قصة موسى الكليم عليه الصلاة والسلام
পৃষ্ঠা - ৫৪৮
মূসা কালীমুল্লাহ্ (আ) এর বিবরণ
তিনি হচ্ছেন মূসা ইবন ইমরান ইবন কাহিছ ইবন আযির ইবন লাওয়ী ইবন ইয়াকূব ইবন
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (আ) ৷
আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনুল করীমের বিভিন্ন জায়গায় সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভারে মুসা (আ) এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷ সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর বর্ণনাকালে তাফসীরের কিতাবে আমি তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি ৷ এখানে মুসা (আ )-এর ঘটনার আদ্যোপাম্ভ কিতাব ও সুন্নতের আলোকে আমি বর্ণনা করতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্ ৷ ইসরাঈলী বর্ণনাসমুহ থেকে এ সম্পর্কে যে সব বর্ণনা প্ৰসিদ্ধি লাভ করেছে এবং আমাদের পুর্ববর্তী উলামায়ে কিরামও এগুলো বর্ণনা করেছেন তা এখানে পেশ করব ৷
আল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ করেন :
অর্থাৎ-স্মরণ কর, এ কিতাবে উল্লেখিত মূসার কথা, যে ছিল বিশুদ্ধচিত এবং সে ছিল রাসুল ও নবী৷ তাকে আমি অহ্বান করেছিলাম তুর পর্বতের দক্ষিণ দিক হতে এবং আমি অন্তরংগ আলাপে তাকে নৈকট্যদান করেছিলাম ৷ আমি নিজ অনুগ্রহে তাকে দিলাম তার তাই হারুনকে নবীরুপে৷ (সুরা মরিয়ম : ৫২)
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:
[قِصَّةُ مُوسَى الْكَلِيمِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ]
[قِصَّتُهُ مَعَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ]
ذِكْرُ قِصَّةِ مُوسَى الْكَلِيمِ، عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ
وَهُوَ مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ بْنِ قَاهِثَ بْنِ عَازِرَ بْنِ لَاوِي بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَلَيْهِمُ السَّلَامُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا - وَنَادَيْنَاهُ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا - وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا} [مريم: 51 - 53]
[مَرْيَمَ 51 - 53] . ذَكَرَهُ بِالرِّسَالَةِ وَالنُّبُوَّةِ وَالْإِخْلَاصِ وَالتَّكْلِيمِ وَالتَّقْرِيبِ، وَمَنَّ عَلَيْهِ بِأَنْ جَعَلَ أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا وَقَدْ ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي مَوَاضِعَ كَثِيرَةٍ مُتَفَرِّقَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ، وَذَكَرَ قِصَّتَهُ فِي مَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مَبْسُوطَةٍ، وَمُتَوَسِّطَةٍ، وَمُخْتَصَرَةٍ، وَقَدْ تَكَلَّمْنَا عَلَى ذَلِكَ كُلِّهِ فِي مَوَاضِعِهِ مِنَ " التَّفْسِيرِ " وَسَنُورِدُ سِيرَتَهُ هَاهُنَا، مِنِ ابْتِدَائِهَا إِلَى آخِرِهَا مِنَ الْكِتَابِ وَالسَّنَةِ، وَمَا وَرَدَ فِي الْآثَارِ الْمَنْقُولَةِ مِنَ الْإِسْرَائِيلِيَّاتِ، الَّتِي ذَكَرَهَا السَّلَفُ وَغَيْرُهُمْ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ، وَبِهِ الثِّقَةُ وَعَلَيْهِ التُّكْلَانُ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {طسم - تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ - نَتْلُوا عَلَيْكَ مِنْ نَبَأِ مُوسَى وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ - إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَاءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ - وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ - وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُمْ مَا كَانُوا يَحْذَرُونَ} [القصص: 1 - 6]
[الْقِصَصِ 1 - 6] . يَذْكُرُ تَعَالَى مُلَخَّصَ الْقِصَّةِ ثُمَّ يَبْسُطُهَا بَعْدَ هَذَا، فَذَكَرَ أَنَّهُ سُبْحَانَهُ يَتْلُو عَلَى نَبِيِّهِ خَبَرَ مُوسَى وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ ; أَيْ بِالصِّدْقِ الَّذِي كَأَنَّ سَامِعَهُ مُشَاهِدٌ لِلْأَمْرِ مُعَايِنٌ لَهُ {إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا} [القصص: 4] أَيْ ; تَجَبَّرَ وَعَتَا، وَطَغَى وَبَغَى، وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَأَعْرَضَ عَنْ طَاعَةِ الرَّبِّ الْأَعْلَى. {وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا} [القصص: 4] أَيْ ; قَسَّمَ رَعِيَّتَهُ إِلَى أَقْسَامٍ وَفِرَقٍ وَأَنْوَاعٍ {يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِنْهُمْ} [القصص: 4] وَهُمْ شَعْبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، الَّذِينَ هُمْ مِنْ سُلَالَةِ نَبِيِّ اللَّهِ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ اللَّهِ. وَكَانُوا إِذْ ذَاكَ خِيَارَ أَهْلِ الْأَرْضِ، وَقَدْ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ هَذَا الْمَلِكَ الظَّالِمَ الْغَاشِمَ الْكَافِرَ الْفَاجِرَ، يَسْتَعْبِدُهُمْ وَيَسْتَخْدِمُهُمْ فِي أَخَسِّ الصَّنَائِعِ وَالْحِرَفِ، وَأَرْدَئِهَا، وَأَدْنَاهَا، وَمَعَ هَذَا {يُذَبِّحُ أَبْنَاءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} [القصص: 4] وَكَانَ الْحَامِلُ لَهُ عَلَى هَذَا الصَّنِيعِ الْقَبِيحِ، أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا يَتَدَارَسُونَ فِيمَا بَيْنَهُمْ مَا كَانُوا يَأْثُرُونَهُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، مِنْ أَنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ غُلَامٌ يَكُونُ هَلَاكُ مَلِكِ مِصْرَ عَلَى يَدَيْهِ، وَذَلِكَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، حِينَ جَرَى عَلَى سَارَّةَ امْرَأَةِ الْخَلِيلِ مِنْ مَلِكِ مِصْرَ، مِنْ إِرَادَتِهِ إِيَّاهَا عَلَى السُّوءِ، وَعِصْمَةِ اللَّهِ لَهَا.
পৃষ্ঠা - ৫৪৯
ইসরাঈলের কোন ক্ষতি করল না ৷ ফিরআউন জেগে উঠে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল ৷ জ্যোতিযী ও
জাদুকরদেরকে সমবেত করল এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা জ নতে চাইল ৷৩ তারা তখন বলল এই যুবক
বনী ইসরাঈল বংশে জন্মগ্রহণ করবে এবং৩ তারই হাতে মিসররাসী ধ্বং স হবে ৷ এ কারণেই
ফিরআউন বনী ইসরাঈলের পুত্রগণকে হত্যা করতে এবংন নারীদের জীবিত রাখতে নির্দেশ দিল ৷
এই জন্যেই আল্লাহ্ তাআল৷ ইরশাদ করেন, আমি ইচ্ছা করলাম, সে দেশে যাদেরকে হীনবল
করা হয়েছিল, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে; তাদেরকে নেতৃতু দান করতে ও দেশের অধিকারী
করতে; এবং তাদেরকে দেশে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে, আর ফিরআউন, হামান ও তাদের
বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে ,যা এদের নিকট তারা আশঙ্কা করত ৷
অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে হীনবল করা হয়েছিল ৷ আল্লাহ্ত তা জানার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে যে
তিনি শিগগিরই হীনবলকে শক্তিশালী করবেন, পরাভুত তকে বিজয়ী করবেন এবং অবনমিতকে
শক্তিমান করবেন ৷ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, সবকিছুই বনী ইসরাঈলের ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে
বাস্তবায়িত হয়েছিল ৷ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন
“
ছুপ্রুড্রুন্ণ্ষ্দ্বু ৷ ণ্ষ্ট্রপু ৷ ৷এএে৷ )
অর্থাৎ-যে সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হত৩ তাদেরকে আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজেব্রর পুর্ব
ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী করি; এবং বনী ইসরাঈল সমন্ধে তোমার প্ৰতিপালকের শুভ বাণী
সাত্য পরিণত হল যেহেতু তারা ধৈর্যধা রণ করেছিল ৷ (সুরা আরাফ : ১৩৭)
আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন০ :
খ্যাঃ ণ্ব্লু
শ্রোর্চুাট্র
অর্থ্যাৎ-তার৷ পশ্চাতে রেখে গিয়েছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ, কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য
প্রাসাদ, কত বিলড়াস উপকরণ, যা তাদের আনন্দ দিত এরুপই ঘটেছিল এবং আমি এই সষুদয়ের
উত্তরাধিকারী করেছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে ৷ (সুরা দৃখান : ২৫) অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে ৷ এ
সম্বন্ধে অন্যত্র আরো বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্ ৷
মােটকথা , ফিরআউন সম্ভাব্য সবরকম সতর্কতা অবলম্বন করল যাতে মুসা (আ) দৃনিয়াতে
না আসতে পারে ৷ যে এমন কিছু সংখ্যক পুরুষ ও ত্রীকে নিযুক্ত করল যাতে তারা রাজে৷ ঘুরে
ঘুরে পর্ভবভী নারীদের সন্ধান করে ও তাদের প্রসবের নির্ধারিত সময় সম্বন্ধে অবগত হয় ৷ আর
যখনই কোন গর্ভবতী নারী পুত্র সন্তান প্রসব করত, তখনই এসব হত্যাকারী তাদেরকে হত্যা
করে ফেলত ৷
তাবীদের ভাষ্য হচ্ছে এই যে, ফিরআউন পুত্র-সন্তানদেরকে এ উদ্দেশ্যে হত্যা করার
হুকুম দিত যাতে বনী ইসরাঈলের শান-শওকতহ্রাস পেয়ে যায় ৷
وَكَانَتْ هَذِهِ الْبِشَارَةُ مَشْهُورَةً فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَتَحَدَّثَ بِهَا الْقِبْطُ فِيمَا بَيْنَهُمْ، وَوَصَلَتْ إِلَى فِرْعَوْنَ فِي مَجْلِسِ مُسَامَرَتِهِ مَعَ أُمَرَائِهِ وَأَسَاوِرَتِهِ وَهُمْ يَسْمُرُونَ عِنْدَهُ، فَأَمَرَ عِنْدَ ذَلِكَ بِقَتْلِ أَبْنَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ ; حَذَرًا مِنْ وُجُودِ هَذَا الْغُلَامِ، وَلَنْ يُغْنِيَ حَذَرٌ مِنْ قَدَرٍ.
وَذَكَرَ السُّدِّيُّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَأَبِي مَالِكٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَعَنْ أُنَاسٍ مِنَ الصَّحَابَةِ أَنَّ فِرْعَوْنَ رَأَى فِي مَنَامِهِ كَأَنَّ نَارًا قَدْ أَقْبَلَتْ مِنْ نَحْوِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَأَحْرَقَتْ دَوْرَ مِصْرَ وَجَمِيعَ الْقِبْطِ، وَلَمْ تَضُرَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ هَالَهُ ذَلِكَ فَجَمَعَ الْكَهَنَةَ وَالْحُزَاةَ وَالسَّحَرَةَ وَسَأَلَهُمْ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ الْكَهَنَةُ: هَذَا غُلَامٌ يُولَدُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، يَكُونُ سَبَبَ هَلَاكِ أَهْلِ مِصْرَ عَلَى يَدَيْهِ. فَلِهَذَا أَمَرَ بِقَتْلِ الْغِلْمَانِ وَتَرْكِ النِّسْوَانِ. وَلِهَذَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ} [القصص: 5] وَهُمْ بَنُو إِسْرَائِيلَ {وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ} [القصص: 5] أَيِ ; الَّذِينَ يَئُولُ مُلْكُ مِصْرَ وَبِلَادُهَا إِلَيْهِمْ {وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُمْ مَا كَانُوا يَحْذَرُونَ} [القصص: 6] أَيْ ; سَنَجْعَلُ الضَّعِيفَ قَوِيًّا، وَالْمَقْهُورَ قَاهِرًا، وَالذَّلِيلَ عَزِيزًا. وَقَدْ جَرَى هَذَا كُلُّهُ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ ; كَمَا قَالَ
পৃষ্ঠা - ৫৫০
সুতরাং কিবভীরা যখন তাদের উপর অ ধিপ তা বিস্তার করতে প্রয়াস পাবে কিৎব৷ তাদের
সাথে যুদ্ধ করবে তখন তারা তা প্রতিরোধ করতে সমর্থ হবে না ৷
এ ভাষাটি গ্রহণযোগ্য নয় ৷ কেননা, তাদের পুত্র-সন্তানদের এরুপ হত্যা করার হুকুম দেয়া
হয়েছিল মুসা (আ) এর নবুওতপ্রাপ্তির পর, জন্মলগ্রে নয় ৷
( যেমন আল্লাহ তা জানা বলেন :
ধ্র্মর্চু ৷ হুৰুর্দুার্চু,া৷ ৷ র্চুর্চুট্র৷ ৷টুপু হু৷ ৷;পুঢুষ্ এে;ণ্ ;শ্ণ্ এন্এ শুর্বৃ ! ; র্চুর্দুৰু
ন্)
এ
অর্থাৎ-ত ৷রপর মুসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হলে তারা
বলল, মুসার প্রতি যারা ঈমান এসেছে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের
নারীদেরকে জীবিত রাখ ৷ (সুরা মুমিনং ২৫) আর এজন্যেই বনী ইসরাঈল মুসা (আ) কে
বলেছিল : é”; শ্ন৷ ৷টুা৷স্ত
অর্থাৎ-আমাদের নিকট ৫তামার আমার পুর্বে আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তোমার আমার
পরেও ৷ (সুরা আ রাফং : ১২৯)
সুতরাং বিশুদ্ধ অভিমত তহচ্ছে এই যে মুসা (আ) এর দুনিয়ার আগমন ৫ঠকাবার জন্যেই
ফিরআউন বনী ইসর৷ ঈলের পুত্র-সত্তানদের প্রথমে হত তা৷ করার নির্দেশ দিয়েছিল ৷ত তাকদীর যেন
বলছিল, ৫হ বিপুল সেনাবাহিনীর অধিকারী! পরম ক্ষমতা ও রাজত্বের অধিপতি বিধায় অহৎকারী
পরাক্রমশালী সম্রাট ! ঐ অপ্রতিদ্বন্দী, অপ্ৰতিহত এবং অবিচল মহাশক্তির অধিকারী সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন যে, যেই সন্তানটি থেকে পবিত্র ণেব আশায়, অগণিত, অসং খ্য নিষ্পাপ পুত্র সন্তান
তুমি হত্যা করছ সেই সন্তান ৫তামাব ঘরেই প্ৰতিপালিত হবে, তোমার ঘরেই সে লালিত পালিত
হবে, তোমার ঘরেই তোমার খাদ্য খেয়ে ও পানীয় পান করে বড় হয়ে উঠবে, তুমিই তাকে
পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করবে ও তাকে লালন করবে অথচ তুমি এ রহস্য উদ্ঘাটন করতে
সক্ষম হবে না ৷ অবশেষে তার হাতেই তোমার দুনিয়া ও আখিরাত সর্বস্ব বিনাশ হয়ে যাবে ৷
কারণ সে যা কিছু প্রকাশ্য সত্য নিয়ে আসবে তুমি তার বিরোধিতা করবে, এবং তার কাছে যে
ওহী নাযিল হবে, তুমি তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এটা এজন্য যাতে ভুমি এবং ৫প টা জগদ্বাসী
জানতে পারে যে, নভোমণ্ডল ও ভুমণ্ডলের প্ৰতিপালক যা ইচ্ছা তা আঞ্জাম দিয়ে থাকেন, তিনিই
মহাপরাক্রমশালী একচ্ছএ ক্ষমত তার অধিকারী ও তার শক্তি ও ইচ্ছাকে কেউ প্রতিহত করতে
পারে না
একাধিক তাফসীরকার এরুপ বর্ণনা করেছেন কিবভীরা ফিরআউনের কাছে এমর্মে
অভিযোগ করে যে, বনী ইসরাঈলের পৃত্র-সম্ভান হত্যা করার কারণে তাদের সৎখ্যাহ্রাস পেয়ে
যাচ্ছে এবং তারা আশঙ্কা করতে বাধ্য হচ্ছে যে, ছোটদেরকে হত্যা করার কারণে বড়দের
সংখ্যাও ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকবে ৷ ফলে কিবভীদেরকে ঐ সব নিকৃষ্ট কাজ করতে হবে
যেগুলো বনী ইসরাঈল করতে বাধ্য ছিল ৷ এরুপ অভিযোগ ফিরআউনের কাছে পৌছার পর
ফিরআউন এক বছর পর পর পুত্র-সম্ভানদের হত্যা করতে নির্দেশ দিল ৷৩ তাফসীরক৷ রগণ উল্লেখ
করেন, যে বছর পুত্র-সত্তানদের হত্যা না করার কথা সেই বছর হারুন (আ) জন্মগ্রহণ করেন ৷
অন্যদিকে যে বছরে পুত্র-সম্ভানদের হত্যা করার কথা যে বছরে মুসা (আ) জন্মগ্রহণ করেন ৷
تَعَالَى: {وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا} [الأعراف: 137] وَقَالَ تَعَالَى: {فَأَخْرَجْنَاهُمْ مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ - كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الشعراء: 57 - 59]
[الشُّعَرَاءِ 57 - 59] . وَسَيَأْتِي تَفْصِيلُ ذَلِكَ فِي مَوْضِعِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ فِرْعَوْنَ احْتَرَزَ كُلَّ الِاحْتِرَازِ أَنْ لَا يُوجَدَ مُوسَى، حَتَّى جَعَلَ رِجَالًا وَقَوَابِلَ يَدُورُونَ عَلَى الْحَبَالَى، وَيَعْلَمُونَ مِيقَاتَ وَضْعِهِنَّ، فَلَا تَلِدُ امْرَأَةٌ ذَكَرًا إِلَّا ذَبَحَهُ أُولَئِكَ الذَّبَّاحُونَ مِنْ سَاعَتِهِ. وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنَّهُ إِنَّمَا كَانَ يَأْمُرُ بِذَبْحِ الْغِلْمَانِ لِتَضْعُفَ شَوْكَةُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَلَا يُقَاوِمُونَهُمْ إِذَا غَالَبُوهُمْ أَوْ قَاتَلُوهُمْ. وَفِي هَذَا نَظَرٌ، بَلْ هُوَ بَاطِلٌ، وَإِنَّمَا وَقَعَ هَذَا بَعْدَ بَعْثَةِ مُوسَى فَجَعَلَ يَقْتُلُ الْوِلْدَانَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا اقْتُلُوا أَبْنَاءَ الَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ وَاسْتَحْيُوا نِسَاءَهُمْ} [غافر: 25] . وَلِهَذَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى: {أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا} [الأعراف: 129] . فَالصَّحِيحُ أَنَّ فِرْعَوْنَ إِنَّمَا أَمَرَ بِقَتْلِ الْغِلْمَانِ أَوَّلًا حَذَرًا مِنْ وُجُودِ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ. هَذَا، وَالْقَدَرُ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا الْمَلِكُ الْجَبَّارُ، الْمَغْرُورُ بِكَثْرَةِ جُنُودِهِ، وَسُلْطَةِ بَأْسِهِ وَاتِّسَاعِ سُلْطَانِهِ، قَدْ حَكَمَ الْعَظِيمُ الَّذِي لَا
পৃষ্ঠা - ৫৫১
সুতরাং মুসা (আ)এর আম্ম৷ মুসা (আ)-কে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন ৷ তাই তিনি
গর্ভবতী হওয়ার প্রথম দিন থেকে সাবধানত৷ অবলম্বন করতে লাগলেন এবং গর্ভের কথা প্রকাশ
হতে দিলেন না ৷ যখন তিনি সন্তান প্রসব করলেন, একটি সিন্দুক তৈরি করার জন্যে র্তাকে
ৎগােপনে নির্দেশ প্রদান করা হল ৷ তিনি সিন্দুকটিকে একটি রশি দিয়ে বেধে রাখলেন ৷ তীর
বাড়ি ছিল নীলনদের তীরে ৷ তিনি তার সন্তানকে দুধ পান করাতেন এবং যখনই কারো
আগমনের আশঙ্কা করতেন তাকে সিন্দুকে রেখে সিন্দুক সমেত তাকে নদীতে ভাসিয়ে দিতেন ৷
আর রশির এক প্রান্ত তিনি নিজে ধরে রাখতেন ৷ যখন শত্রুরা চলে যেত তখন তিনি তাকে
টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসতেন ৷ আল্লাহ্ তাআ ৷লার বাণীং
; ৷ দ্বু
এ্যাঙ (;পুাহু ’ ৷ ব্রক্ট্রএৰুার্বৃঠু এ^এ৷ কু^শুাদ্বু ৷ক্ট্র ৷ ^দ্বু১১ খু)প্রু১া;প্রু র্বৃাএ
এৰুহ্র এের্দ্রষ্হ্রহ্রষ্স্ ব্লু)
১
é€
অর্থাৎ-মুসাব মায়ের অন্তরে আমি ইংগিতে নির্দেশ করলাম, “শিশুটিকে বুকের দুধ পান
করাতে থাক ৷” যখন ভুমি তার সম্পর্কে কোন আশঙ্কা করবে, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ
করবে এবং ভয় করবে না, দুঃখও করবে না ৷ আমি তাকে তোমার নিকট ফিরিয়ে দেব এব০
তাকে রাসুলদের একজন করব ৷ অবশেষে ফিরআউনের লোকজন তাকে উঠিয়ে নিল ৷ এর
পরিণাম৫ তা এই ছিল যে, সে তাদের শত্রু ও দু০খের কারণ হয়ে ৷ ফিরঅড়াউন, হামান ও তাদের
বাহিনী ছিল অপরাধী ৷ ফিরআউনের ত্রী বলল, এই শিশু আমার ও তোমার নয়ন গ্রীতিকর ৷
একে হত্যা করবে না, যে আমাদের উপকারে আসতে পারে ৷ আমরা তাকে সন্তান হিসেবেও
গ্রহণ করতে পারি ৷ প্রকৃতপক্ষে তারা এর পরিণাম বুঝতে পারেনি ৷ (সুরা কাসাস : ৭-৯)
মুসার মায়ের কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল ইলহাম ও নির্দেশনা ৷ যেমন
আল্লাহ তা জানা ইরশাদ করেন০ :
৷ ৷ প্রুঠুদ্বুএি ৷ ক্কু৷ ৷ র্বৃাইর্চু ১ , ৷ ,
— ১এে১ এ;দ্বু এ£র্ন্ত ;§£$& ,এএ্যাও ;, প্রুষ্কেছুর্দু :প্রুন্ৰু;ন্ম্ ৮;শু
অর্থাৎ-৫৩ ৷মার প্রতিপালক মৌমাছিকে তার অম্ভরে ইং গিতে নির্দেশ দিয়েছেন, ঘর তৈরি
কর পাহাড়ে, পাছপালায় ও মানুষ যে ঘর তৈরি করে তাতে ৷ এরপর প্রত্যেক ফল থেকে কিছু
কিছু আহার কর এবং তোমার প্রতিপালকের সহজপথ অনুসরণ কর ৷ (সুরা সালে : ৬৮)
এ ওহী নবুওতের ওহী নয় ৷ ইবন হাযম (র) ও ইল্ম আকাইদ বিশারদগণের অনেকেই
এটাকে মনে করেন, কিদ্ভু বিশুদ্ধ অভিমত হল প্রথম অভিমতটিই ৷ আর এটিই আহলুস সুন্নাত
ওয়াল জামায়াতের মত বলে আবুল হাসান আল আশআরী (র) বর্ণনা করেছেন ৷
১,
يُغَالَبُ وَلَا يُمَانَعُ، وَلَا تُخَالَفُ أَقْدَارُهُ أَنَّ هَذَا الْمَوْلُودَ الَّذِي تَحْتَرِزُ مِنْهُ، وَقَدْ قَتَلْتَ بِسَبَبِهِ مِنَ النُّفُوسِ مَا لَا يُعَدُّ وَلَا يُحْصَى، لَا يَكُونُ مُرَبَّاهُ إِلَّا فِي دَارِكَ وَعَلَى فِرَاشِكَ، وَلَا يُغَذَّى إِلَّا بِطَعَامِكَ وَشَرَابِكَ فِي مَنْزِلِكَ، وَأَنْتَ الَّذِي تَتَبَنَّاهُ وَتُرَبِّيهِ وَتَتَعَدَّاهُ، وَلَا تَطَّلِعُ عَلَى سِرِّ مَعْنَاهُ، ثُمَّ يَكُونُ هَلَاكُكَ فِي دُنْيَاكَ وَأُخْرَاكَ عَلَى يَدَيْهِ ; لِمُخَالَفَتِكَ مَا جَاءَكَ بِهِ مِنَ الْحَقِّ الْمُبِينِ، وَتَكْذِيبِكَ مَا أُوحِيَ إِلَيْهِ، لِتَعْلَمَ أَنْتَ وَسَائِرُ الْخَلْقِ أَنَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ هُوَ الْفَعَّالُ لِمَا يُرِيدُ، وَأَنَّهُ هُوَ الْقَوِيُّ الشَّدِيدُ، ذُو الْبَأْسِ الْعَظِيمِ، وَالْحَوَلِ وَالْقُوَّةِ وَالْمَشِيئَةِ، الَّتِي لَا مَرَدَّ لَهَا.
وَقَدْ ذَكَرَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ، أَنَّ الْقِبْطَ شَكَوْا إِلَى فِرْعَوْنَ قِلَّةَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، بِسَبَبِ قَتْلِ وِلْدَانِهِمُ الذُّكُورِ، وَخَشَوْا أَنْ تَتَفَانَى الْكِبَارُ مَعَ قَتْلِ الصِّغَارِ، فَيَصِيرُونَ هُمُ الَّذِينَ يَلُونَ مَا كَانَ يَلِيهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ مِنَ الْأَعْمَالِ الشَّاقَّةِ، فَأَمَرَ فِرْعَوْنُ بِقَتْلِ الْأَبْنَاءِ عَامًا، وَأَنْ يُتْرَكُوا عَامًا، فَوُلِدَ هَارُونُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي عَامِ الْمُسَامَحَةِ عَنْ قَتْلِ الْأَبْنَاءِ، وَوُلِدَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي عَامِ قَتْلِهِمْ، فَضَاقَتْ أُمُّهُ بِهِ ذَرْعًا، وَاحْتَرَزَتْ مِنْ أَوَّلِ مَا حَبِلَتْ بِهِ، وَلَمْ يَكُنْ يَظْهَرُ عَلَيْهَا مَخَايِلُ الْحَبَلِ، فَلَمَّا وَضَعَتْ أُلْهِمَتْ أَنِ اتَّخَذَتْ لَهُ تَابُوتًا، فَرَبَطَتْهُ فِي حَبْلٍ، وَكَانَتْ دَارُهَا مُتَاخِمَةً لِلنِّيلِ، فَكَانَتْ تُرْضِعُهُ، فَإِذَا خَشِيَتْ مِنْ أَحَدٍ وَضَعَتْهُ فِي ذَلِكَ التَّابُوتِ فَأَرْسَلَتْهُ فِي الْبَحْرِ، وَأَمْسَكَتْ طَرَفَ الْحَبْلِ عِنْدَهَا،
পৃষ্ঠা - ৫৫২
সুহায়লী বলেছেন, মুসা (আ)-এর মায়ের নাম ছিল আয়ারেখ৷ ৷ আবার কেউ কেউ বলেন,
তার নাম ছিল আয়াযাখৃত ৷ মোদ্দাকথা হল, উপরোক্ত কাজের দিকনির্দেশনা তার অম্ভরে দেয়া
হয়েছিল ৷ তার অন্তরে ইলহাম করা হয়েছিল যে, তুমি ভয় করো না এবং দুঃখিত হয়াে না ৷
কেননা, যদিও সম্ভানটি তার হাতছাড়া হয়ে যায় ৷ আল্লাহ তাআলা তা শিগগিরই ফেরত
দেবেন ৷ আর আল্লাহ তাকে অচিরেই রাসুল হিসেবে মনোনীত করবেন ৷ তিনি আল্লাহ
তাআল ৷র কিতাবকে দুনিয়া এবং আখিরাতে সমুন্নত করবেন ৷ অতএব মুসা (আ) এর না তাই
করলেন যেভাবে তিনি আদিষ্ট হয়েছিলেন ৷ একদিন তিনি তাকে ছেড়ে ছিলেন কিংন্তু রশির প্রান্ত
নিজের কাছে আটকে রাখতে ভুলে পেলেন ৷ মুসা (আ) নীলনদের স্রোতে ভেসে গেলেন ৷
তারপর ফিরআউনের বাড়ির ঘাটে গিয়ে পৌছলেন ৷ ফিরআউনের লোকজন তাকে উঠিয়ে নিল ৷
এটার পরিণাম তো এই ছিল যে, তিনি তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হবেন ৷
কেউ কেউ বলেন, পু,দ্বুইট্রু এর মধ্যে ণ্১৷ অক্ষরটি পবিণাম জ্ঞ৷ ৷পক ৷ এটি আয়াতাৎশের
ৰুা ধ্ ৷১ এর সাথে সম্পৃক্ত হলে এ অর্থই স্পষ্ট ৷ কিভৃ যদি বাক্যের মর্মার্থের সাথে তা স যুক্ত
হয়ে থাকে তাহলে ণ্১৷ ৫-ক অন্যান্য ণ্১৷ এ-র ন্যায় কারণ নির্দেশক বলে মনে করতে হবে ৷
তাতে বাক্যের মর্ম দাড়া বে ফিরআউনের লোকজন তাকে উঠিয়ে নেবার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে
যাতে সে তাদের শত্রু কিৎব৷ দুঃখের কারণ হয়ে ৷ এ সন্তুাবনাটির সমর্থন মিলছে আয়াতে
উল্লেখিত ষ্০;া০াহু ৷ , ৷হ্র ৷ব্লু৫ৰুদ্বুটু;ৰুন্নুদ্বু ট্রু,াদ্বু ;ঠুদ্বুদ্বু,^১ র্দুক্ট্র ৷ আয়াতাংশ থেকে ৷
অর্থাৎ-ফিরআউন তার দুষ্ট উযীর হামান এবং তাদের অনুচরর৷ ভ্রান্তির মধ্যে ছিল তাই
তা ৷রা এই শান্তি ও হতাশার যোগ্য হয়ে পড়ে ৷
তাফসীরকারগণ আরো উল্লেখ করেন যে, দাসীর৷ ৷তাকে একটি বন্ধ সিন্দুকে দরিয়া থেকে
উদ্ধার করে কিন্তু তারা তা খুলতে সাহস পায়নি ৷৩ তারা ফিরআউনের শ্রী আসিযা (বা ) বিনতে
মুযাহিস ইবন আসাদ ইবন আর-রা ইয়ান ইবনৃল ওলীদ এর সামনে বন্ধ সিন্দুকটি রাখল ৷
এই ওলীদই ছিল ইউসুফ (আ)-এর যুগে মিসবের ফিরআউন ৷ তৎকালীন মিসবের
অধিপতিদের উপাধি ছিল ফিরআউন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, আসিযা ছিলেন বনী ইসরাঈল
ৎশীয় এবং মুসা (আ)-এর গোত্রের মহিলা ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি ছিলেন মুসা
(আ)-এর ফুফু ৷ প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক সুহায় লীও এরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ আল্লাহ তাআলাই অধিক
জ্ঞাত ৷
মারয়াম (বা) বিনতে ইমরানের ঘটনায় আসিযা (রা) এর গুণাবলী ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ৷ কিয়ামতে র দিন বেহেশতে রাসুলুল্লাহ (সা) এর শ্রীদের সাথে
তারা দৃইজনও অন্তর্ভুক্ত হলেন ৷
আসিযা যখন সিন্দুকটির দরজা থুললেন ও পর্দা হটালেন তখন দেখলেন মুসা (আ)-এর
চেহারা নবুওতের উজ্জ্বল নুরে ঝলমল করছে ৷ মুসা (আ) কে দেখামা ত্র আসিয়ার হৃদয়মন তার
প্রতি স্নেহমম৩ তার তার উঠল ৷ ফিরআউন আসার পর জিজ্ঞাসা করল ছেলেটি কে?’ এবং সে
তাকে যবেহ করার নির্দেশ দিল ৷ কিভু আসিযা ফিরআউনের কাছ থেকে তাকে চেয়ে নিলেন
এবং এভাবে তাকে ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা করলেন ৷ আসিযা বললেন ং ,&£ ০ট্রুও
فَإِذَا ذَهَبُوا اسْتَرْجَعَتْهُ إِلَيْهَا بِهِ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ - فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ - وَقَالَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ قُرَّةُ عَيْنٍ لِي وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَنْ يَنْفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} [القصص: 7 - 9]
[الْقَصَصِ 7 - 9] . هَذَا الْوَحْيُ وَحَيُّ إِلْهَامٍ وَإِرْشَادٍ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ - ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا} [النحل: 68 - 69]
[النَّحْلِ: 68، 69] . وَلَيْسَ هُوَ بِوَحْيِ نُبُوَّةٍ ; كَمَا زَعَمَهُ ابْنُ حَزْمٍ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ، بَلِ الصَّحِيحُ الْأَوَّلُ، كَمَا حَكَاهُ أَبُو الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيُّ عَنْ مَذْهَبِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ. قَالَ السُّهَيْلِيُّ: وَاسْمُ أُمِّ مُوسَى يَاوِخُ وَقِيلَ: أَيَاذَخْتُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّهَا أُرْشِدَتْ إِلَى هَذَا الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، وَأُلْقِيَ فِي خَلَدِهَا وَرُوعِهَا أَنْ لَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي، فَإِنَّهُ إِنْ ذَهَبَ فَإِنَّ اللَّهَ سَيَرُدُّهُ إِلَيْكِ، وَإِنَّ اللَّهَ سَيَجْعَلُهُ نَبِيًّا مُرْسَلًا، يُعْلِي كَلِمَتَهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فَكَانَتْ تَصْنَعُ مَا أُمِرَتْ بِهِ، فَأَرْسَلَتْهُ ذَاتَ يَوْمٍ، وَذَهَلَتْ أَنْ تَرْبُطَ طَرَفَ الْحَبْلِ عِنْدَهَا، فَذَهَبَ مَعَ النِّيلِ فَمَرَّ عَلَى
পৃষ্ঠা - ৫৫৩
¢ ’ :, অর্থাৎ এই শিশুঢি তে ৷মার ও আমার চোখ জুড়াবে ৷ ফিরআ উন বলল, এটা তোমার
জন্যে হতে পারে, কিন্তু আমার জন্যে নয় ৷ একে দিয়ে আমার কে নই প্রয়োজন নেই ৷ কথা
বাড় লে ৰিপত্তিই বাড়ে ৷ আসিয়া বলেছিলেনং : গ্ব্লুট্রু ৷ র্দে০; অর্থাৎ “যে আমাদের
উপকা ৷রে আসতে পারে ৷ ” আল্লাহ তা জানা তার যে আশা পুর্ণ করেছিলেন ৷ দুনিয়ার অ ৷ল্লাহ্
তা আলা তাকে মুসা (আ) এর দ্বারা হিদায়াত দান করেছেন এবং আখিরাতে তাকে মুসা
(আ) এর কারণে স্বীয় জ ন্না৷তে স্থান দেবেন ৷ আবার তিনি বলেছিলেনং : ওার্চু (;ং ’ ১
অর্থাৎ-“আমরা তাকে সন্তান হিসেবেও গ্রহণ করতে পারি ৷ ” তারা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ
#
করেছিলেন, কেননা তাদের কোন সন্তান ছিল না ৷ আল্লাহ তা জানা বলেন, র্বু fl“
$§$£;:’ অর্থাৎ তারা জানে না যে, তাকে সিন্দুক থেকে উঠিয়ে নেওয়ার জন্যে ফিরআউন
পরিবারকে নিযুক্ত করে আল্লাহ্ তা আলা ফিরআউন ও তার সৈন্যদের প্রতি কিরুপ মহা আমার
অবতীর্ণ করতে চেয়েছিলেন ৷ পরবর্তী আয়াতে ঘটনার পরবর্তী অংশ বর্ণনা করা হয়েছে ৷
আল্লাহ তা আল৷ ইরশাদ করেন০ :
é
খু ণ্ন্ন১দ্বু
া
র্বুষ্র্চু
অর্থ ৎ-মুসাব মায়ের হৃদয় অস্থির হয়ে পড়েছিল, যাতে সে আন্থাশীল হয় তজ্জন্য আমি
তার হৃদয়কে দৃঢ় করে না দিলে সে তার পরিচয় তে ৷ প্রকাশ করেই দিত ৷ সে মুসার বোনকে
বলল, এর পিছনে ফিছনে যাও ৷ সে তাদের অজ্ঞাতসারে দুর হতে তাকে দেখছিল ৷ পুর্ব থেকেই
আমি ধাত্রীর দৃধপানে৩ তাকে বিরত রেখেছিলাম ৷ মুসার বোন বলল, “তোমাদের কি আমি এমন
এক পরিবারের সন্ধান দেব, যারা তোমাদের হয়ে তাকে লালন পালন করবে এবং তার
মঙ্গলকামী হবে ৷” তারপর আমি তাকে ফেরত পাঠালাম তার মায়ের নিকট যাতে তার চোখ
জুড়ায়, সে দুঃখ না করে এবং বুঝতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য কিন্তু অধিকাৎশ
মানুষই তা জানে না ৷ (সুরা কাসাস : ১ : ১৩)
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (বা) , মুজাহিদ (র), ইকরামা (র) , সায়ীদ ইবন জুবাইর (বা)
প্রমুখ বলেন, “মুসা (আ) এর মায়ের অন্তর দুনিয়ার অন্যান্য চিন্তা ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র
মুসা (আ) কে নিয়ে চিন্তায় অস্থির ছিল ৷ আল্লাহ তা আলা যদি তাকে ধৈর্য দান না করতেন ও
তার হৃদয়ে দৃঢ়তা দান না করতেন তাহলে ব্যাপারটি তিনি প্রকাশ করে দিতেন এবং অন্যের
কাছে প্রকাশ্যে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে ফেলতেন ৷ তিনি তার বড় যেয়ে, মুসা (আ )-এর
বোনকে তার পেছনে পেছনে গিয়ে খবরাখবর নেয়ার জন্যে পাঠ লেন ৷ মুজাহিদ (র) বলেন,
যে দুর থেকে তাকে লক্ষ্য করছিল ৷ আর কাদা (র) বলেন, তিনি এমনভাবে তার প্রতি
লক্ষ্য করছিলেন যেন এ ব্যাপারে তার কোন আগ্রহ নেই ৷ এজন্যই আল্লাহ তা আলা বলেন,
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড
دَارِ فِرْعَوْنَ {فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ} [القصص: 8] قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا} [القصص: 8] قَالَ بَعْضُهُمْ: هَذِهِ لَامُ الْعَاقِبَةِ. وَهُوَ ظَاهِرٌ إِنْ كَانَ مُتَعَلِّقًا بِقَوْلِهِ فَالْتَقَطَهُ وَأَمَّا إِنْ جُعِلَ مُتَعَلِّقًا بِمَضْمُونِ الْكَلَامِ ; وَهُوَ أَنَّ آلَ فِرْعَوْنَ قُيِّضُوا لِالْتِقَاطِهِ ; لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا، صَارَتِ اللَّامُ مُعَلِّلَةً لِغَيْرِهَا، وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَيُقَوِّي هَذَا التَّفْسِيرَ الثَّانِيَ قَوْلُهُ {إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ} [القصص: 8] وَهُوَ الْوَزِيرُ السُّوءُ وَجُنُودَهُمَا الْمُتَابِعِينَ لَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ أَيْ ; كَانُوا عَلَى خِلَافِ الصَّوَابِ، فَاسْتَحَقُّوا هَذِهِ الْعُقُوبَةَ وَالْحَسْرَةَ.
