেন ৷ অর্থাৎ হিংসা থেকে বারণ করা হয় ৷ আমাদের প্ৰাচীনকালের আলিমগণ ও
অন্য অনেকেই বলেন যে, এ দশটি উপদেশ বাণীর সারমর্ম কুরআনের সৃরায়ে আনআমের দুটি
আয়াতে বর্ণিত হয়েছে ৷
যাতে আল্পাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
¥’
১৷ ৷ «fl ৷ ৷
ণ্পুধুা৷১
ব্র;:ার্বুদ্বু ৷
৷ ৷র্দুঠুদ্বুক্ট্র
অর্থাৎ-বল, এস তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তোমাদেরকে
তা পড়ে শুনাই, তাহল তোমরা তার কোন শরীক করবে না, পিতা-মাতার প্ৰতি সদ্ব্যবহার
করবে, দারিদ্রের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, আমিই তোমাদেরকে ও
তাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি ৷ প্রকাশ্যে হোক কিৎবা গোপনে হোক, অশ্লীল কাজের কাছে যাবে
না; আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করবে না ৷
তোমাদেরকে তিনি এই নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা অনুধাবন কর ৷ ইয়াতীম বয়ঃপ্রাপ্ত না
হওয়া পর্যন্ত উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হবে না এবং পরিমাণ ও
ওজন ন্যায্যভারে পুরোপুরি দেবে ৷ আমি কাউকেও তার সাধ্যাতীত তার অর্পণ করি না ৷ যখন
তোমরা কথা বলবে তখন ন্যায্য বলবে,াজনের সম্পর্কে হলেও এবং আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার
পুর্ণ করবে ৷ এভাবে আল্লাহ তােমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর এবং
এপথই স্লামার সরলপথ ৷ সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করবে ৷ (সুরা আনআম :
১ ৫ ১ ১ ৫৩ )
তারা এই দশটি উপদেশ বাণীর পরও বহু ওসীয়ত ও বিভিন্ন মুল্যবান নির্দেশাবলীর উল্লেখ
করেছেন, যেগুলো বহুদিন যাবত চালু ছিল ৷ তার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এগুলো আমল
করেছেন কিন্তু এরপরই এগুলোতে আমলকারীদের পক্ষ হতে অবাধ্যতার ছোয়া লাগে ৷ তারা
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ডপ্)ণো
أَعِفَّاءَ، يُبْغِضُونَ الرِّشَاءَ وَالْخِيَانَةَ، فَيَجْعَلُهُمْ عَلَى النَّاسِ رُءُوسَ أُلُوفٍ، وَرُءُوسَ مِئِينَ، وَرُؤْسَ خَمْسِينَ، وَرُؤْسَ عَشَرَةٍ، فَيَقْضُوا بَيْنَ النَّاسِ، فَإِذَا أَشْكَلَ عَلَيْهِمْ أَمْرٌ جَاءُوكَ، فَفَصَلْتَ بَيْنَهُمْ مَا أَشْكَلَ عَلَيْهِمْ، فَفَعَلَ ذَلِكَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ. قَالُوا: وَدَخَلَ بَنُو إِسْرَائِيلَ الْبَرِّيَّةَ، عِنْدَ سَيْنَاءَ فِي الشَّهْرِ الثَّالِثِ مِنْ خُرُوجِهِمْ مِنْ مِصْرَ، وَكَانَ خُرُوجُهُمْ فِي أَوَّلِ السَّنَةِ الَّتِي شُرِعَتْ لَهُمْ، وَهِيَ أَوَّلُ فَصْلِ الرَّبِيعِ. فَكَأَنَّهُمْ دَخَلُوا التِّيهَ فِي أَوَّلِ فَصْلِ الصَّيْفِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. قَالُوا: وَنَزَلَ بَنُو إِسْرَائِيلَ حَوْلَ طُورِ سَيْنَاءَ، وَصَعِدَ مُوسَى الْجَبَلَ، فَكَلَّمَهُ رَبُّهُ، وَأَمَرَهُ أَنْ يُذَكِّرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ بِهِ عَلَيْهِمْ مِنْ إِنْجَائِهِ إِيَّاهُمْ مِنْ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ، وَكَيْفَ حَمَلَهُمْ عَلَى مِثْلِ جَنَاحَيْ نِسْرٍ مِنْ يَدِهِ وَقَبْضَتِهِ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ بِأَنْ يَتَطَهَّرُوا وَيَغْتَسِلُوا وَيَغْسِلُوا ثِيَابَهُمْ وَلْيَسْتَعِدُّوا إِلَى الْيَوْمِ الثَّالِثِ، فَإِذَا كَانَ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ فَلْيَجْتَمِعُوا حَوْلَ الْجَبَلِ، وَلَا يَقْتَرِبَنَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ إِلَيْهِ، فَمَنْ دَنَا مِنْهُ قُتِلَ، حَتَّى وَلَا شَيْءٌ مِنَ الْبَهَائِمِ، مَا دَامُوا يَسْمَعُونَ صَوْتَ الْقَرْنِ، فَإِذَا سَكَنَ الْقَرْنُ فَقَدْ حَلَّ لَكُمْ أَنْ تَرْتَقُوهُ، فَسَمِعَ بَنُو إِسْرَائِيلَ ذَلِكَ، وَأَطَاعُوا، وَاغْتَسَلُوا، وَتَنَظَّفُوا، وَتَطَيَّبُوا، فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الثَّالِثُ رَكِبَ الْجَبَلَ غَمَامَةٌ عَظِيمَةٌ، وَفِيهَا أَصْوَاتٌ وَبُرُوقٌ، وَصَوْتُ الصُّورِ شَدِيدٌ جِدًّا، فَفَزِعَ بَنُو إِسْرَائِيلَ مِنْ ذَلِكَ فَزَعًا شَدِيدًا، وَخَرَجُوا فَقَامُوا فِي سَفْحِ الْجَبَلِ، وَغَشِيَ الْجَبَلَ دُخَانٌ عَظِيمٌ فِي وَسَطِهِ عَمُودُ نُورٍ، وَتَزَلْزَلَ الْجَبَلُ كُلُّهُ زَلْزَلَةً شَدِيدَةً، وَاسْتَمَرَّ صَوْتُ الصُّورِ، وَهُوَ الْبُوقُ، وَاشْتَدَّ، وَمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَوْقَ الْجَبَلِ، وَاللَّهِ يُكَلِّمُهُ وَيُنَاجِيهِ، وَأَمَرَ الرَّبُّ، عَزَّ وَجَلَّ، مُوسَى أَنْ يَنْزِلَ، فَيَأْمُرَ بَنِي
পৃষ্ঠা - ৬৪৯
এগুলোর দিকে লক্ষ্য করলো এবং এগুলোতে পরিবর্তন সাধন করল, কোন কোনটা একেবারে
বদল করে দিল; আবার কোন কােনটার মনগড়া ব্যাখ্যা দান করতে লাগল ৷ তারপর এগুলোকে
একেবারেই তারা ছেড়ে দিল ৷ এরুপ এসব নির্দেশ এককালে পুর্ণরুপে চালু থাকার পর
পরিবর্তিত ও বর্জিত হয়ে যায় ৷ পুর্বে ও পরে আল্লাহ৩ তা অড়ালার হুকুমই বলবৎ থ৷ ৷কবে, তিনিই
যা ইচ্ছে হুকুম করে থাকেন এবং যা ইচ্ছে করে থাকেন, তারই হাতে সৃষ্টি ও আদেশের মুল
চাবিকাঠি ৷ জগতের প্রতিপালক আল্ল হই বয়কত ময় ৷ অন্যত্র আল্লাহ তা আল৷ ইরশাদ করেন :
;)
এে,;,
দ্বুছো ; ৷ ,
হে বনী ইসরাঈল৷ আমি তো তোমাদেরকে শত্রু থেকে উদ্ধার করেছিলাম আমি
তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তুর পর্বতে র দক্ষিণ পার্শে এবং তোমাদের কাছে মান্ন৷ ও
সালওয়া প্রেরণ করেছিলাম, তােমাদেরকে যা দান করেছি তা হতে ভাল ভাল বস্তু আহার কর
এবং এ বিষয়ে সীমাল্ৎঘন করো না, করলে তোমাদের উপর আমার ক্রে৷ ধ অবধারিত এবং যার
উপর আমার ক্রোধ অবধারিত সে তো ধ্বংস হয়ে যায় ৷ আমি অবশ্যই ক্ষমাশীলও ৷র প্ৰতি, যে
তওরা করে ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে ৷ (সুরা তা-হাং ; ৮০-৮২)
আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের প্রতি যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছিলেন সেগুলোর সংক্ষিপ্ত
বর্ণনা এখানে দিচ্ছেন ৷ তিনি তাদেরকে শত্রু থেকে রক্ষা করেছিলেন, ৰিপদ-আপদ ও সংকীর্ণ
অবস্থা থেকে রেহাই দিয়েছিলেন ৷ আর তাদেরকে তুর পর্বতের দক্ষিণ পার্শে তাদের নবী মুসা
(আ)-এব সঙ্গ দান করার জন্যে অংপীকার করেছিলেন যাতে তিনি তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের
উপকারের জন্যে গুরুত্বপুর্ণ বিধান অবতীর্ণ করতে পারেন ৷ আর অড়াল্লাহ্ তা আলা তাদের উপর
মান্ন৷ আসমান থেকে প্রতি প্রভু ৷ষে নাযিল করেন ৷৩ তাদের জন্যে অতি প্রয়োজনের বেলায় কঠিন
সময়ে এমন ভুমিতে ভ্রমণ ও অবস্থানকালে যেখানে কোন প্রকার ফসলাদি ও দৃধেল প্রাণী ছিল
না, প্রতিদিন সকা নেতারা মান্ন৷ ঘরের মাঝেই পেয়ে যেত এবং তাদের প্রয়োজন মুতাবিক রেখে
দিত যাতে ঐদিনের সকাল হতে ৩আগড়ামী দিনের ঐ সময় পর্যন্ত তাদের খাওয়া দাওয়৷ চলে ৷ যে
ব্যক্তি এরুপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সঞ্চয় করে রাখত তা নষ্ট হয়ে যেত; আর যে কম গ্রহণ
করত এটাই তার জন্যে যথেষ্ট হত; যে অতিরিক্ত নিত তাও অবশিষ্ট থাকতো না ৷ মান্ন৷ তারা
রুটির মত করে তৈরি করত এটা ছিল ধবৃধবে সাদা এবং অতি মিষ্ট ৷ দিনের শেষ বেলা
সালওয়া নামক পাখি তাদের কাছে এসে যেত, রাতের খাবারের প্রয়োজন মত পরিমাণ পাখি
তারা অনায়াসে শিকার করত গ্রীষ্মক ল দেখা ৷দিলে আল্লাহ্ তা আল৷ তাদের উপর যেঘখণ্ড
প্রেরণ করে ছায়া দান করতেন ৷ এই মেঘখণ্ড তাদেরকে সুর্যের প্রখর৩ ৷ ও উত্তা ৷প থেকে রক্ষা
করত ৷
إِسْرَائِيلَ أَنْ يَقْتَرِبُوا مِنَ الْجَبَلِ; لِيَسْمَعُوا وَصِيَّةَ اللَّهِ، وَيَأْمُرَ الْأَحْبَارَ، وَهُمْ عُلَمَاؤُهُمْ، أَنْ يَدْنُوا فَيَصْعَدُوا الْجَبَلَ; لِيَتَقَدَّمُوا بِالْقُرْبِ - وَهَذَا نَصٌّ فِي كِتَابِهِمْ عَلَى وُقُوعِ النَّسْخِ لَا مَحَالَةَ - فَقَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ إِنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَنْ يَصْعَدُوهُ، وَقَدْ نَهَيْتَهُمْ عَنْ ذَلِكَ فَأَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ يَذْهَبَ، فَيَأْتِيَ مَعَهُ بِأَخِيهِ هَارُونَ، وَلْيَكُنِ الْكَهَنَةُ، وَهُمُ الْعُلَمَاءُ، وَالشَّعْبُ، وَهُمْ بَقِيَّةُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، غَيْرَ بَعِيدٍ. فَفَعَلَ مُوسَى، وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَأَمَرَهُ حِينَئِذٍ بِالْعَشْرِ كَلِمَاتٍ.
وَعِنْدَهُمْ; أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ سَمِعُوا كَلَامَ اللَّهِ، وَلَكِنْ لَمْ يَفْهَمُوا حَتَّى فَهَّمَهُمْ مُوسَى، وَجَعَلُوا يَقُولُونَ لِمُوسَى: بَلِّغْنَا أَنْتَ عَنِ الرَّبِّ، فَإِنَّا نَخَافُ أَنْ نَمُوتَ. فَبَلَّغَهُمْ عَنْهُ، فَقَالَ هَذِهِ الْعَشْرُ الْكَلِمَاتِ; وَهِيَ الْأَمْرُ بِعِبَادَةِ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْحَلِفِ بِاللَّهِ كَاذِبًا، وَالْأَمْرُ بِالْمُحَافَظَةِ عَلَى السَّبْتِ، وَمَعْنَاهُ تَفَرُّغُ يَوْمٍ مِنَ الْأُسْبُوعِ لِلْعِبَادَةِ. وَهَذَا حَاصِلٌ بِيَوْمِ الْجُمُعَةِ، الَّذِي نَسَخَ اللَّهُ بِهِ السَّبْتَ، أَكْرِمْ أَبَاكَ وَأُمَّكَ، لِيَطُولَ عُمْرُكَ فِي الْأَرْضِ، الَّذِي يُعْطِيكَ اللَّهُ رَبُّكَ، لَا تَقْتُلْ، لَا تَزْنِ، لَا تَسْرِقْ، لَا تَشْهَدْ عَلَى صَاحِبِكَ شَهَادَةَ زُورٍ، لَا تَمُدَّ عَيْنَكَ إِلَى بَيْتِ صَاحِبِكَ، وَلَا تَشْتَهِ امْرَأَةَ صَاحِبِكَ، وَلَا عَبْدَهُ، وَلَا أَمَتَهُ، وَلَا ثَوْرَهُ، وَلَا حِمَارَهُ، وَلَا شَيْئًا مِنَ الَّذِي لِصَاحِبِكَ، وَمَعْنَاهُ النَّهْيُ عَنِ الْحَسَدِ.
وَقَدْ قَالَ كَثِيرٌ مِنْ عُلَمَاءِ السَّلَفِ وَغَيْرِهِمْ: مَضْمُونُ هَذِهِ الْعَشْرِ الْكَلِمَاتِ
পৃষ্ঠা - ৬৫০
)
া,১দ্বুন্নু; ১া, ন্ওর্দ্রপুাৰুপ্রু ৷ঘ্রঠুৰু , ৷ ৷ ট্রু;, ৷ , ;,,র্দু , ’ fl ৷ § ণ্ও;হ্£
“হে বনী ইসরাঈল আমার যে অনুগ্নহকে৩ ৫৩ আেরা স্মরণ কর যা দিয়ে আমি তােমাদেরকে
অনুগৃ৩ ৩করেছি এবং আমার সঙ্গে তোমাদের অঙ্গীকার পুর্ণ কর ৷ আমিও তোমাদের সঙ্গে
আমার অঙ্গীকার পুর্ণ করব এবং ৫৩ আেরা শুধু আমাকেই ভয় কর ৷ আমি যা অবতীর্ণ করেছি
তাতে ঈমান আন ৷ এটা তোমাদের কাছে যা আছে তার প্রত্যয়নকারী ৷ আর ভোমরাই এটার
প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়াে না এবং আমার আঘাতের বিনিময়ে তুচ্ছ মুল্য গ্রহণ করবে না ৷
তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করবে ৷” (সুরা বাকারা : ৪ :-৪ ১)
এরপর আল্লাহ্ তাআ লা ইরশাদ করেন :
’
এ
এএে গ্রপুহাহ্রন্
,
অর্থাৎ হে বনী ইসরা ঈল! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর, যা দ্বারা আমি তােমাদেরকে
অনুগৃহীত করেছিলাম এবং বিশ্বে সবার উপরে শ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছিলাম ৷ তোমরা সে দিনকে ভয় কর
فِي آيَتَيْنِ مِنَ الْقُرْآنِ، وَهُمَا قَوْلُهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْأَنْعَامِ " {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ - وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ - وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 151 - 153]
[الْأَنْعَامِ: 151 - 153] . وَذَكَرُوا بَعْدَ الْعَشْرِ الْكَلِمَاتِ وَصَايَا كَثِيرَةً، وَأَحْكَامًا مُتَفَرِّقَةً عَزِيزَةً، كَانَتْ فَزَالَتْ وَعُمِلَ بِهَا حِينًا مِنَ الدَّهْرِ، ثُمَّ طَرَأَ عَلَيْهَا عِصْيَانٌ مِنَ الْمُكَلَّفِينَ بِهَا ثُمَّ عَمَدُوا إِلَيْهَا فَبَدَّلُوهَا، وَحَرَّفُوهَا، وَأَوَّلُوهَا. ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ كُلِّهِ سَلَبُوهَا، فَصَارَتْ مَنْسُوخَةً مُبَدَّلَةً، بَعْدَ مَا كَانَتْ مَشْرُوعَةً مُكَمِّلَةً، فَلِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ، وَهُوَ الَّذِي يَحْكُمُ مَا يَشَاءُ، وَيَفْعَلُ مَا يُرِيدُ، أَلَّا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ، تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ.
وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَوَاعَدْنَاكُمْ جَانِبَ الطُّورِ الْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى - كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتٍ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي وَمَنْ يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَى - وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى} [طه: 80 - 82]
[طه: 80 - 82] . يَذْكُرُ تَعَالَى مِنَّتَهُ
পৃষ্ঠা - ৬৫১
যেদিন কেউ কারো কোন কাজে আসবে না, কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং কারো
নিকট থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না এবং তারা কোন প্রকার সাহায্য প্রাপ্তও হবে না ৷ স্মরণ কর,
যখন আমি ফিরআউনী সম্প্রদায়ের করল থেকে তােমড়াদেরকে নিকৃতি দিয়েছিলাম, যারা
তোমাদের পুত্রদেরকে যবেহ করে ও তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রেখে তোমাদেরকে
মর্মান্তিক যস্ত্রণ৷ দিত; এবং এতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা ছিল;
যখন তোমাদের জন্য সাগরকে বিভক্ত করেছিলাম এবং তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম ও
ফিরআউনী সম্প্রদায়কে নিমজ্জিত করেছিলাম আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করেছিলে ৷ যখন মুসার
জন্যে, চল্লিশ রাত নির্ধারিত করেছিলাম, তার প্ৰস্থানের পর তোমরা তখন রাছুরকে উপাস্যরুপে
গ্রহণ করেছিলে ৷ তোমরা তো জালিম ৷ এরপরও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছি যাতে তোমরা
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর ৷ আর যখন আমি মুসাকে কিতাব ও ফুরকান দান করেছিলাম যাতে
তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও ৷ আর যখন মুসা আপন সম্প্রদায়ের লোককে বলল, হে আমার
সম্প্রদায়! বাছুরকে উপাস্যরুপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের প্ৰতি ঘোর অত্যাচার করেছ ৷
সুতরাং তোমরা তোমাদের স্রষ্টার পানে ফিরে যাও এবং তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর ৷
তোমাদের স্রষ্টার কাছে এটাই শ্রেয় ৷ তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপররশ হবেন ৷ তিনি অত্যত
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷ যখন তোমরা রলেছিলে, হে মুসা ৷ আমরা আল্লাহকে প্ৰত্যক্ষভাবে না
দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করব না, তখন তোমরা রজ্বাহত হয়েছিলে আর তোমরা
নিজেরাই দেখছিলে ৷৩ তারপর মৃত্যুর পর আমি তােমড়াদেরকে পুনর্জীবিত করলাম যাতে তোমরা
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর ৷ অ ৷মি মেঘ দ্বারা তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করলাম ৷ ওে ৷মাদের নিকট
মান্না ও সালওয়৷ প্রেরণ করলাম ৷ রলেছিলড়াম, তোমাদেরকে ভাল যা দান করেছি তা হতে
আহড়ার কর ৷ তারা আমার প্রতি কে ন জুলুম করে নাই বরং তারা তাদের প্ৰতিই জুলুম
করেছিল ৷ (সুরা রড়াকারা : ৭ ৫ ৭)
অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
’ ব্লুহুর্চু১১হু ৷ ১ ৷
ষ্চুষ্ট্র, , ৷^১রুহ্র১কুা৷দ্বু ৷দ্বুপুর্বৃ ণ্ছুর্চুদ্বুটুণ্ডুদ্বু১ ,১ধোক্ট্রহ্র )হ্র,১; ১১ é;£ হুদ্বু১হু১ছু ৷ ১১া
া
ার্চুএব্লু১এে ১১াদ্বুষ্ট্রর্ডর্দুষ্
এন্;র্দ্রও
শুর্দু১১ ৷ স্পে১; পুএ,শু ট্রু “’ং“ার্দ্র fl ন্হ্রপু ৷ র্চুর্চু১পুন্১ ৷ স্পো ৷ র্দুপুছু
পু>মোঃ ৰুাশু৷ ;ন্র্চ১ ১ওদ্বুকুন্হ্র১র্শ্ব ৷দ্বু১’এে ;পু€পু, গ্রা১ ;এা৷ ;হুৰুণ্ মোঃশু ওট্টএেও
া
স্মরণ কর, যখন মুসা তার সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল ৷ আমি রললাম, তোমরা
লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর , ফলে তাখেকে বারটি ঝরনা প্রবাহিত হল ! প্রতোক গোত্র নিজ
وَإِحْسَانَهُ إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، بِمَا أَنْجَاهُمْ مِنْ أَعْدَائِهِمْ، وَخَلَّصَهُمْ مِنَ الضِّيقِ وَالْحَرَجِ، وَأَنَّهُ وَعَدَهُمْ صُحْبَةَ نَبِيِّهِمْ كَلِيمِهِ إِلَى جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ، أَيْ مِنْهُمْ لِيُنَزِّلَ عَلَيْهِ أَحْكَامًا عَظِيمَةً فِيهَا مُصْلِحَةٌ لَهُمْ فِي دُنْيَاهُمْ وَأُخْرَاهُمْ، وَأَنَّهُ تَعَالَى أَنْزَلَ عَلَيْهِمْ فِي حَالِ شِدَّتِهِمْ وَضَرُورَتِهِمْ، فِي سَفَرِهِمْ فِي الْأَرْضِ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا زَرْعٌ وَلَا ضَرْعٌ، مِنَّا مِنَ السَّمَاءِ، يُصْبِحُونَ فَيَجِدُونَهُ خِلَالَ بُيُوتِهِمْ، فَيَأْخُذُونَ مِنْهُ قَدْرَ حَاجَتِهِمْ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ إِلَى مِثْلِهِ مِنَ الْغَدِ، وَمَنِ ادَّخَرَ مِنْهُ لِأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَسَدَ، وَمَنْ أَخَذَ مِنْهُ قَلِيلًا كَفَاهُ، أَوْ كَثِيرًا لَمْ يَفْضُلْ عَنْهُ، فَيَصْنَعُونَ مِنْهُ مِثْلَ الْخُبْزِ، وَهُوَ فِي غَايَةِ الْبَيَاضِ وَالْحَلَاوَةِ، فَإِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ النَّهَارِ غَشِيَهُمْ طَيْرُ السَّلْوَى، فَيَقْتَنِصُونَ مِنْهُ بِلَا كُلْفَةٍ مَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ حَسَبَ كِفَايَتِهِمْ لِعَشَائِهِمْ، وَإِذَا كَانَ فَصْلُ الصَّيْفِ ظَلَّلَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ، وَهُوَ السَّحَابُ الَّذِي يَسْتُرُ عَنْهُمْ حَرَّ الشَّمْسِ، وَضَوْءَهَا الْبَاهِرَ. كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْبَقَرَةِ ": {يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ - وَآمِنُوا بِمَا أَنْزَلْتُ مُصَدِّقًا لِمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ} [البقرة: 40 - 41]
[الْبَقَرَةِ: 40، 41] . إِلَى أَنْ قَالَ: {وَإِذْ نَجَّيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَلِكُمْ بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَظِيمٌ - وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنْجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ - وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ - ثُمَّ عَفَوْنَا عَنْكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ - وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ - وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ - وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ - ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ - وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} [البقرة: 49 - 57]
[الْبَقَرَةِ: 49 - 57] .
পৃষ্ঠা - ৬৫২
নিজ পান-ন্থান চিনে নিল ৷ আমি বাংলায়, আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবিকা হতে তোমরা পানাহার কর
এবং দৃকৃতকারীরুপে পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াবে না ৷ ’ যখন তোমরা বলেছিলে, “হে
মুসা ! আমরা একই রকম খাদ্যে কখনও ধৈর্যধারণ করব না ৷ সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের
কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর তিনি যেন ভুমিজাত দ্রব্য, শাক-সনৃজি, ফীকুড় , গম, মসৃর ও
পিয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদন করেন ৷ ’ মুসা বলল, তোমরা কি উংকৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর
বস্তুর সাথে বদল করতে চাও ? তবে কোন নগরে অবতরণ কর ৷ তোমরা যা চাও তা সেখানে
রয়েছে ৷ আর তারা লাঞ্চুনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হল ও তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হলো ৷ এটা
এজন্য যে, তারা আল্লাহ্র আয়াতকে অস্বীক৷ ৷র করত এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করতা
অবাধ্যত৷ ও সীমালৎঘ ঘন করবার জন্যই তাদের এই পরিণতি হয়েছিল ৷ (সুরা বাকারা৪
৬০ ৬ ১ )
এখানে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে যেসব নিয়ামত দান করেছেন ও অনুগ্রহ করেছেন
তার বর্ণনা দিয়েছেন ৷ আল্লাহ্ত তা জানা তাদেরকে দৃ’টো সুস্বাদৃ খাবার বিনাকষ্টে ও পরিশ্রমে
সহজ্যাভ্য করে দিয়েছিলেন ৷ প্রতিদিন ভোরে আল্লাহ তা আলা তাদের জন্যে মান্ন৷ অবতীর্ণ
করতেন এবং সন্ধ্যার সময় সালওয়া নামক পাখি প্রেরণ করতেন ৷ মুসা (আ )-এর লাঠি দ্বারা
পাথরে আঘাত করার ফলে তাদের জন্যে আল্লাহ তাআলা পানি প্রবাহিত করে দিয়েছিলেন ৷
তারা এই পাথরটিকে তাদের সাথে লাঠি সহকারে বহন করত ৷ এই পা ৷থর থেকে বারটি প্রস্রবণ
প্রবাহিত হত; প্রতিটি গোত্রের জন্যে একটি প্রস্রবণ নির্ধারিত ছিল ৷ এই প্রস্রবণগুলো পরিষ্কার ও
স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত করত ৷ তারা নিজেরা পান করত ও তাদের প্রাণীদেরকে পানি পান করতে
এবং তারা প্রয়োজনীয় পানি জমা করেও রাখত ৷ উত্তাগ থেকে বীচাবার জন্যে মেঘ দ্বারা
তাদেরকে আল্লাহ তাআলা ছায়া দান করেছিলেন ৷ আল্লাহ তাআলার তরফ হতে তাদের জন্যে
ছিল এগুলো বড় বড় নিয়ামত ও দান, তবে তারা এগুলোর পুর্ণ মর্যাদা অনুধাবন করেনি এবং
এগুলোর জন্যে যথাযােগ্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেনি ৷ আর যথাযথভাবে ইবাদতও তারা আঞ্জাম
দেয়নি ৷ অতঃপর তাদের অনেকেই এসব নিয়ামতের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করল ৷ এগুলোর প্রতি
অধৈর্য হয়ে উঠল এবং চাইল যাতে তাদেরকে এগুলো পরিবর্ভা করে দেয়৷ হয় ৷ এমন সব বস্তু
যা ভুমি উৎপন্ন করে যেমন শাক, সবজি, ফীকুড়, গম, মসুর ও পিয়াজ ইত্যাদি ৷ এ কথার জন্যে
মুসা (আ) তাদেরকে ভৎসনা করলেন এবং ধমক দিলেন, তাদের সতর্ক করে বললেন ং
অর্থাৎ--ছোট-বড় নির্বিশেষে সকল শহরেরত্মধিবাসীর জন্য অর্জিত উৎকৃষ্ট নিয়ামতসমুহের
পরিবর্তে কি তোমরা নিকৃষ্টতর বস্তু চা ও? তাহলে তোমরা যেসব বস্তু ও মর্যাদার উপযুক্ত নও
তার থেকে অবতরণ করে তোমরা যে ধরনের নিকৃষ্ট মানের খাদ্য খাবার চাও তা তোমরা অর্জন
করতে পারবে ৷ তবে আমি তোমাদের আবদারের প্রতি সাড়া দিচ্ছি না এবং তোমরা যে ধরনের
আকাঙক্ষা পোষণ করছ তাও আল্লাহ্ তাআলার দরবারে আপাতত পৌছাচ্ছি না ৷ উপরোক্ত
যেসব আচরণ তাদের থেকে পরিলক্ষিত হয়েছে তা থেকে বোঝা যায় যে, মুসা (আ) তাদেরকে
যেসব কাজ থেকে বিরত রাখতে ইচ্ছে করেছিলেন তা থেকে তারা বিরত থাকেনি ৷
إِلَى أَنْ قَالَ: {وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ - وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُمْ مَا سَأَلْتُمْ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ} [البقرة: 60 - 61]
[الْبَقَرَةِ: 60، 61] . يَذْكُرُ تَعَالَى إِنْعَامَهُ عَلَيْهِمْ، وَإِحْسَانَهُ إِلَيْهِمْ بِمَا يَسَّرَ لَهُمْ مِنَ الْمَنِّ وَالسَّلْوَى طَعَامَيْنِ شَهِيَّيْنِ بِلَا كُلْفَةٍ وَلَا سَعْيٍ لَهُمْ فِيهِ، بَلْ يُنَزِّلُ اللَّهُ الْمَنَّ بَاكِرًا، وَيُرْسِلُ عَلَيْهِمْ طَيْرَ السَّلْوَى عَشِيًّا، وَأَنْبَعَ الْمَاءَ لَهُمْ بِضَرْبِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، حَجَرًا كَانُوا يَحْمِلُونَهُ مَعَهُمْ، بِالْعَصَا فَتَفَجَّرَ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا، لِكُلِّ سِبْطٍ عَيْنٌ مِنْهُ تَنْبَجِسُ ثُمَّ تَنْفَجِرُ مَاءً زُلَالًا، فَيَسْتَقُونَ وَيَشْرَبُونَ وَيَسْقُونَ دَوَابَّهُمْ، وَيَدَّخِرُونَ كِفَايَتَهُمْ. وَظَلَّلَ عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ مِنَ الْحَرِّ. وَهَذِهِ نِعَمٌ مِنَ اللَّهِ
পৃষ্ঠা - ৬৫৩
যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
১৷ এ
এ বিষয়ে সীমালংঘন করবে না, করলে তোমাদের উপর আমার ৫ক্রাধ্ অবধারিত এবং যার
উপর আমার ৫ক্রাধ অবধারিত সে তো ধ্বংস হয়ে যায় ৷ (সুরা তা-হা ও ৮১)
বনী ইসরাঈলের উপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার গযব অবধারিত হয়েছিল ৷ তবে
আল্লাহ্ তাআলা এরুপ কঠোর শাস্তিকে আশা-আকাস্ফোর সাথেও সম্পৃক্ত করেছেন, ঐ ব্যক্তির
ক্ষেত্রে যে আল্লাহ্ তাআলার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে ও পাপরাশি থেকে তওবা করে এবং
বিতাড়িত শয়তানের অনুসরণে আর লিপ্ত না থাকে ৷ আল্লাহ তা’ আলা বলেন০ ং
া
আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি যে তওবা করে, ঈমান আসে সৎকর্ম করে ও সৎপখে
অবিচলিত থাকে ৷ (সুরা তা-হা : ৮২)
আল্লাহ্ৱ দীদার লাভের জন্য মুসা (আ)-এর প্রার্থনা
আল্পাহ্ তাআলা ইরশার্দ করেন :
ট্রুপুছুদ্বুা
মোঃ
)
া
;র্চুৰুঠুব্লুাপুণ্ড্র৷ ৷
া
এওব্র;৬ন্ৰুট্টর্ন্ত ৰু৷ ” এেইশ্র ৷ ধ্ান্ন্ন্
লোঃঢ়প্রু ৷;£র্দ্রব্রও
عَظِيمَةٌ وَعَطِيَّاتٌ جَسِيمَةٌ، فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا، وَلَا قَامُوا بِشُكْرِهَا وَحَقِّ عِبَادَتِهَا، ثُمَّ ضَجِرَ كَثِيرٌ مِنْهَا وَتَبَرَّمُوا بِهَا، وَسَأَلُوا أَنْ يَسْتَبْدِلُوا مِنْهَا بِبَدَلِهَا، مِمَّا تَنْبُتُ الْأَرْضُ مِنْ بَقْلِهَا، وَقِثَّائِهَا، وَفُومِهَا، وَعَدَسِهَا، وَبَصَلِهَا. فَقَرَّعَهُمُ الْكَلِيمُ، وَوَبَّخَهُمْ وَأَنَّبَهُمْ عَلَى هَذِهِ الْمَقَالَةِ، وَعَنَّفَهُمْ قَائِلًا: {أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُمْ مَا سَأَلْتُمْ} [البقرة: 61] أَيْ; هَذَا الَّذِي تَطْلُبُونَهُ وَتُرِيدُونَهُ بَدَلَ هَذِهِ النِّعَمِ الَّتِي أَنْتُمْ فِيهَا، حَاصِلٌ لِأَهْلِ الْأَمْصَارِ الصِّغَارِ وَالْكِبَارِ، مَوْجُودٌ بِهَا، وَإِذَا هَبَطْتُمْ إِلَيْهَا، أَيْ; وَنَزَلْتُمْ عَنْ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ الَّتِي لَا تَصْلُحُونَ لِمَنْصِبِهَا، تَجِدُوا بِهَا مَا تَشْتَهُونَ، وَمَا تَرُومُونَ مِمَّا ذَكَرْتُمْ مِنَ الْمَآكِلِ الدَّنِيَّةِ وَالْأَغْذِيَةِ الرَّدِيَّةِ، وَلَكِنِّي لَسْتُ أُجِيبُكُمْ إِلَى سُؤَالِكُمْ ذَلِكَ هَاهُنَا، وَلَا أُبَلِّغُكُمْ مَا تَعَنَّتُّمْ بِهِ مِنَ الْمُنَى، وَكُلُّ هَذِهِ الصِّفَاتِ الْمَذْكُورَةِ عَنْهُمُ الصَّادِرَةِ مِنْهُمْ، تَدُلُّ عَلَى أَنَّهُمْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا نُهُوا عَنْهُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي وَمَنْ يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَى} [طه: 81] . أَيْ; فَقَدْ هَلَكَ، وَحَقَّ لَهُ وَاللَّهِ الْهَلَاكُ وَالدَّمَارُ، وَقَدْ حَلَّ عَلَيْهِ غَضَبُ الْمَلِكِ الْجَبَّارِ، وَلَكِنَّهُ تَعَالَى مَزَجَ هَذَا الْوَعِيدَ الشَّدِيدَ بِالرَّجَاءِ لِمَنْ أَنَابَ وَتَابَ، وَلَمْ يَسْتَمِرَّ عَلَى مُتَابَعَةِ الشَّيْطَانِ الْمَرِيدِ، فَقَالَ: {وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى} [طه: 82] .
পৃষ্ঠা - ৬৫৪
া,এেও
(,দ্বুএন্এহুশু ৷টুট্াওঘুৰু র্বু ৷ বৃএ,ঠুপু fl$ ^ৰু£শুপুথ্রো
“স্মরণ কর মুসার জন্য আমি ত্রিশ রাত নির্ধারিত কবি এবং আরো দশ দ্বারা তা পুর্ণ করি ৷
এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত্রিতে পুর্ণ হয় এবং মুসাত তার ভাই হারুন
(আ)-কে বলল, আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে;
সংশোধন করবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবে না , মুসা যখন আমার নির্ধারিত
সময়ে উপস্থিত হল এবং তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বললেন, তখন সে বলল হে আমার
প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দাও, আমি (ত তামাকে দেখব ৷ তিনি বললেন তুমি আমাকে কখনই
দেখতে পাবে না, বরং তুমি পাহাড়ের প্রতি লক্ষ্য কর, এটা স্বস্থানে স্থির থাকলেত তবে ভুমি
আমাকে দেখবে’ ৷ যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তা পাহাড়কে
চুর্ণ-বিচুর্ণ করল ৷ আর মুসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল ৷ যখন সে জ্ঞান ফিরে পেল তখন সে বলল,
মহিমময় তুমি , আমি অনুতপ্ত হয়ে তােমাতেই প্রত্যাবর্তন করলাম এবং মুমিনদের মধ্যে আমিই
প্রথম ৷’
তিনি বললেন, হে মুসা ! আমি তোমাকে আমার বিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের মধ্যে
শ্রেষ্ঠতু দিয়েছি; সুতরাৎ আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ হও ৷ আমি তার জন্য ফলকে
সর্ববিষয়ে উপদেশ ও সকল বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি; সুতরাং এগুলো শক্তভাবে ধর
এবং তোমার সম্প্রদায়কে এগুলোর যা উত্তম তা গ্রহণ করতে নির্দেশ দাও ৷ আমি শীঘ্র
সতৰুত্যাগীদের বাসস্থান তােমাদেরকে দেখার ৷ পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে দন্ত করে রেড়ায়
তাদের দৃষ্টি আমার নিদশ্নি থেকে ফিরিয়ে দেব, তারা আমার প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখলেও তাতে
বিশ্বাস করবে না, তারা সৎপথ দেখলেও এটাকে পথ বলে গ্রহণ করবে না ৷ কিন্তু তারা ভ্রান্ত
পথ দেখলে এটাকে তারা পথ হিসেবে গ্রহণ করবে, এটা এজন্য যে, তারা আমার নিদর্শনকে
অস্বীকার করেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা ছিল পাফিল ৷ যারা আমার নিদর্শন ও পরকালে
সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেত তাদের কার্য নিম্ফল হয় ৷ তারা যা করে তদনুযায়ীই তাদেরকে
প্রতিফল দেয়৷ হবে ৷” (সুরা আ রাফং : ১ : ২ ১ : ৭)
পুর্ববর্তী যুগের উলামায়ে কিরামের একটি দল, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ আবদুল্লাহ ইবন
আব্বাস (রা) ও মুজাহিদ (র) বলেন, আয়াতে উল্লেখিত ত্রিশ রাত্রের অর্থ হচ্ছে যিলকাদ মাসের
পুর্ণটা এবং যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ রাত যেটি চল্লিশ রাত ৷ এ হিসেবে মুসা (আ)-এর জন্যে
আল্লাহ তআলার বাক্যালাপের দিন হচ্ছে কুরব৷ ৷নীর ঈদের দিন ৷ আর অনুরুপ একটি দিলেই
আল্লাহ তা আলা মুহাম্মদ (সা) এর জন্যে তার দীনকে পুর্ণতা দান করেন এবং তার
দলীল প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করেছেন ৷
মুলত মুসা (আ) যখন তার নির্ধারিত মেয়াদ পরিপুর্ণ করলেন তখন তিনি ছিলেন
রােযাদার ৷ কথিত আছে, তিনি কো ন প্রকার খাবার চাননি ৷ অত তঃপর যখন মাস সমাপ্ত হল৩ তিনি
এক প্রকার একটি বৃক্ষের ছ ল হাতে নিলেন এবং মুখে সুগন্ধি আনয়ন করার জন্যেত তা একটু
চিবিয়ে নিলেন ৷ কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে আরো দশদিন রােয৷ রাখত আদেশ দিলেন ৷
তাতে চল্লিশ দিন পুরা হলো ৷ আর এ কারণে হাদীস শরীফে রয়েছে যে, ণ্;া৷ ৷ ণ্রু এ্গ্লুা
[سُؤَالُ الرُّؤْيَةِ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ - قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ - وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِ شَيْءٍ مَوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِكُلِ شَيْءٍ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا سَأُرِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ - سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ - وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 142 - 147]
[الْأَعْرَافِ: 142 - 147] . قَالَ جَمَاعَةٌ مِنَ السَّلَفِ; مِنْهُمُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمَسْرُوقٌ، وَمُجَاهِدٌ: الثَّلَاثُونَ لَيْلَةً هِيَ; شَهْرُ ذِي الْقَعْدَةِ
পৃষ্ঠা - ৬৫৫
৷ অর্থাৎ রোযাদারের মুখের গন্ধ, আল্লাহ তাআলার
কাছে মিশকের সুগন্ধি উত্তম ৷
মুসা (আ) যখন তার নির্ধারিত মেয়াদ পুর্ণ করার জন্যে পাহাড় পানে রওয়ানা হলেন, তখন
ভাই হারুন (আ) কে বনী ইসরা ঈলের কাছে স্বীয় প্রতিনিধিরুপে রেখে গেলেন ৷ হারুন (আ)
ছিলেন মুসা (আ) এর সহােদর ভাই ৷ অতি নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীল ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ৷
আল্লাহ তাআলার মনোনীত ধর্মের প্রতি আহ্বানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুসা (আ)-এর
সাহায্যকারী ৷ মুসা (আ) তাকে প্রয়োজনীয় কাজের আদেশ দিলেন ৷ নবুওতের ক্ষেত্রে তার
বিশিষ্ট মর্যাদা থাকায় মুসা (আ) এর নবুওত্ত তর মর্যাদার কোন ব্যাঘাত ঘটেনি ৷ আল্লাহ তা আলা
ইরশাদ করেন : (:; ব্লু১র্দুদ্বু,া১;ক্রো ১ট্রুপ্রুখুৰু é ৷হ্র €fi’, (অর্থাৎ মুসা (আ) যখন তার
জন্যে নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত স্থানে পৌছলেন তখন তার প্রতিপালক আল্লাহ তা ’আলা পর্দায়
আড়াল থেকে তার সাথে কথা বললেন ৷) আল্লাহ তা আল৷ তাকে আপন কথা শুনালেন; মুসা
(আ)-কে আহ্বান করলেন, সংব্গাপনে তার সাথে কথা বললেন; এবং নিকটবর্তী করে নিলেন,
এটা উচ্চ একটি সম্মানিত স্থান, দৃর্ভেদ্য দুর্গ, সম্মানিত পদমর্যাদা ও অতি উচ্চ অবস্থান ৷ তার
উপর আল্লাহ তাঅ৷ ৷লার অবিরাম দরুদ এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার উপর আল্লাহ তা’আলার
সালাম বা শান্তি ৷ যখন তাকে উচ্চ মর্যাদা ও মহাসষ্মড়ান দান করা হল এবং তিনি আল্লাহ
তা জানার কালাম শুনলেন, তখন তিনি পর্দা ৷সরিয়ে নেবার আবেদন করলেন এবং এমন মহান
সত্তার উদ্দেশে যাকে দৃনিয়ার৷ সা ধারণ চোখ দেখতে পায় না, তার উদ্দেশে বললেন :
) &’
“ ’ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দাও আমি তোমাকে
দেখব ৷ আল্লাহ্ উত্তরে বলেনং : ১ ৷ প্রু১ :,;> মি আমাকে কখনই দেখতে পাবে না ৷ অর্থাৎ
মুসা (আ) আল্লাহ্ তাআলার প্রকাশের সময় স্থির থাকতে পারবেন না; কেননা পাহাড় যা
মানুষের তুলনায় অধিকতর স্থির ও কাঠামোগতভ ৷বে অধিক শক্তিশালী ৷ পাহাড়ই যখন আল্লাহ
তা আলার জ্যোতি প্রকাশের সময় স্থির থাকতে পারে না তখন মানুষ কেমন করে প ববে০ এ
জন্যই আল্লাহ্ তা আলা বলেন৪ ৷ ;,ছু১দ্ভু
গো ৷প্রুও র্মুগ্লু১ৰু১৷ অর্থাৎ তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ্য কর৩ তা স্বস্থানে স্থির থা ৷কলে তবে ভুমি
আমাকে দেখতে পারবে
প্রাচীন যুগের কিতাবগুলোতে বর্ণিত রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা মুসা (আ)-কে বললেন,
হে মুসা, কোন জীবিত ব্যক্তি আমাকে দেখলে মারা পড়বে এবং কোন শুষ্ক দ্রব্য আমাকে
দেখলে উলট-পালট হয়ে গড়িয়ে পড়বে ৷ বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবু মুসা (বা) হতে বর্ণিত
আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন যে , আল্লাহ্ তাআলার পর্দা হচ্ছে নুর বা জ্যোতির ৷
অন্য এক বর্ণনা মতে, আল্লাহ তাআলার পর্দা হচ্ছে আগুন ৷ যদি তিনি পর্দা সরান তাহলে তার
চেহারার ঔজ্জ্বল্যের দরুন যতদুর তার দৃষ্টি পৌছে সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়েযাবে ৷
আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (বা) আয়াতাংশ ? ’§ ৷ , ১১ ১৷ এর তাফসীর প্রসঙ্গে
বলেন, এটা হচ্ছে আল্লাহ্ তা আলড়ার ঐ নুর যা কোন বস্তুর সামনে প্রকাশ করলে তা ঢিকতে
পারবে না ৷ এজন্যই অ ৷ল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ করেছেন :
بِكَمَالِهِ، وَأُتِمَّتْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً بِعَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ. فَعَلَى هَذَا يَكُونُ كَلَامُ اللَّهِ لَهُ يَوْمَ عِيدِ النَّحْرِ، وَفِي مِثْلِهِ أَكْمَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِينَهُ، وَأَقَامَ حُجَّتَهُ وَبَرَاهِينَهُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، لَمَّا اسْتَكْمَلَ الْمِيقَاتَ، وَكَانَ فِيهِ صَائِمًا، يُقَالُ: إِنَّهُ لَمْ يَسْتَطْعِمِ الطَّعَامَ. فَلَمَّا كَمَلَ الشَّهْرُ أَخَذَ لِحَا شَجَرَةٍ فَمَضَغَهُ، لِيُطَيِّبَ رِيحَ فَمِهِ، فَأَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُمْسِكَ عَشْرًا أُخْرَى، فَصَارَتْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً. وَلِهَذَا ثَبَتَ فِي الْحَدِيثِ أَنَّ: «خَلُوفَ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ» فَلَمَّا عَزَمَ عَلَى الذَّهَابِ، اسْتَخْلَفَ عَلَى شَعْبِ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَخَاهُ هَارُونَ الْمُحَبَّبَ الْمُبَجَّلَ الْجَلِيلَ، وَهُوَ ابْنُ أُمِّهِ وَأَبِيهِ، وَوَزِيرُهُ فِي الدَّعْوَةِ إِلَى مُصْطَفِيهِ، فَوَصَّاهُ وَأَمَرَهُ وَنَهَاهُ، وَلَيْسَ فِي هَذَا لِعُلُوِّ مَنْزِلَتِهِ فِي نُبُوَّتِهِ مُنَافَاةٌ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا} [الأعراف: 143] أَيْ; فِي الْوَقْتِ الَّذِي أُمِرَ بِالْمَجِيءِ فِيهِ، {وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ} [الأعراف: 143] أَيْ; كَلَّمَهُ اللَّهُ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ، إِلَّا أَنَّهُ أَسْمَعَهُ الْخِطَابَ، فَنَادَاهُ وَنَاجَاهُ، وَقَرَّبَهُ وَأَدْنَاهُ، وَهَذَا مَقَامٌ رَفِيعٌ، وَمَعْقِلٌ مَنِيعٌ، وَمَنْصِبٌ شَرِيفٌ، وَمَنْزِلٌ مُنِيفٌ، فَصَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ تَتْرَى وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْأُخْرَى. وَلَمَّا أُعْطِيَ هَذِهِ الْمَنْزِلَةَ الْعَلِيَّةَ وَالْمَرْتَبَةَ السَّنِيَّةَ، وَسَمِعَ الْخِطَابَ، سَأَلَ رَفْعَ الْحِجَابِ، فَقَالَ لِلْعَظِيمِ الَّذِي لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ، الْقَوِّيُّ الْبُرْهَانِ: {رَبِّي أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَنْ تَرَانِي} [الأعراف: 143] ثُمَّ بَيَّنَ تَعَالَى أَنَّهُ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَثْبُتَ عِنْدَ تَجَلِّيهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى; لِأَنَّ الْجَبَلَ الَّذِي هُوَ أَقْوَى وَأَكْبَرُ ذَاتًا، وَأَشَدُّ ثَبَاتًا مِنَ الْإِنْسَانِ، لَا يَثْبُتُ عِنْدَ التَّجَلِّي مِنَ الرَّحْمَنِ، وَلِهَذَا قَالَ:
পৃষ্ঠা - ৬৫৬
“যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন তখন তা পাহাড়কে চুর্ণ বিচুর্ণ
করল ৷ আর মুসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল, যখন সে জ্ঞান ফিরে পেল তখন সে বলে উঠল৪
মহিমময় তুমি , আমি অনুতপ্ত হয়ে তােমাতেই প্রত্যাবর্তন করলাম এবং ঘুমিনদেব মধ্যে আমিই
প্রথম ৷ ”
মুজাহিদ (র) ৷ , দ্বু,পুর্চুর্ন্ত হ্পুাধু ’ ’ ,র্চু;ঠু” ৷ ;,ান্ স্পে ৷ চুে৷ ৷ ,(; ৷ ৰু,ষ্কৃাদ্বু
আয়াতাংশ-এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেনং :
এটার অর্থ হচ্ছে পাহাড় তোমার চাইতে বড় এবং কাঠামােতেও তোমার চ ইভ্রু
অধিকতর শক্ত, যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন, মুসা (আ) পাহাড়ের
প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখেন, পাহাড় স্থির থাকতে পারছে না ৷ পাহাড় সামনের দিকে অগ্রসর
হচ্ছে, প্রথম ধাক্কায় তা চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে গেল ৷ মুসা (আ) প্রত্যক্ষ করছিলেন পাহাড় কি করে ৷
অতঃপর তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন ৷ ইমাম আহমদ (ব) ও তিরমিযী (ব ) হতে বর্ণিত এবং
ইবন জারীর (র) ও হাকিম (র) কর্তৃক সত্যায়িত এ ৰিববণটি আমি আমার তাফসীর গ্রন্থে বর্ণনা
করেছি ৷ ইবন জারীর (ব) আনাস (রা) সুত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতে অতিবিক্ত এটুকু রয়েছে যে
একদিন রাসুলুল্লাহ (সা) ৷দ্বু র্ধার্ধব্লু ক্রো দ্বুর্বৃ ষ্া১ র্দুর্দুৰু আয়াতাংশ তিলাওয়াত
করেন এবং আঙ্গুলে ইশারা করে বলেন, এভাবে পাহাড় ধসে গেল বলে রাসুলুল্পাহ (সা)
বৃদ্ধাঙ্গুলিকে কনিষ্ঠা আঙ্গুলেব উপরের জােড়ায় স্থাপন করলেন ৷
সুদ্দী (ব) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তার জ্যোতি কনিষ্ঠ অঙ্গুলির
পরিমাণে প্রকাশ করার পাহাড় চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে গেল অর্থাৎ মাটি হয়ে গেল ৷ আয়াতাৎশ ক্ট্রব্লু এ
উল্লেখিত ৷দ্রন্শু১ ঢ়’ট্রুঝু র্চুব্লুদ্বু এর অর্থ হচ্ছে বেভুশ হয়ে যাওয়া ৷ কাতাদা (ব) বলেন এটার
অর্থ হচ্ছে মারা যাওয়াত তবে প্রথম অর্থটি বিশুদ্ধতর ৷ কেননা, পরে আল্লাহ তা আলা বলেছেন :
দ্বুক্রো এেষ্ কেননা বেহুশ হবার পরই জ্ঞ ন ফিরে পায় ৷ আয়াতাৎ শ দ্বু শু১ র্চুাট্রুর্চুশু
ষ্প্রুপু ৷ শুর্দু, ৷ ৷,ার্চু শ্া৷ ৷ (মহিমময় তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তােমাতেই প্রত্যাবর্তন
করলাম এবং ঘুমিনদেব আমিই প্রথম ৷) অর্থাৎ আল্লাহ যেহেতু মহিমময় ও মহাসম্মানিত
সেহেতু কেউ তাকে দেখতে পারবে না ৷ মুসা (আ) বলেন, এর পর আর কোন দিনও তোমার
দর্শনের আকভক্ষা করব না ৷ আমিই প্রথম মুমিন অর্থাৎ তোমাকে কোন জীবিত লোক দেখলে
মারা যাবে এবং কোন শুষ্ক বন্তু দেখলে তা গড়িয়ে পড়বে ৷ ৰুখাবী ও মুসলিম শরীফে আবু
সাঈদ খুদরী (ব) থেকে বর্ণিত রয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) ইবশাদ করেন : “আমাকে তোমরা
আম্বিয়ায়ে কিরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে প্রাধান্য দিও না ৷ কেননা, কিয়ামবুত তব দিন যখন মানব
জাতি জ্ঞানহারা হয়ে যাবে, তখন আমিই সর্বপ্রথম জ্ঞান ফিরে পাব ৷ আর তখন আমি মুসা
(আ) ৫-ক আল্লাহ তাআলার আরশের কাছে স্তম্ভ ধরে থাকতে দেখতে পাব ৷ আমি জানি না,
তিনি কি আমার পুর্বেই জ্ঞান ফিরে পাবেন, না কি তাকে তুর পাহাড়ে জ্ঞান হারাবার প্রতিদান
দেয়৷ হবে ৷’ পাঠটি বুখারীর ৷
আল-ৰিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮০-
{وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي} [الأعراف: 143] .
وَفِي الْكُتُبِ الْمُتَقَدِّمَةِ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ لَهُ: يَا مُوسَى، إِنَّهُ لَا يَرَانِي حَيٌّ إِلَّا مَاتَ، وَلَا يَابِسٌ إِلَّا تَدَهْدَهَ. وَفِي " الصَّحِيحَيْنِ "، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «حِجَابُهُ النُّورُ» وَفِي رِوَايَةٍ: «النَّارُ، لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ} [الأنعام: 103] ذَاكَ نُورُهُ الَّذِي هُوَ نُورُهُ إِذَا تَجَلَّى لِشَيْءٍ لَا يَقُومُ لَهُ شَيْءٌ; وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى: {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 143] قَالَ مُجَاهِدٌ: {وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي} [الأعراف: 143] فَإِنَّهُ أَكْبَرُ مِنْكَ وَأَشَدُّ خَلْقًا، فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ فَنَظَرَ إِلَى الْجَبَلِ لَا يَتَمَالَكُ، وَأَقْبَلَ الْجَبَلُ فَدُكَّ عَلَى أَوَّلِهِ، وَرَأَى مُوسَى مَا يَصْنَعُ الْجَبَلُ، فَخَرَّ صَعِقَا. وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي " التَّفْسِيرِ " مَا رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ جَرِيرٍ، وَالْحَاكِمُ، مِنْ طَرِيقِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، زَادَ ابْنُ جَرِيرٍ، وَلَيْثٌ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ: {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا} [الأعراف: 143] قَالَ: هَكَذَا بِأُصْبُعِهِ وَوَضَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْإِبْهَامَ عَلَى الْمَفْصِلِ الْأَعْلَى
পৃষ্ঠা - ৬৫৭
এ হাদীসের প্রথম দিকে এক ইহুদীর ঘটনা রয়েছে ৷ একজন আনসারী তাকে চড়
মেরেছিলেন যখন সে বলেছিল : অর্থাৎ না,
এমন সভার শপথ করে বলছি যিনি মুসা (আ)-কে সমস্ত বনী আদমের মধ্যে অধিকতর সম্মান
দিয়েছেন ৷ তখন আনসারী প্রশ্ন করেছিলেন আল্লাহ কি মুহাম্মদ (সা) থেকেও মুসা (আ)-কে
অধিক সম্মান দিয়েছিলেন? ইহুদী বলল, ইা, এ সময় রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন :
বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা (বা) হতেও
অনুরুপ বর্ণনা রয়েছে ৷ এই হড়াদীসে , ন্প্রুএে ফাং :১এেন্ন্১১ ১! অর্থাৎ মুসা (আ) থেকে
আমাকে অপ্রাধিকার দেবে না, কথাঢিরও উল্লেখ রয়েছে ৷ এরুপ নিষেধ করার কারণ বিভিন্ন হতে
পারে ৷ কেউ কেউ বলেন, রড়াসুলুল্লাহ (সা) এটা বিনয় প্রকাশ করার জন্য বলেছিলেন ৷ আবার
কেউ কেউ বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে আমার প্রতি পক্ষপাতিতৃ করে কিৎবা আম্বিয়ায়ে কিরামকে
তুচ্ছ করার উদ্দেশ্যে আমার অগ্ৰাধিকার বর্ণনা করবে না ৷
অথবা এটার অর্থ হচ্ছে এরুপ : এটা তোমাদের কাজ নয় বরং আল্লাহ্ তাআলাই কোন
নবীকে অন্য নবীর উপর মর্যাদা দান করে থাকেন ৷ এই মর্যাদা ও অগ্রাধিকার কারো অভিমতের
উপর নির্ভরশীল নয় ৷ এই মর্যাদা অভিমতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় না বরং আল্লাহ তাআলার
ওহীর উপর নির্ত্যাশীল ৷ যিনি বলেছেন, রড়াসুলুল্লাহ (সা) সকলের মধ্যে উত্তম’ এই তথ্যটি
জানার পুর্বে রাসুলুল্লাহ (সা) এরুপ বলতে নিষেধ করেছিলেন, যখন তিনি জানতে পারলেন যে,
তিনিই সকলের মধ্যে উত্তম তখন এ নিষেধাজ্ঞাটি রহিত হয়ে যায় ৷ তার এ অভিমত
সন্দেহমুক্ত নয় ৷ কেননা, উপরোক্ত হাদীসটি আবু সাঈদ খুদরী (র) ও আবু হুরায়রা (বা) হতে
বর্ণিত হয়েছে ৷ আর আবুহুরায়রা (বা) খায়বর যুদ্ধের বছরে মদীনায় হিজরত করেছিলেন ৷ তাই
খায়বর যুদ্ধের পর রাসুলুল্লাহ (সা) নিজের গ্রেষ্ঠত্বের কথা জানতে পেয়েছেন, এর সম্ভাবনা
ক্ষীণ ৷ আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ ৷ তবে রাসুলুল্লাহ (সা) যে সমস্ত মানব তথা সমস্ত সৃষ্টির সেরা
এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নই ৷
,
আল্লাহ্ ৩াআলা ইরশাদ করেন : র্ত্যা৷ ;ন্শ্; ৷ প্লুন্ণ্ ৷ )ৰুন্ ণ্ও আেমরাই শ্রেষ্ঠ
উম্মত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে ৷ ’ (সুরা আলে ইমরান : ১১০) আর
উম্মতের পরিপুতাি তাদের নবীর মান-মর্যাদার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয় ৷ হাদীসের সর্বোচ্চ সুত্র তথা
মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ কবেছেন্ স্কিয়ামতের
দিন আমি থাকর আদম সন্তানদের সর্দার ৷ এটা আমার পর্ব নয় ৷ অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা)
মাকামে মাহমুদ যে কেবল তারই জন্য নির্দিষ্ট তা তিনি উল্লেখ করেন ৷ মাকামে মাহমুদ পুর্বের
ও পরের সকলের কাছেই ঈর্ষণীয় এবং এই মর্যাদা অন্য সব নবী-রাসুলের নাগালের বাইরে
থাকবে ৷ এমনকি নুহ (আ), ইব্রাহীম (আ), মুসা (আ) এবং ইসা ইবন মারয়াম (আ) প্রমুখ
বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন নবীপণও এ গৌরব লাভ করবেন না ৷
হাদীসে উক্ত উপরোক্ত বাক্য দ্বারা বোঝা যায়, বড়ান্দাদের আমলের ফয়সালা করার সময়
আল্লাহ তাআলা যখন জ্যোতি প্রকাশ করবেন, তখন কিয়ামতের মাঠে সৃষ্টিকুল জ্ঞানহারা হয়ে
مِنَ الْخِنْصَرِ، فَسَاخَ الْجَبَلُ» . لَفْظُ ابْنِ جَرِيرٍ وَقَالَ السُّدِّيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: مَا تَجَلَّى - يَعْنِي مِنَ الْعَظَمَةِ - إِلَّا قَدْرُ الْخِنْصَرِ، فَجَعَلَ الْجَبَلَ دَكًّا، قَالَ: تُرَابًا {وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا} [الأعراف: 143] أَيْ; مَغْشِيًّا عَلَيْهِ. وَقَالَ قَتَادَةُ: مَيِّتًا. وَالصَّحِيحُ الْأَوَّلُ; لِقَوْلِهِ: {فَلَمَّا أَفَاقَ} [الأعراف: 143] فَإِنَّ الْإِفَاقَةَ إِنَّمَا تَكُونُ عَنْ غَشْيٍ. قَالَ: سُبْحَانَكَ تَنْزِيهٌ، وَتَعْظِيمٌ، وَإِجْلَالٌ أَنْ يَرَاهُ بِعَظَمَتِهِ أَحَدٌ. {تُبْتُ إِلَيْكَ} [الأعراف: 143] أَيْ: فَلَسْتُ أَسْأَلُ بَعْدَ هَذَا الرُّؤْيَةَ: {وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 143] أَنَّهُ لَا يَرَاكَ حَيٌّ إِلَّا مَاتَ، وَلَا يَابِسٌ إِلَّا تَدَهْدَهَ.
وَقَدْ ثَبَتَ فِي " الصَّحِيحَيْنِ "، مِنْ طَرِيقِ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَسَنٍ الْمَازِنِيِّ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُخَيِّرُونِي مِنْ بَيْنِ الْأَنْبِيَاءِ فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ، فَإِذَا أَنَا بِمُوسَى آخِذٍ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ، فَلَا أَدْرِي أَفَاقَ قَبْلِي، أَمْ جُوزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّورِ» لَفْظُ الْبُخَارِيِّ، وَفِي أَوَّلِهِ قِصَّةُ الْيَهُودِيِّ الَّذِي لَطَمَ وَجْهَهُ الْأَنْصَارِيُّ، حِينَ قَالَ: لَا وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا تُخَيِّرُونِي مِنْ بَيْنِ الْأَنْبِيَاءِ» وَفِي
পৃষ্ঠা - ৬৫৮
" الصَّحِيحَيْنِ "، مِنْ طَرِيقِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ، وَفِيهِ: «لَا تُخَيِّرُونِي عَلَى مُوسَى.» وَذَكَرَ تَمَامَهُ. وَهَذَا مِنْ بَابِ الْهَضْمِ وَالتَّوَاضُعِ، أَوْ نَهْيٌ عَنِ التَّفْضِيلِ بَيْنَ الْأَنْبِيَاءِ عَلَى وَجْهِ الْغَضَبِ وَالْعَصَبِيَّةِ، أَوْ لَيْسَ هَذَا إِلَيْكُمْ، بَلِ اللَّهُ هُوَ الَّذِي رَفَعَ بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ، وَلَيْسَ يُنَالُ هَذَا بِمُجَرَّدِ الرَّأْيِ، بَلْ بِالتَّوْقِيفِ. وَمَنْ قَالَ: إِنَّ هَذَا قَالَهُ قَبْلَ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّهُ أَفْضَلُ، ثُمَّ نُسِخَ بِاطِّلَاعِهِ عَلَى أَفْضَلِيَّتِهِ عَلَيْهِمْ كُلِّهِمْ. فَفِي قَوْلِهِ نَظَرٌ; لَأَنَّ هَذَا مِنْ رِوَايَةِ أَبِي سَعِيدٍ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَمَا هَاجَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِلَّا عَامَ خَيْبَرَ مُتَأَخِّرًا، فَيَبْعُدُ أَنَّهُ لَمْ يَعْلَمْ بِهَذَا إِلَّا بَعْدَ هَذَا. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَلَا شَكَّ أَنَّهُ، صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ، أَفْضَلُ الْبَشَرِ، بَلِ الْخَلِيقَةِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 110] . وَمَا كَمُلُوا إِلَّا بِشَرَفِ نَبِيِّهِمْ، وَثَبَتَ بِالتَّوَاتُرِ عَنْهُ، صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ، أَنَّهُ قَالَ: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ» ثُمَّ ذَكَرَ اخْتِصَاصَهُ بِالْمَقَامِ الْمَحْمُودِ، الَّذِي يَغْبِطُهُ بِهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخَرُونَ، الَّذِي تَحِيدُ عَنْهُ الْأَنْبِيَاءُ وَالْمُرْسَلُونَ، حَتَّى أُولُو الْعَزْمِ الْأَكْمَلُونَ; نُوحٌ، وَإِبْرَاهِيمُ، وَمُوسَى، وَعِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ. وَقَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ، فَأَجِدُ مُوسَى بَاطِشًا بِقَائِمَةِ الْعَرْشِ - أَيْ; آخِذًا بِهَا - فَلَا أَدْرِي أَفَاقَ قَبْلِي، أَمْ جُوزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّورِ.
পৃষ্ঠা - ৬৫৯
যাবে ৷ অতিরিক্ত ভয়-ভীতি ও আতংকগ্রস্ততার জন্যই তারা এরুপ জ্ঞানহারা হবে ৷ তাদের মধ্যে
সর্বপ্রথম যিনি জ্ঞান ফিরে পারেন তিনি হচ্ছেন সর্বশেষ নবী এবং সব নবীর চেয়ে আসমান
যমীনের প্রতিপালকের প্রিয়তম মুহাম্মদ (সা) ৷ তিনি মুসা (আ) কে আরণের স্তম্ভ ধরে থাকতে
দেখবেন ৷ সত্যবাদী নবী মুহাম্মদ (সা) বলেন :
এেএগো ৰু
অর্থাৎ আমি জানি না তার জ্ঞানহারা হওয়া কি অতি হালকা ছিল কেননা তিনি দুনিয়ার
একবার জ্ঞানহার৷ হয়েছিলেন, নাকি তাকে তুর পাহাড়ে জ্ঞান হারানাের প্রতিদান দেয়৷ হয়েছে
অর্থাৎ তিনি আদৌ জ্ঞা ৷নহার৷ হননি ৷ এতে রয়েছে মুসা (আ) এর জন্য একটি বড় মর্যাদা ৷ তবে
এই বিশেষ মর্যাদা ৷র কারণে তার সার্বিক মর্যাদা বান বুঝায় না আর এজন্যই রাসুলুল্লাহ (সা ) মুসা
(আ)-এর মর্যাদা ও ফযীলতের দিকে এভাবে ইং গিত ৩করেন, কেননা যখন ইহুদী বলেছিল ং
সমগ্র
মানব জাতির উপর শ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছেন, আনসারী ইহুদীর ণালে চপেটাঘাত করায় মুসা (আ) এর
সম্পর্কে কেউ বিরুপ মনোভাব পোষণ করতে পারে তাই রাসুলুল্লাহ্ (না) তার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য
বর্ণনা করেছিলেন ৷
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন, হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত এবং
বাক্যালাপ দ্বারা তোমাকে মানুষের উপর গ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছি অর্থাৎ সমসাময়িক যুগের লোকদের
উপর পুর্ববর্তীদের উপর নয়, কেননা ইব্রাহীম (আ) মুসা (আ) থেকে উত্তম ছিলেন ৷ যা
ইব্রাহীম (আ) এর কাহিনীর মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷ আবার তার পরবর্তীদের
উপরও নয়, কেননা মুহাম্মদ (সা)ত তাদের উভয় থেকেই উত্তম ছিলেন ৷ যেমন মি রাজের রাতে
সকল নবী-রাসুলের উপর মুহাম্মদ (সা )-এর শ্রেষ্ঠতৃ প্রকাশ পেয়েছে ৷ যেমন রাসুলুল্লাহ (সা)
ইরশাদ করেছেন : ণ্প্রুওটু অর্থাৎ আমি
এমন মর্যাদায় অর্শ্ব ৩ হব যার আখাডক্ষ৷ সৃষ্টিকুলের সকলেই করবে, এমনকি ইব্রাহীম
া
আল্লাহ তাআলার বাণীন্ত্র র্দুা,ব্লুএে৷ ;,’ ট্রু;,ছুদ্বু ;এে ৷ টু র্দু;শুষ্ট্রি অর্থাৎ আমি যে
রিসা ৷লাত তোমাকে দান করেছি তা শক্তভ৷ রে গ্রহণ কর, তার চাইতে বেশি প্রা ৷ংনাে কর না এবং
কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও ৷
আল্লাহ্ তা আলা বলেন ং “আমি তার জন্যে ফলকে সর্ববিষয়ে উপদেশ ও সকল বিষয়ের
স্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি ৷ ফলকগুলোর উপাদান ছিল খুবই মুল্যবান ৷ সহীহ গ্রন্থে আছে যে,
আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতী হাতে মুসা (আ) এর জন্য তাওরাত লিখেছিলেন, তার মধ্যে ছিল
উপদেশাবলী এবং বনী ইসরাঈলের প্রয়োজনীয় হালাল হারামের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ৷ আল্লাহ
তা জানা বলেন, ব্লুদ্রৰু এেশু১পুন্ৰুব্র অর্থাৎ এগুলোকে সুদৃঢ়ভাবে লেক নিয়তে ধর ৷ তারপর বলেন
? মোঃটু) ’ টু এ£ র্টও ঠুএর্দু ৷ § অর্থাৎ তোমার সম্প্রদায়কে নির্দেশ দাও তারা যেন
এগুলোর যা উত্তম তা গ্রহণ করে ৷ অর্থাৎ তারা যেন তার উত্তম ব্যাখ্যা গ্রহণ করে ৷ উপরোক্ত
আয়াতে উল্লেখিত স্পো ৷ ৷ é;)@ এর অর্থ হচ্ছে তারা আমার আনুগত্য
» دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ هَذَا الصَّعْقَ، الَّذِي يَحْصُلُ لِلْخَلَائِقِ فِي عَرَصَاتِ الْقِيَامَةِ، حِينَ يَتَجَلَّى الرَّبُّ لِفَصْلِ الْقَضَاءِ بَيْنَ عِبَادِهِ، فَيُصْعَقُونَ مِنْ شِدَّةِ الْهَيْبَةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْجَلَالِ، فَيَكُونُ أَوَّلَهُمْ إِفَاقَةً مُحَمَّدٌ، خَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ، وَمُصْطَفَى رَبِّ الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ عَلَى سَائِرِ الْأَنْبِيَاءِ، فَيَجِدُ مُوسَى بَاطِشًا بِقَائِمَةِ الْعَرْشِ. قَالَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ: «لَا أَدْرِي أَصُعِقُ، فَأَفَاقَ قَبْلِي» أَيْ كَانَتْ صَعْقَتُهُ خَفِيفَةً; لِأَنَّهُ قَدْ نَالَهُ بِهَذَا السَّبَبِ فِي الدُّنْيَا صَعْقٌ، أَوْ جُوزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّورِ، يَعْنِي فَلَمْ يُصْعَقْ بِالْكُلِّيَّةِ، وَهَذَا فِيهِ شَرَفٌ كَبِيرٌ وَعُلُوُّ مَرْتَبَةٍ لِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، مِنْ هَذِهِ الْحَيْثِيَّةِ، وَلَا يَلْزَمُ تَفْضِيلُهُ بِهَا مُطْلَقًا مِنْ كُلِّ وَجْهٍ; وَلِهَذَا نَبَّهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَرَفِهِ وَفَضِيلَتِهِ بِهَذِهِ الصِّفَةِ; لِأَنَّ الْمُسْلِمَ لَمَّا ضَرَبَ وَجْهَ الْيَهُودِيِّ، حِينَ قَالَ: لَا وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ. قَدْ يَحْصُلُ فِي نُفُوسِ الْمُشَاهِدِينَ لِذَلِكَ هَضْمٌ بِجَنَابِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَبَيَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضِيلَتَهُ وَشَرَفَهُ. وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي} [الأعراف: 144] أَيْ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، لَا مَا قَبْلَهُ; لِأَنَّ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلَ أَفْضَلُ مِنْهُ، كَمَا تَقَدَّمَ بَيَانُ ذَلِكَ فِي قِصَّةِ إِبْرَاهِيمَ، وَلَا مَا بَعْدَهُ; لِأَنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ مِنْهُمَا; كَمَا ظَهَرَ شَرَفُهُ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ عَلَى جَمِيعِ الْمُرْسَلِينَ وَالْأَنْبِيَاءِ، وَكَمَا ثَبَتَ أَنَّهُ قَالَ: «سَأَقُومُ مَقَامًا يَرْغَبُ إِلَيَّ الْخَلْقُ حَتَّى إِبْرَاهِيمُ» وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ} [الأعراف: 144] أَيْ; فَخُذْ مَا أَعْطَيْتُكَ مِنَ الرِّسَالَةِ
পৃষ্ঠা - ৬৬০
পরিহারকারী, আমার আদেশের বিরোধী ও আমার রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণাম
গোপন রাখছে ৷ আমি শীঘ্রই সত্য-ত্যাপীদের বাসস্থান তােমাদেরকে দেখার ৷
আয়াতে উল্লেখিত
)
এ্যাএএএষ্পুব্রে
াক্ট্রদ্বু;;; ণ্ৰু; ৷
,; ন্াব্লু;
পুন্, ,৷ ৰুা৷
অর্থাৎ-শ্ পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে দম্ভ করে বেড়ায় তাদের দৃষ্টি আমার নিদর্শন হতে
ফিরিয়ে দেব ৷ তারা এগুলোর তাৎপর্য ও মুল অর্থ বুঝতে অক্ষম থাকবে; তারা আমার
প্রত্যেকটি নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না ; তারা
সৎপথ দেখলেও এটাকে পথ বলে গ্রহণ করবে না, এ পথে চলবে না, এ পথের অনুসরণ করবে
না ৷ কিভু তারা ভ্রান্ত পথ দেখলে এটাকে তারা পথ হিসেবে গ্রহণ করবে এটা এজন্য যে তারা
আমার নিদশ্নিকে প্র লাখ্যান করেছে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে; এগুলো থেকে তারা গাফিল
রয়েছে; এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য বৃঝতে৩ ৩তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আমল করা থেকে
বিরত রয়েছে ৷ যারা আমার নিদর্শন ও পরকালের সাক্ষা৩ তকে মিথ্যা ৷প্রতিপন্ন করে তাদের কর্ম
নিম্ফল হবে ৷ তারা বা করবে তদনুযায়ীই তাদেরকে প্ৰতিফল দেয়৷ হবে ৷ (সুরা আ যায়১
১ : ৬ ১ : ৭ )
বনী ইসরাঈলেৱ বাছুর পুজার বিবরণ
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন ং
৷ ট্রু,;
র্চু,; ৷;দ্বু;র্দু
এেট্রু;ৰু;;দ্বু প্রে, এেহু র্ন্ত,; পু৷ ৰু,;৷ ৷দ্বু;এে ৷,পু; ; দ্ব ণ্;; ৷ ৷ টু, ৷ , , ণ্;; ;; ৷
৷ ,হ্র;;
মোঃ
وَالْكَلَامِ، وَلَا تَسْأَلْ زِيَادَةً عَلَيْهِ، وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ عَلَى ذَلِكَ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [الأعراف: 145] وَكَانَتِ الْأَلْوَاحُ مِنْ جَوْهَرٍ نَفِيسٍ، فَفِي " الصَّحِيحِ " أَنَّ اللَّهَ كَتَبَ لَهُ التَّوْرَاةَ بِيَدِهِ وَفِيهَا مَوَاعِظُ عَنِ الْآثَامِ، وَتَفْصِيلٌ لِكُلِّ مَا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ مِنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، وَالْحُدُودِ وَالْأَحْكَامِ، {فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ} [الأعراف: 145] أَيْ; بِعَزْمٍ وَنِيَّةٍ صَادِقَةٍ قَوِيَّةٍ، {وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا} [الأعراف: 145] أَيْ، يَضَعُوهَا عَلَى أَحْسَنِ وُجُوهِهَا، وَأَجْمَلِ مَحَامِلِهَا، سَأُورِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ أَيْ; سَتَرَوْا عَاقِبَةَ الْخَارِجِينَ عَنْ طَاعَتِي، الْمُخَالِفِينَ لِأَمْرِي، الْمُكَذِّبِينَ لِرُسُلِي. {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِي} [الأعراف: 146] أَيْ; عَنْ فَهْمِهَا، وَتَدَبُّرِهَا، وَتَعْقُّلِ مَعْنَاهَا الَّذِي أُرِيدَ مِنْهَا، وَدَلَّ عَلَيْهِ مُقْتَضَاهَا، {الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا} [الأعراف: 146] أَيْ; وَلَوْ شَاهَدُوا مَهْمَا شَاهَدُوا مِنَ الْخَوَارِقِ، وَالْمُعْجِزَاتِ، لَا يَنْقَادُوا لِاتِّبَاعِهَا، {وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا} [الأعراف: 146] أَيْ; لَا يَسْلُكُوهُ، وَلَا يَتَّبِعُوهُ {وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا} [الأعراف: 146] أَيْ; صَرَفْنَاهُمْ عَنْ ذَلِكَ; لِتَكْذِيبِهِمْ بِآيَاتِنَا، وَتَغَافُلِهِمْ عَنْهَا، وَإِعْرَاضِهِمْ عَنِ التَّصْدِيقِ بِهَا، وَالتَّفَكُّرِ فِي مَعْنَاهَا، وَتَرْكِ الْعَمَلِ بِمُقْتَضَاهَا، {وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 147] .
পৃষ্ঠা - ৬৬১
;, ৷
১৷ ৷
“মুসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকার দ্বারা গড়ল একটি বাছুর একটি
অবয়ব, যা হলো রব করত ৷ তারা কি দেখল ন যে, এটা তাদের সাথে কথা বলে নাও
তাদেরকে পথও দেখায় না ? তারা এটাকে উপাস্যরুপে গ্রহণ করলে এবং তারা ছিল জালিম ৷
তারা যখন অনুতপ্ত হল ও দেখল যে, তারা বিপথগামী হয়ে গিয়েছে, তখন তারা বলল,
আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের প্রতি দয়া না করেন ও আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে
আমরা তাে ক্ষতিগ্রস্ত হবই ৷ মুসা যখন ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবর্তন
করল, তখন বলল, আমার অনুপন্থিতিতে তোমরা আমার কত নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছ ৷
তোমাদের প্রতিপালকের আদেশের পুর্বে তোমরা ত্বরান্বিত করলে? এবং সে ফলকগুলো ফেলে
দিল আর তার ভাইকে চুলে ধরে নিজের দিকে টেনে আনল ৷ হারুন বললেন, হে আমার
সহোদর ! লোকেরা তো আমাকে দুর্বল ঠাউরিয়েছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করেই ফেলেছিল ৷
তুমি আমার সাথে এমন করো না যাতে শক্ররা আনন্দিত হয় এবং আমাকে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত
করো না ৷ মুসা বলল, হে আমার প্রতিপালক ৷ আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করো এবং
আমাদেরকে তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল কর ৷ তুমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু ৷ যারা বাছুরকে
উপাস্যরুপে গ্রহণ করেছে, পার্থিব জীবনে তাদের উপর তাদের প্ৰতিপালকের (ক্রাধ ও লাঞ্চুনা
আপতিত হবেই ৷ আর এভাবে আমি মিথ্যা রচনাকারীদেরকে প্ৰতিফল দিয়ে থাকি ৷ যারা
অসৎকার্য করে তারা পরে তওবা করলে ও ঈমান আনলে তোমার প্রতিপালক তো পরম
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷ মুসার ক্রোধ যখন প্রশমিত হলো তখন সে ফলকগুলো তুলে নিল ৷
যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাদের জন্য এতে যা লিখিত ছিল তাতে ছিল পথনির্দেশ ও
রহমত ৷ (সুরা আরাফ : ১ ৪৮ ১ ৫৪ )
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন০ :
া
দ্বুহ্র,,ঞা ৷ ,
(
র্বোটুহু)-ধুর্বৃ
,৷ , , ৷
,
[قِصَّةُ عِبَادَتِهِمُ الْعِجْلَ فِي غَيْبَةِ كَلِيمِ اللَّهِ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ - وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِنْ لَمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ - وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِي مِنْ بَعْدِي أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ وَأَلْقَى الْأَلْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلَا تُشْمِتْ بِيَ الْأَعْدَاءَ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ - إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ - وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِهَا وَآمَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ - وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الْأَلْوَاحَ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ} [الأعراف: 148 - 154]
[الْأَعْرَافِ: 148 - 154] .
পৃষ্ঠা - ৬৬২
)
ঢ হু ন্
’
খ্ণ্১
ঢ
ৎণ্ণ্ষ্ণ
এ
,
দু >
টু পু
ণ্ডু
(,
শ্চেভু
ৰুা৷এব্;ব্র;;শুারুট্রৰু১র্চুএের্দুণ্ড্রওর্চুব্লুএপ্রুর্মুছু এেএ্া৷া,;া৷ষ্া৷,শুাএ
অর্থাৎ হে মুসা! তোমার সম্প্রদায়কে পশ্চাতে ফেলে তোমাকে তৃর৷ করতে বাধ্য করল
কিসাে সে বলল, এই তো তারা আমার পশ্চারুত এবং হে আমার প্রবিপালক ! আমি তৃবায়
৫তামার কাছে আসলাম, তুমি সন্তুষ্ট হবে এ জন্য ৷ তিনি বললেন, আমি তোমার সম্প্রদায়কে
পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর এবং সামিরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে ৷ তারপর
মুসা তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ৷ সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়!
তোমাদের প্ৰর্টপ লক কি ৫তামাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননিঃ তবে কি প্রতিশ্রুতিকাল
তোমাদের কাছে সুদীর্ঘ হয়েছে; না তোমরা চেয়েছ তোমাদের প্রতি আপতিত হোক তোমাদের
প্রতিপালকের ক্রোধ, যে কারণে তোমরা আমার প্রতি প্রদত্ত অংগীকার তংগ করলে? ওরা বলল,
আমরা তোমার প্রতি প্রদত্ত অংগীক৷ ৷র স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি, তবে আমাদের উপর চা ৷পিয়ে দেয়া
হয়েছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা তা অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করি অনুরুপভ্যবে
সামিরীও নিক্ষেপ করে ৷৩ তারপর সে ওদের জন্যে গড়ল একটা বাছুর, একটা অবয়ব, যা হাম্বা
বব করত ৷ ওরা বলল, “এটাও তামাদের ইলাহ এবং মুসারও ইলাহ, কিন্তু মুসা ভুলে গিয়েছে ৷
তবে কি ওরা ভেবে দেখে না যে, এটা তাদের কথায় সাড়া দেয় না এবং তাদের কোন ক্ষতি
অথবা উপকার করবার ক্ষমতাও রাখে না ৷ হারুন৩ তাদেরকে পুর্বেই বলেছিল, হে আমার
সম্প্রদায়! এটার৷ দ্বারা তো কেবল তামাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে ৷ তোমাদের প্রতিপালক
দয়াময় ৷ সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল ৷ ওরা বলেছিল,
আমাদের কাছে মুসা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এটা ৷র পুজা হত ৩কিছুভ্রু তই বিরত হয় না ৷
মুসা বলল, হে হারুন! তুমি যখন দেখলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তখন কিসে৫ তামাকে নিবৃত্ত
করল, আমার অনুসরণ করা থেকে ? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে? হারুন বলল,
হে আমার সহােদর আমার দা ৷ড়ি ও চুল ধ্রো না ৷ আমি আশংকা করেছিলাম যে, তুমি বলবে,
তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ ও তুমি আমার বাক্য পালনে যত্নবান হওনি ৷
وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَا أَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ يَا مُوسَى - قَالَ هُمْ أُولَاءِ عَلَى أَثَرِي وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى - قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنْ بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ السَّامِرِيُّ - فَرَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ يَا قَوْمِ أَلَمْ يَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا أَفَطَالَ عَلَيْكُمُ الْعَهْدُ أَمْ أَرَدْتُمْ أَنْ يَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَخْلَفْتُمْ مَوْعِدِي - قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَكِنَّا حُمِّلْنَا أَوْزَارًا مِنْ زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنَاهَا فَكَذَلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ - فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَذَا إِلَهُكُمْ وَإِلَهُ مُوسَى فَنَسِيَ - أَفَلَا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًا وَلَا يَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا - وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِنْ قَبْلُ يَا قَوْمِ إِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهِ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ فَاتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوا أَمْرِي - قَالُوا لَنْ نَبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى - قَالَ يَا هَارُونُ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَهُمْ ضَلُّوا - أَلَّا تَتَّبِعَنِ أَفَعَصَيْتَ أَمْرِي - قَالَ يَا ابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِي - قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَا سَامِرِيُّ - قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا بِهِ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِنْ أَثَرِ الرَّسُولِ فَنَبَذْتُهَا وَكَذَلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي - قَالَ فَاذْهَبْ فَإِنَّ لَكَ فِي الْحَيَاةِ أَنْ تَقُولَ لَا مِسَاسَ وَإِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَنْ تُخْلَفَهُ وَانْظُرْ إِلَى إِلَهِكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا لَنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا - إِنَّمَا إِلَهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَسِعَ كُلَ شَيْءٍ عِلْمًا} [طه: 83 - 98]
[طه: 83 - 98] . يَذْكُرُ تَعَالَى مَا كَانَ مِنْ أَمْرِ بَنِي إِسْرَائِيلَ، حِينَ ذَهَبَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، إِلَى مِيقَاتِ رَبِّهِ، فَمَكَثَ عَلَى الطُّورِ يُنَاجِيهِ رَبُّهُ، وَيَسْأَلُهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَنْ أَشْيَاءَ كَثِيرَةٍ، وَهُوَ تَعَالَى يُجِيبُهُ عَنْهَا، فَعَمَدَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ: السَّامِرِيُّ.
পৃষ্ঠা - ৬৬৩
মুসা বলল, হে সামিরী! তে ৷মার ব্যাপার কি? যে বলল, আমি দেখেছিলাম যা ওরা দেখেনি
তারপর আমি সেই দুতের (জিবরাঈলের) পদচিহ্ন থেকে এবং মুষ্ঠি (ধুলা) নিয়েছিলাম এবং
আমি এটা নিক্ষেপ করেছিলাম এবং আমার মন আমার জন্য শোভন করেছিল এইরুপ করা ৷”
মুসা বলল, দুর হও, তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্য এটাই রইল যে তুমি বলবে “আমি
অম্পৃশ্য” এবং তে ৷মার জন্য রইল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবে না
এবং তৃমি৫ তামার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যার পুজায়তু মি ব্ব৩ ছিলে; আমরা ওটাকে
জ্বালিয়ে দেবই ৷ অতঃপর ওটাকে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে নিক্ষেপ কররই ৷ তোমাদের ইলাহ তো
কেবল আল্লাহই, যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই ৷৩ তার জ্ঞান সর্ববিষয়ে ব্যাপ্ত ৷ (সুরা তাহা
৪ ৮৩ ৯৮ )
উপরোক্ত আয়াতসমুহে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷ মুসা
(আ) যখন আল্লাহ তাআলা নির্ধারিত সময়ে উপনীত ৩হলেন, তখন তিনি তুর পর্বতে অবস্থান
করে আপন প্রতিপালকের সাথে একান্ত কথা বললেন ৷ মুসা (আ ৷ আল্লাহ্ তা আলার নিকট
বিভিন্ন বিষয়ে জ নতে চান এবং আল্লাহ্ তা আল৷ সে সব বিষয়ে৩ তাকে জ ৷নিয়ে দেন ৷ তাদের
মধ্যকার এক ব্যক্তি যাকে হারুন আস সামিরী বলা হয় সে যেসব অলংকার ধারস্বরু প নিয়েছিল
সেগুলো দিয়ে সে একটি বাছুর-মুর্তি তৈরি করল এবং বনী ইসরাঈলের সামনে ফিরআউনকে
আল্লাহ তাআলা ডুবিয়ে যাবার সময় জিবরাঈল (আ)-এর ঘোড়ার পায়ের এক মুষ্ঠি ধুলা
মুর্তিটির ভিতরে নিক্ষেপ করল ৷ সাথে সাথে বাছুর মুর্তিটি জীবন্ত বাছুরের মত হলো হলো
আওয়াজ দিতে লাগল ৷ কেউ কেউ বলেন, এতে তা রক্ত-মাংসের জীবন্ত একটি বাছুরে
রুপান্তরিত হয়ে যায় আর তা হলো হলো রব করতে থাকে ৷ কাতাদ৷ (র) প্রমুখ মুফাসসিরীন এ
মত ব্যক্ত করেছেন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, যখন এটার পেছন দিক থেকে বাতাস ঢুকত
এবং মুখ দিয়ে বের হত তখনই হলো হলো আওয়াজ হত যেমন সাধারণত গরু ডেকে থাকে ৷
এতে তারা এর চতুর্দিকে নাচতে থাকে এবং উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে ৷ তারা বলতে লাগল,
এটাই তোমাদের ও মুসা (আ) এর ইলাহ, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন ৷ অর্থাৎ মুসা (আ) আমাদের
নিবল্টস্থ প্রতিপালককে ভুলে গেছেন এবং অন্যত্র গিয়ে তাকে ঘোজাখুজি করছেন অথচ
প্রতিপালক তো এখানেই রয়েছেন ৷ (নির্বো ধরা যা বলছে আল্লাহ তাআলা তার বহু বহু উর্ধে,
তার নাম ও গুণগুলো এসব অপবাদ থেকে পুত পবিত্র এবং আল্লাহ্ ৷ আলা প্রদত্ত নিয়ামত
সমুহও অগণিত) তারা যেটাকে ইলাহরুপে গ্রহণ করেছিল তা বড় জো র একটা ৷জস্তু বা শ্৷ ৷য়তান
ছিল ৷৩ তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার অসারতা বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা জানা বলেন, তারা কি
দেখে না যে, এই বাছুরটি তাদের কথার কোন উত্তর দিতে পারে না এবং এটা তাদের কোন
উপকার বা অপকার করতে পারে না ৷ অন্যত্র বলেন, তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের সাথে
কথা বলতে পারে না এবং তাদেরকে পথনির্দেশ করতে পারে না ৷ আর এরা ছিল জালিম ৷ (৭
আরাফ : ১৪৮)
এখানে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেন যে, এ জন্তুটি তা ৷দের সাথে কথা বলতে পারে না,
তাদের কোন কথার জবাব দিতে পারে না, কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না কিৎবা কোন
উপকার করারও শক্তি রাখে না,৩ তাদেরকে পখনির্দেশও করতে পারে না, তারা তাদের আত্মার
فَأَخَذَ مَا كَانَ اسْتَعَارُوهُ مِنَ الْحُلِيِّ فَصَاغَ مِنْهُ عِجْلًا، وَأَلْقَى فِيهِ قَبْضَةً مِنَ التُّرَابِ، كَانَ أَخَذَهَا مِنْ أَثَرِ فَرَسِ جِبْرِيلَ، حِينَ رَآهُ يَوْمَ أَغْرَقَ اللَّهُ فِرْعَوْنَ عَلَى يَدَيْهِ، فَلَمَّا أَلْقَاهَا فِيهِ خَارَ كَمَا يَخُورُ الْعِجْلُ الْحَقِيقِيُّ، وَيُقَالُ: إِنَّهُ اسْتَحَالَ عِجْلًا جَسَدًا. أَيْ لَحْمًا وَدَمًا، حَيًّا يَخُورُ. قَالَهُ قَتَادَةُ وَغَيْرُهُ. وَقِيلَ: بَلْ كَانَتِ الرِّيحُ إِذَا دَخَلَتْ مِنْ دُبُرِهِ، خَرَجَتْ مِنْ فَمِهِ، فَيَخُورُ كَمَا تَخُورُ الْبَقَرَةُ، فَيَرْقُصُونَ حَوْلَهُ وَيَفْرَحُونَ. {فَقَالُوا هَذَا إِلَهُكُمْ وَإِلَهُ مُوسَى فَنَسِيَ} [طه: 88] أَيْ; فَنَسِيَ مُوسَى رَبَّهُ عِنْدَنَا، وَذَهَبَ يَتَطَلَّبُهُ، وَهُوَ هَاهُنَا. تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا، وَتَقَدَّسَتْ أَسْمَاؤُهُ وَصِفَاتُهُ، وَتَضَاعَفَتْ آلَاؤُهُ وَعِدَاتُهُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى، مُبَيِّنًا لَهُمْ بُطْلَانَ مَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ، وَمَا عَوَّلُوا عَلَيْهِ، مِنْ إِلَهِيَّةِ هَذَا الَّذِي قُصَارَاهُ أَنْ يَكُونَ حَيَوَانًا بَهِيمًا وَشَيْطَانًا رَجِيمًا: {أَفَلَا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًا وَلَا يَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا} [طه: 89] وَقَالَ: {أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ} [الأعراف: 148] فَذَكَرَ أَنَّ هَذَا الْحَيَوَانَ لَا يَتَكَلَّمُ، وَلَا يَرُدُّ جَوَابًا وَلَا يَمْلِكُ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا، وَلَا يَهْدِي إِلَى رُشْدٍ، اتَّخَذُوهُ وَهُمْ ظَالِمُونَ لِأَنْفُسِهِمْ عَالِمُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ بُطْلَانَ مَا هُمْ عَلَيْهِ مِنَ الْجَهْلِ وَالضَّلَالِ، {وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ} [الأعراف: 149] أَيْ; نَدِمُوا عَلَى مَا صَنَعُوا، {وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِنْ لَمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الأعراف: 149] .
পৃষ্ঠা - ৬৬৪
প্রতি জুলুম করেছে ৷ তারা তাদের এই মুর্থতা ও বিভ্রান্তির অসারতা সম্বন্ধে সম্যক অবগত ৷
“অতঃপর তারা যখন তাদের কৃতকর্মের জন্যেঅনুতপ্ত হল এবং অনুভব করতে পারল যে , তারা
ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে তখন তারা বলতে লাগল, যদি আমাদের প্রতিপালক আমাদের প্রতি দয়া
না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ব ৷ ”
(৭ আরাফ : ১৪৯)
অতঃপর মুসা (আ) তাদের কাছে ফিরে আসলেন এবং তাদের বাছুর পুজা করার বিষয়টি
জানতে পারলেন ৷ তার সাথে ছিল বেশ কয়েকটি ফলক যেগুলোর মধ্যে তাওরাত লিপিবদ্ধ
ছিল, তিনি এগুলো ফেলে দিলেন ৷ কেউ কেউ বলেন, এগুলোকে তিনি ভেঙ্গে ফেলেন ৷
তাবীরা এরুপ বলে থাকে ৷ এরপর আল্লাহ তাআলা এগুলোর পয়িরৰর্ত অন্য ফলক দান
করেন ৷ কুরআনুল করীমের ভাষ্যে এর স্পষ্ট উল্লেখ নেই তবে এত দুর আছে যে, মুসা (আ)
তাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে, ফলকগুলাে ফেলে দিয়েছিলেন ৷ কিতাবীদের মতে, সেখানে
ছিল মাত্র দুইটি ফলক ৷ কুরআনের আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ফলক বেশ কয়েকটিই ছিল ৷
আল্লাহ্ তাআলা যখন তাকে তার সম্প্রদায়ের বাছুর পুজার কথা অবগত করেছিলেন , তখন মুসা
(আ) তেমন প্রভাবান্বিত হননি ৷ তখন আল্লাহ্ তাকে তা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে নির্দেশ
দেন ৷ এ জন্যেই ইমাম আহমদ (র) ও ইবন হিব্বান (র) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে ,
রসুলুল্লাহ (না) ইরশাদ করেন অর্থাৎ সংবাদ প্রাপ্তি এবং প্রত্যক্ষ
দর্শন সমান নয় ৷ অতঃপর মুসা (আ) তাদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাদেরকে ভর্বৃসনা
করলেন এবং তাদের এ হীন কাজের জন্যে তাদেরকে দােষারোপ করলেন ৷ তখন তার কাছে
তারা মিথ্যা ওযর আপত্তি পেশ করে বলল :
ণ্হ্র৷ ৷ প্লুট্রু ;,প্লু ৷ , ৷ ১টু ৷ fl ,ঘ্রদ্বু এে৬ র্য;র্দ্রব্লুস্পে ৷ র্তুৰু প্রুপুএে
ৰুহু;া€ (,;প্রর্দু ঞ১হ্রদ্বু ৷$এের্দু£ন্দ্বু
অর্থাৎ- তারা বলল, আমরা তোমার প্রতি প্রর্দত্ত অঙ্গীকার স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি তবে
আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা তা অগ্নিকুণ্ডে
নিক্ষেপ করি ৷ অনুরুপতাবে সামিরীও নিক্ষেপ করে ৷ (সুরা তা-হা : ৮৭)
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ফিরআউন সম্প্রদায়ের অলংকারের অধিকারী হওয়াকে তারা
পাপকার্য বলে মনে করতে লাগল অথচ আল্লাহ্ তাআলা এগুলোকে তাদের জন্য বৈধ করে
দিয়েছিলেন ৷ অথচ তারা মহা পরাক্রমশালী অদ্বিতীয় মহাপ্রতুর সাথে হলো হড়াম্ব৷ বরের অধিকারী
বাছুরের পুজাকে তাদের মুর্থতা ও নির্বৃদ্ধিতার কারণে পাপকার্য বলে বিবেচনা করছিল না ৷
অতঃপর মুসা (আ) আপন সহােদর হারুন (আ)-এর প্রতি মনােযোপী হলেন এবং তাকে
বললেন : মোঃ শু,ঠুকুপু১র্তৃ হে হড়ারুন! তুমি যখন দেখলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন কিসে
তোমাকে নিবৃত্ত করল আমার অনুসরণ করা থেকে? (সুরা তা-হা : ৯২)
অর্থাৎ যখন তৃ তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারটি দেখলে তখন ঢুমি কেন আমাকে সে সম্বন্ধে
fl
অবহিত করলে না? তখন তিনি বললেন, ট্রুস্চুশু ৰু)র্দুশু
وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، إِلَيْهِمْ، وَرَأَى مَا هُمْ عَلَيْهِ مِنْ عِبَادَةِ الْعِجْلِ، وَمَعَهُ الْأَلْوَاحُ الْمُتَضَمِّنَةُ التَّوْرَاةَ، أَلْقَاهَا، فَيُقَالُ: إِنَّهُ كَسَرَهَا. وَهَكَذَا هُوَ عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَإِنَّ اللَّهَ أَبْدَلَهُ غَيْرَهَا. وَلَيْسَ فِي اللَّفْظِ الْقُرْآنِيِّ مَا يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ، إِلَّا أَنَّهُ أَلْقَاهَا حِينَ عَايَنَ مَا عَايَنَ. وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَنَّهُمَا كَانَا لَوْحَيْنِ. وَظَاهِرُ الْقُرْآنِ أَنَّهَا أَلْوَاحٌ مُتَعَدِّدَةٌ، وَلَمْ يَتَأَثَّرْ بِمُجَرَّدِ الْخَبَرِ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى، عَنْ عِبَادَةِ الْعِجْلِ، فَأَمَرَهُ بِمُعَايَنَةِ ذَلِكَ. وَلِهَذَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ، وَابْنُ حِبَّانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الْخَبَرُ كَالْمُعَايَنَةِ» . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِمْ فَعَنَّفَهُمْ، وَوَبَّخَهُمْ، وَهَجَّنَهُمْ فِي صَنِيعِهِمْ، هَذَا الْقَبِيحِ، فَاعْتَذَرُوا إِلَيْهِ بِمَا لَيْسَ بِصَحِيح; قَالُوا: {إِنَّا حُمِّلْنَا أَوْزَارًا مِنْ زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنَاهَا فَكَذَلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ} [طه: 87] تَحَرَّجُوا مِنْ تَمَلُّكِ حُلِيِّ آلِ فِرْعَوْنَ، وَهُمْ أَهْلُ حَرْبٍ، وَقَدْ أَمَرَهُمُ اللَّهُ بِأَخْذِهِ، وَأَبَاحَهُ لَهُمْ وَلَمْ يَتَحَرَّجُوا بِجَهْلِهِمْ، وَقِلَّةِ عِلْمِهِمْ وَعَقْلِهِمْ مِنْ عِبَادَةِ الْعِجْلِ الْجَسَدِ، الَّذِي لَهُ خُوَارٌ، مَعَ الْوَاحِدِ الْأَحَدِ، الْفَرْدِ الصَّمَدِ الْقَهَّارِ. ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَخِيهِ هَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، قَائِلًا لَهُ: {قَالَ يَا هَارُونُ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَهُمْ ضَلُّوا - أَلَّا تَتَّبِعَنِ} [طه: 92 - 93] أَيْ; هَلَّا لَمَّا رَأَيْتَ مَا صَنَعُوا اتَّبَعْتَنِي فَأَعْلَمْتَنِي بِمَا فَعَلُوا، فَقَالَ: {إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ} [طه: 94] أَيْ; تَرَكْتَهُمْ وَجِئْتَنِي، وَأَنْتَ قَدِ اسْتَخْلَفْتَنِي فِيهِمْ، {قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [الأعراف: 151] وَقَدْ كَانَ هَارُونُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ،
পৃষ্ঠা - ৬৬৫
ও () :§£ আমি আশংকা করেছিলাম যে, তুমি বলবে যে, তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে
বিভেদ সৃষ্টি করেছ ৷ (সুরা তা-হা : ৯৪)
অর্থাৎ তুমি হয়ত বলতে, তুমি তাদেরকে ছেড়ে আমার কাছে চলে আসলে অথচ আমি
তোমাকে তাদের মধ্যে আমার প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এসেছিলাম ৷
আল্লাহ্ তাআলা বলেন $
ধ্ঈাধ্) এত্রৈ
“মুসা বলল, হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে
তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল কর ৷ তৃমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু ৷ (সুরা আরাফ : ১৫১)
হারুন (আ) তাদেরকে এরুপ জঘন্য কাজ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন এবং
তাদেরকে কঠোরভাবে ভর্ধসনা করেছিলেন ৷ যেমন আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
ও অর্থাৎ হারুন তাদেরকে
পুর্বেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! এর দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা
হয়েছে ৷ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এ বাছুর ও এর হলো রবকে তোমাদের জন্যে একটি পরীক্ষার
বিষয় করেছেন ৷
নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক খুবই দয়াময় অক্ট্রৎ এ বাছুর তোমাদের প্রভু নয় ৷ (সুরা
তা-হা : ৯০ আয়াত) ট্রু;,ন্^৷ ৷ ,ৰুার্মু৷ § গ্লুব্লু ,ক্ট্রভু;এে সুতরাং আমি যা বলি তার অনুসরণ
কর এবং আমার আদেশ মান্য কর ৷ তারা বলেছিল, আমাদের কাছে মুসা ফিরে না আসা পর্যন্ত
আমরা এটার পুজা থেকে কিছুতেই বিরত হয় না ৷” (সুরা তা-হা £ব্র ৯১) ৷ আল্লাহ তাআলা
হারুন (আ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছেন আর আল্লাহ্ তাআলার সাক্ষ্যই যথেষ্ট ৷ যে হারুন (আ)
তাদেরকে এরুপ জঘন্য কাজ থেকে নিষেধ করেছিলেন, তাদেরকে ভৎসনা করেছিলেন কিভু
তারা তার কথা মানা করেনি ৷ অতঃপর মুসা (আ) সড়ামিরীর প্রতি মনােযােগী হলেন এবং
বললেন, “তুমি যা করেছ কে তোমাকে এরুপ করতে বলেছিল ?” উত্তরে সে বলল, “আমি
জিবরাঈল (আ)-কে দেখেছিলাম, তিনি ছিলেন একটি ঘোড়ার উপর সওয়ার তখন আমি
জিবরাঈল (আ)-এর ঘোড়ার পায়ের ধুলা সংগ্রহ করেছিলাম ৷” আবার কেউ কেউ বলেন :
সামিরী জিবরাঈল (আ)-কে দেখেছিল ৷ জিবরাঈল (আ)-এর ঘোড়ার খুর যেখানেই পড়ত
অমনি সে স্থানটি ঘাসে সবুজ হয়ে যেত ৷ তাই সে ঘোড়ার খুরের নিচের মাটি সংগ্রহ করল ৷
এরপর যখন সে এই স্বর্ণ-নির্মিত বড়াছুরের মুখে ঐ মাটি রেখে দিল, তখনই সে আওয়াজ করতে
লাগল এবং পরবর্তী ঘটনা সংঘটিত হল ৷ এজনােই সামিরী বলেছিল-ষ্আমার মন আমার
জন্যে এরুপ করা শোভন করেছিল ৷ ’ তখন মুসা (আ) তাকে অভিশাপ দিলেন এবং বললেন,
তুমি সব সময়ে বলবে র্চু £পুব্লু ৰু৷ অর্থাৎ আমাকে কেউ স্পর্শ করবে না কেননা, যে এমন
জিনিস স্পর্শ করেছিল যা তার স্পর্শ করা উচিত ছিল না ৷ এটা তার দুনিয়ার শাস্তি ৷ অতঃপর
আখিরাতের শাস্তির কথাও তিনি ঘোষণা করেন ৷ অত্র আয়াতে উল্লেখিত এ্যা;; ;, কে কেউ
কেউ ধ্এে১ ;,পু পাঠ করেছেন অর্থাৎ এর ব্যতিক্রম হবে না’ স্থলে আমি ব্যতিক্রম করব
না ৷ ’ অতঃপর মুসা (আ) বাছুরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেললেন ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম ঘ্নে)াছচীত্যাত্তগাে০ওেয়াে
نَهَاهُمْ عَنْ هَذَا الصَّنِيعِ الْفَظِيعِ أَشَدَّ النَّهْيِ، وَزَجَرَهُمْ عَنْهُ أَتَمَّ الزَّجْرِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِنْ قَبْلُ يَاقَوْمِ إِنَّمَا فُتِنْتُمْ} [طه: 90] أَيْ; إِنَّمَا قَدَّرَ اللَّهُ أَمَرَ هَذَا الْعِجْلِ، وَجَعَلَهُ يَخُورُ فِتْنَةً وَاخْتِبَارًا لَكُمْ. {وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ} [طه: 90] أَيْ; لَا هَذَا الْعِجْلُ {فَاتَّبِعُونِي} [طه: 90] أَيْ; فِيمَا أَقُولُ لَكُمْ، {وَأَطِيعُوا أَمْرِي - قَالُوا لَنْ نَبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى} [طه: 90 - 91] يَشْهَدُ اللَّهُ لِهَارُونَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا، أَنَّهُ نَهَاهُمْ وَزَجَرَهُمْ عَنْ ذَلِكَ، فَلَمْ يُطِيعُوهُ وَلَمْ يَتَّبِعُوهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى السَّامِرِيِّ {قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَا سَامِرِيُّ} [طه: 95] أَيْ; مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ. {قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا بِهِ} [طه: 96] أَيْ; رَأَيْتُ جِبْرَائِيلَ، وَهُوَ رَاكِبٌ فَرَسًا {فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِنْ أَثَرِ الرَّسُولِ} [طه: 96] أَيْ; مِنْ أَثَرِ فَرَسِ جِبْرِيلَ. وَقَدْ ذَكَرَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ رَآهُ وَكَانَ كُلَّمَا وَطِئَتْ بِحَوَافِرِهَا عَلَى مَوْضِعٍ، اخْضَرَّ وَأَعْشَبَ، فَأَخَذَ مِنْ أَثَرِ حَافِرِهَا، فَلَمَّا أَلْقَاهُ فِي هَذَا الْعِجْلِ الْمَصْنُوعِ مِنَ الذَّهَبِ، كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ، وَلِهَذَا قَالَ: {فَنَبَذْتُهَا وَكَذَلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي - قَالَ فَاذْهَبْ فَإِنَّ لَكَ فِي الْحَيَاةِ أَنْ تَقُولَ لَا مِسَاسَ} [طه: 96 - 97] وَهَذَا دُعَاءٌ عَلَيْهِ بِأَنْ لَا يَمَسَّ أَحَدًا; مُعَاقَبَةً لَهُ عَلَى مَسِّهِ مَا لَمْ يَكُنْ لَهُ مَسُّهُ. هَذَا مُعَاقَبَةٌ لَهُ فِي الدُّنْيَا، ثُمَّ تَوَعَّدَهُ فِي الْأُخْرَى فَقَالَ: {وَإِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَنْ تُخْلَفَهُ} [طه: 97] قُرِئَ: (لَنْ نُخْلِفَهُ) . {وَانْظُرْ إِلَى إِلَهِكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا لَنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا} [طه: 97] قَالَ: فَعَمَدَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، إِلَى هَذَا الْعِجْلِ فَحَرَقَهُ، قِيلَ: بِالنَّارِ. كَمَا
পৃষ্ঠা - ৬৬৬
এ অভিমত টি কাতাদ৷ (র) প্রমুখের ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, উখ৷ দিয়ে তিনি বাছুর
মুর্তিটি ধ্বংস করেছিলেন ৷ এ অভিমতটি আলী (রা) , আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) প্রমুখের ৷
কিতাবীদের ভাষাও তাই ৷ অতঃপর এটাকে মুসা (আ) সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন এবং বনী
ইসরাঈলকে সেই সমুদ্রের পানি পান করতে নির্দেশ দিলেন ৷ত তারা পানি পান করল ৷ যারা
বাছুরের পুজা করেছিল, বাছুরের ছাই তাদের ঠোটে লেগে রইল যাতে বোঝা গেল যে, তারাই
ছিল এর পুজারী ৷ কেউ কেউ বলেন, তাদের রং হলদে হয়ে যায় ৷
আল্লাহ তা আলা মুসা (আ) সম্বন্ধে আরও বলেন যে, তিনি বনী ইসর৷ ঈলকে বলেছিলেনর্গেৰু :
অর্থাৎ তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই যিনি বাতীত ৩অন্য কোন ইলাহ নেই ৷ তার
জ্ঞান সর্ববিষয়ে ব্যপ্ত ৷ ’
আল্লাহ তা ব্লেআটু৷ আরো বলেন০ ং
শুধ্ é
অর্থাৎ- যায়৷ বাছুরকে উপাস্যরুপে গ্রহণ করেছে পার্থিব জীবনে তাদের উপর তাদের
প্রতিপালকের ক্রোধ ও লাঞ্চুনা আপতিত হবেই, আর এভাবে আমি মিথ্যা রচনাকারীদের
প্রতিফল দিয়ে থাকি ৷ ’ (সুরা আরাফ : ১৫২)
বাস্তবিকই বনী ইসরাঈলের উপর এরুপ ৫ক্রা ধ ও লাঞ্চুন ই আপতিত হয়েছিল ৷ প্রাচীন
আলিমপণের কেউ কেউ বলেছেন, র্চু, )শুণ্হুপুি ৷ এে)পুন্;ন্ এে ;$§ আয়াতাত্শ এর মাধ্যমে
কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী প্রতিটি বিদআত উদ্ভাবনকা বীর এরুপ অবশ্যম্ভ৷ ৷বী পরিণামের কথা
বলা হয়েছে ৷ অতঃপর আল্লাহ তাআলা আপন ধৈর্যশীলতা, সৃষ্টির প্রতি তার দয়া ও তওবা
কবুলের ব্যাপারে বন্দোদের উপর তার অনুগ্নহের কথা বর্ণনা করে বলেন, যায়৷ অসৎ কার্য করে
তারা পরে তওবা করলে ও ঈমান আনলে তোমার প্রতিপালক তাে পরম ক্ষমাশীল, পরম
দয়ালু ৷’ (সুরা আরাফ০ : ১৫৩) ৷
কিভু বাছুর পুজারীদের হত আর শাস্তি ব্যতীত আল্লাহ্ তা আলা কোন তওবা কবুল করলেন
না ৷ যেমন আল্লাহ তা আলা ইরশাদ করেন০
fl;
আর স্মরণ কর, যখন মুসা আপন সম্প্রদায়ের লোককে বলল, হে আমার সম্প্রদায় !
বাছুরকে উপাস্যরুপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের প্রতি ঘোর অত্যাচার করেছ ৷ সুতরাং তোমরা
তোমাদের স্রষ্টার পানে ফিরে যাও , এবং তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর ৷ তোমাদের স্রষ্টার কাছে
قَالَهُ قَتَادَةُ، وَغَيْرُهُ. وَقِيلَ: بِالْمَبَارِدِ. كَمَا قَالَهُ عَلِيٌّ، وَابْنُ عَبَّاسٍ، وَغَيْرُهُمَا. وَهُوَ نَصُّ أَهْلِ الْكِتَابِ. ثُمَّ ذَرَّاهُ فِي الْبَحْرِ، وَأَمَرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَشَرِبُوا، فَمَنْ كَانَ مِنْ عَابِدِيهِ، عَلَّقَ عَلَى شِفَاهِهِمْ مِنْ ذَلِكَ الرَّمَادِ مِنْهُ مَا يَدُلُّ عَلَيْهِ، وَقِيلَ: بَلِ اصْفَرَّتْ أَلْوَانُهُمْ.
ثُمَّ قَالَ تَعَالَى إِخْبَارًا عَنْ مُوسَى أَنَّهُ قَالَ لَهُمْ: {إِنَّمَا إِلَهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا} [طه: 98] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ} [الأعراف: 152] وَهَكَذَا وَقَعَ، وَقَدْ قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ {وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ} [الأعراف: 152] مُسَجَّلَةٌ لِكُلِّ صَاحِبِ بِدْعَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. ثُمَّ أَخْبَرَ تَعَالَى عَنْ حِلْمِهِ وَرَحْمَتِهِ بِخَلْقِهِ، وَإِحْسَانِهِ عَلَى عَبِيدِهِ فِي قَبُولِهِ تَوْبَةَ مَنْ تَابَ إِلَيْهِ، بِتَوْبَتِهِ عَلَيْهِ فَقَالَ: {وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِهَا وَآمَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ} [الأعراف: 153] لَكِنْ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ تَوْبَةَ عَابِدِي الْعِجْلِ إِلَّا بِالْقَتْلِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [البقرة: 54] . فَيُقَالُ: إِنَّهُمْ أَصْبَحُوا يَوْمًا وَقَدْ أَخَذَ مَنْ لَمْ يَعْبُدِ الْعِجْلَ فِي أَيْدِيهِمُ السُّيُوفَ، وَأَلْقَى اللَّهُ عَلَيْهِ ضَبَابًا، حَتَّى لَا يَعْرِفَ الْقَرِيبُ قَرِيبَهُ، وَلَا النَّسِيبُ نَسِيبَهُ، ثُمَّ مَالُوا عَلَى عَابِدِيهِ، فَقَتَلُوهُمْ، وَحَصَدُوهُمْ. فَيُقَالُ: إِنَّهُمْ قَتَلُوا فِي صَبِيحَةٍ وَاحِدَةٍ سَبْعِينَ أَلْفًا. ثُمَّ قَالَ تَعَالَى: {وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الْأَلْوَاحَ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ} [الأعراف: 154] اسْتَدَلَّ بَعْضُهُمْ بِقَوْلِهِ: {وَفِي نُسْخَتِهَا} [الأعراف: 154] عَلَى أَنَّهَا تَكَسَّرَتْ، وَفِي هَذَا الِاسْتِدْلَالِ نَظَرٌ، وَلَيْسَ فِي اللَّفْظِ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهَا تَكَسَّرَتْ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي حَدِيثِ الْفُتُونِ، كَمَا سَيَأْتِي، أَنَّ عِبَادَتَهُمُ الْعِجْلَ كَانَتْ عَلَى أَثَرِ خُرُوجِهِمْ مِنَ الْبَحْرِ، وَمَا هُوَ بِبَعِيدٍ; لِأَنَّهُمْ حِينَ خَرَجُوا {قَالُوا يَامُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ} [الأعراف: 138] .
وَهَكَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَإِنَّ عِبَادَتَهُمُ الْعِجْلَ كَانَتْ قَبْلَ مَجِيئِهِمْ بِلَادَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ وَذَلِكَ أَنَّهُمْ لَمَّا أُمِرُوا بِقَتْلِ مَنْ عَبَدَ الْعِجْلَ، قَتَلُوا فِي أَوَّلِ يَوْمٍ ثَلَاثَةَ آلَافٍ. ثُمَّ ذَهَبَ مُوسَى يَسْتَغْفِرُ لَهُمْ، فَغُفِرَ لَهُمْ، بِشَرْطِ أَنْ يَدْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ.
{وَاخْتَارَ مُوسَى قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا لِمِيقَاتِنَا فَلَمَّا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَاءُ وَتَهْدِي مَنْ تَشَاءُ أَنْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ - وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ قَالَ عَذَابِي أُصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاءُ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 155 - 157]
[الْأَعْرَافِ: 155 - 157] .
পৃষ্ঠা - ৬৬৭
এটাই শ্রেয় ৷ তিনিও তামাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন ৷ তিনি অ৩ তান্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷
(সুরা বাক্য রা ৫৪)
কথিত আছে একদিন ভে ৷রবেলা যারা বাছুর পুজা করেনি তারা তরবারি হাতে নিল;
অন্যদিকে আল্লাহ৩ তা অড়ালা তাদের প্রতি এমন ঘন কুয়াশা অবতীর্ণ করলেন যে প্রতিবেশী
প্রতিবেশীকে এবং একই বংশের একজন অন্যজনকে চিনতে পারছিল না ৷ তারা বাছুর
পুজারীদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করল এবং তাদের মুলোৎপাটন করে দিল ৷ কথিত রয়েছে
তারা ঐ দিনের একই প্রভাতে সত্তর হাজার লোককে হত্যা করেছিল ৷
অতংপর আল্লাহ তাআলা বলেনং :
অর্থাৎ “যখন মুসার ণ্ক্রাধ প্রশমিত হল তখন সে ফলকগুলাে তুলে নিল ৷ যারা তাদের
প্রতিপালককে ভয় করে তাদের জন্য ওতে যা লিখিত ছিল তাতে ছিল পথনির্দেশ ও রহমত৷ ৷”
(সুরা আরাফং : ১৫৪)
আয়াতাৎশে উল্লেখিত দ্বারা কেউ কেউ প্রমাণ
করেন যে, ফলকগুলাে ভেঙে গিয়েছিল ৷ তবে এই প্রমাণটি সঠিক নয় ৷ কেননা কুরআনের
শব্দে এমন কিছু পাওয়া যায় না যাতে প্রমাণিত হয় যে, এগুলো ভেঙে গিয়েছিল ৷ আবদুল্লাহ
ইবন আব্বাস (রা) ফিৎনা সম্বলিত হাদীসসমুহে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বাছুর পুজা
ঘটনাটি ছিল তাদের সমুদ্র পার হবার পর ৷ এই অভিমতটি অযৌক্তিক নয়; কেননা তারা যখন
সমুদ্র পার হলো তখন, তারা বলেছিল, হে মুসা! তাদের যেমন ইলাহসমুহ রয়েছে আমাদের
জন্যেও তেমন একটি ইলাহ্ গড়ে দাও ৷ ” (সুরা আরাফ : ১০৮)
অনুরুপ অভিমত কিতাবীরা প্রকাশ করে থাকেন ৷ কেননা, তাদের বাছুর পুজার ঘটনাটি
ছিল বায়তৃল মুকাদ্দাস শহরে আগমনের পুর্বে ৷ বাছুর পুজারীদেরকে হত্যা করার যখন হকুম
দেয়া হয়, তখন প্রথম দিনে তিন হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছিল ৷ অতঃপর মুসা (আ)
তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ৷ তাদের ক্ষমা করা হল এই শর্তে যে, তারা বায়তুল
মুকাদ্দাসে প্রবেশ করবে ৷ আল্লাহ তড়াআলা ইরশাদ করেনং :
া
সুমোঃ
ষু১ ণ্ডাচী
ণ্
ذَكَرَ السُّدِّيُّ، وَابْنُ عَبَّاسٍ، وَغَيْرُهُمَا، أَنَّ هَؤُلَاءِ السَّبْعِينَ كَانُوا عُلَمَاءَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَمَعَهُمْ مُوسَى، وَهَارُونُ، وَيُوشَعُ، وَنَادَابُ، وَأَبِيهُو، ذَهَبُوا مَعَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، لِيَعْتَذِرُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي عِبَادَةِ مَنْ عَبَدَ مِنْهُمُ الْعِجْلَ، وَكَانُوا قَدْ أُمِرُوا أَنْ يَتَطَيَّبُوا وَيَتَطَهَّرُوا وَيَغْتَسِلُوا، فَلَمَّا ذَهَبُوا مَعَهُ، وَاقْتَرَبُوا مِنَ الْجَبَلِ، وَعَلَيْهِ الْغَمَامُ، وَعَمُودُ النُّورِ سَاطِعٌ، وَصَعِدَ مُوسَى الْجَبَلَ، فَذَكَرَ بَنُو إِسْرَائِيلَ أَنَّهُمْ سَمِعُوا كَلَامَ اللَّهِ، وَهَذَا قَدْ وَافَقَهُمْ عَلَيْهِ طَائِفَةٌ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ، وَحَمَلُوا عَلَيْهِ قَوْلَهُ تَعَالَى: {وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [البقرة: 75] . وَلَيْسَ هَذَا بِلَازِمٍ; لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} [التوبة: 6] أَيْ; مُبَلَّغًا، وَهَكَذَا هَؤُلَاءِ سَمِعُوهُ مُبَلَّغًا مِنْ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ. وَزَعَمُوا أَيْضًا أَنَّ السَّبْعِينَ رَأَوُا اللَّهَ، وَهَذَا غَلَطٌ مِنْهُمْ; لِأَنَّهُمْ لَمَّا سَأَلُوا الرُّؤْيَةَ أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ; كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ - ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [البقرة: 55 - 56]
[الْبَقَرَةِ: 55، 56] . وَقَالَ هَاهُنَا:
পৃষ্ঠা - ৬৬৮
৷ ন্£ট্রুৰু;;
’¢ ৷“ এ্যাগ্লুার্দুর্মং ,১াএে র্দুএ৷ ঠুঠু;া৷ ৷প্রুঠুওার্চুঙ্কুদ্বুর্তৃ;;গ্লু
”মুসা তার নিজ সম্প্রদায় থেকে সত্তরজন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানে সমবেত হবার
জন্যে মনোনীত করল ৷৩ তারা যখন ভুমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল, তখন মুসা বলল, হে আমার
প্রতিপালক! তুমি ইচ্ছা করলে পুর্বেই তো তাদেরকে এবং আমাৰুকও ধ্বং স করতে পারতে ৷
আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ তারা বা করেছে সেজন্য কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করবেঃ এটা
তো শুধু তোমার পরীক্ষা, যা দিয়ে তুমি যাকে ইচ্ছে বিপথগামী কর এবং মাঝে ইচ্ছে সৎপথে
পরিচালিত কর ৷ তৃমিই তো আমাদের অভিভাবক ৷ সুতরাং আমাদের ক্ষমা কর ও আমাদের
প্রতি দয়া কর এবং ক্ষমাশীলদের মধ্যে ত্মিই তো শ্রেষ্ঠ ৷ আমাদের জন্য নির্ধারিত কর দুনিয়া ও
আখিরাঃ তর কল্যাণ, আমরা তোমার নিকট প্ৰত্যাবতনি করেছি ৷ আল্লাহ বলেন, আমার শাস্তি
যাকে ইচ্ছে দিয়ে থাকি, আর আমার দয়া, তাতো প্রত্যেক বন্তুতে ব্যাপ্ত ৷ সুতরাং × আমি এটা
তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা তাকওয়৷ অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনে
বিশ্বাস করে ৷ যায়৷ অনুসরণ করে বড়ার্তাবাহক উঘী নবীর, যার উল্লেখ তাওরাত ও ইঞ্জিল, যা
তাদের নিকট রয়েছেত তাতে তারা লিপিবদ্ধ পায়, যে তাদেরকে সৎকা জের নির্দেশ দেয় ও
অসৎকার্যে বাধা দেয়, যে তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হ লাল করে ও অপবিত্র বস্তু হড়ারাম করে এবং
যে যুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার থেকে ও শৃৎখল থেকে যা তাদের উপর ছিল ৷ সুতরাং
যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যেই নুর তার সাথে
অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করে তারাই সফলকাম ৷ ” (সুরা আরাফ : ১ ৫ ৫ ১ ৫ ৭ )
সুদ্দী (র) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) ও অন্যান্য যুফাসৃসির উল্লেখ করেন যে, এই
সত্তরজন ছিলেন বনী ইসরাঈলের উলামায়ে কিয়াম ৷ আর তাদের সাথে ছিলেন মুসা (আ),
হারুন (আ), ইউশা (আ) নদোব ও আবীছ ৷ বনী ইসরাঈলের যারা বাছুর পুজা করেছিল তাদের
পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার জন্যে তারা মুসা (আ)-এর সাথে গিয়েছিলেন ৷ আর তাদেরকে হুকুম
দেয়৷ হয়েছিল তারা যেন পবিত্রতা ৷ও পরিচ্ছন্নত৷ অর্জন করে গোসল করে ও সুগন্ধি ব্যবহার
করে ৷ তখন তারা মুসা (আ)-এর সাথে আগমন করলেন, পাহাড়ের নিকটবর্তী হলেন;
পাহাড়ের উপরে ঝুলন্ত ছিল মেঘখণ্ড, নুরের স্তম্ভ ছিল সুউচ্চ ৷ মুসা (আ) পাহাড়ে আরোহণ
করলেন ৷ বনী ইসরাঈলর৷ দাবি করেন যে, তারা আল্লাহ তাআলার কালাম শুনেছেন ৷ কিছু
ৎখ্যক তাফসী রকার তাদের এ দাবিকে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন, সুরায়ে বাকারার ৭৫
{فَلَمَّا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِيَّايَ} [الأعراف: 155] الْآيَةَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: اخْتَارَ مُوسَى مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ سَبْعِينَ رَجُلًا، الْخَيِّرَ فَالْخَيِّرَ وَقَالَ: انْطَلَقُوا إِلَى اللَّهِ، فَتُوبُوا إِلَيْهِ مِمَّا صَنَعْتُمْ، وَسَلُوهُ التَّوْبَةَ عَلَى مَنْ تَرَكْتُمْ وَرَاءَكُمْ مِنْ قَوْمِكُمْ، صُومُوا وَتَطَهَّرُوا، وَطَهِّرُوا ثِيَابَكُمْ. فَخَرَجَ بِهِمْ إِلَى طُورِ سَيْنَاءَ لِمِيقَاتٍ وَقَّتَهُ لَهُ رَبَّهُ، وَكَانَ لَا يَأْتِيهِ إِلَّا بِإِذْنٍ مِنْهُ وَعِلْمٍ، فَطَلَبَ مِنْهُ السَّبْعُونَ أَنْ يَسْمَعُوا كَلَامَ اللَّهِ، فَقَالَ: أَفْعَلُ. فَلَمَّا دَنَا مُوسَى مِنَ الْجَبَلِ وَقَعَ عَلَيْهِ عَمُودُ الْغَمَامِ حَتَّى تَغَشَّى الْجَبَلَ كُلَّهُ، وَدَنَا مُوسَى فَدَخَلَ فِي الْغَمَامِ، وَقَالَ لِلْقَوْمِ: ادْنُوا. وَكَانَ مُوسَى إِذَا كَلَّمَهُ اللَّهُ وَقَعَ عَلَى جَبْهَتِهِ نُورٌ سَاطِعٌ، لَا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ مِنْ بَنِي آدَمَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهِ، فَضَرَبَ دُونَهُ بِالْحِجَابِ، وَدَنَا الْقَوْمُ، حَتَّى إِذَا دَخَلُوا فِي الْغَمَامِ، وَقَعُوا سُجُودًا، فَسَمِعُوهُ وَهُوَ يُكَلِّمُ مُوسَى، يَأْمُرُ وَيَنْهَاهُ; افْعَلْ. وَلَا تَفْعَلْ. فَلَمَّا فَرَغَ اللَّهُ مِنْ أَمْرِهِ، وَانْكَشَفَ عَنْ مُوسَى الْغَمَامَ أَقْبَلَ إِلَيْهِمْ قَالُوا لِمُوسَى: {لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً} [البقرة: 55] فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ - وَهِيَ الصَّاعِقَةُ - فَافْتَلَتَتْ أَرْوَاحُهُمْ، فَمَاتُوا جَمِيعًا فَقَامَ مُوسَى يُنَاشِدُ رَبَّهُ، وَيَدْعُوهُ، وَيَرْغَبُ إِلَيْهِ، وَيَقُولُ: {رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا} [الأعراف: 155] أَيْ; لَا تُؤَاخِذْنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ الَّذِينَ عَبَدُوا الْعِجْلَ مِنَّا، فَإِنَّا بُرَآءُ مِمَّا عَمِلُوا. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ،
পৃষ্ঠা - ৬৬৯
নং আয়াবুত উল্লেখিত আল্লাহ তা আলার বাণী শ্ররণকারী যে দলটির কথা বলা হয়েছে,
সত্তরজবুনর দলের দ্বারাও একই অর্থ নেয়া হয়েছে ৷
রাবুয় বাকারায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেবুছন০ :
বুক্ট্র)১ব্র১ামৰ্এণ্ট্রি
অর্থাৎ তোমরা কি এই আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবুব, যখন
তাদের একদল আল্লাহর বাণী শ্রবণ করে ৷৩ তারপর তা বুঝবার পর বুজবুন-শুবুন এটা বিকৃত
করে ৷ (সুরা বড়াকারা : ৭৫)
তবে এ আয়াতে যে শুধু তাদের কথাই বলা হয়েছে, এটাও অপরিহার্য নয় ৷ কেননা, আল্লাহ
তা আশা অন্যত্র ইরশাদ করেন ং
ষ্লোঃর্ভু র্দুশ্ঠু(ওছুপুাট্রু১
অর্থাৎ “মুশ্ারিকদের মধ্যে বুকউবু তামার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে তুমি তাবুক আশ্রয়
দেবে যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পড়ায়, অতঃপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌছিবুয় দেবে ৷
কারণ তারা অজ্ঞ লোক ৷” (সুরা তওবা০ : ৬)
অর্থাৎ তাবলীগের খাতিরে তাবুক আল্লাহ্ তা আলার বাণী শোনাবার জন্যে হকুম দেয়া
হয়েছে, অনুরুপভাবুব তারাও মুসা (আ) থেকে তাবলীগ হিসেবে আল্লাহ তা আলার বাণী
শুনেছিবুলন ৷ কিত ৷বীরা আরো মনে করে যে, এ সত্তর ব্যক্তি আল্লাহ তা আলাবুক দেবুখছিল ৷
এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা বৈ আর কিছুই নয় ৷ কেননা, তারা যখন আল্লাহ তা আলাবুক দেখবুত
চেবুয়ছিল তখনই৩ ৷ ৷রা বজ্বাহত ৩হবুয়ছিল এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইন্া৷ষ্া৷ন্ৰু ফরেন০ ং
“স্মরণ কর, যখন তোমরা ববুলছিবুলপ্টি, হে মুসা ৷৷ আমরা আল্লাহবুক প্রতাক্ষভাবুব না দেখা
পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করব না ৷ তখন তোমরা বজ্রাহত হবুয়ছিবুল, আর তোমরা
নিজেরাই বুদখছিবুল, মৃতু র পর তোমাদের পুনর্জীবিত করলাম, যাবুত তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন
কর ৷’ ’(সুরা বাক বা ং ৫৫ ৫৬)
অন্যত্র আল্লাহ ত ৷আলা ইরশাদ করেনং :
মোঃ ’ পুার্চু র্বৃহ্;ও ট্র০ মোঃ
অর্থাৎ-“তারা যখন ভুমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল তখন মুসা বলল, হে আমার প্রতিপালক
তুমি ইচ্ছে করলে পুর্বেই তো তাদেরকে এবং আমাবুকও ধ্বং স করতে পারবুত ৷ ”
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, ”মুসা (আ) বনী ইসরাঈল থেকে সত্তরজন সদস্যকে
তাদের বুশ্রষ্ঠবুৎ র ক্রমানুযায়ী মনোনীত করেছিলেন এবং তাদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহ
وَقَتَادَةُ، وَابْنُ جُرَيْجٍ: إِنَّمَا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ لِأَنَّهُمْ لَمْ يَنْهَوْا قَوْمَهُمْ عَنْ عِبَادَةِ الْعِجْلِ. وَقَوْلُهُ: {إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ} [الأعراف: 155] أَيِ; اخْتِبَارُكَ، وَابْتِلَاؤُكَ، وَامْتِحَانُكَ. قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَالرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ عُلَمَاءِ السَّلَفِ وَالْخَلْفِ. يَعْنِي: أَنْتَ الَّذِي قَدَّرْتَ هَذَا، وَخَلَقْتَ مَا كَانَ مِنْ أَمْرِ الْعِجْلِ، اخْتِبَارًا تَخْتَبِرُهُمْ بِهِ، كَمَا قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِنْ قَبْلُ: {يَا قَوْمِ إِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهِ} [طه: 90] أَيِ ; اخْتُبِرْتُمْ بِهِ، وَلِهَذَا قَالَ: {تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَاءُ وَتَهْدِي مَنْ تَشَاءُ} [الأعراف: 155] أَيْ ; مَنْ شِئْتَ أَضْلَلْتَهُ بِاخْتِبَارِكَ إِيَّاهُ، وَمَنْ شِئْتَ هَدَيْتَهُ، لَكَ الْحُكْمُ وَالْمَشِيئَةُ، فَلَا مَانِعَ وَلَا رَادَّ لِمَا حَكَمْتَ وَقَضَيْتَ. {أَنْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ} [الأعراف: 155] .
{وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ} [الأعراف: 156] أَيْ; تُبْنَا إِلَيْكَ وَرَجَعْنَا وَأَنَبْنَا. قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَإِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ، وَالضَّحَّاكُ، وَالسُّدِّيُّ، وَقَتَادَةُ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ، وَهُوَ كَذَلِكَ فِي اللُّغَةِ. {قَالَ عَذَابِي أُصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاءُ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} [الأعراف: 156] أَيْ; أَنَا أُعَذِّبُ مَنْ شِئْتُ بِمَا أَشَاءُ مِنَ الْأُمُورِ، الَّتِي أَخْلُقُهَا وَأُقَدِّرُهَا، {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} [الأعراف: 156] كَمًّا ثَبَتَ فِي " الصَّحِيحَيْنِ " عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَمَّا فَرَغَ مِنْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، كَتَبَ كِتَابًا، فَهُوَ مَوْضُوعٌ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ: إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي» {فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ} [الأعراف: 156]
পৃষ্ঠা - ৬৭০
তাআলার দিকে প্রত্যাগমন কর, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তওবা কর এবং তোমাদের মধ্যে
যারা বাছুর পুজা করে অন্যায় করেছে তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে তোমরা
তওবা কর; তোমরা সিয়াম আদায় কর; পবিত্রতা অর্জন কর ও নিজেদের জামা-কাপড়
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর ৷” অতঃপর আপন প্রতিপালক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে সীনাই মরুভুমির
তুর পাহাড়ে মুসা (আ) তাদেরকে নিয়ে বের হয়ে পড়লেন ৷ আর তিনি কোন সময়ই আল্লাহ
তাআলার অনুমতি ব্যতীত সেখানে গমন করতেন না ৷ আল্লাহ তাআলার কালাম শ্যেনাবার
জন্যে তাদের সেই সত্তরজন মুসা (আ ) ন্কে অনুরোধ করল ৷ মুসা (আ) বললেন, আমি একাজটি
করতে চেষ্টা করব ৷ মুসা (আ) যখন পাহাড়ের নিকটবর্তী হলেন, তখন তার উপর যেঘমালার
স্তম্ভ নেমে আসল এবং তা সমস্ত পাহাড়কে আচ্ছন্ন করে ফেলল ৷ মুসা (আ) আরও নিকটবর্তী
হলেন এবং মেযমালায় ঢুকে পড়লেন, আর নিজের সম্প্রদায়কে বলতে লাগলেন, তোমরা
নিকটবর্তী হও ৷ ’ মুসা (আ) যখন আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলতেন, তখন মুসা (আ)-এর
মুখমণ্ডালর উপর এমন উজ্জ্বল নুরের প্রতিফলন ঘটত যার দিকে বনী আদমের কেউ দৃষ্টি
নিক্ষেপ করতে পারত না ৷ তাই সামনে পর্দা ঝুলিয়ে দেয়া হল, সম্প্রদায়ের লোকেরা অ্যাসর
হলেন এবং মেঘমালায় ঢুকে সিজদাবনত হয়ে পড়লেন ৷ আল্লাহ তাআলা যখন মুসা (আ )-এর
সাথে কথা বলছিলেন, মুসা (আ)-কে বলছিলেন, এটা কর , ঐটা করো না ৷ তখন তারা আল্লাহ
তাআলার কথা শুনছিলেন ৷ আল্লাহ তাআলা যখন তার নির্দেশ প্রদান সম্পন্ন করলেন এবং মুসা
(আ) থেকে যেঘমালা কেটে গেল ও সম্প্রদায়ের দিকে তিনি দৃষ্টি দিলেন, তখন তারা বলল, হে
মুসা ! আমরা তোমার কথায় বিশ্বাস করি না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্য দেখতে
পাই ৷ তারা তখন বজ্বাহত হল ও তাদের থেকে তাদের রুহ বের হয়ে পড়ল ৷ তাতে তারা
সকলেই মৃত্যুবরণ করল ৷
তৎক্ষণাৎ মুসা (আ) আপন প্ৰতিপালককে ডাকতে লাগলেন এবং অনুনয় বিনয় করে
আরবী জানাতে লগেলেন :
৷শুশুপ্রু র্শ্বার্চুর্ধ£থ্রে ! (া র্ধর্ন্ত র্টু০ ৷এহ্রব্লুট্রুৰুশুর্দু ৰুহ্রপুিার্বুর্দুধ্ টু;,ন্ মোঃ ৷ ধ্পুষ্প;পু ষ্হুন্ঠু
অর্থাৎ “হে আমার প্রতিপালক ! তুমি ইচ্ছে করলে পুর্বেই তো তাদেরকে এবং আমাকেও
ধ্বংস করতে পারতে ৷ আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ, তারা বা করেছে সেজন্য তুমি আমাদেরকে
কি ধ্বংস করবেঃ
”অন্য কথায়, আমাদের মধ্য হতে নির্বোধরা যা করেছে; তারা বাছুরের পুজা করেছে ৷
তাদের এ কাজের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা), মুজাহিদ
(র), কাতাদা (র) ও ইবন জুরায়জ (র) বলেন, বনী ইসরাঈলরা বজ্বাঘাতে আক্রান্ত হয়েছিল,
কেননা তারা তাদের সট্রুপ্নদায়কে বাছুর পুজা থেকে বিরত রাখেনি ৷ উক্ত আয়াতে উল্লেখিত
আয়াতাৎশ £&এে; ৰুর্ণ!এেগ্ ট্রু,া-এর অর্থ হচ্ছে, এটা তোমার প্রদত্ত পরীক্ষা ছাড়া কিছুই
নয় ৷ ’ এ অভিমতটি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) , সাঈদ ইবন জুবাইর (রা) , আবুল আলীয়া
(র) , রাবী ইবন আনাস (র) ও পুৰ্বাপরের অসংখ্য উলামায়ে কিরামের ৷ অর্থাৎ হে আল্লাহ !
তৃমিই এটা নির্ধারিত করে রেখেছিলে, বা তাদেরকে এটার দ্বারা পরীক্ষা করার জন্যে বাছুর পুজা
করার বিষয়টি সৃষ্টি করেছিলে ৷
أَيْ; فَسَأُوجِبُهَا حَتْمًا لِمَنْ يَتَّصِفُ بِهَذِهِ الصِّفَاتِ، {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ} [الأعراف: 157] الْآيَةَ. وَهَذَا فِيهِ تَنْوِيهٌ بِذِكْرِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأُمَّتِهِ، مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي جُمْلَةِ مَا نَاجَاهُ بِهِ، وَأَعْلَمَهُ وَأَطْلَعَهُ عَلَيْهِ. وَقَدْ تَكَلَّمْنَا عَلَى هَذِهِ الْآيَةِ وَمَا بَعْدَهَا فِي " التَّفْسِيرِ " بِمَا فِيهِ كِفَايَةٌ وَمَقْنَعٌ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ. وَقَالَ قَتَادَةُ: قَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ أَجِدُّ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً، خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ، يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ، وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ، رَبِّ اجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ: رَبِّ إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً، هُمُ الْآخِرُونَ فِي الْخَلْقِ، السَّابِقُونَ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ، رَبِّ اجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ: رَبِّ إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً، أَنَاجِيلُهُمْ فِي صُدُورِهِمْ، يَقْرَؤُونَهَا، وَكَانَ مَنْ قَبْلَهُمْ يَقْرَؤُونَ كِتَابَهُمْ نَظَرًا، حَتَّى إِذَا رَفَعُوهَا لَمْ يَحْفَظُوا شَيْئًا وَلَمْ يَعْرِفُوهُ، وَإِنَّ اللَّهَ أَعْطَاكُمْ أَيَّتُهَا الْأُمَّةُ مِنَ الْحِفْظِ شَيْئًا، لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا مِنَ الْأُمَمِ. قَالَ: رَبِّ اجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ: رَبِّ إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً، يُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ الْأَوَّلِ، وَبِالْكِتَابِ الْآخِرِ، وَيُقَاتِلُونَ فُضُولَ الضَّلَالَةِ، حَتَّى يُقَاتِلُوا الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ، فَاجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ: رَبِّ إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً، صَدَقَاتُهُمْ يَأْكُلُونَهَا فِي بُطُونِهِمْ، وَيُؤْجَرُونَ عَلَيْهَا، وَكَانَ مَنْ قَبْلَهُمْ إِذَا تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَقُبِلَتْ مِنْهُ بَعْثَ اللَّهُ عَلَيْهَا نَارًا فَأَكْلَتْهَا، وَإِنْ رُدَّتْ عَلَيْهِ تُرِكَتْ فَتَأْكُلُهَا السِّبَاعُ وَالطَّيْرُ، وَإِنَّ اللَّهَ أَخَذَ صَدَقَاتِكُمْ مِنْ غَنِيِّكُمْ لِفَقِيرِكُمْ قَالَ: رَبِّ فَاجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ: رَبِّ فَإِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً، إِذَا هَمَّ أَحَدُهُمْ
পৃষ্ঠা - ৬৭১
بِحَسَنَةٍ، ثُمَّ لَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةٌ، فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا، إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ: رَبِّ، اجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ: تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ: رَبِّ إِنِّي أَجِدُ فِي الْأَلْوَاحِ أُمَّةً هُمُ الْمُشَفَّعُونَ، الْمَشْفُوعُ لَهُمْ، فَاجْعَلْهُمْ أُمَّتِي. قَالَ تِلْكَ أُمَّةُ أَحْمَدَ. قَالَ لَنَا قَتَادَةُ: فَذَكَرَ لَنَا أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، نَبَذَ الْأَلْوَاحَ وَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ أَحْمَدَ. وَقَدْ ذَكَرَ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ مَا كَانَ مِنْ مُنَاجَاةِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَأَوْرَدُوا أَشْيَاءَ كَثِيرَةً لَا أَصْلَ لَهَا، وَنَحْنُ نَذْكُرُ مَا تَيَسَّرَ ذِكْرُهُ مِنَ الْأَحَادِيثِ وَالْآثَارِ، بِعَوْنِ اللَّهِ وَتَوْفِيقِهِ، وَحُسْنِ هِدَايَتِهِ وَمَعُونَتِهِ وَتَأْيِيدِهِ.
قَالَ الْحَافِظُ أَبُو حَاتِمٍ، مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ ": ذِكْرُ سُؤَالِ كَلِيمِ اللَّهِ رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ عَنْ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَرْفَعِهِمْ مَنْزِلَةً; أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدٍ الطَّائِيُّ بِمَنْبَجَ، حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُطَرِّفُ بْنُ طَرِيفٍ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبْجَرَ - شَيْخَانِ صَالِحَانِ - سَمِعْنَا الشَّعْبِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ، «عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، سَأَلَ رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ: أَيُّ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَدْنَى مَنْزِلَةً؟ فَقَالَ: رَجُلٌ يَجِيءُ بَعْدَ مَا يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، فَيُقَالُ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ. فَيَقُولُ: كَيْفَ أَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَقَدْ نَزَلَ النَّاسُ مَنَازِلَهُمْ وَأَخَذُوا أَخَذَاتِهِمْ. فَيُقَالُ لَهُ: تَرْضَى أَنْ يَكُونَ لَكَ مِنَ الْجَنَّةِ مِثْلُ مَا كَانَ لِمَلِكٍ مِنْ مُلُوكِ الدُّنْيَا؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ أَيْ رَبِّ.
পৃষ্ঠা - ৬৭২
যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন০ ং
অর্থাৎ “হারুন তাদেরকে পুর্বেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! বাছুর পুজা দ্বার তো
কেবল তােমাদেরকে পরীক্ষায়ই ফেলা হয়েছে ৷” (সুরা তা-হাং : ৯০)
এজন্য মুসা (আ) বলেছিলেনং : ৰুন্ন্শুর্জু০ ধুন্০ভু
অর্থাৎ “তুমিই এই পরীক্ষা দ্বারা যাকে ইচ্ছে পথভ্রষ্ট কর এবৎ যাকে ইচ্ছে হিদায়ত কর ৷
তুমিই নির্দেশ ও ইচ্ছার মালিক ৷ তুমি যা নির্দেশ বা ফয়সাল৷ কর তা বাধা দেয়ার মত কারো
শক্তি নেই এবং কেউ তা প্রতিহতওঙু করতে পারে না ৷
ন্ন্১প্রু;
এর্দুএা৷, ৷ ১“ ” ৷শুষ্ট্রক্ট্রা
তুমিই তাে আমাদের অভিভাবক, সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি দয়া কর
এবং ক্ষমাশীলদের মধ্যে তুমিই তো শ্রেষ্ঠ ৷ আমাদের জন্য নির্ধারিত কর ইহকা ৷ল ও পরকালের
কল্যাণ, আমরা তােমা র নিকট প্রত্যাবর্তন করেছি এবং অনুনয় বিনয় সহকারে তােমাকেই স্মরণ
করেছি ৷
উপরোক্ত তাফসীরটি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, সাঈদ ইবন জুবাইর, আবুল
আলীয়া, ইবরাহীম তায়মী, যাহ্হাক, সুদ্দী, কাত ৷দা (র) ও আরো অনেকেই এরুপ ব্যাখ্যা
করেছেন ৷ আভিধানিক অর্থও তইি ৷
fl
আয়াতাৎশ : শু এ৮
অর্থাৎ--আমি যেসব বস্তু সৃষ্টি করেছি এগুলোর কারণে আমি মাঝে ইচ্ছে শাস্তি প্রদান
করব ৷ আমার রহমত তা তো প্ৰতেক বন্তুতে ব্যাপ্ত ৷ (সুরা আরাফ : ১৫৬)
সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন : “আল্লাহ
তাআলা যখন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজন সমাপ্ত করেন তখন তিনি একটি লিপি লিখলেন
ও আরশের উপর তার কাছে রেখে দিলেন, তাতে লেখা ছিল ন্ ;; :০ান্ ;১এ ;, ৷
“নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গযবকে হার মানায়’ ৷’
আল্পাহ তা আলা ইরশাদ করেন০ সুতরাং এটা আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করব যারা
তাকওয়া অবলম্বন করবে, যাকাত দেবে ও আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করবে ৷” অর্থাৎ আমি
সুনিশ্চিতভাবে তাদেরকেই রহমত দান করব যারা এসব গুণের অধিকারী হবে ৷ “আর যারা
বার্তাবাহক উথী নবীর অনুসরণ করবে’ এখানে মুসা (আ)-এর কাছে আল্লাহ তা জানা
মুহাম্মদ (না) ও তার উষ্মত সম্বন্ধে উল্লেখ করে তাদের মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং মুসা
(আ)-এর সাথে একান্ত আলাপে আল্লাহ্ তা’আলা এ বিষয়টিও জানিয়ে দিয়েছিলেন ৷ আমার
তাফসীর গ্রন্থে এই আয়াত ও তার পরবর্তী আয়াতের তাফসীর বর্ণনাকালে আমি এ সম্পর্কে
বিস্তারিত প্রয়োজনীয় আলোচনা পেশ করেছি ৷
فَيُقَالُ: لَكَ هَذَا، وَمِثْلُهُ، وَمِثْلُهُ. فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ، رَضِيتُ. فَيُقَالُ: إِنَّ لَكَ هَذَا وَعَشَرَةَ أَمْثَالِهِ. فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ رَضِيتُ. فَيُقَالُ لَهُ: لَكَ مَعَ هَذَا مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ، وَلَذَّتْ عَيْنُكَ. وَسَأَلَ رَبَّهُ: أَيُّ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَرْفَعُ مَنْزِلَةً؟ قَالَ: سَأُحَدِّثُكَ عَنْهُمْ، غَرَسْتُ كَرَامَتَهُمْ بِيَدِي، وَخَتَمْتُ عَلَيْهَا، فَلَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَمِصْدَاقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ} [السجدة: 17] الْآيَةَ» . وَهَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَالتِّرْمِذِيُّ، كِلَاهُمَا عَنِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، عَنْ سُفْيَانَ، وَهُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ، بِهِ، وَلَفْظُ مُسْلِمٍ: «فَيُقَالُ لَهُ: أَتَرْضَى أَنْ يَكُونَ لَكَ مِثْلَ مُلْكِ مَلِكٍ مَنْ مُلُوكِ الدُّنْيَا؟ فَيَقُولُ: رَضِيتُ رَبِّ. فَيَقُولُ: لَكَ ذَلِكَ وَمِثْلُهُ وَمِثْلُهُ وَمِثْلُهُ وَمِثْلُهُ. فَيَقُولُ فِي الْخَامِسَةِ: رَضِيتُ رَبِّ. فَيَقُولُ: هَذَا لَكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ، وَلَكَ مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ وَلَذَّتْ عَيْنُكَ. فَيَقُولُ: رَضِيتُ رَبِّ. قَالَ: رَبِّ، فَأَعْلَاهُمْ مَنْزِلَةً؟ قَالَ: أُولَئِكَ الَّذِينَ أَرَدْتُ غَرَسْتُ كَرَامَتَهُمْ بِيَدِي، وَخَتَمْتُ عَلَيْهَا، فَلَمْ تَرَ عَيْنٌ، وَلَمْ تَسْمَعْ أُذُنٌ، وَلَمْ يَخْطُرْ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ» قَالَ: وَمِصْدَاقُهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17] وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَسَنٌ صَحِيحٌ. قَالَ: وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، فَلَمْ يَرْفَعْهُ، وَالْمَرْفُوعُ أَصَحُّ.
পৃষ্ঠা - ৬৭৩
কাতাদা (র) বলেন, মুসা (আ) বলেছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক! ফলকে আমি এমন
এক উম্মতের উল্লেখ দেখতে পাচ্ছি যারা হবে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য তাদের আবির্ভাব
হবে, তারা সৎ কার্যের নির্দেশ দান করবে, অসৎ কাজে নিষেধ করবে ৷ হে প্রতিপালক!
তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন আল্লাহ ৷ আলা বললেন, না, ওরা আহমদের উম্মত৷ ’
পুনরায় মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! ফলকে আমি একটি উম্মতের উল্লেখ পাচ্ছি
যারা সৃষ্টি হিসেবে সর্বশেষ কিন্তু জান্নাতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম ৷ হে আমার প্রতিপালক !
তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন!’ আল্লাহ তাআলা বললেন, না, এরা আহমদের উম্মত ৷
আবার মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! ফলকে আমি একটি উম্মতের উল্লেখ পাচ্ছি,
যাদের অত্তরে আল্লাহ তাআলার কালাম সুরক্ষিত, অর্থাৎ ওরা আল্লাহ তাআলার কালামের
হাফিজ ৷ তারা হিফজ হতে আল্লাহ তা আলার কালাম তিলাওয়াত ৩করবেন ৷ উম্মতে মুহড়াম্মদীর
পুর্বে যেসব উষ্মত ছিলেন তারা দেখে দেখে আল্লাহ তা জানার কালাম তিলাওয়াত করতেন ৷
বিন্দু যখন তাদের থেকে আল্লাহ তা জানার ক ৷লাম উঠিয়ে নেয়া হতো, তখন তারা আর কিছুই
তিলাওয়াত করতে পারতো না ৷ কেননা, তারা আল্লাহ তা আলার কালামের কোন অং শ্ইি হিফজ
করতে পারেনি ৷ তারা পরবর্তীতে আল্লাহ তা জানার কালামকে আর চিনতেই সক্ষম হতো না ৷
কিন্তু উম্মতে মুহাষ্মদীকে আল্লাহ তাআলার কালাম হিফজ করার তাওফীক দান করা হয়েছে, যা
অন্য কা ৷উকে দান করা হয়নি ৷ মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ওদেরকে আমার
উম্মত করে দিন’ ৷ আল্লাহ৩ তা জানা বললেন, ,না ওরা আহমদের উষ্মত ৷
মুসা (আ) আবারো বললেন, “হে আমার প্রতিপালক ফলকে আমি এমন একটি উম্মতের
উল্লেখ পাচ্ছি, যারা তাদের পুর্বের আসমানী কিতাবসমুহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার এবং শেষ
কিতাবের প্ৰতিও বিশ্বাস স্থাপন করবে ৷ তারা পথভ্রষ্ট বিভিন্ন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে,
এমনকি আখেরী যামানার একচক্ষুবিশিষ্ট মিথ্যাবাদী দাজ্জালের বিরুদ্ধেও জিহাদ করবে ৷
তাদেরকে আমার উন্নত করে দিন ৷ ” আল্লাহ তাআলা বললেন, না, ওরা আহমদের উম্মত ৷ ’
মুসা (আ) পুনরায় বললেন, “হে আমার প্রতিপালক ফলকে আমি এমন একটি উম্মতের উল্লেখ
পাচ্ছি৷ যার ৷আল্লাহ তা আলার নামের সাদকা খয়রাত নিজেরা খাবে কিত্তু তাদেরকে এটার জন্যে
আবার পুরস্কারও দেয়া হবে ৷” উম্মতে মুহাম্মদীর পুর্বে অন্যান্য উষ্মতের কোন ব্যক্তি যদি সাদকা
করত এবং তা আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হত তখন আল্লাহ তাআলা আগুন প্রেরণ
করতেন এবং সে আগুন তা পুড়িয়ে দিত ৷ কিত্তু যদি তা কবুল না হত তাহলে আগুন তা
পােড়াত না ৷ বরং এটাকে পশু-পাখিরা খেয়ে ফেলত এবং আল্লাহ তাআলা ঐ উষ্মতের ধনীদের
সাদকা দরিদ্রদের জন্যে গ্রহণ করবেন ৷ মুসা (আ) বললেন, “হে আমার প্রতিপালক ৷ এদেরকে
আমার উষ্মত বানিয়ে দিন ৷ আল্লাহ তাআলা বললেন, না, ওরা আহমদের উম্মত ৷ মুসা (আ)
পুনরায় বললেন, “ফলকে আমি এমন এক উম্মতের উল্লেখ পাচ্ছি, তারা যদি একটি নেক কাজ
করতে ইচ্ছে করে অথচ পরবর্তীতে তা করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য একটি নেকী লেখা
হবে ৷ আর যদি তা তারা করতে পারে, তাহলে তাদের জন্যে দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত
নেকী দেয়৷ হবে ৷ ওদেরকে আমার উষ্মত করে দিন !” আল্লাহ তাআলা বললেন, “না, ওরা
আহমদের উম্মত ৷” মুসা (আ) পুনরায় বললেন, “আমি ফলকে এমন একটি উম্মতের উল্লেখ
وَقَالَ ابْنُ حِبَّانِ: ذِكْرُ سُؤَالِ الْكَلِيمِ رَبَّهُ عَنْ خِصَالٍ سَبْعٍ; حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا السَّمْحِ حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «سَأَلَ مُوسَى رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، عَنْ سِتِّ خِصَالٍ كَانَ يَظُنُّ أَنَّهَا لَهُ خَالِصَةٌ، وَالسَّابِعَةُ لَمْ يَكُنْ مُوسَى يُحِبُّهَا; قَالَ: يَا رَبِّ أَيُّ عِبَادِكَ أَتْقَى؟ قَالَ: الَّذِي يَذْكُرُ وَلَا يَنْسَى. قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَهْدَى؟ قَالَ الَّذِي يَتَّبِعُ الْهُدَى. قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَحْكَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَحْكُمُ لِلنَّاسِ كَمَا يَحْكُمُ لِنَفْسِهِ. قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَعْلَمُ؟ قَالَ: عَالِمٌ لَا يَشْبَعُ مِنَ الْعِلْمِ، يَجْمَعُ عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ. قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَعَزُّ؟ قَالَ: الَّذِي إِذَا قَدَرَ غَفَرَ. قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَغْنَى؟ قَالَ: الَّذِي يَرْضَى بِمَا يُؤْتَى. قَالَ: فَأَيُّ عِبَادِكَ أَفْقَرُ؟ قَالَ: صَاحِبٌ مَنْقُوصٌ» قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الْغِنَى عَنْ ظَهْرٍ، إِنَّمَا الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا جَعَلَ غِنَاهُ فِي نَفْسِهِ، وَتُقَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَإِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ شَرًّا جَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ» .
قَالَ ابْنُ حِبَّانَ: قَوْلُهُ: صَاحِبٌ مَنْقُوصٌ. يُرِيدُ بِهِ مَنْقُوصَ حَالَتِهِ، يَسْتَقِلُّ مَا أُوتِيَ، وَيَطْلُبُ الْفَضْلَ.
وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ فِي " تَارِيخِهِ "، عَنِ ابْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ
পৃষ্ঠা - ৬৭৪
পাচ্ছি যারা অন্যদের জন্যে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে এবং তাদের সে সুপারিশ কবুলও
করা হবে ৷ তাদেরকে আমার উম্মত করে দিন ৷” আল্লাহ তাআলা বললেন, “না, এরা
আহমদের উষ্মত ৷ ”
কাতাদা (র) বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, অতঃপর মুসা (আ) ফলক
ফেলে দিলেন এবং বললেন ! ব ং৷ গ্লু, স্টো ণ্ধ্া৷ ! হে আল্লাহ ! আমাকেও
আহমদের উম্মতে শামিল করুন ৷ অনেকেই মুসা (আ) এর এরুপ মুনাজাত উল্লেখ করেছেন
এবং ঘুনাজাতে এমন বিষয়াদি সম্বন্ধে উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর কোন ভিত্তি খুজে পাওয়া যায়
না ৷ তাই বিশুদ্ধ হাদীস ও রাণীসমুহেয় মাধ্যমে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত বিবরণ আল্লাহ তাআলার
সাহায্য, তাওফীক, হিদায়াত ও সহায়তা নিয়ে পেশ করব ৷
হাফিজ আবু হড়াতিম মুহাম্মদ ইবন হড়াতিম ইবন হিব্বড়ান (র) তার বিখ্যাত সহীহ’ গ্রন্থে
জান্নাতীদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার কাছে মুসা (আ ) এর জিজ্ঞাসা
সম্পর্কে বলেন : মুপীরা ইবন তারা (বা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে,
মুসা (আ) আল্লাহ তাআলাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, জান্নাভীদের মধ্যে মর্যাদার সর্বনিম্ন কে ?
আল্লাহ তাআলা বলেন, জান্নড়াভীগণ জান্নড়াতে প্রবেশ করার পর এক ব্যক্তি আগমন করবে ৷
তখন তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর ৷ যে ব্যক্তি বলবে, আমি (কমন করে জান্নাতে
প্রবেশ করবো অথচ লোকজন সকলেই নিজ নিজ স্থান করে নিয়েছে ও নির্ধারিত নিয়ামত লাভ
করেছে ৷ তাকে তখন বলা হবে যে, যদি তোমাকে দুনিয়ার রাজাদের কোন এক রাজার রাজেব্রর
সমান জান্নাত দেয়া হয়, তাহলে কি তুমি সন্তুষ্ট হবো উত্তরে সে বলবে, ইশ্বা , আমার
প্রতিপালকৰু’ তাকে তখন বলা হবে, তোমার জন্যে এটা এটার ন্যায় আরো একটা এবং এটার
ন্যায় আরো এক জান্নাত ৷ সে তখন বলবে, হে আমার প্রতিপালক ! আমি সন্তুষ্ট ৷ ’ তখন তাকে
বলা হবে, এর সাথে রয়েছে তোমার জন্যে যা তোমার মন চাইবে ও যাতে চোখ জুড়াবে ৷ ’ মুসা
(আ) আল্লাহ তাআলড়ার কাছে জানতে চান, জান্নাডীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ৫ক?’
আল্লাহ্ তাআলা বললেন, “তাদের সম্বন্ধে আমি তোমাকে বলছি, তাদের মর্যাদার বৃক্ষটি আমি
নিজ কুদরতী হাতে রোপণ করেছি এবং তা চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছিয়েছি- তা এমন যা কোন দিন
কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যা কোন আদম সন্তানের কল্পনায় আসেনি ৷”
এ হাদীসের বক্তব্যের যথার্থতার প্রমাণ বহন করে কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত আয়াত
ঠো
অর্থাৎ “কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কি লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের
কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরুপ ৷” (৩২ সাজদা : ১ ৭)
অনুরুপভাবে ইমাম মুসলিম (র) ও ইমাম তিরমিযী (র) সুফিয়ান ইবন উয়াইনা (র) সুত্রে
বর্ণনা করেন, মুসলিমের পাঠ হচ্ছে : র্দে০প্রুও ধ্৷ (ত্রেব্র অতঃপর তাকে বলা হবে যদি
পৃথিবীর কোন রাজার রাজ্যের সমতুল্য তোমাকে দান করা হয় তাতে কি তুমি সন্তুষ্ট হবো তখন
যে ব্যক্তি বলবে, হে আমার প্রতিপালক ! আমি এতে সত্তুষ্ট ৷ ’ আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার
জন্যে রয়েছে এটা, এটার অনুরুপ এবং এটার অনুরুপ ৷ এটার অনুরুপ, আরো এটার অনুরুপ
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম ঞ্জো)ধ্হুমিঃন্তোমোঃজ্যো
الْقُمِّيِّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ عَنْتَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَأَلَ مُوسَى رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ، وَفِيهِ: قَالَ: أَيْ رَبِّ، فَأَيُّ عِبَادِكَ أَعْلَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَبْتَغِي عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ، عَسَى أَنْ يُصِيبَ كَلِمَةً تَهْدِيهِ إِلَى هُدًى، أَوْ تَرُدُّهُ عَنْ رَدًى. قَالَ: أَيْ رَبِّ، فَهَلْ فِي الْأَرْضِ أَحَدٌ أَعْلَمُ مِنِّي؟ قَالَ: نَعَمْ، الْخَضِرُ. فَسَأَلَ السَّبِيلَ إِلَيْهِ، فَكَانَ مَا سَنَذْكُرُهُ بَعْدُ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَبِهِ الثِّقَةُ.
পৃষ্ঠা - ৬৭৫
পঞ্চম বারের পর সে ব্যক্তি বলবে : হে আমার প্রতিপালক! এটাতে আমি সন্তুষ্ট ৷ ’ অতঃপর
বলা হবে, এটা তো তোমার জন্যে থাকবেই এবং তার সাথে আরো দশগুণ, আর এছাড়াও
তোমার জন্যে থাকবে যা তোমার মনে চাইবে ও যাতে তোমার চোখ জুড়াবে ৷ ’ তখন সে ব্যক্তি
বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি সন্তুষ্ট ৷’ আর মুসা (আ) বললেন : হে আমার
প্রতিপালক ! এরাই তাহলে মর্যাদার সর্বোচ্চ?’ তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, তাদের সম্মানের
বৃক্ষ আমি নিজ হাতে বোপণ করেছি এবং সম্মানের পরিচর্যার কাজও আমিই সমাপ্ত করেছি ৷
তাদের এত নিয়ামত দেয়৷ হবে, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন
মানবহৃদয় এর কল্পনাও করেনি’ ৷ ইমাম মুসলিম (র) বলেন, কুরআন মজীদের আয়াতে তার
যথার্থতার প্রমাণ রয়েছে ৷ র্দুর্যণ্
ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি হাসান’ ও সহীহ বলেছেন ৷ কেউ কেউ বলেন, হাদীসটিকে
মওকুফ বললেও বিশুদ্ধ মতেত তা মারফু ৷ ইবন হিব্বান (র)৩ তা ৷র সহীহ’ গ্রন্থে মুসা (আ) কর্তক
তার প্রতিপালককে সাতটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা প্রসঙ্গে বলেন ং
আবু হরায়রা (রা) রাসুলুল্পাহ (যা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ একদিন মুসা (আ) আপন
প্রতিপা ৷লকের কাছে ছয়টি বিষয়ে প্রশ্ন করেন, আর এই ছয়টি বিষয় শুধু৩ তারই জন্যে বলে তিনি
মনে করেছিলেন ৷ সপ্তম বিষয়টি মুসা (আ) পছন্দ করেননি ৷ মুসা (আ) প্রশ্ন করেন, (১) হে
আমার প্রতিপালক৷ তোমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক পরহেজগার কে ? আল্লাহ তাআলা
বললেন? যে ব্যক্তি যিকির করে এবং পাফিল থাকে না ৷ (২) মুসা (অ ) বলেন, তোমার
বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত কে? আল্লাহ তা আল৷ বলেন, যে আমার হিদায়াতের
অনুসরণ করে ৷ (৩) মুসা (আ) বলেন, তোমার বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম বিচারক কে? আল্লাহ
তাআলা বলেন, যে মানুষের জন্যে সেরুপ বিচারই করে যা সে নিজের জন্যে করে ৷ (৪ ) মুসা
(আ) বলেন, তোমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী কে?অ ৷ল্লাহ তা আলা বলেন, এমন জ্ঞানী
যে জ্ঞান আহরণে তৃপ্ত হয় না বরং লোকজনের জ্ঞানকে নিজের জ্ঞানের সাথে যোগ করে ৷ (৫)
মুসা (আ) বলেন, তোমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত কে? আল্লাহ্ তাআলা বলেন, যে
বান্দ৷ প্রতিশোধ গ্রহণের সামর্থ্য থাকা সত্বেও ক্ষমা করে দেয় ৷ (৬) মুসা (আ) প্রশ্ন করেন ?
তোমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক ধনী কে? আল্লাহ্ তাআলা বলেন, যে বান্দা তাকে যা দেয়া
হয়েছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে ৷ ’ (৭) মুসা (আ) প্রশ্ন করেন : তোমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক
দরিদ্র কে? আল্লাহ্ তাআলা বলেন, মানকুস’-যার মনে অভাববোধ রয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ (স)
বলেন, “বাহ্যিক ধনীকে প্রকৃত পক্ষে ধনী বলা হয় না, অম্ভরের ধনীকেই ধনী বলা হয় ৷” যখন
আল্লাহ তা আলা কোন বান্দার প্রতি কল্যাণ চান, তখন তাকে অম্ভরে ধনী হবার এবং হৃদয়ে
আল্লাহর প্রতি ভয় করার৩ তাওফীক দেন ৷ আর যদি কোন বান্দার অকল্যাণ চান তাহলে তার
চোখ দা ৷রিদ্রকে প্রকট করে লেন ৷ হাদীসে বর্ণিত ,ংপ্রুন্১ শব্দের ব্যাখ্যার ইবন হিব্বান (র)
বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে তাকে যা কিছু দেয়৷ হয়েছে তা সে নগণ্য মনে করে এবং আরো ৷অধিক
চায় ৷
ইবন জারীর (র) তার ইতিহাস গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷ তবে তিনি এতটুকু বর্ধিত করে বলেন, মুসা (আ) বলেন, হে আমার প্রতিপালক !
[ذِكْرُ حَدِيثٍ آخَرَ بِمَعْنَى مَا ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ]
قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ مُوسَى قَالَ: أَيْ رَبِّ، عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ مُقَتَّرٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا. قَالَ: فَفُتِحَ لَهُ بَابٌ مِنَ الْجَنَّةِ، فَنَظَرَ إِلَيْهَا، قَالَ: يَا مُوسَى، هَذَا مَا أَعْدَدْتُ لَهُ. فَقَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ، وَعِزَّتِكَ وَجَلَالِكَ، لَوْ كَانَ أَقْطَعَ الْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ، يُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ مُنْذُ يَوْمَ خَلَقْتَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَكَانَ هَذَا مَصِيرَهُ، لَمْ يَرَ بُؤْسًا قَطُّ. قَالَ: ثُمَّ قَالَ: أَيْ رَبِّ، عَبْدُكَ الْكَافِرُ مُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا. قَالَ: فَفُتِحَ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ، فَيَقُولُ: يَا مُوسَى، هَذَا مَا أَعْدَدْتُ لَهُ. فَقَالَ: أَيْ رَبِّ، وَعِزَّتِكَ وَجَلَالِكَ، لَوْ كَانَتْ لَهُ الدُّنْيَا مُنْذُ يَوْمَ خَلَقْتَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَكَانَ هَذَا مَصِيرَهُ، لَمْ يَرَ خَيْرًا قَطُّ» تَفَرَّدَ بِهِ أَحْمَدُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَفِي صِحَّتِهِ نَظَرٌ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: ذِكْرُ سُؤَالِ كَلِيمِ اللَّهِ رَبَّهُ، جَلَّ وَعَلَا، أَنْ يُعَلِّمَهُ شَيْئًا يَذْكُرُهُ بِهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، إِنَّ دَرَّاجًا حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ،
পৃষ্ঠা - ৬৭৬
তোমার বন্দোদের মধ্যে কে সৰ্বাধিক জ্ঞানী? আল্লাহ তাআলা বলেন, যে নিজের জ্ঞানের সাথে
সাথে লোকজনের জ্ঞানও অন্বেষণ করে ৷ অচিরেই সে একটি উপদেশ বাণী পারে, যা তাকে
আমার হিদায়াতের দিকে পথপ্রদর্শন করবে কিৎবা আমার নিষেধ থেকে বিরত রাখবে ৷ মুসা
(আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কি পৃথিবীতে কেউ আছেন?
আল্লাহ্ তাআলা বললেন, হী৷ আছে, সে হচ্ছে খিযির ৷ ’ মুসা (আ) খিযির (আ)-এর সাথে
সাক্ষাৎ করার জন্যে পথের সন্ধান চান ৷ পরবর্তীতে এর আলোচনা হবে ৷
ইবন হিব্বানের বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ হাদীস ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবু সাঈদ
খুদরী (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেন, “একদিন মুসা (আ) বললেন, হে আমার
প্রতিপালকা তোমার মুমিন বান্দা দুনিয়াতে অভাবে-অনটনে দিন যাপন করে ৷ আল্লাহ বলেন,
তার জন্যে জান্নাতের একটি দ্বার খুলে দেয়া হবে তা দিয়ে সে জান্নাতের দিকে তাকাবে ৷
আল্লাহ্ তাআলা বলেন, হে মুসা! এটা হচ্ছে সেই বস্তু যা আমি তার জন্যে তৈরি করে
রেখেছি ৷” মুসা (আ) বলেন, হে আমার প্রতিপালক৷ তোমার ইয্যত ও পরাত্রুমের শপথ, যদি
তার দুই হাত ও দুই পা কাটা গিয়ে থাকে এবং তার জন্ম থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যে হামাগুড়ি
দিয়ে চলে আর এটাই যদি তার শেষ গম্ভব্যস্থল হয়, তাহলে সে যেন কােনদিন কোন কষ্টই
ভোগ করেনি ৷” রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেন, “পুনরায় মুসা (আ) বলেন, হে আমার প্রতিপালক!
তোমার কাফির বন্দো দুনিয়ার প্রাচুর্যের মধ্যে রয়েছে ৷ ’ আল্লাহ্ তাআলা বলেন, তার জন্যে
জাহান্নড়ামের একটি দ্বার খুলে দেয়া হবে ৷’ আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুসা ! এটা আমি তার
জন্যে তৈরি করে রেখেছি ৷’ মুসা (আ) বলেন, হে আমার প্রতিপালক! তোমার ইযযত ও
পরাক্রমের শপথ, তার জন্ম থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যদি তাকে পার্থিব সম্পদ দেয়া হত, আর
এটাই যদি তার গস্তব্যন্থল হয় তাহলে সে যেন কখনও কোন কল্যাণ লাভ করেনি ৷ ” তার এ
হাদীসের সুত্রের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে ৷ আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত ৷
ইবন হিব্বান (র) মুসা (আ) কর্তৃক আপন প্রতিপালকের কাছে এমন একটি যিকির
প্রার্থনা’ শিরোনামে আবু সাঈদ (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)
থেকে এটি বর্ণনা করেন যে, একদিন মুসা (আ) আরব করলেন, হে আমার প্রতিপালক!
আামাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যার মাধ্যমে আমি আপনাকে স্মরণ করতে পারি ও ডাকতে
পারি ৷ আল্লাহ্ তাআলা বলেন, হে মুসা ! তুমি বল, ণ্এ৷ ! খু ৭ খু মুসা (আ) বললেন, হে
আমার প্রতিপালক! আপনার প্রত্যেক বান্দাই তো এই কলেমা বলে থাকে ৷ আল্লাহ তাআলা
বললেন, তুমি বল ণ্! ! ১! ব্ ! ১ণ্ মুসা (আ) বললেন, আমি এমন একটি কালেমা চাই যা
আপনি আমার জন্যেই বিশেষভাবে দান করবেন ৷ আল্লাহ তাআলা বললেন, হে মুসা যদি
সাত আসমান ও সাত যমীনের বাসিন্দাদেরকে এক পাল্লায় রাখা হয় এবং হ্এে ! খু ৷ কলেমাকে
অন্য পাল্লায় রাখা হয় তাহলে এ৷ ১৷ ৭ ১৷ এর পাল্লাটি অপর পাল্লাটি থেকে অধিক ভারী
হবে ৷ এই হাদীসের সভ্যতার প্রমাণ ভ্ররএে এ ! স্র;,ৰুা১ আর অর্থের দিক দিয়ে এ হাদীসের
অতি নিকটবর্তী হল নিম্ন বর্ণিত হাদীস যা হাদীসের কিতাবগুলােতে বর্ণিত রয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) ইরশাদ করেন, সর্বোত্তম দুআ হচ্ছে, আরাফাত ময়দানের দুআ ৷
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «قَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَذْكُرُكَ بِهِ وَأَدْعُوكَ بِهِ. قَالَ: قُلْ يَا مُوسَى: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. قَالَ: يَا رَبِّ كُلُّ عِبَادِكَ يَقُولُ هَذَا. قَالَ: قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. قَالَ: إِنَّمَا أُرِيدُ شَيْئًا تَخُصُّنِي بِهِ. قَالَ: يَا مُوسَى لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِينَ السَّبْعِ فِي كِفَّةٍ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ مَالَتْ بِهِمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» وَيَشْهَدُ لِهَذَا الْحَدِيثِ حَدِيثُ الْبِطَاقَةِ. وَأَقْرَبُ شَيْءٍ إِلَى مَعْنَاهُ الْحَدِيثُ الْمَرْوِيُّ فِي " السُّنَنِ " عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «أَفْضَلُ الدُّعَاءِ، دُعَاءُ عَرَفَةَ، وَأَفْضَلُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ» .
وَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، عِنْدَ تَفْسِيرِ آيَةِ الْكُرْسِيِّ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّشْتَكِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالُوا لِمُوسَى: هَلْ يَنَامُ رَبُّكَ؟ قَالَ: اتَّقُوا اللَّهَ. فَنَادَاهُ رَبُّهُ: يَا مُوسَى سَأَلُوكَ هَلْ يَنَامُ رَبُّكَ، فَخُذْ زُجَاجَتَيْنِ فِي يَدَيْكَ فَقُمِ اللَّيْلَ، فَفَعَلَ مُوسَى، فَلَمَّا ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ ثُلُثُ، نَعَسَ فَوَقَعَ لِرُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ انْتَعَشَ،
পৃষ্ঠা - ৬৭৭
আমি ও আমার পুর্ববর্তী নবীগণের সর্বোত্তম বাণী হল :
অর্থাৎ এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই, তিনি একক, অংশীদারহীন, র্তারই
জন্য যত প্রশংসা এবং তিনিই সর্বশক্তিমান ৷ র্গে০পু£ ব া-এর তাফসীর প্রসঙ্গে ইবন আবু
হাতিম (র) ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, বনী ইসরাঈল মুসা (আ )-কে
প্রশ্ন করলেন, তোমার প্রতিপালক কি ঘুমান? মুসা (আ) বললেন, তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর ৷
তখন তার প্রতিপালক তাকে ডেকে বললেন, হে মুসা ত ৷রা তোমাকে শ্চশ্নে করেছে তোমার
প্রতিপালক কি ঘুমান?৩ তাই তুমি তোমার দুই হাতে দুইটি বোতল ধারণ কর এবং রাত জাগরণ
কর ৷ মুসা (আ) এরুপ করলেন, যখন রাতের এক তৃতীয়াৎশ অতিক্রাম্ভ হল, তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন
হলেন এবং তার মাথা হীটুর উপর ঝুকে পড়ল ৷ অতঃপর তিনি সোজা হয়ে র্দাড়ালেন এবং
বোতল দু’ঢিকে মজবুত করে ধরলেন ৷ এরপর যখন শেষরাত হলো তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে
পড়লেন ৷ অমনি তার দুই হাতের দু’টি বোতল পড়ে গেল ও ভেঙ্গে গেল ৷
অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে বললেন, হে মুসা ! যদি আমি নিদ্রাচ্ছন্ন হতাম
তাহলে আসমান ও যমীন পতিত হত এবং তোমার হাতের বোতল দুটির ন্যায় আসমান-যমীন
ৎস হয়ে যেত ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এই প্রেক্ষিতে আল্পাহ্ তাআলা রাসুল (সা) এর কাছে
আয়াতুল কুরসী নাযিল করেন ৷
ইবন জারীর (র) আবু হুরায়র৷ (রা) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, “আমি রাসুল
(না)-কে মিম্বরে বসে মুসা (আ)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি ৷ রাসুলুল্লাহ (না) বলেন,
“একদিন মুসা (আ) এর অন্তরে এই প্রশ্ন উদিত হল যে, আল্লাহ্ তাআলা কি নািব্র৷ যান? তখন
আল্লাহ তড়া আলা তার কাছে একজন ফেরেশতাকে পাঠালেন, তিনি তাকে তিন রাত অনিদ্রা
অবস্থায় রা খলেন ৷ অতঃপর তাকে দুই হাতে দুটি কাচের বো তল দিলেন, আর এই দুটো
বোতলকে সযত্নে রা ৷খার নির্দেশ দিলেন ৷ অতঃপর তার ঘুম পেলেই দু টো হাত একত্র হয়ে
যাবার উপক্রম হত এবং৩ তিনি জেগে উঠতেন ৷ অতঃপর তিনি একটিকে অপরটির সাথে একত্রে
ধরে রাখতেন ৷ এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি ঘুমিয়ে পড়েন ৷ তার দুটো হাত কেপে উঠলাে এবং
দুটো বোতলই পড়ে ভেঙ্গে গেল ৷” রাসুল (সা) বলেন, আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) এর জন্যে
এই একটি উদাহরণ বর্ণনা করেন যে, যদি আল্লাহ্ তা আলা নিদ্রা যেতেন তাহলে আসমান ও
যযীনকে ধরে রাখতে পারতেন না ৷
উপরোক্ত হাদীস মারকুরুপে গরীব পর্যায়ের ৷ তবে খুব সম্ভব এটা কোন সাহাবীর বাণী এবং
এর উৎস ইহুদীদের বর্ণনা ৷
আল্লাহ্ তাআলা ইরশ ৷দ করেনং :
’
فَضَبَطَهُمَا حَتَّى إِذَا كَانَ آخِرُ اللَّيْلِ نَعَسَ، فَسَقَطَتِ الزُّجَاجَتَانِ، فَانْكَسَرَتَا. فَقَالَ: يَا مُوسَى، لَوْ كُنْتُ أَنَامُ، لَسَقَطَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ، فَهَلَكْنَ كَمَا هَلَكَتِ الزُّجَاجَتَانِ فِي يَدَيْكَ. قَالَ: وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ آيَةَ الْكُرْسِيِّ.
وَقَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ شِبْلٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْكِي عَنْ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى الْمِنْبَرِ، قَالَ: «وَقَعَ فِي نَفْسِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، هَلْ يَنَامُ اللَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ؟ فَأَرْسَلَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا، فَأَرَّقَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ أَعْطَاهُ قَارُورَتَيْنِ، فِي كُلِّ يَدِ قَارُورَةٌ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَحْتَفِظَ بِهِمَا، قَالَ: فَجَعَلَ يَنَامُ، وَكَادَتْ يَدَاهُ تَلْتَقِيَانِ فَيَسْتَيْقِظُ، فَيَحْبِسُ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى، حَتَّى نَامَ نَوْمَةً، فَاصْطَفَقَتْ يَدَاهُ، فَانْكَسَرَتِ الْقَارُورَتَانِ» قَالَ: ضَرَبَ اللَّهُ لَهُ مَثَلًا، أَنْ لَوْ كَانَ يَنَامُ، لَمْ تَسْتَمْسِكِ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ. وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ رَفْعُهُ، وَالْأَشْبَهُ أَنْ يَكُونَ مَوْقُوفًا، وَأَنْ يَكُونَ أَصْلُهُ إِسْرَائِيلِيًّا.
وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى:
পৃষ্ঠা - ৬৭৮
ন্দ্বুৰু£ব্লু
স্মরণ কর যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তৃরকে তোমাদের উর্ধে উত্তোলন
করেছিলাম; বলেছিলড়াম, আমি যা দিলাম দৃঢ়তার সাথে তা গ্রহণ কর এবং তাতে যা রয়েছে তা
স্মরণ রাখ ৷ যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার ৷ এটার পরেও তোমরা মুখ ফিরালে!
আল্লাহ্র অনুঘহ এবং অনুকম্প৷ তোমাদের প্ৰতি না থাকলে তে তামরা অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে ৷
(সুরা বাকারা : ৬৩ ৬৪)
আল্লাহ্ তা ৷আলা ইরশ ৷ড়াদ করেন০ :
ণ্হ্রএে গ্লু€স্ট;া৷দ্বু
; <; ( ,
অর্থাৎ “স্মরণ কর, আমি পর্বতকে তাদের উর্ধে উত্তোলন করি ৷ আর তা ছিল যেন এক
র্চাদোয়৷ ৷ তারা ধারণা করল যে, এটা তাদের উপর পড়ে যাবে ৷ বললড়াম, আমি যা দিলাম তা
দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং ওতে যা আছে তা স্মরণ করো, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী
হও ৷ ” (সুরা আরাফ : ১৭১ )
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) ও প্রাচীন যুগের উলামায়ে কিরামের অনেকেই বলেন, মুসা
(আ) যখন তাওরাত সম্বলিত ফলক নিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে আগমন করলেন তখন নিজ
সম্প্রদায়কে তা গ্রহণ করতে ও শক্তভাবে তা ধরতে নির্দেশ দিলেন ৷ তারা তখন বলল,
তাওরাতকে আমাদের কাছে খুলে ধরুন, যদি এর আদেশ নিষেধাবলী সহজ হয় তাহলে আমরা
তা গ্রহণ করব ৷ মুসা (আ) বললেন, তাওরাতের মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা তোমরা কবুল কর ,
তারা তা কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করে ৷ অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা ফেরেশতাদেরকে হুকুম করেন
তারা যেন তুর পাহাড় বনী ইসরাঈলের মাথার উপর উত্তোলন করেন ৷ অমনি পাহাড় তাদের
মাথার উপর যেঘখণ্ডের ন্যায় ঝুলতে লাগল, তাদের তখন বলা হল, তোমরা যদি তাওরাতকে
তার সব কিছুসহ কবুল না কর এই পাহাড় তোমাদের মাথার উপর পড়বে ৷ তখন তারা তা
কবুল করল ৷ তাদেরকে সিজদা ৷করার হুকুম দেয়া হলো, তখন তারা সিজদা ৷করল ৷ তবে তারা
পাহাড়ের দিকে আড় নজরে৩ তাকিয়ে রয়েছিল ৷ ইহুদীদের মধ্যে আজ পর্যন্ত এরুপ বলাবলি
করে থাকে যে, যে সিজদার কারণে আমাদের উপর থেকে আমার বিদুরিত হয়েছিল তার থেকে
উত্তম সিজদা হতে পারে না ৷
আবু বকর ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত আছে ৷ তিনি বলেন, মুসা (আ) যখন
তাওরাতকে খুলে ধরলেন তখন পৃথিবীতে যত পাহাড়, গাছপালা ও পাথর রয়েছে সবই কস্পিত
হয়ে উঠল, আর দুনিয়ার বালক বৃদ্ধ নির্বিশেষে যত ইহুদীর কাছে তাওরাত পাঠ করা হল তারা
প্রকস্পিত হয়ে উঠল ও মাথা অবনত করল ৷
আল্লাহ তা জানা ইরশা ৷দ করেনশু র্দ্রা১ ঠােষ্ ণ্াপ্রুন্ ণ্১
অর্থাৎ তোমরা এই মহাপ্রতিশ্রুতি ও বিরাট ব্যাপার দেখার পর তোমাদের অঙ্গীকার ও
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছ ৷
{وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ - ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنْتُمْ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [البقرة: 63 - 64]
[الْبَقَرَةِ: 63، 64] . وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأعراف: 171] . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ السَّلَفِ: لَمَّا جَاءَهُمْ مُوسَى بِالْأَلْوَاحِ فِيهَا التَّوْرَاةُ، أَمَرَهُمْ بِقَبُولِهَا، وَالْأَخْذِ بِهَا بِقُوَّةٍ وَعَزْمٍ، فَقَالُوا: انْشُرْهَا عَلَيْنَا، فَإِنْ كَانَتْ أَوَامِرُهَا وَنَوَاهِيهَا سَهْلَةً، قَبِلْنَاهَا. فَقَالَ: بَلِ اقْبَلُوهَا بِمَا فِيهَا. فَرَاجَعُوهُ مِرَارًا فَأَمْرَ اللَّهُ الْمَلَائِكَةَ فَرَفَعُوا الْجَبَلَ عَلَى رُءُوسِهِمْ، حَتَّى صَارَ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ، أَيْ غَمَامَةٌ عَلَى رُءُوسِهِمْ، وَقِيلَ لَهُمْ: إِنْ لَمْ تَقْبَلُوهَا بِمَا فِيهَا، وَإِلَّا سَقَطَ هَذَا الْجَبَلُ عَلَيْكُمْ. فَقَبِلُوا ذَلِكَ، وَأُمِرُوا بِالسُّجُودِ فَسَجَدُوا، فَجَعَلُوا يَنْظُرُونَ إِلَى الْجَبَلِ بِشِقِّ وُجُوهِهِمْ، فَصَارَتْ سُنَّةً لِلْيَهُودِ إِلَى الْيَوْمِ، يَقُولُونَ لَا سَجْدَةَ أَعْظَمُ مِنْ سَجْدَةٍ رَفَعَتْ عَنَّا الْعَذَابَ. وَقَالَ سُنَيْدُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: فَلَمَّا نَشَرَهَا لَمْ يَبْقَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ جَبَلٌ وَلَا شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ، إِلَّا اهْتَزَّ، فَلَيْسَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ يَهُودِيٌّ صَغِيرٌ وَلَا كَبِيرٌ تَقْرَأُ عَلَيْهِ التَّوْرَاةَ إِلَّا اهْتَزَّ، وَنَفَضَ لَهَا رَأْسَهُ.
পৃষ্ঠা - ৬৭৯
আল্লাহ তাআল৷ পুনরায় বলেন ং
৷ ট্রুাদ্বু;র্চু; র্বুাটুর্দুৰু
অর্থাৎ-ঢ তামাদের প্রতি ৩রাসুল ও কিতাব প্রেরণের মাধ্যমে যদি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং
অনুকম্প৷ না থাকত তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হতে ৷
বনী ইসরাঈলের গাভীর ঘটনা
আল্লাহ তাআল৷ ইরশাদ করেন :
,
৷ ৷দ্বুশুাব্ল
ধ
,১
ঞ্জো
৷ ৷ ,৷ ৮;
)
লোঃ
(;; “’ প্রুাষ্টু;^শ্রো ণ্;;াপু ;৷ ন্হ্রব্লুদ্বুট্রুঠাং ,এ ৷ এ্যা ৷ স্-ন্ এা১ও
অর্থ্যৎ স্মরণ কর, যখন মুসা (আ) আপন সম্প্রদায়কে বলেছিল ৷ আল্লাহ তােমাদেরকে
একটি গরু যবেহ্র আদেশ দিয়েছেন ৷ তারা বলেছিল, তুমি কি আমাদের সঙ্গে ঠাট্টা করছ? মুসা
বলল, আল্লাহর শরণ নিচ্ছি যাতে আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হই ৷ তারা বলল, আমাদের জন্য
ণ্তামার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জা ৷নিয়ে দিতে বল, ওটা কী রুপ? মুসা বলল, আল্লাহ বলেছেন,
এট৷ এমন গরু যা বৃদ্ধও নয়, অল্পবয়স্কও নয় মধ্যবয়সী ৷ সুতরাং৩ তে ৷মরা যা আদিষ্ট হয়েছ
তা কর ৷ তারা বলল, আমাদের জন্য তোমার প্রতিপ৷ ৷লককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে বল , এটার
রং কিং মুসা বলল, আল্লাহ বলছেন, এট৷ হলুদ বর্ণের গরু, এটার রং উজ্জ্বল গাঢ়, যা
দর্শকদেরকে আনন্দ দেয় ৷’ তারা বলল, আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে
জানিয়ে দিতে বল , তা কােনৃটিং আমরা গরুটি সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হয়েছি এবং আল্লাহ্ ইচ্ছে
করলে নিশ্চয়ই আমরা দিশা পাব ৷ মুসা বলল, তিনি বলছেন, ওটা এমন এক গরু যা জমি৷ চা যে
ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি, সুস্থ ও নিখুত ৷৩ তারা বলল, এখন তুমি সত্য
এনেছে৷ যদিও তারা যবেহ্ করতে প্রস্তুত ছিল না, তবুও তারা এটাকে যবেহ্ করল ৷ স্মরণ কর,
যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে এবং একে অন্যের প্রতি, দােষারোপ করছিলে ৷
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ} [البقرة: 64] أَيْ; ثُمَّ بَعْدَ مُشَاهَدَةِ هَذَا الْمِيثَاقِ الْعَظِيمِ، وَالْأَمْرِ الْجَسِيمِ، نَكَثْتُمْ عُهُودَكُمْ وَمَوَاثِيقَكُمْ، {فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ} [البقرة: 64] بِأَنْ تَدَارَكَكُمْ بِالْإِرْسَالِ إِلَيْكُمْ، وَإِنْزَالِ الْكِتَابِ عَلَيْكُمْ {لَكُنْتُمْ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [البقرة: 64] .
পৃষ্ঠা - ৬৮০
তোমরা যা গোপন রাখছিলে, অ ল্লাহ তা ব্যক্ত করছেন ৷ আমি বললাম, এটার কে ন অংশ
দ্বারা ওকে আঘাত কর , এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তার নিদর্শন তােমাদেরকে
দেখিয়ে থাকেন, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার ৷ (২ : বাকারা : ৬৭ ৭৩)
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) উবাইদা সালমানী আবুল আলীয়৷ (র) মুজাহিদ আর সৃদ্দী
(র) ও প্রাচীনকালের অনেক আলিম বলেন, বনী ইসরা ঈলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল খুবই ধনী ও
অতিশয় বৃদ্ধ ৷৩ তার ছিল বেশ কয়েকজন তা ৷তিজ৷ ৷ তারা তার ওয়ারিশ হবার জন্যে তার মৃত্যু
কামনা করছিল ৷৩ তাই একরাতে তাদের একজন তাকে হত্যা করল এবং তার লাশ চৌরাস্তায়
ফেলে রেখে এল ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তাতিজাদের একজনের ঘরের সামনে তা রেখে
এল ৷ ভোর বেলায় হত্যাকা ৷রী সম্বন্ধে লোকজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল ৷৩ তার ঐভ
এসে কান্নাকাটি করতে লাগল এবংত ৷র উপরে জুলুম হয়েছে বলে অভিযোগ করতে লাগল ৷
অন্য লোকজন বলতে লাগল, তোমরা কেন ঝগড়া করছ এবং আল্লাহর নবীর কাছে গিয়ে কেন
এটার ফয়সালা প্রার্থনা করছ না? তাই মৃত ব্যক্তির তাতিজ৷ আল্লাহর নবী মুসা (আ)-এর কাছে
আগমন করে তার চাচার হত্যার ব্যাপারে অভিযোগ করল ৷ মুসা (আ) তাদেরকে আল্লাহ্
তা আলার শপথ দিয়ে বললেন, কেউ যদি এ বিষয়ে কিছু আসে তাহলে সে যেন বিষয়টি
আমাকে জানিয়ে দেয় ৷ কিভৃ তাদের মধ্যে এমন একটি লোকও পাওয়া (গল না, যে এ বিষয়ে
জানে ৷ তারা বরং মুসা (আ) কে অনুরোধ করল৩ তিনি যেন নিজ প্রতিপালককে এই বিষয়ে প্রশ্ন
করে তা জেনে নেন ৷ সুতরাং মুসা (আ) আপন প্রতিপালকের নিকট তা জ৷ নতে চান ৷
আল্লাহ্ তা আলা মুসা (আ) কে হুকুম দিলেন; যাতে তিনি তাদেরকে একটি গাভী যবেহ্
করতে আদেশ করেন তিনি বললেন০ ং
া
অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তে তামাদেরকে একটি গরু যবেহ্ করার নির্দেশ দিয়েছেন ৷ ” তারা ,
প্রতি উত্তরে বলল, তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্ট৷ ৷করছ? অর্থাৎ আমরা তোমাকে নিহত ব্যক্তি
প্রসঙ্গে প্রশ্ন করছি আর তুমি আমাদের গরু যবেহ্ করার পরামর্শ দিচ্ছ? মুসা (আ) বললেন,
আমার কাছে প্রেরিত ওহী ব্যতীত অন্য কিছু বলার ব্যাপারে আমি আল্লাহ্ তা আলার শরণ
নিচ্ছি ৷ তোমরা আল্লাহ তাআলাকে প্রশ্ন করার জন্যে আবেদন করেছ, আল্লাহ্ তাআলা প্রশ্নের
উত্তরে এটা বলেছেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা), উবায়দা, মুজাহিদ, ইকরিমা, আবুল
আলীয়৷ প্রমুখ বলেছেন, যদি তা ৷রা যে কো ন একটি গাভী যবেহ্ করত তাহলে তার দ্বারা তাদের
উদ্দেশ্য হাসিল হত ৷ কিন্তু তারা ব্যাপারটি জটিল করাতে তাদের কাছে এটা জটিল আকার
ধারণ করেছিল ৷ একটি মারফু হাসীসে এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে তবে এটার সুত্রে কিছু ত্রুটি
রয়েছে ৷ অতঃপর তারা গরুঢির গুণাগুণ, রঙ ও বয়স সম্পর্কে প্রশ্ন করল এবং তাদেরকে
প্রতিপালক আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে এমনভাবে জবাব দেয়া হল যে, এরুপ গরু খুজে
পাওয়াই দৃষ্কর হয়ে র্দাড়াল ৷ তাফসীর গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ বন্তুত
তাদেরকে একটি মধ্য বয়সী গরু যবেহ্ করার জন্যে হুকুম দেয়৷ হয়েছিল ৷ অন্য কথায়, এটা
বৃদ্ধও নয়, আবার অল্প বয়সীও নয় ৷
[قِصَّةُ بَقَرَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً قَالُوا أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا قَالَ أَعُوَذٌ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ - قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَا فَارِضٌ وَلَا بِكْرٌ عَوَانٌ بَيْنَ ذَلِكَ فَافْعَلُوا مَا تُؤْمَرُونَ - قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا لَوْنُهَا قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَاءُ فَاقِعٌ لَوْنُهَا تَسُرُّ النَّاظِرِينَ - قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ إِنَّ الْبَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ - قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَا شِيَةَ فِيهَا قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ - وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَءتُمْ فِيهَا وَاللَّهُ مُخْرِجٌ مَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ - فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللَّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [البقرة: 67 - 73]
[الْبَقَرَةِ: 67 - 73] .
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَعَبِيدَةُ السَّلْمَانِيُّ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَمُجَاهِدٌ، وَالسُّدِّيُّ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ السَّلَفِ: كَانَ رَجُلٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ كَثِيرَ الْمَالِ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا وَلَهُ بَنُو أَخٍ، وَكَانُوا يَتَمَنَّوْنَ مَوْتَهُ; لِيَرِثُوهُ، فَعَمَدَ أَحَدُهُمْ فَقَتَلَهُ فِي اللَّيْلِ، وَطَرْحَهُ فِي مَجْمَعِ الطُّرُقِ، وَيُقَالُ: عَلَى بَابِ رَجُلٍ مِنْهُمْ. فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ اخْتَصَمُوا فِيهِ، وَجَاءَ ابْنُ أَخِيهِ، فَجَعَلَ يَصْرُخُ وَيَتَظَلَّمُ، فَقَالُوا: مَا لَكُمْ تَخْتَصِمُونَ وَلَا تَأْتُونَ نَبِيَّ اللَّهِ، فَجَاءَ ابْنُ أَخِيهِ فَشَكَى أَمْرَ عَمِّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَقَالَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ: أَنْشُدُ اللَّهَ رَجُلًا عِنْدَهُ عِلْمٌ مِنْ أَمْرِ
পৃষ্ঠা - ৬৮১
এই অভিম৩ টি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, আবুল আলীয়া ই,ক,রামা হাসান
ক ৷তাদা (র) প্রমুখ তাফসীরবিদের ৷ তারপর তারা নিজেদের জন্য স ংকীংতিা ও জটিলতা ডেকে
আনল ৷ তারা গরুটির রং সম্বন্ধে প্রশ্ন করল ৷৩ তাই তাদেরকে এমন লোহিতাভ হলুদ রং-এর
কথা বলা হল, যা দর্শকদেরও আনন্দ দেয় ৷ এই বা টি একান্তই দুর্লভ ৷ এরপর তারা আরো
সংকীংতাি ও জটিলতা সৃষ্টি করে বলল, হে মুসা! তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জ লিখে
দিতে বল যে, তা কে ন্টিন্ আমরা গরুটি সম্পর্কে সন্দেহে পতি৩ হয়েছি এবং আল্লাহ্ ইচ্ছে
করলে নিশ্চয়ই আমরা দিশা পাব ৷ ’ এই প্রসঙ্গে ইবন আবু হড়াতিম (র) ও ইবন মারদুওয়েহ্
রাসুলুল্লাহ (না)-এর বরাতে একটি হাদীস বর্ণনা করেন যে, ইসরাঈল যদি গরু সম্বন্ধে পরিচিতি
লাভ করার ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ্ না বলত তাহলে কখনও তাদেরকে এ কাজ সম্পাদন করার
জন্যে তাওফীক দেয়া হত না ৷ তবে এ হাদীসের বিশুদ্ধতাসন্দেহমুক্ত নয় ৷ আল্লাহ্ তাআলাই
অধিকতর জ্ঞাত
আল্লাহ তাআলা বলেনং :
০
খুর্থাং
র্চু,ঞ্জো ৷ , ঝুাও ৬ঠু এেদ্বুরুব্রছুর্দু;াপু;ন্ ট্রু;এ্যা ৷ ৷ ৷ ঐ৷ ৬ ৷গ্লুষ্ম্বু
অর্থ ৎ মুসা বলল, তিনি বলছেন, ওটা এমন এক গরু যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি
সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি ৷ সুস্থ, নিখুত ৷ ত বা বলল, এখন তুমি স এনেছ ৷ যদিও তারা
যবেহ্ করতে উদ্যত ছিলা না ৷ তবুও তারা তা যবেহ্ করল ৷ (সুরা : বাকারাং : ৬৮ ৭১)
উক্ত আয়াতে আরোপিত এ বৈশিষ্ট্যগুলো পুর্বের বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনায় আরো দৃম্প্রাপ্য
ছিল ৷ কেননা এতে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যেন গরুটি জমি চাষ ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য
ব্যবহৃত হওয়ার ফলে দুর্বল ও অসুস্থ না হয়ে থাকে, এবং তা যেন সুস্থ, সরলহুণ্ ও নিখুত হয় ৷
এটি আবুল আলীয়া ও কাতাদা (র)-এর অভিমত ৷ আয়াতে উক্ত ধ্ ,ষ্ম্বি ,, এর অর্থ হচ্ছে
এটার মধ্যে নিজা রঙ ব্যতীত এতে যেন অন্য কোন রঙ এর মিশ্রণ নাথাকে ৷ বরং এটা
যাবতীয় ঘোষ ও অন্য সব রঙয়ের মিশ্রণ থেকে যেন নিখুত হয় ৷ যখন গরুটিতে উল্লেখিত শর্ত
ও গুণসমুহ আরোপিত করা হল তখন তারা বলল, এখন তুমি সত এনেছ ৷ কথিত আছে যে,
তারা এসব গুণবিশিষ্ট গরুটি ঘোজাখুজি করে এমন এক ব্যক্তির ক ছে এটাকে পেয়েছিল, যে
ছিলেন অ ম্ভ পিতৃভক্ত ৷ তারা তার কাছ থেকে গরুটি কিনতে চাইল, কিন্তু সে তাদের কাভ্রু ছে
গরুটি বিক্রি করতে রাজি হল না ৷ তারা তাকে অত্যন্ত চড়ামুল্য দিয়ে গ্ারুটি খবিদ করল ৷
সুদ্দী (র) উল্লেখ করেছেন, তারা প্রথমত গরুটির সম-ওজনেরার্ণ দিয়ে গ্ারুটি ক্রয় করতে
চায় ৷ কিন্তু গরুর মালিক রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার ওজনের দশগুণার্ণ দিয়ে তারা
গরুটি খবিদ করল ৷ অ৩ ংপর আল্লাহ্র নবী মুসা (আ) এটাকে যবেহ্ করার নির্দেশ দিলেন ৷
াতরা গরুটি যবেহ্ করার ব্যাপারে প্রথমত ইতস্তত করছিল ৷ পরে রাজি হল ৷ এরপর আল্লাহ
তাআলার তরফ থেকে হুকুম আসল যেন তারা নিহত ব্যক্তিটিকে যবেহ্ কৃত গরুটির কোন অঙ্গ
দ্বারা আঘাত করে ৷ কেউ কেউ বলেন, উরুর গোশত দ্বারা আঘাত করার কথা বলা হয়েছিল;
আবার কেউ কেউ কােমলান্থিদ্বারা, আবার কেউ কেউ দুই র্কাধের মধ্যবর্তী গোশত দ্বারা আঘাত
هَذَا الْقَتِيلِ إِلَّا أَعْلَمَنَا بِهِ. فَلَمْ يَكُنْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْهُمْ عِلْمٌ، وَسَأَلُوهُ أَنَّ يَسْأَلَ فِي هَذِهِ الْقَضِيَّةِ رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، فَسَأَلَ رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، فِي ذَلِكَ فَأَمَرَهُ اللَّهُ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِذَبْحِ بَقَرَةٍ، فَقَالَ: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً قَالُوا أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا} [البقرة: 67] يَعْنُونَ; نَحْنُ نَسْأَلُكَ عَنْ أَمْرِ هَذَا الْقَتِيلِ، وَأَنْتَ تَقُولُ هَذَا. {قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ} [البقرة: 67] أَيْ; أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَقُولَ عَنْهُ غَيْرَ مَا أَوْحَى إِلَيَّ. وَهَذَا هُوَ الَّذِي أَجَابَنِي حِينَ سَأَلْتُهُ عَمَّا سَأَلْتُمُونِي عَنْهُ أَنْ أَسْأَلَهُ فِيهِ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَعَبِيدَةُ، وَمُجَاهِدٌ، وَعِكْرِمَةُ، وَالسُّدِّيُّ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ: فَلَوْ أَنَّهُمْ عَمَدُوا إِلَى أَيِّ بَقَرَةٍ فَذَبَحُوهَا لَحَصَلَ الْمَقْصُودُ مِنْهَا، وَلَكِنَّهُمْ شَدَّدُوا فَشَدَّدَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ. وَقَدْ وَرَدَ فِيهِ حَدِيثٌ مَرْفُوعٌ، وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ، فَسَأَلُوا عَنْ صِفَتِهَا، ثُمَّ عَنْ لَوْنِهَا ثُمَّ عَنْ سِنِّهَا فَأُجِيبُوا بِمَا عَزَّ وُجُودُهُ عَلَيْهِمْ، وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي تَفْسِيرِ ذَلِكَ كُلِّهِ فِي " التَّفْسِيرِ ".
وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُمْ أُمِرُوا بِذَبْحِ بَقَرَةٍ عَوَانٍ; وَهِيَ الْوَسَطُ بَيْنَ النِّصْفِ الْفَارِضِ، وَهِيَ الْكَبِيرَةُ، وَالْبِكْرُ، وَهِيَ الصَّغِيرَةُ. قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ، وَأَبُو الْعَالِيَةِ، وَعِكْرِمَةُ، وَالْحَسَنُ، وَقَتَادَةُ، وَجَمَاعَةٌ. ثُمَّ شَدَّدُوا، وَضَيَّقُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ، فَسَأَلُوا عَنْ لَوْنِهَا، فَأُمِرُوا بِصَفْرَاءَ فَاقِعٍ لَوْنُهَا، أَيْ مُشْرَبٍ بِحُمْرَةٍ، تَسُرُّ النَّاظِرِينَ، وَهَذَا اللَّوْنُ عَزِيزٌ. ثُمَّ شَدَّدُوا أَيْضًا فَقَالُوا:
পৃষ্ঠা - ৬৮২
করার কথা বলা হয়েছিল বলে মত প্রকাশ করেন ৷ যখন তারা মৃত ব্যক্তিকে ওটার দ্বারা আঘাত
করল, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে পুনর্জীবিত করলেন এবং লোকটি উঠে দীড়াল ৷ তার গলার
শিরা থেকে রক্ত ঝরছিল ৷ মুসা (আ)ত তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কে তোমাকে হত্যা করেছে?’ সে
বলল, আম৷ র তা ৷তিজা ৷ ’ তার পর সে পুর্বের মত অবস্থায় ফিরে গেল
আল্লাহ্ তা আলা বলেন০ ং
৷ মুে;ছু এে১র্বু
এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তার নিদর্শন ৫৩ ড়ামড়াদের দেখিয়ে থাকেন যাতে
তোমরা অনুধাবন করতে পার ৷’ অর্থাৎ তোমরা যেমন আল্লাহ্ তা অ ৷লার হুকুমে নিহত ব্যক্তির
পুনর্জীবিত হওয়া প্রত্যক্ষ করলে, তেমনি আল্লাহ তাআলা এক মুহুর্তে সমস্ত মৃতকে যখন ইচ্ছে
তখন জীবিত করবেন ৷ যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
৮০
অর্থাৎ-তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুথান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুথানেরই
অনুরুপ ৷
অড়াল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৩-
{ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ إِنَّ الْبَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ} [البقرة: 70] فَفِي الْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ، الَّذِي رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، وَابْنُ مَرْدَوَيْهِ: «لَوْلَا أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ اسْتَثْنَوْا لَمَا أُعْطُوا» وَفِي صِحَّتِهِ نَظَرٌ وَاللَّهُ أَعْلَمُ. {قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَا شِيَةَ فِيهَا قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ} [البقرة: 71] وَهَذِهِ الصِّفَاتُ أَضْيَقُ مِمَّا تَقَدَّمَ، حَيْثُ أُمِرُوا بِذَبْحِ بَقَرَةٍ، لَيْسَتْ بِالذَّلُولِ، وَهِيَ الْمُذَلَّلَةُ بِالْحِرَاثَةِ وَسَقْيِ الْأَرْضِ بِالسَّانِيَةِ، مُسَلَّمَةٌ; وَهِيَ الصَّحِيحَةُ الَّتِي لَا عَيْبَ فِيهَا. قَالَهُ أَبُو الْعَالِيَةِ، وَقَتَادَةُ. وَقَوْلُهُ: {لَا شِيَةَ فِيهَا} [البقرة: 71] أَيْ; لَيْسَ فِيهَا لَوْنٌ يُخَالِفُ لَوْنَهَا بَلْ هِيَ مُسَلَّمَةٌ مِنَ الْعُيُوبِ وَمِنْ مُخَالَطَةِ سَائِرِ الْأَلْوَانِ غَيْرِ لَوْنِهَا، فَلَمَّا حَدَّدَهَا بِهَذِهِ الصِّفَاتِ، وَحَصَرَهَا بِهَذِهِ النُّعُوتِ وَالْأَوْصَافِ، {قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ} [البقرة: 71] وَيُقَالُ: إِنَّهُمْ لَمْ يَجِدُوا هَذِهِ الْبَقَرَةَ بِهَذِهِ الصِّفَةِ إِلَّا عِنْدَ رَجُلٍ مِنْهُمْ، كَانَ بَارًّا بِأَبِيهِ، فَطَلَبُوهَا مِنْهُ، فَأَبَى عَلَيْهِمْ، فَأَرْغَبُوهُ فِي ثَمَنِهَا، حَتَّى - أَعْطَوْهُ فِيمَا ذَكَرَ السُّدِّيُّ - بِوَزْنِهَا ذَهَبًا، فَأَبَى عَلَيْهِمْ حَتَّى أَعْطَوْهُ بِوَزْنِهَا عَشْرَ مَرَّاتٍ، فَبَاعَهَا مِنْهُمْ، فَأَمَرَهُمْ نَبِيُّ اللَّهِ مُوسَى بِذَبْحِهَا، {فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ} [البقرة: 71] أَيْ; وَهُمْ يَتَرَدَّدُونَ فِي أَمْرِهَا. ثُمَّ أَمَرَهُمْ عَنِ اللَّهِ أَنْ يَضْرِبُوا ذَلِكَ الْقَتِيلَ بِبَعْضِهَا، قِيلَ: بِلَحْمِ فَخِذِهَا. وَقِيلَ: بِالْعَظْمِ الَّذِي يَلِي الْغُضْرُوفَ. وَقِيلَ: بِالْبِضْعَةِ الَّتِي بَيْنَ الْكَتِفَيْنِ، فَلَمَّا ضَرَبُوهُ بِبَعْضِهَا أَحْيَاهُ اللَّهُ تَعَالَى فَقَامَ وَهُوَ تَشْخَبُ أَوْدَاجُهُ، فَسَأَلَهُ نَبِيُّ اللَّهِ: مَنْ قَتَلَكَ؟ قَالَ قَتَلَنِي ابْنُ أَخِي. ثُمَّ عَادَ
পৃষ্ঠা - ৬৮৩
مَيِّتًا كَمَا كَانَ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {كَذَلِكَ يُحْيِي اللَّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [البقرة: 73] أَيْ; كَمَا شَاهَدْتُمْ إِحْيَاءَ هَذَا الْقَتِيلِ، عَنْ أَمْرِ اللَّهِ لَهُ، كَذَلِكَ أَمْرُهُ فِي سَائِرِ الْمَوْتَى، إِذَا شَاءَ إِحْيَاءَهُمْ أَحْيَاهُمْ فِي سَاعَةٍ وَاحِدَةٍ، كَمَا قَالَ: {مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ} [لقمان: 28] الْآيَةَ [لُقْمَانَ: 28] .
পৃষ্ঠা - ৬৮৪
মুসা (আ) ও খিযির (আ)-এর ঘটনা
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
?
ৰুর্চুঠু
fl
০
এে এ
দি
প্রশ্ন
এ
#
ণাং
এ ত্রৈ
া
[قِصَّةُ مُوسَى وَالْخَضِرِ عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ لَا أَبْرَحُ حَتَّى أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا - فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا - فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا - قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا - قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا - فَوَجَدَا عَبْدًا مِنْ عِبَادِنَا آتَيْنَاهُ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَعَلَّمْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا عِلْمًا - قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا - قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا - وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا - قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا - قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا - فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا - قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا - قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا - فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا - قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا - قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا - فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَ فَأَقَامَهُ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا - قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا - أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُمْ. مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا - وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا - فَأَرَدْنَا أَنْ يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا - وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 60 - 82]
[الْكَهْفِ: 60 - 82] .
পৃষ্ঠা - ৬৮৫
ধ্এ; ব্লুা ১ট্রু; ন্া৷ৰু> শ্রুষ্,;ৰু ;ৰুদ্বুার্দুপু ১া এ,;হুএ গ্লু প্রু১ছুর্চু এ ৷ ;হ্র৷ এ ৷ ’;; ৷
১ ৷ ;ট্দ্বুপুা১
১
)
ধ্)গ্র
(?
ষ্ন্নী
স্মরণ কর, যখন মুসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দৃই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছে আমি থামব
না ৷ অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব ৷ তারা উভয়েই যখন দৃই সমুদ্রের সৎগমস্থলে
পৌছল তারা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেল এটা সুড়ৎগের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে
গেল ৷ যখন তারা আরো অগ্রসর হলো, মুসা তার সঙ্গীকে বলল, আমাদের সকালের নাশৃতা
নিয়ে এসো, আমরা তে ৷ আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’ ৷ সঙ্গী বলল, আপনি কি লক্ষ্য
করেছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম ৷
শয়তানই এটার কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল ৷ মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ
করে সমুদ্রে নেমে গেল ৷ মুসা বলল, আমরা তো সেই স্থানটিরই অনুসন্ধান করছিলাম ৷ তারপর
তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল ৷ তারপর তারা সাক্ষাৎ পেল , আমার বান্দাদের মধ্যে
একজনের, যাকে আমি আমার কাছ থেকে অনুগ্রহ দান করেছিলাম ও আমার কাছ থেকে শিক্ষা
দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান ৷
মুসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা হতে আমাকে শিক্ষা
দেবেন, এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি? যে বলল, আপনি কিছুতেই আমার সঙ্গে
ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন ন, যে বিষয়ে আপনার জ্ঞানায়ত্ত নয় সে বিষয়ে আপনি
ধৈর্যধারণ করবেন কেমন করে? মুসা বলল, আল্লাহ্ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পারেন
এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না ৷ সে বলল, আচ্ছাঅ ৷পনি যদি আমার
অনুসরণ করবেনই ৩বে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না ৷আমি সে সম্বন্ধে
আপনাকে কিছু বলি ৷ ’ ৷ ৩ারপর উভয়ে চলতে লাগল, পরে তারা যখন নৌকায় আরোহণ করল,
তখন সে ওটা বিদীর্ণ করে দিল ৷ মুসা বলল, আপনি কি আরােহীদের নিমজ্জিত করে দেবার
জন্যে এটা বিদীর্ণ করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন ৷ ’ সে বলল, আমি
বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতে ই ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না?’ মুসা বলল আমার
ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠােরতা অবলম্বন
করবেন না
قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْكِتَابِ: إِنَّ مُوسَى هَذَا الَّذِي رَحَلَ إِلَى الْخَضِرِ، هُوَ مُوسَى بْنُ مِيشَا بْنِ يُوسُفَ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ. وَتَابَعَهُمْ عَلَى ذَلِكَ بَعْضُ مَنْ يَأْخُذُ مِنْ صُحُفِهِمْ، وَيَنْقُلُ عَنْ كُتُبِهِمْ، مِنْهُمْ نَوْفُ بْنُ فَضَالَةَ الْحِمْيَرِيُّ الشَّامِيُّ الْبِكَالِيُّ، وَيُقَالُ: إِنَّهُ دِمَشْقِيٌّ. وَكَانَتْ أُمُّهُ زَوْجَةَ كَعْبِ الْأَحْبَارِ. وَالصَّحِيحُ الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ ظَاهِرُ سِيَاقِ الْقُرْآنِ، وَنَصُّ الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ الصَّرِيحِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ، أَنَّهُ مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ، صَاحِبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ.
قَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: إِنَّ نَوْفًا الْبِكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى صَاحِبَ الْخَضِرِ لَيْسَ هُوَ مُوسَى صَاحِبَ بَنِي إِسْرَائِيلَ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: كَذَبَ عَدُوُّ اللَّهِ; حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ
পৃষ্ঠা - ৬৮৬
তারপর উভয়ে চলতে লাগল ৷ চলতে চলতে ওদের সাথে এক বালকের সাক্ষাত ৩হলে সে
তাকে হত্যা করল ৷ তখন মুসা বলল, আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন, হত্যার
অপরাধ ছা ৷ড়াই৷ আপনি তে ৷ এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন ৷’ সে বলল, আমি কি বলিনি
যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না ? মুসা বলল, এটার পর যদি
আমি আপনাকে কে ন বিষয়ে জিজ্ঞেস কবি৩ তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না আমার
ওযর আপত্তির চুড়ান্ত হয়েছো’ তারপর উভয়ে চলতে লাগল, চলতে চলতে তারা এক
জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাদ্য চাইল, কিভু৩ারা তাদের মেহমানদারী
করতে অস্বীকার করলো ৷ তারপর তারা এক পতনােন্মুখ প্রাচীর দেখতে গেল এবং সে এটাকে
সুদৃঢ় করে দিল ৷ মুসা বলল, আপনি তো ৷ইচ্ছে করলে এটার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে
পারতেন ৷ ’ সে বলল, এখানেই আপনার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কছেদ হল; যে বিষয়ে আপনি
ধৈর্যধারণ করতে পারেন নি আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি ৷ ’
নৌকাটির ব্যাপার এটা ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির, ওরা সমুদ্রে জীবিকা অম্বেযণ
করত; আমি ইচ্ছা করলাম নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে ৷ কারণ, তা ৷দের সম্মুখে ছিল এক রাজা
যে বলপ্রয়োগে সকল নৌকা ছিনিয়ে নিত ৷ আর কিশোরঢি-৩ ৷র পিতামা৩ ৷ ছিল মু মিন ৷
আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে বিদ্রোহাচরণ ও কুফরীর দ্বারা তাদেরকে ব্বিত করবে ৷ তারপরে
আমি চাইলাম যে, ওদের প্রতিপালক যেন ওদেরকে তার পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন, যে
হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভ৷ ৷লবাসায় ঘনিষ্ঠতর ৷ আর ঐ প্রাচীবটি এটা ছিল নগরবাসী
দুই পিতহীন কিশোরের, এর নিম্নদেশে ৷আছে ওদের গুপ্তধন এবং ওদের পি৩ ৷ ছিল
সৎকর্যপরায়ণ ৷ সুতরাং আপনার প্রর্ণিপ লক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, ওরা বয়ঃপ্রাপ্ত
হউক এবং ওরা ওদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক ৷ আমি নিজ থেকে কিছু করিনি, আপনি যে
বিষয়ে ধৈর্যধারণে অপারক হয়েছিলেন, এটাই তার ব্যাখ্যা ৷ (সুরা কাহাফ : ৫৯ ৮ ২)
কোন কোন কিতাবী বলে যে, খিযির (আ) এর কাছে যে মুসা (আ) গমন করেছিলেন, তিনি
হচ্ছেন মুসা (আ) ইবন মীশা ইবন ইউসুফ (আ) ইবন ইয়াকুব (আ) ইবন ইসহাক (আ) ইবন
ইব্রাহীম আল খলীল (আ) ৷ এ সব কিতাবীর অভিমতে র সমর্থ্য৷ করে যারা তাদের কিতাব ও
বই পুস্তক থেকে তথ্যাদি উদ্ধৃত করে থাকে, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন নুপ ইবন ফুআলা
আল হেমইয়ারী আশ-শ্ ৷,৷মী আল বৃকালী ৷ কথিত আছে যে, তিনি ছিলেন দামিশ্াকের
অধিবাসী ৷৩ তার মাতা হচ্ছেন কা ব আহবারের শ্রী ৷ বাহ্যত কুরআনের পুর্ব৷ ৷পর বর্ণনা ও সর্বজন
গৃতহী ৩বিশুদ্ধ হাদীসের স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মুসা (আ) ইবন ইমরানই হচ্ছেন বনী
ইসরাঈলের কাছে প্রেরিত মুসা (আ) ৷
ইমাম বুখারী (র) বলেন, সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) বলেছেন একদিন আমি ইবন আব্বাস
(রা)-কে বললাম যে, নুফ আল বুকালীর ধারণা যে, খিযির (আ)-এর সাথে যে মুস৷ (আ)
সাক্ষাত করেছিলেন তিনি বনী ইসরাঈলের মুসা (আ) নন ৷ ইবন আব্বাস (বা) বলেন,
“আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে ৷” উবাই ইবন কাব (রা) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা)-কে
বলতে শুনেছেন যে, একদিন মুসা (আ) ইসরাঈলীদের কাছে বক্তব্য রাখছিলেন ৷ এমন সময়
তাকে প্রশ্ন করা হল যে, মানব জ দিব মধ্যে সর্ব ধিক জ্ঞানী কে ? তিনি বললেন আমি ৷
যেহেতু জ্ঞা ৷নকে তিনি আল্লাহ্ তা অ ৷লার দিকে সম্পর্কিত করেন নি৩ ৷ই আল্লাহ তা আলা তাকে
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ «إِنَّ مُوسَى قَامَ خَطِيبًا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَسُئِلَ: أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ فَقَالَ: أَنَا. فَعَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ; إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ، إِنَّ لِي عَبْدًا بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ، هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ. قَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ، وَكَيْفَ لِي بِهِ؟ قَالَ: تَأْخُذُ مَعَكَ حُوتًا فَتَجْعَلُهُ فِي مِكْتَلٍ فَحَيْثُمَا فَقَدْتَ الْحُوتَ فَهُوَ ثَمَّ. فَأَخَذَ حُوتًا فَجَعَلَهُ بِمِكْتَلٍ، ثُمَّ انْطَلَقَ، وَانْطَلَقَ مَعَهُ فَتَاهَ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ، حَتَّى إِذَا أَتَيَا الصَّخْرَةَ، وَضَعَا رُءُوسَهُمَا فَنَامَا، وَاضْطَرَبَ الْحُوتَ فِي الْمِكْتَلِ، فَخَرَجَ مِنْهُ فَسَقَطَ فِي الْبَحْرِ، وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا، وَأَمْسَكَ اللَّهُ عَنِ الْحُوتِ جَرْيَةَ الْمَاءِ، فَصَارَ عَلَيْهِ مِثْلُ الطَّاقِ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ نَسِيَ صَاحِبُهُ أَنْ يُخْبِرَهُ بِالْحُوتِ، فَانْطَلَقَا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمَا وَلَيْلَتِهِمَا، حَتَّى إِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ " قَالَ " مُوسَى {لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا} [الكهف: 62] . وَلَمْ يَجِدْ مُوسَى النَّصَبَ حَتَّى جَاوَزَ الْمَكَانَ الَّذِي أَمَرَهُ اللَّهُ بِهِ " قَالَ " لَهُ فَتَاهَ: {أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا} [الكهف: 63] قَالَ: فَكَانَ لِلْحُوتِ سَرَبًا، وَلِمُوسَى وَلِفَتَاهُ عَجَبًا قَالَ: {ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا} [الكهف: 64] قَالَ: فَرَجَعَا يَقُصَّانِ أَثَرَهُمَا، حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ، فَإِذَا رَجُلٌ مُسَجًّى بِثَوْبٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ مُوسَى، فَقَالَ الْخَضِرُ: وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ. قَالَ: أَنَا مُوسَى. قَالَ: مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ؟ قَالَ: نَعَمْ، أَتَيْتُكَ لِتُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا. " {قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا} [الكهف: 67] "، يَا مُوسَى، إِنِّي عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ عَلَّمَنِيهِ اللَّهُ، لَا تَعْلَمُهُ أَنْتَ، وَأَنْتَ عَلَى عِلْمٍ مَنْ عِلْمِ اللَّهِ عَلَّمَكَهُ اللَّهُ لَا أَعْلَمُهُ، فَقَالَ مُوسَى: {سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا} [الكهف: 69] . قَالَ لَهُ الْخَضِرُ: {فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا} [الكهف: 70]
পৃষ্ঠা - ৬৮৭
তর্ধসনা করলেন ৷ তার কাছে আল্লাহ তাআলা এ মর্মে ওহী প্রেরণ করেন যে, দুই সমুদ্রের
সংগমস্থুলে আমার এক বান্দা রয়েছে যিনি তোমার চাইতে অধিক জ্ঞ৷ ৷নী ৷ মুসা (আ) বললেন
“হে আমার প্রতিপালক৷ আমি কেমন করে তার কাছে পৌছতে পারব?” আল্লাহ তা আলা
বললেন, একটি মাছ সাথে নিয়ে তা থলেতে পুরে নাও ৷ যেখানেই মাছটি হারিয়ে যাবে,
সেখানেই তাকে পাওয়া যাবে ৷’ তিনি একটি মাছ নিয়ে তা একটি থলে পুরে নিলেন ৷ তারপর
তিনি চলতে লাগলেন ৷ তার সাথে তার খাদিম ইউশা ইবন নুনও ছিলেন ৷ যখন তারা
শৈলশীলার কাছে পৌছলেন, তখন তারা তাতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷ মাছটি লাফ দিয়ে
থলে থেকে বের হয়ে গেল এবং সৃড়ঙ্গের পথ করে সাগরে নেমে গোল ৷
আল্লাহ তাআলা মাছের যাত্রাপথের পানি ঠেকিয়ে রাখলেন, যাতে সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল ৷
মুসা যখন জাগলেন, তখন খাদিম মাছটি সম্বন্ধে তাকে অবহিত করতে ভুলে গেলেন এবং তারা
বাকি দিন ও রাত পথ চলতে লাগলেন ৷ পরদিন সকালে মুসা (আ)৩ তার খাদিমকে বলেন
আমাদের প্রাত৪রাশ আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি ৷ যে স্থানে
পৌছার জন্য আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে হুকুম দিয়েছিলেন যে স্থান অতিক্রম করার পুর্ব
পর্যন্ত তিনি কোন ক্লান্তি বোধ করেননি ৷ থাদিম মুসা (আ)-কে বললেন, “আপনি কি লক্ষ্য
করেছেন আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা তুলে গিয়েছিলামঃ
শয়তানই এটার কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল ৷ মাছটি আশ্চর্যজনকতাবে নিজের পথ
করে সাগরে নেমে যায় ৷ অর্থাৎ মাছটি পথ করে সমুদ্রে নেমে যাওয়ায় দুজনই আশ্চর্য৷ ত
হয়ে গেলেন ৷ মুসা (আ) বললেন, আমরা তো সেই স্থানটিরই অম্বেষণ করছিলাম ৷ ’
তারপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন এবং পাথরটির কাছে গিয়ে পৌছলেন ৷
তারা সেখানে একজন বস্ত্রাবৃত লোককে দেখতে পান ৷ মুসা (আ) তাকে সালাম দিলেন, তখন
ঐ ব্যক্তি অর্থাৎ খিযির (আ) বললেন, আপনার এ জনপদে সালাম আসল কােখেকে? মুসা (আ)
বললেন, আমি মুসা ৷ তিনি প্রশ্ন করলেন, বনী ইসরাঈলের মুসা (আ) ? মুসা (আ) বললেন হ্যা,
তাই ৷ সত্যের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে৩ তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেবেন এজন্য
আমি আপনার কাছে এসেছি ৷ খিযির (আ) বললেন, “হে মুসা (আ) ! আল্লাহ তা আলা তার
জ্ঞান থেকে আমাকে একটি বিশেষ জ্ঞান প্রদান করেছেন, যা আপনার অজ্ঞাত ৷ অনুরুপভারে
আপনাকে এমন একটি জ্ঞান দান করেছেন যা আমার অজ্ঞাত ৷ তা ৷ই আপনি কিছুতে ই আমার
সঙ্গে ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না ৷”
হযরত মুসা (আ) খিযির (আ) কে বললেন, “আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল
পারেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না ৷” খিযির (আ) মুসা (আ)-কে
বললেন, যদি আপনি আমার অনুকরণ করেনই, তবে কে ন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না
যতক্ষণ না আমি সে সম্বন্ধে আপনাকে কিছু বলি ৷ ’ তারপর উভয়ে সাগরের তীর ধরে চলতে
লাগলেন এবং একটি নৌকার দেখা পেলেন ৷ নৌকার মালিকদের সাথে পারাপারের ব্যাপারে
আলোচনা করলেন ৷ নৌকার মালিকগণ খিযির (আ) কে চিনতে পারলেন এবং ভাড়া না নিয়েই
তাদেরকে পার করে দিলেন ৷ যখন তারা উভয়ে নৌকায় আরোহণ করলেন, খিযির (আ)
কিছুক্ষণের মধ্যে কুঠার দ্বারা নৌক র একটি কাঠ খুলে ফেললেন ৷ তখন মুসা( (আ) তাকে
فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ، فَمَرَّتْ سَفِينَةٌ، فَكَلَّمَهُمْ أَنْ يَحْمِلُوهُمْ فَعَرَفُوا الْخَضِرَ، فَحَمَلُوهُمْ بِغَيْرِ نَوْلٍ، فَلَمَّا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ لَمْ يَفْجَأْ إِلَّا وَالْخَضِرُ قَدْ قَلَعَ لَوْحًا مِنْ أَلْوَاحِ السَّفِينَةِ بِالْقَدُومِ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: قَوْمٌ حَمَلُونَا بِغَيْرِ نَوْلٍ، عَمَدْتَ إِلَى سَفِينَتِهِمْ فَخَرَقْتَهَا " {لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا - قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا - قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا} [الكهف: 71 - 73] » " قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «وَكَانَتِ الْأُولَى مِنْ مُوسَى نِسْيَانًا. قَالَ: وَجَاءَ عُصْفُورٌ فَوَقَعَ عَلَى حَرْفِ السَّفِينَةِ فَنَقَرَ فِي الْبَحْرِ نَقْرَةً، فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ: مَا عِلْمِي وَعِلْمُكَ فِي عِلْمِ اللَّهِ إِلَّا مِثْلُ مَا نَقَصَ هَذَا الْعُصْفُورُ مِنْ هَذَا الْبَحْرِ. ثُمَّ خَرَجَا مِنَ السَّفِينَةِ، فَبَيْنَمَا هُمَا يَمْشِيَانِ عَلَى السَّاحِلِ، إِذْ أَبْصَرَ الْخَضِرُ غُلَامًا يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ، فَأَخَذَ الْخَضِرُ رَأْسَهُ بِيَدِهِ فَاقْتَلَعَهُ بِيَدِهِ فَقَتَلَهُ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: " {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا - قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا} [الكهف: 74 - 75] " قَالَ: وَهَذِهِ أَشَدُّ مِنَ الْأُولَى، " {قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا - فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ} [الكهف: 76 - 77] " قَالَ: مَائِلٌ. فَقَالَ الْخَضِرُ بِيَدِهِ " فَأَقَامَهُ " فَقَالَ مُوسَى: قَوْمٌ أَتَيْنَاهُمْ فَلَمْ يُطْعِمُونَا، وَلَمْ يُضَيِّفُونَا " {لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا - قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 77 - 78] » قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَدِدْنَا أَنَّ مُوسَى كَانَ
পৃষ্ঠা - ৬৮৮
বললেন, এরা বিনাভাড ড়ায় আমাদেরকে পার করে দিলেন আর আপনি আরােহীদেরকে নিমজ্জিত
করার জন্যে নৌকা টিকে বিদীর্ণ করে দিলেন আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন
তিনি মুসা (আ) কে বললেন, “আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই
ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না?” মুসা (আ) বললেন, “আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী
ঠাওরাবেন না এবং আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না ৷”
রসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, “প্রথম বারের প্রশ্নটি মুসা (আ) হতে ভুলক্রমে সংঘটিত
হয়েছিল ৷ ” রসুলুল্লাহ (সা) আরো বলেন, এমন সময় একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার এক
পাশে বসল তারপর ণ্ঠীট দিয়ে পানি উঠাল ৷ তখন খিযির (আ) মুসা (আ)-কে লক্ষ্য করে
বললেন, “আল্লাহ্ তাআলার জ্ঞানের তুলনায় আমার ও আপনার জ্ঞানের পরিমাণ হচ্ছে সাগর
থেকে নেয়া চড়ুই পাখির এক বিন্দু পানির মত৷ ” বা উভযে নৌকা থেকে অবতরণের পর
সাগরের কুল যেষে চলতে লাগলেন ৷ অতঃপর খিযির (আ) এক বা লককে দেখতে পেলেন ৷ যে
অন্যান্য বালকের সাথে খেলাধুলা করছিল ৷ খিযির (আ) কিশোরটির মাথা ধরে টেনে ছিড়ে
ফেললেন ৷ এভাবে ভাবে তিনি হত্যা করলেন ৷ মুসা (আ) তখন র্তাকে বললেন, “আপনি কি
এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন, হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায়
কাজ করলেন!” তিনি বললেন, “আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ
করতে পারবেন না?