وَذَكَرَ الْمُفَسِّرُونَ أَنَّ الْجَوَارِيَ الْتَقَطْنَهُ مِنَ الْبَحْرِ فِي تَابُوتٍ مُغْلَقٍ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَتَجَاسَرْنَ عَلَى فَتْحِهِ، حَتَّى وَضَعْنَهُ بَيْنَ يَدَيِ امْرَأَةِ فِرْعَوْنَ ; آسِيَةَ بِنْتِ مُزَاحِمِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ الرَّيَّانِ بْنِ الْوَلِيدِ، الَّذِي كَانَ فِرْعَوْنَ مِصْرَ فِي زَمَنِ يُوسُفَ. وَقِيلَ: إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ سِبْطِ مُوسَى. وَقِيلَ: بَلْ كَانَتْ عَمَّتَهُ. حَكَاهُ السُّهَيْلِيُّ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَسَيَأْتِي مَدْحُهَا وَالثَّنَاءُ عَلَيْهَا فِي قِصَّةِ مَرْيَمَ بِنْتِ عِمْرَانَ، وَأَنَّهُمَا يَكُونَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أَزْوَاجِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْجَنَّةِ. فَلَمَّا فَتَحَتِ الْبَابَ وَكَشَفَتِ الْحِجَابَ، رَأَتْ وَجْهَهُ يَتَلَأْلَأُ بِتِلْكَ الْأَنْوَارِ النَّبَوِيَّةِ وَالْجَلَالَةِ الْمُوسَوِيَّةِ، فَلَمَّا رَأَتْهُ وَوَقَعَ نَظَرُهَا عَلَيْهِ أَحَبَّتْهُ حُبًّا شَدِيدًا، فَلَمَّا جَاءَ
পৃষ্ঠা - ৫৫৪
ড্রুটুটুঠুহুৰু § ৰুব্লুদ্বুটু তারা তা বুঝতে পারছিল না ৷ ’ ঘটনা হল এই, যখন ফিরআউনের ঘরে
মুসা (আ) এর থাকা সাবম্ভে হলো তখন ফিরআউনের লোকজন তাকে দুধ পান করাবার চেষ্টা
করল কিন্তু তিনি কারো বুকের দুধ গ্রহণ করলেন না বা অন্য কোন খাদ্যও গ্রহণ করলেন না ৷
তারা তার ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল এবং তাকে যে প্রকারেই হোক না কেন তারা যে
কোন খাদ্য খাওয়াতে চেষ্টা করল কিভু তারা তাতে ব্যর্থ হল ৷ যেমন আল্লাহ্ তাআল৷ বলেন :
“পুর্ব থেকেই আমি অন্যের বুকের দুধ গ্রহণ থেকে তাকে বিরত রেখেছিলাম ৷” তারা তাকে
যাত্রী ও অন্যান্য নারীসমেত বাজারে পাঠালো যাতে তারা এমন লোক খুজে বের করতে পারে,
যে তাকে দুধ পান করাতে সক্ষম হয় ৷ তারা তাকে নিয়ে ছিল ব্যস্ত এবং বাজারের লোকজনও
তাদের দিকে লক্ষ্য করে রয়েছে এমন সময় মুসা (আ) এর বোন মুসা (আ )-এর দিকে
তাক৷ লেন কিভু তিনিতাকে চিনেন বলে পরিচয় প্রকাশ করলেন না বরং বললেন০ :
র্চু, ^প্রু;ৰুশুাএ্ধ্পু
অর্থাৎ-৫ তামাদের কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধন দেব, যারা তোমাদের হয়ে
তাকে লালন পালন করবে এবং তার মঙ্গলকামী হবে ?
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা ) বলেন, “মুসা (আ) এর বোন যখন তাদেরকে এরুপ বললেন
তখন তারা তাকে বলল, তুমি কেমন করে জান যে, তারা তার মঙ্গলকামী ও তার প্রতি
যেহেরবান হবে?৩ তিনি বললেনং : বাদশাহর যেগমের ছেলের উপকার সাধনে সকলেই আগ্রহী ৷
তখন তারা তাকে ছেড়ে দিল এবং তার সাথে তারা তাদের বাড়িতে গেল ৷ তখন মুসা ( আ ) এর
মা মুসা (আ) কে কোলে তুলে নিলেন ও তাকে নিজ বুকের দুধ খেতে দিলেন ৷ মুসা (অ )
মায়ের স্তন মুখে নিলেন, চুষতে আরম্ভ করলেন এবং দুধ পান করতে লাপলেন ৷ এতে তারা
সকলে অভীব খুশি হল ৷ এক ব্যক্তি এ সুসৎরাদ আসিয়াকে গিয়ে জানান ৷ তিনি মুসা (আ )-এব
মাকে তার নিজ মহলে ডেকে পাঠালেন এবং সেখানে অবস্থান করে তাকে উপকৃত করতে
আসিয়া (বা ) আহ্বান জানালেন ৷ কিন্তু মুসা (আ) এর না তাতে রাযী হলেন না বরং বললেন
আমার স্বামী ও ছেলে মেয়ে রয়েছে৩ তাই আমি তাদেরকে ছেড়ে মহলে থাকতে পারি না, তবে
আপনি যদি তাকে আমার নিকট পা ৷ঠিয়ে দেন তাহলে আমিও ৷ ৷কে দুধ পান করাতে পারি ৷ ৩ খণ্া
আসিয়া মুসা (আ) কে তার মায়ের সাথে যেতে দিলেন ৷ তিনি তার জন্যে বহু মুল্যবান
উপচৌকন দিলেন ও তার থােরপােশের জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দিলেন ৷ মুসার ম৷ মুসা
(আ) কে নিয়ে নিজ ঘরে ফিরে গেলেন এবং এভাবে আল্লাহ৩ তা আল৷ পুনরায় মা ছেলের মিলন
ঘট৷ ৷লেন ৷ আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন৪
ণ্ডে «fi ! ;প্রু , ৷ ণ্াধ্াপ্রু শু);ও ১া ; ৷ৰুৰু: ); ট্রু,র্বু ন্ৰুট্রুণ্৷ ন্নে৷ ৷ ণ্াগ্রা,এ
আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম ৷ যাতে তার চো ৷খ জুড়ায়, সে দুঃখ না করে
এবং বুঝতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ৩সতা ৷
মুসাজননীর কাছে মুসা (আ) কে ফেরত প্রদানের মাধ্যমে একটি প্রতিশ্রুতি এভাবে পুর্ণ
হল ৷ আর এটাই নবুওতের সুসৎবাদের সভ্যতার প্রমাণ হিসেবে রিবেচ্য ৷ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ
তাআলা ইরশাদ করেন -)$ ’¢fi ১৷ ব্লু এ,ধু! র্চুট্রুষ্কৃপুড্রু অর্থাৎ-তাদের অধিকাৎশই এটা
فِرْعَوْنُ قَالَ: مَا هَذَا؟ وَأَمَرَ بِذَبْحِهِ، فَاسْتَوْهَبَتْهُ مِنْهُ وَدَفَعَتْ عَنْهُ، وَقَالَتْ: {قُرَّةُ عَيْنٍ لِي وَلَكَ} [القصص: 9] فَقَالَ لَهَا فِرْعَوْنُ: أَمَّا لَكِ فَنَعَمْ، وَأَمَّا لِي فَلَا. أَيْ ; لَا حَاجَةَ لِي بِهِ. وَالْبَلَاءُ مُوَكَّلٌ بِالْمَنْطِقِ. وَقَوْلُهَا: {عَسَى أَنْ يَنْفَعَنَا} [القصص: 9] وَقَدْ أَنَالَهَا اللَّهُ مَا رَجَتْ مِنَ النَّفْعِ ; أَمَّا فِي الدُّنْيَا فَهَدَاهَا اللَّهُ بِهِ، وَأَمَّا فِي الْآخِرَةِ فَأَسْكَنَهَا جَنَّتَهُ بِسَبَبِهِ {أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا} [القصص: 9] وَذَلِكَ لِأَنَّهُمَا تَبَنَّيَاهُ ; لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُولَدُ لَهُمَا وَلَدٌ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} [القصص: 9] أَيْ ; لَا يَدْرُونَ مَاذَا يُرِيدُ اللَّهُ بِهِمْ، أَنَّ قَيَّضَهُمْ لِالْتِقَاطِهِ، مِنَ النِّقْمَةِ الْعَظِيمَةِ بِفِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ. وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنَّ الَّذِي الْتَقَطَتْ مُوسَى وَرَبَّتْهُ ابْنَةُ فِرْعَوْنَ، وَلَيْسَ لِامْرَأَتِهِ ذِكْرٌ بِالْكُلِّيَّةِ. وَهَذَا مِنْ غَلَطِهِمْ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ - وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِّيهِ فَبَصُرَتْ بِهِ عَنْ جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ - وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ - فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} [القصص: 10 - 13]
[الْقَصَصِ: 10 - 13] . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ، وَعِكْرِمَةُ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ، وَالْحَسَنُ، وَقَتَادَةُ، وَالضَّحَّاكُ، وَغَيْرُهُمْ: {وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا} [القصص: 10] أَيْ ; مَنْ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ أُمُورِ الدُّنْيَا إِلَّا مِنْ
পৃষ্ঠা - ৫৫৫
জানে না ৷ ’ যেই রাতে আল্লাহ তাআল লামুস৷ (আ) এর সাথে কথােপকথন করেন সেই রাতেও
এরুপ ইহসান প্রদর্শনের কথা আল্লাহ৩ তা ৷আলা উল্লেখ করেছেন ৷ আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে
ইরশাদ করেন :
র্লিটুধ্প্াৰু,
চ্ছুহ্র ’§ পুদ্বুদ্বুঝুর্মু :ন্দ্বুপুর্চুপু ৷
““
অর্খাৎ এবং আমি তো তোমার প্রতি আরো একবার অনুগ্রহ করেছিলাম, যখন আমি
তোমার মাকে জানিয়েছিলাম যা ছিল জানাবার এই মর্মে যে, তুতমি তড়াকে সিন্দুকের মধ্যে রাখ
বপব এটাকে দবিয়ায় ভাসিয়ে দাও যাতে দরিয়৷ এটাকে তীরে ঠেলে দেয় এটাকে আমার
শত্রু ও তর রশত্রু নিয়ে যাবে ৷ আমি আমার নিকট হতে তোমার উপর ভালবাসা ঢেলে
দিয়েছিলাম৷ যা তে ৩তুমি আমার তত্ত্ব৷ ৷বধানে প্রতিপালিত হও ৷ (সুরা তা হা৪ ৩৭)
শেষোক্ত আয়াতাৎশের ব্যাখ্যায় কাতাদা (র) প্রমুখ তাফসীরকার বলেন, যাতে আমার
সামনে তুমি ভাল ভাল খাবার খেতে পার ও অতি উত্তম পোশাক পরতে পার ৷ আর এগুলো সব
আমার হেফাজত ও সংরক্ষণের দ্বারা সম্ভব হয়েছে, অন্য কারো এরুপ করার শক্তি, সামর্থ্য নেই ৷
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেনং :
; ৷
অর্থাৎ-যখন তে আমার কোন এসে রলল আমি কি তে আমাদেরকে বলে দেব কে এই শিশুর
তার নেবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চোখ জুড়ায়
এবং সে দুং খ না পড়ায়; এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে
মনং পীড়৷ হতে মুক্তি দেই ৷ আমি৫ তামাকে বহু পরীক্ষা করেছি ৷ (সুরা তা হ-াং : ৪০)
পরীক্ষার ঘটনাসমুহ যথাস্থানে ইনশাআল্লাহ্ তুলে ধরা হবে ৷ আল্লাহ্ তা জানা ইরশাদ
করেন €
ব্লুপুষ্টু গ্রেদ্ভু
া
এএ্যাএ ’
أَمْرِ مُوسَى {إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ} [القصص: 10] أَيْ ; لَتُظْهِرُ أَمْرَهُ وَتَسْأَلُ عَنْهُ جَهْرَةً. {لَوْلَا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا} [القصص: 10] أَيْ ; صَبَّرْنَاهَا وَثَبَّتْنَاهَا {لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ} [القصص: 10] وَهِيَ ابْنَتُهَا الْكَبِيرَةُ: {قُصِّيهِ} [القصص: 11] أَيِ; اتَّبِعِي أَثَرَهُ وَاطْلُبِي لِي خَبَرَهُ {فَبَصُرَتْ بِهِ عَنْ جُنُبٍ} [القصص: 11] قَالَ مُجَاهِدٌ: عَنْ بُعْدٍ. وَقَالَ قَتَادَةُ: جَعَلَتْ تَنْظُرُ إِلَيْهِ وَكَأَنَّهَا لَا تُرِيدُهُ. وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى: {وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} [القصص: 9] وَذَلِكَ لِأَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، لَمَّا اسْتَقَرَّ بِدَارِ فِرْعَوْنَ أَرَادُوا أَنْ يُغَذُّوهُ بِرَضَاعَةٍ، فَلَمْ يَقْبَلْ ثَدْيًا وَلَا أَخَذَ طَعَامًا، فَحَارُوا فِي أَمْرِهِ وَاجْتَهَدُوا فِي ذَلِكَ، أَيْ عَلَى تَغْذِيَتِهِ بِكُلِّ مُمْكِنٍ فَلَمْ يَفْعَلْ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ} [القصص: 12] فَأَرْسَلُوهُ مَعَ الْقَوَابِلِ وَالنِّسَاءِ إِلَى السُّوقِ ; لَعَلَّهُمْ يَجِدُونَ مَنْ يُوَافِقُ رَضَاعَتَهُ، فَبَيْنَمَا هُمْ وُقُوفٌ بِهِ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ عَلَيْهِ، إِذْ بَصُرَتْ بِهِ أُخْتُهُ، فَلَمْ تُظْهِرْ أَنَّهَا تَعْرِفُهُ، بَلْ قَالَتْ: {هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ} [القصص: 12] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَمَّا قَالَتْ ذَلِكَ، قَالُوا لَهَا: مَا يُدْرِيكِ بِنُصْحِهِمْ وَشَفَقَتِهِمْ علَيْهِ؟ فَقَالَتْ: رَغْبَةً فِي صِهْرِ الْمَلِكِ، وَرَجَاءَ مَنْفَعَتِهِ. فَأَطْلَقُوهَا وَذَهَبُوا مَعَهَا إِلَى مَنْزِلِهِمْ، فَأَخَذَتْهُ أُمُّهُ، فَلَمَّا أَرْضَعَتْهُ الْتَقَمَ ثَدْيَهَا وَأَخَذَ يَمْتَصُّهُ وَيَرْتَضِعُهُ، فَفَرِحُوا بِذَلِكَ فَرَحًا شَدِيدًا، وَذَهَبَ الْبَشِيرُ إِلَى آسِيَةَ يُعْلِمُهَا بِذَلِكَ، فَاسْتَدْعَتْهَا إِلَى مَنْزِلِهَا، وَعَرَضَتْ عَلَيْهَا أَنْ تَكُونَ عِنْدَهَا، وَأَنَّ تُحْسِنَ إِلَيْهَا، فَأَبَتْ عَلَيْهَا وَقَالَتْ: إِنَّ لِي بَعْلًا وَأَوْلَادًا، وَلَسْتُ
পৃষ্ঠা - ৫৫৬
অর্থাৎ-যখন মুসা (আ) পুর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হল তখন আমি তাকে
হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম; এইডা ৷বে আ ৷মি সৎ কর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি ৷
সে নগরীতে প্রবেশ করল, যখন এর অধিবাসীরা ছিল অসত র্ক ৷ সেখানে সে দুটি লোককে
সংঘর্ষে লিপ্ত দেখল একজন তার নিজ দলের এবং অপরজন তার শত্রুদলের ৷ মুসা (আ) এর
দলের লোকটিতার শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে মুসা (আ) এর সাহায্য প্রার্থনা করল তখন
মুসা (আ) তাকে ঘুষি মারল; এভাবে সে তাকে হত্যা করে বসল ৷ মুসা (আ) বললেন, এটা
শয়তানের কাণ্ড ৷ সেতে৷ প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী ৷ সে বলল, হে আমার প্রতিপালক ! আমি
তো আমার নিজের প্রতি জুলুম করেছি ৷ সুতরাং আমাকে ক্ষমা কর৷ তারপর তিনি তাকে ক্ষমা
করলেন ৷ তিনিণ্ তা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷ সে আরো বলল, হে আমার প্রতিপালক ৷ তুমি
যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না ৷ (সুরা
কাসাস৪ ১৪ ১৭)
যখন আল্লাহ তা অ লা উল্লেখ করেন, তিনি তার মায়ের কাছে তাকে ফেরত দিয়ে তার
প্রতি ৩অনুগ্নহ ও দয়া করেছেনত তারপর তিনি উল্লেখ করতে শুরু করলেন যে যখন তিনি পুর্ণ
যৌবন লাভ করেন এবং শারীরিক গঠন ও চরিত্রে উৎকর্ষ মণ্ডিত হল এবং অধিকাৎশ উলড়ামার
মতে, যখন ৪০ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে হিকমত ও নবুওতের
জ্ঞান দান করেন ৷ যে বিষয়ে তার মাতা বুক পুর্বেই আল্লাহ তা আল৷ সুসং বাদ প্রদান করেছিলেন ৷
যেমন আল্লাহ তা আলা বলেন : ৷
অর্থাৎ-“আমি তাকে তোমার নিকট ফেরত দেব এবং তাকে রাসুলদের একজন করব ৷
তারপর আল্লাহ তাআল৷ মুসা (আ)-এর মিসর থেকে বের হয়ে মাদায়ান শহরে গমন এবং
সেখানে নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত অবস্থানের কারণ বর্ণনা শুরু করেন এবং মুসা (আ) ও আল্লাহ
তাআলার মধ্যে যে সব কথোপকথন হয়েছে এবং আল্লাহ তাআল৷ র্তাকে যেরুপ মর্যাদা দান
করেছেন তার প্রতিও ইৎগিত করেছেন ৷ যার আলোচনা একটু পরেই আসছে ৷
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ
অর্থাৎ সে নগরীতে প্রবেশ করল যখন তার অধিবাসীবৃন্দ ছিল অসতক” ৷
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) , সা ৷ঈদ ইবন জুবাইর (রা) , ইক্রিমা (র) , কাতাদ৷ ও সুদ্দী
(র) বলেন, তখন ছিল দুপুর বেলা ৷ অন্য এক সুত্রে বর্ণিত; আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)
বলেছেন, এটা ছিল মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময় ৷ সেখানে তিনি দু জনকে সং ৎঘর্ষে লিপ্ত
পেলেন একজন ছিল ইসরাঈলী এবং অন্যজন ছিল কিবতী ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) ,
কাতাদ৷ (র) , সুদ্দী (ব) , মুহম্মদ ইবন ইসহাক (র) এ মত পোষণ করেন ৷ মুসা (আ) এর দলের
লোকটি শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে মুসা (আ)-এর সাহায্য প্রার্থনা করল ৷ বন্তুত
ফিরআউনের পালক-পুত্র হবার কারণে মিসরে মুসা (আ)-এর প্রতিপত্তি ছিল ৷ মুসা (আ)
ফিরআউনের পালক পুত্র হওয়ায় এবং৩ তার ঘরে লালিত পালিত ৩হওয়ায় বনী ইসরাঈলদেরও
সম্মান বৃদ্ধি পায় ৷ কেননা, তারা মুসা (আ) কে দুধ পান করিয়েছিল এ হিসাবে তারা ছিল মুসা
(আ) এর মামা গোত্রীয় ৷ যখন ইসর৷ ঈল বংশীয় লোকটি মুসা (আ) এর সাহায্য প্রার্থনা করল
أَقْدِرُ عَلَى هَذَا إِلَّا أَنْ تُرْسِلِيهِ مَعِي. فَأَرْسَلَتْهُ مَعَهَا، وَرَتَّبَتْ لَهَا رَوَاتِبَ، وَأَجْرَتْ عَلَيْهَا النَّفَقَاتِ وَالْكُسَاوى وَالْهِبَاتِ، فَرَجَعَتْ بِهِ تَحُوزُهُ إِلَى رَحْلِهَا، وَقَدْ جَمَعَ اللَّهُ شَمَلَهُ بِشَمْلِهَا، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ} [القصص: 13] أَيْ ; كَمَا وَعَدْنَاهَا بِرَدِّهِ وَرِسَالَتِهِ، فَهَذَا رَدُّهُ، وَهُوَ دَلِيلٌ عَلَى صِدْقِ الْبِشَارَةِ بِرِسَالَتِهِ {وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} [القصص: 13] .
وَقَدِ امْتَنَّ اللَّهُ بِهَذَا عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ كَلَّمَهُ، فَقَالَ لَهُ فِيمَا قَالَ لَهُ: {وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَى - إِذْ أَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّكَ مَا يُوحَى - أَنِ اقْذِفِيهِ فِي التَّابُوتِ فَاقْذِفِيهِ فِي الْيَمِّ فَلْيُلْقِهِ الْيَمُّ بِالسَّاحِلِ يَأْخُذْهُ عَدُوٌّ لِي وَعَدُوٌّ لَهُ وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِنِّي} [طه: 37 - 39]
[طه 37 - 39] . وَذَلِكَ أَنَّهُ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ إِلَّا أَحَبَّهُ {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه: 39] قَالَ قَتَادَةُ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ السَّلَفِ: أَيْ تُطْعَمَ وَتُرَفَّهَ وَتُغَذَّى بِأَطْيَبِ الْمَآكِلِ، وَتَلْبَسَ أَحْسَنَ الْمَلَابِسِ ; بِمَرْأًى مِنِّي، وَذَلِكَ كُلُّهُ بِحِفْظِي وَكَلَاءَتِي لَكَ فِيمَا صَنَعْتُ بِكَ وَلَكَ، وَقَدَّرْتُهُ مِنَ الْأُمُورِ الَّتِي لَا يَقْدِرُ عَلَيْهَا غَيْرِي {إِذْ تَمْشِي أُخْتُكَ فَتَقُولُ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَنْ يَكْفُلُهُ فَرَجَعْنَاكَ إِلَى أُمِّكَ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا} [طه: 40] . وَسَنُورِدُ حَدِيثَ الْفِتُونِ فِي مَوْضِعِهِ بَعْدَ هَذَا، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، وَبِهِ الثِّقَةُ وَعَلَيْهِ التُّكْلَانُ.
পৃষ্ঠা - ৫৫৭
তখন তিনিতার সাহায্যে এগিয়ে আসলেন ৷ মুজাহিদ (র) )$ § শব্দের ব্যাখ্যার বলেন,
এর অর্থ তিনি তাকে ঘুষি দিলেন ৷ কা৩াদ৷ (র) বলেন, তিনি তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত
করলেন ৷ ফলে কিবতীটি মারা যায় ৷ আর এই কিবতীটি ছিল বা ৷ফির ও মুশবিক ৷ মুসা (আ)
তাকে প্রাণে বধ করতে চাননি, বরং তিনি তাকে সাবধান ও নিরস্ত্র করতে চেয়েছিলেন ৷
এতদসত্বেও মুসা (অইবললেন০ ং
প্ )
এা দ্ভু
প্শু
া
অর্থাৎ-মুসা বলল, “এটা শ ৷য়তা নের কাণ্ড ৷ সেতে ৷ প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্র ৷ন্তিকারী ৷ সে বলল,
হে আমার প্ৰতিপালক৷ আমি তো আমার নিজের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা
কর ৷ তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন ৷ তিনি তাে ক্ষমাশীল, পরম দয়া লু ৷ সে আরো বলল,
হে আমার প্ৰতিপালক৷ তুমি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, (অর্থাৎ মর্যাদা ও প্ৰতিপত্তি
দিয়েছ) আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না ৷ তারপর ভী৩ সতর্ক অবস্থায় সেই
নগরীতে তার প্রভাত ৩হল ৷ হঠাৎ সে শুনতে পেল পুর্বদিন যে ব্যক্তি৩ তার সাহায্য চেয়েছিল, সে
তার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে ৷ মুসা তাকে বলল, মি তো ৷স্পষ্টই একজন বিভ্রা ৷ন্ত ব্যক্তি ৷
তারপর মুসা যখন উভয়ের শত্রুকে ধরতে উদ্যত হল, তখন সে ব্যক্তি বলে উঠল, হে মুসা
গতকাল তুমি যেমন একজনকে হ৩ ত্যা করেছ সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করতে চ ৷চ্ছ৷ তুমি তো
পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী হতে চাচ্ছ, শান্তি স্থ৷ ৷পনকাবী হতে চাও না? নগরীর দুর প্রান্ত হতে এক
ব্যক্তি ছুটে আসল ও বলল, হে মুসা! পারিষদবর্গ৫ তামাকে হত্যা করবার পরামর্শ করছে ৷
সুতরাং তুমি বাইরে চলে যাও, আমি তো তামার মঙ্গলকামী ৷৩ ভীতসতর্ক অবস্থায় সে সেখান
থেকে বের হয়ে পড়ল এবং বলল, “হে আমার প্রতিপ৷ ৷লক মি জা ৷লিম সম্প্রদায় হতে আমাকে
রক্ষা কর ৷” (কাসাসং : ১৫-২১)
বস্তুত আল্লাহ তাআ৷ল৷ জানিয়ে দিচ্ছেন যে, মুসা (আ ) মিসর শহরে ফিরআউন ও তার
পারিষদবর্গের ব্যাপারে ভীত সন্ত্রন্ত হয়ে পড়লেন ৷ পাছে তারা জেনে ফেলে যে, নিহত ব্যক্তির
{وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ - وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَذَا مِنْ شِيعَتِهِ وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِنْ شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ قَالَ هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبِينٌ - قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ - قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِلْمُجْرِمِينَ} [القصص: 14 - 17]
[الْقَصَصِ: 14 - 17] . لَمَّا ذَكَرَ تَعَالَى أَنَّهُ أَنْعَمَ عَلَى أُمِّهِ بِرَدِّهِ إِلَيْهَا، وَإِحْسَانِهِ بِذَلِكَ، وَامْتِنَانِهِ عَلَيْهَا، شَرَعَ فِي ذِكْرِ أَنَّهُ لَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى ; وَهُوَ احْتِكَامُ الْخَلْقِ وَالْخُلُقِ، وَهُوَ سِنُّ الْأَرْبَعِينَ، فِي قَوْلِ الْأَكْثَرِينَ، آتَاهُ اللَّهُ حُكْمًا وَعِلْمًا ; وَهُوَ النُّبُوَّةُ وَالرِّسَالَةُ الَّتِي كَانَ بَشَّرَ بِهَا أُمَّهُ، حَيْثُ قَالَ: {إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ} [القصص: 7] ثُمَّ شَرَعَ فِي ذِكْرِ سَبَبِ خُرُوجِهِ مِنْ بِلَادِ مِصْرَ، وَذَهَابِهِ إِلَى أَرْضِ مَدْيَنَ وَإِقَامَتِهِ هُنَالِكَ، حَتَّى كَمَلَ الْأَجَلُ، وَانْقَضَى الْأَمَدُ، وَكَانَ مَا كَانَ مِنْ كَلَامِ اللَّهِ لَهُ، وَإِكْرَامِهِ بِمَا أَكْرَمَهُ بِهِ كَمَا سَيَأْتِي.