রসুলুল্লাহ (সা) বলেন, এবারের প্রশ্নটি উত্থাপন ছিল পুর্বের বারের চেয়ে গুরুতর ৷৩ তাই
মুসা (আ) বললেন, এটার পর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞা ৷স৷ করিত তবে আপনি
আমাকে সঙ্গে রাখবেন না ৷ আমার ওযর আপত্তির চুড়ান্ত হয়েছে ৷ অতঃপর উভযে চলতে
লাগলেন ৷ চলতে চলতে তারা এক জনপদের আধিবাসীদের নিকট পৌছে তাদের কাছে খাদ্য
চাইলেন ৷ বিন্দু তারা এদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল ৷ অতঃপর তারা তথায় এক
পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, তখন খিযির (আ)ত তা সুদৃঢ় করে দিলেন ৷ তখন মুসা (আ)
বললেন, “তারা এমন একটি সম্প্রদায় যাদের কাছে আমরা আগমন করলাম, তারা আমাদেরকে
না দিল খাদ্য, না করল মেহমানদারী, আপনি তাে ইচ্ছে করলে এটার জন্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ
করতে পারতেন ৷” খিযির (আ) বললেন, “এখানেই আপনার এবংঅ আমার মধ্যে সম্পর্কছেদ
হল ৷ যে বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেন নি আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি ৷ ”
রসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, আমাদের এটা পছন্দনীয় ছিল যে, মুসা (আ) যদি
ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে আল্লাহ্ তাআল৷ তাদের সম্বন্ধে আমাদেরকে আরও অনেক
ঘটনা শুনাভ্রুত তন ৷ সাঈদ ইবন জুবায়র (র) বলেন, উপরোক্ত আয়াতে উল্লেখিত আয়াতাত্শ
মোঃ এর স্থলে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস
(রা) পাঠ হৰু রু শব্দটির সাথে এোশু বিশেষণ সহকারে পাঠ করতেন ৷ পুনরায়
আয়াতাংশ ,ব্লে১ >’éfl ৷ খ্রিাট্রু এর সাথে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) পড়তেন
ষ্হু;র্দু;ন্ষ্ট্রুপ্লুশুশু !ঠুার্চু) র্দুশুস্ ন্১ছো ;১ এ শব্দটি যোগ করে পড়তে তন ৷ হাদীস শরীফে উল্লেখ
রয়েছে যে, যে ছিল কাফির ৷ বুখারী শরীফে সুফয়ান ইবন উয়ায়ন৷ (রা) এর সুত্রে অনুরুপ
صَبَرَ، حَتَّى يَقُصَّ اللَّهُ عَلَيْنَا مِنْ خَبَرِهِمَا» قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ: (وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا) . وَكَانَ يَقْرَأُ: (وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ) .
ثُمَّ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ أَيْضًا عَنْ قُتَيْبَةَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ. وَفِيهِ: «فَخَرَجَ مُوسَى، وَمَعَهُ فَتَاهُ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ، وَمَعَهُمَا الْحُوتُ، حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ، فَنَزَلَا عِنْدَهَا. قَالَ: فَوَضَعَ مُوسَى رَأْسَهُ فَنَامَ» قَالَ سُفْيَانُ: وَفِي حَدِيثِ غَيْرِ عَمْرٍو، قَالَ: «وَفِي أَصْلِ الصَّخْرَةِ عَيْنٌ يُقَالُ لَهَا: الْحَيَاةُ. لَا يُصِيبُ مِنْ مَائِهَا شَيْءٌ إِلَّا حَيِيَ، فَأَصَابَ الْحُوتُ مِنْ مَاءِ تِلْكَ الْعَيْنِ، قَالَ: فَتَحَرَّكَ، وَانْسَلَّ مِنَ الْمِكْتَلِ، وَدَخَلَ الْبَحْرَ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ: آتِنَا غَدَاءَنَا» كَذَا قَالَ. وَسَاقَ الْحَدِيثَ، وَقَالَ: «وَوَقَعَ عُصْفُورٌ عَلَى حَرْفِ السَّفِينَةِ، فَغَمَسَ مِنْقَارَهُ فِي الْبَحْرِ، فَقَالَ الْخَضِرُ لِمُوسَى: مَا عِلْمِي وَعِلْمُكَ وَعِلْمُ الْخَلَائِقِ، فِي عِلْمِ اللَّهِ، إِلَّا مِقْدَارُ مَا غَمَسَ هَذَا الْعُصْفُورُ مِنْقَارَهُ» وَذَكَرَ تَمَامَ الْحَدِيثِ.
وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يَعْلَى بْنُ مُسْلِمٍ، وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ - يَزِيدُ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ، وَغَيْرُهُمَا قَدْ سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ - قَالَ: إِنَّا لَعِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي بَيْتِهِ إِذْ قَالَ: سَلُونِي. فَقُلْتُ: أَيْ أَبَا عَبَّاسٍ، جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ، بِالْكُوفَةِ رَجُلٌ قَاصٌّ، يُقَالُ لَهُ: نَوْفٌ. يَزْعُمُ أَنَّهُ لَيْسَ بِمُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ. أَمَّا عَمْرٌو فَقَالَ لِي: قَالَ: قَدْ كَذَبَ عَدُوُّ اللَّهِ.
পৃষ্ঠা - ৬৮৯
বর্ণনা রয়েছে ৷ তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছে, মুসা (আ) সফরে বের হয়ে পড়লেন ৷ তার সাথে
ছিলেন ইউশা ইবন নুন এবং৩ তাদের সাথে ছিল একটি মাছ ৷ অতঃপর তারা উভয়ে একটি
পাথরের কাছে পৌছলেন এবং দুজনেই পাথরের নিকট অবতরণ করলেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন,
মুস৷ (আ) পাথরের উপর৩ার মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷ পাথরের উপর ছিল একটি প্রস্রবণ,
যাকে ব্লুা! বলা হত ৷ কে ন কিছুর মধ্যে ঐ প্রস্রবণের পানি পড়লে ঐ বস্তুটি জীবিত হয়ে
যেত ৷ ভুনা মাছটির উপরও উক্ত প্রস্রবণ ৷৫থকে পানি পডেছিল ৷ ত ই মাছটি নড়ে উঠল, থলে
থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে গেল ৷ অতঃপর যখন মুসা (আ) জেগে উঠলেন, তখন খাদিমকে
বললেন, আমাদের নাশত৷ নিয়ে এস ৷ আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি ৷
তারপর হাদীসটির বাকি অংশ বর্ননা করা হয়েছে ৷ উক্ত হাদীসে আ রো আছে, তিনি বলেন,
নৌকার একপাশে একটি চড়ুই পাখি এসে বসল; সমুদ্রে৩ার হ্রঠ ট ডুবাল ৷ তখন খিযির (আ)
মুসা (আ)-কে বললেন, “আমার, আপনার এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের জ্ঞ৷ ৷ন আল্লাহর জ্ঞানের
তুলনায় এই চড়ুই পাখির সমুদ্রে ভুবানাে ৫ঠাটের মাধ্যমে সংগৃহীত এক বিন্দু পানির ন্যায়
নগণ্য ৷ আতঃপর পুর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন ৷
ইমাম বুখারী (র) অন্য একটি সুত্রেও সাঈদ ইবন জুবায়র (বা) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা
করেন ৷ সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) বলেন, একদিন আমরা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) এর
ঘরে উপবিষ্ট ছিলাম ৷ তখন তিনি বললেন, “তোমরা আমাকে যে কোন প্রশ্ন করতে পার ৷
আমি বললাম, হে আবু আব্বাস (রা) আল্লাহ তা আলা আপনার জন্যে আমাকে উৎসর্গ করে
দিন, কুফ৷ তে একজন বক্তা আছে, তাকে বলা হয় নুফ ৷ তার ধারণা যে, খিযির (আ ) এর সাথে
যায় ঘটনা ঘটেছে তিনি বনী ইসরাঈলের মুসা (আ) নন ৷ বর্ননাকারী আমরের মতে, আবদুল্লাহ
ইবন আব্বাস (রা) বলেন, “আল্লাহর দৃশমন মিথ্যা বলেছে ৷” বর্ণনাকারী ইয়ালা (র)-এর মতে,
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, আমাকে উবাই ইবন কা’ব (রা) বলেছেন যে, রসুলুল্লাহ
(সা) বলেন, আল্লাহর রাসুল মুসা (আ) একদিন জনগণকে নসীহত করছিলেন, তাতে চোখে
পানি এসে গিয়েছিল এবং অম্ভরসমুহ ৰিগলিত হয়ে গিয়েছিল ৷ মুসা (আ) যখন স্থান ত্যাগ
করছিলেন অমনি এক ব্যক্তি তাকে পেয়ে জিজ্ঞাসা করল, “হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর যমীনে
কি কেউ আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী রয়েছেন ?” তিনি প্রতি উত্তরে বললেন “না” ৷ জ্ঞানকে
আল্লাহ তাআলার প্রতি সম্পর্কিত না করায় আল্লাহ তাআলা মুসা (আ)-কে ভর্চুসন৷ করেন ৷
মুসা (আ)-কে বলা হল, “হী৷ রয়েছে ৷ মুসা (আ) বললেন, “হে আমার প্ৰতিপালক৷ তিনি
কোথায় আছেন?” আল্লাহ তাআল৷ বললেন, “দুই সমুদ্রের সংগমস্থানে ৷ ” মুসা (আ) বললেন,
“হে আমার প্রতিপালক৷ আমাকে একটি চিহ্ন নির্দেশ করুন যা দিয়ে আমি তাকে চিনে নিতে
পারব ৷” তিনি বললেন, “যেখানে মাছটি তোমার নিকট থেকে পৃথক হয়ে যাবে ৷ ”
ইয়ালা (র) বলেন, আল্লাহ ৷ আল৷ বললেন, একটি তুন৷ মাছ সাথে নিয়ে না ও ৷ যেখানেই
তাতে প্রাণ সঞ্চার করা হবে সেখানেই তুমি খিযির (আ) কে পাবে ৷ মুসা (আ) একটি মাছ
নিয়ে একটি থলে রাখলেন ৷ অতঃপর আবার খাদেমকে বললেন, “আমি তোমাকে অন্য কোন
দায়িত্ব দিয়ে কষ্ট দেব না, তুমি শুধু যেখানে মাছটি আমাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে যে
জায়গাটি সম্বন্ধে আমাকে অবহিত করবে ৷” খাদেম ইউশ ৷৷ (আ) বললেন, এটাতে৷ আর তেমন
কো ন কঠিন কাজ নয় ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ তা আল৷ বলেন, é :৷ £প্রুশুণ্ fl এে ৷ ; ৷ , অর্থাৎ
وَأَمَّا يَعْلَى، فَقَالَ لِي: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: حَدَّثَنِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُوسَى رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: ذَكَّرَ النَّاسَ يَوْمًا حَتَّى إِذَا فَاضَتِ الْعُيُونُ وَرَقَّتِ الْقُلُوبُ، وَلَّى، فَأَدْرَكَهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: أَيْ رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ فِي الْأَرْضِ أَحَدٌ أَعْلَمُ مِنْكَ؟ قَالَ: لَا. فَعَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ; إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَى اللَّهِ. قِيلَ: بَلَى. قَالَ: أَيْ رَبِّ فَأَيْنَ؟ قَالَ: بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ. قَالَ: أَيْ رَبِّ، اجْعَلْ لِي عِلْمًا أَعْلَمُ ذَلِكَ بِهِ. قَالَ لِي» عَمْرٌو: قَالَ: حَيْثُ يُفَارِقُكَ الْحُوتُ. وَقَالَ لِي يَعْلَى: قَالَ: خُذْ حُوتًا مَيِّتًا، حَيْثُ يُنْفَخُ فِيهِ الرُّوحُ، فَأَخَذَ حُوتًا فَجَعَلَهُ فِي مِكْتَلٍ، فَقَالَ لِفَتَاهُ: لَا أُكَلِّفُكَ إِلَّا أَنْ تُخْبِرَنِي بِحَيْثُ يُفَارِقُكَ الْحُوتُ. قَالَ مَا كَلَّفْتَ كَبِيرًا فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ} [الكهف: 60] يُوشَعَ بْنِ نُونٍ - لَيْسَتْ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ - قَالَ: «فَبَيْنَمَا هُوَ فِي ظِلِّ صَخْرَةٍ، فِي مَكَانٍ ثَرْيَانَ ; إِذْ تَضَرَّبَ الْحُوتُ، وَمُوسَى نَائِمٌ، فَقَالَ فَتَاهَ: لَا أُوقِظُهُ. حَتَّى إِذَا اسْتَيْقَظَ، نَسِيَ أَنْ يُخْبِرَهُ، وَتَضَرَّبَ الْحُوتُ حَتَّى دَخَلَ الْبَحْرَ، فَأَمْسَكَ اللَّهُ عَنْهُ جَرْيَةَ الْبَحْرِ، حَتَّى كَأَنَّ أَثَرَهُ فِي حَجَرٍ» قَالَ لِي عَمْرٌو: «هَكَذَا كَأَنَّ أَثَرَهُ فِي حَجَرٍ» وَحَلَّقَ بَيْنَ إِبْهَامَيْهِ وَاللَّتَيْنِ تَلِيَانِهِمَا.
পৃষ্ঠা - ৬৯০
স্মরণ কর, যখন মুসা (আ) আপন খাদেম ইউশা ইবন নুন-কে বললেন ৷ ’ সাঈদ (বা) ব্যতীত
অন্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন, ইউশা (আ) একটি পরিষ্কার জায়গায় পাথরের ছায়ায় অবস্থান
করছিলেন এবং মুসা (আ) নিদ্রিত ছিলেন ৷ মাছটি নড়ে উঠল, ইউশা (আ) মনে মনে বললেন,
নিজে না জেগেওঠা পর্যন্ত আমি মুসা (আ) কে জাগাব না বরং জেগে উঠলে তার কাছে মাছের
ঘটনাটি বলব ৷ কিন্তু পরে তিনি তা বলতে ভুলে গেলেন ৷ এদিকে মাছটি নড়াচড়া করতে করতে
সাগরে নেমে গেল ৷ আল্লাহর হুকুমে মাছের নির্গমন জায়গায় পানির চলাচল বন্ধ হয়ে গেল ৷
পাথরের মধ্যেও মাছের কিছু চিহ্ন রয়ে যায় ৷ বর্ণনাকারী আমর সেই চিহ্নের প্ৰতি ইঙ্গিত করতে
গিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের দুইটি আঙ্গুলের দ্বারা বৃত্ত তৈরি কার ণ্দখালেন ৷
অতঃপর মুসা (আ ) বললেন :
আমরা এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’ ৷ এ পর্যন্ত তোম৷ থে ক আল্লাহ তা আলা ভ্রমণের কষ্ট
দুর করে রেখেছিলেন ৷ উভয়ে ফিরে চললেন এবং খিযির (আ)-কে পেয়ে গেলেন ৷ উনমান
ইবন আবু সুলাইমান (র) বলেন, খিযির (আ) সমুদ্রের বুকে একটি সবুজ রংয়ের চাটাইয়ের
উপর ছিলেন ৷ সাঈদ (বা) বলেন, তিনি তার কাপড়ে আবৃত অবস্থায় ছিলেন ৷ কাপড়ের
একপ্রান্ত ছিল তার দুই পায়ের নিচে এবং অপরপ্রাম্ভ ছিল তার মাথার নিচে ৷ মুসা (আ) তাকে
সালাম করলেন ৷ তখন তিনি চেহারা থেকে কাপড় সরালেন এবং বললেন, “এ অঞ্চলে কি
সালামের প্রথা আছেঃ আপনি কে?” মুসা (আ) বললেন, “আমি মুসা ৷ ” তিনি বললেন, বনী
ইসরাঈলের মুসা?’ মুসা (আ) বললেন, ইা৷ ৷ খিযির (আ) বললেন, “ব্যাপার কী? আপনি কেন
এসেছেন? মুসা (আ) বললেন, আপনি যে জ্ঞান শিক্ষা লাভ করেছেন তার থেকে আপনি
আমাকে কিছু শিখাবেন এজন্যই আমি এখানে এসেছি ৷ ’ আপনার হাতে তৌরাত রয়েছে তা কি
যথেষ্ট নয়? হে মুসা (আ) ৷ আপনার কাছে তো আল্লাহ্র ওহী আসে ৷ আমার কাছে এক প্রকার
জ্ঞান রয়েছে যা শিক্ষা করা আপনার পক্ষে সমীচীন নয় ৷ অন্যদিকে আপনার কাছে এমন জ্ঞান
রয়েছে যা আমাকে মানায় না ৷
এমন সময় একটি পাখি তার ঠোট দ্বারা সমুদ্র থেকে এক বিন্দু পানি উঠাল ৷ খিযির (আ)
বললেন, “আল্লাহর শপথ, আল্লাহ্ তাআলার জ্ঞানের তুলনায় আমার ও আপনার জ্ঞানের
পরিমাণ হচ্ছে সমুদ্র থেকে উঠানাে পাখির ঠোটের এ পানির বিন্দুর মত ৷ যখন র্তার৷ উভয়ে
নৌকায় আরোহণ করলেন তখন র্তারা দেখলেন, ছোট ছোট ফেরী নৌকা ৷রয়েছে, যেগুলো
সােকদেরকে নদী পারাপার করে ৷৩ তারা খিযির (আ)-কে চিনতে পেরে বলে উঠল৪ “ইনি তো
আল্লাহ্র পুণ্যবান বান্দ৷ ৷ ” বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সাঈদ (রা)-কে জিজ্ঞ সা করলাম : তিনি
কি খিযির (আ) ? তিনি বললেন হীা’ ৷ তারা আরো বলল, তার কাছ থেকে আমরা ভাড়া গ্রহণ
করব না ৷ খিযির (আ) নৌকাটিকে ফুটো করে দিলেন এবং এতে একটি পেরেক ঠুকে দিলেন ৷
মুসা (আ) বললেন, “আপনি কি আরোহীদেরকে ডুবিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে ফুটো করে দিলেন ?
আপনি তো একটা গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন ৷”
মুজাহিদ (র) বলেন, আয়াতে উল্লেখিত মেং ৷ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ,£ৰু অর্থাৎ অন্যায়
কাজ ৷ খিযির (আ) বললেন, “আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতে ই ধৈয ধারণ
{لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا} [الكهف: 62] قَالَ: " وَقَدْ قَطَعَ اللَّهُ عَنْكَ النَّصَبَ " لَيْسَتْ هَذِهِ عَنْ سَعِيدٍ، " أَخْبَرَهُ فَرَجَعَا، فَوَجَدَا خَضِرًا، قَالَ لِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ: " عَلَى طِنْفِسَةٍ خَضْرَاءَ، عَلَى كَبِدِ الْبَحْرِ ". قَالَ سَعِيدٌ: " مُسَجًّى بِثَوْبِهِ، قَدْ جَعَلَ طَرَفَهُ تَحْتَ رِجْلَيْهِ، وَطَرَفَهُ تَحْتَ رَأْسِهِ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ مُوسَى، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ، وَقَالَ: هَلْ بِأَرْضٍ مِنْ سَلَامٍ؟ مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا مُوسَى. قَالَ: مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَمَا شَأْنُكَ؟ قَالَ: جِئْتُكَ لِ " تُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا " قَالَ: أَمَا يَكْفِيكَ أَنَّ التَّوْرَاةَ بِيَدَيْكَ وَأَنَّ الْوَحْيَ يَأْتِيكَ؟ يَا مُوسَى، إِنَّ لِي عِلْمًا لَا يَنْبَغِي لَكَ أَنْ تَعْلَمَهُ، وَإِنَّ لَكَ عِلْمًا لَا يَنْبَغِي لِي أَنْ أَعْلَمَهُ، فَأَخَذَ طَائِرٌ بِمِنْقَارِهِ مِنَ الْبَحْرِ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا عِلْمِي وَعِلْمُكَ فِي جَنْبِ عِلْمِ اللَّهِ، إِلَّا كَمَا أَخَذَ هَذَا الطَّائِرُ بِمِنْقَارِهِ مِنَ الْبَحْرِ، حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ وَجَدَا مَعَابِرَ صِغَارًا، تَحْمِلُ أَهْلَ هَذَا السَّاحِلِ إِلَى أَهْلِ هَذَا السَّاحِلِ الْآخَرِ، عَرَفُوهُ فَقَالُوا: عَبْدُ اللَّهِ الصَّالِحُ؟ " قَالَ: فَقُلْنَا لِسَعِيدٍ: خَضِرٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. " لَا نَحْمِلُهُ بِأَجْرٍ فَخَرَقَهَا وَوَتَّدَ فِيهَا وَتِدًا " قَالَ " مُوسَى: {أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا} [الكهف: 71]- قَالَ مُجَاهِدٌ: مُنْكَرًا - {قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا} [الكهف: 72] كَانَتِ الْأُولَى، نِسْيَانًا، وَالْوُسْطَى شَرْطًا، وَالثَّالِثَةُ عَمْدًا {قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا - فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ} [الكهف: 73 - 74] قَالَ يَعْلَى: قَالَ سَعِيدٌ: وَجَدَ غِلْمَانًا يَلْعَبُونَ، فَأَخَذَ غُلَامًا كَافِرًا ظَرِيفًا، فَأَضْجَعَهُ ثُمَّ ذَبَحَهُ بِالسِّكِّينِ
পৃষ্ঠা - ৬৯১
قَالَ {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ} [الكهف: 74] لَمْ تَعْمَلْ بِالْخَبَثِ ". ابْنُ عَبَّاسٍ قَرَأَهَا: (زَكِيَّةً زَاكِيَةً مُسْلِمَةً) . كَقَوْلِكَ: غُلَامًا زَكِيًّا. فَانْطَلَقَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ " قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا وَرَفَعَ يَدَهُ فَاسْتَقَامَ. قَالَ يَعْلَى: حَسِبْتُ أَنَّ سَعِيدًا قَالَ: " فَمَسَحَهُ بِيَدِهِ فَاسْتَقَامَ {قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا} [الكهف: 77] قَالَ سَعِيدٌ: أَجْرًا نَأْكُلُهُ وَكَانَ وَرَاءَهُمْ (وَكَانَ أَمَامَهُمْ) قَرَأَهَا ابْنُ عَبَّاسٍ. أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَزْعُمُونَ عَنْ غَيْرِ سَعِيدٍ أَنَّهُ هُدَدُ بْنُ بُدَدَ وَالْغُلَامُ الْمَقْتُولُ يَزْعُمُونَ: جَيْسُورُ. {مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا} [الكهف: 79] فَإِذَا هِيَ مَرَّتْ بِهِ يَدَعُهَا بِعَيْبِهَا فَإِذَا جَاوَزُوا أَصْلَحُوهَا فَانْتَفَعُوا بِهَا. مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: سَدُّوهَا بِقَارُورَةٍ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: بِالْقَارِ. {فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ} [الكهف: 80] وَكَانَ كَافِرًا {فَخَشِينَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا} [الكهف: 80] أَيْ; يَحْمِلَهُمَا حُبُّهُ عَلَى أَنْ يُتَابِعَاهُ عَلَى دِينِهِ {فَأَرَدْنَا أَنْ يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا} [الكهف: 81] لِقَوْلِهِ: {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً} [الكهف: 74] " وَأَقْرَبَ رُحْمًا " هُمَا بِهِ أَرْحَمُ مِنْهَا بِالْأَوَّلِ، الَّذِي قَتَلَ خَضِرٌ. وَزَعَمَ غَيْرُ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُمَا أُبْدِلَا جَارِيَةً، وَأَمَّا دَاوُدُ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ فَقَالَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ: إِنَّهَا جَارِيَةٌ.
পৃষ্ঠা - ৬৯২
করে থাকতে পারবেন না?” প্রথম প্রশ্নটি ছিল তুলক্রমে, দ্বিতীয়টি ছিল শর্ত হিসেবে আর
তৃতীয়টি ছিল ইচ্ছাকৃত ৷ মুসা (আ) বললেন, “আমার ভুলের জন্যে আমাকে অপরাধী
ঠাওরাবেন না ও আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না ৷ ’ তারপর উভয়ে
চলতে লাগলেন, চলতে চলতে তাদের সাথে এক বালকের সাক্ষাত হলে তিনি তাকে হত্যা
করলেন ৷ বর্ণনাকারী ইয়াল৷ (র) বলেন, সাঈদ (রা) বলেছেন, তিনি অনেকগুলো ছেলেকে
থেলারত অবস্থায় পেলেন, তাদের মধ্য থেকে তিনি একটি চটপটে কাফির বালককে গোয়ালেন
এবং ছুরি দ্বারা যবেহ্ করে ফেললেন ৷ মুসা (আ) বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ জীবন নাশ
করলেন, যে এখনও কোন নােৎরা কাজ করেনি !” ইবন আব্বাস (রা) আয়াতে উল্লেখিত র্দুশুএৰু
এিব্লু১-কে — ও;প্রুাশু ধ্ন্দ্বুা১ ৷ব্লু পাঠ করেছেন অর্থাৎ নিম্পাপ ও মুসলিম পবিত্রাত্মা
বালক ৷ অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলেন এবং তারা একটি পতনােন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন ৷
তিনি এটাকে সুদৃঢ় করে দিলেন ৷ বর্ণনাকারী হাত উঠিয়ে বলেন খিযির (আ) এভাবে হাত
উঠালেন এবং এতে প্রাচীরটি ঠিক হয়ে গেল ৷ বর্ণনাকারী ইয়ালা ৷বলেন, আমার ধারণা সাঈদ
(র) বলেছেন, “খিযির (আ ) প্রাচীরটিকে আপন হাত দ্বারা পর্শকরলেন ৷ অমনিন্ব তই এটা সুদৃঢ়
হয়ে গেল ৷ মুসা (আ ) বললেন, আপনি তো ইচ্ছা করলে এটার জন্যে পাবিশ্রমিক গ্রহণ করতে
পারতেন, যা আমরা খেতে পারতাম ৷ আয়াতে উল্লেখিত : ন্ছুর্চু৷ ৷দ্বুদ্বু :,($; (তাদের পেছনে)
ণ্ক ইবন আব্বাস (বা) ণ্প্রুা (তাদের সামনে) পড়েছেন ৷ সাঈদ (র) ব্যতীত অন্য
মুফাসসিরগণ বলেন, উল্লেখিত বাদশার নাম ছিল : (১শু ;প্রু াএে ) (হাদাদ ইবন বাদাদ ) ৷
আর নিহত কিশোরটির নাম ছিল জায়সুর ৷
বাদশা’র সামনে দিয়ে যখন কোন খুত বিশিষ্ট নৌকা অতিক্রম করত তখন সে এটাকে
খুতের কারণে ছেড়ে দিত এবং তারপর এ স্থান অতিক্রম করার পর মালিকের খুত সারিয়ে নিয়ে
নৌকাকে কাজে লাগতে ৷ তাফসীরকারদের কেউ কেউ বলেন, নৌকার ছিদ্রটি বন্ধ করা
হয়েছিল র্কাচের দ্বারা ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, আলকাতর৷ দিয়ে ৷ কিশোরটির পিতামাতা
ছিলেন মুমিন বান্দা কিন্তু কিশোরটি নিজে ছিল কাফির ৷ খিযির (আ) বলেন, তাই আমি আশঙ্কা
করেছিলাম যে, তার প্রতি বাৎসল্যের কারণে পিতামাতা তার ধর্মের অনুসারী হয়ে পড়বেন ৷
এজন্যেই আমি চেয়েছিলাম যে, তাদেরকে প্রতিপালক যেন ওর পরিবর্তে এমন এক সন্তান দান
করেন, যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভ লবাসায ঘনিষ্ঠতর ৷ সাঈদ ইবন জুবায়র (ব ) এর
ধারণা, সম্ভানটি ছিল বালক, যেয়ে নয় ৷ দ উদ ইবন আবুআসিম (র) অসং খ্য তাফসীরকারের
থেকে বনাি করেন যে সম্ভানটি ছিল বালিকা ৷
আবদুর রাজ্জাক (র) আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (বা) সুত্রে এবং মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (র)
উবাই ইবন কাব সুত্রে অন্যরুপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷
ইমাম যুহরী (র) আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ একদিন তিনি ও হুর
ইবন কায়স ইবন হাসন ফারাবী মুসা (আ)-এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্কে রত ছিলেন ৷ ইবন
আব্বাস (রা) বলেন, তিনি ছিলেন খিযির (আ) ৷’ এমন সময় উবাই ইবন কাব (বা) তাদের
কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন ৷ ইবন আব্বাস (বা) ভীকে ডাকলেন এবং বললেন, আমি ও
আমার এই সঙ্গী মুসা (আ)-এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি, ইা৷র সাথে সাক্ষাত করার
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৪
وَقَدْ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: خَطَبَ مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَقَالَ: مَا أَحَدٌ أَعْلَمُ بِاللَّهِ وَبِأَمْرِهِ مِنِّي. فَأُمِرَ أَنْ يَلْقَى هَذَا الرَّجُلَ. فَذَكَرَ نَحْوَ مَا تَقَدَّمَ.
وَهَكَذَا رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَنَحْوِ مَا تَقَدَّمَ أَيْضًا، وَرَوَاهُ الْعَوْفِيُّ عَنْهُ مَوْقُوفًا.
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ تَمَارَى هُوَ وَالْحُرُّ بْنُ قَيْسِ بْنِ حِصْنٍ الْفَزَارِيُّ، فِي صَاحِبِ مُوسَى، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هُوَ خَضِرٌ. فَمَرَّ بِهِمَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، فَدَعَاهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: إِنِّي تَمَارَيْتُ أَنَا وَصَاحِبِي هَذَا فِي صَاحِبِ مُوسَى الَّذِي سَأَلَ السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ، فَهَلْ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ فِيهِ شَيْئًا؟ قَالَ: نَعَمْ. وَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَقَدْ تَقَصَّيْنَا طُرُقَ هَذَا الْحَدِيثِ، وَأَلْفَاظَهُ فِي تَفْسِيرِ سُورَةِ الْكَهْفِ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ.
وَقَوْلُهُ: {وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 82]
পৃষ্ঠা - ৬৯৩
জন্যে মুসা (আ) আল্লাহ তাআলার নিকট পথের সন্ধান চেয়েছিলেন ৷ আপনি কি এ সম্পর্কে
রাসুলুল্লাহ (না) থেকে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যা ৷ এরপর হাদীসের বাকি অংশটুকু
বর্ণনা করেন ৷ হাদীসের বিস্তারিত বর্ণনা বিভিন্ন সনদ সহকারে সুরায়ে কাহাফের তাফসীরে আমি
বর্ণনা করেছি ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর ৷
আয়াতাৎশ এ্যার্বৃর্ন্তৰু ; এ ;শুঙ্কেদ্বু এ উল্লেখিত ইয়ার্তীমদের সম্পর্কে সুহায়লী (র)
বলেন, ত ৷র৷ ছিল ক ৷শিহ-এর দুই ছেলে আসরাম ও সুরাইম ৷ আয়াতে উল্লেখিত কানৃয ( ড্রুাহ্র )
ছিল অর্থ স্বর্ণ ৷ এটা ইকরিমা (র)-এর অভিমত ৷ আবার আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (বা) বলেন,
(ড্রুদ্বু)-এর অর্থ হচ্ছে জ্ঞান ৷ অধিক গ্রহণীয় অভিমত অনুসারে এটার অর্থ হচ্ছে, জ্ঞানের বাণী
সম্বলিত একটি স্বর্ণের পাত ৷ বায্যার (র) আবুযর (রা)-এর সুত্রে একটি মারফু হাদীস বর্ণনা
করেন এবং বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা র্তার কিভাবে যে গ্লুদুহ্র-এর কথা
উল্লেখ করেছেন তা ছিল একটি নিরেট সোনার পাত ৷
তাতে লিখা ছিল :
মোঃ এে স্শ্রো ষ্হ্ন১
ণ্এে ৷ ১৷ ৷ ধ্৷ ৷ ১৷ ধ্া১; এ্হ্র ;ন্প্রুপু ৷ ,হ্র১ ;,৷ <; ণ্ন্প্রু
অর্থাৎ “তকদীরে বিশ্বাসী লোক কী করে ব্যতিব্যস্ত হয়, সে জন্যে বিস্মিত হই, দোযখের
কথা মনে য়েখেও যে ব্যক্তি হাসতে পারে তার জন্যে আ ৷মি বিস্ময় বোধ করি; যে ব্যক্তি মৃত্যুর
কথা স্মরণে রেখেও লা ইলাহ৷ ইল্লা ৷ল্লাহ্ থেকে পাফিল থাকে, তর জন্য বিস্মিত রোধ করি ৷
অনুরুপভা বে হাসান বসরী (র) ও জাফর সাদেক (র) থেকে অনুরুপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷
আয়াতে উল্লেখিত এে ঞ্জীষ্টু বলতে কারো কারো সপ্তম পুব-পুরুষের, আবার কারো কারো
মতে দশম পুর্ব পুরুষের কথা বলা হয়েছে ৷ য ই হোক, এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহ
পুণ বোন লোকের রং শধরদের হেফাজত করে থাকেন ৷
আয়াতাৎশ এব্লু দ্বু ১শুর্চুইৰ্শুহুঠু এর দ্বারা বোঝা যায় যে, খিযির (আ) নবী ছিলেন ৷ তিনি
নিজের থেকে কিছুই করেননি ৷ বরং যা করেছেন তার প্রতিপালকের নির্দোশই করেছেন ৷
সুতরাং তিনি নবী ছিলেন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি একজন রাসুল ছিলেন ৷ আবার
কেউ কেউ বলেন, ’তিনি একজন ওলী ছিলেন ৷ ’ একটি বিরল মতে, তিনি একজন ফেরেশতা
ছিলেন ৷’ এর চাইতে আশ্চর্যজনক কথা হচ্ছে যে, কেউ কেউ বলেন, তিনি ফিরআউনের পুত্র
ছিলেন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি ছিলেন যাহ্হাকের পুত্র যিনি হাজার বছর ধরে গোটা
পৃথিবীতে রাজতু করে গেছেন ৷ ’
ইবন জ বীর তাবারী (র) বলেন, কিতাবীদের অধিকাং শের অভিমত হচ্ছে, তিনি ছিলেন
আফরীদুনের যুগের লোক ৷ আরো কথিত আছে যে, তিনি ছিলেন সুপ্রসিদ্ধ যুল-কারনায়নের
অগ্রগামী বাহিনীর সেনাপতি ৷ আর এ যুলকুরনায়নকেই কেউ কেউ আফরীদুন ও যুল ফারাস
বলে অভিহিত করেছেন ৷ তিনি ছিলেন, ইব্রাহীম খলীল (আ)-এর যুগের লোক ৷ কিতাবীরা
আরো মনে করেন যে, “তিনি আবে-হায়াত’ পান করে অমর হয়ে গেছেন এবং আজও তিনি
قَالَ السُّهَيْلِيُّ: وَهُمَا أَصْرَمُ وَصَرِيمُ، ابْنَا كَاشِحَ. وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا قِيلَ: كَانَ ذَهَبًا. قَالَهُ عِكْرِمَةُ، وَقِيلَ: عِلْمًا. قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَالْأَشْبَهُ أَنَّهُ كَانَ لَوْحًا مِنْ ذَهَبٍ، مَكْتُوبًا فِيهِ عِلْمٌ.
قَالَ الْبَزَّارُ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْيَحْصُبِيُّ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ الْغَسَّانِيِّ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، رَفَعَهُ قَالَ: «إِنَّ الْكَنْزَ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ لَوْحٌ مِنْ ذَهَبٍ مُصْمَتٍ: عَجِبْتُ لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْقَدَرِ كَيْفَ نَصِبَ، وَعَجِبْتُ لِمَنْ ذَكَرَ النَّارَ ثُمَّ ضَحِكَ، وَعَجِبْتُ لِمَنْ ذَكَرَ الْمَوْتَ ثُمَّ غَفَلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ.» وَهَكَذَا رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، وَعُمَرَ مَوْلَى غُفْرَةَ، وَجَعْفَرٍ الصَّادِقِ، نَحْوُ هَذَا. وَقَوْلُهُ: {وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا} [الكهف: 82] وَقَدْ قِيلَ: إِنَّهُ كَانَ الْأَبَ السَّابِعَ، وَقِيلَ: الْعَاشِرَ. وَعَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ، فِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّ الرَّجُلَ الصَّالِحَ يُحْفَظُ فِي ذُرِّيَّتِهِ، فَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ.
وَقَوْلُهُ رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ كَانَ نَبِيًّا، وَأَنَّهُ مَا فَعَلَ شَيْئًا مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِهِ، بَلْ بِأَمْرِ رَبِّهِ، فَهُوَ نَبِيٌّ وَقِيلَ: رَسُولٌ. وَقِيلَ: وَلِيٌّ. وَأَغْرَبُ
পৃষ্ঠা - ৬৯৪
জীবিত আছেন ৷ ” কেউ কেউ বলেন, ইবরাহীম (আ)-এর প্রতি যারা ঈমান আনয়ন করেছিলেন
এবং রাবুবল শহর থেকে ইবরাহীম (আ) এর সাথে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদের কারোর
সন্তান ছিলেন ৷ ’ আবার কেউ কেউ ববুলন, তার নাম ছিল মাল্কান ৷ ’ কেউ কেউ বলেন, তার
নাম ছিল, আরমিয়া ইবন খাল্কিয়৷ ৷ ’ কেউ কেউ বলেন, লাহরাসিবুবর পুত্র সাবাসিবের আমবুল
তিনি একজন নবী ছিলেন ৷ ’ ইবন জারীর (র) বলেন, আফরীদুন ও সাবাসিবের মধ্যে
যুগ-য়ুগান্তবুরর ফারাক ছিল যা সম্পর্কে বংশ বৃত্তান্তের পারদশীবুদর কেউ অনবহিত থাকতে পারে
না ৷
ইবন জারীর (র) বলেন, বিশুদ্ধ অভিমত হল যে, তিনি আফরীদুনের যুগের লোক, যিনি
মুসা (আ)-এর যুগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৷ মুসা (আ)-এর নবুওবুতর কাল ছিল মনুবুচবুহবুরর
আমল ৷ আর মনুবুচবুহর ছিলেন পারস্য সম্রাট আফরীদুনের পৌত্র এবং আবরাজের পুত্র ৷
পিতামহ আফরীদুনের পর যুবরাজ মনুবুচবুহর সম্রাট হন ৷ তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ৷ তিনিই
প্রথম পরিখ৷ খনন করেছিলেন এবং তিনিই প্রথম প্রবুত্যক গ্রামে সর্দার নিযুক্ত করেছিলেন ৷ তার
রাজতুকাল প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বিন্তুত ছিল ৷ কথিত আছে যে, তিনি ছিলেন ইসহাক ইবন
ইবরাহীমের অধ৪স্তন বংশধর ৷ ত ৷র বহু বাগিাতাপুর্ণ সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা ও উক্তির উল্লেখ পা ওয়া
যায়, যা শ্রোতৃবর্গকে বিস্ময়াভিভু৩ করে ৷ আর এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি ইবরাহীম খলীল
(আ) এর অধ৪স্তন বংশধর ছিলেন ৷ আল্লাহ্ই সর্বাধিক জ্ঞাত ৷
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন ং
া
ষ্
১!র্চু
(é
এে এক্ট্রদ্বু;হ্দ্বু
স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তা আল৷ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, বুতামাবুদরবুক কিতাব
ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি আর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থকরুপে, যখন একজন
রাসুল আসবে তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং৩ তাকে সাহায্য করবুব ৷ তিনি
বললেন, তোমরা কি স্বীকা ৷র করবুলঃ (সুরা আল ইমরানঘ্র ৮১)
অন্য কথায়, আল্লাহ্ তা জানা প্রবুত্যক নবী থেকে অঙ্গীক৷ ৷র নিয়েছেন যে, তিনি ত ৷র পরে
আগত নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন ও তাকে সাহায্য করবুবন ৷ যদি রাসুলুল্লাহ (সা) এর
যমানায় খিযির (আ) জীবিত থাকবুতন, ৩াহবুল রসুলুল্লাহ (সা) এর আনুগত্য স্বীকার, তার
সাথে মিলিত হওয়া ও তার সাহায্য করা ব্যতীত খিযির (আ) এর কোন পতাম্ভর থাকত না ৷
তিনি অবশ্যই ঐসব লোকের অন্তর্ভুক্ত হবুতন যারা বদবুরর দিন রসুলুল্লাহ (সা ) এর পতাকাতবুল
সমবুবত হয়েছিলেন ৷ যেমনটি জিবরাঈল (আ) ও ফেবুরশত ৷বুদর সর্দড়ারগণ হয়েছিলেন ৷ কিত্রা
তিনি রাসুল ছিলেন-যা কেউ কেউ বলেছেন; অথবা তিনি বুফবুরশত৷ ছিলেন-যেমনি কেউ
কেউ উল্লেখ কবুরবুছন ৷ খিযির (আ) নবী ছিবুলন এবং এটিই সঠিক অভিমত ৷ তিনি যাই হয়ে
থাকুন না কেন, জিবরাঈল (আ) হবুচ্ছন ফেরেশতাবুদর সর্দার এবং মুসা (আ) মর্যাদার খিযির
রসুলুল্লাহ (সা) এর প্রতি ঈমান আনা ও তার সাহায্য করা তবে জন্যেও অপরিহার্য হত ৷
مِنْ هَذَا مَنْ قَالَ: كَانَ مَلَكًا. قُلْتُ: وَقَدْ أَغْرَبَ جِدًّا مَنْ قَالَ: هُوَ ابْنُ فِرْعَوْنَ. وَقِيلَ: إِنَّهُ ابْنُ ضَحَّاكٍ الَّذِي مَلَكَ الدُّنْيَا أَلْفَ سَنَةٍ. قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ وَالَّذِي عَلَيْهِ جُمْهُورُ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَنَّهُ كَانَ فِي زَمَنِ أَفْرِيدُونَ. وَيُقَالُ: إِنَّهُ كَانَ عَلَى مُقَدَّمَةِ ذِي الْقَرْنَيْنِ الَّذِي قِيلَ: إِنَّهُ كَانَ أَفْرِيدُونَ، وَذُو الْفَرَسِ هُوَ الَّذِي كَانَ فِي زَمَنِ الْخَلِيلِ. وَزَعَمُوا أَنَّهُ شَرِبَ مِنْ مَاءِ الْحَيَاةِ، فَخَلَدَ، وَهُوَ بَاقٍ إِلَى الْآنَ. وَقِيلَ: إِنَّهُ مِنْ وَلَدِ بَعْضِ مَنْ آمَنَ بِإِبْرَاهِيمَ وَهَاجَرَ مَعَهُ مِنْ أَرْضِ بَابِلَ. وَقِيلَ: اسْمُهُ مَلْكَانُ. وَقِيلَ: إِرْمِيَا بْنُ حَلْقِيَا. وَقِيلَ: كَانَ نَبِيًّا فِي زَمَنِ سَبَاسِبَ بْنِ لَهْرَاسِبَ. قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: وَقَدْ كَانَ بَيْنَ أَفْرِيدُونَ وَبَيْنَ سَبَاسِبَ دُهُورٌ طَوِيلَةٌ، لَا يَجْهَلُهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْأَنْسَابِ. قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ، وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ كَانَ فِي زَمَنِ أَفْرِيدُونَ، وَاسْتَمَرَّ حَيًّا إِلَى أَنْ أَدْرَكَهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَكَانَتْ نُبُوَّةُ مُوسَى فِي زَمَنِ مَنُوشِهْرَ، الَّذِي هُوَ مِنْ وَلَدِ إِيرَجَ بْنِ أَفْرِيدُونَ، أَحَدِ مُلُوكِ الْفُرْسِ وَكَانَ إِلَيْهِ الْمُلْكُ بَعْدَ جَدِّهِ أَفْرِيدُونَ لِعَهْدِهِ، وَكَانَ عَادِلًا، وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ خَنْدَقَ الْخَنَادِقَ، وَأَوَّلُ مَنْ جَعَلَ فِي كُلِّ قَرْيَةٍ دِهْقَانًا، وَكَانَتْ مُدَّةُ مُلْكِهِ قَرِيبًا مِنْ مِائَةٍ وَخَمْسِينَ سَنَةً. وَيُقَالُ: إِنَّهُ كَانَ مِنْ سُلَالَةِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ. وَقَدْ ذُكِرَ عَنْهُ مِنَ الْخُطَبِ الْحِسَانِ، وَالْكَلِمِ الْبَلِيغِ النَّافِعِ الْفَصِيحِ، مَا يُبْهِرُ الْعَقْلَ، وَيُحَيِّرُ السَّامِعَ، وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ مِنْ سُلَالَةِ الْخَلِيلِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
পৃষ্ঠা - ৬৯৫
এমতাবস্থায় খিযির (আ) যদি ওলীই হয়ে থাকেন যেমনি অনেকেই মনে করে থাকেন ৷ তবে
তার উম্মতভুক্ত হওয়াট৷ অধিকতর যুক্তিযুক্ত হতে তা ৷ কিন্তু কোন হাসান পর্যায়ের কিৎবা
নির্ত্যায়োগ্য দুর্বল হাদীসেও পাওয়া যায় না যে,৩ তিনি একদিনও রসুলুল্লাহ (সা )-এর দরবারে
হাবিব হয়েছিলেন কিৎব৷ তার সাথে মিলিত হয়েছিলেন ৷ এ সম্পর্কে হাকীম (র) কর্তৃক যে
ণ্শাকবাণী সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত রয়েছে, তার সুত্র খুবই দুর্বল ৷ পরবর্তীতে খিযির (আ) সম্বন্ধে
স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা হবে ৷
মুসা (আ)এর কাহিনী সম্বলিত পরীক্ষার হাদীস
ইমাম আবু আবদুর রহমান নাসাঈ (র)৩ তার সুনানের’ কিতাবুত তাফসীরে কুরআন
মজীদের সুরায়ে তা-হার ৪০ নং আয়াতেব তাফসীরে দুপ্রুাপু ৷ ন্ ৰুা বা ৷৷পরীক্ষর হাদীস
বর্ণনা করেন ৷
আয়াতটি হচ্ছে : —
“আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে দৃশ্চিস্তা হতে মুক্তি
নেই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি ৷ আর সে হাদীসটি হচ্ছে নিম্নরুপ :
আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র) হতে বর্ণিত ৷ তিনি সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) থেকে বর্ণনা
করেন, তিনি একদিন আয়াতাৎশ ১প্রুব্র এা; ষ্গ্লু-এর তাফসীর প্রসঙ্গেংইবন আব্বাস
(রা) কে প্রশ্ন করলেন, ফুতুন’ কি? আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) বললেন , হে ইবন জুবায়র !
দিন ফুরিয়ে আসছে ()প্রুড়ুদ্বু সম্বন্ধে একটি সুদীর্ঘ হাদীস রয়েছে ৷ বর্ণনাকারী বললেন, পরদিন
সকালে সে প্রতিশ্রুত ফুতুন সং ×ক্রান্ত হাদীসটি শোনার জন্যে আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস
(রা ) এর কাছে গেলাম ৷ তিনি বললেন : ইবরাহীম (আ) এর বংশে আল্লাহ তা আলা যে নবীগণ
ও রাজ-রাজড়ার উদ্ভব ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে ফিরআউন ও তার
পরামর্শদাতা ৷রা আলোচনায় বসে ৷৩ তাদের কেউ কেউ বলল, বনী ইসরাঈলরা এটা সম্বন্ধে কোন
সন্দেহ পোষণ করে না ৷ তাই তারা এটার জন্যে অপেক্ষা করছে ৷ তারা ধারণা করেছিল যে,
ইউসুফ ইবন ইয়াকুব (আ) সেই প্রতিশ্রুত নবী ৷ কিন্তু যখন তিনি ইনতিকাল করলেন, তখন
তারা বলল, ইব্রাহীম (আ)-কে এরুপ ওয়াদা দেয়৷ হয়নি ৷
ফিরআউন বলল, তোমাদের অভিমত কি? অতঃপর তারা পরামর্শ করল এবং এ কথার
উপর একমত হল যে, ফিরআউন কিছু সংখ্যক লোককে বড় বড় ছুরিসহ পাঠাবে ৷৩ তারা বনী
ইসরাঈলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে যখনই কে ৷ন ছেলে সন্তান পাবে, তখনই তাকে হত্যা করবে ৷ তারা
কিছুদিন য়াবত এরুপ করল ৷ অতঃপর যখন তার ৷ দেখল যে, বনী ইসরাঈলের বৃদ্ধরা মৃত্যুর
কারণে এবং ছোটরা হত্যার কারণে নিঃশে ৷ষ হয়ে যাচ্ছে, তখন তার ৷বলাবলি করতে লাগল যে,
এভাবে বনী ইসরাঈলরা ধ্বংস হয়ে গেলে যে সব দৈহিক শ্রম ও সেবার কাজ তারা করত তা
ভবিষ্যতে কিবভীদেরকে করতে হবে, তাই তারা পুনরায় স্থির করল যে, এক বছর প্রতিটি ছেলে
সন্তান হত্যা করা হবে এবং পরের বছর তাদের কাউকে হত্যা করা হবে না ৷ নবজাতকগুলো
বড় হয়ে বৃদ্ধদের মধ্যে বাবা মারা যাবে তাদের স্থান পুরণ করবে ৷ আর বৃদ্ধরা সংখ্যায় যাদের
وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَءَأَقْرَرْتُمْ} [آل عمران: 81] .
فَأَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ كُلِّ نَبِيٍّ عَلَى أَنْ يُؤْمِنَ بِمَنْ يَجِيءُ بَعْدَهُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ، وَيَنْصُرُهُ، فَلَوْ كَانَ الْخَضِرُ حَيًّا فِي زَمَانِهِ، لَمَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعُهُ، وَالِاجْتِمَاعُ بِهِ، وَالْقِيَامُ بِنَصْرِهِ، وَلَكَانَ مِنْ جُمْلَةِ مَنْ تَحْتَ لِوَائِهِ يَوْمَ بَدْرٍ، كَمَا كَانَ تَحْتَهَا جِبْرِيلُ وَسَادَاتٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَقُصَارَى الْخَضِرِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَنْ يَكُونَ نَبِيًّا، وَهُوَ الْحَقُّ، أَوْ رَسُولًا، كَمَا قِيلَ، أَوْ مَلَكًا فِيمَا ذُكِرَ، وَأَيًّا مَا كَانَ، فَجِبْرِيلُ رَئِيسُ الْمَلَائِكَةِ، وَمُوسَى أَشْرَفُ مِنَ الْخَضِرِ، وَلَوْ كَانَ حَيًّا لَوَجَبَ عَلَيْهِ الْإِيمَانُ بِمُحَمَّدٍ وَنُصْرَتُهُ، فَكَيْفَ إِنْ كَانَ الْخَضِرُ وَلِيًّا، كَمَا يَقُولُهُ طَوَائِفُ كَثِيرُونَ، فَأَوْلَى أَنْ يَدْخُلَ فِي عُمُومِ الْبَعْثَةِ، وَأَحْرَى.
وَلَمْ يُنْقَلْ فِي حَدِيثٍ حَسَنٍ، بَلْ وَلَا ضَعِيفٍ يُعْتَمَدُ، أَنَّهُ جَاءَ يَوْمًا وَاحِدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَا اجْتَمَعَ بِهِ، وَمَا ذُكِرَ مِنْ حَدِيثِ التَّعْزِيَةِ فِيهِ، وَإِنْ كَانَ الْحَاكِمُ قَدْ رَوَاهُ، فَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَسَنُفْرِدُ لِخَضِرٍ تَرْجَمَةً عَلَى حِدَةٍ بَعْدَ هَذَا.
পৃষ্ঠা - ৬৯৬
জীবিত রাখা হচ্ছে, তাদের চেয়ে অধিক হবে না ৷ মােটকথা, প্রয়োজনীয় কর্মীদের সং থ্যা পুর্বের
মত থাকবে, তাতে হত্যার দ্বারা কোন প্রকার অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে না ৷ সুতরাং এই
সিদ্ধান্তে তারা একমত হল ৷ যে বছর নবজাতকদের হত্যা করা হয়ে না, সে বছরই মুসা
(আ) এর মা হারুন (আ) কে নিয়ে অন্তঃসত্ত্ব৷ হন এবং তিনি নিবিঘ্নে নবজা তক হারুন (আ কে
জন্ম দেন ৷ পরবর্তী বছর৩ তিনি মুস৷ (আ) কে গর্ভে ধারণ করেন ৷৩ তাই তার অম্ভরে ভীতি ও
দুশ্চিন্তার উদ্রেক হল ৷ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, হে ইবন জুবায়র! এটা ছিল ফুতুন বা
পরীক্ষাসমুহের একটি ৷ মাতৃগর্ভে থাকতেই আল্লাহর ইচ্ছায় মুসা (আ)-কে এই পরীক্ষার সম্মুখীন
হতে হয় ৷
আল্লাহ্ তাআলা মুস৷ (আ)-এর মায়ের কাছে ইল্হাম করলেন যে, তুমি ভীত হয়ে না ও
চিম্ভাগ্রস্ত হবে না, আমি তাকে আবার তোমার কাছে ফেরত পাঠাব এবং তাকে রাসুলদের
অন্তর্ভুক্ত করব ৷ আল্লাহ তা আলা তখন তাকে নির্দেশ দিলেন যে, যখন তু৩মি ৷ ৩াকে প্রসব করবে
তখন তাকে একটি সিন্দুকে পুরে নদীতে ভাসিয়ে দেবে ৷ যখন তিনি মুসা (আ ) কে প্রসব করেন
তখন সে মতে কাজ করেন ৷ সন্তান যখন মার কাছ থেকে দুরে সরে গেল, তখন তার কাছে
শয়তান আগমন করল ৷ যা মনে মনে বলতে লাগলেন, হায়! আমার ছেলেকে আমি কী
করলাম ৷ যদি আমার সামনে ছেলেকে যবেহ্ করা হত, আমি তাকে দাফন-কড়াফন করতে
পারতাম ৷ তাহলে ছেলেটিকে সাগরের প্রাণী ও মাছের খাদ্য হিসেবে নদীতে ফেলে দেয়৷ থেকে
আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হতো ৷ পা ৷নির স্রোত ৩সিন্দুকটিকে প্রায় নদীমুখে নিয়ে গেল, যেখান
থেকে ফিরআউনের ত্রীর বাদীরা পানি উঠিয়ে নিয়ে যেতে৷ ৷ যখন তারা সিন্দুকটি দেখতে পেল,
তখন এটাতার৷ উঠিয়ে নিল এবং খুলতে চাইল ৷ তাদের একজন বলল, এটার ভেতরে যদি
কোন সম্পদ থাকে আর আমরা এটা থুলি তাহলে এটাতে আমরা যা পাব ফিরআউনের শ্ৰী তা
বিশ্বাস নাও করতে পারেন ৷ সুতরাং তারা যেরুপ পেলো হুবহু যে অবস্থায় এটাকে
ফিরআউনের ব্রীর কাছে নিয়ে হাযির করল ৷ ফিরআউনের শ্ৰী যখন সিন্দুকটি খুললেন তাতে
একটি নবজা তক শিশুকে দেখতে গেলেন এবং তার অস্তরে শিশুটির প্রতি এক অভুতপুর্ব স্নেহের
উদ্রেক হল ৷ অন্যদিকে মুসা (আ)-এর মা অস্থির হয়ে পড়লেন এবং তার মনে শুধু মুসা
(আ)-এর স্মৃতিই ভাসতে লাগল ৷ জল্লাদেরা যখন এ নবজাতকটির কথা শুনতে পেল তখন তারা
তাকে যবেহ্ করার জন্যে ফিরআউনের ত্রীর কাছে ছবি নিয়ে ছুটে আসল ৷ আবদুল্লাহ ইবন
আব্বাস (রা) বললেন, হে ইবন জুবায়র এটাও ছিল সে ফুতু ন রা পরীক্ষড়াসমুহের অন্যতম ৷
ফিরআউনের শ্রী জল্লাদদের বললেন, ফিরআউন না আসা পর্যন্ত একে ছেড়ে দাও ৷ এই
একটি ছেলের জন্যে বনী ইসরাঈল সং থ্যায় বেড়ে যাবে না ৷ তিনি আসলে আমি তার কাছ
থেকে তাকে চেয়ে নেবো, যদি তিনি তা মঞ্জুর করেন, তাহলে এটা হয়ে তোমাদের একটা
চমৎকার কাজ, আর যদি তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন, তাহলে তোমাদের বিরুদ্ধে আমার
কোন অভিযোগ থাকবে না ৷ তিনি তখন ফিরআউনের কাছে গেলেন এবং বললেন, এই শিশুটি
আমার ও আপনার চোখ জুড়াবে ৷ ফিরআউন বলল, তোমার জন্যে তা হতে পারে , কিন্তু আমার
জন্যে নয়, আমার এটার কো ন প্রয়োজন নেই ৷ বসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন যে পবিত্র সভার
শপথ যার শপথ গ্রহণ করা হয়ে যা কে, যদি ফিরআউন মুসা নবজাত তককে নয়ন প্রীতিকর রুপে
[ذِكْرُ الْحَدِيثِ الْمُلَقَّبِ بِحَدِيثِ الْفُتُونِ الْمُتَضَمِّنِ قِصَّةَ مُوسَى مَبْسُوطَةً مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا]
قَالَ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيُّ، فِي كِتَابِ التَّفْسِيرِ مِنْ سُنَنِهِ، عِنْدَ قَوْلِهِ تَعَالَى فِي سُورَةِ " طه ": {وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا} [طه: 40] .
(حَدِيثُ الْفُتُونِ) : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا أَصْبَغُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى لِمُوسَى: {وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا} [طه: 40] . فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْفُتُونِ: مَا هُوَ؟ فَقَالَ: اسْتَأْنِفِ النَّهَارَ يَا ابْنَ جُبَيْرٍ، فَإِنَّ لَهَا حَدِيثًا طَوِيلًا. فَلَمَّا أَصْبَحْتُ، غَدَوْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ; لِأَنْتَجِزَ مِنْهُ مَا وَعَدَنِي مِنْ حَدِيثِ الْفُتُونِ، فَقَالَ: تَذَاكَرَ فِرْعَوْنُ وَجُلَسَاؤُهُ مَا كَانَ اللَّهُ وَعَدَ إِبْرَاهِيمَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَنْ يَجْعَلَ فِي ذُرِّيَّتِهِ أَنْبِيَاءَ وَمُلُوكًا، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ يَنْتَظِرُونَ ذَلِكَ، مَا يَشُكُّونَ فِيهِ، وَكَانُوا يَظُنُّونَ أَنَّهُ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، فَلَمَّا هَلَكَ قَالُوا: لَيْسَ هَكَذَا كَانَ وَعْدُ إِبْرَاهِيمَ. فَقَالَ فِرْعَوْنُ: فَكَيْفَ تَرَوْنَ؟ فَائْتَمَرُوا، وَأَجْمَعُوا أَمْرَهُمْ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ رِجَالًا مَعَهُمُ الشِّفَارُ، يَطُوفُونَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَلَا يَجِدُونَ مَوْلُودًا ذَكَرًا
পৃষ্ঠা - ৬৯৭
গ্রহণ করে নিত, যেমন৩ার শ্রী সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন তাহলে তাকে আল্লাহ তা ৷আলা
সুপথ প্রদর্শন করতেন যেমন তা ৷র ত্রীকে করেছিলেন কিন্তু সে৩ তা থেকে বঞ্চিত থাকে ৷ সুতরাং
ফিরআউনের ত্রী৩ র আশে পাশের প্রতিটি মহিলার কাছে লোক প্রেরণ করে একজন ধাত্রী
তালাশ করতে লাগলেন ৷ কিভু যে মহিলাই তাকে দুধ পান করাতে আসে কারো স্তন নবজাতক
মুসা গ্রহণ করলেন না ৷ তাতে ফিরআউনের ত্রী আশংকা করতে লাগলেন যে, হয়তো এই
শিশুটি দুধ না থেয়ে মারাই যাবে ৷ তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়লেন ৷
অতঃপর তিনি এ আমার তাকে বাজারে ও লোকালয়ে নিয়ে ৷:যতে নির্দেশ দিলেন যে,
হয়তো এই ধরনের কোন ধাত্রী পাওয়াও যাবে, যার স্তন শিশুটি গ্রহণ করবে ৷ কিন্তু শিশুটি
কারো স্তনই গ্রহণ করলেন ন ৷ অন্যদিকে মুসা জননী ব্যাকুল হয়ে মুসা ৷র বোনকে বললেন তার
পিছনে পিছনে যাও এবং ঘে৷ তো না ও যে, তার কোন সং বাদ পাওয়া যায় কিনা, সে জীবিত আছে
নাকি কোন জীব জন্তু৩ তাকে খেয়ে ফেলেছে ৷ আর এসময় তিনি তার সন্তান সম্পর্কে তার
প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতির কথাটি তুলেই বলেছিলেন ৷ দুর থেকে মুসা ৷ আ) এর বোন৩ার দিকে
লক্ষ্য রাখছিলেন, কিন্তু লোকজন টের পায়নি ৷ মুসার বোন দেখলেন, কোন ধাত্রীই মুসা
(আ)-কে দুধ পান করাতে পারছে না ৷ তখন তিনি অ৩ ন্তে খুশী হয়ে ধাত্রী অনেষণকারীদের
বলতে লাগলেন, আমি তে আমাদের এমন একটি পরিবারের সন্ধান দিতে পারি, বাবা তাকে
স্নেহ-মমতা দিয়ে সুচারুরুপে লালন-পালন করার দায়িত্ব নিতে পারে ৷ তারা সব সময়ই৩ ৷ র
হিতাকাভক্ষী হবে ৷ তারা বলতে লাগল, তুমি কেমন করে জানতে পারলে যে, তারা তার
হিতাকাডফী হবে,৩ তারা কি৩াকে চিহ্ন? এ ব্যাপারে তারা সন্দেহ করতে লাগল ৷ ইবন আব্বাস
(বা) বলেন, হে ইবনে জুবায়ব ! এটাও ছিল সে পরীক্ষা ৷সমুহের একটা৷
মুসার বোন বললেন, তারা তার হিতাকাভফী ও তার প্রতি সদয় ৷ কেননা, তারা সম্রাটের
শ্বশুর পক্ষের সত্তুষ্টি বিধান ও সম্রাটের কাছ থেকে উপকার লাভের আকাক্ষে৷ পোষণ করে ৷ তার
কথায় তারা মুগ্ধ হয়ে মুসার বোনকে তার মায়ের কাছে প্রেরণ করল ৷ তিনি মায়ের কাছে গিয়ে
এ সংবাদ দিলেন ৷ তখন তার মা আসলেন ৷ যখন তিনি তাকে আপন কােলে লে নিলেন,
তখন তিনি মায়ের স্তন চুষতে অ৩ারম্ভ করেন ও তৃপ্তিসহকাবে দুধ পান করেন ৷ তখন একজন
বাদদ তা ফিরআউনের শ্ৰীর কাছে গিয়ে এ সৃসং বাদ দিলেন যে, আমরা আপনার ছেলের
জন্যে ধা ৷ত্রী পেয়েছি ৷ ফিরআউনের ল্লী মা ও শিশুকে ডেকে পাঠান ৷ তারা তার কাছে গিয়ে
পৌছলেন ৷ তিনি যখন৩ার প্রতি শিশুটির আকর্ষণ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি তাকে বললেন,
তুমি এখানে থেকে যাও এবং আমার এই সন্তানকে দুধ পান করাও ৷ কেননা, সে আমার কাছে
অতি প্রিয় ৷ মা বললেন, আমার সন্তানাদি ও বাড়িঘর ছেড়ে আমি এখানে থাকতে পারি না,
তাতে আমার সব কিছু বিনাশ হয়ে যাবে ৷ যদি আপনি ভাল মনে করেন, তাহলে তাকে আমার
কাছে সমর্পণ করতে পারেন, আমি তাকে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে পারি ৷ সে আমার সাথে
থাকবে ৷ তার কল্যাণ সাধনে আমার কোন প্রকার ত্রুটি হবে না ৷ আমি আমার ঘরবাড়ি ও
সন্তানাদি ছেড়ে কোথাও থাকতে পারব না ৷ মুসার যা ঐ মুহুর্তে আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি স্মরণ
করে ফিরআউনের শ্ৰীর নিকট অনড় রইলেন এবং নিশ্চিত থাকলেন যে, আল্লাহ তাআলা
অবশ্যই তার প্রতিশ্রুতি পুরণ করবেন ৷
إِلَّا ذَبَحُوهُ فَفَعَلُوا ذَلِكَ، فَلَمَّا رَأَوْا أَنَّ الْكِبَارَ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ يَمُوتُونَ بِآجَالِهِمْ، وَالصِّغَارَ يُذْبَحُونَ، قَالُوا: تُوشِكُونَ أَنْ تُفْنُوا بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَتَصِيرُوا إِلَى أَنْ تُبَاشِرُوا مِنَ الْأَعْمَالِ وَالْخِدْمَةِ، الَّذِي كَانُوا يَكْفُونَكُمْ، فَاقْتُلُوا عَامًا كُلَّ مَوْلُودٍ ذَكَرٍ، فَيَقِلُّ نَبَاتُهُمْ، وَدَعُوا عَامًا فَلَا تَقْتُلُوا مِنْهُمْ أَحَدًا فَيَشِبُّ الصِّغَارُ مَكَانَ مَنْ يَمُوتُ مِنَ الْكِبَارِ، فَإِنَّهُمْ لَنْ يَكْثُرُوا بِمَنْ تَسْتَحْيُونَ مِنْهُمْ، فَتَخَافُوا مُكَاثَرَتَهُمْ إِيَّاكُمْ، وَلَنْ يَفْنَوْا بِمَنْ تَقْتُلُونَ، وَتَحْتَاجُونَ إِلَيْهِمْ. فَأَجْمَعُوا أَمْرَهُمْ عَلَى ذَلِكَ، فَحَمَلَتْ أُمُّ مُوسَى بِهَارُونَ فِي الْعَامِ الَّذِي لَا يُذْبَحُ فِيهِ الْغِلْمَانُ، فَوَلَدَتْهُ عَلَانِيَةً آمِنَةً. فَلَمَّا كَانَ مِنْ قَابِلٍ، حَمَلَتْ بِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَوَقَعَ فِي قَلْبِهَا الْهَمُّ وَالْحُزْنُ - وَذَلِكَ مِنَ الْفُتُونِ يَا ابْنَ جُبَيْرٍ - مَا دَخَلَ عَلَيْهِ فِي بَطْنِ أُمِّهِ مِمَّا يُرَادُ بِهِ ; فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهَا: أَنْ لَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ. فَأَمَرَهَا إِذَا وَلَدَتْ أَنْ تَجْعَلَهُ فِي تَابُوتٍ، وَتُلْقِيَهُ فِي الْيَمِّ، فَلَمَّا وَلَدَتْ فَعَلَتْ ذَلِكَ، فَلَمَّا تَوَارَى عَنْهَا ابْنُهَا، أَتَاهَا الشَّيْطَانُ، فَقَالَتْ فِي نَفْسِهَا: مَا فَعَلْتُ بِابْنِي؟ لَوْ ذُبِحَ عِنْدِي فَوَارَيْتُهُ وَكَفَّنْتُهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُلْقِيَهُ إِلَى دَوَابِّ الْبَحْرِ وَحِيتَانِهِ. فَانْتَهَى الْمَاءُ بِهِ حَتَّى أَوْفَى عِنْدَ فُرْضَةٍ تَسْتَقِي مِنْهَا جَوَارِي امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ، فَلَمَّا رَأَيْنَهُ أَخَذْنَهُ، فَهَمَمْنَ أَنْ يَفْتَحْنَ
পৃষ্ঠা - ৬৯৮
তারপর মুসার মা আপন সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ৷ তখন থেকে আল্লাহ তাআলা মুসা
(আ) কে তার মায়ের তত্ত্বাবধানে অতি উত্তম রুপে লালন-পালন করতে লাগলেন এবং তাকে
ভাগ্য-নির্ধারিত পন্থায় তাকে হিফড়াজত করলেন ৷ ইতিপুর্বে বনী ইসরাঈল যেরুপ উপহাস ও
জুলুমের শিকার হচ্ছিল তা কিছুটা লাঘব হল এবং তারা শহরের এক প্রান্তে বসবাস করতে
লাগল ৷ মুসা (আ) যখন আরো বেড়ে উঠলেন, তখন একদিন ফিরআউনের শ্রী মুসার মাকে
বললেন, “ একদিন আমাকে তুমি আমার ছেলেটি দেখাবে ৷ ” মুসার মা ছেলেকে দেখাবার জন্যে
একটি দিন নির্ধারণ করেন ৷ এদিকে ফিরআউনের শ্রী খাজাধটী যাত্রী ও আমলাদেরকে নির্দেশ
দিলেন প্রত্যেকে যেন উপহারসহ তার পুত্র মুসা (আ)শ্কে সংবর্ধনা জানায় ৷ তিনি অন্য একজন
বিশ্বন্ত কর্মচারীকে পাঠালেন, যাতে তাদের মধ্যে কে কি উপহার দেয় তার হিসাব রাখে ৷
মুসা (আ) মায়ের বাড়ি থেকে বের হবার পর হতে ফিরআউনের শ্রীর কাছে পর্যন্ত আসার
পথে অসংখ্য উপহার ও উপটোকন লাভ করেন ৷ ফিরআউনের শ্রীর কাছে এসে পৌছলে তিনিও
তাকে উপচৌকনাদি প্রদান করলেন এবং অত্যন্ত খুশি হলেন মুসা (আ )-এর মাকেও তার
উত্তম সেবার জন্যে বহু টাকা-পযসা প্রদান করলেন ৷ অতঃপর তিনি বললেন, আমি মুসা
(আ)-কে নিয়ে ফিরআউনের কাছে যাবো, যাতে করে তিনিও তাকে উপচৌকন প্রদান করেন ও
তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন ৷ যখন ফিরআউনের শ্রী মুসা (আ)-কে নিয়ে তার কোলে তুলে দিলেন,
তখন মুসা ফিরআউনের দাড়ি ও মাটির দিকে আকর্ষণ করলেন ৷ তখন ফিরআউনকে আল্লাহর
শত্রু পথভ্রষ্ট পারিষদরা বলল, আপনার কি স্মরণ নেই যে, আল্লাহ তাআলা তার নবী ইবরাহীম
(আ)-কে কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ইবরাহীমের একজন
অধ৪স্তন বংশধর আপনার উত্তরাধিকারী হবেন ৷ তিনি আপনার উপর জয়লাভ করবেন ও
আপনাকে পরাজিত করবেন ৷ সুতরাং আপনি কসাই জল্লাদের নিকট কাউকে প্রেরণ করেন
যাতে তারা এসে তাকে হত্যা করে ফেলে ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, হে ইবন
জ্বরায়র ! এটাও ছিল একটা পরীক্ষা ৷
ফিরআউনের শ্রী একথা শুনে ফিরআউনের কাছে দৌড়ে আসলেন এবং বললেন যে, শিশুটি
আপনি আমাকে দান করেছেন, এর ব্যাপারে আপনার কী হয়েছে? ফিরআউন বলল, তুমি কি
দেখতে পাচ্ছ না যে, এই শিশুটির ধারণা সে আমাকে পরাস্ত করবে ও আমার উপর বিজয়ী
হয়ে ৷ ফিরআউনের শ্রী বললেন, আপনি বরং তাকে পরীক্ষা করুন ৷ চলুন আমরা এমন একটি
কাজ করি যা থেকে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে ৷ দুটি জ্বলন্ত অঙ্গার ও দুটি মুক্তা তার সামনে
রেখে দিন যদি সে মুক্তা দু’টি ধরে এবং জ্বলন্ত অঙ্গার না ধরে, তাহলে বুঝতে হবে যে তার
বোধশক্তি আছে ৷ আর যদি জ্বলম্ভ অঙ্গার দু’টি ধরে এবং মুক্তা না ধরে, তাহলে বুঝতে হবে
তার এখনও বোধোদয় হয়নি ৷ কেননা বোধশক্তি সম্পন্ন কেউ মুক্তার উপর অঙ্গারকে অগ্রাধিকার
দিতে পারে না ৷ সে মতে দু’টি জ্বলম্ভ অঙ্গার ও দুটি মুক্তা তার সামনে রাখা হল ৷ তিনি জুলম্ভ
অঙ্গার ধরলেন ৷ ফিরআউন তার হাত পুড়ে যাবে এ ভয়ে তার হাত থেকে অঙ্গারগুলাে সরিয়ে
নিল ৷ ফিরআউনের শ্রী বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করছেন না?
শিশু মুসা মুক্তা ধরার জন্যে ইচ্ছে করেছিলেন কিন্তু আল্লাহ তাআলা তা থেকে তাকে
ফিরিয়ে রাখলেন ৷ আল্লাহ তাআলা তার সিদ্ধান্ত কার্যকরী করেই থাকেন ৷ মুসা (আ) যখন
التَّابُوتَ، فَقَالَ بَعْضُهُنَّ: إِنَّ فِي هَذَا مَالًا وَإِنَّا إِنْ فَتَحْنَاهُ، لَمْ تُصَدِّقْنَا امْرَأَةُ الْمَلِكِ بِمَا وَجَدْنَا فِيهِ فَحَمَلْنَهُ كَهَيْئَتِهِ لَمْ يُخْرِجْنَ مِنْهُ شَيْئًا حَتَّى دَفَعْنَهُ إِلَيْهَا، فَلَمَّا فَتَحَتْهُ رَأَتْ فِيهِ غُلَامًا، فَأُلْقِيَ عَلَيْهِ مِنْهَا مَحَبَّةٌ، لَمْ تُلْقَ مِنْهَا عَلَى أَحَدٍ قَطُّ، وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا مِنْ ذِكْرِ كُلِّ شَيْءٍ، إِلَّا مِنْ ذِكْرِ مُوسَى، فَلَمَّا سَمِعَ الذَّبَّاحُونَ بِأَمْرِهِ أَقْبَلُوا بِشِفَارِهِمْ إِلَى امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ; لِيَذْبَحُوهُ - وَذَلِكَ مِنَ الْفُتُونِ يَا ابْنَ جُبَيْرٍ - فَقَالَتْ لَهُمْ: أَقِرُّوهُ فَإِنَّ هَذَا الْوَاحِدَ لَا يَزِيدُ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، حَتَّى آتِيَ فِرْعَوْنَ، فَأَسْتَوْهِبَهُ مِنْهُ، فَإِنْ وَهَبَهُ لِي، كُنْتُمْ قَدْ أَحْسَنْتُمْ وَأَجْمَلْتُمْ، وَإِنْ أَمَرَ بِذَبْحِهِ، لَمْ أَلُمْكُمْ. فَأَتَتْ فِرْعَوْنَ فَقَالَتْ: {قُرَّةُ عَيْنٍ لِي وَلَكَ} [القصص: 9] . فَقَالَ فِرْعَوْنُ: يَكُونُ لَكِ، فَأَمَّا لِي، فَلَا حَاجَةَ لِي فِيهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ لَوْ أَقَرَّ فِرْعَوْنُ أَنْ يَكُونَ لَهُ قُرَّةَ عَيْنٍ كَمَا أَقَرَّتِ امْرَأَتُهُ، لَهَدَاهُ اللَّهُ كَمَا هَدَاهَا، وَلَكِنَّ اللَّهَ حَرَمَهُ ذَلِكَ» فَأَرْسَلَتْ إِلَى مَنْ حَوْلَهَا، إِلَى كُلِّ امْرَأَةٍ لَهَا لَبَنٌ، تَخْتَارُ لَهُ ظِئْرًا، فَجَعَلَ كُلَّمَا أَخَذَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ لِتُرْضِعَهُ، لَمْ يُقْبِلْ عَلَى ثَدْيِهَا، حَتَّى أَشْفَقَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ أَنْ يَمْتَنِعَ مِنَ اللَّبَنِ فَيَمُوتَ، فَأَحْزَنَهَا ذَلِكَ فَأَمَرَتْ بِهِ، فَأُخْرِجَ إِلَى السُّوقِ وَمَجْمَعِ النَّاسِ تَرْجُو أَنْ تَجِدَ لَهُ ظِئْرًا تَأْخُذُهُ مِنْهَا، فَلَمْ يَقْبَلْ، وَأَصْبَحَتْ أُمُّ مُوسَى وَالِهًا، فَقَالَتْ لِأُخْتِهِ: قُصِّي أَثَرَهُ وَاطْلُبِيهِ هَلْ تَسْمَعِينَ لَهُ ذِكْرًا؟ أَحَيٌّ ابْنِي أَمْ أَكَلَتْهُ الدَّوَابُّ؟ وَنَسِيَتْ مَا كَانَ اللَّهُ وَعَدَهَا فِيهِ، فَبَصُرَتْ بِهِ أُخْتُهُ عَنْ جُنُبٍ - وَالْجُنُبُ; أَنْ يَسْمُوَ بَصَرُ الْإِنْسَانِ إِلَى شَيْءٍ بَعِيدٍ وَهُوَ إِلَى جَنْبِهِ لَا
পৃষ্ঠা - ৬৯৯
يَشْعُرُ بِهِ فَقَالَتْ مِنَ الْفَرَحِ، حِينَ أَعْيَاهُمُ الظُّؤورَاتُ: أَنَا أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ، وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ. فَأَخَذُوهَا فَقَالُوا: مَا يُدْرِيكِ مَا نُصْحُهُمْ؟ هَلْ تَعْرِفُونَهُ؟ حَتَّى شَكُّوا فِي ذَلِكَ - وَذَلِكَ مِنَ الْفُتُونِ يَا ابْنَ جُبَيْرٍ - فَقَالَتْ: نُصْحُهُمْ لَهُ وَشَفَقَتُهُمْ عَلَيْهِ، رَغْبَتُهُمْ فِي صِهْرِ الْمَلِكِ، وَرَجَاءُ مَنْفَعَةِ الْمَلِكِ. فَأَرْسَلُوهَا، فَانْطَلَقَتْ إِلَى أُمِّهَا، فَأَخْبَرَتْهَا الْخَبَرَ، فَجَاءَتْ أُمُّهُ فَلَمَّا وَضَعَتْهُ فِي حِجْرِهَا نَزَا إِلَى ثَدْيِهَا، فَمَصَّهُ حَتَّى امْتَلَأَ جَنْبَاهُ رِيًّا، وَانْطَلَقَ الْبَشِيرُ إِلَى امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ يُبَشِّرُونَهَا أَنَّ قَدْ وَجَدْنَا لِابْنِكِ ظِئْرًا، فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهَا، فَأَتَتْ بِهَا وَبِهِ. فَلَمَّا رَأَتْ مَا يَصْنَعُ بِهَا، قَالَتِ: امْكُثِي تُرْضِعِي ابْنِي هَذَا; فَإِنِّي لَمْ أُحِبَّ شَيْئًا حُبَّهُ قَطُّ. قَالَتْ أُمُّ مُوسَى: لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَتْرُكَ بَيْتِي وَوَلَدِي فَيَضِيعَ فَإِنْ طَابَتْ نَفْسُكِ أَنْ تُعْطِينِيهِ، فَأَذْهَبَ بِهِ إِلَى بَيْتِي فَيَكُونَ مَعِي لَا آلُوهُ خَيْرًا، فَعَلْتُ، فَإِنِّي غَيْرُ تَارِكَةٍ بَيْتِي وَوَلَدِي.
وَذَكَرَتْ أُمُّ مُوسَى مَا كَانَ اللَّهُ وَعَدَهَا، فَتَعَاسَرَتْ عَلَى امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ، وَأَيْقَنَتْ أَنَّ اللَّهَ مُنْجِزٌ مَوْعُودَهُ، فَرَجَعَتْ إِلَى بَيْتِهَا مِنْ يَوْمِهَا، وَأَنْبَتَهُ اللَّهُ نَبَاتًا حَسَنًا، وَحَفِظَهُ لِمَا قَدْ قَضَى فِيهِ، فَلَمْ يَزَلْ بَنُو إِسْرَائِيلَ، وَهُمْ فِي نَاحِيَةِ الْقَرْيَةِ، مُمْتَنِعِينَ مِنَ السُّخْرَةِ وَالظُّلْمِ مَا كَانَ فِيهِمْ، فَلَمَّا تَرَعْرَعَ، قَالَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ لِأُمِّ مُوسَى: أَرِينِي ابْنِي. فَوَعَدَتْهَا يَوْمًا تُرِيهَا إِيَّاهُ فِيهِ، وَقَالَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ لِخُزَّانِهَا وَظُؤُورِهَا وَقَهَارِمَتِهَا: لَا يَبْقَيَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَّا اسْتَقْبَلَ ابْنِيَ الْيَوْمَ بِهَدِيَّةٍ وَكَرَامَةٍ; لِأَرَى ذَلِكَ فِيهِ، وَأَنَا بَاعِثَةٌ أَمِينًا يُحْصِي كُلَّ مَا يَصْنَعُ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْكُمْ. فَلَمْ تَزَلِ الْهَدَايَا وَالْكَرَامَةُ وَالنِّحَلُ تَسْتَقْبِلُهُ مِنْ حِينَ خَرَجَ مِنْ بَيْتِ
পৃষ্ঠা - ৭০০
যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন ফিরআউন সম্প্রদায়ের কারো পক্ষে বনী ইসরাঈলের প্রতি
কােনরুপ জুলুম বা কটাক্ষ করার উপায় ছিল না ৷ এখন বনী ইসরাঈল পুরোপুরি বিরত থাকে ৷
একদিন মুসা (আ) শহরের এক প্রান্ত দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন, অমনি দেখলেন যে, দুইটি লোক
একে অপরের সাথে ঝগড়া করছে ৷ এদের একজন কিবতী ও অন্য একজন ইসরাঈলী ৷ মুসা
(আ) কে দেখে ইসরাঈলীটি তার কাছে কিবতীর বিরুদ্ধে ফরিয়াদ করল ৷ তাতে মুসা (আ)
অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন ৷ কেননা, কিবতীটি ইসরাঈলীদের মধ্যে মুসা (আ) এর অবস্থান এবং তিনি
ইসরাঈলীদের হিফাজত করে থাকেন তা জানতো ৷ যদিও অন্য কারো তা জানা ছিল না ৷ তখন
মুসা (আ) কিবতীটিকে একটি ঘুষি দিলেন ৷ ফলে সে মারা গেল ৷ ইসরাঈলী ও আল্লাহ ব্যতীত
অন্য ৰুকউপ্লুই হভ্যুার ব্যাট্রুা৷রটি দেখতে পাদ্বুানি ৷ যখন লোকটি মারা :পল, তখন মুসা (আ)
বললেন, ^গ্লে০ ৷;গ্রা
অর্থাৎ-এটা শয়তানের কাণ্ডা সে তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রা ম্ভকারী ৷ (কাসাস : ১৫)
অতঃপর তিনি বলেন০ ং
এএ এত্রৈ
পু র্চু০;হুর্চু (হ্র;াহ্র ধ্র্দুধ্দ্বুএ ৷
সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি৫ তা আমার নিজের প্রতি জুলুম করেছি ৷ সুতরা০
আমাকে ক্ষমা কর ৷ অতঃপর তাকে ক্ষমা করলেন ৷ তিনি৫ তা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷ সে
আরো বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, আমি কখনও
অপরাধীদের সাহায্যকারী হবে৷ না ৷ অতঃপর ভীত সতর্ক অবস্থায় সেই নগরীতে তার প্রভাত
হল ৷ (সুরা ক মাস : ১৬ ১৮)
ফিরআউনের কাছে তার সম্প্রদায় সং বাদ পৌছাল যে, বনী ইসরাঈলর৷ ফিরআউন
সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ৷ হে ফিরআউন ৷ আমাদের জন্য প্ৰতিশোধ গ্রহণ করুন
আমরা তাদেরকে ক্ষমা করব না ৷ ফিরআউন বলল, হত্যাকা ৷রীকে তোমরা খুজে বের করে দাও,
সাক্ষী উপস্থিত করে৷ ৷ কেননা, সম্রাট তার সম্প্রদায়কে ভালবাসলেও বিনা সাক্ষ্য প্রমাণে তাদের
জন্যে ক উকে হত্যা করা তার পক্ষে সমুচিত হবে না ৷ সুতরা০ তাকে ঘোজ করে বের কর;
আমি এর প্রতিশোধ নেব ৷৩ রতা৷ খুজতে লাগল কিন্তু তারা কোন প্রম৷ ৷ণ খুজে গেল না ৷ পরের
দিন মুসা (আ) উক্ত ইসরাঈলীকে দেখতে পেলেন, যে অন্য একজন কিবতীর সাথে ঝগড়া
করছে ৷ মুসা (আ)-কে দেখে সে পুর্বের দিনের মত কিবতীটির বিরুদ্ধে মুসা (আ )-এর কাছে
ফরিয়াদ করল ৷ মুসা (আ) অগ্রসর হলেন ৷ কিন্তু আগের দিন যেই ঘটনা ঘটে গেছে তার জন্য
খুবই লজ্জিত ছিলেন এবং আজকের দৃশ্যও অপছন্দ করতে লাগলেন ৷ এদিকে ইসরাঈলীঢি খুবই
রাগাম্বিত হয়ে কিবভীকে আক্রমণ করতে উদ্বুাত হ্রলশু গতদিনের ও আজকের কাজের জন্য মুসা
(আ) ইসরাঈলীকে লক্ষ্য করে বললেনং : ,£§“ এেগ্লুএ এ ৰু৷ অর্থা ৷ৎ তুমি তো স্পষ্টই একজন
বিভ্রান্ত ব্যক্তি ৷
أُمِّهِ إِلَى أَنَّ دَخَلَ عَلَى امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهَا نَحَلَتْهُ، وَأَكْرَمَتْهُ وَفَرِحَتْ بِهِ، وَنَحَلَتْ أُمَّهُ بِحُسْنِ أَثَرِهَا عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَتْ: لَآتِيَنَّ بِهِ فِرْعَوْنَ، فَلَيَنْحِلَنَّهُ، وَلَيُكْرِمَنَّهُ. فَلَمَّا دَخَلَتْ بِهِ عَلَيْهِ، جَعَلَهُ فِي حِجْرِهِ، فَتَنَاوَلَ مُوسَى لِحْيَةَ فِرْعَوْنَ فَمَدَّهَا إِلَى الْأَرْضِ، فَقَالَ الْغُوَاةُ مِنْ أَعْدَاءِ اللَّهِ لِفِرْعَوْنَ: أَلَا تَرَى مَا وَعَدَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ نَبِيَّهُ، أَنَّهُ زَعَمَ أَنَّهُ يَرُبُّكَ وَيَعْلُوكَ، وَيَصْرَعُكَ؟ فَأَرْسِلْ إِلَى الذَّبَّاحِينَ لِيَذْبَحُوهُ - وَذَلِكَ مِنَ الْفُتُونِ يَا ابْنَ جُبَيْرٍ، بَعْدَ كُلِّ بَلَاءٍ ابْتُلِيَ بِهِ وَأُرِيدَ بِهِ فُتُونًا - فَجَاءَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ تَسْعَى إِلَى فِرْعَوْنَ، فَقَالَتْ: مَا بَدَا لَكَ فِي هَذَا الْغُلَامِ الَّذِي وَهَبَتْهُ لِي؟ فَقَالَ: أَلَا تَرَيْنَهُ يَزْعُمُ أَنَّهُ يَصْرَعُنِي وَيَعْلُونِي؟ فَقَالَتِ: اجْعَلْ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَمْرًا تَعْرِفُ فِيهِ الْحَقَّ; ائْتِ بِجَمْرَتَيْنِ، وَلُؤْلُؤَتَيْنِ، فَقَرِّبْهُنَّ إِلَيْهِ، فَإِنْ بَطَشَ بِاللُّؤْلُؤَتَيْنِ وَاجْتَنَبَ الْجَمْرَتَيْنِ، عَرَفْتَ أَنَّهُ يَعْقِلُ. وَإِنْ تَنَاوَلَ الْجَمْرَتَيْنِ، وَلَمْ يُرِدِ اللُّؤْلُؤَتَيْنِ، عَلِمْتَ أَنَّ أَحَدًا لَا يُؤْثِرُ الْجَمْرَتَيْنِ عَلَى اللُّؤْلُؤَتَيْنِ وَهُوَ يَعْقِلُ. فَقُرِّبَ إِلَيْهِ، فَتَنَاوَلَ الْجَمْرَتَيْنِ، فَانْتَزَعَهُمَا مِنْهُ مَخَافَةَ أَنْ يَحْرِقَا يَدَهُ، فَقَالَتِ الْمَرْأَةُ: أَلَّا تَرَى؟ فَصَرَفَهُ اللَّهُ عَنْهُ، بَعْدَ مَا كَانَ هَمَّ بِهِ، وَكَانَ اللَّهُ بَالِغًا فِيهِ أَمْرَهُ، فَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ، وَكَانَ مِنَ الرِّجَالِ، لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَخْلُصُ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مَعَهُ، بِظُلْمٍ وَلَا سُخْرَةٍ، حَتَّى امْتَنَعُوا كُلَّ الِامْتِنَاعِ، فَبَيْنَمَا مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، يَمْشِي فِي نَاحِيَةِ الْمَدِينَةِ، إِذَا هُوَ بِرَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ، أَحَدُهُمَا فِرْعَوْنِيٌّ، وَالْآخَرُ إِسْرَائِيلِيٌّ، فَاسْتَغَاثَهُ الْإِسْرَائِيلِيُّ عَلَى الْفِرْعَوْنِيِّ، فَغَضِبَ مُوسَى غَضَبًا شَدِيدًا; لِأَنَّهُ تَنَاوَلَهُ، وَهُوَ يَعْلَمُ مَنْزِلَتَهُ مِنْ بَنِي
পৃষ্ঠা - ৭০১
ইসরাঈলীটি মুসা (আ)-এর প্রতি তাকাল ৷ মুসা (আ)-এর কথা শুনে এবং আগের দিনের
ন্যায় রাগাম্বিত অবস্থায় দেখে সে ঘাবড়ে গেলো এবং ভর করতে লাগলো যে, তাকে স্পষ্টই
একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তি বলার পর হয়ত মুসা (আ) তাকেই আক্রমণ করতে পারেন ৷ অথচ তিনি
কিবভীকে আক্রমণ করতেই উদ্যত ছিলেন ৷ ইসরাঈলীটি মুসা (আ) কে লক্ষ্য করে বলল : হে
মুসান্ গতকাল তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করতে চাওন্
তাকে হত্যা করার জন্যে মুসা (আ) আক্রমণ করছেন ভেবেই যে এ কথাটি বলল ৷ ততক্ষণে
তারা দু’ জন ঝগড়৷ থেকে ক্ষান্ত হল ৷ কিন্তু কিবভীটি তার সম্প্রদায়ের কাছে ইসরাঈলীর মুখে
শোনা হত্যা তথ্যটি জা ৷নিয়ে দিল ৷ এই কথা শুনে ফিরআউন জল্লাদদের মুসা (আ)-কে হত্যার
জন্যে প্রেরণ করল ৷ ফিরআউন প্রেরিত জল্লাদরা রাজপথ ধরে ধীর গতিতে মুসা (আ)-এর
দিকে অগ্রসর হতে লাগল ৷ মুসা (আ) তাদের হাতছাড়া হয়ে গেল এরুপ কোন আশংকা তাদের
ছিল না ৷ অতঃপর মুসা (আ)-এর দলের একজন লোক শহরের প্রান্ত থেকে সংক্ষিপ্ত পথ ধরে
তাদের পুর্কেহ মুসা (আ)-এর কাছে পৌছে এ সংবাদটি দিল ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)
বলেন, হে ইবন জুবায়র (বা) ৷ মুসা (আ)-এর জন্য এটাও ছিল একটি পরীক্ষা ৷
মুসা (আ) তখন মাদায়ান শহরের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন ৷ ইতিপুর্বে মুসা (আ) এ
ধরনের কোন পরীক্ষার শিকার হননি এবং এ রাস্তায়ও চলাচল করেন নি ৷ কাজেই এই রাস্তা
ছিল তার অপরিচিত ৷ কিন্তু আল্লাহ তা জানার ওপর ছিল তার অগাধ বিশ্বাস ও অটল ভরসা ৷
তিনি বলেছিলেন করি আমার
প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করবেন ৷
এ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে ং
থ
অর্থাৎ যখন সে মাদায়ানের কুপের নিকট পৌছল, দেখল একদল লোক তাদের
পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং ওদের দুটি ত্রীলােক তাদের পশুগুলোকে আগলাচ্ছে অর্থাৎ
ছাগলগুলোকে ৷
মুসা (আ) তাদের দু’জ্যাকে বললেন, তোমাদের কী ব্যাপার ? তোমরা পৃথক হয়ে বসে আছ,
লোকজনের সাথে পশুগুলােকে পানি পান করাচ্ছনাঃ তারা দু’জন বললেন, জনতার ভিড় ঠেলার
শক্তি আমাদের নেই ৷ আমরা তাদের পান করাবার পর উচ্ছিষ্ট পানির অপেক্ষা করছি ৷ মুসা
(আ) তাদের দুজনের বকরীগুলােকে পানি পান করালেন ৷ তিনি বা ৷লতি দিয়ে এত বেশি পানি
উঠাতে সক্ষম হলেন যে, তিনিই রাখা ৷লদের অগ্রবর্তী হয়ে গেলেন ৷ এরপর দু’জন মহিলা তাদের
বকরীগুলো নিয়ে তাদের বৃদ্ধ পিতার কাছে ৫পীছৰুলন ৷ অন্যদিকে মুসা (আ) গাছের ছায়ায়
(
আশ্রয় নিলেন এ,
অর্থাৎ-“হে আমার প্রতিপালক ! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবে আমি তার কাঙ্গাল ৷
আজ বকরীগুলেড়াকে নিয়ে দেরি না করে দ্রুত পৌছায় তাদের পিতার কাছে কেমন কেমন
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৫-
إِسْرَائِيلَ، وَحِفْظَهُ لَهُمْ لَا يَعْلَمُ النَّاسُ إِلَّا أَنَّهُ مِنَ الرَّضَاعِ إِلَّا أُمُّ مُوسَى، إِلَّا أَنْ يَكُونَ اللَّهُ أَطْلَعَ مُوسَى مِنْ ذَلِكَ عَلَى مَا لَمْ يُطْلِعْ عَلَيْهِ غَيْرَهُ، فَوَكَزَ مُوسَى الْفِرْعَوْنِيَّ، فَقَتَلَهُ، وَلَيْسَ يَرَاهُمَا أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، وَالْإِسْرَائِيلِيُّ، فَقَالَ مُوسَى حِينَ قَتَلَ الرَّجُلَ: {هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبِينٌ} [القصص: 15] ثُمَّ قَالَ: {رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [القصص: 16]
[الْقَصَصِ: 18] . فَنَظَرَ الْإِسْرَائِيلِيُّ إِلَى مُوسَى، بَعْدَ مَا قَالَ لَهُ، مَا قَالَ فَإِذَا هُوَ غَضْبَانُ كَغَضَبِهِ بِالْأَمْسِ، الَّذِي قَتَلَ فِيهِ الْفِرْعَوْنِيَّ، فَخَافَ أَنْ يَكُونَ بَعْدَ مَا قَالَ لَهُ: إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُبِينٌ. أَنْ يَكُونَ إِيَّاهُ أَرَادَ، وَلَمْ يَكُنْ أَرَادَهُ، إِنَّمَا أَرَادَ الْفِرْعَوْنِيَّ، فَخَافَ الْإِسْرَائِيلِيُّ، وَقَالَ: يَا مُوسَى، أَتُرِيدُ أَنْ تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ؟ وَإِنَّمَا قَالَ لَهُ; مَخَافَةَ أَنْ يَكُونَ إِيَّاهُ أَرَادَ مُوسَى لِيَقْتُلَهُ، فَتَتَارَكَا،
পৃষ্ঠা - ৭০২
ঠেকছিল ৷ তাই বললেনং আজকে তোমাদের ব্যাপার কী? তখন তারা দু জনেই মুসা (আ)
সম্বন্ধে তাদের পিতাকে অবহিত করল ৷ তাকে ডেকে আমার জন্যে পিতা একজনকে মুসা
(আ) এর কাছে পাঠালেন ৷ তাদের একজন মুসা (আ ) এর কাছে গিয়ে তাকে ডেকে আনলেন ৷
মুসা (অ ) যখন মহিলাদের পিতার সাথে আলোচনা করলেন, তখন তিনি মুসা (অ ) কে অভয়
দিয়ে বললেনং র্চু, ^ৰুপুএের্দু৷ €;§ ? ; ঠুন্টুঠু৷ অর্থ ৎ মি জালিম সম্প্রদায়ের করল
হতে যেচে গিয়েছ ৷ আমাদের এখানে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের কোন কতৃতৃ নেই ৷ আমরা
তার বা জত্বে বাস করি না ৷
?fl
ঢ়৪
অর্থ ৎ “াদেব একজন বলল, হে পিতা! তুমি তাকে মজুর নিযুক্ত কর ৷ কারণ তোমার
মজুর হিসাবে উত্তম হয়ে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী-বিশ্বস্ত ৷” পিতাকে তার মর্যাদাবােধ্ সম্বন্ধে
জিজ্ঞাসা করতে বাধ্য করল যে, তুমি কেমন করে জানলে যে, সে শক্তিশালী এবং আমানতদার ?
মেয়েটি বলল, তার শক্তির বিষয়ে প্রমাণ ৷এই যে, পানি পান করানোর ক্ষেত্রে বালতি টানার
ব্যাপারে এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী আমি কাউকে দেখিনি ৷ আমান দারীর বিষয়ে প্রমাণ এই
যে, আমি যখন তার কাছে গিয়ে পরিচয় দিলাম, খনত তিনি একবার আমার দিকে
তাকিয়েছিলেন ৷ যখন তিনি আচ করতে পারলেন আমি একজন মহিলা, তখন তিনি তার মাথা
নীচু করলেন ৷ আপনার সংবাদ তার কাছে না পৌছানাে পর্যন্ত তিনি আর মাথা উঠিয়ে
াকাননি ৷ অতঃপর আমাকে বললেন, তুমি আমার পেছনে চলবে এবং রাস্তার নির্দেশনা দেবে ৷
তার এ কাজের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আমানতদার ৷ পিতার কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে
গেল, মেয়ের কথার সত্যতাও প্রমাণিত হল এবং মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী মুসা (আ) সম্বন্ধে তিনি
৷ ৩ার অভিমত নির্ধারণ করলেন ৷ তিনি তখন মুসা (আ ) কে উদ্দেশ করে বললেন :
)
;,
আমি আমার এই কন্যা দৃটির একটি তোমার সাথে বিবাহ দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি
আট বছর আমার কাজ করবে ৷ যদি তুমি দশ বছর পুর্ণ কর, সে তোমার ইচ্ছে ৷ আমি তোমাকে
কষ্ট দিতে চাই না ৷ আল্লাহ চ ৷হেতোঙু মি আমাকে সদা ৷চারী পাবে ৷’ (সুরা কাসাস৪ ২৭)
তিনি এ প্রস্তাবে রাযী হলেন ৷ আট বছর কা জ করা ছিল মুসা (আ )-এর উপর অপরিহার্য ৷
আর দুই বছর ছিল তার পক্ষ থেকে অঙ্গীকার ৷ আল্লাহ তাআলা র্তাকে পুর্ণ দশ বছরের মেয়াদ
পালনের তাওফীক দেন ৷ সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) বলেন, একদিন এক খৃক্টান পণ্ডিত আমার
সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, তৃমি কি জ৷ ন, মুসা (আ ) কো ন মেয়াদটি পুর্ণ করেছিলেনা তখন
আমি জানতাম না, তাই বললাম, না, আমি জানি না ৷ এরপর আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস
(রা) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং এ সম্পর্কে আমি তার সাথে আলোচনা করলাম ৷ তিনি
وَانْطَلَقَ الْفِرْعَوْنِيُّ، فَأَخْبَرَهُمْ بِمَا سَمِعَ مِنَ الْإِسْرَائِيلِيِّ مِنَ الْخَبَرِ، حِينَ يَقُولُ: أَتُرِيدُ أَنْ تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ؟ فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ الذَّبَّاحِينَ لِيَقْتُلُوا مُوسَى، فَأَخَذَ رُسُلُ فِرْعَوْنَ الطَّرِيقَ الْأَعْظَمَ، يَمْشُونَ عَلَى هِينَتِهِمْ يَطْلُبُونَ مُوسَى، وَهُمْ لَا يَخَافُونَ أَنْ يَفُوتَهُمْ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ شِيعَةِ مُوسَى مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ، فَاخْتَصَرَ طَرِيقًا حَتَّى سَبَقَهُمْ إِلَى مُوسَى فَأَخْبَرَهُ - وَذَلِكَ مِنَ الْفُتُونِ يَا ابْنَ جُبَيْرٍ - فَخَرَجَ مُوسَى مُتَوَجِّهًا نَحْوَ مَدْيَنَ، لَمْ يَلْقَ بَلَاءً قَبْلَ ذَلِكَ وَلَيْسَ لَهُ بِالطَّرِيقِ عِلْمٌ إِلَّا حُسْنُ ظَنِّهِ بِرَبِّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، فَإِنَّهُ قَالَ: {عَسَى رَبِّي أَنْ يَهْدِيَنِي سَوَاءَ السَّبِيلِ - وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ} [القصص: 22 - 23]
[الْقَصَصِ: 22، 23] . يَعْنِي بِذَلِكَ حَابِسَتَيْنِ غَنَمَهُمَا، فَقَالَ لَهُمَا: {مَا خَطْبُكُمَا} [القصص: 23] مُعْتَزِلَتَيْنِ، لَا تَسْقِيَانِ مَعَ النَّاسِ؟ قَالَتَا: لَيْسَ لَنَا قُوَّةٌ نُزَاحِمُ الْقَوْمَ، وَإِنَّمَا نَنْتَظِرُ فُضُولَ حِيَاضِهِمْ. فَسَقَى لَهُمَا، فَجَعَلَ يَغْرِفُ مِنَ الدَّلْوِ مَاءً كَثِيرًا، حَتَّى كَانَ أَوَّلَ الرِّعَاءِ، وَانْصَرَفَتَا بِغَنَمِهِمَا إِلَى أَبِيهِمَا، وَانْصَرَفَ مُوسَى، فَاسْتَظَلَّ بِشَجَرَةٍ، {فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص: 24] . وَاسْتَنْكَرَ أَبُوهُمَا سُرْعَةَ صُدُورِهِمَا بِغَنَمِهِمَا حُفَّلًا بِطَانًا، فَقَالَ: إِنَّ لَكُمَا الْيَوْمَ لَشَأْنًا. فَأَخْبَرَتَاهُ بِمَا صَنَعَ مُوسَى، فَأَمَرَ إِحْدَاهُمَا أَنْ تَدْعُوَهُ، فَأَتَتْ مُوسَى فَدَعَتْهُ، فَلَمَّا كَلَّمَهُ قَالَ: {لَا تَخَفْ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} [القصص: 25] . لَيْسَ لِفِرْعَوْنَ وَلَا لِقَوْمِهِ عَلَيْنَا مِنْ سُلْطَانٍ، وَلَسْنَا فِي مَمْلَكَتِهِ {قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ} [القصص: 26] . فَاحْتَمَلَتْهُ الْغَيْرَةُ عَلَى
পৃষ্ঠা - ৭০৩
বললেন, তুমি কি জান না যে, আট বছর পুর্ণ করা আল্লাহর নবীর উপর ওয়াজিব ছিল ৷ তিনি
কােনক্রমেই তার থেকে কম করতে পারতেন না ৷ তুমি জেনে রেখ, আল্লাহ্ তাঅড়ালা মুসা
(আ) এর দ্বারা ওয়াদা মুতাবিক দশ বছরের মেয়াদ পুরণ করান ৷ অতঃপর আমি উক্ত খৃক্টানের
সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে সংবাদটি দিলাম, তখন সে বলল, তােমাকে এ ব্যাপারে যে সংবাদ
দিয়েছে সে কি তােমড়া থেকে বেশি জ্ঞানী?’ উত্তরে আমি বললড়াম, হীড়া, তিনি শ্রেষ্ঠ ও অগ্রগণ্য ৷ ’
মুসা (আ) যখন তার পরিবার নিয়ে রওয়ড়ানা হলেন, তখন আগুন, লাঠি ও হাতে র মু জিযা
প্রকাশিত হল যা আল্লাহ তা আলা কুরআনুল করীমে বর্ণনা করেছেন ৷ অতঃপর মুসা (আ)
নিহত ব্যক্তি ও মুখের জড়তা সম্পর্কে ফিরআউন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা পোষণ
করতেন, সে সম্বন্ধে তিনি আল্লাহ্৩ তা আলার দরবারে ফরিয়াদ করেন ৷ মুখের জড়তা অনর্গল
কথাবার্তা বলার ব্যাপারে কিছুটা অম্ভরায় সৃষ্টি করত ৷ তাই তিনি তার প্রতিপালকের কাছে
প্রার্থনা করলেন যেন আল্লাহ্ তাআলা তার ভইি হারুনের মাধ্যমে তার সাহায্য করেন ৷ তার
পক্ষ থেকে হারুন (আ) প্রাঞ্জল ভাষায় জনগণের সাথে কথা বলেন, যেখানে মুসা (আ) তাদের
সাথে অনর্গল কথা বলতে অপারক ৷ আল্লাহ তাআলা তার দরখাস্ত মঞ্জুর করলেন ৷ তার মুখের
জড়তা দুর করে দিলেন, হড়ারুন (আ)-এর কাছে ওহী প্রেরণ করলেন ও তাকে হুকুম দিলেন যেন
তিনি তার ভাই মুসা (আ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন ৷ মুসা (আ) আপন লাঠিসহ ফিরে
আসলেন ৷ শেষ পর্যন্ত হড়ারুন (আ) এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয় ৷
অতঃপর দু’জন একত্রে ফিরঅড়াউনের কাছে গমন করলেন এবং তার ফটকে বহুক্ষণ ধরে
অপেক্ষা করলেন কিন্তু তাদেরকে অনুমতি দেয়া হল না ৷ কঠোর গোপনীয়তা ৷অবলম্বন করে
তাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হল ৷৩ র্তারা বললেন, আমরা তোমার প্ৰতিপালকের দুত ৷
ফিরআউন বলল, তোমাদের প্রতিপালক কে? র্তারা তার উত্তর প্রদান করেন, যার বর্ণনা
কুরআনুল করীমে রয়েছে ৷ ফিরআউন বলল, তােমরা কী চাওস্তু’ প্রসঙ্গক্রমে সে ইতাবসরে
হত্যার কথাও উল্লেখ করল ৷ হত্যার ব্যাপারে ওযর পেশ করে মুসা (আ) বলেন, আমি চাই যে,
তুমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে যেতে দেবে ৷
ফিরআউন তা অস্বীকার করল এবং বলল, যদি তুমি সত্যবাদী হও৩ ড়াহলে কোন মুজিযা প্রদশ্নি
কর ৷ তখন তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন ৷ অমনি তা একটি বিরাট অজগরে পরিণত হল, যা
বিরাট হা মেলে ফিরআউনের দিকে দ্রুত ৩অগ্রসর হয় ৷ ফিরআউন যখন দেখল অজগরটি তার
দিকে আসর হচ্ছে, সে ভয় পেয়ে গেল এবং সিংহাসন থেকে লাফিয়ে পড়ল ৷ মুসা (আ)-এর
কাছে এটাকে ফিরিয়ে রাখার জন্যে ফরিয়াদ করতে লাগল ৷ তখন মুসা (আ) তা-ই করলেন ৷
অতঃপর মুসা (আ) তার হাত বগলের নীচ থেকে বের করলেন ৷ ফিরআউন এটাকে ওভ্রসমুজ্জ্বল
নির্দোষ ও শ্বেত রোগে আক্রান্ত নয় দেখতে পেল ৷ তিনি আবার হাত ভিতরে নিয়ে নিলেন ৷ এটা
অমনি পুর্বের রঙ ধারণ করল ৷ ফিরআউন যা দেখল তা নিয়ে তার পারিষদবর্গের সাথে
সলাপরামর্শ করল ৷ তখন তারা বলল :
أَنْ قَالَ لَهَا: مَا يُدْرِيكِ مَا قُوَّتُهُ، وَمَا أَمَانَتُهُ؟ فَقَالَتْ: أَمَّا قُوَّتُهُ فَمَا رَأَيْتُ مِنْهُ فِي الدَّلْوِ حِينَ سَقَى لَنَا، لَمْ أَرَ رَجُلًا قَطُّ أَقْوَى فِي ذَلِكَ السَّقْيِ مِنْهُ، وَأَمَّا الْأَمَانَةُ فَإِنَّهُ نَظَرَ إِلَيَّ حِينَ أَقْبَلْتُ إِلَيْهِ وَشَخَصْتُ لَهُ فَلَمَّا عَلِمَ أَنِّي امْرَأَةٌ صَوَّبَ رَأْسَهُ، فَلَمْ يَرْفَعْهُ حَتَّى بَلَّغْتُهُ رِسَالَتَكَ، ثُمَّ قَالَ لِي: امْشِي خَلْفِي، وَانْعَتِي لِيَ الطَّرِيقَ. فَلَمْ يَفْعَلْ هَذَا إِلَّا وَهُوَ أَمِينٌ. فَسُرِّيَ عَنْ أَبِيهَا، وَصَدَّقَهَا، وَظَنَّ بِهِ الَّذِي قَالَتْ، فَقَالَ لَهُ: هَلْ لَكَ {أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ} [القصص: 27] . فَفَعَلَ، فَكَانَتْ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ مُوسَى ثَمَانِيَ سِنِينَ وَاجِبَةً، وَكَانَتِ السَّنَتَانِ عِدَةً مِنْهُ، فَقَضَى اللَّهُ عَنْهُ عِدَتَهُ، فَأَتَمَّهَا عَشْرًا.
قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: فَلَقِيَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّصْرَانِيَّةِ، مِنْ عُلَمَائِهِمْ، قَالَ: هَلْ تَدْرِي أَيُّ الْأَجَلَيْنِ قَضَى مُوسَى؟ قُلْتُ: لَا. وَأَنَا يَوْمَئِذٍ لَا أَدْرِي، فَلَقِيتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: أَمَا عَلِمَتْ أَنَّ ثَمَانِيَةً كَانَتْ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ وَاجِبَةً؟ لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ اللَّهِ لِيُنْقِصَ مِنْهَا شَيْئًا وَتَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ كَانَ قَاضِيًا عَنْ مُوسَى عِدَتَهُ الَّتِي وَعَدَهُ، فَإِنَّهُ قَضَى عَشْرَ سِنِينَ. فَلَقِيتُ النَّصْرَانِيَّ، فَأَخْبَرَتْهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: الَّذِي سَأَلْتَهُ فَأَخْبَرَكَ أَعْلَمُ مِنْكَ بِذَلِكَ. قُلْتُ: أَجَلْ، وَأَوْلَى.
فَلَمَّا سَارَ مُوسَى بِأَهْلِهِ، كَانَ مِنْ أَمْرِ النَّارِ، وَالْعَصَا، وَيَدِهِ، مَا قَصَّ اللَّهُ عَلَيْكَ فِي الْقُرْآنِ، فَشَكَا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مَا يَتَخَوَّفُ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ فِي الْقَتِيلِ، وَعُقْدَةِ لِسَانِهِ، فَإِنَّهُ كَانَ فِي لِسَانِهِ عُقْدَةٌ تَمْنَعُهُ مِنْ كَثِيرٍ مِنَ الْكَلَامِ وَسَأَلَ رَبَّهُ أَنْ يُعِينَهُ بِأَخِيهِ هَارُونَ، وَيَكُونُ لَهُ رَدْءًا وَيَتَكَلَّمُ عَنْهُ بِكَثِيرٍ مِمَّا لَا يُفْصِحُ بِهِ لِسَانُهُ،
পৃষ্ঠা - ৭০৪
এ দু’জন অবশ্যই জাদুকর, তারা চায় তাদের জাদু দ্বারা তােমাদেবকে তোমাদের দেশ
থেকে বের করে দিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ৷ ’
অর্থাৎ তোমাদের রাজতু এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দা থেকে তােমাদেরকে বিতাড়িত করতে ৷ এভাবে
মুসা (আ) যা চেয়েছিলেন ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গ তার কিছুই দিতে রাযী হল না ৷
পারিষদরা ফিরআউনকে পরামর্শ দিল, “আপনার রাজত্বে জাদুকরের অভাব নেই , কাজেই সকল
জাদুকর একত্রিত হবার জন্যে আপনি নির্দেশ দেন, যাতে তারা তাদের দু’জনের উপস্থাপিত
জাদুকে পরাজিত করতে পারে ৷ ” অতঃপর ফিরআউন বিভিন্ন শহরে জাদুকর সংগ্রহকারী পাঠাল ,
যাতে তারা উচুমানের জাদুকরদের ডেকে আসে ৷ যখন তারা ফিবআউরুনর কাছে আসল তখন
বলতে লাগল, কি দিয়ে তিনি জাদু দেখান? পারিষদবর্গ বলল, সাপ দিয়ে ৷ ’ তখন তারা বলল,
আল্লাহর শপথ, তাহলে তারা উতয়ে আমাদের উপর জয়লাভ করতে পারবে না ৷ কেননা,
পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যে আমাদের ন্যায় সাপ, রশি ও লাঠি দিয়ে আমাদের চাইতে
উত্তম জাদু দেখাতে পারে ৷ তবে যদি আমরা তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারি, তাহলে
আমাদের পুরস্কার কী হবে? ফিরআউন তাদেরকে বলল, তড়াহলে তোমরা আমার নৈকটা
লাভকারী ও বিশিষ্ট সভাষদবর্গের অন্তর্ভুক্ত হবে ৷ আর তোমরা যা চাইবে তা-ই আমি
তােমাদেরকে দেবাে ৷ এভাবে তারা ফিরআউন থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করল ও উৎসবের দিন
নির্ধারিত করল, যে দিন পুর্বাহে জনগণকে সমবেত করা হয়ে ৷
সাঈদ ইবন জুবায়র (বা) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) আমার কাছে বর্ণনা করেন,
উৎসবের দিলেই আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে ফিরআউন ও তার জাদুকরদের বিরুদ্ধে বিজয়
দান করেছিলেন ৷ আর সেই দিনটি ছিল আশুরার দিন ৷ যখন তারা একটি মাঠে সমবেত হলো,
তখন লোকজন বলাবলি করতে লাগল-চল, আজ আমরা তাদের এই প্রতিযোগিতা দেখার
জন্যে উপস্থিত হই এবং উপহাস ছলে বলতে লাগল, যদি নতুন জাদুকররা (মুসা ও হারুন)
জয়লাভ করে তাহলে আমরা তাদের অনুসরণ করবো ৷ জাদুকরপণ বলল, হে মুসা ! হয় তুমি
প্রথমে নিক্ষেপ কর, নতুবা আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি ৷ ’ মুসা (আ) বললেন, বরং তােমরাই
নিক্ষেপ কর ৷ ’ তখন তারা তাদের দড়ি ও লাঠি নিক্ষেপ করল ও বলতে লাগল, ফিরআউনের
ইযযতের শপথ, আমরাই জয়ী হব ৷ ’ মুসা (আ) তাদের জাদু প্রত্যক্ষ করলেন ও তাতে তিনি
তার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করলেন ৷ তার কাছে আল্লাহ্ তাআলা ওহী পাঠালেন , হে মুসা ৷
তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর ৷ ’ যখন তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন তা একটি বিরাট
অজগরে পরিণত হল, যা হা করে থাকে ৷ সে লাঠি ও দড়িগুলোকে একত্র মিশিয়ে সবগুলোকে
তার মুখে পুরতে লাগল ৷ এমনকি কোন লাঠি বা দড়িই অবশিষ্ট রইল না ৷ জাদুকররা যখন
ঘটনার যথার্থতা বুঝতে পারল, তখন তারা বলতে লাগল, মুসা (আ) এর ব্যাপারটি যদি জাদু
হত তাহলে আমাদের জাদুকে এটা কখনও গ্রাস করতে পারত না ৷ এটা নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ
তাআলার পক্ষ থেকে ৷ কারুফৌ আমরা আল্লাহ্ তাআলার প্রতি ও মুসা (আ) যা কিছু নিয়ে
এসেছেন তার প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করলাম, আমরা পুর্বে যা কিছু পাপ করেছি তার থেকে
তওবা করলাম ৷ ’ এভাবে আল্লাহ তা“আলা উক্ত জনপদে ফিরআউন ও তার পারিষদবশ্চেৰি শক্তি
চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দিলেন ৷
فَآتَاهُ اللَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، سُؤْلَهُ وَحَلَّ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِهِ، وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَارُونَ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَلْقَاهُ، فَانْدَفَعَ مُوسَى بِعَصَاهُ حَتَّى لَقِيَ هَارُونَ، فَانْطَلَقَا جَمِيعًا إِلَى فِرْعَوْنَ، فَأَقَامَا عَلَى بَابِهِ حِينًا لَا يُؤْذَنُ لَهُمَا، ثُمَّ أُذِنَ لَهُمَا بَعْدَ حِجَابٍ شَدِيدٍ، فَقَالَا: إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ. فَقَالَ: فَمَنْ رَبُّكُمَا؟ فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي قَصَّ اللَّهُ عَلَيْكَ فِي الْقُرْآنِ، قَالَ: فَمَا تُرِيدَانِ؟ وَذَكَّرَهُ الْقَتِيلَ، فَاعْتَذَرَ بِمَا قَدْ سَمِعْتَ قَالَ: أُرِيدُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَتُرْسِلَ مَعِي بَنِي إِسْرَائِيلَ. فَأَبَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: ائْتِ بِآيَةٍ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ. فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ عَظِيمَةٌ، فَاغِرَةً فَاهَا، مُسْرِعَةً إِلَى فِرْعَوْنَ فَلَمَّا رَآهَا فِرْعَوْنُ، قَاصِدَةً إِلَيْهِ خَافَهَا، فَاقْتَحَمَ عَنْ سَرِيرِهِ، وَاسْتَغَاثَ بِمُوسَى أَنْ يَكُفَّهَا عَنْهُ، فَفَعَلَ، ثُمَّ أَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ جَيْبِهِ، فَرَآهَا بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ - يَعْنِي مِنْ غَيْرِ بَرَصٍ - ثُمَّ رَدَّهَا فَعَادَتْ إِلَى لَوْنِهَا الْأَوَّلِ، فَاسْتَشَارَ الْمَلَأَ حَوْلَهُ فِيمَا رَأَى، فَقَالُوا لَهُ: هَذَانِ سَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَنْ يُخْرِجَاكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ الْمُثْلَى. يَعْنِي مُلْكَهُمُ الَّذِي هُمْ فِيهِ، وَالْعَيْشَ، وَأَبَوْا عَلَى مُوسَى أَنْ يُعْطُوهُ شَيْئًا مِمَّا طَلَبَ، وَقَالُوا لَهُ: اجْمَعِ السَّحَرَةَ فَإِنَّهُمْ بِأَرْضِكَ كَثِيرٌ ; حَتَّى تَغْلِبَ بِسِحْرِكَ سِحْرَهُمَا. فَأَرْسَلَ إِلَى الْمَدَائِنِ، فَحُشِرَ لَهُ كُلُّ سَاحِرٍ مُتَعَالِمٍ، فَلَمَّا أَتَوْا فِرْعَوْنَ، قَالُوا: بِمَ يَعْمَلُ هَذَا السَّاحِرُ؟ قَالُوا: يَعْمَلُ بِالْحَيَّاتِ. قَالُوا: فَلَا وَاللَّهِ مَا أَحَدٌ فِي الْأَرْضِ يَعْمَلُ بِالسِّحْرِ بِالْحَيَّاتِ وَالْحِبَالِ وَالْعِصِيِّ الَّذِي نَعْمَلُ، وَمَا أَجْرُنَا إِنْ نَحْنُ غَلَبْنَا؟ قَالَ لَهُمْ: أَنْتُمْ أَقَارِبِي وَخَاصَّتِي، وَأَنَا صَانِعٌ إِلَيْكُمْ كُلَّ شَيْءٍ أَحْبَبْتُمْ. فَتَوَاعَدُوا يَوْمَ الزِّينَةِ وَأَنْ يُحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى. قَالَ سَعِيدٌ: فَحَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ يَوْمَ الزِّينَةِ الْيَوْمَ الَّذِي أَظْهَرَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ وَالسَّحَرَةِ، هُوَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ، فَلَمَّا اجْتَمَعُوا فِي
পৃষ্ঠা - ৭০৫
সত্য প্রতিষ্ঠিত হল এবং তাদের সমস্ত কার্যকলাপ মিথ্যা প্রতিপন্ন হল ৷ তারা পরাভুত হল ও
অপদস্থ হল ৷ অন্যদিকে ফিরআউনের শ্রী ছিন্ন বসন পরিহিতা অবস্থায় বের হলেন এবং
ফিরআউন ও ফিরআউনীদের বিরুদ্ধে মুসা (আ)-এর সাহায্যের জন্যে আল্লাহর কাছে দুআ
করতে লাগলেন ৷ ফিরআউনের গোত্রের যারা তাকে (দখল তারা মনে করতে লাগল যে, তিনি
ফিরআউন ও ফিরআউনীদের জন্যে সহানুভুতি প্রদর্শনার্থে ছিন্ন বসন পারছেন ৷ আসলে তার
সমস্ত জ্যিড়া-ভাবনা ছিল মুসা (আ)-এর জন্যেই ৷ মুসা (আ)-এর সাথে কৃত ফিরআউনের মিথ্যা
প্রতিশ্রুতির বিষয়টি দীর্যায়িত হতে লাগল ৷ বনী ইসরাঈলকে মুসা (আ)-এর কাছে প্রত্যর্পণ
করার জন্যে যখনই ফিরআউন কোন নিদর্শন প্রদর্শন করার শর্ত আরোপ করতো এবং মুসা
(আ)-এর দু’আয় আল্লাহর পক্ষ থেকে নিদর্শন প্রকাশিত হতো, তখনই ফিরআউন প্রতিশ্রুতি
ভঙ্গ করে বলতাে, হে মুসা ! তোমার প্রতিপালক কি এটা ব্যতীত অন্য একটি নিদর্শন আমাদের
জন্যে প্রদর্শন করার ক্ষমতা রাখেনঃ ’
এরুপ বার বার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কারণে আল্লাহ তাআলা ফিরঅড়াউনের সম্প্রদায়ের
প্রতি স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে পর্যায়ক্রমে ভুফান, পঙ্গপাল, উকুন , ভেক ও রক্ত আযাবরুগে
পাঠান ৷ প্রতেক্তকটি মুসীবত অবতীর্ণ হলে ফিরআউন মুসা (আ) এর কাছে ফরিয়াদ করত এবং
তা দুর করার জন্যে মুসা (আ)-কে অনুরোধ করত যে, মুসীবত দুর হয়ে গেলে সে বনী
ইসরাঈলকে মুসা (আ)-এর কাছে প্রতার্পণ করবে ৷ আবার যখনই মুসীবত দুর হয়ে যেত,
তারপর দিনই সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত ৷ শেষ পর্যন্ত আপন সম্প্রদায়সহ উক্ত জনপদ ত্যাগ
করার জন্যে মুসা (আ)-এর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ আসল ৷ মুসা (আ) তাদেরকে নিয়ে রাতের
বেলা রওয়ানা হয়ে পড়লেন ৷ প্রত্যুষে ফিরআউন টের পেল যে, বনী ইসরাঈলরা চলে গেছে ৷
তখন যে বিভিন্ন শহরে লোক পাঠাল এবং বিরাট এক সৈন্যদল নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করল ৷
এদিকে আল্লাহ তাআলা সমুদ্রকে হুকুম দিলেন, আমার বান্দা মুসা (আ) তোমাকে লাঠি দিয়ে
আঘাত করবে, তখন তুমি বারটি খণ্ডে খণ্ডিত হয়ে যাবে, যাতে মুসা ও তার সাথীরা নির্বিঘ্নে পার
হয়ে যেতে পারে ৷ অতঃপর তুমি ফিরআউন ও তার সাথীদেৱকে গ্রাস করে ফেলবে ৷
লাঠি দিয়ে সমুদ্রকে আঘাত করতে মুসা (আ) তুলে গেলেন ও সমুদ্রের পাড়ে পৌছে
গেলেন ৷ মুসা (আ) তার লাঠি দ্বারা আঘাত করবেন আর সে গাফিল থাকবে, যার কারণে সে
হবে আল্লাহ্ তাআলার কাছে নাফরমান এই ভয়ে সাগর উত্তাল ছিল ৷ যখন উভয় দল
পরস্পরকে দেখল ও নিকটবর্তী হল, মুসা (আ)-এর সাখিগণ তাকে বলল, আল্লাহ আপনার
প্রতিপালক, আল্লাহ তাআলা যা হুকুম করেন তাই করুন, নচেৎ আমরা ধরা পড়ে যার ৷ তিনি
মিথ্যা বলেননি এবং আপনিও আমাদেরকে মিথ্যা বলেননি ৷ মুসা (আ) বলেন, আমার
প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমি যখন সমুদ্রের কিনারায় আসর, তখন তা বার
ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে যাতে আমি নির্বিঘ্নে সমুদ্র পার হয়ে যেতে পারি ৷ অতঃপর লাঠির কথা
স্মরণে আসল, তখন তিনি আপন লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করলেন ৷ এরপর যখন ফিরআউনের
সেনাবাহিনীর অগ্রভাপ মুসা (আ)-এর সেনাবাহিনীর পশ্চাৎভাগের নিকটবর্তী হলো, সমুদ্র তার
প্রতিপালকের নির্দেশ অনুযায়ী ও মুসা (আ )-এর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বিভক্ত হয়ে গেল ৷ যখন
মুসা (আ) ও তার সাথিগণ সকলেই সমুদ্র পড়ার হলেন এবং ফিরআউন ও তার সাথীরা সমুদ্রে
صَعِيدٍ قَالَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ انْطَلِقُوا فَلْنَحْضُرْ هَذَا الْأَمْرَ; لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِنَّ كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ. يَعْنُونَ مُوسَى وَهَارُونَ، اسْتِهْزَاءً بِهِمَا، فَقَالُوا: يَا مُوسَى - بِقُدْرَتِهِمْ بِسِحْرِهِمْ - إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ. قَالَ: بَلْ أَلْقُوا. {فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ} [الشعراء: 44] . فَرَأَى مُوسَى مِنْ سِحْرِهِمْ مَا أَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ، فَلَمَّا أَلْقَاهَا، صَارَتْ ثُعْبَانًا عَظِيمَةً، فَاغِرَةً فَاهَا، فَجَعَلَتِ الْعِصِيُّ تَلْتَبِسُ بِالْحِبَالِ، حَتَّى صَارَتْ جُرُزًا عَلَى الثُّعْبَانِ تَدْخُلُ فِيهِ، حَتَّى مَا أَبْقَتْ عَصًا وَلَا حَبْلًا إِلَّا ابْتَلَعَتْهُ فَلَمَّا عَرَفَ السَّحَرَةُ ذَلِكَ، قَالُوا: لَوْ كَانَ هَذَا سِحْرًا لَمْ تَبْلُغْ مِنْ سِحْرِنَا كُلَّ هَذَا وَلَكِنَّهُ أَمْرٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى، آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِمَا جَاءَ بِهِ مُوسَى، وَنَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مِمَّا كُنَّا عَلَيْهِ. فَكَسَرَ اللَّهُ ظَهَرَ فِرْعَوْنَ فِي ذَلِكَ الْمَوْطِنِ وَأَشْيَاعِهِ، وَظَهَرَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ، فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ، وَامْرَأَةُ فِرْعَوْنَ بَارِزَةٌ مُتَبَذِّلَةٌ تَدْعُو لِلَّهِ بِالنَّصْرِ لِمُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ وَأَشْيَاعِهِ، فَمَنْ رَآهَا مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ ظَنَّ أَنَّهَا إِنَّمَا ابْتُذِلَتْ لِلشَّفَقَةِ عَلَى فِرْعَوْنَ وَأَشْيَاعِهِ، وَإِنَّمَا كَانَ حُزْنُهَا وَهَمُّهَا لِمُوسَى، فَلَمَّا طَالَ مُكْثُ مُوسَى بِمَوَاعِيدِ فِرْعَوْنَ الْكَاذِبَةِ، كُلَّمَا جَاءَ بِآيَةٍ وَعَدَهُ عِنْدَهَا أَنْ يُرْسِلَ مَعَهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَإِذَا مَضَتْ أَخْلَفَ مَوْعِدَهُ وَقَالَ: هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ أَنْ يَصْنَعَ غَيْرَ هَذَا؟ فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَى قَوْمِهِ الطُّوفَانَ، وَالْجَرَادَ، وَالْقُمَّلَ، وَالضَّفَادِعَ، وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ، كُلُّ ذَلِكَ يَشْكُو إِلَى مُوسَى وَيَطْلُبُ إِلَيْهِ أَنْ يَكُفَّهَا عَنْهُ، وَيُوَافِقَهُ عَلَى أَنْ يُرْسِلَ مَعَهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَإِذَا كَفَّ ذَلِكَ عَنْهُ، أَخْلَفَ مَوْعِدَهُ، وَنَكَثَ عَهْدَهُ، حَتَّى
পৃষ্ঠা - ৭০৬
প্রবেশ করল, নির্দেশ মোতাবেক সমুদ্র দু’দিক থেকে মিশে গিয়ে তাদের ডুবিয়ে দিল ৷ আবার
মুসা (আ) যখন পার হয়ে গেলেন, তখন তার সাথিগণ বলতে লাগল, আমাদের আশংকা হচ্ছে
ফিরআউন হয়তো ডুবেনি ৷ আমরা তার ধ্বংসের ব্যাপারে সুনিশ্চিত নই ৷
মুসা (আ) তার প্রতিপালকের কাছে এ ব্যাপারে দুআ করলেন ৷ ফলে আল্লাহ্ তাআলা
ফিরআউনের শরীর সমুদ্র থেকে বের করে দিলেন যাতে তারা ফিরআউনের ধ্বংসের ব্যাপারে
নিশ্চিত হল ৷ অতংপর বনী ইসরাঈলরা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে আগমন করলেন যাদের
ইবাদরু তর জন্যে প্রতিমা রয়েছে, তখন তারা মুসা (আ) কে বলতে লাগল :
াদ্বুপুাব্ল
ন্খুদ্বুণ্ডি
তারা বলল, “হে মুসা ! তাদের দেবতার ন্যায় আমাদের জ্যনাও এক দেবতা গড়ে দাও ৷ ”
তিনি বললেন, তোমরা তো এক মুর্থ সম্প্রদায়, এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তা তো বিধ্বস্ত
হবে এবং তারা বা করছে তাও অমুলক ৷” (সুরা আরাফ : ১৩৮)
অর্থাৎ হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা তো সমুদ্র পড়ার হওয়ার ব্যাপারটি নিজ চক্ষে প্রত্যক্ষ
করলে এবং নিজ কানেও শুনলে, যা তোমাদের পক্ষে আল্লাহ্র কুদরত অনুধাবন করার জানা
যথেষ্ট ৷
অতঃপর মুসা (আ) পথ চলতে লাগলেন এবং তাদেরকে নিয়ে অবতরণ করলেন ও বলতে
লাগলেন, তোমরা হারুন (আ)-এর আনুগত্য করবে ৷ কেননা, আল্লাহ্ তাআলা তাকে আমার
প্রতিনিধি মনোনীত করেছেন ৷ আমি আমার প্রতিপালকের সমীপে যাচ্ছি এবং ত্রিশ দিন পর
আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসর ৷ মুসা (আ) যখন তার প্রতিপালকের সাথে ত্রিশ দিনের
মধ্যে কথাবার্তা বলার ইচ্ছে করলেন ও ত্রিশ দিন-রাত রোযা রাখলেন, তখন তিনি রোযাদারের
মুখের গন্ধের ন্যায় গন্ধ অনুভব করলেন এবং আপন প্রতিপালকের সাথে এ গন্ধ নিয়ে কথাবার্তা
বলা অপছন্দনীয় মনে করলেন ৷ তাই মুসা (আ) একটি গাছের ডাল নিয়ে চিবালেন যাতে মুখের
দৃর্পন্ধ দুর হয়ে যায় ৷ মুসা (আ) যখন আল্পাহ্র সমীপে পৌছলেন, তখন তার প্রতিপালক তাকে
বললেন, তুমি ণ্রাযা কেন ভঙ্গ করলো অথচ কেন তিনি এরুপ করেছিলেন এ ব্যাপারে তিনিই
অধিক জ্ঞাত ছিলেন ৷ মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! সুগন্ধিযুক্ত মুখ নিয়ে ছাড়া
আপনার সাথে কথাবার্তা বলা আমার অপছন্দনীয় ছিল ৷ আল্লাহ্ তাআলা বললেন, হে মুসা
তুমি কি জান না, রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের গন্ধের চেয়ে শ্রেয়ঃ কারুআ তুমি ফেরত
যাও, আরো দশটি রােযা রাখ এবং তারপর আস ৷ ’ প্রতিপালক যা নির্দেশ দিলেন মুসা (আ)
তা-ই করলেন ৷
এদিকে মুসা (আ)-এর সম্প্রদায় যখন দেখতে পেল যে, মুসা (আ) নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ
ত্রিশদিনের মধ্যে ফেরত আসছেন না, এটা তাদের কাছে খুবই খারাপ লাগল ৷ হারুন (আ) বনী
ইসরাঈলদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা মিসর থেকে বের হয়ে এসেছ অথচ তোমাদের
কাছে ফিবআউন সম্প্রদায়ের দেয়া ও আমানতের প্রচুর বন্তু রয়েছে ৷ অনুরুপভাবে তোমাদেরও
প্রচুর বস্তু তাদের কাছে রয়েছে ৷ আমার মতামত হচ্ছে, তাদের কাছে তোমাদের যে পরিমাণ বস্তু
أَمَرَ مُوسَى بِالْخُرُوجِ بِقَوْمِهِ، فَخَرَجَ بِهِمْ لَيْلًا، فَلَمَّا أَصْبَحَ فِرْعَوْنُ، وَرَأَى أَنَّهُمْ قَدْ مَضَوْا، أَرْسَلَ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ، فَتَبِعَهُ بِجُنُودٍ عَظِيمَةٍ كَثِيرَةٍ، وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى الْبَحْرِ: إِذَا ضَرَبَكَ عَبْدِي مُوسَى بِعَصَاهُ، فَانْفَلِقِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ فِرْقَةً، حَتَّى يَجُوزَ مُوسَى وَمَنْ مَعَهُ، ثُمَّ الْتَقِ عَلَى مَنْ بَقِيَ بَعْدُ مِنْ فِرْعَوْنَ وَأَشْيَاعِهِ. فَنَسِيَ مُوسَى أَنْ يَضْرِبَ الْبَحْرَ بِالْعَصَا، وَانْتَهَى إِلَى الْبَحْرِ وَلَهُ قَصِيفٌ مَخَافَةَ أَنْ يَضْرِبَهُ مُوسَى بِعَصَاهُ وَهُوَ غَافِلٌ فَيَصِيرُ عَاصِيًا لِلَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ وَتَقَارَبَا، قَالَ أَصْحَابُ مُوسَى: {إِنَّا لَمُدْرَكُونَ} [الشعراء: 61] افْعَلْ مَا أَمَرَكَ بِهِ رَبُّكَ، فَإِنَّهُ لَمْ يَكْذِبْ وَلَمْ تَكْذِبْ. قَالَ: وَعَدَنِي رَبِّي إِذَا أَتَيْتُ الْبَحْرَ انْفَرَقَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ فِرْقَةً حَتَّى أُجَاوِزَهُ، ثُمَّ ذَكَرَ بَعْدَ ذَلِكَ الْعَصَا، فَضَرَبَ الْبَحْرَ بِعَصَاهُ، حِينَ دَنَا أَوَائِلُ جُنْدِ فِرْعَوْنَ مِنْ أَوَاخِرِ جُنْدِ مُوسَى، فَانْفَرَقَ الْبَحْرُ كَمَا أَمَرَهُ رَبُّهُ، وَكَمَا وَعَدَ مُوسَى، فَلَمَّا أَنْ جَاوَزَ مُوسَى وَأَصْحَابُهُ كُلُّهُمُ الْبَحْرَ، وَدَخَلَ فِرْعَوْنُ وَأَصْحَابُهُ، الْتَقَى عَلَيْهِمُ الْبَحْرُ كَمَا أَمَرَ، فَلَمَّا جَاوَزَ مُوسَى، قَالَ أَصْحَابُهُ: إِنَّا نَخَافُ أَنْ لَا يَكُونَ فِرْعَوْنُ غَرِقَ، وَلَا نُؤْمِنُ بِهَلَاكِهِ. فَدَعَا رَبَّهُ، فَأَخْرَجَهُ لَهُ بِبَدَنِهِ، حَتَّى اسْتَيْقَنُوا بِهَلَاكِهِ، ثُمَّ مَرُّوا بَعْدَ ذَلِكَ عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ، {قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ - إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 138 - 139]
[الْأَعْرَافِ: 138، 139] . قَدْ رَأَيْتُمْ مِنَ الْعِبَرِ، وَسَمِعْتُمْ مَا يَكْفِيكُمْ وَمَضَى، فَأَنْزَلَهُمْ مُوسَى مَنْزِلًا، وَقَالَ أَطِيعُوا هَارُونَ، فَإِنِّي قَدِ اسْتَخْلَفْتُهُ عَلَيْكُمْ، فَإِنِّي ذَاهِبٌ إِلَى رَبِّي. وَأَجَّلَهُمْ ثَلَاثِينَ يَوْمًا أَنْ يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ فِيهَا، فَلَمَّا أَتَى رَبَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، وَأَرَادَ أَنْ
পৃষ্ঠা - ৭০৭
يُكَلِّمَهُ فِي ثَلَاثِينَ يَوْمًا، وَقَدْ صَامَهُنَّ، لَيْلَهُنَّ وَنَهَارَهُنَّ وَكَرِهَ أَنْ يُكَلِّمَ رَبَّهُ وَرِيحُ فِيهِ رِيحُ فَمِ الصَّائِمِ، فَتَنَاوَلَ مُوسَى شَيْئًا مِنْ نَبَاتِ الْأَرْضِ فَمَضَغَهُ، فَقَالَ لَهُ رَبُّهُ حِينَ أَتَاهُ: لِمَ أَفْطَرْتَ؟ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالَّذِي كَانَ، قَالَ: يَا رَبِّ إِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أُكَلِّمَكَ إِلَّا وَفَمِي طَيِّبُ الرِّيحِ. قَالَ: أَوَمَا عَلِمْتَ يَا مُوسَى أَنَّ رِيحَ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ ارْجِعْ فَصُمْ عَشْرًا، ثُمَّ ائْتِنِي. فَفَعَلَ مُوسَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَبُّهُ، فَلَمَّا رَأَى قَوْمُ مُوسَى أَنَّهُ لَمْ يَرْجِعْ إِلَيْهِمْ فِي الْأَجَلِ، سَاءَهُمْ ذَلِكَ، وَكَانَ هَارُونُ قَدْ خَطَبَهُمْ وَقَالَ: إِنَّكُمْ خَرَجْتُمْ مِنْ مِصْرَ، وَلِقَوْمِ فِرْعَوْنَ عِنْدَكُمْ عَوَارِيُّ وَوَدَائِعُ، وَلَكُمْ فِيهَا مِثْلُ ذَلِكَ، وَأَنَا أَرَى أَنْ تَحْتَسِبُوا مَا لَكُمْ عِنْدَهُمْ، وَلَا أُحِلُّ لَكُمْ وَدِيعَةً اسْتَوْدَعْتُمُوهَا، وَلَا عَارِيَّةً، وَلَسْنَا بِرَادِّينَ إِلَيْهِمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ، وَلَا مُمْسَكِيهِ لِأَنْفُسِنَا. فَحَفَرَ حَفِيرًا، وَأَمَرَ كُلَّ قَوْمٍ عِنْدَهُمْ مِنْ ذَلِكَ مِنْ مَتَاعٍ أَوْ حِلْيَةٍ أَنْ يَقْذِفُوهُ فِي ذَلِكَ الْحَفِيرِ. ثُمَّ أَوْقَدَ عَلَيْهِ النَّارَ فَأَحْرَقَهُ، فَقَالَ: لَا يَكُونُ لَنَا وَلَا لَهُمْ.
وَكَانَ السَّامِرِيُّ مِنْ قَوْمٍ يَعْبُدُونَ الْبَقَرَ، جِيرَانٍ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ، وَلَمْ يَكُنْ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَاحْتَمَلَ مَعَ مُوسَى وَبَنِي إِسْرَائِيلَ حِينَ احْتَمَلُوا، فَقُضِيَ لَهُ أَنْ رَأَى أَثَرًا فَقَبَضَ مِنْهُ قَبْضَةً، فَمَرَّ بِهَارُونَ، فَقَالَ لَهُ هَارُونُ: يَا سَامِرِيُّ، أَلَا تُلْقِي مَا فِي يَدِكَ؟ وَهُوَ قَابِضٌ عَلَيْهِ، لَا يَرَاهُ أَحَدٌ طَوَالَ ذَلِكَ، فَقَالَ: هَذِهِ قَبْضَةٌ مِنْ أَثَرِ الرَّسُولِ الَّذِي جَاوَزَ بِكُمُ الْبَحْرَ، وَلَا أُلْقِيهَا لِشَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَدْعُوَ اللَّهَ إِذَا أَلْقَيْتُهَا أَنْ يَكُونَ مَا أُرِيدُ. فَأَلْقَاهَا وَدَعَا لَهُ هَارُونُ، فَقَالَ: أُرِيدُ أَنْ تَكُونَ عِجْلًا. فَاجْتَمَعَ مَا كَانَ فِي الْحُفْرَةِ مِنْ مَتَاعٍ أَوْ حِلْيَةٍ، أَوْ نُحَاسٍ، أَوْ حَدِيدٍ،
পৃষ্ঠা - ৭০৮
রয়েছে, যে পরিমাণ তোমরা হিসাব করে রেখে দিতে পার, তবে তাদের ধার দেয়৷ বস্তু
তোমাদের কাছে তাদের আমানর্তী বন্তু , আমি তোমাদের জন্য হালাল মনে করি না ৷ আর
আমরা তাদের কোন বন্তু তাদের কাছে ফেরত পাঠাতে পারছি না ৷ অন্যদিকে আমরা তাদের
কোন বন্তু নিজেরাও ভোগ করতে পারছি না ৷ হারুন (আ) একটি গর্ত খুড়তে হুকুম দিলেন,
যখন একটি বিরাট গর্ত খোড়া হল, তখন তিনি সম্প্রদায়ের সকলকে তাদের কাছে মজুদ
জিনিসপত্র ও অলংকারাদি গর্ভে নিক্ষেপ করতে আদেশ করলেন ৷ অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে
তা পুড়িয়ে দেয়৷ হল ৷ হারুন (আ) বললেন, এ সম্পদ আমাদেরও নয় এবং তাদেরও নয় ৷
সামিরী ছিল বনী ইসরাঈলের পড়শী এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যারা গরু পুজা করত ৷
সে বনী ইসরাঈলের লোক ছিল না ৷ মুসা (আ) ও বনী ইসরাঈলের সাথে সমুদ্র পাড়ি দেবার
সময় সে জিবরাঈলের যোটকীর পায়ের ধুল৷ দেখতে পেয়ে এক মুষ্টি তুলে নিয়েছিল ৷ এখন যে
হারুন (আ) এর কাছে গেল ৷ হারুন (আ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন০ হে সামিরী! তোমার
মুষ্ঠির মধ্যে যা রয়েছেতু মি কি তা অগ্নিতে নিক্ষেপ করবে না?’ সে সকলের অলক্ষেদ্র সেই ধুলা
মুঠোয় ধরে রেখেছিল ৷ সে বলল, এটাতাে সেই দুতের যে টকীব পায়ের ধুলা, যে আপনাদেরকে
সমুদ্র পার করিয়েছেন, তবে আমি এটাকে কিছুতেই নিক্ষেপ করব না, যতক্ষণ না আপনি
আল্পাহ্ তাআলার কাছে দু আ করেন যে, আমি যে কাজের জন্য এটাকে নিক্ষেপ করব সে
কাডইি যেন হয়ে যায় ৷ সে মতে তিনি দু আ করলেন এবং সে তা নিক্ষেপ করে বলল, আমি চা ৷ই
এগুলো যেন বাছুরে পরিণত হয়ে যায় ৷ ফলে গর্তের মধ্যে যত সােনা-দানা, সহায়-সম্পদ
অলংকারাদি তামা-লোহ৷ ইত্যাদি ছিল, একত্রিত হয়ে একটি বাছুরের আকার ধারণ করল ৷ যার
মধ্যখানট৷ ছিল ফাকা, তার মধ্যে প্রাণ ছিল না, ছিল শুধু গরুর ডাক ৷
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) বলেন, আল্লাহ্র কসম, বাছুরটির কোন শব্দ ছিল না, বাতাস
তার পেছনের দিক্ দিয়ে ঢুকত এবং সামনের দিক্ দিয়ে বের হয়ে যেত ৷ এজন্য এক প্রকারের
শব্দ হত, বাছুরের নিজস্ব কো ন শব্দ ছিল না ৷ এই ঘটনার পর বনী ইসরা ঈল তিন তা ৷গে বিভক্ত
হয়ে পড়ল ৷ একদল বলল, হে সামিরী! এটা কি? তুমিই তে ৷ এটা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত
সামিরী বলল, এটা তোমাদের প্রতিপালক ৷ তবে মুসা (আ) পথ হারিয়ে ফেলেছেন ৷ অন্য
একদল বলল, যতক্ষণ না মুসা (আ) আমাদের কাছে ফিরে আসেন, আমরা এটাকে মিথ্যা
প্রতিপন্ন করব না ৷ এমনও তো হতে পারে যে, এটাই আমাদের প্ৰতিপালক তাই এটাকে
আমরা বিনষ্ট করলাম না আর এটা সম্বন্ধে আমরা বিপাকেও পড়লাম না ৷৩ তাই আমরা এটাকে
দেখে-শুনে রাখব ৷ আর যদি এটা আমাদের প্ৰতিপালক বলে প্রমাণিত না হয়, তাহলে এ
সম্পর্কে আমরা মুসা (আ) এর নির্দেশই মান্য করব ৷ অন্য একদল বলল, এটা শয়তানের কাজ,
এটা আমাদের প্রতিপালক নয়, এটাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করি না, এটাকে আমরা সত্য বলে
গ্রহণও করি না ৷ বাছুরটি সম্বন্ধে সামিরী যা বলেছিল, তাকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তার
মিথ্যা দা ৷৩বিকোরা মিথ্যা বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করল ৷ হারুন (আ) তাদেরকে বললেন :
শু,ঠুহ্রপ্লু ৷ ন্দ্বুর্দুর্চু :, ৷এ ৫ ন্:ণ্ড্র ১০;৷ রু ট্রুন্এাপু
فَصَارَ عِجْلًا أَجْوَفَ، لَيْسَ فِيهِ رُوحٌ، لَهُ خُوَارٌ.