قَالَ تَعَالَى: {وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا} [القصص: 15] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَعِكْرِمَةُ، وَقَتَادَةُ، وَالسُّدِّيُّ: وَذَلِكَ نِصْفَ النَّهَارِ. وَفِي رِوَايَةٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: بَيْنَ الْعِشَائَيْنِ {فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ} [القصص: 15] أَيْ ; يَتَضَارَبَانِ وَيَتَهَاوَشَانِ {هَذَا مِنْ شِيعَتِهِ} [القصص: 15] أَيْ ; إِسْرَائِيلِيٌّ {وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ} [القصص: 15] أَيْ ; قِبْطِيٌّ. قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَقَتَادَةُ، وَالسُّدِّيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ
পৃষ্ঠা - ৫৫৮
যে মামলাটি তাদের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে৩ তাকে বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির সাহায্যার্থে
মুসা (আ)-ই হত্যা করেছেন ৷ তা হলে তাদের ধারণা বদ্ধমুল হয়ে যাবে যে, মুসা (আ) বনী
ইসরাঈলেরই একজন ৷ এতে পরবর্তীতে বিরাট অনর্থ ঘটে যেতে ৩পারে ৷ এজন্যই তিনি ঐদিন
ভোরে এদিক ওদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলড়াফেরা করছিলেন ৷ এমন সময় হঠাৎ তিনি শুনতে
পেলেন, আগের দিন যে ইসরাঈলীটির তিনি সাহায্য করেছিলেন ঐ ব্যক্তি আজওণ্ অন্য
একজনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে মুসা (আ)-কে সাহায্যের জন্য আহ্বান করছে ৷ মুসা (আ)
তাকে তার ঝগড়াটে স্বভারের জন্য ভব্লুসনা করলেন এবং বললেন ভুমিতোম্পষ্টই একজন
বিভ্রান্ত ব্যক্তি ৷তারপর তিনি মুসা (আ) ও ইসরাঈলী ব্যক্তিটির শত্রু কিবভীটিকে আক্রমণ
করতে উদ্যত হলেন যাতে তিনি কিবভীটিকে প্রতিহত করতে পারেন এবং ইসরাঈলীকে তার
করল থেকে রক্ষা করতে পারেন ৷ তারপর তাকে তিনি আক্রমণের জন্য উদ্যত হলেন ও
কিবভীটির দিকে অগ্রসর হলেন ৷ তখন লোকটি বলে উঠল :
ধ্স্পো গ্রএব্লুা
হে মুসা! গতকাল তুমি যেমন একব্যক্তিকে হত্যা করেছ, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা
করতে চাচ্ছ! তুমি তে ৷ পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচ৷ ৷রী হতে চ ৷চ্ছ, শান্তি স্থাপনকা ৷রী হতে চাও না ৷
কেউ কেউ বলেন, এ উক্তিটি ইসরা ঈলীয়-যে মুসা (আ)-এর পুবদিনের ঘটনাটি সম্পর্কে
জ্ঞাত ছিল, সে যখন মুসা (আ) কে কিবভীটির দিকে অগ্রসর হতে (দখল তখন যে ধারণা
করল ,টুনিপ্ তার দিকেও আসবেন-কেননা, তিনি তাকে প্রথমেই এই বলে ভৎসন৷ করেছেন
যে, পু র্চু;দ্বু ধ্ছুপ্রুহু৷ র্মুা ৷ তুমি তো একজন বিভ্রান্ত লোক ৷ এজন্যেই সে মুসা (আ) কে এ
কথাটি বলে এবং পুর্বের দিন যে ঘটনা ঘটেছিল যে তা প্রকাশ করে দিল ৷ তখন কিবভী মুসা
(আ) কে ফিরআউনের দরবারে তলব করাণোর উদ্দেশ্যে চলে যায় ৷ তবে এ অভিমতটি শুধু এ
উক্তিকারীরই ৷ অন্য কেউ তা উল্লেখ করেননি ৷ এ উক্তিটি কিবতীঢিরও হতে পারে ৷ কেননা সে
যখন মুসা (আ)-কে তার দিকে অগ্রসর হতে (দখল, তাকে ভয় করতে লাগল এবং মুসা
(আ)-এর যেয়াজ থেকে ইসরাঈলী পক্ষে চরম প্রতিশোধের আশঙ্কা করে নিজ দুরদর্শিতার
আলোকে সে উপরোক্ত উক্তিটি করেছিল ৷ যেন সে বুঝতে পেয়েছিল যে, সম্ভবত এ ব্যক্তিটিই
গতকালের নিহত ব্যক্তিটির হত্যাকারী ৷ অথবা সে ইসরাঈলীটির মুসা (আ) এর কাছে
সাহায্যের প্রার্থনা করা থেকেই সে ব্যাপারটি তাচ করতে পেয়েছিল এবং উপরোক্ত বাক্যটি
বলেছিল ৷ আ ৷ল্লাহই মহা জ্ঞানী ৷
মুলত ফিরআউনের কাছে এই সংবাদ পৌছেছিল যে, মুসা (আ)-ই গতকালের খুনের জন্য
দায়ী ৷৩ তাই ফিরআউন মুসা (আ) কে গ্রেফতার করার জন্যে লোক পাঠাল, কিন্তু তারা মুসা
(আ) এর নিকট পৌছার পুর্বেই শহরের দুরবর্তী প্রান্ত থেকে সংক্ষিপ্তত র রাস্তা দিয়ে একজন
হিতাক৷ ভক্ষী মুসা (আ) এর নিকট পৌছে দরদমাখ৷ সুরে বললেন, হে মুসা (আ ) ফিরআউনের
পারিষদবর্গ আপনাকে হত্যা করার সলাপরামর্শ করছে ৷ কাল্কভা২ আপনি এখনই এই শহর থেকে
বের হয়ে পড়ুন ৷ আমি আপনার একজন হিতাকাভক্ষী অর্থাৎ আমি যা বলছি, সে ব্যাপারে ৷ মুসা
{فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِنْ شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ} [القصص: 15] وَذَلِكَ أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، كَانَتْ لَهُ بِدِيَارِ مِصْرَ صَوْلَةٌ ; بِسَبَبِ نِسْبَتِهِ إِلَى تَبَنِّي فِرْعَوْنَ لَهُ وَتَرْبِيَتِهِ فِي بَيْتِهِ، وَكَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَدْ عَزُّوَا وَصَارَتْ لَهُمْ وَجَاهَةٌ، وَارْتَفَعَتْ رُءُوسُهُمْ بِسَبَبِ أَنَّهُمْ أَرْضَعُوهُ، وَهُمْ أَخْوَالُهُ، أَيْ مِنَ الرَّضَاعَةِ، فَلَمَّا اسْتَغَاثَ ذَلِكَ الْإِسْرَائِيلِيُّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى ذَلِكَ الْقِبْطِيِّ، أَقْبَلَ إِلَيْهِ مُوسَى فَوَكَزَهُ قَالَ مُجَاهِدٌ: أَيْ طَعْنَهُ بِجُمْعِ كَفِّهِ. وَقَالَ قَتَادَةُ: بِعَصًا كَانَتْ مَعَهُ {فَقَضَى عَلَيْهِ} [القصص: 15] أَيْ ; فَمَاتَ مِنْهَا. وَقَدْ كَانَ ذَلِكَ الْقِبْطِيُّ كَافِرًا مُشْرِكًا بِاللَّهِ الْعَظِيمِ، وَلَمْ يُرِدْ مُوسَى قَتْلَهُ بِالْكُلِّيَّةِ، وَإِنَّمَا أَرَادَ زَجْرَهُ وَرَدْعَهُ، وَمَعَ هَذَا قَالَ مُوسَى {هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبِينٌ - قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ - قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ} [القصص: 15 - 17] أَيْ، مِنَ الْعِزِّ وَالْجَاهِ {فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِلْمُجْرِمِينَ} [القصص: 17] .
{فَأَصْبَحَ فِي الْمَدِينَةِ خَائِفًا يَتَرَقَّبُ فَإِذَا الَّذِي اسْتَنْصَرَهُ بِالْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُ قَالَ لَهُ مُوسَى إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُبِينٌ - فَلَمَّا أَنْ أَرَادَ أَنْ يَبْطِشَ بِالَّذِي هُوَ عَدُوٌّ لَهُمَا قَالَ يَا مُوسَى أَتُرِيدُ أَنْ تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ إِنْ تُرِيدُ إِلَّا أَنْ تَكُونَ جَبَّارًا فِي الْأَرْضِ وَمَا تُرِيدُ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْمُصْلِحِينَ - وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى قَالَ يَا مُوسَى إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ - فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ قَالَ رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} [القصص: 18 - 21]
[الْقَصَصِ 18 - 21] . يُخْبِرُ تَعَالَى
পৃষ্ঠা - ৫৫৯
(আ) তাৎক্ষণিকভা ৷বে মিসর থেকে বের হয়ে পড়েন কিন্তু তিনি রাস্তাঘ ট চিনতে তন না তাই
বলতে থাকেন ন্পুদ্বু হে আমার প্ৰতিপালক আমাকে জ্যলিম
সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন ৷
আল্লাহ তাআলা বলেন :
ণ্ডাবু১
,
fl )
অর্থাৎ যখন মুসা মাদায়ান অভিমুখে যাত্রা করল তখন বলল, আশা করি আমার
প্রতিপালক আমাকে সরলপথ প্রদর্শন করবেন ৷ যখন সে মাদায়ানের কুপের নিকট পৌছল ,
(দখল একদল লোক তাদের প্যাগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পিছনে দু’জন নারী
তাদের পশুগুলোকে আপলাচ্ছে ৷ মুসা (আ) বলল, (তামাদের কি ব্যাপার?’ তারা বললেন,
আমরা আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারি না, যতক্ষণ রাখালর৷ তাদের
পশুগুলোকে নিয়ে সরে না যায় ৷ আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ ৷ ’ মুসা (আ) তখন তাদের
পশুগুলােকে পানি পান করলে, তারপর তিনি ছায়ার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করে বলল, হে আমার
প্রতিপালক তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবে আমি তার কাঙ্গাল ৷ (সুরা কাসাস : ২২ ২৪ )
উল্লেখিত আয়াতগুলােতে আল্লাহ তা আলা আপন বান্দা, রাসুল ও ক লীম মুসা (আ)-এর
মিসর থেকে বের হয়ে যাবার ঘটনা বর্ণনা করেছেন ৷ ফিরআউনের সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি
তাকে দেখে ফেলে নাকি, এই ভয়ে চতুর্দিকে তাকাতে তাকাতে মুসা (আ) শহর থেকে বের
হয়ে পড়লেন, কিন্তু কোথায় যাবেন বা কােনৃ দিকে যাবেন তিনি কিছুই জানেন না ৷ তিনি
ইতিপুর্বে মিসর থেকে আর কোনদিন বের হননি ৷ যখন তিনি মাদায়ানে যাবার পথ ধরতে
পারলেন তখন তিনি বলে উঠলেন, আমি আশা করি আমার প্রতিপালক আমাকে সোজা রাস্তা
প্রদর্শন করবেন ৷ অর্থাৎ সম্ভবত আমি এবার মনযিলে মকসুদে পৌছতে পারব ৷ এভাবে বাস্তবে
ঘটেছিলওত ৷ই ৷ এ পথই তাকে মনযিলে মকসুদে পৌছায় ৷ কি যে মনযিলে মকসুদটি?
মাদায়ানে একটি কুয়৷ ছিল যার পানি সকলে পান করত ৷ মাদায়ান হলো সেই শহর যেখানে
আল্লাহ তাআল৷ আইকাহ’ বাসীদের ধ্বংস করেছিলেন আর তারা ছিল শুয়ায়র (আ )-এর
সম্প্রদায় ৷
উলামায়ে কিরামের একটি মত অনুযায়ী মুসা (আ)-এর যুগের পুর্বে তারা ধ্বংস হয়ে
গিয়েছিল ৷ যখন মুসা (আ) মাদায়ানের পানির কুপে পৌছলেন, সেখানে একদল লোক পেলেন
যারা তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পেছনে দু’জন নারীকে পেলেন যারা
তাদের ছাগলগুলােকে আগলাচ্ছে, যাতে এগুলো সম্প্রদায়ের ছাগলগুলোর সাথে মিশে না যায় ৷
أَنَّ مُوسَى أَصْبَحَ بِمَدِينَةِ مِصْرَ خَائِفًا أَيْ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ، أَنْ يَعْلَمُوا أَنَّ هَذَا الْقَتِيلَ الَّذِي رُفِعَ إِلَيْهِ أَمْرُهُ إِنَّمَا قَتَلَهُ مُوسَى فِي نُصْرَةِ رَجُلٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَتَقْوَى ظُنُونُهُمْ أَنَّ مُوسَى مِنْهُمْ وَيَتَرَتَّبُ عَلَى ذَلِكَ أَمْرٌ عَظِيمٌ، فَصَارَ يَسِيرُ فِي الْمَدِينَةِ فِي صَبِيحَةِ ذَلِكَ الْيَوْمِ خَائِفًا يَتَرَقَّبُ أَيْ ; يَتَلَفَّتُ. فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ، إِذَا ذَلِكَ الرَّجُلُ الْإِسْرَائِيلِيُّ الَّذِي اسْتَنْصَرَهُ بِالْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُ أَيْ ; يَصْرُخُ بِهِ، وَيَسْتَغِيثُهُ عَلَى آخَرَ قَدْ قَاتَلَهُ، فَعَنَّفَهُ مُوسَى وَلَامَهُ عَلَى كَثْرَةِ شَرِّهِ، وَمُخَاصَمَتِهِ، قَالَ لَهُ إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُبِينٌ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَبْطِشَ بِذَلِكَ الْقِبْطِيِّ، الَّذِي هُوَ عَدُوٌّ لِمُوسَى وَلِلْإِسْرَائِيلِيِّ، فَيَرْدَعُهُ عَنْهُ وَيُخَلِّصُهُ مِنْهُ، فَلَمَّا عَزَمَ عَلَى ذَلِكَ وَأَقْبَلَ عَلَى الْقِبْطِيِّ {قَالَ يَا مُوسَى أَتُرِيدُ أَنْ تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ إِنْ تُرِيدُ إِلَّا أَنْ تَكُونَ جَبَّارًا فِي الْأَرْضِ وَمَا تُرِيدُ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْمُصْلِحِينَ} [القصص: 19] . قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّمَا قَالَ هَذَا الْكَلَامَ الْإِسْرَائِيلِيُّ الَّذِي اطَّلَعَ عَلَى مَا كَانَ صَنَعَ مُوسَى بِالْأَمْسِ، وَكَأَنَّهُ لَمَّا رَأَى مُوسَى مُقْبِلًا إِلَى الْقِبْطِيِّ، اعْتَقَدَ أَنَّهُ جَاءَ إِلَيْهِ لَمَّا عَنَّفَهُ قَبْلَ ذَلِكَ بِقَوْلِهِ {إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُبِينٌ} [القصص: 18] فَقَالَ مَا قَالَ لِمُوسَى، وَأَظْهَرَ الْأَمْرَ الَّذِي كَانَ وَقَعَ بِالْأَمْسِ، فَذَهَبَ الْقِبْطِيُّ فَاسْتَعْدَى فِرْعَوْنَ عَلَى مُوسَى. وَهَذَا الَّذِي لَمْ يَذْكُرْهُ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ سِوَاهُ. وَيُحْتَمَلُ أَنَّ قَائِلَ هَذَا هُوَ الْقِبْطِيُّ، وَأَنَّهُ لَمَّا رَآهُ مُقْبِلًا إِلَيْهِ خَافَهُ ; وَرَأَى مِنْ سَجِيَّتِهِ انْتِصَارًا جَيِّدًا لِلْإِسْرَائِيلِيِّ، فَقَالَ مَا قَالَ مِنْ بَابِ الظَّنِّ وَالْفِرَاسَةِ، أَنَّ هَذَا لَعَلَّهُ قَاتِلُ ذَاكَ الْقَتِيلِ بِالْأَمْسِ، أَوْ لَعَلَّهُ فَهِمَ مِنْ كَلَامِ الْإِسْرَائِيلِيِّ، حِينَ اسْتَصْرَخَهُ عَلَيْهِ، مَا دَلَّهُ عَلَى هَذَا. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ فِرْعَوْنَ بَلَغَهُ أَنَّ مُوسَى هُوَ قَاتِلُ ذَلِكَ الْمَقْتُولِ بِالْأَمْسِ، فَأَرْسَلَ
পৃষ্ঠা - ৫৬০
কিতার্বীদের মতে, সেখানে সাতজ্যা নারী ছিল ৷ এটাও তাদের ভ্রান্ত ধারণা ৷ তারা সাতজন হতে
পারে তবে তাদের মধ্য হতে দু’জন পানি পান করাতে এসেছিল ৷ তাদের বর্ণনা বিশুদ্ধ হলেই
কেবল এ ধরনের সামঞ্জস্যসুচক উত্তর গ্রহণযোগ্য হতে পারে ৷ এটা স্পষ্ট যে, শুয়ায়ব (আ)-এর
কেবল দুটি কন্যাই ছিল ৷ মুসা (আ)-এর প্রশ্নের উত্তরে তারা বললেন, আমরা আমাদের
দৃর্বলতার জন্যে রাখালদের পানি পান করা বার পুর্বে আমরা আমাদের পানির কাছে পৌছাত
পারি না ৷ আর এসব পশু নিয়ে আমাদের আমার কারণ হচ্ছে আমাদের পিতার বৃদ্ধাবস্থ৷ ও
দৃর্বলত৷ ৷ তখন মুসা (আ) তাদের পশুগুলোকে পানি পান করালেন ৷
তাফসীরকারগণ বলেন, রাখালরা যখন তাদের জানােয়ারগুলাের পানি পান করানো শেষ
করত, তখন তারা কুয়ার মুখে একটি বড় ও তা ৷রী পাথর রেখে দিত ৷ তারপর এই দুই নারী
আসতেন এবং লোকজনের পশুগুলোর পানি পান করার পর যা উচ্ছিষ্ট থাকত তা হতে আপন
বকরীগুলোকে পানি পান করাতে তন ৷ কিন্তু আজ মুসা (আ) আসলেন এবং একাই পাথরটি
উঠালেন ৷ তারপর তিনি তাদেরকে ও তাদের বকরীগুলােকে পানি পান করালেন এবং পাথরটি
পুর্বের জায়গায় রেখে দিলেন ৷
আমীরুল মুমিনীন উমর (রা) বলেন, পাথরটি দশজনে উঠাতে পারত ৷ তিনি একবালতি
পানি উঠালেন এবং তাতে দুজনের প্রয়োজন মিটে যায় ৷ পুনরায় তিনি গাছের ছায়ায় ফিরে
গেলেন ৷ তাফসীরকারপণ বলেন, এটা সামার গাছের ছায়া ৷ ইবন জারীর তাবারী (র) ইবন
মাসউদ (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি এই গাছটিকে সবুজ ও ছায়াদার দেখেছেন ৷ মুসা (আ)
বলেন, “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্নহই অবতীর্ণ করবেন আ তার
কাঙ্গাল ৷ ”
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) বলেন, মুসা (আ) মিসর থেকে মাদায়ান ভ্রমণকালে শাক-
সবজি ও গাছের পা৩ ৷ ব্যতীত ৩অন্য কিছু খেতে পাননি ৷ তার পারে তখন জুতা ছিল না ৷ জুতা
না থাকায় দুই পায়ের তলায় য়খম হয়ে গিয়েছিল ৷ তিনি গাছের ছায়ায় বললেন ৷ তিনি ছিলেন
সৃষ্টিকুলের মধ্যে আল্লাহ তা আলার মনোনীত ব্যক্তি ৷ অথচ ক্ষুধার কারণে তার পেট পিঠের
সাথে লেগে গিয়েছিল এবং তার দেহে এর প্রভাব দৃশ্যমান ছিল ৷ আর তখন তিনি এক টুকরো
থেজুরের পর্যন্ত মুখাপেক্ষী ছিলেন ৷ র্সশুহু দ্বুষ্ণ্ ,)ব্রে এ
আয়াত প্রসঙ্গে আত৷ ইবন সাইব (ব) র্বলেন ৪তিনি নারীদেরকে শুনিয়ে এ দুআটি
করেছিলেন ৷
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন০ ং
fl) ণ্
হ্রা;র্চু;;ব্লুর্চু৷ এৰু;; ’ ^ র্দু৷ ’ ৷ ;হৃপুাব্র ঙ্; ৷ ,:£ র্গেৰু;; ৷;;ষ্া মোঃা র্ভুঠু
স্পে; ৷ রুদ্বুন্র্চুপু ৷ ;,;
া
فِي طَلَبِهِ، وَسَبَقَهُمْ رَجُلٌ نَاصِحٌ مِنْ طَرِيقٍ أَقْرَبَ إِلَيْهِ، {وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى} [القصص: 20] سَاعِيًا إِلَيْهِ مُشْفِقًا عَلَيْهِ فَقَالَ: {يَامُوسَى إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ} [القصص: 20] أَيْ ; مِنْ هَذِهِ الْبَلْدَةِ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ أَيْ ; فِيمَا أَقُولُهُ لَكَ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ} [القصص: 21] أَيْ ; فَخَرَجَ مِنْ مَدِينَةِ مِصْرَ مِنْ فَوْرِهِ، عَلَى وَجْهِهِ، لَا يَهْتَدِي إِلَى طَرِيقٍ وَلَا يَعْرِفُهُ، قَائِلًا: {رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} [القصص: 21] .
{وَلَمَّا تَوَجَّهَ تِلْقَاءَ مَدْيَنَ قَالَ عَسَى رَبِّي أَنْ يَهْدِيَنِي سَوَاءَ السَّبِيلِ - وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ - فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص: 22 - 24]
[الْقَصَصِ: 22 - 24] . يُخْبِرُ تَعَالَى عَنْ خُرُوجِ عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ وَكَلِيمِهِ مِنْ مِصْرَ خَائِفًا يَتَرَقَّبُ أَيْ ; يَتَلَفَّتُ خَشْيَةَ أَنْ يُدْرِكَهُ أَحَدٌ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ، وَهُوَ لَا يَدْرِي أَيْنَ يَتَوَجَّهُ، وَلَا إِلَى أَيْنَ يَذْهَبُ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ لَمْ يَخْرُجْ مِنْ مِصْرَ قَبْلَهَا وَلَمَّا تَوَجَّهَ تِلْقَاءَ مَدْيَنَ أَيْ ; اتَّجَهَ لَهُ طَرِيقٌ يَذْهَبُ فِيهِ {قَالَ عَسَى رَبِّي أَنْ يَهْدِيَنِي سَوَاءَ السَّبِيلِ} [القصص: 22] أَيْ ; عَسَى أَنْ تَكُونَ هَذِهِ الطَّرِيقُ مُوَصِّلَةً إِلَى الْمَقْصُودِ. وَكَذَا وَقَعَ، أَوْصَلَتْهُ إِلَى مَقْصُودٍ، وَأَيُّ مَقْصُودٍ {وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ} [القصص: 23] وَكَانَتْ بِئْرًا يَسْتَقُونَ مِنْهَا. وَمَدْيَنُ هِيَ الْمَدِينَةُ الَّتِي أَهْلَكَ اللَّهُ فِيهَا أَصْحَابَ الْأَيْكَةِ، وَهُمْ قَوْمُ شُعَيْبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَقَدْ
পৃষ্ঠা - ৫৬১
,)
&
অর্থাৎ-নারী দ্বয়ের একজন শরমজনিত পারে তার নিকট আসল এবং বলল, “আমার পিতা
আপনাকে আমন্ত্রণ করেছেন, আমাদের জানােয়ারগুলোকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক
দেয়ার জন্য, তারপর মুসা (আ) তার নিকট এসে সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে সে বলল, ভয়
করো না তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে বেচে গিয়েছ ৷ত তাদের একজন বলল, হে পিতা!
তুমি একে মজুর নিযুক্ত কর, কারণ তোমার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী,
বিশ্বস্ত ৷” সে মুসা (আ) কে বলল, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে
দিতে চাই এ শর্তে যে, তুমি অ ট বছর আমার কাজ করবে যদি তুমি দশবছর পুর্ণ কর, সে
তোমার ইচ্ছা ৷ আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না ৷ আল্লাহ ইচ্ছা করলে তুমি আমাকে সদাচারী
পাবে ৷ মুসা (আ) বলল, আমার ও আপনার মধ্যে এ চুচ্ছি রইল ৷ ’ এ দুটি মেয়াদের কোন
একটি আমি পুর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না ৷ আমরা যে বিষয়ে কথা
বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী ৷ (২৮ কাসাস : ২৫ ২৮)
মুসা (আ) গাছের ছায়ায় বসে যখন বললেন
তখন নারীদ্বয় তা শুনতে পান এবং তারা দু’জন তাদের পিতার কাছে গেলেন ৷ কথিত
আছে, তাদের এরুপ তৃরান্বিত প্রত্যাবর্তনে শুয়ায়ব (আ) তার কারণ জিজ্ঞেস করলেন ৷ তারা
যখন তাকে মুসা (আ)-এর ঘটনা সম্পর্কে জানালেন, তখন শুয়ায়ব (আ) তাদের একজনকে
মুসা (আ) কে ডেকে আনতে পাঠালেন ৷ তাদের একজন আযাদ নারীসুলভ শরম জড়িত পারে
তার নিকট আসলেন এবং বললেন, আমার পিতা পানি পান করানোর পাবিশ্রমিক দেয়ার জন্যে
আপনাকে ড ৷কছেন ৷ তিনি কথাটি স্পষ্ট করে বললেন, যাতে মুসা (আ) তার কথায় কােনরুপ
সন্দেহ না করেন ৷ এটা ছিল ত ৷র লজ্জা ও পবিত্র৩ ৷র পুংতাি র প্ৰমা ণ ৷ যখন মুসা (আ) শুয়ায়ব
(আ ) এর কাছে আগমন করলেন এবং তার মিসর ও ফিরআউন থেকে তার পলায়ন করে
আমার যাবতীয় ঘটনা শুয়ায়ব (আ)-এর কাছে বর্ণনা করলেন তখন তিনি তাকে বললেন,
তৃমি ভয় করে৷ না, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কর্তৃত্ব থেকে বের হয়ে এসেছ, এখন আর তুমি
তাদের বাজে নও ৷’
এই বৃদ্ধ কে? এ নিয়ে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মততেদ রয়েছে ৷ কেউ কেউ বলেন,
“তিনি হচ্ছেন শুয়ায়ব (আ) ৷” এটাই অধিকাৎশ ব্যাথ্যাকারীর কাছে সুপ্রসিদ্ধ অভিমত ৷ হাসান
বসরী (র) ও মালিক ইবন আনাস (র) এ মত পোষণ করেন ৷ এ ব্যাপারে একটি হাদীসেও
সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে ৷ তবে এর সনদে কিছু সন্দেহ রয়েছে ৷ অন্য একজন প্ৰকাশ্যভাবে বলেছেন
যে, শুয়ায়ব (আ) তার সম্প্রদায় ধ্বংস হবার পরও অনেকদিন জীবিত ছিলেন ৷ অতঃপর মুসা
(আ) তার যুগ পান এবং তীর কন্যাকে বিবাহ করেন ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খমোঃমোঃজ্যেমোঃ০মোঃ
كَانَ هَلَاكُهُمْ قَبْلَ زَمَنِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي أَحَدِ قَوْلَيِ الْعُلَمَاءِ. وَلَمَّا وَرَدَ الْمَاءَ الْمَذْكُورَ {وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأتَيْنِ تَذُودَانِ} [القصص: 23] أَيْ ; تُكَفْكِفَانِ غَنَمَهُمَا أَنْ تَخْتَلِطَ بِغَنَمِ النَّاسِ. وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَنَّهُنَّ كُنَّ سَبْعَ بَنَاتٍ. وَهَذَا أَيْضًا مِنَ الْغَلَطِ. وَلَعَلَّهُ كَانَ لَهُ سَبْعٌ، وَلَكِنْ إِنَّمَا كَانَ تَسْقِي اثْنَتَانِ مِنْهُنَّ. وَهَذَا الْجَمْعُ مُمْكِنٌ إِنْ كَانَ ذَلِكَ مَحْفُوظًا، وَإِلَّا فَالظَّاهِرُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لَهُ سِوَى بِنْتَيْنِ.
{قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ} [القصص: 23] أَيْ ; لَا نَقْدِرُ عَلَى وِرْدِ الْمَاءِ إِلَّا بَعْدَ صُدُورِ الرِّعَاءِ ; لِضَعْفِنَا، وَسَبَبُ مُبَاشَرَتِنَا هَذِهِ الرَّعِيَّةَ ضَعْفُ أَبِينَا وَكِبَرُهُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: فَسَقَى لَهُمَا قَالَ الْمُفَسِّرُونَ: وَذَلِكَ أَنَّ الرِّعَاءَ كَانُوا إِذَا فَرَغُوا مِنْ وِرْدِهِمْ، وَضَعُوا عَلَى فَمِ الْبِئْرِ صَخْرَةً عَظِيمَةً، فَتَجِيءُ هَاتَانِ الْمَرْأَتَانِ فَيَشْرَعَانِ غَنَمَهُمَا فِي فَضْلِ أَغْنَامِ النَّاسِ، فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ الْيَوْمُ جَاءَ مُوسَى فَرَفْعَ تِلْكَ الصَّخْرَةِ وَحْدَهُ، ثُمَّ اسْتَقَى لَهُمَا، وَسَقَى غَنَمَهُمَا، ثُمَّ رَدَّ الصَّخْرَةَ كَمَا كَانَتْ. قَالَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عُمْرُ: وَكَانَ لَا يَرْفَعُهُ إِلَّا عَشَرَةٌ. وَإِنَّمَا اسْتَقَى ذَنُوبًا وَاحِدًا فَكَفَاهُمَا، ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ. قَالُوا: وَكَانَ ظِلَّ شَجَرَةٍ مِنَ السَّمُرِ. وَرَوَى ابْنُ جَرِيرٍ،
পৃষ্ঠা - ৫৬২
ইবন আবু হাতিম (র) প্রমুখ হাসান বসরী (র) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, মুসা (আ )-এর
ঘটনা সংশ্লিষ্ট এ ব্যক্তির নাম শুয়ায়ব, তিনি মাদায়ানে কুয়ার মালিক ছিলেন কিন্তু তিনি
মাদায়ানের নবী শুয়ায়ব নন ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি হচ্ছেন শুয়ায়ব (আ) এর
তিভাজ৷ ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি হচ্ছেন শুয়ায়ব (আ) এর চাচাত ভাই ৷ কেউ কেউ
বলেন,৩ তিনি ছিলেন শুয়াযবের সম্প্রদায়ের একজন মুমিন বান্দ৷ ৷ আবার কেউ কেউ বলেন,
তিনি হচ্ছেন একজন লোক যার নাম ইয়াসরুন ৷ কিতাবীদের গ্রন্থাদিাট্রুত এরুপ বিবরণ রয়েছে ৷
তাদের অন্য মতে, ইয়াসরুন ছিলেন একজন বড় ও জ্ঞানী জ্যোতিষী ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস
(বা) ও আবু উবায়দা ইবন আবদুল্লাহ (র ) তার নাম ইয়াসরুন বলে উল্লেখ করেছেন ৷ আবু
উবায়দা আরো বলেন, তিনি ছিলেন শুয়ায়ব (আ )-এর ভাতিজা ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (র৷ )
এ বর্ণনায় বাড়িয়ে বলেন, তিনি ছিলেন মাদায়ানের লোক ৷
মােটকথা, যখন শুয়ায়ব (আ) মুসা (আ)-কে আতিথ্য ও আশ্রয় দান করলেন, তখন তিনি
তার সমস্ত কাহিনী শুয়ায়ব (আ)-এর কাছে বর্ণনা করলেন ৷ তখন শুয়ায়র (আ) তাকে সুসংরাদ
দিলেন যে, তিনি জ লিমদেব করল থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছেন ৷ তখন দুই কন্যার একজন
তার পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা তাকে পাৰিশ্রমিকের বিনিময়ে তোমার বকরী চরারার
জন্যে নিযুক্ত কর ৷ তারপর সে তার প্রশংসা করে বলল যে, মুসা (আ) শক্তিশালী এবং
আমানতদারও বটে ৷ উমর (রা), আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা), কাযী শুরায়হ (র), আবু
মালিক (র), ক৷ তাদা (র), মুহম্মদ ইবন ইসহাক (র) প্রমুখ বলেন, “শুয়ায়ব (আ) এর কন্যা
যখন মুসা (আ) সম্পর্কে এরুপ মন্তব্য করলেন, তখন তার পি৩ ৷ তাকে বললেন তুমিত
কেমন করে জানলে?” জবাবে তিনি বললেন, তিনি এমন একটি পাথর উত্তোলন করেছেন যা
উত্তোলন করতে দশজন লোকের প্রয়োজন ৷ আবার আমি যখন তার সাথে বাড়ি আসছিলাম
আমি তার সামনে পথ চলছিলাম, এক পর্যায়ে তিনি বললেন, “তুমি আমার পেছনে পেছনে চল,
আর যখন বিভিন্নস্ত রাস্ত ৷র মাথা দেখা দেবে তখন তুমি কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে আমাকে পথ
নির্দেশ ৷করবে ৷”
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (বা) বলেন, তিন ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা অতি দুরদর্শিত তার পরিচয়
দিয়েছিলেন (১) ইউসুফ (আ) এর ক্রেতা যখন তিনি৩ তার শ্ৰীকে বলেছিলেন “সম্মান-
জনকভাবে তার থাকরার ব্যবস্থা কর ৷”
(২) মুসা (আ)-এর সঙ্গিনী-যখন তিনি বলেছিলেন, “হে আমার পিতা ! তুমি তাকে মজুর
নিযুক্ত কর, কারণ তোমার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত ৷”
(৩) আবু বকর সিদ্দীক (রা) যখন তিনি উমর (রা) ইবন আল খাত্তাবকে খলীফা মনোনীত
করেন ৷ অতঃপর শুয়ায়ব (আ ) বলেন০ ং
’
;)ন্১াএে৷ ষ্ঠাং ৰুা৷৷ ণ্এে ন্প্রুা
ত্বে
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ رَآهَا خَضْرَاءَ تَرِفُّ. {فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص: 24] . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: سَارَ مِنْ مِصْرَ إِلَى مَدْيَنَ، لَمْ يَأْكُلْ إِلَّا الْبَقْلَ وَوَرَقَ الشَّجَرِ، وَكَانَ حَافِيًا فَسَقَطَتْ نَعْلَا قَدَمَيْهِ مِنَ الْحَفَاءِ وَجَلَسَ فِي الظِّلِّ، وَهُوَ صَفْوَةُ اللَّهِ مِنْ خَلْقِهِ، وَإِنَّ بَطْنَهُ لَاصِقٌ بِظَهْرِهِ مِنَ الْجُوعِ، وَإِنَّ خُضْرَةَ الْبَقْلِ لَتُرَى مِنْ دَاخِلِ جَوْفِهِ، وَأَنَّهُ لَمُحْتَاجٌ إِلَى شِقِّ تَمْرَةٍ. قَالَ عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ: لَمَّا قَالَ: {رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص: 24] أَسْمَعَ الْمَرْأَةَ.
{فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ قَالَتْ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا فَلَمَّا جَاءَهُ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ قَالَ لَا تَخَفْ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتَ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ - قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ - قَالَ ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ وَاللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ} [القصص: 25 - 28]
[الْقَصَصِ: 25 - 28] . لَمَّا جَلَسَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي الظِّلِّ، وَقَالَ: {رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} [القصص: 24] سَمِعَتْهُ الْمَرْأَتَانِ، فِيمَا قِيلَ، فَذَهَبَتَا إِلَى أَبِيهِمَا، فَيُقَالُ: إِنَّهُ اسْتَنْكَرَ سُرْعَةَ رُجُوعِهِمَا، فَأَخْبَرَتَاهُ مَا كَانَ مِنْ أَمْرِ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَأَمَرَ إِحْدَاهُمَا أَنْ تَذْهَبَ إِلَيْهِ فَتَدْعُوهُ {فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ} [القصص: 25]
পৃষ্ঠা - ৫৬৩
অর্থাৎ যে বলল, “আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহ দিতে
চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, যদি তুমি দশ বছর পুর্ণ কর, সে
তোমার ইচ্ছা ৷ আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না ৷ আল্লাহ চাহে তো তুমি আমাকে সদাচারী
রুপে পাবে ৷ ”
উপরোক্ত আয়াত দ্বারা আবুহানীফা (র)-এর কিছু সংখ্যক অনুসারী দলীল পেশ করেন যে,
যদি কেউ বলে, আমি দুটি দাসের মধ্যে একটি, কিৎবা কাপড় দুটির একটি, অনুরুপভারে
অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রেও দৃটির একটি বিক্রি করব তাহলে এরুপ বলা শুদ্ধ হবে ৷ কেননা, শুয়ায়ব
(আ) বলেছিলেন ষ্ঠে ব্লুন্;ৰুষ্! প্রুা) অর্থাৎ আমার এই কনড্রাদ্বয়ের একজনকে ৷ আসলে
এ যুক্তি যথার্থ নয়; কেননা, বিয়ের ক্ষেত্রটি হচ্ছে পরস্পর সম্মতির ব্যাপার, ব্যবসায়ের মত
লেনদেনের ব্যাপার নয় ৷ আল্লাহ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত ৷
উপরোক্ত আয়াত দ্বারা ইমাম আহমদ (র)-এর অনুসারিগণ প্রচলিত প্রথা অনুসারে আহার
ও রাসন্থানের বিনিময়ে মজুর নিযুক্তির বৈধতার প্রমাণ বলে পেশ করেন ৷ ইবন মাজাহ্ (র) তার
সুনান’ গ্রন্থে )ন্ শ্নএ ১ও৷ ন্,াৰু অর্থাৎ শ্রমিক নিয়োগ শিরোনামে পেটেভাতে মজুর
নিযুক্তির বৈধতা প্রমাণার্থে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন-এ হাদীসটিও প্রসঙ্গক্রমে তারা উল্লেখ
করেছেন ৷ উতবা ইবন নৃদৃর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসুল
(না)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম ৷ রাসুল (সা) সুরা কাসাস পাঠ করলেন ৷ তিনি যখন মুসা
(আ)-এর ঘটনায় পৌছলেন তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই মুসা (আ) আট বছর কিৎবা দশ
বছর পােটভাতে এবং চরিত্রের পবিত্রতা অক্ষুগ্ন রাখার জন্যে কাযিক শ্রম করেছেন ৷ তবে
হড়াদীসটি দুর্বল বিধায় এর দ্বারা দলীল পেশ করা যায় না ৷ অন্য এক সুত্রে ইবন আবু হাতিম (র)
এ হাদীসটি বংনাি করেছেন ৷ তারপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ৷;
, ৷
৮র্ন্ত এ£ৰু হাব্রে দ্বু ণ্শু ১ ও^ঘ্রৰু র্ন্তএে এ্যা ষ্,র্দুর্ম১১৷ প্রো এন্শুন্ব্লু ;ণ্ৰু^র্ন্ত এে১
অর্থাৎ-মুসা (আ) তার ভাবী শ্বশুরকে বলেন , আপনি যে চুক্তির কথা বলেছেন তাই স্থির
হল, তবে দুই মেয়াদের মধ্যে যে কোনটাই আমি পুর্ণ করব, আমার বিরুদ্ধে কোন অতািযাগ
থাকবে না ৷ আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী ৷ এতদসত্বেও মুসা (আ) দুটির
মধ্যে দীর্ঘতমটি পুর্ণ করেন অর্থাৎ পুর্ণ ১০ বছর তিনি মজুরি করেন ৷
ইমাম বুখারী (র) সাঈদ ইবন জুবড়ায়র (রা ) সুত্রে বর্ননা করেন, তিনি বলেন, হীরার
অধিবাসী একজন ইহুদী আমাকে প্রশ্ন করল, র্দেগ্লু র্ত্যছু১দ্বু এএ১ ১৷ ! é ৷ অর্থাৎ মুসা (আ)
কোন মেয়াদটি পুরণ করেছিলেনঃ বললাম, আমি জানি না, তবে আরবের মহান শিক্ষিত
লোকটির কাছে জিজ্ঞাসা করব ৷ অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)-এর নিকট এসে র্তাকে
এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম ৷ তিনি বললেন, দৃ’টির মধ্যে যেটা অধিক ও বেশি পছন্দনীয়
সেটাই তিনি পুরণ করেছিলেন ৷ কেননা, আল্লাহর নবী যা বলেন তা অবশ্যই করেন ৷
ইমাম নাসাঈ (র)ও অন্য এক সুত্রে সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেন ৷
أَيْ ; مَشْيَ الْحَرَائِرِ. قَالَ عُمْرُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: تَسْتُرُ وَجْهَهَا بِكُمِّ دِرْعِهَا {إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا} [القصص: 25] صَرَّحَتْ لَهُ بِهَذَا ; لِئَلَّا يُوهِمَ كَلَامُهَا رِيبَةً، وَهَذَا مِنْ تَمَامِ حَيَائِهَا وَصِيَانَتِهَا. {فَلَمَّا جَاءَهُ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ} [القصص: 25] أَيْ ; وَأَخْبَرَهُ خَبَرَهُ، وَمَا كَانَ مَنْ أَمْرِهِ ; فِي خُرُوجِهِ مِنْ بِلَادِ مِصْرَ فِرَارًا مَنْ فِرَعَوْنِهَا، قَالَ لَهُ ذَلِكَ الشَّيْخُ: {لَا تَخَفْ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} [القصص: 25] أَيْ ; خَرَجْتَ مِنْ سُلْطَانِهِمْ، فَلَسْتَ فِي دَوْلَتِهِمْ.
وَقَدِ اخْتَلَفُوا فِي هَذَا الشَّيْخِ ; مَنْ هُوَ؟ فَقِيلَ: هُوَ شُعَيْبٌ، عَلَيْهِ السَّلَامُ. وَهَذَا هُوَ الْمَشْهُورُ عِنْدَ كَثِيرِينَ. وَمِمَّنْ نَصَّ عَلَيْهِ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَجَاءَ مُصَرَّحًا بِهِ فِي حَدِيثٍ، وَلَكِنْ فِي إِسْنَادِهِ نَظَرٌ. وَصَرَّحَ طَائِفَةٌ بِأَنَّ شُعَيْبًا، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَاشَ عُمْرًا طَوِيلًا بَعْدَ هَلَاكِ قَوْمِهِ، حَتَّى أَدْرَكَهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَتَزَوَّجَ بِابْنَتِهِ. وَرَوَى ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ وَغَيْرُهُ، عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، أَنَّ صَاحِبَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، هَذَا اسْمُهُ شُعَيْبٌ، وَكَانَ سَيِّدَ الْمَاءِ، وَلَكِنْ لَيْسَ بِالنَّبِيِّ صَاحِبِ مَدْيَنَ. وَقِيلَ: إِنَّهُ ابْنُ أَخِي شُعَيْبٍ. وَقِيلَ: ابْنُ عَمِّهِ. وَقِيلَ: رَجُلٌ مُؤْمِنٌ مِنْ قَوْمِ شُعَيْبٍ. وَقِيلَ: رَجُلٌ
পৃষ্ঠা - ৫৬৪
ইবন জারীর তাবারী (র)ও অন্য এক সুত্রে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণনা
করেন ৷ তিনি বলেন, রড়াসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, “একদিন আমি জিবরাঈল (আ )-কে
জিজ্ঞাসা করলাম, “মুসা (আ) কোন যেয়াদটি পুর্ণ করেছিলেন? তখন তিনি বলেন, যেটা বেশি
পরিপুর্ণ সেটাই তিনি পুরণ করেছিলেন ৷ ” ইমাম আল বাযযার (র ) অন্য এক সুত্রে আবদুল্লাহ
ইবন আব্বাস (বা) হতে অনুরুপ বর্ণনা পেশ করেছেন ৷
ইমাম সানীদ (র) মুজাহিদ (র) সুত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল( (সা) একদিন এ ব্যাপারে
জিবরা ঈল (আ) কে জিজ্ঞা ৷সা করলেন ৷ পুনরায় জিবরাঈল (আ)এ সম্বন্ধে ইসরাফীল (আ) কে
জিজ্ঞাসা করলেন ৷ ইসরাফীল (আ) মহান প্রতিপালক আল্লাহ তা আলাকে জিজ্ঞাসা করলেন ৷
তিনি বললেন, যেটি অধিক পরিপুর্ণ ও অধিক কল্যাণকর ৷
ইবন জারীর তাবারী (র)-ও অন্য এক সুত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা
করা হয়েছিল যে, মুসা (আ) কোন যেয়াদটি পুরণ করেছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, যেটা
অধিক পরিপুর্ণ সেটাই তিনি পুরণ করেছিলেন ৷ ইমাম আল রাযযড়ার (র) ও ইবন আবু হাতিম
(র) আবুযর (বা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (না)-কে একদিন প্রশ্ন করা
হয়েছিল যে, মুসা (আ) কোন যেয়াদটি পুরণ করেছিলেন ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন যেটা
অধিক পরিপুর্ণ ও অধিক কল্যাণকর ৷ তিনি বলেন, “যদি তোমাকে জিজ্ঞা ৷সা করা হয় যে, কোন
কন্যাটিকে মুসা (আ) বিয়ে করেছিলেন, তখন বলে দা ও, ছোট কন্যাটিকে” ৷
ইমাম আল বায্যার (র) ও ইবন আবু হাতিম (র) অন্য এক সুত্রে উতবা ইবন নুদর (বা)
হতে বর্ণনা করেন ৷ নিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা) ইবশাদ করেন মুসা (আ ) জীবিকা নির্বাহ ও
চরিত্রের হেফাজতে র জন্যে মজুরি করেছেন ৷ এরপর তিনি যখন মেয়াদ পুরণ করেন তখন
রাসুলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করা হল কোন মেয়াদটি ইয়া রাসুলাল্লাহা তখন রাসুলুল্লাহ (সা)
প্ৰতি উত্তরে বলেন, যেটি অধিক পরিপুর্ণ ও অধিক কল্যাণকর ৷
যখন মুসা (আ) শুয়ায়ব (আ) হতে বিদায় গ্রহণের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার ত্রীকে
বলেন, তীর পিতার নিকট থেকে কিছু বকরী চেয়ে নিতে যাতে তারা এগুলে৷ দ্বারা জীবিকা
নির্বাহ করতে পারেন ৷৩ তাই এ বছর যতগুলাে বকরী মায়ের রংয়ের ভিন্ন বং এ জন্ম নিয়েছে
সেগুলি তাকে দান করলেন ৷ তার বকরীগুলো ছিলো কালো ও সুন্দর ৷ মুসা (আ) লাঠি নিয়ে
গেলেন এবং একদিক থেকে এগুলোকে পৃথক করলেন ৷ অতঃপর এগুলোকে পানির চৌবাচ্চার
কাছে নিয়ে গেলেন এবং পানি পান করালেন ৷ মুসা (আ) চৌবাচ্চার পাশে র্দাড়ালেন ৷ কিন্তু
একটি বকরীও পানি পান শেষ করে নিজ ইচ্ছার ছুটে আসল না ৷ যতক্ষণ না তিনি একটি একটি
করে মৃদু প্রহার করেন ৷ বর্ণনাকড়ারী বলেন, দুই-একটি ব্যতীত বকরীগুলো প্রতিটি যমজ, বকনা
এবং মায়ের রংয়ের অন্য রং-এর বাচ্চা জন্ম দেয় ৷ এগুলোর মধ্যে চওড়া বুক, লম্বা রাট , সংকীর্ণ
বুক, একেবারে ছোট বীট এবং হাতে ধরা যায় না এরুপ বীটের অধিকারী বকরী ছিল না ৷ অর্থাৎ
সবগুলোই সুস্বান্থের অধিকারী ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যদি তোমরা সিরিয়া পৌছতে
পারতে তাহলে তোমরা এখনও ঐ জাতের বকরী দেখতে পেতে ৷ এসব বকরী হচ্ছে সামেরীয় ৷
এ হাদীসটি মরফু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে ৷
ইবন জাবীর তাবারী (র) আনাস ইবনে মালিক (রা) সুত্রে বনাি করেন, তিনি বলেন, যখন
আল্লাহর নবী মুসা (আ) তার নিয়োগকর্তাকে যেয়াদপুর্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন, তখন
اسْمُهُ يَثْرُونُ. هَكَذَا هُوَ فِي كُتُبِ أَهْلِ الْكِتَابِ: يَثْرُونُ كَاهِنُ مَدْيَنَ. أَيْ ; كَبِيرُهَا وَعَالِمُهَا. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: اسْمُهُ يَثْرُونُ. زَادَ أَبُو عُبَيْدَةَ: وَهُوَ ابْنُ أَخِي شُعَيْبٍ. زَادَ ابْنُ عَبَّاسٍ: صَاحِبُ مَدْيَنَ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ لَمَّا أَضَافَهُ وَأَكْرَمَ مَثْوَاهُ، وَقَصَّ عَلَيْهِ مَا كَانَ مِنْ أَمْرِهِ، بَشَّرَهُ بِأَنَّهُ قَدْ نَجَا، فَعِنْدَ ذَلِكَ قَالَتْ إِحْدَى الْبِنْتَيْنِ لِأَبِيهَا {يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ} [القصص: 26] أَيْ; لِرَعْيِ غَنَمِكَ. ثُمَّ مَدَحَتْهُ بِأَنَّهُ قَوِيٌّ أَمِينٌ. قَالَ عُمْرُ، وَابْنُ عَبَّاسٍ، وَشُرَيْحٌ الْقَاضِي، وَأَبُو مَالِكٍ، وَقَتَادَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ: لَمَّا قَالَتْ ذَلِكَ قَالَ لَهَا أَبُوهَا: وَمَا عِلْمُكِ بِهَذَا؟ فَقَالَتْ: إِنَّهُ رَفَعَ صَخْرَةً لَا يُطِيقُ رَفْعَهَا إِلَّا عَشَرَةٌ، وَإِنَّهُ لَمَّا جِئْتُ مَعَهُ تَقَدَّمْتُ أَمَامَهُ، فَقَالَ: كُونِي مِنْ وَرَائِي، فَإِذَا اخْتَلَفَ الطَّرِيقُ فَاحْذِفِي لِي بِحَصَاةٍ أَعْلَمْ بِهَا كَيْفَ الطَّرِيقُ. قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: أَفَرَسُ النَّاسِ ثَلَاثَةٌ; صَاحِبُ يُوسُفَ حِينَ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: أَكْرِمِي مَثْوَاهُ وَصَاحِبَةُ مُوسَى حِينَ قَالَتْ: {يَاأَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ} [القصص: 26] وَأَبُو بَكْرٍ حِينَ اسْتَخْلَفَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ
{قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ} [القصص: 27] اسْتَدَلَّ بِهَذَا جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ، رَحِمَهُ اللَّهُ، عَلَى صِحَّةِ مَا إِذَا بَاعَهُ أَحَدَ هَذَيْنِ الْعَبْدَيْنِ أَوِ الثَّوْبَيْنِ، وَنَحْوَ ذَلِكَ، أَنَّهُ يَصِحُّ; لِقَوْلِهِ: إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ وَفِي هَذَا نَظَرٌ; لِأَنَّ هَذِهِ مُرَاوَضَةٌ لَا مُعَاقَدَةٌ.
পৃষ্ঠা - ৫৬৫
তিনি বললেন, প্ৰতিটি বকরীই তোমার, যা তার মায়ের রং-এ জন্ম নেবে ৷ মুসা (আ) মানুষের
একটি আকৃতি পানিতে দাড় করিয়ে রাখলেন যখন বকরীগুলাে মানুষের আকৃতি দেখল, ভয়
পেয়ে গেল এবং ছুটাছুটি করতে লাগল ৷ একটি ব্যতীত সবগুলোই চিত্রা বাচ্চা জন্ম দিল ৷ মুসা
(আ) ঐ বছরের সব বাচ্চা নিয়ে নিলেন ৷ এ বর্ণনাটির রাবীগং৷ বিশ্বস্ত ৷ অনুরুপ ঘটনা হযরত
ইয়াকুব (আ) সম্পর্কেও পুর্বে বর্ণিত আছে ৷ আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত ৷ আল্লাহ্ তাআলার বাণীং
এে
া
ধ্এওষ্ঠিছু
ণ্ষুর্দুপু
ত্ষ্
’
র্জ
া
ষ্ঠাং খাং
ৰু ব্ল
মুসা (আ) যখন তার মেয়াদ পুর্ণ করবার পর সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তুর
পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেল ৷ সে তার পরিবারবর্পকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি
আগুন দেখেছি ৷ সম্ভবত আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য খবর আনতে পারি অথবা এক খগু
জ্বলন্ত কাষ্ঠখগু আনতে পারি, যাতে তোমরা আগুন পােহাতে পার ৷ যখন মুসা (আ) আগুনের
নিকট পৌছুল, তখন উপত কোর দক্ষিণ পার্শে পবিত্র ভুমিস্থিত এক বৃক্ষের দিক হতে তাকে
আহ্বান করে বলা হল, হে মুসা! আমিই আল্লাহ, জগতসমুহের প্রতিপালক ৷ আরও বলা হল,
তৃমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর, তারপর যখন সে এটাকে সাপের মত ছুটোছুটি করতে দেখল,
তখন পেছনের দিকে ছুটতে লাগল এবং ফিরে তাকা ল না ৷ তাকে বলা হল, হে মুসা ! সম্মুখে
আস-, ভয় করো না, তুমি তো নিরাপদ ৷ তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, এটা বের হয়ে
আসবে শুভ্র সমুজ্জ্বল নির্দোষ হয়ে ৷ ভয় দুর করবার জন্য তোমার হাত দুটি নিজের দিকে চেপে
ধর ৷ এ দুটি তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত প্রমাণ, ফিরআউন ওত তার পারিষদবর্গেব জন্য ৷ ওরা
তো সতাতাপী সম্প্রদায় ৷ (সুরা কাসাস০ : ২৯ ৩২)
পুর্বেই বলা হয়েছে যে, মুসা (আ) পুংতির মেয়াদ অর্থাৎ দশ বছর পুরণ করেছেন ৷
মুজাহিদ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রথম তিনি ১০ বছর পুবা করেন, পরে আরো দশ
বছর ৷ আয়াতে উল্লেখিত ন্ট্রু১ এা£ঠু এর অর্থ হচ্ছে, মুসা (আ)ত তার শ্বশুরের নিকট থেকে
সপরিবারে রওয়ানা হলেন ৷ একাধিক মুফা ৷সসির ও অন্যান্য উলামা বর্ণনা ৷কয়েন যে, মুসা (আ)
তার আ ৷ত্মীয় স্বজনের সাথে মুলাকা৩ তে র জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠেন ৷ত তাই তিনি গোপনে
মিসরে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে মনস্থু করলেন ৷ যখন তিনি সপরিবারে রওয়ানা হলেন
وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَاسْتَدَلَّ أَصْحَابُ أَحْمَدَ عَلَى صِحَّةِ الْإِيجَارِ بِالطُّعْمَةِ وَالْكُسْوَةِ، كَمَا جَرَتْ بِهِ الْعَادَةُ، وَاسْتَأْنَسُوا بِالْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي " سُنَنِهِ " مُتَرْجَمًا فِي كِتَابِهِ " بَابُ اسْتِئْجَارِ الْأَجِيرِ عَلَى طَعَامِ بَطْنِهِ ": حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّىالْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُتْبَةَ بْنَ النُّدَّرِ يَقُولُ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَرَأَ " {طسم} [القصص: 1] " حَتَّى إِذَا بَلَغَ قِصَّةَ مُوسَى قَالَ: «إِنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، آجَرَ نَفْسَهُ ثَمَانِيَ سِنِينَ، أَوْ عَشْرًا، عَلَى عِفَّةِ فَرْجِهِ وَطَعَامِ بَطْنِهِ» . وَهَذَا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ لَا يَصِحُّ; لِأَنَّ مَسْلَمَةَ بْنَ عَلِيٍّ الْخُشَنِيَّ الدِّمَشْقِيَّ الْبَلَاطِيَّ ضَعِيفٌ عِنْدَ الْأَئِمَّةِ، لَا يُحْتَجُّ بِتَفَرُّدِهِ، وَلَكِنْ قَدْ رُوِيَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ; فَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، (ح) . وَحَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُتْبَةَ بْنَ النُّدَّرِ السُّلَمِيَّ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «إِنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، آجَرَ نَفْسَهُ لِعِفَّةِ فَرْجِهِ وَطُعْمَةِ بَطْنِهِ» .
পৃষ্ঠা - ৫৬৬
তখন তার সাথে ছিল বুছবুল মেয়ে ও বকরীর পাল ৷ যা তিনি তার অবস্থানকালে অর্জন
করেছিলেন ৷ ঐতিহাসিকগণ বলেন, ঘটনাচক্রে তার যাত্রার রাত টি ছিল অন্ধকার ও ঠাণ্ডা ৷ তারা
পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন, পরিচিত রাস্তা খুজে পাচ্ছিলেন না ৷ চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালাবার
চেষ্টা করেও তারা আগুন জ্বালড়াতে ব্যর্থ হন ৷ অন্ধকার ও ঠাণ্ডা তীব্র আকার ধারণ করল ৷ এ
অবস্থায় হঠাৎ তিনি দুবুর অগ্নিশি যা দেখতে পেলেন যা তুর পর্বতের এক অংশে প্রজ্বলিত ছিল ৷
এটা ছিল তুর পর্বতের পশ্চিমাংশ যা ছিল তবে ডান দিকে ৷ তিনি তার পরিবারবর্গকে বললেন,
তোমরা এখানে অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেবুয়ছি ৷ আল্লাহই ভাল জানেন ৷
সম্ভবত এ আগুন শুধু৩ তিনিই দেখেছেন অন্য কেউ দেবুখননি; কেননা এই আগুন প্রকৃত
পক্ষে নুর ছিল, যা সকলের দৃষ্টিগােচর হয় না ৷ তিনি তার পরিবারবর্গকে বললেন গ্রামি হয়ত
সেখান থেকে সঠিক রাস্তার সন্ধান পেতে পারব ৷ কিৎব৷ আগুনের কাষ্ঠখও নিয়ে আসবুব৷ যাতে
তোমরা আগুন পােহাতে পার ৷ সুরায়ে তা হার আয়াত দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে তারা রাস্তা
হন্রিরুয় ফেলেছিলেন যেখানে অৰুল্লত্ত্বহ তা আলা ইরশন্দে করেন;: ং
) ,«
৷ ট্রুাপ্তদ্বু
অর্থ ৎ-মুসাব বৃও৷ ম্ভ তে ৷মার নিকট পৌবুছবুছ কি? যে যখন আগুন দেখল তখন তার
পরিবারবর্পবুক বলল, তে আমরা এখানে থাক, আমি আগুন দেখেছি ৷ সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য
তা হতে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গ৷ র নিয়ে আসতে পারব অথবা আ৷মি ৷র নিকট কোন পথনির্দেশ পাব ৷
(সুরা ১০)
এতে প্রমাণিত হয় যে, সেখানে অন্ধকার ছিল এবং তারা রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলেন ৷
অন্যত্র আল্লাহ তাআল৷ ইরশ ৷৷দ কবুরনং :
ণ্ড্রু ৷ ৷ ,;ছু মোঃ ন্ব্লুএ;প্রে ’ দ্বুা১ মোঃ ৷ ^ ; ৷ এইশু ১৷ ;’;§ খ্া৷দ্ব ১ ৷
অর্থাৎ-স্মরণ কর, সে সময়ের কথা যখন মুসা (আ) তার পবিবারবগকে ববুলছিল আমি
আগুন দেখেছি, সতৃর আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোন খবর আনব অথবা তোমাদের
জন্য আ নব জ্বলত অঙ্গার যাতে তোমরা আগুন পােহাতে পড়ার ৷ (সুরা নামল০ : ৭)
রাস্তবিকই তিনি তাদের নিকট সেখ৷ ৷ন থেকে সুসং বাদ নিয়ে এসেছিলেন, সে কী সুসং বাদ!
তিনি সেখানে উত্তম পথনির্দেশ পেয়েছিলেন, কী উত্তম পথনিবুর্দশ৷ তিনি সেখান থেকে নুর
নিয়ে এসেছিলেন, কী চমৎকার সে নুর! অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ কবুরন০ :
এে
া
অর্থাৎ-যখন মুসা (আ) আগুনের নিকট বুপীছল, তখন উপত্যকার দক্ষিণ পাবুর্শ্ব পবিত্র
ভুমিন্থিত এক বৃক্ষ হতে তাকে আহ্বান কবুর বলা হল, হে মুসা! আমিই আল্লাহ, জন্াতসমৃবুহর
প্রতিপালক ৷ (সুরা কাসাস : ৩০)
ثُمَّ قَالَ تَعَالَى: {ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ وَاللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ} [القصص: 28] . يَقُولُ: إِنَّ مُوسَى قَالَ لِصِهْرِهِ: الْأَمْرُ عَلَى مَا قُلْتَ، فَأَيُّهُمَا قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ، وَاللَّهُ عَلَى مَقَالَتِنَا سَامِعٌ وَشَاهِدٌ، وَوَكِيلٌ عَلِيَّ وَعَلَيْكَ. وَمَعَ هَذَا فَلَمْ يَقْضِ مُوسَى إِلَّا أَكْمَلَ الْأَجَلَيْنِ وَأَتَمَّهُمَا، وَهُوَ الْعَشْرُ سِنِينَ كَوَامِلَ تَامَّةً.
قَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ، عَنْ سَالِمٍ الْأَفْطَسِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: سَأَلَنِي يَهُودِيٌّ مَنْ أَهْلِ الْحِيرَةِ: أَيَّ الْأَجَلَيْنِ قَضَى مُوسَى؟ فَقُلْتُ: لَا أَدْرِي، حَتَّى أَقْدِمَ عَلَى حَبْرِ الْعَرَبِ فَأَسْأَلَهُ. فَقَدِمْتُ، فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: قَضَى أَكْثَرَهُمَا وَأَطْيَبَهُمَا، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ إِذَا قَالَ فَعَلَ. تَفَرَّدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَقَدْ رَوَاهُ النَّسَائِيُّ فِي حَدِيثِ الْفُتُونِ، كَمَا سَيَأْتِي مِنْ طَرِيقِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ بِهِ. وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الطُّوسِيِّ، وَابْنِ أَبِي حَاتِمٍ عَنْ أَبِيهِ، كِلَاهُمَا عَنِ الْحُمَيْدِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «سَأَلْتُ جِبْرِيلَ: أَيَّ الْأَجَلَيْنِ قَضَى مُوسَى؟ قَالَ: أَتَمَّهُمَا وَأَكْمَلَهُمَا» وَإِبْرَاهِيمُ هَذَا غَيْرُ مَعْرُوفٍ إِلَّا
পৃষ্ঠা - ৫৬৭
অন্যত্র আল্লাহ তাআ লা ইরশ ৷ড়াদ করেন :
এ৷ ৷ গ্লুৰুা১ট্রু ৷ৰু;াপ্রু; ;,; টু,এে ৷ গো ;, ,দ্বুন্ট্রু ;, ৷ ;; ; ৰুঙ্ এে
অর্থাৎ-অতঃপর সে যখন র্তার নিকট আসল তখন ঘোষিত হল, ধন্য যারা রয়েছে এ
আলোর মধ্যে এবং যারা রয়েছে তার চতুষ্পার্শে, জগতসমুহের প্ৰতিপালক আল্লাহ পবিত্র ও
মহিমাম্বিত ৷ (সুরা সালে,, : ৮)
অর্থাৎ যিনি যা ইচ্ছা তা করেন এবং যা ইচ্ছা নির্দেশ করেন ৷ এরপর আল্লাহ তা জানা
বলেন হে মুসা৷ আমি তো আল্লাহ্
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় ৷
সুরা তা-হায় আল্লাহ তাআ লা ইরশাদ করেন :
ন্ৰুাটু^৷ ৷১ শুাদ্বু ৷ মোঃ ৫া র্মুাপৃদ্বু ৷১ ৷ ৷ প্রুএঙুদ্বু ঙ্ ঙ্প্লুহ্র১ ৷র্চুষ্াষ্ট্র
é
র্দুাশুএ এা১৷ <ব্রে ৷ ৷র্দু৷ ^;১৷ ১দ্বু ট্রু র্চু ৷ ছুপ্রুএে এ্যাদ্বু,র্দু১৷ ৷র্চুাদ্বু হেশু ’ ) ট্টট্রু৷ ৷
র্চেস্পো
অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসল তখল আহ্বান করে বলা হল, হে মুসা আমিই
তোমার প্রতিপালক ৷ অতএব তোমার পাদুক৷ খুলে ফেল, কারণ তুমি পবিত্র তৃওয়৷ উপত্যকায়
রয়েছ ৷ এবং আমিও” তামাকে মনোনীত করেছি ৷ অতএব, যা ওহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা
মনোযোগের সাথে শুন ! আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কো ন ইলা হ নেই ৷ অতএব, আমার ইবাদত
কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর ৷ কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী , আমি এটা গোপন রাখতে
চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে ৷ সুতরাং, যে ব্যক্তি কিয়ামতে
বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে এটাতে বিশ্বাস স্থাপনে নিবৃত্ত
না করে, নিবৃত্ত হলেতু মি ধ্বং স হয়ে যাবে ৷ (সুরা তা ১ ১ ১৬)
প্রাচীন যুগের ও পরবডীকাি ৷লের একাধিক মুফাসসির বলেন, মুসা (আ) যে আগুন দেখলেন
তার কাছে পৌছতে তিনি মনস্থ করলেন ৷ সেখানে পৌছে সবুজ কাটা গাছে আগুনের লেলিহান
শিখ৷ দেখতে পেলেন ৷ এ আগুনের মধ্যকার সবকিছু দাউ দাউ করে জ্বলছে অথচ গাছের
শ্যামলিমা ক্রমেই বেড়ে চলেছিল ৷ অবাক হয়েও তিনি র্দাড়িয়ে রইলেন ৷ আর এই গাছটি ছিল
পশ্চিমদিকের পাহাড়ে তার ডানদিকে ৷ যেমন আল্লাহত ৩াআল৷ ইরশাদ করেন :
র্তু০ঠু
بِهَذَا الْحَدِيثِ. وَقَدْ رَوَاهُ الْبَزَّارُ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ أَبَانٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَعْيَنَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَهُ. وَقَدْ رَوَاهُ سُنَيْدٌ عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُرْسَلًا، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ جِبْرِيلَ، فَسَأَلَ جِبْرِيلُ إِسْرَافِيلَ، فَسَأَلَ إِسْرَافِيلُ الرَّبَّ، عَزَّ وَجَلَّ، فَقَالَ: أَبَرَّهُمَا وَأَوْفَاهُمَا» وَبِنَحْوِهِ رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ مِنْ حَدِيثِ يُوسُفَ بْنِ سَرْجٍ مُرْسَلًا. وَرَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ مِنْ طَرِيقِ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ: أَيَّ الْأَجَلَيْنِ قَضَى مُوسَى؟ قَالَ: أَوْفَاهُمَا وَأَتَمَّهُمَا» . وَقَدْ رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، مِنْ حَدِيثِ عُوَيْدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنَيِّ - وَهُوَ ضَعِيفٌ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سُئِلَ: أَيَّ الْأَجَلَيْنِ قَضَى مُوسَى؟ قَالَ: أَوْفَاهُمَا وَأَبَرَّهُمَا» . قَالَ: «وَإِنْ سُئِلَ: أَيَّ الْمَرْأَتَيْنِ تَزَوَّجَ؟ فَقُلِ: الصُّغْرَى مِنْهُمَا» وَقَدْ رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ النُّدَّرِ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ مُوسَى آجَرَ نَفْسَهُ بِعِفَّةِ فَرْجِهِ وَطَعَامِ
পৃষ্ঠা - ৫৬৮
মুসাকে যখন আমি বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি
প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না ৷ (সুরা কাসাস৪ ৪৪)
মুসা (আ) যে উপত্যকায় ছিলেন তার নাম হচ্ছে ভুওয়৷ ৷ মুসা (আ) কিবলার দিকে মুখ
করে দীড়িয়েছিলেন ৷ আর এই গাছটি ছিল পশ্চিম পার্শে তার ডানদিকে ৷ সেখানে অবস্থিত
ভুওয়৷ নামক পবিত্র উপত্যকায় তার প্রতিপালক তাকে আহ্বান করলেন ৷ প্রথমত তিনি তাকে
ঐ পবিত্র স্থানটির সম্মানার্থে পাদুক৷ খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং বিশেষ করে ঐ পবিত্র
রাতের সম্মানার্থে ৷
কিতাবীদের মতে, মুসা (আ) এই নুভ্রুররুতীব্রতার কারণে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ার ভয়ে
ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে নিজের চেহারার উপর হাত রাখলেন ৷ অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে
সম্বোধন করে বলেন, নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, জগতসমুহের প্রতিপালক ৷ ’
ইরশাদ হচ্ছে :
^;র্দুা
অর্থাৎ আমি জগত তসমুহের প্রতিপা ৷,লক বিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ যেই ৷ শুধু তার
জন্যেই ইবাদত ও সালাত নির্ধারিত , অন্য কেউ এর যোগ্য নয় ৷ আর আমার স্মরণে সালাত
কায়েম কর ৷ ’ অতঃপর তিনি সংবাদ দেন যে , এই পৃথিবী স্থায়ী বাসস্থান নয় বরং স্থায়ী বাসস্থান
হচ্ছে কিয়ামত দিবসের পরের বাসস্থান যার অস্তিতু ও স্থায়িতৃ অবশন্তোবী, যাতে প্রত্যেকে নিজ
নিজ আমল অনুসারে ভাল ও মন্দ কর্মফল ভোগ করতে পারে ৷ এই আঘাতের মাধ্যমে উক্ত
বাসস্থান লাভের জন্য আমল করার এবং মাওলার নাফরমান ও প্রবৃত্তির পুজারী এবং অৰিশ্বাসী
বান্দাদের থেকে দুরে থাকার জন্যে মুসা (আ)-কে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে ৷ অতঃপর তাকে
সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান ৷ যিনি কোন বস্তুর
সৃষ্টির পুর্বে নির্দেশ দেন হয়ে য়াও তখন তা হয়ে যায় ৷
অন্য আয়াতে আল্পাহ্ ইরশাদ করেন :
#
ছা ৷ এ্াগ্ শুা;
া
fl;
অর্থাৎ “হে মুসা! তোমার ডান হাতে এটা কী? অর্থাৎ এটা কি তে ৷মার লাঠি নয়, তোমার
কাছে আসার পর থেকে যা তোমার পরিচিত?’ তিনি বললেন, এটা আমার লাঠি যা আমি সম্যক
চিনি, এটাতে আমি ভর দেই এবং এটা দ্বারা আঘাত করে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের
পাতা ঝরিয়ে থাকি ৷ আর এটা আমার অন্যান্য কাজেও লাগে ৷’ আল্লাহ তাআলা বললেন, হে
মুসা! তুমি এটা নিক্ষেপ কর ৷ ’ অতঃপর তিনি এটা নিক্ষেপ করলেন, সঙ্গে সঙ্গে এটা সাপ হয়ে
ছুটতে লাগল ৷ ”
এটা একটি বিরাট অলৌকিক ব্যাপার এবং একটি অকাট্য প্রমাণ যে, যিনি মুসা (আ ) এর
সাথে কথা বলেছেন, তিনি যখন কো ন বস্তু সৃষ্টির পুর্বে বলেন $§ (হয়ে যাও) তখন তা হয়ে
যায়’ ৷ তিনি৩ ৷র ৷ইচ্ছা মুতাবিক কা জ আঞ্জাম দিয়ে থাকেন ৷
بَطْنِهِ. فَلَمَّا وَفَّى الْأَجَلَ. قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيَّ الْأَجَلَيْنِ؟ قَالَ: أَبَرَّهُمَا وَأَوْفَاهُمَا، فَلَمَّا أَرَادَ فِرَاقَ شُعَيْبٍ، أَمَرَ امْرَأَتَهُ أَنْ تَسْأَلَ أَبَاهَا أَنْ يُعْطِيَهَا مِنْ غَنَمِهِ مَا يَعِيشُونَ بِهِ، فَأَعْطَاهَا مَا وَلَدَتْ غَنَمُهُ مِنْ قَالِبِ لَوْنٍ مِنْ وَلَدِ ذَلِكَ الْعَامِ، وَكَانَتْ غَنَمُهُ سُودًا حِسَانًا، فَانْطَلَقَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، إِلَى عَصًا قَسَمَهَا مِنْ طَرَفِهَا، ثُمَّ وَضَعَهَا فِي أَدْنَى الْحَوْضِ، ثُمَّ أَوْرَدَهَا فَسَقَاهَا، وَوَقَفَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِإِزَاءِ الْحَوْضِ، فَلَمْ تَصْدُرْ مِنْهَا شَاةٌ إِلَّا ضَرَبَ جَنْبَهَا شَاةً شَاةً قَالَ: فَأَتْأَمَتْ وَأَثْلَثَتْ وَوَضَعَتْ كُلُّهَا قَوَالِبَ أَلْوَانٍ، إِلَّا شَاةً أَوْ شَاتَيْنِ; لَيْسَ فِيهَا فَشُوشٌ، وَلَا ضَبُوبٌ، وَلَا عَزُوزٌ، وَلَا ثَعُولٌ، وَلَا كَمْشَةٌ تَفُوتُ الْكَفَّ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوِ افْتَتَحْتُمُ الشَّامَ وَجَدْتُمْ بَقَايَا تِلْكَ الْغَنَمِ، وَهِيَ السَّامِرِيَّةُ» قَالَ ابْنُ لَهِيعَةَ: الْفَشُوشُ: وَاسِعَةُ الشَّخْبِ. وَالضَّبُوبُ: طَوِيلَةُ الضَّرْعِ تَجُرُّهُ. وَالْعَزُوزُ: ضَيِّقَةُ الشَّخْبِ. وَالثَّعُولُ: الصَّغِيرَةُ الضَّرْعِ كَالْحَلَمَتَيْنِ. وَالْكَمْشَةُ الَّتِي لَا يُحْكَمُ الْكَفُّ عَلَى ضَرْعِهَا لِصِغَرِهِ. وَفِي صِحَّةِ رَفْعِ هَذَا الْحَدِيثِ نَظَرٌ، وَقَدْ يَكُونُ مَوْقُوفًا، كَمَا قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: لَمَّا دَعَا نَبِيُّ اللَّهِ مُوسَى صَاحِبَهُ إِلَى الْأَجَلِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمَا، قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ: كُلُّ شَاةٍ وَلَدَتْ عَلَى لَوْنِهَا فَلَكَ وَلَدُهَا. فَعَمَدَ فَوَضَعَ خَيَالًا عَلَى الْمَاءِ، فَلَمَّا رَأَتِ الْخَيَالَ فَزِعَتْ، فَجَالَتْ جَوْلَةً، فَوَلَدْنَ كُلُّهُنَّ بُلْقًا إِلَّا شَاةً وَاحِدَةً،
পৃষ্ঠা - ৫৬৯
কিতাবীদের মতে, মিসরীয়দের মুসা (আ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার আশঙ্কা থাকায় তার
সত্যতা প্রমাণের জন্যে মুসা (আ) আপন প্রতিপালকের কাছে কোন প্রমাণ প্রার্থনা করেন ৷ তখন
মহান প্রতিপালক তাকে বললেন তােমার হাতে এটা কী?’ তিনি বললেন, এটা আমার
লাঠি ৷ আল্লাহ৩ তা আলা বললেন, এটাকে ভুমিতে নিক্ষেপ কর ৷’ অতঃপর তিনি এটাকে
নিক্ষেপ করলেন, সঙ্গে সঙ্গে এটা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল ৷ মুসা (আ) এটার সম্মুখ
থেকে পলায়ন করেন ৷ তখন মহান প্ৰতিপালক তাকে হাত বাড়াতে এবং এটার লেজে ধরতে
নির্দেশ দিলেন ৷ যখন তিনি এটাকে মযবুত করে ধরলেন তার হাতে সেটা পুর্বের মত লাঠি হয়ে
গেল ৷
সুরা কাসাসের (৩১) আয়াতে আল্লাহ তা জানা ইরশাদ করেন :
“ প্ন্এপ্রু;র্দুধ্এপ্রুষ্াএর্দুধ্র্দু’র্দুহুর্দুৰুক্ট্রম্এো
র্তৃ
অর্থাৎ-আরও বলা হল, ভুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ কর অতঃপর যখন সে এটাকে
সাপের মত ছুটাছুটি করতে দেখল তখন সে পিছনের দিকে ছুটতে লাগল এবং ফিরে তাকাল
না ৷ ’ অর্থাৎ লাঠিটি একটি বড় ভয়ংকর র্দাত বিশিষ্ট অজগরে পরিণত হল ৷ আবার এটা সাপের
মত দ্রুত ছুটাছুটি করতে লাগল, আয়াত্তে উল্লেখিত ;,হু শব্দটি ;,চু রুপেও ব্যবহৃত হয়ে
থাকে ৷ এটা খুবই সুক্ষ্ম জ্যি অতি চঞ্চল ও দ্রুতগতিসস্পন্ন ৷ কাজেই এটার মধ্যে স্থুলতা ও তীব্র
গতি লক্ষ্য করে মুসা (আ) পিছনে ছুটতে লাগলেন ৷ কেননা, মানবিক প্রকৃতিতে তিনি প্রকৃতস্থু
এবং মানবিক প্রকৃতিও তা ই চায় ৷ তিনি আর কোন দিকে দেখলেন না ৷ তখন তার প্রতিপালক
তাকে আহ্বান করলেন, হে মুসা! সামনে অগ্রসর হও, তুমি ভয় করবে না, তুমি নিরাপদ’ ৷
যখন মুসা (আ) ফিরে আসলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে সাপটি ধরার জন্যে নির্দেশ
দিলেন ৷ বললেন, “এটাকে ধর, ভয় করে৷ না, এটাকে আমি পুর্বাবন্থায় ফিরিয়ে দেব ৷ ’ কথিত
আছে, মুসা (আ) অত্যন্ত ভয় পেয়েছিলেন তাই তিনি পশমের কাপড়ের আস্তিনে নিজের হাত
রাখলেন ৷ অতঃপর নিজের হাত সাপের মুখে রাখলেন ৷ কিতাবীদের মতে, সাপের লেজে হাত
রেখেছিলেন, যখন তিনি এটাকে মজবুত করে ধরলেন, তখন এটা পুর্বের অবস্থায় ফিরে আসল
এবং দুই শাখাবিশিষ্ট পুর্বেকার লাঠিতে পরিণত হল ৷ সুতরাং মহাশক্তিশালী এবং দুই উদয়াচল
ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা পাক পবিত্র ৷ অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার হাত তার বগলে রাখার
নির্দেশ দিলেন ৷ এর পর তা বের করতে হুকুম দিলেন ৷ অকস্মাৎ তা চাদের মত শুভ্র-সমুজ্জ্বল
হয়ে চক্ চক্ করতে লাগল ৷ অথচ এটা কোন রোগের কারণ নয়, এটা শ্বেত রোগের কারণে
নয় বা অন্য কোন চর্মরোগের কারণেও নয় ৷
এজন্য আল্লাহ তা জানা এর পরের আয়াতে ইরশাদ করেন :
অর্থাৎ-তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, এটা বের হয়ে আসবে শুভ্র-সমুজ্জ্বল নির্দোষ
হয়ে ৷ ভয় দুর করার জন্যে তোমার হাত দুটি নিজের দিকে চেপে ধর ৷ (সুরা কাসাস : ৩২)
অলে-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খনীিপ্প্ঙুক্ট্রাজােণ্ডা২া০ণ্০প্নে
فَذَهَبَ بِأَوْلَادِهِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ. وَهَذَا إِسْنَادٌ رِجَالُهُ ثِقَاتٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَدْ تَقَدَّمَ، عَنْ نَقْلِ أَهْلِ الْكِتَابِ، عَنْ يَعْقُوبَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، حِينَ فَارَقَ خَالَهُ لَابَانَ، أَنَّهُ أَطْلَقَ لَهُ مَا يُوَلَدُ مِنْ غَنَمِهِ بُلْقًا، فَفَعَلَ نَحْوَ مَا ذُكِرَ عَنْ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَاللَّهُ أَعْلَمُ.
{فَلَمَّا قَضَى مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِنْ جَانِبٍ الطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ - فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِنْ شَاطِئِ الْوَادِي الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَنْ يَا مُوسَى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُ الْعَالَمِينَ - وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ يَا مُوسَى أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ - اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِنْ رَبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ} [القصص: 29 - 32]
[الْقَصَصِ: 29 - 32] . تَقَدَّمَ أَنَّ مُوسَى قَضَى أَتَمَّ الْأَجَلَيْنِ وَأَكْمَلَهُمَا، وَقَدْ يُؤْخَذُ هَذَا مِنْ قَوْلِهِ: {فَلَمَّا قَضَى مُوسَى الْأَجَلَ} [القصص: 29] وَعَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّهُ أَكْمَلَ عَشْرًا، وَعَشْرًا بَعْدَهَا. وَقَوْلُهُ: وَسَارَ بِأَهْلِهِ أَيْ; مِنْ عِنْدِ صِهْرِهِ ذَاهِبًا، فِيمَا ذَكَرَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ وَغَيْرِهِمْ، أَنَّهُ اشْتَاقَ إِلَى أَهْلِهِ، فَقَصَدَ زِيَارَتَهُمْ بِبِلَادِ مِصْرَ، فِي صُورَةِ مُخْتَفٍ، فَلَمَّا سَارَ بِأَهْلِهِ، وَمَعَهُ وِلْدَانٌ مِنْهُمْ، وَغَنَمٌ قَدِ اسْتَفَادَهَا مُدَّةَ مُقَامِهِ. قَالُوا: وَاتَّفَقَ ذَلِكَ فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ بَارِدَةٍ، وَتَاهُوا فِي طَرِيقِهِمْ، فَلَمْ يَهْتَدُوا إِلَى
পৃষ্ঠা - ৫৭০
কেউ কেউ বলেন, এ আঘাতের অর্থ হচ্ছে, যখন তোমার ভয় করবে তোমার হাত তোমার
হৃৎপিণ্ডের উপর রাখবে, তাহলে প্ৰশান্তি লাভ করবে ৷ এ আমলটা যদিও বিশেষভাবে তার
জনােই ছিল কিভু এটার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে তাতে যে বরকত হবে তা যথার্থ ৷ কেননা,
যে ব্যক্তি নবীদের অনুসরণের নিয়তে এটা আমল করবে সে উপকার পাবে ৷
আল্লাহ তাআলা সুরায়ে নামলে ইরশাদ করেনং :
অর্থাৎ এবং তোমার হাত তোমার বগলে রাখ ৷ এটা বের হয়ে আসবে শুভ্র নির্মল
অবস্থায় ৷ এটা ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের নিকট আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্তর্গত ৷ তারা
তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায় ৷ (সুরা নড়ামৃল : ১২)
অন্য কথায় লাঠি ও হাত দৃটো নিদর্শন যেগুলোর দিকে ই ত করে আল্লাহ তাআলা
সুরায়ে কাসাসে ইরশাদ করেনং
র্ড
অর্থাৎ “এই দুটি তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত প্রমাণ, ফিরআউন ও তার পারিষদবর্পের
জন্যে ৷ ওরা তো ছিল সত্যত্যাপী সম্প্রদায় ৷” (২৮৪ ৩২) এ দু টিব সাথে রয়েছে আরো
সাতটি ৷৩ তাহলে মোট হবে নয়টি নিদর্শন ৷
সুরায়ে বনী ইসরাঈলের আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন০
(
া,^ট্রু;^;র্দু; ট্রু,টু£ঠু;ৰুা; র্চুা;ৰু;১৷ ^ ; ৷দ্বু পুরু:ার্বু;; ওে ,১( ; স্পো ৷ ’ ” ৰুা৷ ব্লুর্বুাট্রু,ণ্>
অর্থাৎ-তু মি বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞাসা করে দেখ আমি মুসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন
দিয়েছিলাম ৷ যখন সে৩ তাদের নিকট এসেছিল, ফিরআউন তাকে বলেছিল, হে মুসা ৷৷ আমি মনে
করি, তুমি তো জাদৃগ্রস্ত ৷ মুসা বলেছিল, তৃমি অবশ্যই অবগত আছ যে, এই সমস্ত স্পষ্ট
নিদর্শন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালকই অবতীর্ণ করেছেন প্রত্যক্ষ প্ৰমাণস্বরুপ ৷ (হ
ফিরআউন! আমি তো দেখছি৫ তামার ধ্বংস আসন্ন ৷ (সুরা বনী ইসরাঈলং ১০১ ১০২)
এই ঘটনা সুরায়ে আরাফের আয়াতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে ৷ আল্লাহ্ তা জানা ইরশাদ
গ্র ষ্)দ্বু১ৰুা
”(fl
السُّلُوكِ فِي الدَّرْبِ الْمَأْلُوفِ، وَجَعَلَ يُورِي زِنَادَهُ فَلَا يُوْرِي شَيْئًا، وَاشْتَدَّ الظَّلَامُ وَالْبَرَدُ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَبْصَرَ عَنْ بُعْدٍ نَارًا تَأَجَّجُ فِي جَانِبِ الطُّورِ، وَهُوَ الْجَبَلُ الْغَرْبِيُّ مِنْهُ عَنْ يَمِينِهِ، فَقَالَ لِأَهْلِهِ: {امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا} [القصص: 29] وَكَأَنَّهُ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - رَآهَا دُونَهُمْ; لِأَنَّ هَذِهِ النَّارَ هِيَ نُورٌ فِي الْحَقِيقَةِ، وَلَا تَصْلُحُ رُؤْيَتُهَا لِكُلِّ أَحَدٍ {لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ} [القصص: 29] أَيْ; لَعَلِّي أَسْتَعْلِمُ مِنْ عِنْدِهَا عَنِ الطَّرِيقِ {أَوْ جَذْوَةٍ مِنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ} [القصص: 29] فَدَلَّ عَلَى أَنَّهُمْ كَانُوا قَدْ تَاهُوا عَنِ الطَّرِيقِ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ وَمُظْلِمَةٍ; لِقَوْلِهِ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَى - إِذْ رَأَى نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى} [طه: 9 - 10]
[طه: 9، 10] . فَدَلَّ عَلَى وُجُودِ الظَّلَامِ، وَكَوْنِهِمْ تَاهُوا عَنِ الطَّرِيقِ.
وَجَمَعَ الْكُلَّ فِي سُورَةِ " النَّمْلِ " فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: إِذْ {قَالَ مُوسَى لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ نَارًا سَآتِيكُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ آتِيكُمْ بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ} [النمل: 7] . وَقَدْ أَتَاهُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ، وَأَيُّ خَبَرٍ؟ وَوَجَدَ عِنْدَهَا هُدًى، وَأَيُّ هُدًى؟ وَاقْتَبَسَ مِنْهَا نُورًا، وَأَيُّ نُورٍ؟ . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِنْ شَاطِئِ الْوَادِي الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَنْ يَا مُوسَى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [القصص: 30] وَقَالَ تَعَالَى فِي " النَّمْلِ ": {فَلَمَّا جَاءَهَا نُودِيَ أَنْ بُورِكَ مَنْ فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [النمل: 8] .
পৃষ্ঠা - ৫৭১
অর্থাৎ আমি তো ফিরআউনের অনুসারীদেরকে দুর্তিক্ষ ও ফল ফসলের ক্ষতি দ্বারা আক্রান্ত
করেছি যাতে তারা অনুধাবন করে ৷ যখন তাদের কোন কল্যাণ হত তারা বলত , এটা আমাদের
প্রাপ্য আর যখন তাদের কোন অকল্যাণ হত তখন তারা মুসা ও তার সঙ্গীদেরকে অলক্ষুণে গণ্য
করত; শোন, তাদের অকল্যাণ আল্লাহর নিয়স্ত্রণাধীন, কিন্তু তাদের অধিকাৎশ এটা জানে না ৷
তারা বলল, আমাদেরকে জাদু করবার জন্য তুমি যে কোন নিদর্শন আমাদের নিকট পেশ কর না
কেন, আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না ৷ অতঃপর আমি তাদেরকে প্নাবন পঙ্গপাল, উকুন ও
রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি ৷ এগুলো স্পষ্ট নিদর্শন কিন্তু তারা দাম্বিকই রয়ে গেল, আর তারা ছিল এক
অপরাধী সম্প্রদায় ৷ (সুরা আরাফ৪ ১৩০ ১৩৩)
এ সম্বন্ধে যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ৷ এ নয়টি হল এমন নিদর্শন বা অন্য
দশটি নিদর্শনের থেকে ভিন্ন ৷ এ নয়টি নিদর্শন হল আল্লাহ তা আসার কুদরত সম্পর্কীয় আর
অন্য দশটি নিদর্শন আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়ত বিষয়ক তার বাণী সম্পর্কীয় ৷ এ সম্বন্ধে এখানে এজন্য
উয়েখকরে দেয়৷ হল ৷ কেননা, অনেক বর্শনাকড়ারীই এ ব্যাপারে বিভ্রাস্তির শিকার হয়েছেন ৷
তারা ধারণা করে থাকেন যে, এ নয়টিই হয়ত উক্ত দশটির অন্তর্ভুক্ত ৷ সুরায়ে বনী ইসরাঈলের
শেষাৎশের তাফসীরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷ বন্তুত আল্লাহ তাআলা যখন
মুসা (আ) কে ফিরআউনের কাছে যাবার জন্যে নির্দেশ দিলেন ৷
যেমন সুরায়ে কাসাসের আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে
?
é» কু১ওট্র৮১ ট্রুণ্এঢ়ৰু
,
অর্থাৎ “মুসা (আ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক ! আমি তো তাদের একজনকে হত্যা
করেছি ৷ ফলে আমি আশংকা করছি, তারা আমাকে হত্যা করবে ৷ আমার ভাই হারুন আমার
চাইতে অধিকতর বাথী ৷ অতএব, তাকে আমার সাহায্যকারীরুপে প্রেরণ কর, সে আমাকে
সমর্থন করবে ৷ আমি আশংকা করছি, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরাবে ৷ আল্লাহ বললেন,
আমি তোমার ভাইয়ের দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করব এবং তোমাদের উভয়কে প্রাধান্য দান
করব ৷ তারা তোমাদের নিকট পৌছতে পারবে না ৷ তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা আমার
নিদর্শন বলে তাদের উপর প্রবল হবে ৷” (সুরা কাসাস ৩৩-৫৫ )
أَيْ; سُبْحَانَ اللَّهِ الَّذِي يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ وَيَحْكُمُ مَا يُرِيدُ. {يَامُوسَى إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النمل: 9] . وَقَالَ فِي سُورَةِ " طه ": {فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَى - إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِي الْمُقَدَّسِ طُوًى - وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى - إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي - إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى - فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَى} [طه: 11 - 16]
[طه: 11 - 16] . قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ، مِنَ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ: لَمَّا قَصَدَ مُوسَى إِلَى تِلْكَ النَّارِ الَّتِي رَآهَا، فَانْتَهَى إِلَيْهَا، وَجَدَهَا تَأَجَّجُ فِي شَجَرَةٍ خَضْرَاءَ مِنَ الْعَوْسَجِ، وَكُلُّ مَا لِتِلْكَ النَّارِ فِي اضْطِرَامٍ، وَكُلُّ مَا لِخُضْرَةِ تِلْكَ الشَّجَرَةِ فِي ازْدِيَادٍ، فَوَقَفَ مُتَعَجِّبًا، وَكَانَتْ تِلْكَ الشَّجَرَةُ فِي لِحْفِ جَبَلٍ غَرْبِيٍّ مِنْهُ عَنْ يَمِينِهِ; كَمَا قَالَ تَعَالَى {وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَى مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنْتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ} [القصص: 44] . وَكَانَ مُوسَى فِي وَادٍ اسْمُهُ طُوًى، فَكَانَ مُوسَى مُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةِ، وَتِلْكَ الشَّجَرَةُ عَنْ يَمِينِهِ مِنْ نَاحِيَةِ الْغَرْبِ، فَنَادَاهُ رَبُّهُ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى، فَأُمِرَ أَوَّلًا بِخَلْعِ نَعْلَيْهِ; تَعْظِيمًا وَتَكْرِيمًا وَتَوْقِيرًا لِتِلْكَ الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ، وَلَا سِيَّمَا فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ الْمُبَارَكَةِ. وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنَّهُ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى وَجْهِهِ مِنْ شِدَّةِ ذَلِكَ النُّورِ; مَهَابَةً لَهُ وَخَوْفًا عَلَى بَصَرِهِ.
পৃষ্ঠা - ৫৭২
ষ্হাসান বসরী (র) বলেন, নবীগণ ৷আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রয়োজন মাফিক দরখাস্ত
করে থাকেন ৷ এ জন্য তার জিহ্বায় তার কিছুটা প্রভাব রয়েই যায় ৷ এজন্যে ফিরআউন বলত
যে, এটা মুসা (আ)-এর একটি বড় ঘোষ এবং এ জন্য মুসা (আ) নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে
বলতে পারে না; তার মনের কথা উত্তমরুপে বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করতে পারে না ৷
া
)
া
অর্থাৎ-“আমার জন্যে করে দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য থেকে;
আমার ভাই হারুনকে; তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাকে আমার কার্যে অংশী কর ৷
যাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিম৷ ঘোষণা করতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করতে
পারি অধিক ৷ তুমি তাে আমাদের সম্যক দ্রষ্ট৷ ৷ তিনি বললেন : হে মুসা! তুমি যা চেয়েছ
তোমাকে তা দেয়৷ হল ৷” (সুরা তা-হ৷ : ২৯-৩৬)
অন্য কথায় তুমি যা কিছুর আবেদন করেছ, আমি তা মঞ্জুর করেছি এবং তুমি যা কিছু
চেয়েছ তা তোমাকে দান করেছি ৷ আর এটা হয়েছে আপন প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার
দরবারে তার বিশিষ্ট মর্যাদার কারণে ৷ তিনি তার ভাইয়ের প্রতি ওহী প্রেরণের জন্যে সুপারিশ
করার আল্লাহ তা” জানা তার প্রতি ওহী প্রেরণ করেন ৷ এটা একটা বড় মর্যাদা
যেমন সুরায়ে আহযাবে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ’ ^
অর্থাৎ-“আল্লাহর নিকট সে মর্যাদাবান ৷” (সুরা আহযাব : ৬৯)
সুরা মারয়ামের আয়াতে অল্লেৰুহ্ তাআলা ইরশাদ করেন০
,
অর্থাৎ “আমি নিজ অনুগ্রহে৩ তাকে দিলাম তার ভাই হারুনকে নবীরুপে ৷” (সুরা
মারয়াম৪ ৫৩)
একদা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (বা) এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকদের প্রশ্ন
করা শুনতে পেলেন ৷ আর তারা সকলে হজের জন্যে ভ্রমণরত ছিলেন ৷ প্রশ্নটি হলো, কোন; তাই
তার নিজের ভাইয়ের প্রতি সর্বাধিক ইহসান করেছেন ? সম্প্রদায়ের লোকেরা নীরব রইল, তখন
আয়েশা (বা) তার হাওদার পাশের লোকদের বললেন, তিনি ছিলেন মুসা (আ) ইবন ইমরান ৷
তিনি যখন আপন ভাইয়ের নবুওত প্রাপ্তির সুপারিশ করেন, তখন তা আল্লাহ তাআলার দরবারে
মঞ্জুর হয় এবং আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ওহী নাযিল করেন ৷
তাই আল্লাহ্৩ তা জানা ইরশাদ করেন০ ং
গ্রস্ট্র দ্বুত্রৈ
ثُمَّ خَاطَبَهُ تَعَالَى كَمَا يَشَاءُ قَائِلًا لَهُ: {إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُ الْعَالَمِينَ} [القصص: 30] إِنِّي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي أَيْ; أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ، الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الَّذِي لَا تَصْلُحُ الْعِبَادَةُ وَإِقَامَةُ الصَّلَاةِ إِلَّا لَهُ. ثُمَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ هَذِهِ الدُّنْيَا لَيْسَتْ بِدَارِ قَرَارٍ، إِنَّمَا الدَّارُ الْبَاقِيَةُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، الَّتِي لَا بُدَّ مِنْ كَوْنِهَا وَوُجُودِهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى أَيْ; مِنْ خَيْرٍ وَشَرٍّ. وَحَضَّهُ وَحَثَّهُ عَلَى الْعَمَلِ لَهَا وَمُجَانَبَةِ مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهَا مِمَّنْ عَصَى مَوْلَاهُ، وَاتَّبَعَ هَوَاهُ. ثُمَّ قَالَ لَهُ مُخَاطِبًا وَمُؤَانِسًا، وَمُبَيِّنًا لَهُ أَنَّهُ الْقَادِرُ عَلَى كُلِّ شَيْءِ الَّذِي يَقُولُ لِلشَّيْءِ: كُنْ. فَيَكُونُ: {وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَامُوسَى} [طه: 17] . أَيْ; أَمَّا هَذِهِ عَصَاكَ الَّتِي تَعْرِفُهَا مُنْذُ صَحِبْتَهَا؟ {قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَى غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَئارِبُ أُخْرَى} [طه: 18] . أَيْ; بَلْ هَذِهِ عَصَايَ الَّتِي أَعْرِفُهَا وَأَتَحَقَّقُهَا {قَالَ أَلْقِهَا يَامُوسَى - فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى} [طه: 19 - 20]
[طه: 19، 20] . وَهَذَا خَارِقٌ عَظِيمٌ، وَبُرْهَانٌ قَاطِعٌ عَلَى أَنَّ الَّذِي يُكَلِّمُهُ هُوَ الَّذِي يَقُولُ لِلشَّيْءِ: كُنْ فَيَكُونُ. وَأَنَّهُ الْفَعَّالُ بِالِاخْتِيَارِ.
وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنَّهُ سَأَلَ بُرْهَانًا عَلَى صِدْقِهِ عِنْدَ مَنْ يُكَذِّبُهُ مِنْ أَهْلِ مِصْرَ، فَقَالَ لَهُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: مَا هَذِهِ الَّتِي فِي يَدِكَ؟ قَالَ: عَصَايَ. قَالَ: أَلْقِهَا إِلَى الْأَرْضِ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى فَهَرَبَ مُوسَى مِنْ قُدَّامِهَا، فَأَمَرَهُ الرَّبُّ، عَزَّ وَجَلَّ، أَنْ يَبْسُطَ يَدَهُ وَيَأْخُذَهَا بِذَنَبِهَا، فَلَمَّا اسْتَمْكَنَ مِنْهَا ارْتَدَّتْ عَصًا فِي يَدِهِ. وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ} [القصص: 31]
পৃষ্ঠা - ৫৭৩
আবার আল্লাহ তাআলা সুরা শুআরায় ইরশাদ করেন :
¥
§: ’ ’ ন্ ১মোঃ ;;’ পুরুমোঃ “’¢’ এর্য ^ণ্০র্যব্লু রু>ওএে ’ ) রুান্শ্ওষ্প্ :স্হ্রঠো
এ,
া
&
অর্থাৎ “স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মুসাকে ডেকে বললেন, তৃমি জালিম
সম্প্রদায়ের নিকট যাও ফিরআউন সম্প্রদায়ের নিকট; ওরা কি ভয় করে না৷ তখন সে
বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমি আশংকা করি যে, ওরা আমাকে আীকার করবে এবং
আমার হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়বে, আর জিহ্বা তাে সচল নয় ৷ সুতরাং হারুনের প্রতিও
প্রত্যাদেশ পাঠান! আমার বিরুদ্ধে৫ তা ওদের একটি অভিযোগ রয়েছে, আমি আশংকা করি
তারা আমাকে হত্যা করবে ৷ আল্লাহ বললেন, না, কখনই নয়; অতএব, তোমরা উভয়ে আমার
নিদর্শনসহ যাও, আমি তো তোমাদের সাথে রয়েছি শ্রবণকারী ৷ অতএব, ওোমরা উভয়ে
ফিরআউনের নিকট যাও এবং বল, আমরা তাে জগত তসমুহের প্রতিপালকের রাসুল, আর
আমাদের সাথে যেতে দাও বনী ইসরাঈলকে ৷ ফিরআউন বলল, আমরা কি তোমাকে শৈশবে
আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনিঃ তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে
কাটিয়েছা তুমি তোমার কর্ম যা করবার তা করেছ, তুমি অকৃতজ্ঞ ৷’ ’(সুরা শুআরা : ১০ ১৯)
যােদ্দাকথা,ত তারা দুইজন ফিরআউনের নিকট গমন করলেন এবং তাকে উপরোক্ত কথা
বললেন ৷ আর তাদেরকে যা কিছু সহকারে প্রেরণ করা হয়েছিল তার কাছে তারা তা পেশ
করলেন ৷ তারা তাকে এক ও অদ্বিভীয় আল্লাহ্র ইবাদতের প্রতি ৩আহ্বান করলেন ৷ তারা তাকে
বনী ইসরাঈলদের তার কত র্বৃতু ও নির্যাতন থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান ৷ যাতে তারা
যেখানেই ইচ্ছে গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে, নিরংকুশভাবে আল্লাহ তা আলার একতুাীকার
করতে, আল্লাহ তাআলাকে একাগ্রচিত্তে ডাকতে এবং আপন প্রতিপালকের কাছে অনুনয় বিনয়
করে নিজেদের ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে পা বেন ৷ কিন্তু এতে ফিরআউন দান্তিকতার আশ্রয় নিল
এবং জুলুম ও সীমালং ×ঘন করল; যে মুসা (আ)-এর দিকে তাচ্ছিলাের নজরে তাকাল এব×
বলতে লাগল, তুমি কি আমাদের মাঝে বাল্যকালে লালিত-পালিত হওনি৷ আমরা কি তোমাকে
আমাদের ঘরে পুত্রের মত লালন-পালন করিনিঃ তোমার প্রতি ইহসান করিনিঃ এবং একটি
নির্দিষ্ট ঘুহ্রর্ত পর্যন্ত তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিনিঃ’ ফিরআউনের এই কথার দ্বারা বোঝা যায়, যে
ফিরআউনের কাছে মুসা (আ)-কে নবীরুপে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং যে ফিরআউন থেকে মুসা
(আ) পলায়ন করেছিলেন, যে অভিন্ন ব্যক্তি ৷ কিন্তু কিতাবীরা মনে করে, যে ফিরআউনের নিকট
أَيْ; صَارَتْ حَيَّةً عَظِيمَةً لَهَا ضَخَامَةٌ هَائِلَةٌ، وَأَنْيَابٌ تَصْطَكُّ، وَهِيَ مَعَ ذَلِكَ فِي سُرْعَةِ حَرَكَةِ الْجَانِّ، وَهُوَ ضَرْبٌ مِنَ الْحَيَّاتِ يُقَالُ لَهُ: الْجَانُّ وَالْجَنَانُ. وَهُوَ لَطِيفٌ، وَلَكِنَّهُ سَرِيعُ الِاضْطِرَابِ وَالْحَرَكَةِ جِدًّا، فَهَذِهِ جَمَعَتِ الضَّخَامَةَ وَالسُّرْعَةَ الشَّدِيدَةَ فَلَمَّا عَايَنَهَا مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَلَّى مُدَبِّرًا أَيْ; هَارِبًا مِنْهَا; لِأَنَّ طَبِيعَتَهُ الْبَشَرِيَّةَ تَقْتَضِي ذَلِكَ وَلَمْ يُعَقِّبْ أَيْ; وَلَمْ يَلْتَفِتْ فَنَادَاهُ رَبُّهُ قَائِلًا لَهُ: {يَامُوسَى أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ} [القصص: 31] فَلَمَّا رَجَعَ أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ يُمْسِكَهَا قَالَ {خُذْهَا وَلَا تَخَفْ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَى} [طه: 21] فَيُقَالُ: إِنَّهُ هَابَهَا شَدِيدًا، فَوَضَعَ يَدَهُ فِي كُمِّ مِدْرَعَتِهِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي وَسَطِ فَمِهَا - وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ: بِذَنَبِهَا - فَلَمَّا اسْتَمْكَنَ مِنْهَا، إِذَا هِيَ قَدْ عَادَتْ كَمَا كَانَتْ عَصًا ذَاتَ شُعْبَتَيْنِ. فَسُبْحَانُ الْقَدِيرِ الْعَظِيمِ رَبِّ الْمَشْرِقَيْنِ وَالْمَغْرِبَيْنِ. ثُمَّ أَمَرَهُ تَعَالَى بِإِدْخَالِ يَدِهِ فِي جَيْبِهِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِنَزْعِهَا فَإِذَا هِيَ تَتَلَأْلَأُ كَالْقَمَرِ بَيَاضًا مِنْ غَيْرِ سُوءٍ أَيْ; مِنْ غَيْرِ بَرَصٍ وَلَا بَهَقٍ. وَلِهَذَا قَالَ: {اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ} [القصص: 32] قِيلَ: مَعْنَاهُ إِذَا خِفْتَ فَضَعْ يَدَكَ عَلَى فُؤَادِكَ يَسْكُنْ جَأْشُكَ. وَهَذَا وَإِنْ كَانَ خَاصًّا بِهِ، إِلَّا أَنَّ بِبَرَكَةِ الْإِيمَانِ بِهِ حَقَّ الْإِيمَانِ يَنْتَفِعُ مَنِ اسْتَعْمَلَ ذَلِكَ عَلَى وَجْهِ الِاقْتِدَاءِ بِالْأَنْبِيَاءِ. وَقَالَ فِي سُورَةِ " النَّمْلِ ": {وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَى فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ} [النمل: 12] .
পৃষ্ঠা - ৫৭৪
থেকে মুসা (আ) পলায়ন করেছিলেন তিনি মাদায়ানে অবস্থান কালেই সে মারা গিয়েছিল ৷ আর
যে ফিরআউনের কাছে মুসা (আ) কে নবীরুপে র্চুপ্ররণ করা হয়েছিল, সে ছিল অন্য লোক ৷
আয়াতাংশ র্চু, ,১া< ৷ ধ্ ; ৷ § র্দুহুৰু১ ;;fl’ ৷ মোঃ এ্যাদ্বু এর অর্থ হচ্ছে তুমি
কিবতী লোকটিকে হত্যা করেছ; আমাদের থেকে পলায়ন করেছ এবং আমাদের অনুগ্নহের প্ৰতি
অস্বীকৃতি জানিয়েছ ৷
মুসা (আ) প্রতি উত্তরে বলেন০ ং
অর্থাৎ মুসা বললেন, আমি তো এটা করেছিলাম তখন যখন আমি ছিলাম অজ্ঞ ৷’ অন্য
কথায়, আমার কাছে ওহী অবতীর্ণ হবার পুর্বে আমি এটা করেছিলাম ৷ অতঃপর আমি যখন
তোমাদের ভয়ে ভীত ছিলাম, তখন আমি তোমাদের নিকট হতে পলায়ন করলাম ৷ তারপর
আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞানদান করেছেন এবং আমাকে রাসুলরুপে মনোনীত করেছেন ৷
(২৬ : ১৯-২১) মুসা (আ)-এর প্রতি ফিরআউনের লালন-পালন ও অনুগ্রহ করার উল্লেখের
জব ৷বে মুসা (আ) বলেনং :
>
অর্থাৎ আমার প্রতি তোমার যে অনৃগ্নহের কথা উল্লেখ করছত তা তাে এই যে, তুমি বনী
ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ ৷ তুমি যে উল্লেখ করেছ, তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ
অথচ আমি বনী ইসরাঈলের একজন; আর এর পরিবর্তে তুমি একটা গোটা সম্প্রদায়কে
সম্পুর্ণরুপে আপন কাজে নিযুক্ত রেখেছ এবং তাদেরকে তোমার থেদমত করার কাজে দাসে
পরিণত করে রেখেছ ৷ ফিরআউন বলল, জগতসমুহের প্রতিপালক আবার কী?’ মুসা বলল,
তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্ৰতিপালক, যদি তোমরা
নিশ্চিত বিশ্বাসী হও ৷’ ফিরআউন তার পারিষদবর্পকে লক্ষ্য করে বলল, ভোমরা শুনছ তাে?
মুসা বলল, তিনি ওে আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পুর্ব পুরুষগণেরও প্রতিপালক ৷
ফিরআউন বলল, তােমাদের প্ৰতি প্রেরিত তোমাদের রাসুলঢি তো নিশ্চয়ই পাগল ৷’ মুসা
বলল, তিনি পুর্ব-পশ্চিমেব এবং এদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক যদি তোমরা বুঝতে ৷
(সুরা শুআরা : ২২-২৮)
ফিরআউন ও মুসা (আ)-এর মধ্যে যে সব কথোপকথন, যুক্তিতর্কেব অবতারণা ও
বাদ-প্রতিবাদ হয়েছিল এবং মুসা (আ) দুশ্চবিত্র ফিরআউনের বিরুদ্ধে যেসব বুদ্ধিবৃত্তিক ও
أَيْ; هَاتَانِ الْآيَتَانِ وَهُمَا الْعَصَا وَالْيَدُ، وَهُمَا الْبُرْهَانَانِ الْمُشَارُ إِلَيْهِمَا فِي قَوْلِهِ: {فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِنْ رَبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ} [القصص: 32] وَمَعَ ذَلِكَ سَبْعُ آيَاتٍ أُخَرُ فَذَلِكَ تِسْعُ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَهِيَ الْمَذْكُورَةُ فِي آخِرِ سُورَةِ " سُبْحَانَ " حَيْثُ يَقُولُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَى مَسْحُورًا - قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا} [الإسراء: 101 - 102]
[الْإِسْرَاءِ: 101، 102] . وَهِيَ الْمَبْسُوطَةُ فِي سُورَةِ " الْأَعْرَافِ " فِي قَوْلِهِ: {وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ - فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ - وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ - فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ} [الأعراف: 130 - 133]
[الْأَعْرَافِ: 130 - 133] . كَمَا سَيَأْتِي الْكَلَامُ عَلَى ذَلِكَ فِي مَوْضِعِهِ. وَهَذِهِ التِّسْعُ الْآيَاتِ غَيْرُ الْعَشْرِ كَلِمَاتٍ; فَإِنَّ التِّسْعَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ الْقَدَرِيَّةِ، وَالْعَشْرَ مِنْ كَلِمَاتِهِ الشَّرْعِيَّةِ. وَإِنَّمَا نَبَّهْنَا عَلَى هَذَا; لِأَنَّهُ قَدِ اشْتَبَهَ أَمْرُهَا عَلَى بَعْضِ الرُّوَاةِ فَظَنَّ أَنَّ هَذِهِ هِيَ هَذِهِ، كَمَا قَرَّرْنَا ذَلِكَ فِي تَفْسِيرِ آخِرِ سُورَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ.
পৃষ্ঠা - ৫৭৫
দৃষ্টিগ্নাহ্য যুক্তি-প্রমাণের অবতারণা করছিলেন; আল্লাহ তাআলা তার উল্লেখ করেছেন এভাবে
যে, ফিরআউন মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করেছিল এবং দাবি করেছিল যে,
সে নিজেই মড়াবুদ ও উপাস্য ৷ এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআল৷ ইরশাদ করেন :
অর্থাৎ যে সকলকে সমবেত করল এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করল, আমিই তোমাদের
শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ৷ ’ (সুরা নাযিআত : ২৩-২৪ )
অন্যত্র ইরশাদ করেছেন :
০;০^০গ্লু ;এান্ষ্ ^ ’ থ্রেশ্ন্ শুশু এ১ৰুএ “ র্দ্রত্রুাও :হুমোঃ মোঃ;
অর্থাৎ-“ফিরআউন বলল, হে পারিষদবর্গ! আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ আছে
বলে আমি জানি না ৷” (সুরা বানান ও ৩৮) উপরোক্ত বক্তব্য উচ্চারণকড়ালে সে জেনে-শুনেই
পােয়ার্তৃমি করেছে, কেননা সে সমকে জানতাে যে, সে নেহাত একটি দাস, আর আল্লাহই
হচ্ছেন সৃজনকর্তা, উদ্ভাবন কর্তা, রুপদাতা, প্রকৃত উপাস্য ৷
যেমন আল্লাহ তা জানা ইরশাদ করেন০
অর্থাৎ “তারা অন্যায় ও উদ্ধতভ৷ ৷বে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করল যদিও তাদের অন্তর
এগুলোকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল ৷ দেখ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কি হয়েছিল?” (সুরা
নায্ল ও ১ : )
এজন্যেই সে মুসা (আ) এর রিসা ৷লাতকে অস্বীকার করতে গিয়ে এবং একথা প্রকাশ করতে
গিয়ে মুসা (আ) কে যে রিসালাত প্রদানকারী কোন প্রতিপালকই নেই-সে বলেছিল, ০ঠু
এেএ ৷£প্র ! ঠুঅর্থাৎ জগতসমুহের প্রতিপালক আবার কে? কেননা, তারা দৃ জন মুসা (অ )
ও হারুন (আ) তাকে বলেছিলেন, ক্রোষ্ত্র ! ণ্ডেএদ্বু অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমরা
জগতসমুহের প্রতিপালকের প্রেরিত রাসুল ৷’ (সুরা শু আরা০ ১৬) যেন তাদের দৃজনকে
বলছিল, তোমরা ধারণা করছ যে, জগতসমুহের প্রতিপালক তােমাদেরকে প্রেরণ
করেছেন এরুপ প্রতিপালক আবার কে? জবাবে মুসা (আ) বলেছিলেন ৷ যেমন আল্লাহ্
তাআল৷ ইরশাদ করেছেন০ ং
ণ্গ্ fl’
ন্এএে শুট্ট০
অর্থাৎ জগতসমুহের প্রতিপা ৷লক এসব দৃশ্যমান আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এবং এগুলোর
মধ্যে যেসব সৃষ্টি বিদ্যমান রয়েছে যেমন মেঘ, বাতাস, বৃষ্টি, তৃণলত৷ , জীব-জন্তু ইত্যাদির সৃজন
কর্তা ৷ প্রতিটি বিশ্বাসী লোক জানে যে, এগুলি নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি, এদের একজন সৃষ্টিকর্তা
অবশ্যই আছেন আর তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ তাআলা; তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই;
তিনিই জগতসমুহের প্রতিপালক ৷ ফিরআউন তার আশে-পাশে উপবিষ্ট উজির-নাজির ও
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ لَمَّا أَمَرَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِالذَّهَابِ إِلَى فِرْعَوْنَ {قَالَ رَبِّ إِنِّي قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ - وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ - قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا بِآيَاتِنَا أَنْتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُونَ} [القصص: 33 - 35]
[الْقَصَصِ: 33 - 35] . يَقُولُ تَعَالَى مُخْبِرًا عَنْ عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ وَكَلِيمِهِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي جَوَابِهِ لِرَبِّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، حِينَ أَمَرَهُ بِالذَّهَابِ إِلَى عَدُوِّهِ، الَّذِي خَرَجَ مِنْ دِيَارِ مِصْرَ فِرَارًا مِنْ سَطْوَتِهِ وَظُلْمِهِ، حِينَ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ فِي قَتْلِ ذَلِكَ الْقِبْطِيِّ وَلِهَذَا {قَالَ رَبِّ إِنِّي قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ - وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ} [القصص: 33 - 34] أَيْ; اجْعَلْهُ مَعِي مُعِينًا وَرِدْءًا وَوَزِيرًا يُسَاعِدُنِي وَيُعِينُنِي عَلَى أَدَاءِ رِسَالَتِكَ إِلَيْهِمْ ; فَإِنَّهُ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا وَأَبْلَغُ بَيَانًا. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى، مُجِيبًا لَهُ إِلَى سُؤَالِهِ: {سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا} [القصص: 35] أَيْ; بُرْهَانًا {فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا بِآيَاتِنَا} [القصص: 35] أَيْ; فَلَا يَنَالُونَ مِنْكُمَا مَكْرُوهًا بِسَبَبِ قِيَامِكُمَا بِآيَاتِنَا. وَقِيلَ بِبَرَكَةِ آيَاتِنَا {أَنْتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُونَ} [القصص: 35] وَقَالَ فِي سُورَةِ " طه ": {اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى - قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي - وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي - يَفْقَهُوا قَوْلِي} [طه: 24 - 28]
[طه: 24 - 28] . قِيلَ: إِنَّهُ أَصَابَهُ فِي لِسَانِهِ لُثْغَةٌ; بِسَبَبِ تِلْكَ الْجَمْرَةِ الَّتِي وَضَعَهَا عَلَى لِسَانِهِ، الَّتِي كَانَ فِرْعَوْنُ أَرَادَ اخْتِبَارَ عَقْلِهِ، حِينَ
পৃষ্ঠা - ৫৭৬
আমীর-উমারাকে মুসা (আ)-এর সুপ্রমাণিত রিসালাত অবমাননা এবং থােদ মুসা (আ) কে
ঠাট্টা বিদ্রুপ করার লক্ষে বলল, তােমর ব্যু কি মুসার অযৌক্তিক কথাবার্তা শুনছা মুসা (আ) তখন
তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন ^ ;§ ’হ্রএাঠ্ :;§§ ^ “ ’ অর্থাৎ তিনি তােমাদেরকে
সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পুর্বে তোমাদের বাবা, দাদা ও অতীতের সমস্ত সম্প্রদায়কে সৃষ্টি
করেছেন; কেননা প্রত্যেকেই জ সে যে, সে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি; তার পিতামাতা কেউই
নিজে নিজে সৃষ্টি হয়নি ৷ অন্য কথায়, সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত কোন কিছুই সৃষ্টি হয়নি এবং
প্রতোককেই জগতসমুহের প্রতিপালক সৃষ্টি করেছেন ৷ এই দুটি ৰিষয়েরই নিম্নোক্ত আয়াতে
উল্লেখ করা হয়েছে : )
(ং<’; ^£ছুপু ;র্চুছুঠুর্দুপু ট্রু;র্দু ”fl“; ৷ ;ৰুর্চু ব্লুর্চুম্রা ৷ ,ষ্ ! ; ৷ ^ণ্,প্রুঠু ,শু
অর্থাৎ আমি ওদের জন্যে আমার নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করব বিশ্বজগতে এবং ওদের
নিজেদের মধ্যে; ফলে ওদের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এটাই সত্য ৷ (সুরা হা-মীম
আস-সাজদা : ৫৩) এসব নিদর্শন সুস্পষ্ট হয়ে ওঠা সত্বেও ফিরাউন তার পাফিলতির নিদ্রা থেকে
জাগ্রত হল না এবং নিজেকে পথভ্রষ্টতা থেকে বের করল না বরং সে তারােচ্ছাচারিতা,
অবাধ্যতা ও পথভ্রষ্টতায় অটল রইল ৷ আর মন্তব্য করল :
()^ , ^ স্পোএে র্থাংঠ ;fi )ন্হ্রপুটুট্রুৰু,পুড্রু অর্থাৎ নিশ্চয়ই তেড়ামাদের কাছে
প্রেরিত রাসুলটি পাগল ৷
সে বলল, তিনি পুর্ব ও পশ্চিমের এব০ এগুলোর মধ্যবর্তী সব কিছুর প্রতিপালক যদি
তোমরা বুঝতে ৷ (সুরা শু আরা০ : ২৭ ২৮)
তিনিই এসব উজ্জ্বল নক্ষত্রকে অনুগত করেছেন এবং ঘুর্ণায়মান কক্ষপথে এগুলোকে
আবতিতি করছেন ৷ তিনিই অন্ধকার ও আলোর সৃষ্টিকর্তা, আকান্০ শমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক
সুর্য, চন্দ্র, গ্রহ, উপগ্রহ, চলমান ও স্থিরত নরকারাজির সৃজনকর্তা; রাতকে অন্ধকার সমেত এবং
দিনকে আলো সমেত সৃষ্টিকারী; সবকিছু র্তারই অধীনে, নিয়ন্ত্রণে ও ইখতিয়ারে চলমান এবং
নিজ নিজ কক্ষপথে সস্তরণরত ৷ সব সময়ই একে অন্যকে অনুসরণ করছে এবং নিজ নিজ
কক্ষপথে ঘুরে চলেছে ৷ সুতরাং তিনিই মহান সৃষ্টিকর্তা, মালিক, নিজ ইচ্ছেমাফিক আপন
মাখলুকের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপকারী ৷ যখন ফিরআউনের বিরুদ্ধে দলীল-প্রমাণাদি পেশ করা হল,
তার সন্দেহ দুরীভুত হল এবং হঠকা বিতা ছাড়া তার কোন যুক্তিই অবশিষ্ট রইল না ৷ তখন সে
(জর-জবরদস্তি ও ক্ষম৩ তা প্ৰৰুয়রুগর ণ্কীশল গ্রহণ করল যেমন আয়াত তে উক্ত হয়েছেং :
অর্থাৎ ফিরআউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে ৩অন্যকে ইলাহরুপে গ্রহণ কর আমি
তোমাকে অবশ্যই করোরুদ্ধ করে রাখব ৷ মুসা (আ) প্ৰতি উত্তরে বলেন, র্গের্দু এও; , এ ৷
( , র্বৃপ্ অর্থাৎ আমি তোমার নিকট স্পষ্ট কে ন নিদর্শন নিয়ে আসলেও ? ফিরআউন বলল,
’ “ ষ্শ্রো ৰু এে :;হ্রৰু, ! ৰু ধ্ন্এে অর্থাৎ তুমি যদি সত তাবাদী হও তবে তা উপস্থিত
কর ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ( ১ম খদ্বু) ৭০-
أَخَذَ بِلِحْيَتِهِ وَهُوَ صَغِيرٌ، فَهَمَّ بِقَتْلِهِ، فَخَافَتْ عَلَيْهِ آسِيَةُ، وَقَالَتْ: إِنَّهُ طِفْلٌ. فَاخْتَبَرَهُ بِوَضْعِ تَمْرَةٍ وَجَمْرَةٍ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَهَمَّ بِأَخْذِ التَّمْرَةِ، فَصَرَفَ الْمَلَكُ يَدَهُ إِلَى الْجَمْرَةِ، فَأَخَذَهَا، فَوَضَعَهَا عَلَى لِسَانِهِ، فَأَصَابَهُ لُثْغَةٌ بِسَبَبِهَا، فَسَأَلَ زَوَالَ بَعْضِهَا بِمِقْدَارِ مَا يَفْهَمُونَ قَوْلَهُ، وَلَمْ يَسْأَلْ زَوَالَهَا بِالْكُلِّيَّةِ. قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: وَالرُّسُلُ إِنَّمَا يَسْأَلُونَ بِحَسَبِ الْحَاجَةِ. وَلِهَذَا بَقِيَتْ فِي لِسَانِهِ بَقِيَّةٌ، وَلِهَذَا قَالَ فِرْعَوْنُ، قَبَّحَهُ اللَّهُ، فِيمَا زَعَمَ إِنَّهُ يَعِيبُ بِهِ الْكِلِيمَ: {وَلَا يَكَادُ يُبِينُ} [الزخرف: 52] . أَيْ; يُفْصِحُ عَنْ مُرَادِهِ، وَيُعَبِّرُ عَمَّا فِي ضَمِيرِهِ وَفُؤَادِهِ. ثُمَّ قَالَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ: {وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي - هَارُونَ أَخِي - اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي - وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي - كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا - وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا - إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا - قَالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَى} [طه: 29 - 36]
[طه: 29 - 36] . أَيْ; قَدْ أَجَبْنَاكَ إِلَى جَمِيعِ مَا سَأَلْتَ، وَأَعْطَيْنَاكَ الَّذِي طَلَبْتَ. وَهَذَا مِنْ وَجَاهَتِهِ عِنْدَ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ، حِينَ شَفَعَ أَنْ يُوحِيَ اللَّهُ إِلَى أَخِيهِ فَأَوْحَى إِلَيْهِ، وَهَذَا جَاهٌ عَظِيمٌ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا [الْأَحْزَابِ: 69] . وَقَالَ تَعَالَى: {وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا} [مريم: 53] . وَقَدْ سَمِعَتْ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةُ رَجُلًا يَقُولُ لِأُنَاسٍ، وَهُمْ سَائِرُونَ فِي طَرِيقِ الْحَجِّ: أَيُّ أَخٍ أَمَنُّ عَلَى أَخِيهِ؟ فَسَكَتَ الْقَوْمُ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَنْ حَوْلَ هَوْدَجِهَا: هُوَ مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ حِينَ شَفَعَ فِي أَخِيهِ أَنْ يَكُونَ نَبِيًّا يُوحَى إِلَيْهِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا} [مريم: 53] .
পৃষ্ঠা - ৫৭৭
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনং :
ষ্পু
অর্থাৎ “অতঃপর মুসা তীর লাঠি নিক্ষেপ করলে তৎক্ষণাৎ তা এক সাক্ষাৎ অজগর হয়ে
গেল এবং মুসা হাত বের করল আর তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত
হল ৷” (সুরা শুআরা : ২৮ ৩৩)
এ দৃটো স্পষ্ট নিদর্শা য়দ্দারা আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) ওহারুন (আ) কে শক্তিশালী
করেছিলেন ৷ আর এ দু টো নিদর্শন হচ্ছে লাঠি ও হাত ৷ এগুলো দ্বারা আল্পাহ্ তা আলা বিরাট
অলৌকিক নিদর্শন প্রদর্শন করলেন যাতে সকল মানবীয় জ্ঞান ও দৃষ্টি মু জিযা দু টোর কাছে হার
মেনে গেল ৷ যখন তিনি হাত থেকে লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন এটা বিরাট আকারের
অত্যাশ্চর্য মোটা ভয়ংকর ও বিস্ময়কর সাপে পরিণত হল ৷ এমনকি কথিত আছে যে, ফিরআউন
এটাকে দেখার পর এতই ভীত ও আতঙ্কগ্নস্ত হয়ে পড়ল যে, তৎক্ষণাৎ তার দাস্ত হতে লাগল;
একদিনেই তার চল্লিশ বার দাস্ত হল অথচ এর পুর্বে সে চল্লিশ দিনে একবার পায়খানায় যেত ৷
এখন অবস্থা বিপরীতে দাড় ল ৷ অনুরুপভা বে যখন মুসা (আ) তার নিজ হাত নিজ বগলে
রাখলেন এবং বের করলেন তখন তা র্চাদের একটি টুকরার ন্যায় সমুজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে
আসল ৷ আর এমন আলো বিচ্ছুরিত করতে লাগল যা চোখকে একেবারে ঝল্সিয়ে দেয় ৷
পুনরায় যখন হাত বগলের মধ্যে স্থাপন করলেন, তখন তা পুর্বের অবস্থায় ফিরে আসল ৷ এসব
নিদর্শন দেখার পরও ফিরআউন এর থেকে কোনভাবেই উপকৃত হলো না ৷ বরং সে যে অবস্থায়
ছিল সে অবস্থায়ই রয়ে গেল ৷ সে প্রকাশ করতে লাগল যে, এসব জাদু ব্যতীত অন্য কিছু নয় ৷
তইি সে জাদুকরদের দ্বারা মুসা (আ)-এর ঘুকাৰিলা করতে ইচ্ছা পোষণ করল ৷ সুতরাং সে তার
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার সমস্ত জাদুকরের মাধ্যমে মুসা (আ)-কে মুকাবিলা করার ব্যবস্থা গ্রহণ
করল ৷ অতঃপর সে লোক পাঠাল যারা সমগ্র রাজের, তার প্রজাবর্গের, তার নিয়স্ত্রণাধীন
জাদুকরদের সমবেত করবে ৷ এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা নির্ধারিত জায়গায় পেশ করা হবে ৷
এতে ফিরআউন, তার পারিষদবর্গ, আমীর-উমারা ও অনুসারীদের কাছে আল্লাহ তাআলার
অসীম কুদরত , ক্ষমতা ও নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল ৷
আল্লাহ্ তাআলা সুরা তা-হায় ইরশাদ করেন :
এে৷ এেশু ধ্ ১াপ্
وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الشُّعَرَاءِ ": {وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ - قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلَا يَتَّقُونَ - قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ - وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هَارُونَ - وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنْبٌ فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ - قَالَ كَلَّا فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا إِنَّا مَعَكُمْ مُسْتَمِعُونَ - فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ - أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ - قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ - وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ} [الشعراء: 10 - 19]
[الشُّعَرَاءِ: 10 - 19] . تَقْدِيرُ الْكَلَامِ: فَأْتَيَاهُ فَقُولَا لَهُ ذَلِكَ وَبَلِّغَاهُ مَا أُرْسِلْتُمَا بِهِ مِنْ دَعْوَتِهِ إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنْ يَفُكَّ أُسَارَى بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ قَبْضَتِهِ وَقَهْرِهِ وَسَطْوَتِهِ، وَيَتْرُكُهُمْ يَعْبُدُونَ رَبَّهُمْ حَيْثُ شَاءُوا، وَيَتَفَرَّغُونَ لِتَوْحِيدِهِ، وَدُعَائِهِ، وَالتَّضَرُّعِ لَدَيْهِ. فَتَكَبَّرَ فِرْعَوْنُ فِي نَفْسِهِ، وَعَتَا وَطَغَى، وَنَظَرَ إِلَى مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِعَيْنِ الِازْدِرَاءِ وَالتَّنَقُّصِ، قَائِلًا لَهُ: {أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ} [الشعراء: 18] أَيْ; أَمَا أَنْتَ الَّذِي رَبَّيْنَاهُ فِي مَنْزِلِنَا وَأَحْسَنَّا إِلَيْهِ، وَأَنْعَمْنَا عَلَيْهِ مُدَّةً مِنَ الدَّهْرِ؟ وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ فِرْعَوْنَ الَّذِي بُعِثَ إِلَيْهِ هُوَ الَّذِي فَرَّ مِنْهُ، خِلَافًا لِمَا عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ أَنَّ فِرْعَوْنَ الَّذِي فَرَّ مِنْهُ مَاتَ فِي مُدَّةِ مُقَامِهِ بِمَدْيَنَ، وَأَنَّ الَّذِي بُعِثَ إِلَيْهِ فِرْعَوْنُ آخَرُ. وَقَوْلُهُ: {وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ} [الشعراء: 19] أَيْ; وَقَتَلْتَ الرَّجُلَ الْقِبْطِيَّ، وَفَرَرْتَ مِنَّا، وَجَحَدْتَ نِعْمَتَنَا
পৃষ্ঠা - ৫৭৮
অর্থাৎ অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদায়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, হে মুসা! এর পরে
তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করিয়ে
নিয়েছি ৷ ভুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনসহ যাত্রা কর এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করবে
না ৷ তোমরা দুজন কিংআউনের নিকট যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা তার সাথে
নম্র কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে ৷ তারা বলল, “হে আমাদের
প্ৰতিপালক ! আমরা আশঙ্কা করি যে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা অন্যায় আচরণে
সীমালঙ্ঘন করবে ৷’ ’তিনি বললেন, “তোমরা ভয় করবে না, আমিও তা তোমাদের সঙ্গে আছি,
আমি শুনি ও আমি দেখি ৷” (সুরা তা-হা : ৪ :-৪৬)
আস্লাহ্ তাআলা যে রাতে মুসা (আ)-এর প্ৰতি ওহী নাযিল করেন, তাকে নবুওত দান
করেন, নিজের কাছে ডেকে নিয়ে তার সাথে একান্তে কথা বলেন, যে রাতে মুসা (আ)-কে
সম্বোধন করে বলেন, “আমি তোমাকে প্রত্যক্ষ কবছিলাম যখন তুমি ফিরআউনের ঘরে ছিলে,
তুমি আমার হিফাযতে ও যত্নে ছিলে ৷ তারপর আমি তোমাকে মিসর ভুখণ্ড থেকে বের করে
আমার ইচ্ছা, কুদরত ও কৌশল মাফিক তোমাকে মাদায়ানে নিয়ে আসলাম ৷ সেখানে তুমি
কয়েক বছর অবস্থান করলে ৷ তারপর ভুমি নবুওতের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে অর্থাৎ
আমার নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী ৷ তোমাকে আমার কালাম ও রিসালাতের জন্যে আমি
মনোনীত করলাম ৷ সুতরাং ভুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনসহ যাত্রা কর আর যখন
তোমরা আমাকে স্মরণ করবে কিৎবা তোমাদের আহ্বান করা হবে তোমরা আমার স্মরণে
শৈখিল্য প্রদর্শন করবে না; কেননা, ফিরআউন্যেকসম্বোধন করার সময়, তার প্রতি উত্তর
প্রদানের সময়, তার প্রতি উপদেশ দানের সময় এবং তার সম্মুখে দলীল পেশ করার সময়
আমার স্মরণ তোমাদের বিজয় দানে সাহায্য করবে ৷ আবার কোন কোন হড়াদীসে এসেছে,
আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, আমার ঐ বান্দাই পরিপুর্ণ বান্দা যে তার প্রতিপক্ষের সাথে
মুকাবিলার সময়ও আমাকে স্মরণ করে ৷
যেমন আল্লাহ্ ৷তা আলা বলেনং :
গ্রখো
অর্থাৎ “হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কোন দলের মুকাবিলা করবে তখন অবিচলিত
থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে ন্তুতামরা সফলকাম হও ৷ (সুরা
আনফাল ষ্ক : ৫)
তারপর আল্লাহ্ তাআলা নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তোমরা দুইজনে ফিরআউনের কাছে যাত্রা
কর সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ
করবে অথবা ভয় করবে ৷” (সুরা তা-হা : ৪৩)
ফিরআউনের কুফরী, জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারটি আল্লাহ্ তাআলার নিকট জ্ঞাত থাকা
সত্বেও তার সাথে নম্র কথা বলার নির্দেশ, মাখলুকের প্রতি আল্লাহ তাআলার পরম রহমত,
বরকত, যেহেরবানী, নম্রতা ও ধৈর্যশীলতার পরিচায়ক ৷ ফিরআউন ছিল তখনকার যুগে আল্লাহ
قَالَ {فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ} [الشعراء: 20] أَيْ; قَبْلَ أَنْ يُوحَى إِلَى، وَيَنْزِلَ عَلَى {فَفَرَرْتُ مِنْكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ} [الشعراء: 21] . ثُمَّ قَالَ مُجِيبًا لِفِرْعَوْنَ عَمَّا امْتَنَّ بِهِ عَلَيْهِ مِنَ التَّرْبِيَةِ وَالْإِحْسَانِ إِلَيْهِ {وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدْتَ بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الشعراء: 22] . أَيْ; وَهَذِهِ النِّعْمَةُ الَّتِي ذَكَرْتَ، مِنْ أَنَّكَ أَحْسَنْتَ إِلَيَّ، وَأَنَا رَجُلٌ وَاحِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، تُقَابِلُ مَا اسْتَخْدَمْتَ هَذَا الشَّعْبَ الْعَظِيمَ بِكَمَالِهِ، وَاسْتَعْبَدْتَهُمْ فِي أَعْمَالِكَ وَخِدْمَتِكَ وَأَشْغَالِكَ.
{قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ - قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ - قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ - قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ - قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ - قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ} [الشعراء: 23 - 28]
[الشُّعَرَاءِ: 23 - 28] . يَذْكُرُ تَعَالَى مَا كَانَ بَيْنَ فِرْعَوْنَ وَمُوسَى، مِنَ الْمُقَاوَلَةِ وَالْمُحَاجَّةِ وَالْمُنَاظَرَةِ، وَمَا أَقَامَهُ الْكَلِيمُ عَلَى فِرْعَوْنَ اللَّئِيمِ مِنَ الْحُجَّةِ الْعَقْلِيَّةِ الْمَعْنَوِيَّةِ ثُمَّ الْحِسِّيَّةِ. وَذَلِكَ أَنَّ فِرْعَوْنَ، قَبَّحَهُ اللَّهُ، أَظْهَرَ جَحْدَ الصَّانِعِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، وَزَعَمَ أَنَّهُ الْإِلَهُ {فَحَشَرَ فَنَادَى - فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى} [النازعات: 23 - 24]
[النَّازِعَاتِ: 23، 24] . وَقَالَ: {يَاأَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي} [القصص: 38] . وَهُوَ فِي هَذِهِ الْمَقَالَةِ مُعَانِدٌ،
পৃষ্ঠা - ৫৭৯
তাআলার নিকৃষ্টতম সৃষ্টি অথচ আল্লাহ্ তাআলা ঐ যমানড়ার শ্রেষ্ঠতম মনোনীত ব্যক্তিতুকে তার
হিদায়াতের জন্যে তার কাছে প্রেরণ করেন ৷ এতদসত্বেও তিনি মুসা (আ) ও হারুন (আ)-কে
নম্র ভাষায় তাকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার জন্যে নির্দেশ দেন ৷ আবার তাদের দৃইজনকে
তার সাথে এমন ব্যবহার করার জন্যে নির্দেশ দেন, যেমনটি যার উপাদুদশ গ্রহণ কিত্বা ভয়
করার সম্ভাবনা আছে তার সাথে করা হয়ে থাকে ৷
আল্লাহ্ তাআলা র্তা ৷র রাসুল মুহাম্মদ (সা) কে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন :
?
অর্থাৎ তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ
দ্বারা এবং তাদের সাথে তর্ক করবে উত্তম পস্থায় ৷ (সুরা নাহ্ল০ : ১২৫)
আল্লাহ্ তাআ ৷লা ইরশাদ করেন০ :
’
ন্দ্বু,গ্রা ৷ ৷ ,পুার্চের্তৃ § §
তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না তবে তাদের সাথে করতে
পার, যারা তাদের মধ্যে সীমালঙ্ঘনকারী ৷ (সুরা আনকাবুত৪ ৪৬)
হাসান বসরী (র) বলেনং : মোঃ ১ব্লুদ্বু এ ১দ্বু আয়াতাৎশের মাধ্যমে তার প্রতি
রেয়াত প্রদর্শনার্থে বলা হয়েছে তোমরা দুজনে তাকে বলবে, তোমার রয়েছেন একজন
প্রতিপালক, তোমার জন্যে রয়েছে মৃত্যুর পরে পুনরুথান এবং তোমার সামনে রয়েছে
বেহেশত-দোযখ ৷ ওহাব ইবন মুনড়াব্বিহ্ (র) বলেছেন, এর অর্থ হচ্ছে তোমরা দু’জন তাকে
বলে দাও, শান্তি ও ঘোষের তুলনায় আমি আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার অধিকতর নিকটবর্তী ৷ য়াযিদ
আর রাক্কাশী (র) এই আয়াতাৎশের ব্যাখ্যার বলেন, শত্রুর সাথে যিনি এরুপ বন্ধুতুপুর্ণ
ব্যবহারের উপদেশ দিচ্ছেন বন্ধুর সাথে কিরুপ ব্যবহার এবং তাকে কিরুপ আহ্বানের উপদেশ
দেবেন তা সহজেই অনুমেয় ৷ আল্লাহ্র বাণীং
তারা বলল : “হে আমাদের
প্রতিপালক ! আমরা আশঙ্কা করি যে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা অন্যায় আচরণে
সীমা লঙ্ঘন করবে ৷ (সুরা তা-হা : ৪৫)
এটা এজন্যে যে ফিরআউন ছিল অত্যাচড়ারী, অনমনীয়, শয়তান ও সীমালঙ্ঘনকারী; মিসরে
তার শক্তি ছিল দৃর্দম, সে ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিরাট ক্ষমতা ও সৈন্য সামম্ভের
অধিকর্তা ৷ তইি মানবীয় চরিত্রের ধারক ও বাহক হিসেবে তারা দুজনই তার ব্যাপারে ভীত
হলেন এবং প্রকাশ্যত তাদের উপর যে হামলা করতে পারে এরুপ আশঙ্কা করছিলেন ৷ সুতরাং
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দৃঢ় থাকতে অনুপ্রাণিত করেন ৷ তিনিই সুউচ্চ, সুমহান ৷ তিনি
বলেন, “তোমরা ভয় করবে না, আমি তোমাদের সাথে রয়েছি; আমি শুনি ও আমি দেখি ৷
অন্য এক আয়াতেও বলেন, ষ্দ্বুপ্ক্ট্রর্মু:ক্ট্রন্র্চষ্ ’ ” “আমি তোমাদের সাথে শ্রবণকা ৷রী” ৷
يَعْلَمُ أَنَّهُ عَبْدٌ مَرْبُوبٌ، وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ، الْإِلَهُ الْحَقُّ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ} [النمل: 14] . وَلِهَذَا قَالَ لِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى سَبِيلِ الْإِنْكَارِ لِرِسَالَتِهِ، وَالْإِظْهَارِ أَنَّهُ مَا ثَمَّ رَبٌّ أَرْسَلَهُ: {وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 23] . لِأَنَّهُمَا قَالَا لَهُ: {إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 16] فَكَأَنَّهُ يَقُولُ لَهُمَا: وَمَنْ رَبُّ الْعَالَمِينَ، الَّذِي تَزْعُمَانِ أَنَّهُ أَرْسَلَكُمَا وَابْتَعَثَكُمَا؟ فَأَجَابَهُ مُوسَى قَائِلًا: {رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ} [الشعراء: 24] . يَعْنِي رَبَّ الْعَالَمِينَ، خَالِقَ هَذِهِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْمُشَاهَدَةِ، وَمَا بَيْنَهُمَا مِنَ الْمَخْلُوقَاتِ الْمُتَجَدِّدَةِ; مِنَ السَّحَابِ وَالرِّيَاحِ وَالْمَطَرِ وَالنَّبَاتِ وَالْحَيَوَانَاتِ، الَّتِي يَعْلَمُ كُلُّ مُوقِنٍ أَنَّهَا لَمْ تَحْدُثْ بِأَنْفُسِهَا، وَلَا بُدَّ لَهَا مِنْ مُوجِدٍ وَمُحْدِثٍ وَخَالِقٍ، وَهُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَالَمِينَ. قَالَ أَيْ; فِرْعَوْنُ لِمَنْ حَوْلَهُ مِنْ أُمَرَائِهِ، وَمَرَازِبَتِهِ وَوُزَرَائِهِ، عَلَى سَبِيلِ التَّهَكُّمِ وَالتَّنَقُّصِ لِمَا قَرَّرَهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ: أَلَّا تَسْتَمِعُونَ يَعْنِي كَلَامَهُ هَذَا. قَالَ مُوسَى مُخَاطِبًا لَهُ وَلَهُمْ: {رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ} [الشعراء: 26] . أَيْ; هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ; مِنَ الْآبَاءِ وَالْأَجْدَادِ وَالْقُرُونِ السَّالِفَةِ فِي الْآبَادِ، فَإِنَّ كُلَّ أَحَدٍ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَمْ يَخْلُقْ نَفْسَهُ وَلَا أَبُوهُ وَلَا أُمُّهُ، وَلَمْ يَحْدُثْ مِنْ غَيْرِ مُحْدِثٍ، وَإِنَّمَا أَوْجَدَهُ وَخَلَقَهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ. وَهَذَانِ الْمَقَامَانِ هُمَا
পৃষ্ঠা - ৫৮০
) ইরশাদ হচ্ছে
ণ্ধ্হু;“;; ১৷ , ();; ৷ ,;; ৷ ;; ৷;;শুঝু; ণুাট্রুঞে ৷ন্(এপুদ্বু র্শ্ব,;;ঠু fl §:,§é শুর্তুধ্রু
ছুণ্াদ্বুন্র্দুদ্বুর্মু;’;াহ্র ; ষ্াদ্বু ণ্া;ন্া৷ ;,৷ চুন্া৷
সুতরাং তোমরা তার নিকট যাও এবং বল, আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসুল ৷ সুতরাং
আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে কষ্ট দিও না, আমরা তো তোমার
নিকট এসেছি তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে নিদর্শন এবং শান্তি তাদের প্রতি যারা অনুসরণ
করে সৎপথ ৷ আমাদের প্ৰতি ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্যে যে মিথ্যা আরোপ
করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয় ৷ (সুরা তাধ্হা : ৪ ৭-৪ ৮)
উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে , তিনি তাদের দৃজনকে নির্দেশ
দিলেন যাতে তারা ফিরআউনের নিকট যায় এবং তাকে এক অদ্বিতীয় আল্লাহ্ তাআলড়ার
ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন ৷ আর বনী ইসরাঈলকে যেন সে তার কয়েদ ও নিয়ন্ত্রণ থেকে
মুক্তি দেয় ৷ এবং তাদেরকে যেন সে আর কষ্ট না দেয় ৷ তাদের সাথে যেতে যেন অনুমতি দেয়
এবং তাদেরকে তারা আরো বলেন, “আমরা ণ্তামার কাছে তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে
মহা নিদর্শন নিয়ে এসেছি ৷ আর তা হচ্ছে লাঠি ও হাতের মুজিযা ৷ শান্তি একমাত্র তাদেরই প্রতি
যায়৷ অনুসরণ করে সৎপথ ৷” সৎপথ অনুসারীদের সাথে শান্তিকে সম্পৃক্ত করার বর্ণনাঢি খুবই
চিত্তাকর্ষক ও তাৎপর্যপুর্ণ ৷ তারপর তারা তাকে অস্বীকৃতির মন্দ পরিণতি সম্পর্কে ছুশিয়ারি দিয়ে
বললেন, আমাদের কাছে ওহী এসেছে যে, শান্তি ঐ ব্যক্তির জন্যে যে সত্যকে অন্তর দিয়ে
অবিশ্বাস করে এবং কার্যতত ৷থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ৷
সুদ্দী (র) প্রমুখ আলিম উল্লেখ করেছেন যে, মুসা (আ) যখন মাদায়ান থেকে প্রত্যাবর্তন
করে আপন মাতা ও ভাই হারুনের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তারা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন ৷
খাবারের মধ্যে ছিল শ্া৷লষ্াম ৷ তিনি তাদের সাথে তা খেলেন ৷ তারপর তিনি বললেন, “হে
হারুন! আল্লাহ্ তাআল৷ আমাকে ও তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ফিরআউনকে
আল্লাহ তা জানার ইবাদণ্ডে তর দিকে আহ্বান করি ৷ সুতরাং তুমি আমার সাথে চল ৷ তখন তারা
দুজনেই ফিরআউনের মহলেৱ উদ্দেশে রওয়ান৷ হলেন ৷ তারা দরজা বন্ধ পেলেন ৷ মুসা (আ)
দারােয়ানদের বললেন, তোমরা ফিবআউনের কাছে সৎব বাদ নিয়ে যাও যে, আল্লাহ্র রাসুল তার
দরজায় উপস্থিত ৷ দারােয়ড়ানরা মুসা (আ) কে নিয়ে ঠাট্টা বিরুপ করতে লাগল ৷
কেউ কেউ বলেছেন, ফিরআউন তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ পর প্রবেশ করার অনুমতি দিয়েছিল ৷
মুহাম্মদ ইবন ইসহড়াক (র) বলেন, দু বছর পর তাদেরকে ফিরআউন অনুমতি দিয়েছিল ৷
কেননা, কেউ অনুমতি আনার জন্যে যেতে সাহস পায়নি ৷ আল্লাহই সম্যক অবগত ৷ এরুপও
কথিত আছে যে, মুসা (আ) দরজায় দিকে অগ্রসর হয়ে লাঠি দ্বারা দরজায় আঘাত করেন ৷ এতে
ফিরআউন ভীষণ বিরত বোধ করল এবং তাদেরকে উপস্থিত করার জন্যে নির্দেশ দিল ৷ তারা
দু’জনেই তার সম্মুখে র্দাড়ড়ালেন এবং তাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মুতাবিক তার মহান
সত্তাব ইবাদতের প্রতি আহ্বান করলেন ৷
الْمَذْكُورَانِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} [فصلت: 53] . وَمَعَ هَذَا كُلِّهِ لَمْ يَسْتَفِقْ فِرْعَوْنُ مِنْ رَقْدَتِهِ، وَلَا نَزَعَ عَنْ ضَلَالَتِهِ، بَلِ اسْتَمَرَّ عَلَى طُغْيَانِهِ وَعِنَادِهِ، وَكُفْرَانِهِ {قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ - قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ} [الشعراء: 27 - 28]
[الشُّعَرَاءِ: 27، 28] . أَيْ; هُوَ الْمُسَخِّرُ لِهَذِهِ الْكَوَاكِبِ الزَّاهِرَةِ، الْمُسَيَّرُ لِلْأَفْلَاكِ الدَّائِرَةِ، خَالِقُ الظَّلَّامِ وَالضِّيَاءِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ، رَبُّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخَرِينَ، خَالِقُ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ، وَالْكَوَاكِبِ السَّائِرَةِ وَالثَّوَابِتِ الْحَائِرَةِ، خَالِقُ اللَّيْلِ بِظَلَامِهِ وَالنَّهَارِ بِضِيَائِهِ، وَالْكُلُّ تَحْتَ قَهْرِهِ وَتَسْخِيرِهِ وَتَسْيِيرِهِ سَائِرُونَ، وَفِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ، يَتَعَاقَبُونَ فِي سَائِرِ الْأَوْقَاتِ وَيَدُورُونَ، فَهُوَ تَعَالَى الْخَالِقُ الْمَالِكُ الْمُتَصَرِّفُ فِي خَلْقِهِ بِمَا يَشَاءُ.
فَلَمَّا قَامَتِ الْحُجَجُ عَلَى فِرْعَوْنَ وَانْقَطَعَتْ شُبَهُهُ وَلَمْ يَبْقَ لَهُ قَوْلٌ سِوَى الْعِنَادِ، عَدَلَ إِلَى اسْتِعْمَالِ سُلْطَانِهِ وَجَاهِهِ وَسَطْوَتِهِ، قَالَ: {قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ - قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُبِينٍ - قَالَ فَأْتِ بِهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ - فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ - وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ} [الشعراء: 29 - 33]
[الشُّعَرَاءِ: 29 - 33] . وَهَذَانِ هُمَا الْبُرْهَانَانِ اللَّذَانِ أَيَّدَهُ اللَّهُ بِهِمَا، وَهَمَا الْعَصَا وَالْيَدُ. وَذَلِكَ مَقَامٌ أَظْهَرَ فِيهِ الْخَارِقَ الْعَظِيمَ، الَّذِي بَهَرَ بِهِ الْعُقُولَ وَالْأَبْصَارَ، حِينَ أَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ، أَيْ عَظِيمُ الشَّكْلِ، بَدِيعٌ فِي الضَّخَامَةِ وَالْهَوْلِ، وَالْمَنْظَرِ الْعَظِيمِ الْفَظِيعِ الْبَاهِرِ، حَتَّى قِيلَ: إِنَّ فِرْعَوْنَ
পৃষ্ঠা - ৫৮১
কিতাবীদের মতে আল্লাহ তা আলা মুসা (আ) কে বলেছিলেন, লাওয়ী ইবন ইয়৷ ৷কুব (আ)
-এর রং শধর হারুন (আ) অতি শিগগির আত্মপ্রকাশ করবেন এবং তোমার সাথে সাক্ষাৎ
করবেন ৷ আল্লাহ তা আলা মুসা (আ) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি নিজের সাথে বনী
ইরাঈলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদ্যোকে নিয়ে ফিরআউনের কাছে যান এবং আল্লাহ তাআলা তাকে
যা কিছু নিদর্শন প্রদান করেছেন ফিরআউনের কাছে তা যেন প্রকাশ করেন ৷ আল্লাহ তা আলা
মুসা (আ) কে বলেন, “শিগগিবই আমি তার অন্তর কঠিন করে দেব তাতে সে বনী ইসরাঈল
সম্প্রদায়কে যেতে দেবে না ৷ আমার অধিকাংশ নিদর্শন ও অ৩ ত্যাশ্চর্য বস্তুসমুহ মিসরে অবস্থিতা
আল্লাহ তা আলা হারুন (আ)-এর প্ৰতি ওহী পাঠালেন তিনি যেন তার ভাইয়ের দিকে অগ্রসর
হন এবং হোরাইর পর্বতের নিকটবর্তী প্রান্তরে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন ৷ যখন তিনি সাক্ষাৎ
করেন তখন মুসা (আ) তাকে তার প্রতিপালকের নির্দেশের কথা অবহিত করলেন ৷ যখন তারা
দুজন মিসরে প্রবেশ করলেন, তখন তারা বনী ইসরাঈলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে সমবেত
করলেন এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে ফিরআউনের কাছে গেলেন ৷ ফিরআউনেব কাছে আল্লাহ
তাআলার রিসালতের বাণী পৌছালে ফিরআউন বলল , আল্পাহ কে? আমি ভাবে তিনি না এবং
আমি বনী ইসরাঈলকে যেতে দেব না ৷ ’
সু আল্লাহ তা আলা ফিরআউন সম্পর্কে ইরশাদ করেন :
০ণ্ র্দুপুপুহু)^ৰু;র্দুাই
”’
মোঃ ডঃ
?«”
াস্াব্লু ৷ §
র্দুধ্শুরড্রুষ্টুহ্রমোঃ , ৷ ,
’
অর্থাৎ ফিরআউন বলল, হে মুসা! কে তোমাদের প্রতিপালকঃ মুসা বলল, আমাদের
প্রতিপালক তিনি যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথনির্দেশ
করেছেন ৷ ’ফিরআউনবলল, তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী ন্ মুসা বলল এটার
জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট কিভাবে রয়েছে; আমার প্রতিপালক ভুল করেন না এবং
বিশৃতও হন না ৷ যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বিছ না এবং এতে করে দিয়েছেন
তোমাদের চলবার পথ, তিনি আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন এবং আমি তা দ্বারা বিভিন্ন
প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি ৷ তোমরা আহার কর ও তোমাদের গবাদি পশু চরাও; অবশ্যই
এতে নিদর্শন রয়েছে বিৰেফ্সশ্যাদের জন্য ৷ আমি মাটি থেকে তােমাদেরকে সৃষ্টি করেছি,
তাতেই তােমাদেরষ্কে ফিরিয়ে দেব এবং তা থেকে আবার তোমাদেরকে বের করব ৷” (সুরা
আল্লাহ তাআ,ল৷ ফিরআউন সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন ৷ ফিরআউন মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ
তাঅড়ালার অন্তিতুকে অস্বীকার আে ৰ্সে, “ হে মুসা ৷ তোমার প্রতিপালকটি কো মুসা (আ)
পতিউত্তরে বলেন, আমাদের প্রতিপাশক সমগ্র মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, তাদের আমল, রিযিক ও
لَمَّا شَاهَدَ ذَلِكَ وَعَايَنَهُ، أَخَذَهُ رُعْبٌ شَدِيدٌ، وَخَوْفٌ عَظِيمٌ، بِحَيْثُ إِنَّهُ حَصَلَ لَهُ إِسْهَالٌ عَظِيمٌ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ مَرَّةً فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ، وَكَانَ قَبْلَ ذَلِكَ لَا يَتَبَرَّزُ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ يَوْمًا إِلَّا مَرَّةً وَاحِدَةً، فَانْعَكَسَ عَلَيْهِ الْحَالُ. وَهَكَذَا لَمَّا أَدْخَلَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، يَدَهُ فِي جَيْبِهِ وَاسْتَخْرَجَهَا، أَخْرَجَهَا وَهِيَ كَفِلْقَةِ الْقَمَرِ، تَتَلَأْلَأُ نُورًا يَبْهَرُ الْأَبْصَارَ، فَإِذَا أَعَادَهَا إِلَى جَيْبِهِ رَجَعَتْ إِلَى صِفَتِهَا الْأُولَى، وَمَعَ هَذَا كُلِّهِ لَمْ يَنْتَفِعْ فِرْعَوْنُ، لَعَنَهُ اللَّهُ، بِشَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ، بَلِ اسْتَمَرَّ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ، وَأَظْهَرَ أَنَّ هَذَا كُلَّهُ سِحْرٌ، وَأَرَادَ مُعَارَضَتَهُ بِالسَّحَرَةِ، فَأَرْسَلَ يَجْمَعُهُمْ مِنْ سَائِرِ مَمْلَكَتِهِ، وَمَنْ فِي رَعِيَّتِهِ وَتَحْتَ قَهْرِهِ وَدَوْلَتِهِ، كَمَا سَيَأْتِي بَسْطُهُ وَبَيَانُهُ فِي مَوْضِعِهِ; مِنْ إِظْهَارِ اللَّهِ الْحَقَّ الْمُبِينَ، وَالْحُجَّةَ الْبَاهِرَةَ الْقَاطِعَةَ عَلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ، وَأَهْلِ دَوْلَتِهِ وَمِلَّتِهِ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ.
وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " طه ": {فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِي أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ يَا مُوسَى - وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي - اذْهَبْ أَنْتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِي - اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى - فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى - قَالَا رَبَّنَا إِنَّنَا نَخَافُ أَنْ يَفْرُطَ عَلَيْنَا أَوْ أَنْ يَطْغَى - قَالَ لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [طه: 40 - 46]
[طه: 40 - 46] . يَقُولُ تَعَالَى مُخَاطِبًا لِمُوسَى، فِيمَا كَلَّمَهُ بِهِ لَيْلَةَ أَوْحَى إِلَيْهِ، وَأَنْعَمَ بِالنُّبُوَّةِ عَلَيْهِ، وَكَلَّمَهُ مِنْهُ إِلَيْهِ: قَدْ كُنْتُ مُشَاهِدًا لَكَ وَأَنْتَ فِي دَارِ فِرْعَوْنَ، وَأَنْتَ تَحْتَ كَنَفِي وَحِفْظِي وَلُطْفِي، ثُمَّ أَخْرَجْتُكَ مِنْ أَرْضِ مِصْرَ إِلَى أَرْضِ مَدْيَنَ بِمَشِيئَتِي وَقُدْرَتِي وَتَدْبِيرِي، فَلَبِثْتَ
পৃষ্ঠা - ৫৮২
মৃত্যুর সময় নির্ধা ৷রণ করেছেন ৷ আর এগুলো তার নিকট সংরক্ষিত কিভাবে বা লাওহে মাহকুয়ে
লিখে রেখেছেন ৷ অতঃপর প্রতিটি সৃষ্টিকেত তার জন্যে নির্ধারিত বিষয় বস্তুর প্রতি পথনির্দেশ
করেছেন ৷ প্রত্যেক মাখলুকের আমল আল্লাহ তা অ লাব পরিপুর্ণ ইল্ম, কুদরত ও তকদীর
অনুযায়ী ঘটে থাকে ৷
অন্য আয়াতে অনুরুপ ইরশাদ হচ্ছে :
অর্থাৎ তুমি তোমার সুমহান গ্রতিপালকের৷ না মের পবিত্রত৷ ও মহিমা ঘোষণা কর ৷ যিনি
সৃষ্টি করেন ও সুঠাম করেন এবং যিনি পরিমিত বিকাশ সাধন করেন ও (মাখলুককে) সেদিকে
পথনির্দেশ করেন ৷ (সুরা আলা : ১৩)
ফিরআউন মুসা (আ) কে বলেছিল, “যদি তে তামার প্রতিপালক সৃজনকর্তা, পরিমিত
বিকাশকারী, মাখলুককে তার নির্ধারিত পথে পথ প্রদর্শনকারী হয়ে থাকেন এবং তিনি ব্যতীত
অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য না হয়ে থাকেন, তবে পুর্বেকার যুগের লোকেরা কেন র্তাকে ছেড়ে
অন্যদের ইবাদত করল? তুমি তো জান, পুর্বেকার যুগের লোকেরা তারকারাজি ও দেব-দেবীকে
আল্লাহর সাথে শরীক করত, তাহলে পুর্বেকার গােত্রগুলোকে কেন তিনি তোমার উল্লিখিত সঠিক
পথে পরিচালনা করলেন না ? মুসা (আ) বললেন, তারা যদিও আল্লাহ ব্যতীত অন্যের
উপাসনা করেছে এটা তোমার পক্ষের বা আমার বিপক্ষের কোন দলীল হতে পারে না ৷ কেননা,
তারা তোমার ন্যায় মুর্ঘতার শিকার হয়ে যে সব অপকর্ম করেছে, কিতাবসমুহে তাদের ছোট বড়
সব আমলের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে ৷ এবং আমার মহান প্ৰতিপালক তাদের শাস্তিদান করবেন ৷
এক অণুপরিমাণ কারো উপর তিনি জুলুম করবেন না ৷ কেননা, বড়ান্দাদের সব আমলই তার
নিকট একটি লিপিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে, কিছুই বাদ পড়বে না এবং আমার প্রতিপালক কিইে
বিস্মৃত হবেন না ৷ এরপর মুসা (আ) ফিরআউনের কাছে আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠতু , বন্তুসমুহ
সৃষ্টির শক্তি, ভুমিকে বিছানারুপ, আকাশকে ছাদরুগে সৃষ্টি করার শক্তি রয়েছে এর উল্লেখ
করেন ৷ বান্দা ও জীব জানােয়ারের রিযিকের জন্যে বাদল ও বৃষ্টিকে যে তিনি নিয়ন্ত্রণাধীনে
রেখেছেন এটাও তিনি উল্লেখ করেন ৷ আল্লাহ৩ তা আলার বাণী০ :
? ?
এর্চু,৷ “ণ্হ্রপুন্র্দ্রন্ন্া ৷প্রু;,াদ্বু ৷,৷দ্বু
তোমরা আহার কর ও গবাদি পশু চারণ কর অবশ্যই তাতে নিদর্শন রয়েছে সহজ-সরল
বিশুদ্ধ বিবেক ও সুস্থ প্রকৃতিসস্পন্ন লোকদের জন্যে ৷ সুতরাং আল্লাহ তাআলা তোমাদের ও
তোমাদের পুর্ব পুরুষদের সৃষ্টিকর্তা ৷
যেমন আল্লাহ তা জানা ইরশাদ করেন
’
@)
فِيهَا سِنِينَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ أَيْ; مِنِّي لِذَلِكَ، فَوَافَقَ ذَلِكَ تَقْدِيرِي وَتَسْيِيرِي وَاصْطَنَعَتْكَ لِنَفْسِي أَيْ; اصْطَفَيْتُكَ لِنَفْسِي بِرِسَالَتِي وَبِكَلَامِي {اذْهَبْ أَنْتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِي} [طه: 42] يَعْنِي: وَلَا تَفْتُرَا فِي ذَكَرِي إِذْ قَدِمْتُمَا عَلَيْهِ، وَوَفَدْتُمَا إِلَيْهِ; فَإِنَّ ذَلِكَ عَوْنٌ لَكُمَا عَلَى مُخَاطَبَتِهِ وَمُجَاوَبَتِهِ، وَإِهْدَاءِ النَّصِيحَةِ إِلَيْهِ، وَإِقَامَةِ الْحُجَّةِ عَلَيْهِ. وَقَدْ جَاءَ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ: «يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: إِنَّ عَبْدِي كُلَّ عَبْدِي الَّذِي يَذْكُرُنِي وَهُوَ مُلَاقٍ قِرْنَهُ» وَقَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [الأنفال: 45] .