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَا وَاللَّهِ مَا كَانَ لَهُ صَوْتٌ قَطُّ، إِنَّمَا كَانَتِ الرِّيحُ تَدْخُلُ مِنْ دُبُرِهِ، وَتَخْرُجُ مِنْ فِيهِ، فَكَانَ ذَلِكَ الصَّوْتُ مِنْ ذَلِكَ، فَتَفَرَّقَ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِرَقًا، فَقَالَتْ فِرْقَةٌ: يَا سَامِرِيُّ، مَا هَذَا، وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ؟ قَالَ: هَذَا رَبُّكُمْ، وَلَكِنَّ مُوسَى أَضَلَّ الطَّرِيقَ. وَقَالَتْ فِرْقَةٌ: لَا نُكَذِّبُ بِهَذَا حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى، فَإِنْ كَانَ رَبُّنَا، لَمْ نَكُنْ ضَيَّعْنَاهُ وَعَجَزْنَا فِيهِ حِينَ رَأَيْنَاهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ رَبَّنَا فَإِنَّا نَتَّبِعُ قَوْلَ مُوسَى. وَقَالَتْ فِرْقَةٌ: هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ، وَلَيْسَ بِرَبِّنَا، وَلَا نُؤْمِنُ بِهِ، وَلَا نُصَدِّقُ. وَأُشْرِبُ فِرْقَةٌ فِي قُلُوبِهِمُ الصِّدْقَ بِمَا قَالَ السَّامِرِيُّ فِي الْعِجْلِ، وَأَعْلَنُوا التَّكْذِيبَ بِهِ، فَقَالَ لَهُمْ هَارُونُ عَلَيْهِ السَّلَامُ: {يَاقَوْمِ إِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهِ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ} [طه: 90] . لَيْسَ هَذَا، قَالُوا: فَمَا بَالُ مُوسَى وَعَدَنَا ثَلَاثِينَ يَوْمًا ثُمَّ أَخْلَفَنَا؟ هَذِهِ أَرْبَعُونَ يَوْمًا قَدْ مَضَتْ. قَالَ سُفَهَاؤُهُمْ: أَخْطَأَ رَبَّهُ، فَهُوَ يَطْلُبُهُ وَيَبْتَغِيهِ. فَلَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى وَقَالَ لَهُ مَا قَالَ، أَخْبَرَهُ بِمَا لَقِيَ قَوْمُهُ مِنْ بَعْدِهِ، فَرَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسَفًا، فَقَالَ لَهُمْ مَا سَمِعْتُمْ مَا فِي الْقُرْآنِ، وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ وَأَلْقَى الْأَلْوَاحَ مِنَ الْغَضَبِ، ثُمَّ إِنَّهُ عَذَرَ أَخَاهُ بِعُذْرِهِ، وَاسْتَغْفَرَ لَهُ، فَانْصَرَفَ إِلَى السَّامِرِيِّ، فَقَالَ لَهُ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟ قَالَ: {فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِنْ أَثَرِ الرَّسُولِ} [طه: 96] وَفَطِنْتُ لَهَا، وَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ فَقَذَفْتُهَا {وَكَذَلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي - قَالَ فَاذْهَبْ فَإِنَّ لَكَ فِي الْحَيَاةِ أَنْ تَقُولَ لَا مِسَاسَ وَإِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَنْ تُخْلَفَهُ وَانْظُرْ إِلَى إِلَهِكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا لَنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا} [طه: 96 - 97]
[طه: 96، 97] . وَلَوْ كَانَ إِلَهًا لَمْ نَخْلُصْ إِلَى ذَلِكَ مِنْهُ، فَاسْتَيْقَنَ بَنُو إِسْرَائِيلَ بِالْفِتْنَةِ، وَاغْتَبَطَ
পৃষ্ঠা - ৭০৯
“হে আমার সম্প্রদায়! এটা দ্বারা৫ তা কেবল তােমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে ৷ তোমাদের
প্ৰতিপা লক দয়াময় ৷” এটা তোমাদের প্রতিপা ৷লক নয় ৷ তারা হারুন (আ )-কে প্রশ্ন করল, মুসা
(আ)-এর খবর কি? আমাদের সাথে ত্রিশদিনের ওয়াদা করে গিয়েছেন, তিনি তো আমাদের
সাথে কৃত ওয়াদা পুরণ করলেন না চল্লিশ দিন অতিক্রাম্ভ হয়ে গিয়েছে ৷ তাদের মধ্যে যারা
নির্বোধ, তারা বলল, মুসা (আ) তার প্রতিপালককে পাননি, তাই তিনি তাকে খুজে রেড়াচ্ছেন ৷
আল্লাহ্ তা আলা মুসা (আ) এর সাথে কথা বলার সময় তিনি তাকে বনী ইসরাঈলের মধ্যে
ৎঘটিত ব্যাপারসমুহ অবগত করেন ৷ তাতে মুসা (আ) অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও রাপাম্বিত ৩হয়ে নিজ
সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসেন ৷ এরপর তিনি তাদেরকে যা বললেন, তা কুরআনুল করীমে
উল্লেখিত হয়েছে ৷
মুসা (আ ) তার সহোদর হারুন (আ) এর কেশ ধরে আকর্ষণ করতে লাগলেন এবং রাগের
কারণে ফলকগুলাে ফেলে দেন ৷ তারপর তিনি তার সহোদরের ওমর গ্রহণ করে নিলেন এবং
তার জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ৷ অতঃপর তিনি সামিরীর দিকে মনোযোগ
দিলেন এবং৩ তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি এমনটি কেন করলো সামিরী বলল “আমি
জিবরাঈলের ঘোটকীর পায়ের এক মুঠে৷ ধুল৷ সঞ্চাহ করেছিলাম, আমি এটার অলৌকিক ক্ষমতা
অনুধাবন করেছিলাম এবং আপনাদের কাছে ছিল এটা অজানা বস্তু ৷ এরপর এটাকে নিক্ষেপ
করলাম এবং আমার মন এরুপ করাই আমার জন্য শোভন করেছিল ৷ মুসা (আ) বললেন, দৃর
হ’, তোর জীবদ্দশায় তোর জন্যে এটাই রইল যে, তুই বলবি, আমাকে কেউ ছুয়ে৷ না’ এবং
তোর জন্য রইল একটি নির্দিষ্ট কাল, তোর বেলায় যার ব্যতিক্রম হবে না ; তুই তোর সেই
ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যার পুজায় তুই রত ছিলে, আমরা এটাকে জ্বালিয়ে দেবই; অতঃপর
এটাকে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে নিক্ষেপ করবই ৷ ”
বলাবাহুল্য, এটা যদি উপাস্যই হত ৩তাহলে এটাকে এরুপ কেউ করতে পারত না ৷ এজন্যই
বনী ইসরাঈল এটাকে নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা হিসেবে গণ্য করে ৷ আর যাদের মতামত হারুন
(আ) এর মতামতের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ ছিল তারা মহাথুশী হলো এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের
উপকারার্থে মুসা (আ) কে লক্ষ্য করে তারা আরো বলল, হে মুসা (আ) ! আপনি আল্লাহ্
তাআলার কাছে প্রার্থনা করুন, যেন তিনি আমাদের জন্যে তওবা করার নিমিত্তে একটি বিধি
ব্যবস্থা করেন, যা আমরা তা ৷ঞ্জাম দিলে, আমাদের কৃত পাপরাশির কাফ্ফার৷ হয়ে যায় ৷”
অতঃপর মুসা (আ)ত ৷র সম্প্রদায় থেকে সত্তরজন এমন লোককে এ কাজের জন্যে মনোনীত
করলেন, যারা ভাল কাজ সম্পাদনে ত্রুটি করে না এবং আল্লাহ্ তা জানার সাথে কাউকে শরীক
করে না, তাদের নিয়ে মুসা (আ) তওবার জন্যে চললেন ৷ অতঃপর ভুমিকম্প দেখা দিল ৷ আর
এতে আল্লাহ্র নবী, তার সম্প্রদায় ও মনোনীত লোকদের কাছে লজ্জিত হলেন এবং বলতে
লাপলেন, “হে আল্লাহ্ তাআলা! ইচ্ছে করলে তুমি তাদেরকে ও আমাকে এর পুর্বেই ধ্বংস করে
দিতে পারতে ৷ আমাদের মধ্যে যারা নির্বে৷ ধ, তাদের কৃতকর্মের জন্যে কি আমাদেরকে তুমি
ৎস করবেঃ” উত্তর আসল, তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যাদের অম্ভরে বাছুরগ্রীতি রয়েছে
ও এটার প্রতি তারা বিশ্বাস রাখে, তাই তাদেরকে নিয়ে ভুমি কেপে উঠেছিল ৷
الَّذِينَ كَانَ رَأْيُهُمْ فِيهِ مِثْلَ رَأْيِ هَارُونَ، فَقَالُوا جَمَاعَتُهُمْ: يَا مُوسَى سَلْ لَنَا أَنْ يُفْتَحَ لَنَا بَابُ تَوْبَةٍ نَصْنَعْهَا، فَيُكَفَّرْ عَنَّا مَا عَمِلْنَا. فَاخْتَارَ مُوسَى قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا لِذَلِكَ، لَا يَأْلُو الْخَيْرَ، خِيَارَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَمَنْ لَمْ يُشْرِكْ فِي الْعِجْلِ، فَانْطَلَقَ بِهِمْ يَسْأَلُ لَهُمُ التَّوْبَةَ، فَرَجَفَتْ بِهِمُ الْأَرْضُ، فَاسْتَحْيَا نَبِيُّ اللَّهِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، مِنْ قَوْمِهِ، وَمِنْ وَفْدِهِ، حِينَ فُعِلَ بِهِمْ مَا فُعِلَ، فَقَالَ: {لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا} [الأعراف: 155] وَفِيهِمْ مَنْ كَانَ اللَّهُ اطَّلَعَ مِنْهُ عَلَى مَا أُشْرِبَ قَلْبُهُ مِنْ حُبِّ الْعِجْلِ، وَإِيمَانٍ بِهِ، فَلِذَلِكَ رَجَفَتْ بِهِمُ الْأَرْضُ، فَقَالَ: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ} [الأعراف: 156 - 157]
[الْأَعْرَافِ: 156، 157] .
فَقَالَ: يَا رَبِّ، سَأَلْتُكَ التَّوْبَةَ لِقَوْمِي، فَقُلْتَ: إِنَّ رَحْمَتَكَ كَتَبْتَهَا لِقَوْمٍ غَيْرِ قَوْمِي فَلَيْتَكَ أَخَّرْتَنِي حَتَّى تُخْرِجَنِي فِي أُمَّةِ ذَلِكَ الرَّجُلِ الْمَرْحُومَةِ. فَقَالَ لَهُ: إِنَّ تَوْبَتَهُمْ أَنْ يَقْتُلَ كُلُّ رَجُلٍ مَنْ لَقِيَ مِنْ وَالِدٍ وَوَلَدٍ، فَيَقْتُلُهُ بِالسَّيْفِ، لَا يُبَالِي مَنْ قَتَلَ فِي ذَلِكَ الْمَوْطِنِ. وَتَابَ أُولَئِكَ الَّذِينَ كَانَ خَفِيَ عَلَى مُوسَى وَهَارُونَ وَاطَّلَعَ اللَّهُ مِنْ ذُنُوبِهِمْ، فَاعْتَرَفُوا بِهَا، وَفَعَلُوا مَا أُمِرُوا، وَغَفَرَ اللَّهُ لِلْقَاتِلِ وَالْمَقْتُولِ، ثُمَّ سَارَ بِهِمْ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، مُتَوَجِّهًا نَحْوَ الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ، وَأَخَذَ الْأَلْوَاحَ بَعْدَ مَا سَكَتَ عَنْهُ الْغَضَبُ، فَأَمَرَهُمْ بِالَّذِي أُمِرَ بِهِ مِنَ الْوَظَائِفِ فَثَقُلَ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ، وَأَبَوْا أَنْ يُقِرُّوا بِهَا، وَنَتَقَ
পৃষ্ঠা - ৭১০
আল্লাহ্৩ তা আলা ইরশাদ করেন০ :
এে১দ্বু১১র্চুড়ু
৷ ,ট্রিঠু;প্রুৰুট্রু,ঠু ৷;১র্ডান্ ৰুণ্হুপ্রুা
“আমার দয়া-তা তো প্রত্যেক রস্তুতে ব্যাপ্ত ৷ সুতরাংাম এটা তাদের জন্যে নির্ধারিত
করব যারা তাক্ওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে, যারা অনুসরণ
করে বার্তাবাহক উমী নবীর, যার উল্লেখ তাওরাত ও ইঞ্জীল, যা তাদের কাছে আছে তাতে
লিপিবদ্ধ পায় ৷ (সুরা আরাফ : ১৫৬-১৫ ৭)
মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক আমার সম্প্রদায়ের জন্য আমি তােক্ট্রার কাছে
তওবা কবুলের দু আ করছি আর তুমি আমাকে বলছ, নিশ্চয়ই আমার রহমত এমন একটি
সম্প্রদায়ের জন্যে লিপিবদ্ধ করেছি যা তোমার সম্প্রদায় থেকে ভিন্ন ৷ হায়া যদি তুমি আমার
জন্মকে আরো বিলম্ব করতে এবং আমাকে সেই রহমত তপ্রাপ্ত ব্যক্তির উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করতে
কতই না ভাল হত ! আল্লাহ তা আলা মুসা (আ)-কে বললেন, তাদের তওবা হচ্ছে তাদের মধ্য
হতে যে ব্যক্তি যার সাথে সাক্ষাৎ করবে, তার পিতা বা সন্তান হোক না কেন সে তাকে তরবারি
দ্বারা হত্যা করবে ৷ কে নিহত হলো, এ ব্যাপারে কোন পরোয়া করবে না ৷ যাদের গুনাহ্ মুসা
(আ) ও হারুন (আ)-এর কাছে অজ্ঞাত থাকলেও আল্লাহ্ তাআলা তাদের পাপ সম্বন্ধে অবহিত
ছিলেন ৷ তারা নিজ নিজ পাপের কথাীকার করলো ও তাদেরকে যা করতে বলা হয়েছে তা
করলো ৷ তখন আল্লাহ তাআলা হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়কে মাফ করে দিলেন ৷
অতঃপর মুসা (আ) বনী ইসরাঈলদেরকে নিয়ে পবিত্র ভুমির দিকে অগ্রসর হলেন ৷ রাগ
থেমে যাবার পর তিনি ফলকগুলো কুড়িয়ে নিলেন এবং ফলকে লিখিত বিভিন্ন করণীয় কাজ
সম্পর্কে উম্মতদেরকে নির্দোা দিলেন ৷ এগুলো তাদের কাছে কঠিন মনে হতে লাগল এবং
এগুলোকে পুরোপুরিাীকার করে নিতে তারা আীকৃতি জ্ঞাপন করল ৷ তখন আল্লাহ্ তাআলা
তুর পাহাড় তাদের মাথার উপর চাদোয়ার মত উত্তোনিত করলেন ৷ পাহাড় তাদের নিকটবর্তী
হতে লাগল, এমনকি তারা ভয় করতে লাগল যে, তা তাদের মাথার উপর না পড়ে যায় ৷ তারা
একদিকে তাদের ডান হাতে কিতাবখানা ধরে রেখেছিল, অন্যদিকে গভীর মানাযােগ সহকারে
পাহাড়ের প্রতি দৃষ্টি রেখেছিল ৷৩ তারা ছিল পাহাড়ের পেছনে ৷ ভয় করছিল না জানি কখন
তাদের উপর তা পড়ে যায় ৷
অতঃপর তারা চলতে চলতে পবিত্র ভুমিতে পৌছে গেল এবং সেখানে তারা একটি শহর
পেল, যাতে রয়েছে একটি দুর্ধর্ষ জাতি ৷ তারা ছিল নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী ৷ তাদের
ফল-ফলাদি অত্যন্ত বৃহৎ আকারের ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ রনী ইসরাঈলরা বলল, হে
মুসা ! এখানে রয়েছে একটি দৃর্দাম্ভ জাতি যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই,
যতক্ষণ পর্যন্ত এরা শহরে অবস্থান করবে আমরা তাতে প্রবেশ করব না ৷ যদি তারা বের হয়ে
যায় তাহলেই কেবল আমরা সেখানে প্রবেশ করব ৷ দৃর্দান্ত সম্প্রদায়টির মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি
আল-ৰিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খপ্ন্ার্পোষ্টুদ্যেদুট্রুক্ট্রব্লু-ণ্ডেপ্লোষ্কেজ্যো
اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَبَلَ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ، وَدَنَا مِنْهُمْ حَتَّى خَافُوا أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِمْ، فَأَخَذُوا الْكِتَابَ بِأَيْمَانِهِمْ وَهُمْ يُصْغُونَ يَنْظُرُونَ إِلَى الْجَبَلِ، وَالْكِتَابُ بِأَيْدِيهِمْ وَهُمْ مِنْ وَرَاءِ الْجَبَلِ، مَخَافَةَ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِمْ، ثُمَّ مَضَوْا حَتَّى أَتَوُا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ، فَوَجَدُوا مَدِينَةً فِيهَا قَوْمٌ جَبَّارُونَ، خَلْقُهُمْ خَلْقٌ مُنْكَرٌ - وَذَكَرَ مِنْ ثِمَارِهِمْ أَمْرًا عَجِيبًا مِنْ عِظَمِهَا - فَقَالُوا: يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِمْ، وَلَا نَدْخُلُهَا مَا دَامُوا فِيهَا، فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ. قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ - قِيلَ لِيَزِيدَ: هَكَذَا قَرَأَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ - مِنَ الْجَبَّارِينَ آمَنَّا بِمُوسَى، وَخَرَجَا إِلَيْهِ، فَقَالُوا: نَحْنُ أَعْلَمُ بِقَوْمِنَا، إِنْ كُنْتُمْ إِنَّمَا تَخَافُونَ مَا رَأَيْتُمْ مِنْ أَجْسَامِهِمْ وَعَدَدِهِمْ، فَإِنَّهُمْ لَا قُلُوبَ لَهُمْ، وَلَا مَنَعَةَ عِنْدَهُمْ، فَادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ، فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ. وَيَقُولُ أُنَاسٌ: إِنَّهُمَا مِنْ قَوْمِ مُوسَى. فَقَالَ الَّذِينَ يَخَافُونَ; بَنُو إِسْرَائِيلَ: {قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا أَبَدًا مَا دَامُوا فِيهَا فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] . فَأَغْضَبُوا مُوسَى، فَدَعَا عَلَيْهِمْ، وَسَمَّاهُمْ فَاسِقِينَ، وَلَمْ يَدْعُ عَلَيْهِمْ قَبْلَ ذَلِكَ; لِمَا رَأَى مِنْهُمْ مِنَ الْمَعْصِيَةِ وَإِسَاءَتِهِمْ، حَتَّى كَانَ يَوْمَئِذٍ، فَاسْتَجَابَ اللَّهُ لَهُ وَسَمَّاهُمْ كَمَا سَمَّاهُمْ فَاسِقِينَ، فَحَرَّمَهَا عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً، يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ، يُصْبِحُونَ كُلَّ يَوْمٍ، فَيَسِيرُونَ لَيْسَ لَهُمْ قَرَارٌ، ثُمَّ ظَلَّلَ عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ فِي التِّيهِ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى، وَجَعَلَ لَهُمْ ثِيَابًا لَا تَبْلَى وَلَا تَتَّسِخُ، وَجَعَلَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ حَجَرًا مُرَبَّعًا وَأَمَرَ مُوسَى فَضَرَبَهُ بِعَصَاهُ،
পৃষ্ঠা - ৭১১
যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত; বললেন, আমরা মুসা (আ) এর প্রতি ঈমান এনেছি এবং
আমরা আমাদের সম্প্রদায় থেকে বেরিয়ে এসেছি ৷ তারা আরো বললেন, আমরা আমাদের
সম্প্রদায়ের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত ৷ তোমরা তাদের বিরাট শরীর ও সংখ্যার
আধিক্য দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছো ৷ আসলে তাদের তে মন শক্তি সামর্থ্য নেই ৷ তোমরা
তাদের ফটক দিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা কর ৷ তোমরা তাতে প্রবেশ করতে পারলেই তাদের
উপর জয়ী হয়ে ৷ কেউ কেউ বলেন, যাদের উক্তি উপরে উল্লেখ করা হল, তারা হলেন মুসা
(আ)-এর সম্প্রদায়ের লোক ৷ অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা ভয় করছিল ৷
অ আল্লাহ্ তাআলা ইবশাদ করেন ং
এে;,শু ৬১৷ ৷; ৷ছুপুা;
“তারা বলল, হে মুসা ! তারা যতদিন সেখানে থাকবে, ত এন্নদিন আমরা সেখানে প্রবেশ
করবই না ৷ সুতরাং তুমি আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর ৷ আমরা এখানেই বসে
থাকর ৷ (৫ মায়িদা : ২৪) ৷
এরুপ বলে তারা মুসা (আ)-এর ক্রোধের উদ্রেক করল ৷ তিনি তাদের জন্য বদদুআ
করলেন, তাদেরকে ফাসিক’ বলে আখ্যায়িত করলেন ৷ এর আগে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আর
বদদুআ করেননি ৷ কেননা, এখন তিনি তাদের মধ্যে পাপ এবং অবাধ্যত৷ দেখতে পেলেন , আর
আল্লাহ তাআলা তার বদদুআ কবুল করলেন এবছুআল্লাহ্ তাআলাও তাদেরকে ফাসিক বলে
আখ্যায়িত করলেন-যেমনটি মুসা (আ) করেছিলেন ৷ চল্লিশ বছরের জন্যে পবিত্র ভুমিতে
প্রবেশ তাদের জন্যে নিষিদ্ধ করে দিলেন ৷ যাতে৩ ৷ ৷রা পৃথিবীতে উদভ্রাস্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে ৷
সারাদিন ধরে তারা চলতে ই থাকবে ৷ তাদের কোন স্বস্তি নসীব হবে না ৷ অতঃপর আল্লাহ্
তা জানা সদয় হয়ে তাদের উপর তীহের ময়দানে মেঘের ছায়া দান করেন, তাদের জন্যে নানা
ও সালওয়৷ অবতীর্ণ করেন ৷ত তাদেরকে এমন পোশাক দান করেন বা না ছিড়ে, না ময়লা হয় ৷
তাদেরকে এমন একটি বর্ণাকৃতির পাথর দান করলেন এবং এটাকে লাঠি দ্বারা আঘাত করার
জন্য মুসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন ৷ ফলে পাথর থেকে বারটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হল ৷ প্রতি দিকে
তিনটি করে প্রস্রবণ অব ত ছিল, তাদের প্রতিটি গোত্র নিজ নিজ প্রস্রবণের পরিচয় পেয়ে
গেল ৷ তারা নিজ নিজ প্রস্রবণ থেকে পানি পান করতো ৷ আবার তারা যখন এক জায়গা থেকে
অন্য জায়গায় যেত, সেখানেই এই পাথরঢিকে পুর্বদিনের অবস্থানে পেত ৷
উপরোক্ত হাদীসটি মারকু বলে ইবন আব্বাস (রা) উল্লেখ করেছেন ৷ আমার মতে এটাই
যথার্থ ৷ কেননা, একদা মুআবিয়া (রা) ইবন আব্বাস (আ) থেকে শোনার পর মুসা (আ) কর্তৃক
নিহত ব্যক্তিটি সম্বন্ধে ফিরআউনীকে তথ্য প্রকাশকারী হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন ৷ তিনি
বলেন, এ ব্যাপারে ফিরআউন বংশীয় লোকটির আমার কোন উপায়ই ছিল না ৷ জানতে৷ কেবল
ইসরাঈলীটি, যে সেখানে উপস্থিত ছিল ৷ তাহলে ফিরআউনী ব্যক্তিটি কেমন করে এ তথ্য
প্রকাশ করতে পারাে তার এই উক্তি শুনে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) রাগান্বিত হলেন এবং
মুআবিয়৷ (রা) এর হাত ধরলেন ও তাকে নিয়ে সা’দ ইবন মালিক যুহরী (রা ) এর কাছে পেলেন
فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا، فِي كُلِّ نَاحِيَةٍ ثَلَاثَةُ أَعْيُنٍ، وَأَعْلَمَ كُلَّ سِبْطٍ عَيْنَهُمُ الَّتِي يَشْرَبُونَ مِنْهَا، فَلَا يَرْتَحِلُونَ مِنْ مَنْقَلَةٍ إِلَّا وَجَدُوا ذَلِكَ الْحَجَرَ بِالْمَكَانِ الَّذِي كَانَ فِيهِ بِالْأَمْسِ. رَفَعَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَذَا الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَدَّقَ ذَلِكَ عِنْدِي أَنَّ مُعَاوِيَةَ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ حَدَّثَ هَذَا الْحَدِيثَ فَأَنْكَرَ عَلَيْهِ أَنْ يَكُونَ الْفِرْعَوْنِيُّ الَّذِي أَفْشَى عَلَى مُوسَى أَمْرَ الْقَتِيلِ الَّذِي قَتَلَ، فَقَالَ: كَيْفَ يُفْشِي عَلَيْهِ، وَلَمْ يَكُنْ عَلِمَ بِهِ وَلَا ظَهَرَ عَلَيْهِ إِلَّا الْإِسْرَائِيلِيُّ الَّذِي حَضَرَ ذَلِكَ؟ فَغَضِبَ ابْنُ عَبَّاسٍ، فَأَخَذَ بِيَدِ مُعَاوِيَةَ، فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ الزُّهْرِيِّ، فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا إِسْحَاقَ، هَلْ تَذْكُرُ يَوْمَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتِيلِ مُوسَى الَّذِي قَتَلَ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ؟ الْإِسْرَائِيلِيُّ الَّذِي أَفْشَى عَلَيْهِ، أَمِ الْفِرْعَوْنِيُّ؟ قَالَ: إِنَّمَا أَفْشَى عَلَيْهِ الْفِرْعَوْنِيُّ بِمَا سَمِعَ الْإِسْرَائِيلِيَّ الَّذِي شَهِدَ ذَلِكَ وَحَضَرَهُ. هَكَذَا سَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ الْإِمَامُ النَّسَائِيُّ، وَأَخْرَجَهُ ابْنُ جَرِيرٍ، وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، فِي تَفْسِيرِهِمَا مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، وَالْأَشْبَهُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، أَنَّهُ مَوْقُوفٌ، وَكَوْنُهُ مَرْفُوعًا فِيهِ نَظَرٌ، وَغَالِبُهُ مُتَلَقًّى مِنَ الْإِسْرَائِيلِيَّاتِ، وَفِيهِ شَيْءٌ يَسِيرٌ مُصَرَّحٌ بِرَفْعِهِ فِي أَثْنَاءِ الْكَلَامِ، وَفِي بَعْضِ مَا فِيهِ نَظَرٌ وَنَكَارَةٌ، وَالْأَغْلَبُ أَنَّهُ مِنْ كَلَامِ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، وَقَدْ سَمِعْتُ شَيْخَنَا الْحَافِظَ أَبَا الْحَجَّاجِ الْمِزِّيَّ يَقُولُ ذَلِكَ، وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ.
পৃষ্ঠা - ৭১২
এবং তাকে বললেন, হে আবু ইসহাক ৷ আপনার কি ঐ দিনটির কথা মনে পড়ে? যেদিন
রাসুলুল্পাহ্ (সা) মুসা (আ) কর্তৃক নিহত ফিরআউন সম্প্রদায়ের লোকটি সম্বন্ধে বর্ণনা
করেছিলেন? তথ্যটি ইসরাঈলীঢি প্রকাশ করেছিল, না-কি ফিরআউনী? জবাবে তিনি
বলেছিলেন, এই তথ্যটি প্রকাশ করেছিল ফিরআউনী ৷ তবে যে এটা শুনেছিল ইসরাঈলী থেকে,
যে এ ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছিল ও এটা উল্লেখ করেছিল ৷
ইমাম নাসাঈ (র)-ও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ ইবন জারীর তড়াবারী (র) ও ইবন আবু
হাতিম (র) র্তাদের তাফসীরে এরুপ হাদীসের উল্লেখ করেছেন ৷ তবে এ হাদীসটি মরকু না হয়ে
মওকুফ হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক ৷ এ বর্ণনার অধিকাৎশই ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে গৃহীত ৷ এতে
কিছু কিছু অংশ এমনও রয়েছে যা সন্দেহমুক্ত নয় ৷ আমি আমার উস্তাদ হাফিজ আবুল হাজ্জাজ
মযী (র) থেকে শুনেছি ৷ তিনি বলেন, এটা ইহুদী আলিমদের বর্ণনা হওয়ার সন্তাবনাই অধিক ৷
আল্লাহই সর্বজ্ঞ ৷
র্তাবু ষ্াম্বুজের নির্মাণ প্রসঙ্গ
কিতড়াবীরা বলে, আল্লাহ্ তড়াআলা একবার মুসা (আ)-কে শিমশার কাঠ, পশুর চামড়া ও
ভেড়ার পশমের দ্বারা একটি র্তাবু তৈরি করতে নির্দেশ দিলেন ৷ তাদের বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী
রঙিন রেশম,ার্ণ ও রৌপ্য দ্বারা এটাকে সজ্জিত করার হুকৃম দেয়া হয়েছিল ৷ এতে ছিল ১০টি
শামিয়ানা ৷ প্রতিটি শামিয়ানার দৈর্ঘ ছিল ২৮ হাত ও প্রস্থ ছিল : হাত ৷ এতে ছিল ৪টি দরজা ৷
এর রশিগুলো ছিল বিভিন্ন প্রকার ও বিভিন্ন বর্ণের রেশমের, এতে এর চৌকাঠ এবং তাক ছিল
ার্ণ-রৌপের ৷ প্রতিটি কোণে ছিল ২টি দরজা, এছাড়া আরো অনেক বড় বড় দরজা ছিল ৷ এর
পর্দাগুলো ছিল রঙিন রেশমের ৷
এ ধরনের বহু সাজসজ্জার সামগ্রী ছিল, যার ফিরিস্তি ছিল দীর্ঘ ৷ আল্লাহ্ তড়াআলা মুসা
(আ)-কে শিমশার কাঠের একটি সিন্দুকও তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ যার দৈর্ঘ আড়াই
হাত এবং প্রস্থ দুই হাত এবং উচ্চতা ছিল দেড় হাত ৷ ভিতরে ও বাইরে র্খাটিার্ণ দ্বারা
মোড়ানাে, এটার চার কোণে ছিল চারটি আঙটা, সম্মুখ ভাগের দুই দিকে ছিল চারটি আঙটা;
সম্মুখ ভাগের দুই দিক ছিলার্ণের পাখাবিশিষ্ট ৷ তাদের ধারণায় দুইজন ফেরেশতড়ার মুর্তি
যেগুলো মুখোমুখিভাবে স্থাপিত ছিল ৷ এগুলো ছিল বাসলিয়াল নামক এক প্রসিদ্ধ শিল্পীর তৈরি ৷
তারা তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শিমশার কাঠের একটি খাঞ্চা তৈরি করতে যার দৈর্ঘ দুই হাত ও
প্রস্থ ছিল দেড় হাত ৷ এতে ছিল উপরের ডালায়ার্ণের তালা ওার্ণের মুকুট ; এর চতুর্দিকে ছিল
চারটি আঙটা যেগুলোর কিনারাগুলো ছিল সোনা দিয়ে মোড়ানাে, আনারের ন্যায় কাঠের তৈরি ৷
তড়ারা তাকে নির্দেশ দেন, তিনি যেন থাঞ্চাটিতে বড় বড় বরতন; পেয়ালা ও গ্লাসের ব্যবস্থা
করেন ৷ তিনি যেনার্ণের মিনারা তৈরি করেন যাতে প্রতি দিকে তিনটি করে ৬টি সোনার
আলোক স্তম্ভ থাকে, আবার প্রতিটি স্তস্তে যেন ৩টি করে বাতি থাকে ৷ আর মিনারের মধ্যে যেন
চারটি ঝাড় বাতি থাকে ৷ এগুলো এবং অন্যান্য পানপাত্র যেনার্ণ দ্বারা নির্মিত হয় ৷ এ সবই
ছিল বাসলিয়ালের তৈরী ৷ বাসলিয়াল পশু যবাইর বেদীও তৈরী করে ৷ উপরোক্ত র্তাবৃটি তাদের
[ذِكْرُ بِنَاءِ قُبَّةِ الزَّمَانِ]
قَالَ أَهْلُ الْكِتَابِ: وَقَدْ أَمَرَ اللَّهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِعَمَلِ قُبَّةٍ مِنْ خَشَبِ الشَّمْشَارِ، وَجُلُودِ الْأَنْعَامِ، وَشَعْرِ الْأَغْنَامِ، وَأَمَرَ بِزِينَتِهَا بِالْحَرِيرِ الْمُصَبَّغِ، وَالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةِ، عَلَى كَيْفِيَّاتٍ مُفَصَّلَةٍ عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَلَهَا عَشْرُ سُرَادِقَاتٍ، طُولُ كُلِّ وَاحِدٍ ثَمَانِيَةٌ وَعِشْرُونَ ذِرَاعًا، وَعَرْضُهُ أَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ، وَلَهَا أَرْبَعَةُ أَبْوَابٍ، وَأَطْنَابٌ مِنْ حَرِيرٍ، وَدِمَقْسٍ مُصَبَّغٍ، وَفِيهَا رُفُوفٌ وَصَفَائِحُ، مِنْ ذَهَبٍ وَفِضَّةٍ، وَلِكُلِّ زَاوِيَةٍ بَابَانِ، وَأَبْوَابٌ أُخَرُ كَبِيرَةٌ، وَسُتُورٌ مِنْ حَرِيرٍ مُصَبَّغٍ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِمَّا يَطُولُ ذِكْرُهُ، وَبِعَمَلِ تَابُوتٍ مِنْ خَشَبِ الشَّمْشَارِ، يَكُونُ طُولُهُ ذِرَاعَيْنِ وَنِصْفًا، وَعَرْضُهُ ذِرَاعَيْنِ، وَارْتِفَاعُهُ ذِرَاعًا وَنِصْفًا، وَيَكُونُ مُضَبَّبًا بِذَهَبٍ خَالِصٍ مِنْ دَاخِلِهِ وَخَارِجِهِ، وَلَهُ أَرْبَعُ حِلَقٍ، فِي أَرْبَعِ زَوَايَاهُ، وَيَكُونُ عَلَى حَافَّتَيْهِ كَرُوبِيَّانِ مِنْ ذَهَبٍ، يَعْنُونَ صِفَةَ مَلِكَيْنِ بِأَجْنِحَةٍ، وَهُمَا مُتَقَابِلَانِ صَنَعَهُ رَجُلٌ اسْمُهُ بَصْلِيَالُ. وَأَمَرَهُ أَنْ يَعْمَلَ مَائِدَةً مِنْ خَشَبِ الشَّمْشَارِ، طُولُهَا ذِرَاعَانِ، وَعَرْضُهَا ذِرَاعٌ وَنَصِفٌ، لَهَا ضِبَابُ ذَهَبٍ، وَإِكْلِيلُ ذَهَبٍ بِشَفَةٍ مُرْتَفِعَةٍ، بِإِكْلِيلٍ مِنْ ذَهَبٍ، وَأَرْبَعِ حِلَقٍ مِنْ نَوَاحِيهَا مِنْ ذَهَبٍ; خَرَزُهُ مِثْلِ الرُّمَّانِ مِنْ خَشَبٍ مُلَبَّسٍ ذَهَبًا، وَاعْمَلْ صِحَافًا وَمَصَافِيَ وَقِصَاعًا عَلَى الْمَائِدَةِ، وَاصْنَعْ مَنَارَةً مِنْ ذَهَبٍ دُلِيَّ فِيهَا سِتُّ قَصَبَاتٍ مِنْ ذَهَبٍ، مِنْ كُلِّ
পৃষ্ঠা - ৭১৩
বছরের প্রথম দিন স্থাপন করা হয় ৷ আর সেই দিনটি ছিল বসন্ত ঋতৃর প্রথম দিন ৷ আবার
শাহাদতের তাবুত’ও এতে স্থাপন করা হয়েছিল ৷ সম্ভবত কুরআনুল করীমে নিম্নোক্ত আয়াতে
এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে ৷
গ্রফু
?
¢(»
সিন্দুক) আসবে, যাতে তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে চিত্ত প্রশান্তি এবং মুসা ও হারুন
বংশীয়গণ যা পরিত্যাগ করেছে তার অবশিষ্টাত্শ থাকবে; ফেরেশতাগণ এটা বহন করে
আনবে ৷ তোমরা মুমিন হও, তবে অবশ্যই তোমাদের জন্য এটাতে নিদর্শন রয়েছে ৷” (সুরা
বাকারা : ২৪ ৮)
ইসরাঈলী কিভাবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে ৷ এতে রয়েছে তাদের শরীয়ত ,
তাদের জন্যে নির্দেশাবলী, তাদের কুরবানীর বৈশিষ্ট্য ও নিয়ম-পদ্ধতি সম্বন্ধে আলোচনা ৷
আবার এতে বর্ণিত রয়েছে যে, তার গম্বুজ তাদের বাছুর পুজার পুর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৷ আর
বাছুর পুজার ব্যপারটি ঘটেছিল তাদের বায়তুল মুকাদ্দাসে আগমনের পুর্বে ৷ আবার এটা ছিল
তাদের কাছে কারা শরীফ তুলা ৷ তারা এটার ভিতরে ও এটার দিকে মুখ করে প্রার্থনা করত
এবং এটার কারুইে আল্লাহ তাআলার ভৈনকট্য লাভের আশা করত ৷ মুসা (আ) যখন এটার
ভিতরে প্রবেশ করতেন, তখন বনী ইসরাঈলরা এর পাশে দণ্ডায়মান থাকত ৷ এটার দ্বারপ্রান্তেই
মেঘমালার ৫জ্যাতির্ময় স্তম্ভ অবতীর্ণ হত ৷ তখন তারা আল্লাহ্ তাআলার উদ্দেশে সিজদায়
লুটিয়ে পড়ত ৷ আল্লাহ তাআলা মেঘমালার স্তন্তের ভেতর থেকে মুসা (আ)-এর সাথে কথা
বলতেন ৷ মেঘমালড়াটি ছিল আল্লাহ তাআলার নুর ৷ আল্লাহ তড়াআলা মুসা (আ)-কে লক্ষ্য করে
একান্তে কথা বলতেন ৷ তার প্রতি আদেশ-নিষেধ অবতীর্ণ করতেন এবং মুসা (আ) তাবুতের
কাছে দণ্ডায়মান থাকতেন ও পুর্বোক্ত মুর্তি দুইটির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করতেন ৷ ঐ সময়
শাসন সংক্রান্ত ফয়সালাদি আসভাে ৷ ইবাদতথানায় স্বর্ণ, রঙিন মুক্তার ব্যবহার তাদের শরীয়তে
বৈধ ছিল ৷ কিন্তু আমাদের শরীয়তে বৈধ নয় ৷ আমাদের শরীয়তে মসজিদে জাকজমকপুর্ণ
অলংকরণ নিষিদ্ধ, যাতে সালাতে মুসল্লীদের মনোযোগ বিখ্রিত না হয় ৷ মসজিদুন নববী
সম্প্রসারণের সময় উমর ইবন থাত্তাব (রা) নির্মাণ কার্যে নিযুক্ত ব্যক্তিকে বললেন, এমনভাবে
মসজিদটি নির্মাণ কর যাতে বেশি বেশি লোকের জায়গা হয় ৷ তবে মসজিদকে লাল কিত্বা
হলদে বং করা থেকে বিরত থাকো ৷ কেননা, তাতে মুসল্লীগণের একাগ্রতা বিয়িত হবে ৷
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের মসজিদসমুহ এমনভাবে
সাজাবাে যেরুপ ইয়াহুদ ও নাসারাগণ তাদের গির্জা ও ইবাদতখানাগুলােকে সাজায় ৷ এটা হবে
মসজিদের ইজ্জত-সম্মান ও পবিত্রতড়া রক্ষার উদ্দেশ্যে ৷ কেননা, এই উম্মত পুর্বেকার উম্মতের
মত নয় ৷ তাদেরকে আল্লাহ তাআলা তাদের সালাতে আল্লাহ তাআলার প্রতি একনিষ্ঠ ও
মনােযোগী হবার, গাইরুল্লাহ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখার, এমনকি অন্য সকল চিন্তা ও
جَانِبٍ ثَلَاثٌ، عَلَى كُلِّ قَصَبَةٍ ثَلَاثُ سُرُجٍ، وَلْيَكُنْ فِي الْمَنَارَةِ أَرْبَعُ قَنَادِيلَ، وَلْتَكُنْ هِيَ وَجَمِيعُ هَذِهِ الْآنِيَةِ مِنْ قِنْطَارٍ مِنْ ذَهَبٍ، صَنَعَ ذَلِكَ بَصْلِيَالُ أَيْضًا، وَهُوَ الَّذِي عَمِلَ الْمَذْبَحَ أَيْضًا، وَنَصَبَ هَذِهِ الْقُبَّةَ أَوَّلَ يَوْمٍ مِنْ سَنَتِهِمْ، وَهُوَ أَوَّلُ يَوْمٍ مِنَ الرَّبِيعِ وَنَصَبَ تَابُوتَ الشَّهَادَةِ، وَهُوَ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - الْمَذْكُورُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَى وَآلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [البقرة: 248] .
[الْبَقَرَةِ: 248] . وَقَدْ بُسِطَ هَذَا الْفَصْلُ فِي كِتَابِهِمْ مُطَوَّلًا جِدًّا، وَفِيهِ شَرَائِعُ لَهُمْ وَأَحْكَامٌ، وَصِفَةُ قُرْبَانِهِمْ، وَكَيْفِيَّتُهُ، وَفِيهِ أَنَّ قُبَّةَ الزَّمَانِ كَانَتْ مَوْجُودَةً قَبْلَ عِبَادَتِهِمُ الْعِجْلَ، الَّذِي هُوَ مُتَقَدِّمٌ عَلَى مَجِيئِهِمْ بَيْتَ الْمَقْدِسِ، وَأَنَّهَا كَانَتْ لَهُمْ كَالْكَعْبَةِ يُصَلُّونَ فِيهَا وَإِلَيْهَا، وَيَتَقَرَّبُونَ عِنْدَهَا، وَأَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، كَانَ إِذَا دَخَلَهَا يَقِفُونَ عِنْدَهَا، وَيُنْزِلُ عَمُودَ الْغَمَامِ عَلَى بَابِهَا فَيَخِرُّونَ عِنْدَ ذَلِكَ سُجَّدًا لِلَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، وَيُكَلِّمُ اللَّهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، مِنْ ذَلِكَ الْعَمُودِ الْغَمَامِ، الَّذِي هُوَ نُورٌ وَيُخَاطِبُهُ، وَيُنَاجِيهِ، وَيَأْمُرُهُ، وَيَنْهَاهُ، وَهُوَ وَاقِفٌ عِنْدَ التَّابُوتِ صَامِدٌ إِلَى مَا بَيْنَ الْكَرُوبِيِّيْنِ، فَإِذَا فُصِلَ الْخِطَابُ، يُخْبِرُ بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا أَوْحَاهُ اللَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، إِلَيْهِ مِنَ الْأَوَامِرِ وَالنَّوَاهِي، وَإِذَا تَحَاكَمُوا إِلَيْهِ فِي شَيْءٍ، لَيْسَ عِنْدَهُ مِنَ اللَّهِ فِيهِ شَيْءٌ، يَجِيءُ إِلَى قُبَّةِ الزَّمَانِ، وَيَقِفُ عِنْدَ التَّابُوتِ، وَيَصْمُدُ لِمَا بَيْنَ ذَيْنِكَ الْكَرُوبِيِّيْنِ، فَيَأْتِيهِ الْخِطَابُ بِمَا فِيهِ فَصْلُ تِلْكَ الْحُكُومَةِ، وَقَدْ كَانَ هَذَا مَشْرُوعًا لَهُمْ فِي زَمَانِهِمْ، أَعْنِي اسْتِعْمَالَ الذَّهَبِ وَالْحَرِيرِ الْمُصَبَّغِ،
পৃষ্ঠা - ৭১৪
ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত থেকে শুধু আল্লাহ তাআলার দিকে একাগ্রচিত্ত হবার নির্দেশ দিয়েছেন ৷
আল্লাহর জন্যেই সমস্ত প্রশংসা ৷
উপরোক্ত র্তাবু গম্বুজ’৩ ভীহ্ প্রাতরে বনী ইসরাঈলদের সাথে ছিল, তারা এটার দিকে মুখ
করে সালাত আদায় করত ৷ এটা ছিলত তাদের কিবলা ও কা’ বা এবং মুসা (আ) ছিলেন তাদের
ইমাম আর তার ভাই হারুন (আ) ছিলেন কুরবানীর দায়িতুপ্রাপ্ত ৷ যখন হারুন (আ) এবং
তারপর মুসা (আ) ইন্তিকাল করলেন, তখন হারুন (আ) এর বং শধররা নিজেদের মধ্যে
কুরবানী প্রথা চালু রাখেন এবং এটা আজ পর্যন্তও তাদের মধ্যে চালু রয়েছে ৷ মুসা (আ) এরপর
তার খাদেম ইউশা ইবন নুন (আ) রিসালাতসহ সমস্ত কাজের দায়িতৃভা র গ্রহণ করেন এবং
তিনি তাদেরকে নিয়ে বায়তুল ঘুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন ৷ এ ঘটনাটি পরে বর্ণনা কর হবে ৷
মােদ্দা কথা, বায়তুল মুকাদ্দাসের নিয়ন্ত্রণভার যখন ইউশা ইবন নুন (আ) এর উপর ন্যস্ত
হল, তখন তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের একটি পাথরের উপর এইত ইাবু পম্বুজটি স্থাপন করেন ৷
বনী ইসরাঈলরা এটার দিকে মুখ করে সালড়াত আদায় করত ৷ অতঘ্র পর যখন তাবু গম্বুজটি বিনষ্ট
হয়ে যায় তখন তারা গম্বুজের স্থান অর্থাৎ পাথরের দিকেই সালাত আদায় করতে লাগল ৷ এ
জন্যেই ইউশা (আ)-এর পর থেকে রাসুলুল্লাহ (না)-এর যুগ পর্যন্ত সমস্ত নবীর কিবলা ছিল
এটা ই ৷ এমনকি রাসুলুল্লাহ্ (সা)ও হিজবতের পুর্বে বায়তৃল মুকাদ্দাসেব দিকে মুখ করে সালাত
আদায় করতেন, তবে ক বারীফকে সামনে রেখেই তা করতেন ৷ রাসুল (সা) যখন মদীনায়
হিজরত করেন, তখন তাকে বায়তৃল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করার নির্দেশ
দেয়া হয় এবং ষোল মাস মতান্তরে সতের মাস তিনি বায়তৃল ঘুকাদ্দাসেব দিকে মুখ করে
সালাত আদায় করেন ৷ অতঃপর দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে আসরেব নামাযে মতান্তরে
জোহরের সময় ইবরাহীমী কিবলা কা বার দিকে কিবলা পরিবর্তিত হয় ৷৩ তাফসীরে এ সম্পর্কে
নিম্ন বর্ণিত আয়াতের ব্যাখায় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷
আল্লাহ তা অ ৷লা ইরশাদ করেন :
)
ন্পুদ্র;;£ন্ষ্ ৷ ৷ ) ভ্রুদ্বুা৷,শুা;র্বৃ ;,হ্ প্রুম্ম্পু এ;স্পো ৷এ দ্বু প্রু ৷ ৷ ৰুা৷ fl;
,
নির্বোধ লোকেরা বলবে যে, তারা এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করে আসছিল এটা হতে
কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? বল, পুর্ব ও পশ্চিম অ ল্লাহবই ৷ তিনি যাকে ইচ্ছে সরল পথে
পরিচালিত করেন ৷ আকাশের দিকে তোমার বার বার তাকানােকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করি ৷
সুতরাং তোমাকে অবশ্যই এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি, যা তুমি পছন্দ কর ৷ অতএব,
তুমি মসজিদৃল হারমের দিকে মুখ ফিরাও ৷ তোমরা যেখানেই থাক না কেন সেদিকে মুখ
ফিরাও ৷ (সুরা বাকারা : ১৪২ ও ১৪৪)
وَاللَّآلِيءِ فِي مَعْبَدِهِمْ، وَعِنْدَ مُصَلَّاهُمْ، فَأَمَّا فِي شَرِيعَتِنَا فَلَا، بَلْ قَدْ نُهِينَا عَنْ زَخْرَفَةِ الْمَسَاجِدِ وَتَزْيِينِهَا; لِئَلَّا تَشْغَلَ الْمُصَلِّينَ، كَمَا قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، لَمَّا وَسَّعَ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِلَّذِي وَكَّلَهُ عَلَى عِمَارَتِهِ: ابْنِ لِلنَّاسِ مَا يُكِنُّهُمْ وَإِيَّاكَ أَنْ تُحَمِّرَ أَوْ تُصَفِّرَ فَتَفْتِنَ النَّاسَ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى كَنَائِسَهُمْ.
وَهَذَا مِنْ بَابِ التَّشْرِيفِ وَالتَّكْرِيمِ وَالتَّنْزِيهِ، فَهَذِهِ الْأُمَّةُ غَيْرُ مُشَابِهَةٍ مَنْ كَانَ قَبْلَهُمْ مِنَ الْأُمَمِ; إِذْ جَمَعَ اللَّهُ هَمَّهُمْ فِي صَلَاتِهِمْ عَلَى التَّوَجُّهِ إِلَيْهِ، وَالْإِقْبَالِ عَلَيْهِ، وَصَانَ أَبْصَارَهُمْ وَخَوَاطِرَهُمْ عَنِ الِاشْتِغَالِ وَالتَّفَكُّرِ فِي غَيْرِ مَا هُمْ بِصَدَدِهِ مِنَ الْعِبَادَةِ الْعَظِيمَةِ، فَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ.
وَقَدْ كَانَتْ قُبَّةُ الزَّمَانِ هَذِهِ مَعَ بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي التِّيهِ، يُصَلُّونَ إِلَيْهَا، وَهِيَ قِبْلَتُهُمْ وَكَعْبَتُهُمْ، وَإِمَامُهُمْ كَلِيمُ اللَّهِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَمُقَدِّمُ الْقُرْبَانِ أَخُوهُ هَارُونُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ.
فَلَمَّا مَاتَ هَارُونُ، ثُمَّ مُوسَى، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، اسْتَمَرَّتْ بَنُو هَارُونَ فِي الَّذِي كَانَ يَلِيهِ أَبُوهُمْ مِنْ أَمْرِ الْقُرْبَانِ، وَهُوَ فِيهِمْ إِلَى الْآنَ، وَقَامَ بِأَعْبَاءِ النُّبُوَّةِ بَعْدَ مُوسَى وَتَدْبِيرِ الْأَمْرِ بَعْدَهُ، فَتَاهَ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَهُوَ الَّذِي دَخَلَ بِهِمْ بَيْتَ الْمَقْدِسِ; كَمَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ.
পৃষ্ঠা - ৭১৫
وَالْمَقْصُودُ هُنَا أَنَّهُ لَمَّا اسْتَقَرَّتْ يَدُهُ عَلَى الْبَيْتِ الْمُقَدَّسِ، نَصَبَ هَذِهِ الْقُبَّةَ عَلَى صَخْرَةِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَكَانُوا يُصَلُّونَ إِلَيْهَا، فَلَمَّا بَادَتْ صَلَّوْا إِلَى مَحِلَّتِهَا، وَهِيَ الصَّخْرَةُ، فَلِهَذَا كَانَتْ قِبْلَةَ الْأَنْبِيَاءِ بَعْدَهُ إِلَى زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَدْ صَلَّى إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ وَكَانَ يَجْعَلُ الْكَعْبَةَ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلَمَّا هَاجَرَ أُمِرَ بِالصَّلَاةِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَصَلَّى إِلَيْهَا سِتَّةَ عَشَرَ وَقِيلَ: سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا. ثُمَّ حُوِّلَتِ الْقِبْلَةُ إِلَى الْكَعْبَةِ، وَهِيَ قِبْلَةُ إِبْرَاهِيمَ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ ثِنْتَيْنِ، فِي وَقْتِ صَلَاةِ الْعَصْرِ. وَقِيلَ: الظُّهْرِ، كَمَا بَسَطْنَا ذَلِكَ فِي " التَّفْسِيرِ "، عِنْدَ قَوْلِهِ تَعَالَى: {سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا} [البقرة: 142] إِلَى قَوْلِهِ: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} [البقرة: 144]
[الْبَقَرَةِ: 142 - 144] .
পৃষ্ঠা - ৭১৬
মুসা (আ) এয় সাথে কারুনের ঘটনা
আল্লাহ তাআ'লা ইরশাদ করেনঃ
কারুন ছিল মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল ৷ আমি
তাকে দান করেছিলাম এমন ধনভাণ্ডার যার চাবিগুলো বহন করা একদল বলবান লোকের
পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল ৷ স্মরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করবে না, নিশ্চয় আল্লাহ
দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না ৷ আল্লাহ্ যা তোমাকে দিয়েছেন তা দিয়ে আখিরাতের আবাস
[قِصَّةُ قَارُونَ مَعَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوسَى فَبَغَى عَلَيْهِمْ وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُ قَوْمُهُ لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ - وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ - قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَهْلَكَ مِنْ قَبْلِهِ مِنَ الْقُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا وَلَا يُسْأَلُ عَنْ ذُنُوبِهِمُ الْمُجْرِمُونَ - فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ قَالَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ إِنَّهُ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ - وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ - فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِينَ - وَأَصْبَحَ الَّذِينَ تَمَنَّوْا مَكَانَهُ بِالْأَمْسِ يَقُولُونَ وَيْكَأَنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ لَوْلَا أَنْ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا لَخَسَفَ بِنَا وَيْكَأَنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ - تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} [القصص: 76 - 83]
[الْقَصَصِ: 76 - 83] . قَالَ الْأَعْمَشُ: عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ قَارُونُ ابْنَ عَمِّ
পৃষ্ঠা - ৭১৭
অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলবে না ৷ তুমি অনুগ্রহ কর যেমনটি আল্লাহ
তোমার প্রতি অনুগ্নহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়োনা ৷ আল্লাহ্ বিপর্যয়
সৃষ্টিকারীকে তালবাসেন না ৷ যে বলল, এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি ৷ সে কি
জানত না আল্লাহ তার পুর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানবগােষ্ঠীকে, যারা তার চাতেই শক্তিতে ছিল
প্রবল, জনসংখায় ছিল অধিক ৷ অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না ৷
কারণ, তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে ৷ যারা পার্থিব জীবন
কামনা করত তারা বলল, আহা কারুনকে যেরুপ দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও যদি তা দেয়া
হত ! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান ৷ এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক
তােমাদেরকে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং
ধৈর্যশীল ব্যতীত এটা কেউ পাবে না ৷ তারপর আমি কারুনকে তার প্রাসাদসহ ভুগর্ভে প্রোথিত
করলাম ৷ তার স্বপহ্মে এমন কোন দল ছিল না, যে আল্লাহর শাস্তি থেকে তাকে সাহায্য
করতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না ৷ আগের দিন যারা তার মত হবার
কামনা করেছিল তারা বলতে লাগল, “দেখলে তো আল্লাহ্ তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য
ইচ্ছে, তার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছে হ্রাস করেন ৷ যদি আল্লাহ আমাদের
প্রতি সদয় না হতেন তবে আমদেরকেও তিনি ভুগর্ভে প্রোথিত করতেন ৷ দেখলে তো কাফিররা
সফলকাম হয় না ৷ এটা আখিরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য, যারা
এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না ৷ শুভ পরিণাম মুত্তা ৷র্কীদের জন্য ৷
(সুরা ক মাস ৭৬ ৮৩)
আমাশ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, কারুন ছিল
মুসা (আ)এর চাচাতেো ভাই ৷ অনুরুপভাবে ইবরাহীম নাখয়ী আবদুল্লাহ ইবন হাবিস ইবন
নওফল (র) সিমাক ইবন হরব (র) কাতাদা (র) মালিক ইবন দীনার (র) ও ইবন জুরাইজ (র)
বলেছেন, তবে তারা মুসা (আ) ও কারুনের বংশপরম্পর৷ নিম্নরুপ বর্ণনা করেন ৷ কারুন ইবন
ইয়াসহড়ার ইবন কাহিস; মুসা (আ) ইবন ইমরান ইবন হাফিছ ৷ ইবন জুরইিজ ও অধিকাৎশ
উলামায়ে কিরামের মতে কারুন ছিল মুসা (আ) এর চাচাতে৷ ভাই ৷
’ ইবন ইসহাক (র) তাকে মুসা (আ)-এর চাচা বলে মনে করেন, কিন্তু জুরাইজ (র) তা
প্রত্যাখ্যান করেন ৷ কাতাদা (র) বলেছেন, সুমধুর কণ্ঠে তাওরাত পাঠের জন্যে তাকে নুর বলে
আখ্যায়িত করা হতো ৷ কিন্তু আল্লাহর শত্রু মুনাফিক হয়ে গিয়েছিল, যেমনি সামিরী হয়েছিল ৷
অতঃপর তার ধন দৌলতের কারণে তার দাম্ভিকতা ৷তাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল ৷ শাহর ইবন
হাওশ (র) বলেন, নিজ সম্প্রদায়ের উপর গর্ব করার উদ্দেশ্যে কারুন তার পবিধেয় কাপড়ের
দৈর্ঘ এক বিঘত লম্বা করে দিয়েছিল ৷
আল্লাহ্ তাআলা কারুনের প্রচুর সম্পদের কথা কুরআনুল করীমে উল্লেখ করেছেন ৩ তার
চাবিগুলো শক্তিশালী লোকদের একটি দলের জন্যে কষ্টকর বোঝা হয়ে যেতে ৷ ৷ কেউ কেউ
বলেন, এ চাবিগুলে৷ ছিল চামড়ার তৈরি আর এগুলো বহন করতে ষাটটি খচ্চরের প্রয়োজন
হতো ৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা আলাই সমধিক জ্ঞাত। তার সম্প্রদা য়ের উপদেশ দাতাগণ তাকে
উপদেশ দিয়েছিলেন ৷ তারা তাকে বলেছিলেন, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে গর্ব করো
না এবং অন্যের উপর দর্প করোনা ৷ কেননা, আল্লাহ তা আলা দান্তিক লোকদের পছন্দ করেন
مُوسَى. وَكَذَا قَالَ إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، وَسِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، وَقَتَادَةُ، وَمَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، وَابْنُ جُرَيْجٍ، وَزَادَ فَقَالَ: هُوَ قَارُونُ بْنُ يَصْهَرَ بْنَ قَاهَثَ، وَمُوسَى بْنُ عِمْرَانَ بْنِ قَاهَثَ. قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَهَذَا قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ; أَنَّهُ كَانَ ابْنَ عَمِّ مُوسَى. وَرَدَّ قَوْلَ ابْنِ إِسْحَاقَ إِنَّهُ كَانَ عَمَّ مُوسَى. قَالَ قَتَادَةُ: وَكَانَ يُسَمَّى الْمُنَوِّرَ; لِحُسْنِ صَوْتِهِ بِالتَّوْرَاةِ وَلَكِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ نَافَقَ، كَمَا نَافَقَ السَّامِرِيُّ، فَأَهْلَكَهُ الْبَغْيُ لِكَثْرَةِ مَالِهِ. وَقَالَ شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ: زَادَ فِي ثِيَابِهِ شِبْرًا طُولًا; تَرَفُّعًا عَلَى قَوْمِهِ. وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى كَثْرَةَ كُنُوزِهِ; حَتَّى إِنَّ مَفَاتِيحَهُ كَانَ يَثْقُلُ حِمْلُهَا عَلَى الْفِئَامِ مِنَ الرِّجَالِ الشِّدَادِ، وَقَدْ قِيلَ: إِنَّهَا كَانَتْ مِنَ الْجُلُودِ، وَإِنَّهَا كَانَتْ تُحْمَلُ عَلَى سِتِّينَ بَغْلًا. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَدْ وَعَظَهُ النُّصَحَاءُ مِنْ قَوْمِهِ; قَائِلِينَ: {لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ} [القصص: 76] أَيْ; لَا تَبْطَرْ بِمَا أُعْطِيتَ، وَتَفْخَرْ عَلَى غَيْرِكَ. {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ} [القصص: 77] يَقُولُونَ: لِتَكُنْ هِمَّتُكَ مَصْرُوفَةً لِتَحْصِيلِ ثَوَابِ اللَّهِ فِي الدَّارِ الْآخِرَةِ، فَإِنَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى، وَمَعَ هَذَا {وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا} [القصص: 77] أَيْ; وَتَنَاوَلْ مِنْهَا بِمَالِكَ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ، فَتَمَتَّعْ لِنَفْسِكَ بِالْمَلَاذِّ الطَّيِّبَةِ الْحَلَالِ، {وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ} [القصص: 77] أَيْ; وَأَحْسِنْ إِلَى خَلْقِ اللَّهِ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ خَالِقُهُمْ وَبَارِئُهُمْ إِلَيْكَ، {وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ} [القصص: 77] أَيْ; وَلَا تُسِئْ إِلَيْهِمْ، وَلَا تُفْسِدْ فِيهِمْ فَتُقَابِلَهُمْ ضِدَّ مَا
পৃষ্ঠা - ৭১৮
৬৮৮ আল-বিদায়া ওয়ান নিহড়াযাত্ন্শু
না ৷ আল্লাহ্ যা তোমাকে দিয়েছেন, তা দিয়ে আখিরাতের আবাস অম্বেষণ কর ৷ অর্থাৎ তারা
বলেছিলেন, হে কারুন আখিরাতে আল্লাহ তাআলা থেকে যাবতীয় ছওয়াব অর্জন করার প্রচেষ্টা
তোমার অব্যাহত থাকা প্রয়োজন ৷ কেননা, এটা৫ আমার জন্যে উত্তম ও অধিক৩ র স্থায়ী ৷
এতদসত্বেও তুমি দুনিয়া থেকেণ্ আমার অৎশ ভুলবে না অর্থাৎ বৈধভাবে অর্জন ও ব্যয় করবে
বংহালাল পবিত্র বস্তুসমুহ উপভোগ করবে ৷ তবে আল্লাহ্ তা আলার সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ
করবে, যেমনটি তাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ তা আলা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন ৷ আল্লাহ্র
য়মীনে ফিৎনা-ফাসাদ করবে না ৷ আমার নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও
ঝগড়াঝাটি করবে না ৷ অন্যথায় তোমাকে শাস্তি দেয়৷ হবে এবং তোমাকে যা দেয়৷ হয়েছে তা
কেড়ে নেয়া হবে ৷ কেননা, আল্লাহ্ তাআলা ফিৎনা সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না ৷
তার সম্প্রদায়ের এরুপ স্পষ্ট নসীহতের জবাবে তার একমাত্র উত্তর ছিল , আমার জ্ঞানের
জন্যে আমাকে এসব দেয়া হয়েছে ৷ তোমরা আমাকে যেসব নসীহত করলে এগুলো মান্য করার
আমার কোন প্রয়োজন নেই ৷ কেননা, এগুলো আল্লাহ্ তাআলা আমার দান করেছেন এ জন্য
যে, তিনি আমাকে এসব বস্তুর উপযুক্ত বলে মনে করেছেন ৷ যদি আমি তার অস্তরঙ্গ না হতাম
কিংবা তার কাছে আমার কোন প্রাপ্য না থাকত তাহলে কখনও তিনি আমাকে যা দিয়েছেন তা
দিতেন না ৷ তার এ বক্তব্য খণ্ডন করে আল্লাহ্ তাআলা বলেন০ ং
’ ;fi” , ৷
“সে কি জানত না, আল্লাহ্ তার পুর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানব গোষ্ঠীকে, যারা তার
চাইতে শক্তিতে ছিল প্রবল, জনসংখ্যার ছিল অধিক ৷ অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে
প্রশ্ন করা হবে না ৷ (সুরা কাসাস০ ং ৭৮)
অর্থাৎ তার পুর্বে বহু উম্মতকে তাদের পাপ ও অপরাধের জন্যে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা
কারুন অপেক্ষা শক্তিতে অধিক প্রবল ছিল, ধনবলে, জনবহুল তার চাইতে আংগামী ছিল ৷ যদি
কারুনের বক্তব্য যথার্থ হত তাহলে তার চাইতে অধিক শক্তিশালী ও সম্পদশালী কাউকে শাস্তি
দিতাম না ৷ সুতরাং তার সম্পদ আমার প্রিয়পাত্র বা অনুযহভাজন হওয়ার প্রমাণ নয় ৷ যেমন
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
,াছুও র্চু,থ্রে ৷ ট্রু, হ্ শুা৷ ’ ঢ়দুাঠুৎ ণ্ছুপুষ্ট্রর্দুগু প্রুব্লি ৮ ন্ছুঝুর্বু,৷ হুা,ন্হ্রর্দুাদ্বু,ঠুর্ব ঢুপ্দ্বু
“তোমাদের ধ্ন-সম্পদ ও সন্তান-সভতি এমন কিছু নয় যা তােমাদেরকে আমার নিকটবর্তী
করে দেবে ৷ তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আসে ও সৎকর্ম করে ৷ (সুরা যারা : ৩৭)
অন্যত্র আল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ ????!?; :
(,)ট্রু,ইপু:ছুপ্রু ৰুা টুৰু
أُمِرْتَ فِيهِمْ، فَيُعَاقِبَكَ وَيَسْلُبَكَ مَا وَهَبَكَ، {إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} [القصص: 77] فَمَا كَانَ جَوَابَهُ قَوْمَهُ لِهَذِهِ النَّصِيحَةِ الصَّحِيحَةِ الْفَصِيحَةِ، إِلَّا أَنَّ {قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي} [القصص: 78] يَعْنِي: أَنَا لَا أَحْتَاجُ إِلَى اسْتِعْمَالِ مَا ذَكَرْتُمْ، وَلَا إِلَى مَا إِلَيْهِ أَشَرْتُمْ; فَإِنَّ اللَّهَ إِنَّمَا أَعْطَانِي هَذَا لِعِلْمِهِ أَنِّي أَسْتَحِقُّهُ، وَأَنِّي أَهْلٌ لَهُ، وَلَوْلَا أَنِّي حَبِيبٌ إِلَيْهِ، وَحَظِيٌّ عِنْدَهُ، لَمَا أَعْطَانِي مَا أَعْطَانِي. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى رَدًّا عَلَيْهِ مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ: {أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَهْلَكَ مِنْ قَبْلِهِ مِنَ الْقُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا وَلَا يُسْأَلُ عَنْ ذُنُوبِهِمُ الْمُجْرِمُونَ} [القصص: 78] أَيْ; قَدْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْأُمَمِ الْمَاضِينَ بِذُنُوبِهِمْ وَخَطَايَاهُمْ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْ قَارُونَ قُوَّةً وَأَكْثَرُ أَمْوَالًا وَأَوْلَادًا، فَلَوْ كَانَ مَا قَالَ صَحِيحًا لَمْ نُعَاقِبْ أَحَدًا مِمَّنْ كَانَ أَكْثَرَ مَالًا مِنْهُ، وَلَمْ يَكُنْ مَالُهُ دَلِيلًا عَلَى مَحَبَّتِنَا لَهُ، وَاعْتِنَائِنَا بِهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ بِالَّتِي تُقَرِّبُكُمْ عِنْدَنَا زُلْفَى إِلَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا} [سبأ: 37] . وَقَالَ تَعَالَى: {أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ - نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَلْ لَا يَشْعُرُونَ} [المؤمنون: 55 - 56]
[الْمُؤْمِنُونَ: 55، 56] . وَهَذَا الرَّدُّ عَلَيْهِ يَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ مَا ذَهَبْنَا إِلَيْهِ مِنْ مَعْنَى قَوْلِهِ: {إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي} [القصص: 78] .
وَأَمَّا مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْمُرَادَ مِنْ ذَلِكَ، أَنَّهُ كَانَ يَعْرِفُ صَنْعَةَ الْكِيمْيَاءِ، أَوْ أَنَّهُ كَانَ يَحْفَظُ الِاسْمَ الْأَعْظَمَ، فَاسْتَعْمَلَهُ فِي جَمْعِ الْأَمْوَالِ، فَلَيْسَ بِصَحِيحٍ; لِأَنَّ
পৃষ্ঠা - ৭১৯
“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরুপ যে ধ্নৈশ্বর্য ও সর্ভান সম্ভতি
দান করি তা দিয়ে তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করেছি ? না, বরং তারা বুঝে
না ৷’ ’(সুরা ঘুমিনুন৪ ৫৫ ৫৬)
উপরোক্ত প্রতিউত্তর দ্বারা বোঝা যায় যে, আয়াতাৎশ ক্লোন্; ল্পিাছু ,াহ্রব্ ’ ^ (£ ৷
এর অর্থ আমরা যা বুঝেছি তা যথার্থ ৷ আর যারা মনে করেন কারুন যে জ্ঞানের পর্ব করতো তা
কি রসায়নশাত্রে তার পারদর্শিতা কিংবা তা ছিল৩ তার ইসমে আজমের জ্ঞান, যা প্রয়োগের
মাধ্যমে সম্পদ আহরণ করত, তাদের ধারণা সঠিক নয় ৷ কেননা রসায়নশাস্ত্র এমন একটি শিল্প
বা বস্তুর মৌলিক কোন পরিবতনিঃ সাধন করে না এবং এটা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সাথে তুলনীয় নয় ৷
ইসমে আজম এর মাধ্যমে কা ৷ফিরের দু’আ উর্ধজগতে উথিত হয় না ৷ আর কারুন ছিল অন্তরে
কাফির এবং দৃশ্যত মুনাফিক ৷ এ ছাড়াও এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে৩ তার ৷উত্তরঢি সঠিক হয় না ৷
অধিকন্তু দুটি বাক্যের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কও বিরাজমান থাকে না ৷ এই সম্পর্কে তাফসীর
গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর ৷
অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ধ্ ) গো ৭শ্রুও শুা; র্দুট্রু×র্চুপুণ্ এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে
কারুন তার সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থিত হয়েছিল জাকজমক সহকারে ৷ (সুরা ক ৷সাস৪ ৭৯)
বহু তাফসীরকার উল্লেখ করেছেন যে, একদিন কারুন মুল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান
করে গাড়ি, ঘোড়া, বহু সংখ্যক লস্কর ও পরিচর্যাকারী নিয়ে শহরে বের হল ৷ যারা পার্থিব
সম্পদকে অত্যধিক গুরুতু দিয়ে থাকে, কারুনকে এরুপ শান-শওকতে দেখে তারা কামনা
করতে লাগল যদি তাদেরও এরুপ ধ্ন-সম্পদ থাকত ! তারা তার প্রতি ঈর্ষাষিত হলো ৷ তখনকর
বুদ্ধিমান পণ্ডিত ও সাধকগণ তাদের কথা শুনে তাদেরকে লক্ষ করে বলচুলনং :
অর্থাৎ ধিক তােমাদেরকে আখিরাতের জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্ক৷ ৷রই শ্রেষ্ঠ, অধিকতর
স্থায়ী ও উন্নতর ৷ অ ৷ল্লাহ্ তা জানা বলেনং : র্মু,দ্বুদ্বু পু৷ ৷ ১৷ , অর্থাৎ-এ পৃথিবীর চাকচিকোর
দিকে ভ্রাক্ষেপ না করে আখিরাঃত তর মহাকল্যাণ লাভের জন্য যে উপরোক্ত নসীহতকে গ্রহণ
করতে পারে একমাত্র ঐ ব্যক্তি যার অম্ভরে আল্লাহ্ তা জানা হিদায়ত প্রদান করেছেন, তাকে
দৃঢ়চিত্ত করেছেন, তার বুদ্ধি-বিবেক পােক্ত করেছেন এবং তার গন্তব্যস্থলে পৌছার তাকে
তাওফীক দান করেছেন ৷ কোন কোন বুযুগঢাি দীন কতই না উত্তম কথা বলেছেন, সন্দেহের
স্থলে দুরদৃষ্টি এবং ইদ্রিয়সুখ ভোগের ক্ষেত্রে পরিপুর্ণ বুদ্ধিমত্তা আল্লাহ্ তা জানার কাছে প্রিয় ৷
আল্লাহ তা জানা বলেনৰু ং
অর্থাৎ-আল্লাহ তাআলা যখন কারুনের জাকজমক ও দান্তিকতাসহ স্বীয় সম্প্রদায়ের উপর
পর্ব সহকারে তার শহর প্রদক্ষিণের কথা বর্ণনা করে তার পরিণতি সম্পর্কে বলেন, ত্যাকৃ তার
বাড়িঘরসহ আ ৷মি ভুগর্তে প্রো ৷থিত করলাম ৷ (সুরা কড়াসাস : ৮১)
আল বিদায়৷ ওয়ান নিহায়া ( ১ম খণ্ড) ৮ ৭-
الْكِيمْيَاءَ تَخْيِيلٌ وَصِبْغَةٌ لَا تُحِيلُ الْحَقَائِقَ، وَلَا تُشَابِهُ صَنْعَةَ الْخَالِقِ، وَالِاسْمُ الْأَعْظَمُ لَا يَصْعَدُ الدُّعَاءُ بِهِ مِنْ كَافِرٍ بِهِ، وَقَارُونُ كَانَ كَافِرًا فِي الْبَاطِنِ، مُنَافِقًا فِي الظَّاهِرِ، ثُمَّ لَا يَصِحُّ جَوَابُهُ لَهُمْ بِهَذَا عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ، وَلَا يَبْقَى بَيْنَ الْكَلَامَيْنِ تَلَازُمٌ، وَقَدْ وَضَّحْنَا هَذَا فِي كِتَابِنَا " التَّفْسِيرِ " وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ} [القصص: 79] ذَكَرَ كَثِيرٌ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ أَنَّهُ خَرَجَ فِي تَجَمُّلٍ عَظِيمٍ; مِنْ مَلَابِسَ، وَمَرَاكِبَ، وَخَدَمٍ، وَحَشَمٍ، فَلَمَّا رَآهُ مَنْ يُعَظِّمُ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، تَمَنَّوْا أَنْ لَوْ كَانُوا مِثْلَهُ، وَغَبَطُوهُ بِمَا عَلَيْهِ وَلَهُ، فَلَمَّا سَمِعَ مَقَالَتَهُمُ الْعُلَمَاءُ ذَوُو الْفَهْمِ الصَّحِيحِ، الزُّهَّادُ الْأَلِبَّاءُ، قَالُوا لَهُمْ: {وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا} [القصص: 80] أَيْ; ثَوَابُ اللَّهِ فِي الدَّارِ الْآخِرَةِ خَيْرٌ وَأَبْقَى، وَأَجَلُّ وَأَعْلَى، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ} [القصص: 80] أَيْ; وَمَا يُلْقَى هَذِهِ النَّصِيحَةَ، وَهَذِهِ الْمَقَالَةَ، وَهَذِهِ الْهِمَّةَ السَّامِيَةَ إِلَى الدَّارِ الْآخِرَةِ الْعَلِيَّةِ، عِنْدَ النَّظَرِ إِلَى زَهْرَةِ هَذِهِ الدُّنْيَا الدَّنِيَّةِ، إِلَّا مِنْ هَدَى اللَّهُ قَلْبَهُ، وَثَبَّتَ فُؤَادَهُ، وَأَيَّدَ لُبَّهُ، وَحَقَّقَ مُرَادَهُ، وَمَا أَحْسَنَ مَا قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْبَصَرَ النَّافِذَ عِنْدَ وُرُودِ الشُّبُهَاتِ، وَالْعَقْلَ الْكَامِلَ عِنْدَ حُلُولِ الشَّهَوَاتِ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِينَ} [القصص: 81]
পৃষ্ঠা - ৭২০
ইমাম বুখাবী (র) আবু সালিম (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন : তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাসুল
(সা) দেখতে পেলেন, সে তার পরিধেয় বস্ত্র হেচড়িয়ে চলছে ৷ সে ভুগর্ভে চলে যাচ্ছে ৷
কিয়ামতে র দিন পর্যন্ত যে এভ৷ রে ভুগভে ৩তলিয়ে যেতেই থাকবে ৷
ইমাম বুখাবী (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকেও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ ইবন আব্বাস
(রা) ও ইমাম সুদ্দী (ব) বর্ণনা করেছেন, একদিন কারুন একজন ব্যভিচাবী মহিলাকে এ শর্তে
কিছু অর্থ দিল যে, সে জনতার সামনে প্রকাশ্যে বলবে, হে মুসা! তুমি আমার সাথে ব্যভিচার
করেছ ৷ কথিত আছে যে, মহিলাটি জনসমক্ষে মুসা (আ) কে এরুপ বলেছিল ৷ মুসা (আ)
আৎকে উঠলেন এবং দৃ’রাকড়াত নামায আদায় করলেন ৷ অতঃপর মহিলাটির দিকে অগ্রসর হয়ে
শপথ সহকারে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তােমাকে এরুপ মিথ্যা অপবাদে কে প্ররোচিত
করেছে?’ মহিলাটি তখন উল্লেখ করল যে, ক রুনই তাকে এ কাজে প্ররােচিত করেছে ৷ সে
আল্লাহ তা আলার কাছে ক্ষমা চ ইল এবং তওব৷ করল ৷ তখন মুসা (আ ) সিজদাবনত হলেন
এবং কা রুনের বিরুদ্ধে বদৃ দুআ করলেন ৷ আল্লাহ তা জানা মুসা র্বঅ৷ ) এর কাছে এ মর্মে ওহী
প্রেরণ করলেন যে, ভুমিকে নির্দেশ ৷দেয়া হয়েছে৷ এ ব্যাপারে সে ৫৩ ৷মার যাবতীয় নির্দেশ মান্য
করবে ৷ তখন মুসা (আ) ক রুন ও তার ঘরবড়াড়ি গ্রাস করার জন্যে ভুমিকে নির্দেশ দিলেন ৷
ফ্লে তাই হয় ৷ আল্পাহ্ তাআলাই সর্বজ্ঞ ৷
এরুপও কথিত ৩আছে যে, একদিন ক রুন সাজসজ্জা করে সৈন্য সামম্ভ, ঘোড়া, খচ্চব ও
মুল্যবান পে শাক পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে তার সম্প্রদায়কে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শনার্থে মুসা
(আ)-এর মাহফিলের পাশ ৷দিয়ে যাচ্ছিল ৷ মুসা (আ ) তখন তার সম্প্রদায়কে তাৎপর্যপুর্ণ
ঘটনাবহুল দিনগুলো সম্বন্ধে নসীহত করছেন ৷ জনতা যখন কারুনকে দেখল , তখন মজলিসের
অনেকেই তার দিকে ফিরে৩ ৷ কাল ৷ মুসা (আ) তাকে ডাকালেন এবং তার এরুপ করার কারণ
জিজ্ঞেস করলেন ৷ কারুন বলল, হে মুসা যদিও তুমি নবুওত প্রাপ্ত হয়ে আমার উপর শ্রেষ্ঠতু
অত্তনি করেছ, কিন্তু মনে রেখো, আমিও বিত্ত-সম্পদের দিক থেকে ণ্৩ ৷মার উপর শ্রেষ্ঠতৃ অর্জন
করেছি ৷ যদি ইচ্ছে কর, তা তুলে তুমি ঘরের বের হয়ে আমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদু আ
করতে পার এবং আমিও তোমার বিরুদ্ধে বদ দুআ করব ৷
তখন তারা উভয়েই জনতার সামনে হাযির হলেন ৷ মুসা (আ ) বললেন, তুমি দুআ করবে,
না কি আমি দু আ করব? “অভ পর কারুন দু অ করল কিন্তু মুসা (আ ) এর বিরুদ্ধে তার দু আ
কবুল হলো না ৷ মুসা (আ) বললেন, এবার আমি দু আ করব কি? ক রুন বলল, হ্যা ৷ মুসা
(আ) বললেন, ণ্প্রু এ ষ্এষ্এপ্ এ;>,১৷ ৷ঐপ্লু১ স্পেরুা৷ ৷ “হে আল্লাহ্ৰু ভুমিকে নির্দেশ দাও, যাতে
যে আজ আমার নির্দেশ মান্য করে ৷ ’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ ) কে ওহীর মাধ্যমে
জানালেন, আমি ভুমিকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি ৷ ’ তখন মুসা (আ) বললেন, হে ভুমি ৷ তাদেরকে
পাকড়াও কর !’ ভুমি তাদেরকে তাদের পা পর্যন্ত গ্রাস করল ৷ এরপর মুসা (আ ) বললেন হে
ভুমি তাদেরকে আরো পাকড়াও কর ৷ ভুমি তাদেরকে হাটু পর্যন্ত গ্রাস করল ৷ তারপর কাধ
পর্যত ৷ পুনরায় মুসা (আ) বললেন, তাদের পুঞ্জীভুত ধন-দৌলতের দিকে অগ্রসর হও ৷ ভুমি
لَمَّا ذَكَرَ تَعَالَى خُرُوجَهُ فِي زِينَتِهِ، وَاخْتِيَالَهُ فِيهَا، وَفَخْرَهُ عَلَى قَوْمِهِ بِهَا، قَالَ: {فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ} [القصص: 81] .
كَمَّا رَوَى الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «بَيْنَا رَجُلٌ يَجُرُّ إِزَارَهُ، إِذْ خُسِفَ بِهِ، فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِي الْأَرْضِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.» ثُمَّ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ جَرِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ.
وَقَدْ ذُكِرَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَالسُّدِّيِّ، أَنَّ قَارُونَ أَعْطَى امْرَأَةً بَغِيًّا مَالًا، عَلَى أَنْ تَقُولَ لِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَهُوَ فِي مَلَأٍ مِنَ النَّاسِ: إِنَّكَ فَعَلْتَ بِي كَذَا وَكَذَا. فَيُقَالُ: إِنَّهَا قَالَتْ لَهُ ذَلِكَ فَأَرْعَدَ مِنَ الْفَرَقِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهَا فَاسْتَحْلَفَهَا: مَنْ دَلَّكِ عَلَى ذَلِكَ، وَمَا حَمَلَكَ عَلَيْهِ؟ فَذَكَرَتْ أَنَّ قَارُونَ هُوَ الَّذِي حَمَلَهَا عَلَى ذَلِكَ، وَاسْتَغْفَرَتِ اللَّهَ، وَتَابَتْ إِلَيْهِ، فَعِنْدَ ذَلِكَ خَرَّ مُوسَى لِلَّهِ سَاجِدًا، وَدَعَا اللَّهَ عَلَى قَارُونَ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: إِنِّي قَدْ أَمَرْتُ الْأَرْضَ أَنْ تُطِيعَكَ فِيهِ، فَأَمَرَ مُوسَى الْأَرْضَ أَنْ تَبْتَلِعَهُ وَدَارَهُ، فَكَانَ ذَلِكَ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَدْ قِيلَ: إِنَّ قَارُونَ لَمَّا خَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ، مَرَّ بِجَحْفَلِهِ، وَبِغَالِهِ، وَمَلَابِسِهِ، عَلَى مَجْلِسِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَهُوَ يُذَكِّرُ قَوْمَهُ بِأَيَّامِ اللَّهِ، فَلَمَّا رَآهُ النَّاسُ انْصَرَفَتْ وُجُوهُ كَثِيرٍ مِنَ النَّاسِ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ، فَدَعَاهُ
পৃষ্ঠা - ৭২১
এগুলোর দিকে অগ্রসর হল এবং তারা সে দিকে তাকাল ৷ মুসা (আ) আপন হাতে ইংগিত
করলেন এবং বললেন, বনু লাওয়ী নিপাত যাওা’ সাথে সাথে ভুমি তাদেরকে গ্রাস করে
ফেলল ৷
কাতাদা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন কারুন ও তার সম্প্রদায় কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিদিন
একটি মানব দেহের পরিমাণ তলিয়ে যেতে থাকবে ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, সপ্ত যমীন পর্যন্ত ভুমি তাদেরকে ভুগর্ভস্থ করেছিল ৷ এই প্রসঙ্গে বহু
তাফসীরকার বহু ইসরাঈলী বর্ণনা পেশ করেছেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো পবিহার
é»
করেছি ৷ আয়াতাৎশ
;,,এ্যা ;,ঠু০ ;,া< র্চু০, তার জন্যে নিজের থেকে কিৎব৷ অপর থেকে কোন
সাহায্যকারী ছিল না ৷
া
যেমন আল্লাহ তা আলা বলেছেন০ ং :,া দ্ব৷ , ১ ,এ ;,,০ ণ্া৷ ৷০১ অর্থাৎ তার শক্তিও নেই
ৎব৷ তার সাহায্যকারীও নেই ৷ যখন ক রুন ভুগর্ভে চলে গেল তার বাড়িঘর জ ন মাল
পরিবার পরিজন, জমি-জম৷ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ৷ কারুনের ন্যায় যারা সম্পদ কামনা করেছিল
তারা লজ্জিত হল এবং আল্লাহ্ তাআলার দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল ৷ আল্লাহ্ তাআলা
মানুষের জন্যে উত্তম ব্যবস্থাপনা করে থাকেন ৷ এ জন্যেই তারা বলল০ :
(
“যদি অ ল্লা৷হ্ তা আলা আমাদের প্রতি সদয় না হতেন, তবে আমাদেরকেও তিনিভু গর্ভে
প্রোথিত করতেন ৷ দেখলে তো , কাফিররা সফলকাম হয় না ৷ (সুরা কাসাস : ৮২)
আয়াতে উল্লেখিত :;াপু , শব্দটি সম্পর্কে তাফসীরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷
কাত৷ দা (র) বলেছেনং : ;, ৷হ্রা, এর অর্থ হচ্ছেপ্ ;, ,ওণ্৷ অর্থাৎ তুমি কি দেখনি? ও অর্থের
দিক দিয়ে এটি একটি চমৎকার উক্তি ৷
অতঃপর আল্লাহ তাআলা জ নিয়ে দেন৪ ৷ ,৷ ৷ ’ ৷ ও : :,১৷ ৷ ’ ৷ এ ৷;,
আখিরাতের আবাস অর্থাৎ স্থায়ী আবাস ৷ এটা এমন একটি আবাস যাকে দেয়৷ হয় সে
ঈর্যার পাত্র হয় ৷ আর যাকে বঞ্চিত করা হয় সে করুণার পাত্র হয় ৷ এরুপ আবাসস্থল এমন
লোকদের জন্যে তৈরি করে রাখা হয়েছে, যারা পৃথিবীতে টুদ্ধত হতে চায় না কিংবা কোন
প্রকার বিপর্যয়ও সৃষ্টি করতে চায় না ৷ আয়াতে উল্লেখিত দ্বুর্বৃদ্বু কথাটির অর্থ হচ্ছে ঔদ্ধত্য
অহংকার ও গর্ব র্দুা৷পুণ্ রা বিপর্যয়ের অর্থ হচ্ছে পাপের কাজ যা পাপী ব্যক্তির নিজের মধ্যে
হোক বা অন্যের সাথে সম্পৃক্ত হোক ৷ যেমন লোকের সম্পদ আত্মসাৎ করা ও তাদের জীবিকা
অর্জনের পথে বিব্ল সৃষ্টি করা, তাদের প্রতি ৩দৃর্বাবহার করা এবং তাদের অকল্যাণ কামনা করা ৷
অতঃপর আল্লাহ্ তা আলা বলেন ^ ণ্া£দ্বুা০পু৷ ৷ “শুভ পরিণতি তাক্ওয়া
অবলম্বনকারীদের জন্যে ৷ ” কারুনের ঘটনাটি হয়ত ৩রা তাদের মিসর থেকে বের হবার পুর্বেই
সংঘটিত হয়েছিল ৷
مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَقَالَ لَهُ: مَا حَمَلَكَ عَلَى هَذَا؟ فَقَالَ يَا مُوسَى، أَمَا لَئِنْ كُنْتَ فُضِّلْتَ عَلَيَّ بِالنُّبُوَّةِ، فَلَقَدْ فُضِّلْتُ عَلَيْكَ بِالْمَالِ، وَلَئِنْ شِئْتَ لَتَخْرُجَنَّ فَلَتَدْعُوَنَّ عَلَيَّ، وَلَأَدْعُوَنَّ عَلَيْكَ. فَخَرَجَ، وَخَرَجَ قَارُونُ فِي قَوْمِهِ، فَقَالَ لَهُ مُوسَى تَدْعُو أَوْ أَدْعُو؟ قَالَ: أَدْعُو أَنَا. فَدَعَا قَارُونُ، فَلَمْ يُجَبْ فِي مُوسَى، فَقَالَ مُوسَى: أَدْعُو؟ قَالَ: نَعَمْ. فَقَالَ مُوسَى: اللَّهُمَّ مُرِ الْأَرْضَ فَلْتُطِعْنِي الْيَوْمَ. فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: إِنِّي قَدْ فَعَلْتُ. فَقَالَ مُوسَى: يَا أَرْضُ خُذِيهِمْ. فَأَخَذَتْهُمْ إِلَى أَقْدَامِهِمْ، ثُمَّ قَالَ خُذِيهِمْ. فَأَخَذَتْهُمْ إِلَى رُكَبِهِمْ، ثُمَّ إِلَى مَنَاكِبِهِمْ، ثُمَّ قَالَ: أَقْبِلِي بِكُنُوزِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ. فَأَقْبَلَتْ بِهَا، حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهَا ثُمَّ أَشَارَ مُوسَى بِيَدِهِ، فَقَالَ: اذْهَبُوا بَنِي لَاوِي. فَاسْتَوَتْ بِهِمُ الْأَرْضُ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ قَالَ: يُخْسَفُ بِهِمْ كُلَّ يَوْمٍ قَامَةً، إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: خُسِفَ بِهِمْ إِلَى الْأَرْضِ السَّابِعَةِ. وَقَدْ ذَكَرَ كَثِيرٌ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ هَاهُنَا إِسْرَائِيلِيَّاتٍ كَثِيرَةً، أَضْرَبْنَا عَنْهَا صَفْحًا وَتَرَكْنَاهَا قَصْدًا.
وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِينَ} [القصص: 81] لَمْ يَكُنْ لَهُ نَاصِرٌ مِنْ نَفْسِهِ، وَلَا مِنْ غَيْرِهِ، كَمَا قَالَ: {فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ} [الطارق: 10] . وَلَمَّا حَلَّ بِهِ مَا حَلَّ مِنَ الْخَسْفِ، وَذَهَابِ الْأَمْوَالِ، وَخَرَابِ الدَّارِ، وَهَلَاكِ النَّفْسِ وَالْأَهْلِ وَالْعَقَارِ، نَدِمَ مَنْ كَانَ تَمَنَّى مِثْلَ مَا أُوتِيَ، وَشَكَرُوا اللَّهَ تَعَالَى الَّذِي يُدَبِّرُ عِبَادَهُ بِمَا يَشَاءُ مِنْ حُسْنِ التَّدْبِيرِ الْمَخْزُونِ، وَلِهَذَا قَالُوا: {لَوْلَا أَنْ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا لَخَسَفَ بِنَا وَيْكَأَنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} [القصص: 82]
পৃষ্ঠা - ৭২২
কেননা, আল্লাহ তা আল৷ বলেছেন৪ শু১ঠুর্মু৷ ! ,া১ র্চু ধ্ ৷০১;১৩ তাকে ও তার
প্রাসাদ ভুগ র্ভে প্রোথিত করলাম ৷ এ ৷া-এর প্রকাশ্য অর্থ প্রাসাদই হয়ে থাকে ৷ আবার এটা হয়ত
বা ভীহের ময়দানেই হয়েছিল ৷ তাহলে এখানে ) এর অর্থ হবে এমন একটি স্থান যেখানে
র্তাবু নির্মাণ করা হয়ে থাকে ৷ যেমন প্রসিদ্ধ করি আনতারাহ্ বলেছেন
এখানে ) ৷ ১ শব্দটি স্থান অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে ৷ আল্লাহ্ তাআলা কারুনের অপকীর্তির
কথা একাধিক আয়াতে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেনঃ
াট্রু;র্দুপুট্রু
“আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মুসাকে প্রেরণ একরেছিলাম ফিরআউন হামান
ও কারুনে র নিকট, কিন্তু৩ তারা বলেছিল এ তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী ৷ (সুরা মু মিন
৪ ২৩ ২৪)
আল্লাহ তাআলা সুরায়ে আনকাবুতে অড়াদ, ছামুদ, কারন, ফিরআউন ও হামানের কথা
উল্পেখের পর বলেন০ ং
াপ্রু১এে
ণ্ঠের্চুং
া৷
া
“মুসা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল ৷ তখন তারা দেশে দম্ভ করত, কিন্তু তারা
আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি ৷ তাদের প্রতেককেই আমি তার অপরাধের জন্যে শাস্তি
দিয়েছিলাম ৷ তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড ঝড় ৷ তাদের কাউকে আঘাত
করেছিল মহানাদ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছিলাম তুগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম
নিমজ্জিত ৷ আল্লাহ তাদের প্রতি কে ন জুলুম করেননি ৷৩ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম
করেছিল ৷ (সুরা আনকাবুত৪ ৩৯ ৪০)
যাকে ভুগর্ভে প্রোথিত করা হয়েছিল সে ছিল কারুন, যার কথা পুর্বে বর্ণনা করা হয়েছে ৷
যাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছিল, তারা ছিল ফিরআউন, হামান ও তাদের সৈন্য-সামন্ত ৷ তারা
ছিল অপরাধী ৷
ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) সালড়াত সম্বন্ধে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনং : যে ব্যক্তি সালাত নিয়মিত আদায়
করে, কিয়ামতের দিন এই স ৷লাত তার জন্যে হবে নুর, দলীল ও পবিত্রাণের উপকরণ আর যে
ব্যক্তি সালড়াত নিয়মিত আদায় করবে না তার জন্যে কে ন নুর, দলীল ও নাজাত হবে না এবং
কিয়ামতের দিন যে কারন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবন খালফের সঙ্গী হবে ৷ এটি ইমাম
আহমদ-এর একক বর্ণনা ৷
وَقَدْ تَكَلَّمْنَا عَلَى لَفْظِ: " وَيْكَ " فِي " التَّفْسِيرِ "، وَقَدْ قَالَ قَتَادَةُ: وَيْكَأَنَّ بِمَعْنَى أَلَمْ تَرَ أَنَّ. وَهَذَا قَوْلٌ حَسَنٌ مِنْ حَيْثُ الْمَعْنَى. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. ثُمَّ أَخْبَرَ تَعَالَى {تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ} [القصص: 83] وَهِيَ دَارُ الْقَرَارِ. وَهِيَ الدَّارُ الَّتِي يُغْبَطُ مَنْ أُعْطِيَهَا، وَيُعَزَّى مَنْ حُرِمَهَا، إِنَّمَا هِيَ مُعَدَّةٌ لِلَّذِينِ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا. فَالْعُلُوُّ هُوَ التَّكَبُّرُ وَالْفَخْرُ وَالْأَشَرُ وَالْبَطَرُ. وَالْفَسَادُ هُوَ عَمَلُ الْمَعَاصِي اللَّازِمَةِ وَالْمُتَعَدِّيَةِ; مِنْ أَخْذِ أَمْوَالِ النَّاسِ، وَإِفْسَادِ مَعَايِشِهِمْ، وَالْإِسَاءَةِ إِلَيْهِمْ، وَعَدَمِ النُّصْحِ لَهُمْ، ثُمَّ قَالَ تَعَالَى: {وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} [الأعراف: 128] .
وَقِصَّةُ قَارُونَ هَذِهِ، قَدْ تَكُونُ قَبْلَ خُرُوجِهِمْ مِنْ مِصْرَ; لِقَوْلِهِ: {فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ} [القصص: 81] فَإِنَّ الدَّارَ ظَاهِرَةٌ فِي الْبُنْيَانِ، وَقَدْ تَكُونُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي التِّيهِ، وَتَكُونُ الدَّارُ عِبَارَةً عَنِ الْمَحِلَّةِ الَّتِي تُضْرَبُ فِيهَا الْخِيَامُ، كَمَا قَالَ عَنْتَرَةُ:
يَا دَارَ عَبْلَةَ بِالْجِوَاءِ تَكَلَّمِي ... وَعِمِي صَبَاحًا دَارَ عَبْلَةَ وَاسْلِمِي
وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى مَذَمَّةَ قَارُونَ فِي غَيْرِ مَا آيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ; قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُبِينٍ - إِلَى فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَقَارُونَ فَقَالُوا سَاحِرٌ كَذَّابٌ} [غافر: 23 - 24]
[غَافِرٍ: 23، 24] . وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْعَنْكَبُوتِ " بَعْدَ ذِكْرِ عَادٍ وَثَمُودَ: {وَقَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانُوا سَابِقِينَ - فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} [العنكبوت: 39 - 40]
[الْعَنْكَبُوتِ: 39، 40] .
পৃষ্ঠা - ৭২৩
فَالَّذِي خُسِفَ بِهِ الْأَرْضُ قَارُونُ، كَمَا تَقَدَّمَ، وَالَّذِي أُغْرِقَ فِرْعَوْنُ، وَهَامَانُ، وَجُنُودُهُمَا، إِنَّهُمْ كَانُوا خَاطِئِينَ.
وَقَدْ قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، حَدَّثَنَا كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ عِيسَى بْنِ هِلَالٍ الصَّدَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا، فَقَالَ: «مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانًا وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا، لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورٌ وَلَا بُرْهَانٌ وَلَا نَجَاةٌ وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ» انْفَرَدَ بِهِ أَحْمَدُ، رَحِمَهُ اللَّهُ.
পৃষ্ঠা - ৭২৪
মুসা (আ)-এর ফযীলত স্বভাব গুণাবলী ও ওফাত
আল্লাহ্ত ৷অ ৷ল৷ ইরশাদ করেনং :
৷ আ ,দ্বু১ ৷ ,
“স্মরণ কর, এই কিভাবে উল্লেখিত মুসার কথা, যে ছিল বিশুদ্ধচিও এবং সে ছিল রাসুল,
নবী ৷ তাকে আমি আহবান করেছিলাম তুর পর্বতে র দক্ষিণ দিক থেকে এবং আমি অম্ভরঙ্গ
আলাপে তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম ৷ আমি নিজ অনুগ্রহেত তাকে দিলাম তার তা ই হারুনকে
নবীরুপে ৷ (সুরা মারয়ামং ৫১ ৫৩)
আল্লাহ্ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশ ৷৷দ করেন :
^ন্১াহ্র র্বৃ; ,; ,ট্রি৷ ৷ প্লু০ মোঃ ৷ ষ্ ৷ ৷দ্বুৰুঝু ৷রুর্বৃ(াত্রে
আল্লাহ্ তা আলা বলেন, হে মুসা ৷ আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা
মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠতৃ দিয়েছি ৷ (সুরা আরাফ৪ ১৪৪)
সহীহ বুখারী ও ঘৃসলিমেব বরাতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা ) বলেন০ ং
আমাকে তোমরা মুসা (আ) এর উপর গ্রেষ্ঠতৃ প্রদান করবে না ৷ কেননা, কিয়ামণ্ডে র দিন যখন
মানব জাতি সৎজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, তখন আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে সংজ্ঞা ৷ফিরে পারে৷ ৷ তখন
আমি মুসা (আ) কে আল্পাহ্ তাআলার আরশের একটি স্তম্ভ ধরে রয়েছে দেখতে পাব ৷ আমি
জানি না, তিনি কি অচে৩ ন হয়েছিলেন? অত ৩ঘ্রপর আমার পুর্বে৩ তিনি চেতনা ফিরে পেলেন
নাকি ভুরে অচেতন হওয়ার প্রতিদানে তিনি আদৌ অচে৩ নই হননি ৷ একথা আমরা পুর্বে উল্লেখ
করেছি যে, এ ধরনের উক্তি ছিল রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর বিনম্রত ৷ ও বিনয়ের প্রকাশ স্বরুপ ৷
কেননা, তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী, তিনি ছিলেন দুনিয়া ও আখিরাঃত নিং সন্দেহে আদম
সন্তানের সর্দার ৷ এর বিপরীত হওয়ার কোন অবকাশ নেই ৷
াল্লাহ ত ৷আলা ইবশাদ করেন ং
¢
মোঃক্ট্রস্এ ক্রো
া
[ذِكْرُ فَضَائِلِ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ وَشَمَائِلِهِ وَصِفَاتِهِ وَوَفَاتِهِ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا - وَنَادَيْنَاهُ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا - وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا} [مريم: 51 - 53]
[مَرْيَمَ: 51 - 53] . وَقَالَ تَعَالَى: {قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي} [الأعراف: 144] . وَتَقَدَّمَ فِي " الصَّحِيحَيْنِ "، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «لَا تُفَضِّلُونِي عَلَى مُوسَى، فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ، فَأَجِدُ مُوسَى بَاطِشًا بِقَائِمَةِ الْعَرْشِ، فَلَا أَدْرِي أَصُعِقُ فَأَفَاقَ قَبْلِي، أَمْ جُوزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّورِ.» وَقَدَّمْنَا أَنَّ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَابِ الْهَضْمِ وَالتَّوَاضُعِ، وَإِلَّا فَهُوَ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ، عَلَيْهِ خَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ، وَسَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ قَطْعًا جَزْمًا لَا يَحْتَمِلُ النَّقِيضَ. وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ} [النساء: 163] إِلَى أَنْ قَالَ: {وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164]
[النِّسَاءِ: 163، 164] .
পৃষ্ঠা - ৭২৫
“আমি তো তে তামার কাছে ওহী প্রেরণ করেছি, যেমন নুহ ও তার পরবর্তী নবীদের কাছে
প্রেরণ করেছিলাম, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহড়াক, ইয়াকুব ও তার বং শধরগণ ঈসা, আইয়ুব,
ইউনুস, হারুন ও সুলায়মান এর নিকটও ওহী প্রেরণ করেছিলাম এবং দাউদকে যাবুর
দিয়েছিলাম ৷ অনেক রাসুল প্রেরণ করেছি যাদের কথা পুর্বে আমিণ্ তামাকে বলেছি এবং অনেক
রাসুল, যাদের কথা তোমাকে বলিনি এবং মুসার সাথে আল্লাহ্ সাক্ষাত বাক্যালাপ করেছিলেন ৷
(সুরা নিসা : ১৬৩ ১৬৪)
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন :
৷ ৷ ৷
তাস্ট্র
“হে মুমিনগণ! মুসাকে যারা ক্লেশ দিয়েছে, তোমরা তাদের মত হয়ো না ৷ ওরা ৷যা রটনা
করেছিল, আল্লাহ তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন এবং আল্লাহর নিকট সে মর্যাদাবান ৷
(সুরা আহযাব : ৬৯)
ইমাম বুখারী (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা)
ইরশাদ করেন; মুসা (আ) ছিলেন এক লজ্জাশীল ও পদা রক্ষাকারী ব্যক্তি ৷ শালীনতার কারণে
তার দেহের কোন অং শই দেখা যেতাে না ৷৩ তাই বনী ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক লোক তাকে
অপবাদ দিল ও বলতে লাগল, কোন রোগের কারণে তিনি নিজের পায়ের চামড়া কাউকে
দেখতে দেন না ৷ তিনি শ্বেত রোগ কিৎবা একশিরা অথবা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত রয়েছেন ৷
আল্পাহ্ তা আলা তাকে সে সব দোষ থেকে মুক্ত বলে প্রতিপন্ন করতে ইচ্ছে করলেন ৷ একদিন
মুসা (আ) এক নির্জন স্থানে গোসল করছিলেন ও পাথরের উপর কাপড় রেখেছিলেন ৷ যখন
তিনি গোসল সেরে কাপড় পরার জন্যে কাপড় ধরতে গেলেন, অমনি পাথর কাপড় নিয়ে
দৌড়াতে লাগল ৷ মুসা (আ) হাতে লাঠি ধারণ করলেন ও পাথরের পেছনে ছুটলেন এবং বলতে
লাগলেন, হে পাথর! আমার কাপড়, হে পাথর! আমার কাপড় ৷ এমনিভাবে তিনি দৌড়াতে
দৌড়াতে বনী ইসরাঈলের গণ্যমান্য লোকদের সামনে হাযির হয়ে গেলেন ৷ তখন তারা র্তাকে
ৰিবস্ত্র অবস্থায় দেখে নিল যে, আল্পাহ্ তাআলা র্তাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন ৷ এভাবে
আল্লাহ্ তাআলা তাদের অপবাদ থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন ৷ পাথরটি থেমে গেল, মুসা
(আ) আপন কাপড় তুলে নিয়ে পরে নিলেন আর পাথরকে তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করতে
লাগলেন ৷ তিনটি, চারটি কিৎবা পাচটি অাঘাতের কার ণে পাথরের উপর অৎশ ক্ষত-বিক্ষত হয়ে
গিয়েছিল ৷ এই তথ্যের প্রতি ইৎগিত করা হয়েছে নিম্নের আয়া তেং :
)
াপ্ <া৷ ৷ : ৷ দ্বুহুএ দ্বু,গ্লুক্ট্র ৷ ট্রুএ্ ৷ এেএাও ৷ণ্র্চু১ষ্ট্রওএখু ১া৷পুরুপুার্চু, র্দু১র্দু ৷ র্চুষ্ট্রুৰ্টঙু ,
’ ৷টুপু
হে মুমিনগণ! তে তামরা ওদের মত হয়ো না, যারা মুসাকে কেশ দিয়েছিল ৷ ওরা যা রটনা
করেছিল, আল্লাহ্ তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন এবংঅাল্পাহ্র নিকট সে মযদািবান ৷
(সুরা আহযাব : ৬৯)
وَقَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا} [الأحزاب: 69] .
قَالَ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنْ عَوْفٍ، عَنِ الْحَسَنِ، وَمُحَمَّدٍ، وَخِلَاسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مُوسَى كَانَ رَجُلًا حَيِيًّا سِتِّيرًا، لَا يَرَى جِلْدَهُ شَيْءٌ; اسْتِحْيَاءً مِنْهُ، فَآذَاهُ مَنْ آذَاهُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَقَالُوا: مَا يَسْتَتِرُ هَذَا التَّسَتُّرَ إِلَّا مِنْ عَيْبٍ بِجِلْدِهِ; إِمَّا بَرَصٌ وَإِمَّا أُدْرَةٌ وَإِمَّا آفَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ، عَزَّ وَجَلَّ، أَرَادَ أَنْ يُبَرِّئَهُ مِمَّا قَالُوا لِمُوسَى، فَخَلَا يَوْمًا وَحْدَهُ فَوَضَعَ ثِيَابَهُ عَلَى الْحَجْرِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ، فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى ثِيَابِهِ لِيَأْخُذَهَا، وَإِنَّ الْحَجَرَ عَدَا بِثَوْبِهِ، فَأَخَذَ مُوسَى عَصَاهُ وَطَلَبَ الْحَجَرَ فَجَعَلَ يَقُولُ: ثَوْبِي حَجَرُ، ثَوْبِي حَجَرُ. حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَلَأٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَرَأَوْهُ عُرْيَانًا، أَحْسَنَ مَا خَلْقَ اللَّهُ وَبَرَّأَهُ مِمَّا يَقُولُونَ، وَقَامَ الْحَجَرُ فَأَخَذَ ثَوْبَهُ فَلَبِسَهُ وَطَفِقَ بِالْحَجَرِ ضَرْبًا بِعَصَاهُ، فَوَاللَّهِ إِنَّ بِالْحَجَرِ لَنَدَبًا مِنْ أَثَرِ ضَرْبِهِ ثَلَاثًا أَوْ أَرْبَعًا، أَوْ خَمْسًا» قَالَ: فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا} [الأحزاب: 69] وَقَدْ رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، وَهَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهِ، وَهُوَ فِي
পৃষ্ঠা - ৭২৬
ইমাম আহমদ (র), ইমাম বুথারী (ব) ও মুসলিম (র) বিভিন্ন সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা
করেছেন ৷ প্রাচীন কালের আলিমগণের কেউ কেউ বলেন, মুসা (অ্যা-এর মাহাথ্যের একটি
ছিল-তিনি আল্লাহ তাআলড়ার সমীপে আপন ভাই-এর ব্যাপারে সুপারিশ করেছিলেন এবং
তাকে তার সাহায্যকারী হিসেবে পাওয়ার জন্যে দরখাস্ত করেছিলেন ৷ আল্লাহ তড়াআলা তার
দরখাস্ত কবুল করেছিলেন এবং তার ভাইকে নবীও করে দিয়েছিলেন ৷ যেমন আল্লাহ তড়াআলা
ইরশাদ করেন : র্শ্বপুির্বৃ এেদ্বুর্দুণ্ গুর্মো ;fi;§ ট্রু,ন্প্লু র্দুর্দুথ্রেদ্বুঠু
আমি নিজ অৰুগ্নহে তাকে দিলাম তার ভাই হারুনকে নবীরুপে ! (সুরা মারয়াম : ৫৩)
ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা“ করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুল (সা) কিছু সম্পদ সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করেন ৷ তখন এক ব্যক্তি বলল, এই বণ্টনের
দ্বারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি ৷ বর্ণনাকড়ারী বলেন, তখন আমি
রাসুলুল্লাহ (না)-এর দরবারে এসে র্তাকে তা জানালাম ৷ তখন আমি তার ঢেহারায় ৫ক্রাধের
ভাব লক্ষ্য করলাম ৷ তখন তিনি ইরশাদ করেন, মুসা (আ) এর উপর আল্লাহ তা আলার রহমত
বর্ষিত হোক ৷ তাকে এর চাইতেও বেশি ক্লেশ দেয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ
করেছিলেন ৷ ইমাম মুসলিম (ব)-ও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷
ইমাম আহমদ (র)-ও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ তার সাহাবীগণকে সম্বোধন করে বলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন কারোর
দোষ সম্বন্ধে আমাকে অবহিত না করে ৷ কেননা আমি চাই, যেন তোমাদের মধ্যে পরিষ্কার মন
নিয়ে চলাফেরা করি ৷ অর্থাৎ আমার মনে যেন তোমাদের কারো ব্যাপারে বিরুপ ধারণা না
থাকে ৷ বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন, ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে কিছু সম্পদ এসে
পৌছল ৷ তখন তিনি এগুলো বিতরণ করলেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আমি দুই
ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম , তখন একজন অন্যজনকে বলছিল, আল্লাহর শপথ, এই বিরতণে
মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর সভুষ্টি কিৎবা আখিরাত কামনা করেন নি ৷ তখন আমি সেখানে র্দাড়ালাম
ও তাদের কথোপকথন শুনলাম ৷ এরপর আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কাছে আগমন করলাম এবং
বললাম, হে আল্লাহর রাসুল ! আপনি বলেছেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্য হতে কেউ যেন
আমার কাছে কারোর দুর্ণাম না করে ৷ কিন্তু আমি অমুক ও অমুকের কাছ দিয়ে অতিক্রম
করছিলাম আর তারা এরুপ এরুপ বলছিল ৷ এতে রাসুলুল্লাহ (না)-এর চেহারা রক্তিম হয়ে
গেল ৷ তিনি এতে খুবই দুঃখ গেলেন এবং বললেন, “এসব বাদ দাও, মুসা (আ)-কে এর
চাইতেও অধিক দুঃখ-কষ্ট দেয়া হয়েছিল ৷ তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছিলেন ৷”
আবু দাউদ ও তিরমিযী (ব) ভিন্ন সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷ সহীহ বুখারী ও সহীহ
মুসলিমের মিরাজের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসা (আ ) এর কবরের পাশ
দিয়ে অতিক্রম কালে দেখেন, তিনি তার কবরে সালাত আদায় করছেন ৷
সহীহায়নের অন্য হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, মিরাজের রাতে ষষ্ঠ আসমানে রাসুলুল্লাহ
(সা) মুসা (আ)-এব সাথে সাক্ষাত করেন ৷ জিবরাঈল (আ) বললেন, ইনিই মুসা, একে সালাম
করুন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, আমি তাকে সালাম করলাম ৷ উত্তরে তিনি বললেন, পুণ্যবান
" الصَّحِيحَيْنِ " مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْهُ بِهِ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ عَنْهُ.
قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: كَانَ مِنْ وَجَاهَتِهِ أَنَّهُ شَفَعَ فِي أَخِيهِ عِنْدَ اللَّهِ، وَطَلَبَ مِنْهُ أَنْ يَكُونَ مَعَهُ وَزِيرًا، فَأَجَابَهُ اللَّهُ إِلَى سُؤَالِهِ، وَأَعْطَاهُ طَلِبَتَهُ، وَجَعَلَهُ نَبِيًّا; كَمَا قَالَ: {وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا} [مريم: 53] ثُمَّ قَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، سَأَلْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ قَالَ: «قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسْمًا، فَقَالَ رَجُلٌ: إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ. فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَغَضِبَ حَتَّى رَأَيْتُ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ، ثُمَّ قَالَ يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى، قَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ» وَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ، مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ الْأَعْمَشِ بِهِ.،
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَجَّاجٍ، سَمِعْتُ إِسْرَائِيلَ بْنَ يُونُسَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي هَاشِمٍ مَوْلًى لِهَمْدَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي زَائِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ: «لَا يُبَلِّغْنِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ شَيْئًا،
পৃষ্ঠা - ৭২৭
নবী ও পুণ্যবান ভাইকে স্বাগতম ৷ ’ রাসুল (সা) বলেন, যখন আমি তাকে অতিক্রম করি তখন
তিনি র্কাদতে লাগলেন ৷ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনি র্কাদছেন কেন? তিনি বললেন,
“আমার পরে একজন যুবককে নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, যার বেহেশতে প্রবেশকারী
উম্মতের সংখ্যা আমার উস্মতের চাইতে বেশি হবে ৷” পক্ষান্তরে ইব্রাহীম (আ) সপ্তম আসমানে
অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ কোন কোন বর্ণনায় ইবরড়াহীম (আ) ষষ্ঠ আসমানে
এবং ঈসা (আ) সপ্তম আসমাংন অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে ৷ কিন্তু পুর্বোক্ত বর্ণনা
বিশুদ্ধতর ৷প্
বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের মতে, মুসা (আ) ষষ্ঠ আসমান এবং ইব্রাহীম (আ) সপ্তম আসমানে
বায়তুল মামুরের প্রতি পিঠ দিয়ে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন ৷ বায়তুল মামুরে প্রতিদিন সত্তর
হাজার ফেরেশতা যিয়ারত করেন এবং তারা আর কোনদিন সেখানে আসেন না ৷ তবে এ
ব্যাপারে সমস্ত বর্ণনাকায়ীই একমত যে, আল্লাহ্ তাআলা যখন মুহাম্মদ (সা) ও তার উম্মতের
প্রতি দিনে-রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) মুসা (আ )-এর পাশ
দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ মুসা (আ) বললেন, আপনি আপনার প্ৰতিপালকের কাছে ফেরত যান এবং
তার কাছে আবেদন করুন, যেন তিনি আপনার উম্মতের জন্যে তা লাঘব করে দেন ৷ কেননা,
আমি আপনার পুর্বে বনী ইসরাঈলের আচরণে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি ৷ অথচ আপনার
উষ্মত চোখ, কান ও অন্তরের দিক থেকে বনী ইসরাঈল থেকে দৃর্বলতর ৷
মুসা (আ)-এর পরামর্শে রাসুলুল্লাহ্ (সা) আল্লাহ্ তাআলার দরবারে গিয়ে প্রতিবার হ্রাস
করাতে করাতে শেষ পর্যন্ত পাচ ওয়াক্তে পৌছলেন ৷ এবার আল্লাহ্ তাআলা বললেন, এই নাও
পাচ ওয়াক্ত কিন্তু সওয়াবের দিক থেকে তা হবে পঞ্চাশ ওযাক্তের সমান ৷ আল্লাহ তাআলা
রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও মুসা (আ) উভয়কে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্ৰতিদান দিন ৷
ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন
রাসুলুল্লাহ্ (না) আমাদের কাছে তাশরীফ আনেন এবং বলেন, “আমার সম্মুখে সকল উম্মতকে
পেশ করা হয় ৷ তখন আমি একটি বিরাট দল দেখতে পেলাম যা দিগন্ত জুড়ে রয়েছে ৷ ঘোষণা
করা হল যে, এই হচ্ছে মুসা (আ) ও তার উম্মত ৷ ইমাম বুখারী (র) সংক্ষিপ্ত আকারে এবং
ইমাম আহমদ (র) বিস্তারিতডাবে হাদীসটি বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, “একদিন হুসায়ন ইবন
আবদুর রহমান সাঈদ ইবন জুবায়র (বা) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন ৷ তিনি বললেন, তোমাদের
মধ্যে কে ঐ তারকাটি দেখেছ, যা গত রাতে বিধ্বস্ত হয়েছে?” হুসায়ন (বা) বলেন, আমি
দেখেছি ৷ এরপর তিনি আবার বলেন, আমি নামায়ে ছিলাম না ৷ কেননা আমাকে কিছু যা সাপ
ৎশন করেছিল ৷ তিনি বললেন, তখন তুমি কী করলে? তখন আমি বললাম , আমি ঝাড়-কুক
করাই ৷ তিনি বললেন, তৃমি কেন তা করতে গেলে?’ তখন আমি বললাম , বুরাইদাহ্
আসলামী (র) থেকে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে ৷ তিনি বলেন, ঝাড়-কুক করা হয় অন্যের কুদৃষ্টি
অথবা দত্শন থেকে রক্ষা পাবার জন্যে ৷
সাঈদ ইবন জুবায়র বলেন : শ্রুত হাদীসের উপর যিনি হুবহু আমল করে থাকেন, তিনি
উত্তম কাজই করে থাকেন ৷ অতঃপর তিনি বলেন : আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা ) রাসুলুল্পাহ
فَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَخْرُجَ إِلَيْكُمْ; وَأَنَا سَلِيمُ الصَّدْرِ» قَالَ: وَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَالٌ فَقَسَمَهُ، قَالَ: فَمَرَرْتُ بِرَجُلَيْنِ وَأَحَدُهُمَا يَقُولُ لِصَاحِبِهِ: وَاللَّهِ مَا أَرَادَ مُحَمَّدٌ بِقِسْمَتِهِ وَجْهَ اللَّهِ، وَلَا الدَّارَ الْآخِرَةَ، فَثَبَتُّ حَتَّى سَمِعْتُ مَا قَالَا. ثُمَّ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ قُلْتَ لَنَا: «لَا يُبَلِّغْنِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِي شَيْئًا،» وَإِنِّي مَرَرْتُ بِفُلَانٍ وَفُلَانٍ وَهُمَا يَقُولَانِ كَذَا وَكَذَا، فَاحْمَرَّ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَشَقَّ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «دَعْنَا مِنْكَ، فَقَدْ أُوذِيَ مُوسَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَصَبَرَ» وَهَكَذَا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ، وَالتِّرْمِذِيُّ، مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي هَاشِمٍ بِهِ، وَفِي رِوَايَةٍ لِلتِّرْمِذِيِّ، وَلِأَبِي دَاوُدَ، مِنْ طَرِيقِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنِ الْوَلِيدِ بِهِ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ.
وَقَدْ ثَبَتَ فِي " الصَّحِيحِ " فِي أَحَادِيثِ الْإِسْرَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِمُوسَى، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ. وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَنَسٍ.
وَفِي " الصَّحِيحَيْنِ " مِنْ رِوَايَةِ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ مَرَّ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ، بِمُوسَى فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ، فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: هَذَا مُوسَى فَسَلِّمْ عَلَيْهِ. قَالَ:
পৃষ্ঠা - ৭২৮
«فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ. فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ، وَالْأَخِ الصَّالِحِ. فَلَمَّا تَجَاوَزْتُ بَكَى; قِيلَ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: أَبْكِي لِأَنَّ غُلَامًا بُعِثَ بَعْدِي يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِهِ أَكْثَرُ مِمَّا يَدْخُلُهَا مِنْ أُمَّتِي» وَذَكَرَ إِبْرَاهِيمُ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ. وَهَذَا هُوَ الْمَحْفُوظُ، وَمَا وَقَعَ فِي حَدِيثِ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ أَنَسٍ، مِنْ أَنَّ إِبْرَاهِيمَ فِي السَّادِسَةِ، وَمُوسَى فِي السَّابِعَةِ، بِتَفْضِيلِ كَلَامِ اللَّهِ فَقَدْ ذَكَرَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْحُفَّاظِ، أَنَّ الَّذِي عَلَيْهِ الْجَادَّةُ، أَنَّ مُوسَى فِي السَّادِسَةِ، وَإِبْرَاهِيمَ فِي السَّابِعَةِ، وَأَنَّهُ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْبَيْتِ الْمَعْمُورِ الَّذِي يَدْخُلُهُ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، ثُمَّ لَا يَعُودُونَ إِلَيْهِ آخِرَ مَا عَلَيْهِمْ. وَاتَّفَقَتِ الرِّوَايَاتُ كُلُّهَا عَلَى أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمَّا فَرَضَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأُمَّتِهِ، خَمْسِينَ صَلَاةً فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ، فَمَرَّ بِمُوسَى، قَالَ: " ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ التَّخْفِيفَ لِأُمَّتِكَ، فَإِنِّي قَدْ عَالَجْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَبْلَكَ أَشَدَّ الْمُعَالَجَةِ، وَإِنَّ أُمَّتَكَ أَضْعَفُ أَسْمَاعًا، وَأَبْصَارًا، وَأَفْئِدَةً " فَلَمْ يَزَلْ يَتَرَدَّدُ بَيْنَ مُوسَى وَبَيْنَ اللَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، وَيُخَفِّفُ عَنْهُ فِي كُلِّ مَرَّةٍ، حَتَّى صَارَتْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ. وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: هِيَ خَمْسٌ، وَهِيَ خَمْسُونَ أَيْ; بِالْمُضَاعَفَةِ فَجَزَى اللَّهُ عَنَّا مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرًا، وَجَزَى اللَّهُ عَنَّا مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، خَيْرًا.
وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ: «عُرِضْتَ عَلَيَّ الْأُمَمُ، وَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ،
পৃষ্ঠা - ৭২৯
(সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেন : ”সকল উম্মতকে আমার সামনে পেশ
করা হলে আমি কোন নবীকে দেখলাম, তার সাথে একটি ক্ষুদ্র দল রয়েছে, আবার কোন
নবীকে দেখলাম তার সাথে কেবল একজন কি দুইজন ৷ আবার এমন নবীকেও দেখলাম যার
সাথে একজন লোকও নেই ৷ অতঃপর আমার কাছে একটি বিরাট জামাতকে উপস্থিত করা
হলো ৷ আমি বললাম , এরাই বুঝি আমার উন্মত ৷ তখন বলা হল, এ হচ্ছে মুসা (আ) ও তার
সম্প্রদায় ৷ আমাকে বলা হল, এবার দিগন্ত রেখার দিকে তাকান ৷ দেখতে পেলাম, একটি
বিশাল দল ৷ অতঃপর বলা হল, এদিকে একটু লক্ষ্য করুন ৷ দেখলাম, এ দিকেও একটি
বিশাল দল ৷ তখন বলা হল, এরাই হচ্ছে আপনার উম্মত ৷ তাদের সাথে রয়েছে এমন সত্তর
হাজার ব্যক্তি যারা বিনাহিসাবে এবং শান্তি ভোগ ব্যতীতই জান্নাতে প্রবেশ করবে ৷“
অতঃপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) উঠে র্দাড়ালেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন ৷ তখন সকলে এ
ব্যাপারে চিভা-ভাবনা করতে লাগলেন ৷ তখন তারা বলাবলি করতে লাগলেন , এরা কারা হতে
পারে, যারা বিনা হিসাবে ও আমার ভোগ ব্যতীতই জান্নড়াতে প্রবেশ করবেন? কেউ কেউ
বললেন, সম্ভবত তারা হচ্ছেন নবী করীম (না)-এর সাহাবীগণ ৷ আবার কেউ কেউ বললেন
সম্ভবত তারা হচ্ছেন ঐ সব ব্যক্তি র্ষড়ারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহ
তাআলার সাথে কখনো কাউকে শরীক করেন নি ৷ এ ধরনের অনেক কিছুই র্তারা উল্লেখ
করলেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) অতঃপর তাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, তোমরা
কাদের ব্যাপারে বলাবলি করছ? তখন তারা তাদের কথোপকথন সম্বন্ধে তাকে অবহিত
করলেন ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “তারা হচ্ছে ঐ সব ব্যক্তি র্যারা কপটত৷ করে না,
যারা ঝাড়কুকের আশ্রয় নেয় না ৷ র্ষারা অশুভ নিয়ে কু-সংস্কারের আশ্রয় নেয় না এবং তারা
তাদের প্রতিপালকের প্রতি ভরসা রাখে ৷
এই হাদীস শুনে উক্কাশা ইবন মুহড়ায়সিন আল আসাদী (রা) বললেন, ইয়া রাসুলাল্পাহ্া
আমি তাদের একজন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, হীা, তুমি তাদের একজন ৷ অতঃপর অন্য এক
ব্যক্তি দীড়িয় বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল ! আমিও তাদের একজন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
উক্কাশা এ ব্যাপারে তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে ৷ এই হাদীসটি বিভিন্ন সুত্রে বিভিন্ন
গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে ৷ আমরাও কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা বর্ণনাকালে আবার এটার উল্লেখ
করব ৷ আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) সম্পর্কে কুরআনের বহু জায়গায় উল্লেখ করেছেন ও তার
প্রশংসা করেছেন এবং তার কালামে মজীদে মুসা (আ)-এব কাহিনী কোথাও বিস্তারিত আবার
কোথাও সংক্ষিপ্ত আকারে বহুবার উল্লেখ করেছেন ৷ কুরআনের বহু স্থানে মুহাম্মদ (সা ) ও তার
প্রতি প্রেরিত কিতাবের পাশাপাশি মুসা (আ) ও তার প্রতি প্রদত্ত কিতাব তাওরাত সম্বন্ধে উল্লেখ
করেছেন ৷ যেমন সুরা বাকারায় রয়েছে :
(
ৰু)মোঃশ্ন ন্র্দ্র১ ন্গ্লুট্রগ্র ও র্দ্রাদ্বুদ্বু ;এে ৷ £ঠুহ্র ধ্পু ঞ ৷ ৷ ;;
অর্খাৎ যখন আল্লাহ্র পক্ষ হতে তাদের নিকট রাসুল আসল, যে তাদের নিকট যা রয়েছে
তার সমর্থক, তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহ্র কিতাবটিকে
পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, যেন তারা জানে না ৷ (সুরা বাকারা : ১০১)
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৮-
فَقِيلَ: هَذَا مُوسَى فِي قَوْمِهِ» هَكَذَا رَوَى الْبُخَارِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ هَاهُنَا مُخْتَصَرًا.
وَقَدْ رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ مُطَوَّلًا فَقَالَ: حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: أَيُّكُمْ رَأَى الْكَوْكَبَ الَّذِي انْقَضَّ الْبَارِحَةَ؟ قُلْتُ: أَنَا. ثُمَّ قُلْتُ: أَمَا إِنِّي لَمْ أَكُنْ فِي صَلَاةٍ وَلَكِنْ لُدِغْتُ. قَالَ: وَكَيْفَ فَعَلْتَ؟ قُلْتُ: اسْتَرْقَيْتُ. قَالَ: وَمَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ؟ قَالَ: قُلْتُ حَدِيثٌ حَدَّثَنَاهُ الشَّعْبِيُّ، عَنْ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: «لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ، أَوْ حُمَةٍ،» فَقَالَ سَعِيدٌ - يَعْنِي ابْنَ جُبَيْرٍ -: قَدْ أَحْسَنَ مَنِ انْتَهَى إِلَى مَا سَمِعَ. ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ وَمَعَهُ الرَّهْطَ، وَالنَّبِيَّ مَعَهُ الرَّجُلَ، وَالرَّجُلَيْنِ، وَالنَّبِيَّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ; إِذْ رُفِعَ لِي سَوَادٌ عَظِيمٌ فَقُلْتُ: هَذِهِ أُمَّتِي. فَقِيلَ: هَذَا مُوسَى وَقَوْمُهُ، وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْأُفُقِ. فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ، ثُمَّ قِيلَ: انْظُرْ إِلَى هَذَا الْجَانِبِ. فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ فَقِيلَ: هَذِهِ أُمَتُّكَ وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا، يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ ثُمَّ نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ فَخَاضَ الْقَوْمُ فِي ذَلِكَ فَقَالُوا: مَنْ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَعَلَّهُمُ الَّذِينَ صَحِبُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَعَلَّهُمُ الَّذِينَ وُلِدُوا فِي الْإِسْلَامِ، وَلَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا قَطُّ. وَذَكَرُوا أَشْيَاءَ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ مَا هَذَا الَّذِي كُنْتُمْ تَخُوضُونَ فِيهِ؟ فَأَخْبَرُوهُ بِمَقَالَتِهِمْ، فَقَالَ: هُمُ الَّذِينَ لَا يَكْتَوُونَ، وَلَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ، فَقَامَ عُكَاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ الْأَسَدِيُّ، فَقَالَ: أَنَا مِنْهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَنْتَ مِنْهُمْ، ثُمَّ قَامَ آخَرُ فَقَالَ: أَنَا مِنْهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: سَبَقَكَ بِهَا عُكَاشَةُ.» وَهَذَا الْحَدِيثُ لَهُ طُرُقٌ كَثِيرَةٌ جِدًّا، وَهُوَ فِي الصِّحَاحِ وَالْحِسَانِ، وَغَيْرِهَا، وَسَنُورِدُهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فِي بَابِ صِفَةِ الْجَنَّةِ، عِنْدَ ذِكْرِ أَحْوَالِ الْقِيَامَةِ وَأَهْوَالِهَا. وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي الْقُرْآنِ كَثِيرًا، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَأَوْرَدَ قِصَّتَهُ فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ مِرَارًا، وَكَرَّرَهَا كَثِيرًا، مُطَوَّلَةً، وَمَبْسُوطَةً، وَمُخْتَصَرَةً، وَأَثْنَى عَلَيْهِ بَلِيغًا. وَكَثِيرًا مَا يَقْرِنُهُ اللَّهُ، وَيَذْكُرُهُ، وَيَذْكُرُ كِتَابَهُ مَعَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكِتَابِهِ كَمَا قَالَ فِي سُورَةِ " الْبَقَرَةِ ": {وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} [البقرة: 101] . وَقَالَ تَعَالَى: {الم - اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ - نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ - مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ الْفُرْقَانَ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ} [آل عمران: 1 - 4]
[آلِ عِمْرَانَ: 1 - 4] . وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْأَنْعَامِ ": {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُورًا وَهُدًى لِلنَّاسِ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا وَعُلِّمْتُمْ مَا لَمْ تَعْلَمُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ قُلِ اللَّهُ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِي خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ - وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} [الأنعام: 91 - 92]
[الْأَنْعَامِ: 91، 92] .
পৃষ্ঠা - ৭৩০
অন্যত্র আল্লাহ্ ত৷ আল৷ বলেনং :
ণ্
র্চু;হ্রপুা এেষ্কৃা৷এ;াহ্রব্রঠু; ণ্^ষ্ ৷ক্ট্র’এোদ্বু,গু খাে ৷র্মুা’র্দুা৷স্থু ম্রা
ষ্ৰ্ ^ ৰ্
অর্থাৎ-আসিফ লাম মীম, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ :নট্ ৷ তিনি চিরঞ্জীব ও
সর্বসত্তার ধারক ৷ তিনি সত্যসহ ৫৩ ৷মার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পুর্বের
কি তারের সমর্থক ৷ আর তিনি অবতীর্ণ করেছিলেন ত ৷ওরাত ও ইঞ্জীল ইতিপুর্বে; মানব জাতির
সৎপথ প্রদর্শনের জন্য আর তিনি ফুরকানও অবতীর্ণ করেছেন ৷ যারা আল্লাহ্র নিদর্শনকে
প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে ৷ আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী দণ্ডদাতা ৷
(সুরা আল ইমরান ১ ৪)
সুরায়ে আনযামে আল্লাহ্ তা অ ৷লা ইরশাদ করেনং :
,াস্হু,চুঠুস্কৃৰু এো;ণ্া৷াধ্ান্৷ ৷ঠুাএেটুাশুখু;ওঙুট্রুৰুা৷া৷টুটুহ্রদ্বুর্নে
দু প্ষ্
তারা আল্লাহ্ তাআলার যথার্থ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি; যখন তারা বলে, আল্লাহ মানুষের
নিকট কিছুই নাযিল করেন নি ৷ বল, কে নাযিল করেছেন মুসার আনীত কিতাব যা মানুষের
জন্য আলো ও পথনির্দেশ ছিল তা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করে কিছু প্রকাশ কর ও যার
অনেকাৎশ গোপন রাখ এবং যা তোমাদের পিতৃ পুরুষগণ ও তোমরা জানতে না তাও শিক্ষা
দেয়৷ হয়েছিল? বল, আল্লাহ্ই; তারপর তাদেরকে নিরর্থক আলোচনারুপ খেলায় মগ্ন হতে
দাও ৷ আমি এ কল্যাণময় কি৩ ৷ব নাযিল করেছি, যা এর পুর্বেকার কিতারের সমর্থক এবং যা
দ্বারা তুমি মক্কা ও এর চতুর্পার্গের লোকদেরকে সতর্ক কর, যারা আ ৷তখিরাত্তু বিশ্বাস করে তারা
ত বিশ্বাস করে এবং তারা তাদের সালাতের হেফাজত করে ৷ (সুরা আনআম : ৯ ১ ৯২)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাওবাতের প্রশংসা করেছেন ৷ অতঃপর কুরআনুল করীমের
ততোধিক প্রশংসা করেছেন ৷
فَأَثْنَى تَعَالَى عَلَى التَّوْرَاةِ، ثُمَّ مَدَحَ الْقُرْآنَ الْعَظِيمَ مَدْحًا عَظِيمًا، وَقَالَ تَعَالَى فِي آخِرِهَا: {ثُمَّ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ وَتَفْصِيلًا لِكُلِ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَعَلَّهُمْ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ - وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأنعام: 154 - 155]
[الْأَنْعَامِ: 154، 155] . وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْمَائِدَةِ ": {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} [المائدة: 44] . إِلَى أَنْ قَالَ: {وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ - وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} [المائدة: 47 - 48]
[الْمَائِدَةِ: 47، 48] . الْآيَةَ. فَجُعِلَ الْقُرْآنُ حَاكِمًا عَلَى سَائِرِ الْكُتُبِ غَيْرِهِ، وَجَعَلَهُ مُصَدِّقًا لَهَا، وَمُبَيِّنًا مَا وَقَعَ فِيهَا مِنَ التَّحْرِيفِ وَالتَّبْدِيلِ، فَإِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ اسْتُحْفِظُوا عَلَى مَا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْكُتُبِ، فَلَمْ يَقْدِرُوا عَلَى حِفْظِهَا، وَلَا عَلَى ضَبْطِهَا وَصَوْنِهَا، فَلِهَذَا دَخَلَهَا مَا دَخَلَهَا مِنْ تَغْيِيرِهِمْ وَتَبْدِيلِهِمْ; لِسُوءِ فُهُومِهِمْ، وَقُصُورِهِمْ فِي عُلُومِهِمْ، وَرَدَاءَةِ قُصُودِهِمْ، وَخِيَانَتِهِمْ لِمَعْبُودِهِمْ، عَلَيْهِمْ لِعَائِنُ اللَّهِ الْمُتَتَابِعَةُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَلِهَذَا يُوجَدُ فِي كُتُبِهِمْ مِنَ الْخَطَأِ الْبَيِّنِ عَلَى اللَّهِ وَعَلَى رُسُلِهِ، مَا لَا يُحَدُّ وَلَا يُوصَفُ، وَمَا لَا
পৃষ্ঠা - ৭৩১
এরপর আল্লাহ্ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেনং :
তারপর আমি মুসাকে দিয়েছিলাম কিতাব যা সৎকর্মপরায়ণের জন্য সম্পুর্ণ, যা সমস্ত কিছুর
বিশদ বিবরণ, পথ নির্দেশ এবং দয়াস্বরুপ, যাতে তারা তাদের প্রতিপালকেব সাক্ষাত সম্বন্ধে
বিশ্বাস করে ৷ এই কিতাব আমি নাযিল করেছি যা কল্যাণময় ৷ সুতরৎ এটার অনুসরণ কর এবং
সাবধান হও, হয়তো তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে ৷ (সুরা ৷আন আম : ১ ৫ : ১ ৫ ৫ )
আল্লাহ্ তা অ ৷লা সুরা ৷মায়িদায় ইরশাদ করেন ং
(é
এর্দুশ্’
’ ;প্রু;ব্লুা;
, ;,া ৮১ন্,১া৷ ;াএ ণ্ব্লু;;;, ;;গ্থ্রে ৷ $ এ্যাএা;এে ণ্এ ৷ ব্লুা,^; ৮১ শু;; ণ্৷ ;,;,
? ষ্
;,দ্বুন্ম্বু;;খ্রি ৷ ন্;শু এ;;,া; ৷ fl; ; ৷
,; ৷
নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম; তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো; নবীগণ যারা
আল্লাহর অনুগত ছিল তারা ইহুদীদেব সে অনুসারে বিধান দিত, আরো বিধান দিত রাব্বানীগ ৷ণ
এবং বিদ্বানগণ, কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতা তারের রক্ষক করা হয়েছিল এবং তারা ছিল তার
সাক্ষী ৷ সুতরাং মানুষকে ভয় করবে না , ৷আমড়াকেই ভয় করবে এবং আমার আয়াতসমুহ তুচ্ছ
মুল্যে বিক্রি করবে না ৷ আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না তারাই
কাফির ৷
ইনজীল অনুসড়ারীগণ যেন আল্লাহ্ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুসারে বিধান দেয় ৷
আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই ফা ৷সিক ৷ আমি তোমার
প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি এর পুর্বে অবতীর্ণ কি৩ ৷বের সমর্থক ও স ×রক্ষক রুপে ৷
(সুরা ৷মায়িদাং : ৪৪, ৪৭ ও ৪৮)
উপরোক্ত আঘাতের মাধ্যমে আল্পাহ্ আ আলা কুরআনুল কবীমকে অন্যান্য কিতাবের
ব্যাপারে চুড়ান্ত ফয়সালাকাবী, এগুলোর সমর্থক অন্যান্য কিভাবে যা কিছু বিকৃতি ও পরিবর্তন
করা হয়েছে তার প্ৰক৷ শকারীরুপে গণ্য করেছেন ৷ কি৩ ৷বীদেরকে তাদের কিতাবসমুহের রক্ষক
يُوجَدُ مِثْلُهُ وَلَا يُعْرَفُ. وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْأَنْبِيَاءِ ": {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى وَهَارُونَ الْفُرْقَانَ وَضِيَاءً وَذِكْرًا لِلْمُتَّقِينَ - الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَهُمْ مِنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُونَ - وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ أَفَأَنْتُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ} [الأنبياء: 48 - 50]
[الْأَنْبِيَاءِ: 48 - 50] . وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْقَصَصِ ": {فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ مُوسَى أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِيَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ - قُلْ فَأْتُوا بِكِتَابٍ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ هُوَ أَهْدَى مِنْهُمَا أَتَّبِعْهُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [القصص: 48 - 49]
[الْقَصَصِ: 48، 49] . فَأَثْنَى اللَّهُ عَلَى الْكِتَابَيْنِ، وَعَلَى الرَّسُولَيْنِ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، وَقَالَتِ الْجِنُّ لِقَوْمِهِمْ: {إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ} [الأحقاف: 30] . وَقَالَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ لَمَّا قَصَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، خَبَرَ مَا رَأَى مِنْ أَوَّلِ الْوَحْيِ، وَتَلَا عَلَيْهِ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ - خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ - اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ - الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ - عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1 - 5]
[الْعَلَقِ: 1 - 5] . قَالَ سُبُّوحٌ سُبُّوحٌ، هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ.
وَبِالْجُمْلَةِ فَشَرِيعَةُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، كَانَتْ عَظِيمَةً، وَأُمَّتُهُ كَانَتْ أُمَّةً كَثِيرَةً، وَوُجِدَ فِيهَا أَنْبِيَاءُ، وَعُلَمَاءُ، وَعُبَّادٌ، وَزُهَّادٌ، وَأَلِبَّاءُ، وَمُلُوكٌ، وَأُمَرَاءُ، وَسَادَاتٌ، وَكُبَرَاءُ، لَكِنَّهُمْ كَانُوا فَبَادُوا وَتَبَدَّلُوا، كَمَا بُدِّلَتْ شَرِيعَتُهُمْ، وَمُسِخُوا قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ، ثُمَّ نُسِخَتْ بَعْدَ كُلِّ حِسَابٍ مِلَّتُهُمْ، وَجَرَتْ عَلَيْهِمْ خُطُوبٌ وَأُمُورٌ يَطُولُ ذِكْرُهَا، وَلَكِنْ سَنُورِدُ مَا فِيهِ مَقْنَعٌ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَبْلُغَهُ خَبَرُهَا، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، وَبِهِ الثِّقَةُ وَعَلَيْهِ التُّكْلَانُ.
পৃষ্ঠা - ৭৩২
নিযুক্ত করা ৷হয়েছিল, কিন্তু তারা এগুলোর হিফাজত করতে পারেনি ৷ এগুলো সংরক্ষণ ও
এগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করতে সমর্থ হয়নি ৷ এ জন্যই তাদের নির্বুদ্ধিতা, জ্ঞানের স্বল্পতা,
তাদের উপাস্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকত৷ ইত্যাদির কারণে ঐ সব কি৩ ৷বে বিভিন্ন ধরনের
পরিবর্ত্য৷ সাধিত হয়েছে ৷ আর তাদের প্রতিও কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ, তা জানার লা নত ৷ এ
জন্যেই তাদের কিতাবগুলোতে আল্লাহ তা আনা ও তার রাসুল সম্পর্কে এমন সব স্পষ্ট ভ্রান্তি
লক্ষ্য করা যায়, যেগুলোর কদর্যতা ভাষায় বর্ণনা করা যায় ন
সুরায়ে আম্বিয়ায় অ ৷ল্লাহ্ তাঅ লাইরশাদ করেন :
শুএে-দ্র র্চু
আমি তো মুসা ও হারুনকে দিয়েছিলাম কুরকান, জ্যোতি ও উপদেশ, মুত্তাকীদের জন্যে
যারা না দেখেও তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত সম্বন্ধে ভীত-সন্ত্রস্ত ৷ এটা
কল্যাণময় উপদেশ, আমি এটা অবতীর্ণ করেছি ৷ তবুও কি তোমরা এটাকে অস্বীকার কর?
(সুরা আম্বিয়া : ৪৮ ৫০)
সুরায়ে কাসাসে আল্লাহ্ তাআ ৷ল৷ ইরশাদ করেন০ :
া
র্ধ্বএর্চুএ এ , ৷ ৮এ (া;এ দ্বু৷ ১াটুপু ৷ষ্ট্ৰট্রাদ্ব ৷এএ^ষ্এএ ট্রুএ র্চু;থ্রে ৷ ছু£শু£ার্বৃ ৷হুএএ
§fi
, ৷
৷ ’ র্চু,দ্বুপুএাহ্র ব্লুাঝুথু ৷পুা
(
তারপর যখন আমার নিকট থেকে তাদের নিকট সত্য আসল, তারা বলতে লাগল, মুসাকে
যেরুপ দেয়া হয়েছিল, তাকে সেরুপ দেয়া হলো না কেন? কিন্তু পুর্বে মুসাকে যা দেয়া হয়েছিল
ত ৷কি তারা অস্বীকার করেনি? ওরা বলেছিল, দৃটিই জাদু, একে অপরকে সমর্থ্য৷ করে ৷ এবং
ওরা বলেছিল, আমরা সকলকে প্রত্যাখ্যান করি ৷ বল, তোমরা সতাবাদী হলে আল্লাহর নিকট
হতে এক কিতাব আনয়ন কর, যা ৷পথনিদ্যেশ এ দুটি থেকে উৎকৃষ্টতর হবে, আমি সেই কিতাব
অনুসরণ করব ৷ (সুরা কাসাস : ৪৮ ৪৯)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআ ৷লা উভয় কিতাব ও উভয় রাসুলের প্রশং যা করেছেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরকার হতে ফিরে গিয়ে জিনৃরা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলেন,
আমরা এমন একটি কিতাবের বাণী শুনেছি, যা মুসা (আ)-এর পরে অবতীর্ণ হয়েছে ৷
রাসুলুল্পাহ্ (সা) এর প্রতি প্রথম ওহী নাযিল হয় নিম্নরুপ :
ঞ্জ-শুএএধ্১ট্ট-“৬-র্যোভো-১ স্টোএে
এাএপু১১া^৷ণ্পুএ
াহ্
৭’
( >
রুহ্
[ذِكْرُ حَجِّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ وَصِفَتِهِ]
قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَرَّ بِوَادِي الْأَزْرَقِ، فَقَالَ: أَيُّ وَادٍ هَذَا؟ قَالُوا: وَادِي الْأَزْرَقِ. قَالَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى، وَهُوَ هَابِطٌ مِنَ الثَّنِيَّةِ، وَلَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، بِالتَّلْبِيَةِ حَتَّى أَتَى عَلَى ثَنِيَّةِ هَرْشَاءَ فَقَالَ: أَيُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ؟ قَالُوا: هَذِهِ ثَنِيَّةُ هَرْشَاءَ. قَالَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى، عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ، عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ، خِطَامُ نَاقَتُهُ خُلْبَةٌ، - قَالَ هُشَيْمٌ: يَعْنِي لِيفًا - وَهُوَ يُلَبِّي» وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ بِهِ. وَرَوَى الطَّبَرَانِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا: «إِنَّ مُوسَى حَجَّ عَلَى ثَوْرٍ أَحْمَرَ» وَهَذَا غَرِيبٌ جِدًّا.
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ، فَقَالَ: إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ
পৃষ্ঠা - ৭৩৩
عَيْنَيْهِ: (ك ف ر) . قَالَ: مَا تَقُولُونَ؟ قَالَ: يَقُولُونَ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ (ك ف ر) فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَمْ أَسْمَعْهُ قَالَ ذَلِكَ وَلَكِنْ قَالَ: «أَمَّا إِبْرَاهِيمُ فَانْظُرُوا إِلَى صَاحِبِكُمْ، وَأَمَّا مُوسَى فَرَجُلٌ آدَمُ جَعْدٌ، عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ، مَخْطُومٍ بِخُلْبَةٍ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَقَدِ انْحَدَرَ مِنَ الْوَادِي يُلَبِّي» قَالَ هُشَيْمٌ: الْخُلْبَةُ اللِّيفُ.
ثُمَّ رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ عَنْ أَسْوَدَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، وَمُوسَى، وَإِبْرَاهِيمَ; فَأَمَّا عِيسَى، فَأَبْيَضُ، جَعْدٌ، عَرِيضُ الصَّدْرِ، وَأَمَّا مُوسَى، فَآدَمُ، جَسِيمٌ، قَالُوا: فَإِبْرَاهِيمُ؟ قَالَ: انْظُرُوا إِلَى صَاحِبِكُمْ» وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، قَالَ: حَدَّثَ قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسَرِي بِي مُوسَى بْنَ عِمْرَانَ، رَجُلًا طُوَالًا، جَعْدًا، كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ، وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، مَرْبُوعُ الْخَلْقِ، إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ، سَبْطَ الرَّأْسِ» وَأَخْرَجَاهُ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ بِهِ.
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ الزُّهْرِيُّ: وَأَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِينَ أُسْرِيَ بِهِ: لَقِيتُ مُوسَى فَنَعَتَهُ، فَقَالَ رَجُلٌ: قَالَ: حَسِبْتُهُ قَالَ:
পৃষ্ঠা - ৭৩৪
পাঠ কর, তোমার প্রতি পালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত হতে ৷
পাঠ কর, আর তামার প্রনিপ লক মহামহিমাষিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন
মানুষকে, শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না ৷ ( সুবা আলড়াক৪ ১ ৫ )
এই প্রথম ওহী নাযিল হবার প্রেক্ষিতে যে ঘটনা ঘটেছিলত ৷গোনার পর ওয়ারকা ইব ন
নওফল বলেছিল, পবিত্র, পবিত্র, ইনিই সেই জিববীল (নামুস) যিনি মুসা ইবন ইমরানের নিকট
ওহী নিয়ে এসেছিলেন ৷ মেটিকথা, মুসা (আ) এর শরীয়ত ছিল মহান, তার উম্মতের সং থ্যা
ছিল প্রচুর,ত তাদের মধ্যে ছিলেন বহু নবী, আলিম তইবাদ গােযার বন্দো, সাধুসন্তু, বুদ্ধিজীবী,
বাদশাহ, আমীর-সর্দার ও স্ক্সাত ব্যক্তি ৷ কিন্তু তারা যখন বিদায় নিলেন, তখন সে উন্মতের
মধ্যেও পরিবর্ভা দেখা দিল ৷ যেমন তাদের এবং তাদের শরীয়তেও বিকৃতি ঘটলো ৷ তারা নিজ
নিজ কর্মদোষে বানর ও শুকরে পরিণত হলো ৷ একের পর এক বিধান রহিত হতে লাগল এবং
তাদের উপর বিপদাপদ নেমে আসতে লাগল ৷ তাদের এই ঘটনাসমুহ খুবই দীর্ঘ ও
আলোচনা সাপেক্ষ ৷ তাই অতি সংক্ষেপে অবহিত হতে ইচ্ছুকদের জন্যেত তার কিঞ্চিত বর্ণনা
করা হবে ৷
মুস৷ (আ) এর বায়তৃল্লাহয় হজ্জ পালন
ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন একদিন রাসুলুল্লাছু
(সা) অল আযরাক উপত্যকায় গমন করেন এবং প্রশ্ন করেন এটা কে ন উপত্যকা? উপস্থিত
সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল আযরাক উপত্যকা ৷ তখন তিনি ইরশাদ করলেন, আমি যেন
মুসা (আ)-কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি যেন রাস্তার মোড় থেকে অবতরণ করছেন এবং তালবিয়া
সহকারে আল্লাহ্ তাআলাকে উভৈচ্চ৪স্বরে তাকছেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (না) হারশা মোড়ে
পৌছলেন এবং প্রশ্ন করলেন, এটা কোন মোড়? উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম বললেন, “এটা
হারশা মোড়” ৷ তখন রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, আমি যেন ইউনুস ইবন মাত্ত৷ (আ) কে দেখতে
পাচ্ছি ৷ তিনি একটি লাল রঙের উটের উপর সওয়ার রয়েছেন, তার পরনে পশমের একটি
জুব্বা এবং তার উটের নাকের দড়ি ছিল খেজুর গাছের ছালের ৷ তিনি তালবিয়া পড়ছেন ৷ এই
হাদীসটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন ৷
তাবারানী (র) ইবন আব্বাস (বা) থেকে মারফুরুপে হাদীস বর্ণনা করেন যে, মুসা (আ)
একটি লাল রঙের যীড়ে সওয়ার হয়ে হজ্জ করেছিলেন ৷ এ হাদীসঢি অত্যন্ত গরীব পর্যায়ের ৷
ইমাম আহমদ (র) মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা একদিন
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা )-এর নিকটে ছিলাম ৷ সকলে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করতে
লাগলেন ৷ কেউ একজন বললেন, দাজ্জালের কপালে দুই চক্ষুর মাঝে লিখা থাকবে ,-১-এ ৷
ইবন আব্বাস (রা) মৃজাহিদকে বলেন, তারা কি বলাবলি করছে?’ মুজাহিদ (র) বললেন, তারা
বলছেন, দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে লিখা প্ থাকবে ,- ১-এ ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস
(বা) বললেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে আমি এরুপ কথা বলতে শুনিনি ৷ তবে এই কথা বলতে
শুনেছি, ইবরাহীম (আ) সম্বন্ধে জানতে হলে তোমাদের সাথীর দিকে অর্থাৎ আমার দিকে লক্ষ্য
, কর ৷ আর মুসা (আ) ছিলেন ধুসর রংয়ের ব্যক্তি, তার ছিল কে ৷কড়ানাে চুল ৷ ৷ত নি লাল রঙের
مُضْطَرِبٌ رَجِلُ الرَّأْسِ، كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ. وَلَقِيتُ عِيسَى فَنَعَتَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: رَبْعَةٌ أَحْمَرُ، كَأَنَّمَا خَرَجَ مِنْ دِيمَاسٍ. يَعْنِي حَمَّامًا، قَالَ: وَرَأَيْتُ إِبْرَاهِيمَ وَأَنَا أَشْبَهُ وَلَدِهِ بِهِ.» الْحَدِيثَ. وَقَدْ تَقَدَّمَ غَالِبُ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ فِي تَرْجَمَةِ الْخَلِيلِ، صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ.
পৃষ্ঠা - ৭৩৫
উটের উপর সওয়ার ছিলেন ৷ উটের নাকের দড়ি ছিল খেজুর গাছের ছালের ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বলেন, আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি ৷ আর তিনি উপত্যকা থেকে তালবীয়া পড়ায় রত
অবস্থায় নেমে আসছেন ৷
ইমাম আহমদ (র) অন্য এক সুত্রে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, (মিরাজের রাতে) ঈসা ইবন মারয়াম, মুসা (আ) ও ইব্রাহীম
(আ)-কে দেখেছি ৷ তবে ঈসা (আ)-এর রঙ সাদা ৷ তিনি ছিলেন কেড়াকড়ানো চুল ও চওড়া
বুকধারী ৷ মুসা (আ) ছিলেন ধুসর রঙের এবং বিশালদেহী ৷ ’ সাহাবায়ে কিরাম বললেন,
ইব্রাহীম (আ) কেমন ছিলেন? তিনি বললেন, তোমাদের সাথী অর্থাৎ আমার দিকে তাকাও ৷ ’
ইমাম আহমদ (র) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
আল্লাহ্র নবী বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি মুসা (আ) ইবন ইমরানকে দেখেছি একজন
দীর্ঘদেহী ও কেড়াকড়ানাে চুলধারী ব্যক্তি হিসেবে, মনে হয় যেন তিনি শানুয়া গোত্রের লোক ৷
ঈসা ইবন মারয়ড়াম (আ)-কে দেখেছি মাঝারি গড়ন, লাল-সাদা মিশ্রিত রং ও লম্বাটে মাথার
অধিকারী ৷
ইমাম আহমদ (র) অন্য এক সুত্রে আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি মুসা (আ)-এর সাথে সাক্ষাত করেছি ৷
অতঃপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার শারীরিক গঠন বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, তিনি ছিলেন ঢেউ
খেলানাে চুলের অধিকারী, যেন তিনি শানুয়া গোত্রের একজন ৷ এরপর আমি ঈসা (আ )-এর
সাথে সাক্ষাত করলাম ৷ ’ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ঈসা (আ)-এর শারীরিক গঠন বর্ণনা করেন এবং
বলেন, তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের ও গৌরবর্ণের অধিকারী ৷ মনে হয় তিনি যেন এইমাত্র
গোসলখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৷ তিনি বলেন, আমি ইব্রাহীম (আ)-কে দেখেছি ৷ তার
বংশধরের মধ্যে তার সাথে আমার অত্যধিক সামঞ্জস্য রয়েছে ৷ ইব্রাহীম (আ ) এর আলোচনায়
এই ধরনের অধিকাংশ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে ৷
মুসা (আ) এর ইস্তিকাল
ইমাম বুখারী (র) তার সহীহ বুখড়ারী’তে মুসা (আ)-এর ইস্তিকড়াল শিরোনামে আবু
হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন মৃত্যুর ফেরেশতা (অড়াযরাঈল)-কে মুসা
(আ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয় ৷ যখন তিনি মুসা (আ )-এর কাছে আসলেন , তখন তিনি তাকে
চপেটাঘাত করলেন ৷ ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার দরবারে ফিরে গিয়ে আরয করলেন,
আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে প্রেরণ করেছেন যিনি মৃত্যু চান না ৷ ’ আল্লাহ তা আলা
বললেন, তার কাছে পুনরায় যাও ও তাকে একটি র্ষাড়ের পিঠে হাত রাখতে বল এবং এ
কথাটিও বল যে, তার হাতের নিচে যতগুলাে চুল পড়বে তাকে তত বছরের আযু দেয়া হবে ৷ ’
মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক৷ তারপর কি হবে?’ আল্লাহ বললেন, তারপর
মৃত্যু ৷ ’ তখন তিনি বললেন, তাহলে এখনই তা হয়ে যাক ৷ ’
বর্ণনকোরী বলেন, তখন তিনি আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে আরব করলেন যেন তাকে একটি
ছিল নিক্ষেপের দুরত্বে পবিত্র ভুমি বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী করা হয় ৷ আবু হুরায়রা (রা )
[ذِكْرُ وَفَاتِهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ]
قَالَ الْبُخَارِيُّ فِي " صَحِيحِهِ ": (وَفَاةُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ) : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُوسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أُرْسِلَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَلَمَّا جَاءَهُ صَكَّهُ، فَرَجَعَ إِلَى رَبِّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، فَقَالَ: أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ، قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهِ، فَقُلْ لَهُ يَضَعُ يَدَهُ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ، فَلَهُ بِمَا غَطَّتْ يَدُهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ سَنَةٌ. قَالَ: أَيْ رَبِّ ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: ثُمَّ الْمَوْتُ، قَالَ: فَالْآنَ. قَالَ: فَسَأَلَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْنِيَهُ مِنَ الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ، رَمْيَةً بِحَجَرٍ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ": «فَلَوْ كُنْتُ ثَمَّ لَأَرَيْتُكُمْ قَبْرَهُ، إِلَى جَانِبِ الطَّرِيقِ، عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ» .
قَالَ: وَأَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نَحْوَهُ. وَقَدْ رَوَى مُسْلِمٌ الطَّرِيقَ الْأَوَّلَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ بِهِ. وَرَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا، وَسَيَأْتِي.
পৃষ্ঠা - ৭৩৬
বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, “যদি আমি সেখানে এখন থাকতাম, তাহলে ঐ
স্থানটিতে তার কবরটি তােমাদেরকে চিহ্নিত করে দেখাতাম ৷ এটা রাস্তার পার্শে লাল ঢিবির’
নিকটে অবিন্থত ৷” ভিন্ন সুত্রেও অনুরুপ বর্ণিত রয়েছে ৷ ইমাম মুসলিম (র) ও ইমাম আহমদ
(র) অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ তবে আহমদ (র) ও আবু হুরায়রা (রা) এর উক্তিরুপে
বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মৃত্যুর ফেরেশতা মুসা (আ) এর নিকট আগমন করে বললেন,
“আপনি আপনার প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিন ৷ তিনি তখন মৃত্যুর ফেরেশতাকে চপেটাঘাত
করে তার একটি চোখ নষ্ট করে দেন ৷ ফেরেশত ৷ তখন আল্লাহ্ তা আলার কাছে গিয়ে বললেন,
’আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার কাছে প্রেরণ করেছেন , যিনি মৃত্যু চান না ৷ তিনি
আমার চোখ নষ্ট করে দিয়েছেন ৷ ’ বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ্ তাআলা তার চোখ নিরাময়
করে দিলেন এবং বললেন, তুমি আমার বান্দার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বল, আপনি কি
দীর্ঘ্যযু চান? যদি আপনি দীর্যায়ু চান, তাহলে আপনি একটি র্ষাড়ের পিঠের উপর আপনার ৷ত
রাখুন এবং আপনার হাতের নিচে যতগুলাে নােম পড়বে তাঃ বছরের আয়ু আপনাকে প্রদান
করা হবে ৷ মুসা (আ) বললেন, তারপর কি হবে? আল্লাহ্ তাআল৷ বললেন, তারপর মৃত্যু ৷
মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক তাহলে অচিরেই মৃত্যু দেয়া হোক ৷ এ বর্ণনাটি শুধু
ইমাম আহমদ (র) এরই ৷
ইবন হিব্বান (র)-ও উপরোক্ত হাদীসটি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করে এ হড়াদীসে
কিছু জটিলতা রয়েছে বলে ইঙ্গিত করে এগুলোর যে উত্তর প্রদান করেছেন তার সারসংক্ষেপ
নিম্নরুপ
মৃত্যুর ফেরেশত৷ যখন মুসা (আ) কে মৃত্যুর কথা বললেন, তখন তিনি তাকে চিনতে
পারেননি ৷ কেননা,ত তিনি মুসা (আ) এর কাছে অপরিচিত অবয়বে আগমন করেছিলেন ৷ যেমন
একবার জিবরাঈল (আ) রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকটে এক বেদৃঈনের অবয়বে আগমন
করেছিলেন ৷ ইবরাহীম (আ) ও লুত (আ)-এর নিকট ফেরেশতাগণ যুবকের অবয়বে
এসেছিলেন ৷ তাই তারা তাদেরকে প্রথমে চিনতে পারেননি ৷ অনুরুপভাবে মুসা (আ)-ও তাকে
সম্ভবত চিনতে পারেননি, তাই তাকে চপেটাঘাত করে তার চোখ নষ্ট করে দিয়েছিলেন ৷
কেননা, তিনি বিনা অনুমতিতে মুসা (আ) এর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন ৷ এই ব্যাথ্যাটি আমাদের
শরীয়ত সম্মত ৷ কেননা, যদি কেউ কারো ঘরের মধ্যে বিনা অনুমতিতে তা কায় তাহলে এভাবে
তার চোখ ফুটো করে দেয়ার বৈধতা রয়েছে ৷ অতঃপর তিনি হাদীসটি আ বু হুরায়রা (রা ) থেকে
বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, একদা মুসা (আ)-এর রুহ কবয করার জন্যে
মৃত্যুর ফেরেশতা মুসা (আ)-এর কাছে আগমন করে তাকে বলেন, আপনার প্রতিপালকের
ডাকে সাড়া দিন তখন মুসা (আ) মৃত্যুর ফেরেশতাকে চপেটাঘাত করলেন ৷ তাতে তার চোখ
বিনষ্ট হয়ে যায় ৷ এরপর তিনি সম্পুর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন, যেমন ইমাম বুখড়ারী (র)-ও এর
প্রতি ইঙ্গিত করেছেন ৷
অতঃপর তিনি তার ব্যাখ্যার বলেন, যখন মুসা (আ) মৃত্যুর ফেবেশ৩ ৷কে চপেটাঘাত
করার জন্যে হাত উঠালেন, তখন ফেরেশত৷ তাকে বললেনং এপ্রু , ! অর্থাৎ “আপনার
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو يُونُسَ، يَعْنِي سُلَيْمَ بْنَ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: لَمْ يَرْفَعْهُ - قَالَ: جَاءَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَقَالَ: أَجِبْ رَبَّكَ. فَلَطَمَ مُوسَى عَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ، فَفَقَأَهَا، فَرَجَعَ الْمَلَكُ إِلَى اللَّهِ، فَقَالَ: إِنَّكَ بَعَثْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَكَ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ. قَالَ: وَقَدْ فَقَأَ عَيْنِي، قَالَ: فَرَدَّ اللَّهُ عَيْنَهُ، وَقَالَ: ارْجِعْ إِلَى عَبْدِي، فَقُلْ لَهُ: الْحَيَاةَ تُرِيدُ؟ فَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْحَيَاةَ، فَضَعْ يَدَكَ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ، فَمَا وَارَتْ يَدُكَ مِنْ شَعْرِهِ فَإِنَّكَ تَعِيشُ بِهَا سَنَةً، قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: ثُمَّ الْمَوْتُ، قَالَ: فَالْآنَ يَا رَبِّ، مِنْ قَرِيبٍ. تَفَرَّدَ بِهِ أَحْمَدُ، وَهُوَ مَوْقُوفٌ بِهَذَا اللَّفْظِ.
وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ "، مِنْ طَرِيقِ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ مَعْمَرٌ: وَأَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ الْحَسَنَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَهُ، ثُمَّ اسْتَشْكَلَهُ ابْنُ حِبَّانَ، وَأَجَابَ عَنْهُ بِمَا حَاصِلُهُ: أَنَّ مَلَكَ الْمَوْتِ، لَمَّا قَالَ لَهُ هَذَا لَمْ يَعْرِفْهُ; لِمَجِيئِهِ لَهُ عَلَى غَيْرِ صُورَةٍ يَعْرِفُهَا مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، كَمَا جَاءَ جِبْرِيلُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي صُورَةِ أَعْرَابِيٍّ، وَكَمَا وَرَدَتِ الْمَلَائِكَةُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَلَوْ فِي صُورَةِ شَبَابٍ، فَلَمْ يَعْرِفْهُمْ إِبْرَاهِيمُ وَلَا لُوطٌ أَوَّلًا، وَكَذَلِكَ مُوسَى لَعَلَّهُ لَمْ يَعْرِفْهُ لِذَلِكَ وَلَطَمَهُ فَفَقَأَ عَيْنَهُ; لِأَنَّهُ دَخَلَ دَارَهُ بِغَيْرِ إِذْنِهِ، وَهَذَا مُوَافِقٌ لِشَرِيعَتِنَا فِي جَوَازِ فَقْءِ عَيْنِ مَنْ
পৃষ্ঠা - ৭৩৭
প্রতিপাল্যকর ডাকে সাড়া দিন ৷ তীর এ ধরনের ব্যাখ্যা যথার্থ বলে মােন নেয়া যায় না,
কেননা মুল পাষ্ঠে তাকে চপেটাঘাত করার বিষয়টি প্ৰতিপালকের ডাকে সাড়া দিন বলার
পরের ঘটনা বলে উল্লেখিত হয়েছে ৷ তবে প্রথম ন্যাখ্যাটি মুল পাঠের সাথে সামঞ্জস্যর্শীল ৷
কেননা, মুসা (আ) মৃত্যুর ফেরেশতাকে চিনতে পারেন নি ৷ ঐ নির্দিষ্ট সমরটিতে ফেরেশতা রুহ
করব করার জন্যে আসবেন এরুপ ধারণা করাও হয়নি ৷ কেননা, মুসা (আ ) অনেক কিছু করার
আশা পোষণ করেছিলেন আর সেই সব কতো বাকি রয়ে গিয়েছিল ৷ যেমন মুসা (আ) ময়দানে
তীহ থেকে বের হয়ে পবিত্র ভুমি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করার প্রবল আকভেক্ষা পোষণ
করেছিলেন ৷ কিত্তু আল্লাহ্ তাআলা নির্ধারণ করে ব্লেখেছিলেন যে, তিনি হারুন ( আ )এর পর
ভীহ প্রাডরে ইনতিকাল করবেন ৷ অচিরেই এ সম্পর্কে বর্ণনা পেশ করা হবে ৷
কোন ৷কােন তাফসীরকার মনে করেন, মুসা (আ) বনী ইসরাঈলকে নিয়ে ভীহ ময়দান
থেকে বের হয়ে বায়তুন মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেছিলেন ৷ এই অভিতেঢি কিতাবীদের ও জমহুর
উলামার অভিমভের পব্লিপন্থী ৷ আর এটা মুসা (আ )-এর সেই দুভ্রার সাথেও সঙ্গতিপুর্ণ
যাতে তিনি বলেছিলেন হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি ঢিল নিক্ষেপের ডফাতে বারতুল
মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী করল ৷ যদি তিনি তথষ্মে গ্রবেশই করে ফেলডেন তাহলে তিনি এরুপ
দৃ’অন্ব করতেন না ৷ কিন্তু তিনি তার সম্প্রদায়ের সাথে ডীহ প্রান্তার ছিলেন ৷ যখন তীর মৃত্যু
সন্নিকট হল তখন তিনি যেই পবিত্র ভুমিতে হিজরত করার জন্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই
ভুমির নিকটবর্তী হবার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করলেন এবং নিজের সম্প্রদায়কে এই কাজে
অনৃপ্ৰর্শের্দীত করলেন, কিভু তাদের ও তাদের আকাজ্জিত পবিত্র ভুমির মাঝে ভাগ্য অস্তরয়ে হয়ে
দাড়ায় ৷ এই জন্যই সারা দুনিয়ার জন্যে প্রেরিত রাসুল ও মানব-কুল শিরােমনি মুহাম্মদ ( না)
ইরশাদ করেন, যদি আমি সেখানে যেতাম তাহলে তােমড়াদেরকে লাল ঢিবির কাছে মুসা
(আ)-এর কবর দেখাতাম ৷
ইমাম বুখারী (র) আনন্দে ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি রলেনপৃ রড়াসুলুল্লাহ্
(সা) ইরশাদ করেন মিরাজের রাতে যখন আমি মুসা (আ)-এর কাছে গমন করলাম তখন
আমি তাকে লাল ঢিৰির নিকট তার কবরে সালাত আদায় করতে দেখলাম ৷
ইমাম মুসলিম (র)-ও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন ৷ সুদ্দী (র) ইবন আব্বাস (রা), ইবন
মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবারে কিরাম (রা ) থেকে বর্ণনা করেন ৷ র্ডারা বলেন অতঃপর আল্লাহ
তাআলা মুসা ( আ)-এর কাছে ওহী প্রেরণ করলেন, আমি হারুন (আ)-£ক মৃত্যু দান কবর ৷
তাই র্তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে আর ৷ নির্দেশ ঘুতাবিক মুসা (আ) ও হড়ারুন (আ ) নির্দেশিত
পাহাড়ের দিকে রওয়ানা হলেন ৷ পথে র্তারা এমন একটি গাছ দেখতে পেলেন যেরুপ গাছ
কেউ ণ্কানদিন দেখেনি ৷ এরপর তারা একটি পাকা ঘর দেখতে পেলেন, সেখানে একটি থাট
রয়েছে এবং খাটে লুসজ্জিত ৰিছানাও রয়েছে ৷ আর ঘরে তখন সৃবাতাস খেলছে ৷
হড়ারুন (আ) যখন পাহাড় ও ঘরের দিকে তাকালেন তখন এগুলো তার কাছে খুবই ভাল
লাগল ৷ তাই তিনি বললেন : হে মুসা) আমি এই খাটে ঘুমাতে চাই ৷ মুসা (আ) বললেন
আপনার ভাল লাগলে আপনি এখানে ঘৃমিয়ে পড়ুন ৷ হড়ারুন (আ) বললেন তবে আমার ভর
نَظَرَ إِلَيْكَ فِي دَارِكَ بِغَيْرِ إِذْنٍ. ثُمَّ أَوْرَدَ الْحَدِيثَ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «جَاءَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى لِيَقْبِضَ رُوحَهُ، قَالَ لَهُ: أَجِبْ رَبَّكَ. فَلَطَمَ مُوسَى عَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ، فَفَقَأَ عَيْنَهُ» وَذَكَرَ تَمَامَ الْحَدِيثِ - كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ الْبُخَارِيُّ - ثُمَّ تَأَوَّلَهُ عَلَى أَنَّهُ لَمَّا رَفَعَ يَدَهُ لِيَلْطِمَهُ قَالَ لَهُ: أَجِبْ رَبَّكَ. وَهَذَا التَّأْوِيلُ لَا يَتَمَشَّى عَلَى مَا وَرَدَ بِهِ اللَّفْظُ، مِنْ تَعْقِيبِ قَوْلِهِ: أَجِبْ رَبَّكَ. بِلَطْمِهِ، وَلَوِ اسْتَمَرَّ عَلَى الْجَوَابِ الْأَوَّلِ، لَتَمَشَّى لَهُ. وَكَأَنَّهُ لَمْ يَعْرِفْهُ فِي تِلْكَ الصُّورَةِ، وَلَمْ يَحْمِلْ قَوْلَهُ هَذَا عَلَى أَنَّهُ مُطَابِقٌ; إِذَا لَمْ يَتَحَقَّقْ فِي السَّاعَةِ الرَّاهِنَةِ أَنَّهُ مَلَكٌ كَرِيمٌ; لِأَنَّهُ كَانَ يَرْجُو أُمُورًا كَثِيرَةً كَانَ يُحِبُّ وُقُوعَهَا فِي حَيَاتِهِ; مِنْ خُرُوجِهِ مِنَ التِّيهِ، وَدُخُولِهِمُ الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ، وَكَانَ قَدْ سَبَقَ فِي قَدَرِ اللَّهِ، أَنَّهُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، يَمُوتُ فِي التِّيهِ، بَعْدَ هَارُونَ أَخِيهِ، كَمَا سَنُبَيِّنُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، وَقَدْ زَعَمَ بَعْضُهُمْ أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، هُوَ الَّذِي خَرَجَ بِهِمْ مِنَ التِّيهِ، وَدَخَلَ بِهِمُ الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ. وَهَذَا خِلَافُ مَا عَلَيْهِ أَهْلُ الْكِتَابِ، وَجُمْهُورُ الْمُسْلِمِينَ. وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ، قَوْلُهُ لَمَّا اخْتَارَ الْمَوْتَ: رَبِّ، أَدْنِنِي إِلَى الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ، رَمْيَةً بِحَجَرٍ. وَلَوْ كَانَ قَدْ دَخَلَهَا، لَمْ يَسْأَلْ ذَلِكَ، وَلَكِنْ لَمَّا كَانَ مَعَ قَوْمِهِ بِالتِّيهِ، وَحَانَتْ وَفَاتُهُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَحَبَّ أَنْ يَتَقَرَّبَ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ إِلَيْهَا، وَحَثَّ قَوْمَهُ عَلَيْهَا، وَلَكِنْ حَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهَا الْقَدَرُ، رَمْيَةً بِحَجَرٍ، وَلِهَذَا قَالَ
পৃষ্ঠা - ৭৩৮
سَيِّدُ الْبَشَرِ، وَرَسُولُ اللَّهِ إِلَى أَهْلِ الْوَبَرِ وَالْمَدَرِ: «فَلَوْ كُنْتُ ثَمَّ لَأَرَيْتُكُمْ قَبْرَهُ عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ» .
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، وَسُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَمَّا أُسْرِيَ بِي، مَرَرْتُ بِمُوسَى، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ، عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ» . وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ بِهِ.
وَقَالَ السُّدِّيُّ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، وَأَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَعَنْ نَاسٍ مِنَ الصَّحَابَةِ، قَالُوا: ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَى مُوسَى: إِنِّي مُتَوَفٍّ هَارُونَ، فَائِتِ بِهِ جَبَلَ كَذَا وَكَذَا. فَانْطَلَقَ مُوسَى وَهَارُونُ نَحْوَ ذَلِكَ الْجَبَلِ، فَإِذَا هُمْ بِشَجَرَةٍ لَمْ تُرَ شَجَرَةٌ مِثْلُهَا، وَإِذَا هُمْ بِبَيْتٍ مَبْنِيٍّ، وَإِذَا هُمْ بِسَرِيرٍ عَلَيْهِ فُرُشٌ، وَإِذَا فِيهِ رِيحٌ طَيِّبَةٌ، فَلَمَّا نَظَرَ هَارُونُ إِلَى ذَلِكَ الْجَبَلِ وَالْبَيْتِ وَمَا فِيهِ، أَعْجَبَهُ، قَالَ: يَا مُوسَى، إِنِّي أُحِبُّ أَنَّ أَنَامَ عَلَى هَذَا السَّرِيرِ. قَالَ لَهُ مُوسَى: فَنَمْ عَلَيْهِ، قَالَ: إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَأْتِيَ رَبُّ هَذَا الْبَيْتِ فَيَغْضَبَ عَلَيَّ. قَالَ لَهُ: لَا تَرْهَبْ، أَنَا أَكْفِيكَ رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ، فَنَمْ. قَالَ: يَا مُوسَى، بَلْ نَمْ مَعِي فَإِنْ جَاءَ رَبُّ هَذَا الْبَيْتِ، غَضِبَ عَلَيَّ وَعَلَيْكَ جَمِيعًا فَلَمَّا نَامَا، أَخَذَ هَارُونَ الْمَوْتُ، فَلَمَّا وَجَدَ حِسَّهُ، قَالَ: يَا مُوسَى، خَدَعَتْنِي. فَلَمَّا قُبِضَ، رُفِعَ ذَلِكَ الْبَيْتُ، وَذَهَبَتْ تِلْكَ الشَّجَرَةُ، وَرُفِعَ السَّرِيرُ
পৃষ্ঠা - ৭৩৯
হচ্ছে, ঘরের মালিক যদি এসে আমার উপর রাগাষিত হন ৷ মুসা (আ) বললেন, এ ব্যাপারে
আপনি কোন ভয় করবেন না, ঘরের মালিকের ব্যাপারটি আমিই দেখব ৷ আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন ৷
তিনি বললেন, হে মুসা ! তুমিও আমার সাথে ঘুমিয়ে পড় ৷ যদি ঘরের মালিক আসেন তাহলে
তিনি আমাদের দু জনের প্রতিই রাগাম্বিত হবেন ৷’ যখন তারা দৃজনই ঘুমিয়ে পড়লেন, হারুন
(আ)কে মৃত্যু স্পর্শ করল ৷ যখন তিনি ব্যাপারটি টের পেলেন, তখন বললেন, “হে মুসা ! তুমি
আমাকে র্ফড়াকি দিয়েছ ৷” হারুন (আ) যখন ইন্তিকাল করলেন, ঘর, গাছ ও খাট আসমানে
উঠিয়ে নেয়া হল ৷ অতঃপর মুসা (আ) যখন তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলেন, অথচ
হারুন (আ) ও তার সাথে নেই, তখন বনী ইসরাঈলরা বলতে ৩,লাগল নিশ্চয়ই মুসা হারুনকে
হত্যা করেছেন ৷ বনী ইসরাঈলরা৷ হ রুন (আ)-ফে যেহেতু অধিকতর ভ ৷লবাসে, সে জন্য মুসা
হিংসা করে হারুন (আ)-কে হত্যা করেছেন ৷ বন্তুত মুসা (আ) থেকে বনী ইসরাঈলের কাছে
হারুন (আ) ছিলেন অধিকতর নমনীয় ৷ পক্ষান্তরে মুসা (আ)-এর মধ্যে ছিল কিছুটা কঠােরতা ৷
”মুসা (আ) একথা শুনে তাদেরকে বললেন, “ তোমাদের জন্য আমাদের আফসােস তোমরা কি
জান না, তিনি ছিলেন আমার সহােদর ৷ ৫৩ ৷মরা কি করে ত ৷বলে যে, আমি তাকে হত্যা করতে
পারি? যখন তারা এ বিষয় নিয়ে মুসা (আ)-কে অধিক জ্বালাতন করতে লাগল, তখন তিনি
দাড়িয়ে দৃরাকাত সালাত আদায় করলেন ও আন্মাহ্ তাঅড়ালার কাছে প্রার্থনা করলেন ৷ তখন
খাটটি উপর থেকে নিচে নেমে আসল এবং তারা সকলে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী জায়গায়
হারুন (আ)-এর লাশঢি দেখতে পেল ৷
অতঃপর মুসা (আ) ও তার খাদেম ইউশা (আ) একদিন পায়চারী করছিলেন ৷ এমনি সময়
একটি কাল বাতাস বইতে, লাগল ৷ ইউশা (আ) সেদিকে তাকালেন এবং এটাকে কিয়ামতের
আলামত বলে ধারণা করলেন ৷ তখন তিনি মুসা (আ)-কে জড়িয়ে ধরলেন এবং বলতে
লাগলেন, কিয়ামত সমাগত আর আমি আল্লাহর নবী মুসা (আ)-কে জড়িয়ে ধরে আছি ৷ মুসা
(আ) তখন আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ইউশা (আ)-এর হাতে জামা রয়ে গেল ৷
ইউশা (আ) জামা নিয়ে যখন বনী ইসরাঈলের কাছে আসলেন, তখন তারা র্তাকে অভিযুক্ত
করে বলতে লাগল, “তুমি আল্লাহর নবীকে হত্যা করেছ ৷” তিনি বললেন, না, আল্লাহর শপথ,
আমি তাকে হত্যা করিনি ৷ বরং তিনি আমার হাত থেকে ছুটে চলে গেছেন ৷ তারা তার কথা
বিশ্বাস করল না এবং তাকে হত্যা করতে উদ্যত হল ৷ ইউশা (আ) বললেন, “যেহেতু তোমরা
আমাকে বিশ্বাস করছ না, সেহেতু আমাকে তিন দিনের অবকাশ দাও ৷” অতঃপর তিনি আল্লাহ্
তাআলার নিকট প্রার্থনা করেন ৷ ফলে যত জন ইউশা (আ)-কে পাহারা দিত সকলকে স্বপ্নে
দেখানো হল যে, ইউশা (আ) মুসা (আ)-কে হত্যা করেন নি বরং র্তাকে আল্লাহ্ তাআলা
উঠিয়ে নিয়ে গেছেন ৷ ফলে তারা ছেড়ে দিল ৷ অন্যদিকে মুসা (আ)-এর সাথে যারা দৃর্ধর্ষ
লোকদের করলিত পবিত্র শহর বায়তৃল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিল তাদের
কেউই এ শহরের বিজয়ের সময় অবশিষ্ট ছিল না ৷ সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল ৷ তবে
উপরোক্ত বর্ণনার সুত্রে কিছু দুর্বলত৷ রয়েছে ৷ আল্লাহ্ই অধিকতর জ্ঞাত ৷ পুর্বে আমরা বর্ণনা
করেছি যে, মুসা (আ)-এর সাথে যারা ছিলেন, তাদের মধ্য হতে ইউশা ইবন নুন (আ) ও
কালিব ইবন ইউকাল্লা (আ) ব্যতীত অন্য কেউ তীহ প্রান্তর থেকে বের হতে পারেনি ৷ কালিব
আল-বিদড়ায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৮৯-
بِهِ إِلَى السَّمَاءِ، فَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ، وَلَيْسَ مَعَهُ هَارُونُ قَالُوا: فَإِنَّ مُوسَى قَتَلَ هَارُونَ، وَحَسَدَهُ حُبَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَهُ. وَكَانَ هَارُونُ أَكَفَّ عَنْهُمْ وَأَلْيَنَ لَهُمْ مِنْ مُوسَى، وَكَانَ فِي مُوسَى بَعْضُ الْغِلْظَةِ عَلَيْهِمْ، فَلَمَّا بَلَغَهُ ذَلِكَ قَالَ لَهُمْ: وَيْحَكُمْ، كَانَ أَخِي أَفَتَرُونِي أَقْتُلُهُ؟ فَلَمَّا أَكْثَرُوا عَلَيْهِ، قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ دَعَا اللَّهَ فَنَزَلَ السَّرِيرُ حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، ثُمَّ إِنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بَيْنَمَا هُوَ يَمْشِي وَيُوشَعُ فَتَاهُ، إِذْ أَقْبَلَتْ رِيحٌ سَوْدَاءُ، فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهَا يُوشَعُ ظَنَّ أَنَّهَا السَّاعَةُ، فَالْتَزَمَ مُوسَى وَقَالَ: تَقُومُ السَّاعَةُ وَأَنَا مُلْتَزِمٌ مُوسَى نَبِيَّ اللَّهِ، فَاسْتَلَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنْ تَحْتِ الْقَمِيصِ، وَتَرَكَ الْقَمِيصَ فِي يَدَيْ يُوشَعَ، فَلَمَّا جَاءَ يُوشَعُ بِالْقَمِيصِ أَخَذَتْهُ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَقَالُوا: قَتَلْتَ نَبِيَّ اللَّهِ؟ فَقَالَ: لَا وَاللَّهِ مَا قَتَلْتُهُ وَلَكِنَّهُ اسْتَلَّ مِنِّي. فَلَمْ يُصَدِّقُوهُ وَأَرَادُوا قَتْلَهُ. قَالَ: فَإِذَا لَمْ تُصَدِّقُونِي فَأَخِّرُونِي ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ. فَدَعَا اللَّهَ، فَأَتَى كُلُّ رَجُلٍ مِمَّنْ كَانَ يَحْرُسُهُ فِي الْمَنَامِ فَأَخْبَرَ أَنَّ يُوشَعَ لَمْ يَقْتُلْ مُوسَى، وَإِنَّا قَدْ رَفَعْنَاهُ إِلَيْنَا، فَتَرَكُوهُ، وَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ مِمَّنْ أَبَى أَنْ يَدْخُلَ قَرْيَةَ الْجَبَّارِينَ مَعَ مُوسَى، إِلَّا مَاتَ، وَلَمْ يَشْهَدِ الْفَتْحَ. وَفِي بَعْضِ هَذَا السِّيَاقِ نَكَارَةٌ وَغَرَابَةٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَقَدْ قَدَّمْنَا أَنَّهُ لَمْ يَخْرُجْ أَحَدٌ مِنَ التِّيهِ مِمَّنْ كَانَ مَعَ مُوسَى، سِوَى يُوشَعَ بْنِ نُونٍ، وَكَالِبَ بْنِ يُوفَنَّا، وَهُوَ زَوْجُ مَرْيَمَ أُخْتِ مُوسَى وَهَارُونَ، وَهُمَا الرَّجُلَانِ الْمَذْكُورَانِ فِيمَا تَقَدَّمَ اللَّذَانِ أَشَارَا عَلَى مَلَأِ بَنِي إِسْرَائِيلَ بِالدُّخُولِ عَلَيْهِمْ، وَذَكَرَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، مَرَّ بِمَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ يَحْفِرُونَ قَبْرًا، فَلَمْ يَرَ أَحْسَنَ مِنْهُ، وَلَا أَنْضَرَ وَلَا أَبْهَجَ، فَقَالَ: يَا مَلَائِكَةَ اللَّهِ لِمَنْ تَحْفِرُونَ هَذَا الْقَبْرَ؟
পৃষ্ঠা - ৭৪০
ছিলেন মুসা (আ) ও হারুন (আ)-এর বোন মারয়ামের স্বামী ৷ র্তারা উল্লেখিত দুই ব্যক্তি
ইসরাঈলদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন ৷
ওহড়াব ইবন মুনাব্বিহ্ (র) উল্লেখ করেছেন যে, একদিন মুসা (আ) একদল ফেরেশতার
নিকট আগমন করলেন ৷ তারা তখন একটি কবর খুড়ছিলেন ৷ এই কবর থেকে উত্তম, সুন্দর ও
মনােরম কবর কখনও দেখা যায়নি ৷ তিনি ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা কার
জন্যে এই কবরটি খুড়ছেন? তারা বললেন, “এটা আল্লাহ্ তাআলার এক বান্দার জন্যে যিনি
খুবই সম্মানিত ৷ যদি আপনি এরুপ সম্মানিত বান্দা হতে চান তাহলে এ কবরে প্রবেশ করুন ৷
বহুক্ষণ এখানে সটান শুয়ে পড়ুন এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন এবং
আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস নিতে থাকুন ৷ তিনি তইি করলেন ও ইন্তিকাল করলেন ৷ ফেরেশতাগণ
তীর জানাযার নামায আদায় করেন এবং তাকে দাফন করেন ৷
কিতাবীরা ও অন্যান্য উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেন যে, মুসা (আ) যখন ইনৃতিকাল
করেন তখন তার বয়স ছিল একশ বিশ বছর ৷ ইমাম আহমদ (র) আবু হুরায়রা (বা ) থেকে
মারফু হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেন; পুর্বে মৃত্যুর ফেরেশতা
জনগণের কাছে প্রকাশ্যে আগমন করতেন ৷ তইি একদিন মুসা (আ)-এর কাছেও প্রকাশ্যে
আগমন করলেন ৷ অমনি মুসা (আ) তাকে চপেটাঘাত করে তার চোখ নষ্ট করে দেন ৷
ফেরেশতা প্রতিপালকের কাছে আগমন করলেন ও বললেন, হে আমার প্রতিপালক ৷ আপনার
বন্দো মুসা (আ) আমার চোখ বিনষ্ট করে দিয়েছেন ৷ তিনি যদি আপনার কাছে সম্মানিত না
হতেন তাহলে আমি তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতাম ৷
আল্লাহ তাআলা বললেন, “হে ফেরেশতা! তুমি আমার বান্দার কাছে ফিরে যাও এবং
তাকে বল যে, সে যেন একটি র্ষাড়ের পিঠের উপর তার হাত রাখে ৷ তাতে তার হাতের নিচে
যতটি লোম পড়বে তাকে ড্ড বছরের আয়ু দেয়া হবে ৷ মুসা (আ) বললেন, তারপর কী হবে?
তিনি বললেন, “তারপর মৃত্যু ৷” মুসা (আ) বললেন, “তাহলে তা এখনই হোক ৷” বর্ণনাকারী
বলেন, মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে একটি বস্তুর ঘ্রড়াণ নিতে দিলেন এবং এভাবে তার রুহ কবয
করলেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর ফেরেশতার চোখ নিরাময় করে
দিলেন ৷ এরপর থেকে মৃত্যুর ফেরেশতা লোকজনের কাছে গোপনে আসেন ৷ ইবন জারীর
তাবারী (র)-ও অনুরুপ হাদীস মাবফুভাবে বর্ণনা করেন ৷
ইউশা (আ) এর নবুওত লাভ এবং বনী ইসরাঈলের দায়িত্ব গ্রহণ
তিনি হলেন ইউশা ইবন নুন ইবন আফরাসীম ইবন ইউসুফ (আ), ইবন ইয়াকুব (আ),
ইবন ইসহড়াক (আ), ইবন ইবরাহীম খলীল (আ) ৷ কিতাবীরা বলেন, “ইউশা হলেন হুদ
(আ)-এর চাচাভাে ভাই ৷ আল্পাহ্ তাআলা কুরআন শরীফে খিযির (আ)-এর ঘটনা প্রসঙ্গে
ইউশা (আ)-এর নাম উল্লেখ না করে তার বর্ণনা দিয়েছেন ৷ আল্লাহ্ তাআলা বলেন : ^১)টু
শু $£ ত্বে£ঝু fl (§ স্মরণ কর, যখন মুসা তার খাদেমকে বলেছিল’ ৷ বুখারী শরীফেও উবায়
فَقَالُوا: لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ كَرِيمٍ، فَإِنْ كُنْتَ تُحِبُّ أَنْ تَكُونَ هَذَا الْعَبْدَ، فَادْخُلْ هَذَا الْقَبْرَ، وَتَمَدَّدْ فِيهِ، وَتَوَجَّهْ إِلَى رَبِّكَ، وَتَنَفَّسْ أَسْهَلَ تَنَفُّسٍ. فَفَعَلَ ذَلِكَ فَمَاتَ، صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ فَصَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ، وَدَفَنُوهُ. وَذَكَرَ أَهْلُ الْكِتَابِ وَغَيْرُهُمْ أَنَّهُ مَاتَ وَعُمْرُهُ مِائَةٌ وَعِشْرُونَ سَنَةً.
وَقَدْ قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، وَيُونُسُ، قَالَا: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ يُونُسُ: رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَانَ مَلَكُ الْمَوْتِ يَأْتِي النَّاسَ عِيَانًا قَالَ: فَأَتَى مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَلَطَمَهُ، فَفَقَأَ عَيْنَهُ، فَأَتَى رَبَّهُ، فَقَالَ: يَا رَبِّ عَبْدُكَ مُوسَى فَقَأَ عَيْنِي، وَلَوْلَا كَرَامَتُهُ عَلَيْكَ لَعَنُفْتُ بِهِ " وَقَالَ يُونُسُ: " لَشَقَقْتُ عَلَيْهِ ". " قَالَ لَهُ اذْهَبْ إِلَى عَبْدِي، فَقُلْ لَهُ: فَلْيَضَعْ يَدَهُ عَلَى جِلْدِ - أَوْ مَسْكِ - ثَوْرٍ، فَلَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ وَارَتْ يَدُهُ سَنَةٌ. فَأَتَاهُ فَقَالَ لَهُ، فَقَالَ: مَا بَعْدَ هَذَا؟ قَالَ: الْمَوْتُ، قَالَ: فَالْآنَ ". قَالَ: فَشَمَّهُ شَمَّةً، فَقَبَضَ رُوحَهُ قَالَ يُونُسُ: " فَرَدَّ اللَّهُ عَلَيْهِ عَيْنَهُ، وَكَانَ يَأْتِي النَّاسَ خُفْيَةً» وَكَذَا رَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ الْمِقْدَامِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ بِهِ، فَرَفَعَهُ أَيْضًا وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ.
পৃষ্ঠা - ৭৪১
ইবন কাব (বা) থেকে নাম ধরে তার বর্ণনা এসেছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন যে, তিনি
হলেন ইউশা ইবন নুন (আ) ৷ কিতাবীদের মধ্যে তার নবুওত সম্পর্কে ঐকমত্য রয়েছে ৷ তাদের
একটি দল যারা সামিরাহ বলে বিখ্যাত, তারা মুসা (আ) এর পর ইউশা ইবন নুন (আ) ব্যতীত
কারো নবুওত স্বীকার করে না ৷ তাওরাতে ইউশা (আ) এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷
তাই তারা ইউশা (আ) ব্যতীত অন্যের নবুওতকে অস্বীকার করে ৷ অথচ অন্যদের নবুওত
প্রতিপালকের তরফ থেকে সত্য ও যথার্থ ৷ তাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার
লা’নত বর্নিত হতে থাকবে ৷
ইবন জারীর প্রমুখ তাফসীরকার, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন; মুসা (আ ) এর
শেষ জীবনে মুসা (আ) হতে ইউশা (আ)-এর দিকে নবুওত স্থানান্তরিত হয় ৷ মুসা (আ) ইউশা
(আ)-এর সাথে সাক্ষাত করে প্রশ্ন করতেন যে, কি কি নতুন আদেশ নিষে ধ অবতীর্ণ হয়েছে ৷
একদিন ইউশা (আ) বল্লেন, “হে কালীমুল্লাহ্! আমি আপনাকে কোন দিনও প্রশ্ন করিনি যে,
আপনার কাছে আল্লাহ তড়াআলা কী ওহী প্রেরণ করেছেন, আপনিই বরং প্রয়োজনে আমাকে
নিজের পক্ষ থেকে ওহী সম্পর্কে রক্তে করতেন ৷ তখন মুসা (আ) বেচে থাকাকে অপছন্দ
করলেন এবং মৃত্যুকেই শ্রেয় বিবেচনা করলেন ৷ উপরোক্ত বর্ণনায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে ৷
কেননা মুসা (আ)-এর কাছে মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত সর্বদাই আল্লাহর আদেশ, ওহী, শরয়ী নির্দেশ ও
কথাবার্তা অবতীর্ণ হত এবং তিনি আল্লাহ্ তাআলার নিকট আজীবন সম্মানিত, যোগ্য,
মর্যাদাবান ও দক্ষতাসম্পন্ন নবী রুপেই ছিলেন ৷ বুখারী শরীফে মুসা (আ) কর্তৃক মৃত্যুর
ফেরেশতার চােখবিনষ্ট করা সম্পর্কিত হাদীসটি ইতিপুর্বে উদ্ধৃত হয়েছে ৷
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (ব)-এব উপরোক্ত বর্ণনাটি যদি তিনি আহলি কিতাবদের কিতাব
থেকে বর্ণনা করে থাকেন তাহলে জেনে রাখা দরকার যে, তাদের তাওরাত নামী কিভাবে
উল্লেখ রয়েছে যে, মুসা (আ)-এর জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বনী ইসরাঈলের প্রয়োজন
মুতাবিক আল্লাহ তাআলা মুসা (আ)-এর প্রতি আদেশ-নিষেধ সংক্রান্ত ওহী অবতীর্ণ করেছেন ৷
র্তাবু আকৃতির গম্বুজে স্থাপিত সাক্ষ্যদানে তাবুত সম্বন্ধে তাদের কিভাবে উল্লেখিত তথ্যাদি
পর্যালোচনা করলে তা সহণ্ডেইি প্রতীয়মান হয় ৷ বনী ইসরাঈলের তৃতীয় যাত্রা পুস্তকে উল্লেখ
রয়েছে যে, বনী ইসরাঈলকে ১২টি গোত্রে বিভক্ত করার জন্যে আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ) ও
হারুন (আ)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ আবার প্রতিটি গোত্রের একজন আমীর নির্ধারণ করার
জন্যে হুকুম দিয়েছিলেন ৷ আমীরকে বলা হতো নকীব ৷ ভীহ ময়দান থেকে বের হবার পর দৃর্ধর্ষ
জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি হিসেবে তাদেরকে এরুপ বিভক্ত করার হুকুম দেয়া হয়েছিল ৷
আর এ নির্দেশটি ছিল চল্লিশ বছর অতিক্রাত্ত হবার শেষের দিকে ৷ এ জন্যই কেউ কেউ
বলেছেন, মুসা (আ) মৃত্যুর ফেরেশতার চোখ বিনষ্ট করে দিয়েছিলেন ৷ কারণ, তিনি তাকে
তার ঐ সময়ের অবয়বে চেনেননি ৷ অধিকত্তু আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে এমন একটি
কাজের নির্দেশ দিয়েছিলেন তার যমানায় যেটা সংঘটিত হবার তিনি আশা পোষণ করছিলেন
কিন্তু তার আমলে এটা সংঘটিত হওয়া তকদীরের ফয়সালা ছিল না ৷ বরং এটা তার খাদেম
ইউশা ইবন নুনের ভাগ্যেই নির্ধারিত ছিল ৷
[ذِكْرُ نُبُوَّةِ يُوشَعَ وَقِيَامِهِ بِأَعْبَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ بَعْدَ مُوسَى وَهَارُونَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ]
هُوَ يُوشَعُ بْنُ نُونِ بْنِ أَفْرَايِيمَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ، وَأَهْلُ الْكِتَابِ يَقُولُونَ: يُوشَعُ بْنُ عَمِّ هُودٍ. وَقَدْ ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ غَيْرَ مُصَرَّحٍ بِاسْمِهِ فِي قِصَّةِ الْخَضِرِ، كَمَا تَقَدَّمَ فِي قَوْلِهِ: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ} [الكهف: 60] . {فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ} [الكهف: 62] . وَقَدَّمْنَا مَا ثَبَتَ فِي " الصَّحِيحِ "، مِنْ رِوَايَةِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِنْ أَنَّهُ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ، وَهُوَ مُتَّفَقٌ عَلَى نُبُوَّتِهِ عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَإِنَّ طَائِفَةً مِنْهُمْ وَهُمُ السَّامِرَةُ لَا يُقِرُّونَ بِنُبُوَّةِ أَحَدٍ بَعْدَ مُوسَى إِلَّا يُوشَعَ بْنَ نُونٍ; لِأَنَّهُ مُصَرَّحٌ بِهِ فِي التَّوْرَاةِ وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ، وَهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ، فَعَلَيْهِمْ لِعَائِنُ اللَّهِ الْمُتَتَابِعَةُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
وَأَمَّا مَا حَكَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ وَغَيْرُهُ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، مِنْ أَنَّ النُّبُوَّةَ حُوِّلَتْ مِنْ مُوسَى إِلَى يُوشَعَ فِي آخِرِ عُمْرِ مُوسَى، فَكَانَ مُوسَى يَلْقَى يُوشَعَ فَيَسْأَلُهُ مَا أَحْدَثَ اللَّهُ إِلَيْهِ مِنَ الْأَوَامِرِ وَالنَّوَاهِي، حَتَّى قَالَ لَهُ: يَا كَلِيمَ
পৃষ্ঠা - ৭৪২
اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ لَا أَسْأَلُكَ عَمَّا يُوحِي اللَّهُ إِلَيْكَ، حَتَّى تُخْبِرَنِي أَنْتَ ابْتِدَاءً مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِكَ. فَعِنْدَ ذَلِكَ كَرِهَ مُوسَى الْحَيَاةَ، وَأَحَبَّ الْمَوْتَ. فَفِي هَذَا نَظَرٌ; لِأَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، لَمْ يَزَلِ الْأَمْرُ، وَالْوَحْيُ، وَالتَّشْرِيعُ، وَالْكَلَامُ مِنَ اللَّهِ إِلَيْهِ فِي جَمِيعِ أَحْوَالِهِ، حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ، عَزَّ وَجَلَّ، وَلَمْ يَزَلْ مُعَزَّزًا، مُكَرَّمًا، مُدَلَّلًا، وَجِيهًا عِنْدَ اللَّهِ، كَمَا قَدَّمْنَا فِي " الصَّحِيحِ "، مِنْ قِصَّةِ فَقْئِهِ عَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ، ثُمَّ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ إِنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ فَلْيَضَعْ يَدَهُ عَلَى جِلْدِ ثَوْرٍ، فَلَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ وَارَتْ يَدُهُ سَنَةٌ يَعِيشُهَا، قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: الْمَوْتُ. قَالَ: فَالْآنَ يَا رَبِّ. وَسَأَلَ اللَّهَ أَنْ يُدْنِيَهُ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ رَمْيَةً بِحَجَرٍ، وَقَدْ أُجِيبَ إِلَى ذَلِكَ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ، فَهَذَا الَّذِي ذَكَرَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، إِنْ كَانَ إِنَّمَا يَقُولُهُ مِنْ كُتُبِ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَفِي كِتَابِهِمُ الَّذِي يُسَمُّونَهُ التَّوْرَاةَ أَنَّ الْوَحْيَ لَمْ يَزَلْ يَنْزِلُ عَلَى مُوسَى فِي كُلِّ أَمْرٍ يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ إِلَى آخِرِ مُدَّةِ مُوسَى، كَمَا هُوَ الْمَعْلُومُ مِنْ سِيَاقِ كِتَابِهِمْ عِنْدَ تَابُوتِ الشَّهَادَةِ، فِي قُبَّةِ الزَّمَانِ. وَقَدْ ذَكَرُوا فِي السَّفَرِ الثَّالِثِ، أَنَّ اللَّهَ أَمَرَ مُوسَى وَهَارُونَ أَنْ يَعُدَّا بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى أَسْبَاطِهِمْ، وَأَنْ يَجْعَلَا عَلَى كُلِّ سِبْطٍ مِنَ الِاثْنَيْ عَشَرَ أَمِيرًا، وَهُوَ النَّقِيبُ، وَمَا ذَاكَ إِلَّا لِيَتَأَهَّبُوا لِلْقِتَالِ; قِتَالِ الْجَبَّارِينَ عِنْدَ الْخُرُوجِ مِنَ التِّيهِ، وَكَانَ هَذَا عِنْدَ اقْتِرَابِ انْقِضَاءِ الْأَرْبَعِينَ سَنَةً. وَلِهَذَا قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّمَا فَقَأَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ; لِأَنَّهُ لَمْ يَعْرِفْهُ فِي صُورَتِهِ تِلْكَ وَلِأَنَّهُ
পৃষ্ঠা - ৭৪৩
যেমন রাসুলুল্লাহ্ (স) সিরিয়ার রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছে করেছিলেন এবং
এজন্য নবম হিজরীতে তিনি তাবুকে পৌছেও ছিলেন ৷ কিন্তু ঐ বছর তিনি যুদ্ধ না করে ফিরে
আসেন ৷ অতং পর দশম হিজরীতে তিনি হজ আদায় করেন ও মদীনায় ফিরে এসে উসামা
(রা) কে আমীর নিযুক্ত করেন ৷৩ তার জীবদ্দশায় সিরিয়ার উদ্দেশে একটি সেনাদল প্রেরণের
প্রন্তুতির নির্দেশ দেন এবং নিম্ন বর্ণিত আঘাতের মর্মানুযায়ী স্বয়ং যুদ্ধে য ৷বার প্রন্তুতি নেন ৷
যাতে আল্লাহ তাআলা বলেন ং
হ্ণ্র্চর্ন্ত র্যেণ্ ৷০শুডাঃ
)
া^ ” ট্রু;;£ :০া০<৷ ৷ ৷ট্রু;ঠু৷ র্চু,ঙ্কু;এ৷ র্বু০০ দ্বুব্লুপু
যাদের প্ৰতি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে৩ তাদের মধ্যে যারা আল্লাহে ঈমান আসে না শেষ
দিলেও নয় ৷ এবং আল্লাহ ও তার রাসুল যা হারাম করেছেন, তা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য
দীন অনুসরণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা নত হয়ে স্বহন্তে জিযিয়া
দেয় ৷ (সুরা তওবা : ২৯)
রাসুলুল্লাহ (সা) উসামা বাহিনী প্ৰন্তুত করার সাথে সাথেই ইনতিকাল করেন ৷ তখন উসামা
জুরাফ নামক স্থানে স্থাপিত র্তাবুতে অবস্থান করছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর ইনতিকালের পর
তার খলীফা আবু বকর সিদ্দিক (বা) উসামা বাহিনী প্রেরণের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করেন ৷ অতঃপর
যখন আরব উপদ্বীপের অবস্থা স্বাভাবিক হয় ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অবসান ঘটে
এবং সত্য তার নিজস্ব পথে অগ্রসর হয়, পুর্ব-পশ্চিমে ইরাক-সিরিয়ার এবং পারস্য সম্রাট
কিসরাৱ সাথী-সংগীও রোম সম্রাট কায়সরের বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসলামী বাহিনী প্রেরণ করা হয়
এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিজয় দান করেন এবং শত্রু পক্ষের জানমালের অধিকারী
করে দেন ৷ এ সম্বন্ধে ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ৷ অনুরুপ আল্লাহ
তাআলা মুসা (আ) কে বনী ইসরা ঈল থেকে সৈন্য সত্থাহর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের
মধ্যে নকীব নির্ধারণ করতে হুকুম দিয়েছিলেন ৷ আল্লাহ্ তা জানা বলেন :
ণ্ৰ্এে ৷ র্দুাব্লু ”ঠোদ্বু
আল্পাহ্ তা আলা বনী ইসরাঈলের অংপীকারষ্ গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের মধ্য হতে
বারজন নেতা নিযুক্ত করেছিলেন ৷ (সুরা মায়েদা০ ং ১২)
এঠাও
)’ এ
كَانَ قَدْ أُمِرَ بِأَمْرٍ كَانَ يَرْتَجِي وُقُوعَهُ فِي زَمَانِهِ، وَلَمْ يَكُنْ فِي قَدَرِ اللَّهِ أَنْ يَقَعَ ذَلِكَ فِي زَمَانِهِ بَلْ فِي زَمَانِ فَتَاهَ يُوشَعَ بْنِ نُونٍ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، كَمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ قَدْ أَرَادَ غَزْوَ الرُّومِ بِالشَّامِ، فَوَصَلَ إِلَى تَبُوكَ، ثُمَّ رَجَعَ عَامَهُ ذَلِكَ فِي سَنَةِ تِسْعٍ، ثُمَّ حَجَّ فِي سَنَةِ عَشْرٍ، ثُمَّ رَجَعَ فَجَهَّزَ جَيْشَ أُسَامَةَ إِلَى الشَّامِ، طَلِيعَةً بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ كَانَ عَلَى عَزْمِ الْخُرُوجِ إِلَيْهِمْ; امْتِثَالًا لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} [التوبة: 29] . وَلَمَّا جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ جَيْشَ أُسَامَةَ، تُوُفِّيَ، عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، وَأُسَامَةُ مُخَيِّمٌ بِالْجَرْفِ فَنَفَّذَهُ صَدِيقُهُ وَخَلِيفَتُهُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، ثُمَّ لَمَّا لَمَّ شَعَثَ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَمَا كَانَ وَهَى مِنْ أَمْرِ أَهْلِهَا، وَعَادَ الْحَقُّ إِلَى نِصَابِهِ، جَهَّزَ الْجُيُوشَ يَمْنَةً وَيَسْرَةً، إِلَى الْعِرَاقِ، أَصْحَابِ كِسْرَى مَلِكِ الْفُرْسِ، وَإِلَى الشَّامِ، أَصْحَابِ قَيْصَرَ مَلِكِ الرُّومِ، فَفَتَحَ اللَّهُ لَهُمْ، وَمَكَّنَ لَهُمْ وَبِهِمْ، وَمَلَّكَهُمْ نَوَاصِيَ أَعْدَائِهِمْ، كَمَا سَنُورِدُهُ فِي مَوْضِعِهِ، إِذَا انْتَهَيْنَا إِلَيْهِ مُفَصَّلًا، إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِعَوْنِهِ وَتَوْفِيقِهِ وَحُسْنِ إِرْشَادِهِ. وَهَكَذَا مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ; كَانَ اللَّهُ قَدْ أَمَرَهُ أَنْ يُجَنِّدَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَأَنْ يَجْعَلَ عَلَيْهِمْ نُقَبَاءَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنْتُمْ بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ فَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ} [المائدة: 12] .
পৃষ্ঠা - ৭৪৪
আর আল্লাহ বলেছিলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; তোমরা যদি সালাত কায়েম কর,
যাকাত দাও, আমার রাসুলগণে ঈমান আন ও তাদেরকে সম্মান কর এবং অ ৷ল্লাহকে উত্তম ঋণ
প্রদান কর, তবে তোমাদের পাপ অবশ্যই মােচন করব এবং নিশ্চয় তোমাদেরকে দাখিল করব
জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; এর পরও কেউ কুফরী করলে সে সরল পথ হারাবে ৷
(সুরা মায়েদা : ১২)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা বনী ইসরাঈলকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমাদের প্রতি আমি যা
বাধ্যতামুলক করেছি তা যদি তোমরা যথাযথ পালন কর এবং যুদ্ধ থেকে বিরত না
থাক-যেমন পুর্বে বিরত ছিলে তাহলে এটার সওয়াবকে আমি তোমাদের উপর পতিত গযব ও
শাস্তির কাফফারা রুপে গণ্য করব ৷ এ প্রসঙ্গে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে যে সব বেদুঈন রাসুলুল্লাহ
(স^া) থেকে পিছু হটে রয়েছিল তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ তাআ ৷ল৷ ইরশা দ করেন :
যে সব আরব মরুবাসী পশ্চ৷ তে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বল, তোমরা আহুত হয়ে এক
প্রবল পরাক্রাম্ভ জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, তে তামরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না
তারা আত্মসমর্পণ করে ৷ তোমরা এ নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ৫ তামাদেরকে উত্তম পুরস্কার
দান করবেন ৷ আর তোমরা যদি পুর্বের মত পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর,৩ তিনি তোমাদেরকে মর্মত্তুদ শ৷ ৷স্তি
দেবেন ৷ (সুরা ফাত্হ : ১৬)
অনুরুপভাবে আল্লাহ্ তাআলা বনী ইসরাঈলের ক্ষেত্রেও বলেছেন:; :
এরপরও তোমাদের কেউ কুফরী করলে সে সরল পথ হারাবে ৷’ অতংপর আল্লাহ্ তা আলা
তাদের দৃষ্কর্মের ও ওয়াদাভঙ্গের জন্য নিবন্ধ ব করেন ৷ যেমন তাদের পর খৃন্টানদের ধস্বীয়ি
ব্যাপারে মতবিরোধের জন্য আল্লাহ্ তা জানা তাদেরকে তিরস্কার করেন ৷ এ সম্পর্কে তাফসীরের
কিভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ৷
বন্তুত আল্লাহ্ তাআল৷ মুসা (আ)-কে বনী ইসরাঈলেব ঐসব যােদ্ধার নাম লিপিবদ্ধ করার
জন্যে নির্দেশ দেন যারা অস্ত্রধারণ করতে পারে, যুদ্ধ করতে পারে এবং বিশ বছর কিৎব৷ তার
অধিক বয়সে পৌছেছে আর তাদের প্রতিটি দলের জন্যে একজন নকীব তথা নে৩ তা নির্ধারণেরও
তিনি হুকুম দেন ৷
প্রথম গোত্রটি ছিল রুবীল-এর গোত্র ৷ রুবীল ছিলেন ইয়াকুব (আ)-এর প্রথম সন্তান ৷ এ
গোত্রে যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৫শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন আল ইয়াসুর ইবন শাদ
ইয়াসুরা ৷
দ্বিতীয় গোত্রটি ছিল শামউন-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৩শ’ ৷ তাদের
নেতা ছিলেন শালে৷ মীঈল ইবন হুরইয়৷ শুদাই ৷
يَقُولُ لَهُمْ: لَئِنْ قُمْتُمْ بِمَا أَوْجَبْتُ عَلَيْكُمْ، وَلَمْ تَنْكِلُوا عَنِ الْقِتَالِ، كَمَا نَكَلْتُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ، لَأَجْعَلَنَّ ثَوَابَ هَذِهِ مُكَفِّرَةً لِمَا وَقَعَ عَلَيْكُمْ مِنْ عِقَابِ تِلْكَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى لِمَنْ تَخَلَّفَ مِنَ الْأَعْرَابِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عُمْرَةِ الْحُدَيْبِيَةِ {قُلْ لِلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ فَإِنْ تُطِيعُوا يُؤْتِكُمُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا وَإِنْ تَتَوَلَّوْا كَمَا تَوَلَّيْتُمْ مِنْ قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} [الفتح: 16] . وَهَكَذَا قَالَ تَعَالَى لِبَنِي إِسْرَائِيلَ: {فَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ} [المائدة: 12] ثُمَّ ذَمَّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى سُوءِ صَنِيعِهِمْ، وَنَقْضِهِمْ مَوَاثِيقَهُمْ، كَمَا ذَمَّ مَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ النَّصَارَى عَلَى اخْتِلَافِهِمْ فِي دِينِهِمْ وَأَدْيَانِهِمْ. وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ فِي " التَّفْسِيرِ " مُسْتَقْصًى، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَنْ يَكْتُبَ أَسْمَاءَ الْمُقَاتِلَةِ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، مِمَّنْ يَحْمِلُ السِّلَاحَ وَيُقَاتِلُ، مِمَّنْ بَلَغَ عِشْرِينَ سَنَةً فَصَاعِدًا، وَأَنْ يَجْعَلَ عَلَى كُلِّ سِبْطٍ نَقِيبًا مِنْهُمْ; السِّبْطُ الْأَوَّلُ سِبْطُ رُوبِيلَ; لِأَنَّهُ بِكْرُ يَعْقُوبَ، كَانَ عِدَّةُ الْمُقَاتِلَةِ مِنْهُمْ سِتَّةً وَأَرْبَعِينَ أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ مِنْهُمْ، وَهُوَ أَلِيصُورُ بْنُ شَدَيْئُورَا، السِّبْطُ الثَّانِي سِبْطُ شَمْعُونَ، وَكَانُوا تِسْعَةً وَخَمْسِينَ أَلْفًا وَثَلَاثَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ شَلُومِيئِيلُ بْنُ هُورِيشَدَّاي، السِّبْطُ الثَّالِثُ سِبْطُ يَهُوذَا،
পৃষ্ঠা - ৭৪৫
তৃভীয়টি ছিল ইয়াহুদা-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬শ ৷ তাদের নেতা
ছিলেন নাহশুন ইবন ওমায়না দাব ৷
চতুর্থ ছিল ঈশাখার-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৪ হাজার ৪শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন
নড়াশাঈল ইবন সাওপার ৷
পঞ্চম গোত্রটি ছিল ইউসুফ (আ)-এর ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৫শ’ ৷ তাদের নেতা
ছিলেন ইউশা ইবন সুন (আ) ৷
ষষ্ঠ ছিল মীশা-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ২শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন
জামলীঈল ইবন ফাদাহ সুর ৷
সপ্তম গোত্রটি ছিল বিন ইয়ামীন-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৪শ’ ৷ তাদের
নেতা ছিলেন আবীদান ইবন জাদউন ৷
অষ্টম গোত্রটি ছিল হাদ-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৬শ ৫০ জন ৷ তাদের
নেতা ছিলেন আল ইয়াসাফ ইবন ৱাউঈল
নবমটি ছিল আশীরএর ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৫শ’ ৷ তাদের নেতা ছিলেন
ফাজ-ঈল ইবন আকরান ৷
দশম গোত্রঢি ছিল দান-এর ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৭শ’ ৷ নেতা ছিলেন আথী
আমার ইবন আম শুদাই ৷
একাদশতম গোত্রটি ছিল নাফতালী-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার ৪শ ৷
তাদের নেতা ছিলেন আখীরা ইবন আইন ৷
দ্বাদশতম গোত্রটি ছিল যাবুলুন-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৪শ’ ৷ তাদের
নেতা ছিলেন আলবাব ইবন হইিলুন ৷ উপরোক্ত বর্ণনাটি ইহুদীদের কিভাবে উল্লেখিত রয়েছে ৷
আল্লাহ্ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত ৷
বনু লাওয়ী উপরোক্ত বনী ইসরাঈলের আঃভুক্ত নয় ৷ তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বনী
ইসরাঈলের সাথে যোদ্ধা হিসাবে গণ্য করতে নিষেধ করেছেন ৷ কেননা; তারা ছিল র্তাবু-
পম্বুজের বহন, খাটানাে ও গুটড়ানাের দায়িত্বে নিয়োজিত ৷ তারা ছিল মুসা (আ) ও হারদ্বন
(আ)-এর গোত্র ৷ তাদের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৷ এ সংখ্যার মধ্যে ১ মাস বা তদুর্ধ বয়সের
শিশুদেরকেও ধরা হয়েছে ৷ তারা আবার নিজেরা বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল ৷ প্রতিটি ছোট ছোট
গোত্র, র্তাবু গম্বুজের বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল ৷ একদল এটাকে পাহারা দিত, অন্য
একদল এটার যাবতীয় মেরামতের কাজে নিয়োজিত থাকত ৷ যখন বনী ইসরাঈলরা অন্যত্র
গমন করত , তখন একটি দল র্তাবু পরিবহন ও খাটড়ানাের কাজে নিয়োজিত থাকত ৷ তারা
সকলেই র্তাবু গম্বুজের আশেপাশে, সামনে, পেছনে, ভানে ও নামে হেফাজতে নিয়োজিত
থাকত ৷
বসু লাওয়ী ব্যতীত বনী ইসরাঈলের যােদ্ধাদের মোট সংখ্যা যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে
তা হচ্ছে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬শ ৫৬; কিত্তু তারা বলে ২০ বছর বয়স্ক ও তদুর্ধের অস্ত্র
ধারণকারী বনী ইসরাঈলের যােদ্ধাদের সংখ্যা হচ্ছে (তা অবশ্য বনু লাওয়ীকে বাদ দিয়ে) ৬
وَكَانُوا أَرْبَعَةً وَسَبْعِينَ أَلْفًا وَسِتَّمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ نَحْشُوَنُ بْنُ عَمِّينَادَابَ، السِّبْطُ الرَّابِعُ سِبْطُ إِيسَّاخَرَ، وَكَانُوا أَرْبَعَةً وَخَمْسِينَ أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ نَشَائِيلُ بْنُ صُوغَرَ، السِّبْطُ الْخَامِسُ سِبْطُ يُوسُفَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَكَانُوا أَرْبَعِينَ أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ، السِّبْطُ السَّادِسُ سِبْطُ مِيشَا، وَكَانُوا أَحَدًا وَثَلَاثِينَ أَلْفًا وَمِائَتَيْنِ، وَنَقِيبَهُمْ جَمْلِيئِيلُ بْنُ فَدَهْصُورَ. السِّبْطُ السَّابِعُ سِبْطُ بِنْيَامِينَ، وَكَانُوا خَمْسَةً وَثَلَاثِينَ أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ أَبِيدَنُ بْنُ جِدْعُونَ، السِّبْطُ الثَّامِنُ سِبْطُ جَادَ، وَكَانُوا خَمْسَةً وَأَرْبَعِينَ أَلْفًا وَسِتَّمِائَةٍ وَخَمْسِينَ رَجُلًا، وَنَقِيبُهُمْ الْيَاسَافُ بْنُ رَعُوئِيلَ، السِّبْطُ التَّاسِعُ سِبْطُ أَشِيرَ، وَكَانُوا أَحَدًا وَأَرْبَعِينَ أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ فَجْعِيئِيلُ بْنُ عُكْرَنَ، السِّبْطُ الْعَاشِرُ سِبْطُ دَانَ، وَكَانُوا اثْنَيْنِ وَسِتِّينَ أَلْفًا وَسَبْعَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ أَخِيعَزَرُ بْنُ عَمِّيشَدَّايْ، السِّبْطُ الْحَادِي عَشَرَ سِبْطُ نِفْتَالِي، وَكَانُوا ثَلَاثَةً وَخَمْسِينَ أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ أَخِيرَعُ بْنُ عِينَ، السِّبْطُ الثَّانِي عَشَرَ سَبْطُ زَبُولُونَ، وَكَانُوا سَبْعَةً وَخَمْسِينَ أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ، وَنَقِيبُهُمْ أَلْبَابُ بْنُ حِيلُونَ. هَذَا نَصُّ كِتَابِهِمُ الَّذِي بِأَيْدِيهِمْ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَلَيْسَ مِنْهُمْ بَنُو لَاوِي، فَأَمَرَ اللَّهُ مُوسَى أَنْ لَا يَعُدَّهُمْ مَعَهُمْ; لِأَنَّهُمْ مُوَكَّلُونَ بِحَمْلِ قُبَّةِ الشَّهَادَةِ، وَخَزْنِهَا وَنَصْبِهَا إِذَا ارْتَحَلُوا وَهُمْ سَبِطُ مُوسَى وَهَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، وَكَانُوا اثْنَيْنِ وَعِشْرِينَ أَلْفًا مِنِ ابْنِ شَهْرٍ فَمَا فَوْقُ، ذَلِكَ وَهُمْ فِي أَنْفُسِهِمْ قَبَائِلُ، إِلَى كُلِّ قَبِيلَةٍ طَائِفَةٌ مِنْ قُبَّةِ الزَّمَانِ يَحْرُسُونَهَا، وَيَحْفَظُونَهَا، وَيَقُومُونَ بِمَصَالِحِهَا، وَنَصْبِهَا، وَحَمْلِهَا، وَهُمْ كُلُّهُمْ
পৃষ্ঠা - ৭৪৬
লাখ ৩ হাজার ৫শ’ ৫৫ জন ৷ এরুপ বর্ণনায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে ৷ কেননা, তাদের
কিতাবে উল্লেখিত উপরোক্ত সৈন্যদের মোট সংখ্যার সাথে তাদের উল্লেখিত সৈন্য সংখ্যার মিল
নেই ৷ আল্লাহ্ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত ৷
চলার সময় র্তাবু ৷ম্বুজের হেফাজতে নিযুক্ত বনু লাওয়ীরা বনী ইসবাঈলের মধ্যভাগে
অবস্থান করতেন ৷ আর ডান পাশের শীর্ষে থাকতেন বনু রুবীল ও বাম পার্শের শীর্ষে থাকতেন
বনুৰান ৷ বনু নাফতালী হতে ন পশ্চাৎবর্তী দলে অন্তর্ভুক্ত ৷ আল্লাহ তাআ ৷লার নির্দোশ মুসা (আ)
বনু হারুন (আ) কে ইমাম নির্ধারণ ৷করলেন ৷ তাদের পুর্বে তাদের পিত ৷রাও এরুপ ইমাম
ছিলেন ৷ তারা ছিলেন নাদাব; হুবকারাহ, আবীহু, আল আযির ও ইয়াসমার ৷
বন্তুত বনী ইসরাঈলের যারা মুসা (আ)-কে বলেছিল, তু ও ণ্তামার প্রতিপালক শত্রুর
সাথে গিয়ে যুদ্ধ কর, আমরা এখানেই বসে রইলাম ৷ অর্থাৎ যারা দুর্দাম্ভ লোকজন অধ্যুষিত
শহর বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছিল তাদের একজনও তখন
জীবিত ছিল না ৷
এটা সাওবী (র)-এর অভিমত ৷ তিনি ইবন আব্বাস (রা) থেকে এরুপ বর্ণনা করেন ৷
অনুরুপভাবে কাতাদা (র) , ইকরিম৷ (র) ও সুদ্দী (র) , ইবন আব্বাস (রা) , ইবন মাসউদ (রা)
প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণনা করেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা ) সহ পুর্ব ও পরের
উলামায়ে কিরাম বলছেন, হারুন (আ) ও মুসা (আ) উভয়েই ইণ্ডে তাপুর্বে তীহের প্রান্তরে
ইননিক ল করেছিলেন৩ ৷ তবে ইবন ইসহাক (ব) মনে করেন যে, যিনি বায়তুল মুকাদ্দাস জয়
করেছেন, তিনি হচ্ছেন মুসা (আ) আর ইউশা (আ) ছিলেন তার অগ্রগামী দলের প্রধান ৷ তিনি
আবার এ প্রসঙ্গে বালআম ইবন বাউর এর ঘটনাও বর্ণনা করেন ৷
আল্লাহ্ তা জানা ইরশ ৷৷দ করেন ং
,ধ্ (»
ট্রুশ্রোব্র৷ ৷ এোরু ,)ন্ ৷ ,
ৰু,াহ্রশু১
fl
৷ ন্ঠুদ্বপু ৷
(পুমোঃ ৷^শুাহ্র ণ্ছুর্বুর্দুকু১াঠু ৮;া£াপ্রু ৷ , “ (;,“,;fi ৷ ৰুক্রো ৷
তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও যাকে আ ৷মি দিয়েছিলাম নিদর্শন, অতঃপর সে ওটা
বর্জন করে ও শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয় ৷ আমি
ইচ্ছে করলে এটার দ্বারা তাকে উচ্চমর্যাদা দান করতাম কিত্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুকে পড়ে
ওতার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ৷ তার অবস্থা কুকুরের মত যার ওপর তুমি বোঝা চাপালে সে
হীপাতে থাকে এ ৎ ন্ ছুমি বোঝা না চ ৷পালেও হাপায় ৷ যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান
করে তাদের অবস্থা ও এরুপ;ত তুমি বৃত্তান্ত বিবৃত কর যাতে তারা চিন্তা করে ৷ যে সম্প্রদায় আমার
নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের প্রতি জুলুম করে তাদের অবস্থা কত মন্দ! (সুরা
১৭৭)
حَوْلَهَا يَنْزِلُونَ وَيَرْتَحِلُونَ أَمَامَهَا وَيَمِينَهَا وَشِمَالَهَا وَوَرَاءَهَا.
وَجُمْلَةُ مَا ذُكِرَ مِنَ الْمُقَاتِلَةِ، غَيْرَ بَنِي لَاوِي، خَمْسُمِائَةِ أَلْفٍ وَأَحَدٌ وَسَبْعُونَ أَلْفًا وَسِتُّمِائَةٍ وَسِتَّةٌ وَخَمْسُونَ، لَكِنْ قَالُوا: فَكَانَ عَدَدُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِمَّنْ عُمْرُهُ عِشْرُونَ سَنَةً فَمَا فَوْقَ ذَلِكَ مِمَّنْ حَمَلَ السِّلَاحَ، سِتَّمِائَةِ أَلْفٍ وَثَلَاثَةَ آلَافٍ وَخَمْسَمِائَةٍ وَخَمْسِينَ رَجُلًا، سِوَى بَنِي لَاوِي وَفِي هَذَا نَظَرٌ; فَإِنَّ جَمِيعَ الْجُمَلِ الْمُتَقَدِّمَةِ، إِنْ كَانَتْ كَمَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِهِمْ لَا تُطَابِقُ الْجُمْلَةَ الَّتِي ذَكَرُوهَا. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. فَكَانَ بَنُو لَاوِي الْمُوَكَّلُونَ بِحِفْظِ قُبَّةِ الزَّمَانِ، يَسِيرُونَ فِي وَسَطِ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَهُمُ الْقَلْبُ، وَرَأْسُ الْمَيْمَنَةِ بَنُو رُوبِيلَ، وَرَأْسُ الْمَيْسَرَةِ بَنُو رَانَ، وَبَنُو نِفْتَالِي يَكُونُونَ سَاقَةً، وَقَرَّرَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِأَمْرِ اللَّهِ تَعَالَى لَهُ، الْكِهَانَةَ فِي بَنِي هَارُونَ، كَمَا كَانَتْ لِأَبِيهِمْ مِنْ قَبْلِهِمْ، وَهُمْ: نَادَابُ، وَهُوَ بِكْرُهُ، وَأَبِيهُو، وَالْعَازَرُ، وَيَثْمَرُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ أَحَدٌ مِمَّنْ كَانَ نَكَلَ عَنْ دُخُولِ مَدِينَةِ الْجَبَّارِينَ، الَّذِينَ قَالُوا: {فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] . قَالَهُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ. وَقَالَهُ قَتَادَةُ، وَعِكْرِمَةُ، وَرَوَاهُ السُّدِّيُّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، وَنَاسٍ مِنَ الصَّحَابَةِ، حَتَّى قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَغَيْرُهُ مِنْ عُلَمَاءِ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ: وَمَاتَ مُوسَى، وَهَارُونُ قَبْلَهُ، كِلَاهُمَا فِي التِّيهِ جَمِيعًا. وَقَدْ زَعَمَ ابْنُ