ثُمَّ قَالَ تَعَالَى: {اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى - فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى} [طه: 43 - 44] وَهَذَا مِنْ حِلْمِهِ تَعَالَى، وَكَرَمِهِ وَرَأْفَتِهِ وَرَحْمَتِهِ بِخَلْقِهِ، مَعَ عِلْمِهِ بِكُفْرِ فِرْعَوْنَ وَعُتُوِّهِ وَتَجَبُّرِهِ، وَهُوَ إِذْ ذَاكَ أَرْدَى خَلْقِهِ وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْهِ صَفْوَتَهُ مِنْ خَلَقَهُ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، وَمَعَ هَذَا يَقُولُ لَهُمَا وَيَأْمُرُهُمَا أَنْ يَدْعُوَاهُ إِلَيْهِ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ; بِرِفْقٍ وَلِينٍ، وَيُعَامِلَاهُ مُعَامَلَةَ مَنْ يَرْجُو أَنْ يَتَذَكَّرَ أَوْ يَخْشَى، كَمَا قَالَ تَعَالَى لِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125] . وَقَالَ تَعَالَى: وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمُ الْآيَةَ [الْعَنْكَبُوتِ: 46] . قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: {فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا} [طه: 44] ;. أَعْذِرَا إِلَيْهِ، قَوْلًا لَهُ: إِنَّ لَكَ رَبًّا وَلَكَ مَعَادًا، وَإِنَّ بَيْنَ يَدَيْكَ جَنَّةً
পৃষ্ঠা - ৫৮৩
অর্থাৎ “হে মানুষ ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত কর , যিনি
তোমাদেরকে ও তোমাদের পুর্ববর্তীগণকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার, যিনি
পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ
করে তা দিয়ে তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-মুল উৎপাদন করেন ৷ সুতরাং তোমরা জেনেশুনে
কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাড় করিয়াে না ৷” (সুরা বাকারা : ২১ ২২)
এ আয়াতে বৃষ্টির মাধ্যমে ভুমিকে সজীব করা ও উদ্ভিদ জন্মানাের মাধ্যমে পৃথিবীকে
সুশোভিত করা দ্বারা মৃত্যুর পর পুরুথানের বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে ৷ আল্লাহ
তা আলা এই প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন, “মাটি থেকে আমিও আমাদের সৃষ্টি করেছি তাতেই
তােমাদেরকে ফিরিয়ে দেব এবং তা হতে পুনর্বার তোমাদেরকে বের করব ৷ ”
অনুরুপ সুরায়ে আরাফের ২৯ নং আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে ট্রু, “,é;§’: ণ্হু ’$’ ($ অর্থাৎ-
তিনি যেভাবে প্রথমে তােমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেভাবে ফিরে আসবে ৷
অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে০ ং
প্ণ্ )
স্পো
৷ গ্রা
অর্থ্যৎ তিনি সৃষ্টিকে অন্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি এটাকে সৃষ্টি করবেন পুনবার ,
এটা তার জন্য অতি সহজ ৷ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তারই; এবং তিনিই
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় ৷ (সুরা রুম : ২৭)
অন্য আয়াতে র্চশ্রোঅজ্যোহ তাআলা ইরশাদ করেন :
, ৷ এেট্রু
খৃ
আমি তো তাকে আমার সমস্ত নিদর্শন দেখিয়েছিলাম কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করেছে ও
অমান্য করেছে ৷ সে বলল, হে মুসা! তুমি কি আমাদের নিকট এসেছ তোমার জাদু দ্বারা
আমাদেরকে আমাদের দেশ হতে বের করে দেবার জন্যে? আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট
উপস্থিত করব এটার অনুরুপ জাদু, সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে নির্ধারণ কর এক নির্দিষ্ট
সময় ও এক মধ্যবর্তী স্থান, যার ব্যতিক্রম আমরাও করব না এবং তৃমিও করবে না ৷ মুসা
বললেন, “তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেদিন পুর্বাহে জনগণকে সমবেত করা
হবে ৷’ (সুরা তা-হা : ৫৬-৫৯)
আল্লাহ্ তাআলা ফিরআউনের দুর্তাগ্য এবং আল্লাহ তাআলার নিদর্শনসমুহকে মিথ্যা
প্রতিপন্ন ও অমান্য করে সে যে পাপিষ্ঠতা ও নির্বুব্ধিতার পরিচয় দিয়েছে এর উল্লেখ করছেন ৷
ফিরআউন মুসা (আ)-কে বলেছিল যে, মুসা (আ) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবটাই জাদু ৷
وَنَارًا. وَقَالَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ: قُولَا لَهُ: إِنِّي إِلَيَّ الْعَفْوُ وَالْمَغْفِرَةُ أَقْرَبُ مِنِّي إِلَى الْغَضَبِ وَالْعُقُوبَةِ. وَقَالَ يَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ عِنْدَ هَذِهِ الْآيَةِ: يَا مَنْ يَتَحَبَّبُ إِلَى مَنْ يُعَادِيهِ، فَكَيْفَ بِمَنْ يَتَوَلَّاهُ وَيُنَادِيهِ؟ {قَالَا رَبَّنَا إِنَّنَا نَخَافُ أَنْ يَفْرُطَ عَلَيْنَا أَوْ أَنْ يَطْغَى} [طه: 45] وَذَلِكَ أَنَّ فِرْعَوْنَ كَانَ جَبَّارًا عَنِيدًا، شَيْطَانًا مَرِيدًا، لَهُ سُلْطَانٌ فِي بِلَادِ مِصْرَ طَوِيلٌ عَرِيضٌ، وَجَاهٌ وَجُنُودٌ وَعَسَاكِرُ وَسَطْوَةٌ، فَهَابَاهُ مِنْ حَيْثُ الْبَشَرِيَّةُ، وَخَافَا أَنْ يَسْطُوَ عَلَيْهِمَا فِي بَادِئِ الْأَمْرِ، فَثَبَّتَهُمَا تَعَالَى، وَهُوَ الْعَلِيُّ الْأَعْلَى، فَقَالَ: {لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [طه: 46] ، كَمَا قَالَ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {إِنَّا مَعَكُمْ مُسْتَمِعُونَ - فَأْتِيَاهُ فَقُولَا إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكَ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى - إِنَّا قَدْ أُوحِيَ إِلَيْنَا أَنَّ الْعَذَابَ عَلَى مَنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [طه: 15 - 48]
[طه: 47، 48] . يَذْكُرُ تَعَالَى أَنَّهُ أَمَرَهُمَا أَنْ يَذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ، فَيَدْعُوَاهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى; أَنْ يَعْبُدَهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنْ يُرْسِلَ مَعَهُمْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَيُطْلِقَهُمْ مِنْ أَسْرِهِ وَقَهْرِهِ، وَلَا يُعَذِّبَهُمْ {قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكَ} [طه: 47] وَهُوَ الْبُرْهَانُ الْعَظِيمُ فِي الْعِصِيِّ وَالْيَدِ {وَالسَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى} [طه: 47] تَقْيِيدٌ مُفِيدٌ بَلِيغٌ عَظِيمٌ. ثُمَّ تَهَدَّدَاهُ وَتَوَعَّدَاهُ عَلَى التَّكْذِيبِ، فَقَالَا: {إِنَّا قَدْ أُوحِيَ إِلَيْنَا أَنَّ الْعَذَابَ عَلَى مَنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [طه: 48] أَيْ; كَذَّبَ بِالْحَقِّ بِقَلْبِهِ، وَتَوَلَّى عَنِ الْعَمَلِ بِقَالَبِهِ.
وَقَدْ ذَكَرَ السُّدِّيُّ وَغَيْرُهُ، أَنَّهُ لَمَّا قَدِمَ مِنْ بِلَادِ مَدْيَنَ، دَخَلَ عَلَى أُمِّهِ
পৃষ্ঠা - ৫৮৪
কাজেই সেও এরুপ জাদু দ্বারা মুসা (আ) এর মুকাবিলা করবে ৷ অ৩ ৪পর মুকাবিলার জন্যে মুসা
(আ) ণ্ক সে একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থান নির্ধারণ করতে বলল ৷ আর মুসা (আ ) এরও উদ্দেশ্য
ছিল যাতে তিনি জনতার সামনে আল্লাহ তা আলার প্রদত্ত নিদর্শন, দলীল ও প্ৰমাণাদি প্রকাশ
করতে পারেন ৷ তাই তিনি বললেন, তােমাদের নির্ধারিত ৩সময় হচ্ছে তোমাদের উৎসবের দিন,
যেদিন তারা সাধারণত সমবেত হতো ৷ সেদিন দিনের প্রথমভাগে সুর্যের আলো প্রখর হবার
সময় জনগণকে সমবেত করা হবে, যাতে সত্য সুস্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা যায় ৷
এই মুকাবিল৷ রাতের বেলায় হবার জন্যে মুসা (আ) বলেননি, যাতে তাদের মধ্যে কোন সন্দেহ
উদয় না হয় এবং তাদের জন্যে সত্য ও অসত্য বোঝা অসম্ভব না হয়ে পড়ে ৷ বরং তিনি
চেয়েছেন যাতে এই মুক৷ ৷বিল৷ প্রকাশ্য দিবালোকে অনুষ্ঠিত হয় কেননা, তিনি তার প্রতিপালক
প্রদত্ত অতর্বৃষ্টি দ্বারা সুনিশ্চিত ছিলেন যে, এই মুকাবিলায় আল্লাহ তা “জানা নিজের নিদর্শন ও
দীনকে বিজয় মণ্ডিত করবেন যদিও কিবভীরা তা কােনমতেই মেনে নিতে পারবে না ৷
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ৷
৭ >) ষ্হ্র
§ ) )
অর্থাৎ-“অতঃপর ফিরআউন উঠে গেল এবং পরে তার কৌশলসমুহ একত্র করল ও
তারপর আসল ৷ মুসা (আ) তাদেরকে বলল, দুর্তোপ তোমাদের ৷ তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা
আরোপ করবে না ৷ করলে তিনি তােমাদেরকে শান্তি দ্বারা সমুলে ধ্বংস করবেন ৷ যে মিথ্যা
উদ্ভাবন করেছে সেই ব্যর্থ হয়েছে ৷ ওরা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করল এবং
ওরা গোপনে পরামর্শ করল ৷ ওরা বলল, এ দু’জন অবশ্যই জাদুকর, তারা চায় তাদের জাদু
দ্বারা তােমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কার করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা
ধ্বংস করতে ৷ অতএব, তোমরা তোমাদের জাদু ক্রিয়া সংহত কর ৷ অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে
উপস্থিত হও এবং যে আজ জয়ী হয়ে সে সফল হবে ৷ (সুরা তা-হ৷ : ৬০ ৬৪ )
আল্লাহ তাআলা ফিরআউনের সত্যের বিরুদ্ধে মুকাবিলা করার প্রস্তুতি সম্বন্ধে বলেন যে,
ফিরআউন চলে গেল এবং তার রাজ্যের সমস্ত জাদুকরকে একত্র করল ৷ ঐ সময় মিসর দেশটি
জাদুকরে ভরপুর ছিল ৷ আর এ জাদুকররা ছিল তাদের পেশায় খুবই পটু ৷ প্রতিটি শহর ও
প্রতিটি স্থান থেকে সঞ্চাহ করে জাদুকরদেরকে সমবেত করা হল ৷ বন্তুত৩ ৩তাদের একটি বিরাট
দল সমবেত হল ৷ কেউ কেউ বলেন, যথা মুহাম্মদ ইবন কা ব (র) বলেন, “তারা ছিল সংখ্যায়
আশি হাজার ৷” কাসিম ইবন আবু বুরদা (র) বলেন, “তারা ছিল সংখ্যায় সত্তর জাহার ৷” সুদ্দী
(র) বলেন, “তাদের সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজার থেকে চল্লিশ হাজারের মধ্যে ৷ আবু উমামা (র)
বলেন “তারা ছিল উনিশ হাজার ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, “তারা ছিল পনের
আলবিদায়৷ ওয়ান নিহায়া (১ম খু,ণ্ডু,)প্লু,ক্কু,ক্রেগাে০জ্যো,
ঙু ——
ষ্
টু
وَأَخِيهِ هَارُونَ وَهُمَا يَتَعَشَّيَانِ مِنْ طَعَامٍ فِيهِ الطَّفَيْشَلُ; وَهُوَ اللِّفْتُ فَأَكَلَ مَعَهُمَا، ثُمَّ قَالَ يَا هَارُونُ، إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي وَأَمَرَكَ أَنْ نَدْعُوَ فِرْعَوْنَ إِلَى عِبَادَتِهِ، فَقُمْ مَعِي. فَقَامَا يَقْصِدَانِ بَابَ فِرْعَوْنَ، فَإِذَا هُوَ مُغْلَقٌ، فَقَالَ مُوسَى لِلْبَوَّابِينَ وَالْحَجَبَةِ: أَعْلِمُوهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ بِالْبَابِ. فَجَعَلُوا يَسْخَرُونَ مِنْهُ وَيَسْتَهْزِئُونَ بِهِ. وَقَدْ زَعَمَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُمَا عَلَيْهِ إِلَّا بَعْدَ حِينٍ طَوِيلٍ. وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: أَذِنَ لَهُمَا بَعْدَ سَنَتَيْنِ; لِأَنَّهُ لَمْ يَكُ أَحَدٌ يَتَجَاسَرُ عَلَى الِاسْتِئْذَانِ لَهُمَا. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَيُقَالُ: إِنَّ مُوسَى تَقَدَّمَ إِلَى الْبَابِ فَطَرَقَهُ بِعَصَاهُ فَانْزَعَجَ فِرْعَوْنُ وَأَمَرَ بِإِحْضَارِهِمَا، فَوَقَفَا بَيْنَ يَدَيْهِ، فَدَعَوَاهُ إِلَى اللَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ، كَمَا أَمَرَهُمَا. وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنَّ اللَّهَ قَالَ لِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ: إِنَّ هَارُونَ اللَّاوِيَّ - يَعْنِي مِنْ نَسْلِ لَاوِي بْنِ يَعْقُوبَ - سَيَخْرُجُ وَيَتَلَقَّاكَ. وَأَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مَعَهُ مَشَايِخَ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَى عِنْدِ فِرْعَوْنَ، وَأَمَرَهُ أَنْ يُظْهِرَ مَا آتَاهُ مِنَ الْآيَاتِ. وَقَالَ لَهُ: سَأُقْسِّي قَلْبَهُ فَلَا يُرْسِلُ الشَّعْبَ، وَأَكْثَرُ آيَاتِي وَأَعَاجِيبِي بِأَرْضِ مِصْرَ. وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَارُونَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى أَخِيهِ يَتَلَقَّاهُ بِالْبَرِّيَّةِ عِنْدَ جَبَلِ حُورِيبَ، فَلَمَّا تَلْقَاهُ أَخْبَرَهُ مُوسَى بِمَا أَمَرَهُ بِهِ رَبُّهُ، فَلَمَّا دَخَلَا مِصْرَ، جَمْعَا شُيُوخَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَذَهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ، فَلَمَّا بَلَّغَاهُ رِسَالَةَ اللَّهِ قَالَ: مَنْ هُوَ اللَّهُ؟ لَا أَعْرِفُهُ، وَلَا أُرْسِلُ بَنِي إِسْرَائِيلَ.
وَقَالَ اللَّهُ مُخْبِرًا عَنْ فِرْعَوْنَ:
পৃষ্ঠা - ৫৮৫
হাজার ৷” কা’ব আহবারেব মতে, তারা ছিল যার হাজার ৷ ইবন আবু হাতিম (র) আবদুল্লাহ
ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, “তারা ছিল সংখ্যায় সত্তরজন ৷” অন্য
সুত্রে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (না) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, “তারা ছিল বনী ইসরাঈল
ৎশীয় চল্লিশজন ক্রীতদাস ৷ এদেরকে ফিরআউন তাদের গণকদেৱ কাছে যেতে নির্দেশ
দিয়েছিল এবং সেখানে জাদু শিক্ষা করার জন্যে হুকুম দিয়েছিল ৷ এই জন্যই তারা
আত্মসমর্পণের সময় বলেছিল , তুমি আমাদেরকে জাদু শিখতে বাধ্য করেছিলে ৷ ’ এই অভিমতটি
সন্দেহযুক্ত ৷
ফিরআউন, তার আমীর-উমারা, পারিষদবর্গ, সরকারী কর্মচারীবৃন্দ এবং নির্বিশেষে দেশের
সকলেই মাঠে হাযির হল ৷ কেননা, ফিরআউন তাদের মধ্যে ঘোষণা করেছিল তারা সকলে যেন
এই বিরাট মেলায় হাযির হয় ৷ তারা বের হয়ে পড়ল এবং বলাবলি করতে লাগল, জাদুকররা
যদি জিতে যায় তাহলে আমরা তাদেরই অনুসরণ করব ৷ মুসা (আ) জাদুকরদের দিকে অগ্রসর
হয়ে তাদেরকে উপদেশ দিলেন এবং আল্লাহ তাআলড়ার নিদর্শন ও দলীলাদির বিরুদ্ধে ভ্রান্ত জাদু
নিয়ে মুকাবিলায় অবতরণের জন্যে তাদেরকে তিরস্কারও করেন ৷ তিনি তাদেরকে বললেন,
“দুর্ভেড়াগ তোমাদের ! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে না ৷ করলে তিনি
তোমাদেরকে শান্তি দ্বারা সমুলে ধ্বংস করে দেবেন ৷ যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সেই ব্যর্থ
হয়েছে ৷ তারা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করল ৷” কেউ কেউ বলেন, তাদের
বিতর্কের অর্থ হচ্ছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, এটা নবীর কথা, জাদু নয় ৷ আবার কেউ
কেউ বলে, বরং সে-ই জাদুকর ৷ ’ আল্লাহ্ তাঅলােই সম্যক জ্ঞাত ৷
এ বিষয়ে এবং অন্যান্য বিষয় সম্বন্ধে তারা গোপনে সলাপরামর্শ করল এবং বলতে লাগল,
মুসা (আ) ও তার ভাই হারুন (আ) দুজনই বিজ্ঞ ও দক্ষ জাদুকর; তারা তাদের জাদুবিদ্যায়
অত্যন্ত সিদ্ধহস্ত ৷ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের ব্যাপারে যেন লোকজন সমবেত হয়, তারা
বাদশাহ ও তার পারিষদবর্গের উপর চড়াও হতে পারে, তোমাদের সামগ্রিকভাবে নির্মুল করে
দিতে পারে ৷ আর এ জাদুবিদ্যা দিয়ে যেন তারা তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করতে পারে ৷ তারা
বলতে লাগল, তোমরা তোমাদের জাদু ক্রিয়া সংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও
এবং যে আজ জয়ী হয়ে সে সফল হবে ৷ ’ প্রথম কথাটি তারা এজন্য বলল, যাতে তারা তাদের
কাছে প্রাপ্ত যাবতীয় ধরনের চেষ্টা, তদবীর, ছলচড়াতুরী, অন্যের প্রতি অপবাদ, জাদু ও
বৌকাবাজির আশ্রয় নেয় ৷ আফসেড়াস, অল্লোহর কসম, তাদের সমস্ত ধ্যান ধারণা ও যুক্তি-তর্ক
ছিল মিথ্যা ও ভ্রান্ত ৷ অপবাদ, জাদু ও ভিত্তিহীন যুক্তি-তর্ক কেমন করে এমন সব মু’জিযার
মুকাবিলা করতে পাংর , যেগুলো মহান আল্লাহ আপন বান্দা ও রাসুল মুসা (আ)-এর মাধ্যমে
প্রদর্শন করেছেন ৷ রাসুলকে এমন দলীল দ্বারা শক্তিশালী ও পুষ্ট করা হয়েছে, যার সামনে দৃষ্টি
ন্তিমিত হয়ে যায় এবং লোক হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে ৷ ফিরআউন বলতে লাগল, তোমাদের কাছে যা
কিছু তদবীর জানা রয়েছে সব কিছু নিয়ে মাঠে নেমে পড় এবং একতাবদ্ধ হয়ে মুকাবিলা কর ৷ ’
অতঃপর তারা পরস্পরকে মুকাবিলার জন্যে অগ্রসর হতে অনুপ্রাণিত করতে লাগল ৷ কেননা,
ফিরআউন তাদেরকে পদমর্যাদা ও উপচৌকনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ৷ অবশ্যই শয়তানের
প্রতিশ্রুতি প্রতারণামুলক ৷
{قَالَ فَمَنْ رَبُّكُمَا يَا مُوسَى - قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى - قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الْأُولَى - قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى - الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْ نَبَاتٍ شَتَّى - كُلُوا وَارْعَوْا أَنْعَامَكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِأُولِي النُّهَى - مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} [طه: 49 - 55]
[طه: 49 - 55] . يَقُولُ تَعَالَى مُخْبِرًا عَنْ فِرْعَوْنَ أَنَّهُ أَنْكَرَ إِثْبَاتَ الصَّانِعِ تَعَالَى، قَائِلًا: {فَمَنْ رَبُّكُمَا يَا مُوسَى - قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى} [طه: 49 - 50] أَيْ; هُوَ الَّذِي خَلَقَ الْخَلْقَ، وَقَدَّرَ لَهُمْ أَعْمَالًا وَأَرْزَاقًا وَآجَالًا، وَكَتَبَ ذَلِكَ عِنْدَهُ فِي كِتَابِهِ اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ، ثُمَّ هَدَى كُلَّ مَخْلُوقٍ إِلَى مَا قَدَّرَهُ لَهُ، فَطَابَقَ عِلْمَهُ فِيهِمْ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي قَدَّرَهُ وَعَلِمَهُ; لِكَمَالِ عِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ وَقَدَرِهِ. وَهَذِهِ الْآيَةُ كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى - الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّى - وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى} [الأعلى: 1 - 3]
[الْأَعْلَى: 1 - 3] . أَيْ; قَدَّرَ قَدَرًا وَهَدَى الْخَلَائِقَ إِلَيْهِ {قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الْأُولَى} [طه: 51] يَقُولُ فِرْعَوْنُ لِمُوسَى: فَإِذَا كَانَ رَبُّكَ هُوَ الْخَالِقُ الْمُقَدِّرُ، الْهَادِي الْخَلَائِقَ، لِمَا قَدَّرَهُ، وَهُوَ بِهَذِهِ الْمَثَابَةِ مِنْ أَنَّهُ لَا يَسْتَحِقُّ الْعِبَادَةَ سِوَاهُ، فَلِمَ عَبَدَ الْأَوَّلُونَ غَيْرَهُ وَأَشْرَكُوا بِهِ مِنَ الْكَوَاكِبِ وَالْأَنْدَادِ مَا قَدْ عَلِمْتَ؟ فَهَلَّا اهْتَدَى إِلَى مَا ذَكَرْتَهُ الْقُرُونُ الْأُولَى؟ {قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى} [طه: 52] أَيْ; هُمْ وَإِنْ عَبَدُوا غَيْرَهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِحُجَّةٍ لَكَ، وَلَا يَدُلُّ عَلَى خِلَافِ مَا أَقُولُ; لِأَنَّهُمْ جَهَلَةٌ مِثْلُكَ، وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ مُسْتَطَرٌ عَلَيْهِمْ فِي الزُّبُرِ مِنْ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ، وَسَيَجْزِيهِمْ عَلَى ذَلِكَ رَبِّي، عَزَّ وَجَلَّ، وَلَا يَظْلِمُ أَحَدًا مِثْقَالَ ذَرَّةٍ; لِأَنَّ جَمِيعَ أَفْعَالِ الْعِبَادِ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ فِي كِتَابٍ لَا يَضِلُّ عَنْهُ شَيْءٌ، وَلَا يَنْسَى رَبِّي شَيْئًا. ثُمَّ ذَكَرَ لَهُ عَظَمَةَ الرَّبِّ، وَقُدْرَتَهُ عَلَى خَلْقِ الْأَشْيَاءِ وَجَعْلَهُ الْأَرْضَ
পৃষ্ঠা - ৫৮৬
আল্লাহ তাআ লা ইরশাদ করেন ং
প্লু;ই;;প্১ র্দুধ্দ্বুা ৷
া;র্দু৷ ৷ ব্লুাদ্বুদ্বু ১াদ্বু ট্রুন্ৰু
৷ ’
ত্বে-শ্ মোঃ
অর্থাৎ-তারা বলল, হে মুসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা প্রথমে অড়ামরাই নিক্ষেপ করি ৷ ’
মুসা (আ) বলল, বরং তােমরাই নিক্ষেপ কর ৷ ’ তাদের জাদু প্রভাবে অকম্মাৎ মুসা (আ)-এর
মনে হল তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে ৷ মুসা (আ) তার অম্ভরে কিছু ভীতি অনুভব
করল ৷ আমি বললাম, ভর করবে না, তুমিই হচ্ছে৷ প্রবল ৷ তোমার ডান হাতে যা রয়েছে তা
নিক্ষেপ কর; এটা ওরা যা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে ৷ ওরা যা করেছে তা তাে কেবল
জাদুকরের কৌশল ৷ জাদুকর যেখানেই আসুক , সফল হবে না ৷ ’ (সুরা তা-হা : ৬৫ ৬৯ )
জাদুকরর৷ যখন সারিবদ্ধ হল, মুসা (আ) তাদের সামনে গিয়ে র্দাড়ালেন ৷ তাঝুতথন মুসা
(আ)-কে বলল, হয় তুমি আমাদের আগে নিক্ষেপ কর, অথবা আমরা আগে নিক্ষেপ করি ৷ ’
মুসা (আ) বললেন, বরং তােমরাই প্রথম নিক্ষেপ কর ৷ ’ অতঃপর তারা দড়ি ও লাঠিগুলো
নিক্ষেপ বস্মার ঘোষণা দিল এবং পারদ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এগুলোতে স্থাপন করল ৷ আর এ
জন্যে দড়ি ও লাঠিগুলো দর্শকের চোখে মনে হচ্ছিল যেন নিজ ইচ্ছে মাফিক ছুটাছুটি করছে
অথচ এগুলো যস্তের জন্যেই নড়াচড়া করছিল ৷ এভাবে তারা মানুষের চােখকে জাদু করেছিল
এবং তাদের মনের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছিল ৷ তারা তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ
করার সময় বলেছিল, ফিরআউনের মহা মর্যাদার শপথ ! আমরা বিজয়ী হবই ৷
আল্লাহ্ তাআ লা ইরশাদ করেন ং
যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন তারা লোকের চোখে জাদু করল, তাদেরকে আতংকিত
করল এবং তারা এক বড় রকমের জাদু দেথাল ৷ ’ মুসা (আ) জনগণের জন্যে একটু ভীত হয়ে
পড়লেন ৷ তিনি আশং কা ককরতে লাগলেন যে, ওহী প্রাপ্তির পুর্বে তিনি তার হাতের লাঠি৷ ছ৷ ড়তে
পারছেন না, তইি লাঠি ছাড়া র পুর্বেই যদি জনগণ তাদের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে প্রভাবিত হয়ে যায় ৷
আল্লাহ তা অ লা নির্দিষ্ট মুহুতে ন্লাঠি নিক্ষেপ করার জন্যে মুসা (আ) এর কাছে ওহী নাযিল
করেন ৷ মুসা (আ) তখন হাতের লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন ৷
যেমন আল্লাহ তা আ লা৷ অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন :
র্দুপু;ঠুন্ছু১৷ ধ্র্চুাত্রর্চু, ৷ ’ <৷ ৷ কু;;প্ল৷ ৷ৰু; চ্;;; ; ১ ; প্রুণ্ এ্ঢস্
مِهَادًا، وَالسَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا، وَتَسْخِيرَهُ السَّحَابَ وَالْأَمْطَارَ لِرِزْقِ الْعِبَادِ وَدَوَابِّهِمْ وَأَنْعَامِهِمْ، كَمَا قَالَ: {كُلُوا وَارْعَوْا أَنْعَامَكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِأُولِي النُّهَى} [طه: 54] أَيْ; لِذَوِي الْعُقُولِ الصَّحِيحَةِ الْمُسْتَقِيمَةِ وَالْفِطَرِ الْقَوِيمَةِ غَيْرِ السَّقِيمَةِ. فَهُوَ تَعَالَى الْخَالِقُ الرَّزَّاقُ. وَكَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ - الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 21 - 22]
[الْبَقَرَةِ: 21، 22] . وَلَمَّا ذَكَرَ إِحْيَاءَ الْأَرْضِ بِالْمَطَرِ، وَاهْتِزَازَهَا بِإِخْرَاجِ نَبَاتِهَا فِيهِ، نَبَّهَ بِهِ عَلَى الْمَعَادِ فَقَالَ: مِنْهَا أَيْ; مِنَ الْأَرْضِ {خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} [طه: 55] كَمَا قَالَ تَعَالَى: {كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ} [الأعراف: 29] . وَقَالَ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الروم: 27] .
ثُمَّ قَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَرَيْنَاهُ آيَاتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَأَبَى - قَالَ أَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ أَرْضِنَا بِسِحْرِكَ يَا مُوسَى - فَلَنَأْتِيَنَّكَ بِسِحْرٍ مِثْلِهِ فَاجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ مَوْعِدًا لَا نُخْلِفُهُ نَحْنُ وَلَا أَنْتَ مَكَانًا سُوًى - قَالَ مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّينَةِ وَأَنْ يُحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى} [طه: 56 - 59]
[طه: 56 - 59] . يُخْبِرُ تَعَالَى عَنْ شَقَاءِ فِرْعَوْنَ وَكَثْرَةِ جَهْلِهِ وَقِلَّةِ عَقْلِهِ فِي تَكْذِيبِهِ بِآيَاتِ اللَّهِ، وَاسْتِكْبَارِهِ عَنِ اتِّبَاعِهَا، وَقَوْلِهِ لِمُوسَى: إِنَّ هَذَا الَّذِي جِئْتَ بِهِ سِحْرٌ وَنَحْنُ نُعَارِضُكَ بِمِثْلِهِ. ثُمَّ طَلَبَ مِنْ مُوسَى
পৃষ্ঠা - ৫৮৭
অর্থাৎ “তোমরা যা এনেছ তা জাদু,অ ৷ল্লাহ্ তা অ ৷লা এটাকে শীইে অসার করে দেবেন ৷
আল্লাহ্ তা জানা অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কর্ম সার্থক করেন না ৷ অপরাধীরা অপ্রীতিকর মনে
করলেও আল্লাহ্ তাআলা তার রাণী অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন ৷” (সুরা ইউনুস :
৮ ১ ৮ ২)
আল্লাহ তাআল৷ অন্যত্র ইরশাদ করেন :
গ্রএণ্ড্রর্টু শ্ং
৷ “¢§;§
ল্গুগ্লু;হু ;“;৷ ৷ পু,ৰুৰু৷ ৷ ,
এ এ এ এ
অর্থাৎ-মুসার প্রতি আমি প্রতাদেশ করলাম, তৃমিও তে ৷মার লাঠি নিক্ষেপ কর’ সহসা
এটা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলােকে গ্রাস করতে লাগল ৷ ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হল এবং তারা বা
করছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হল, সেখানে তারা পরাভুত হল ও লাঞ্ছিত হল এবং জাদুকররা
সিজদাবনত হল ৷ তারা বলল, আমরা ঈমান আনলাম জগতসমুহের প্রতিপালকের প্রতি যিনি
মুসা ও হ্ারুন এরও প্রতিপালক ৷ (সুরা আরাফ : ১ ১ ৭ ১ ২২)
একাধিক পুর্বসুরি আলিম উল্লেখ করেন যে, মুসা (আ) যখন আপন লাঠি নিক্ষেপ করলেন,
তখন তা পা, বড় গর্দান এবং ভয়ংকর ও ভীতিপ্রদ অবয়ববিশিষ্ট একটি বিরাট অজগরে পরিণত
হল ৷ জনতা এটাকে দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত ও বিহ্বল হয়ে পড়ল এবং ছুটে পালাতে লাগল ৷ জনতা
অজগর দেখে যখন পিছনে সরে (গল, অজগর সম্মুখ পানে অগ্রসর হল এবং জাদুকরদের দড়ি
ও লাঠি দিয়ে তৈরি অলীক সৃষ্টিগুলােকে একে একে অতি ৩দ্রুত গ্রাস করতে লাগল ৷ জনতা
অজগরের প্রতি অবাক দৃষ্টিতে৩ ৩তাকিয়ে রইল ৷ অন্যদিকে জ ৷দৃকররা মুসা (আ) এর লাঠির কাও
দেখে অবাক হয়ে গেল এবং এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করল যা তাদের ধারণার
বাইরে ছিল, যা৩ ৷দের বিদ্যার ও পেশার আওতা র বাইরে ছিল ৷ এখন তারা স্পষ্টভ৷ ৷বে বুঝতে
ও জানতে পারল যে, মুসা (আ)-এর কর্মকাণ্ড ভিত্তিহীন জাদু নয়, অ,বাস্তব নয়, মায়া নয়, নিছক
ধারণা নয়, মিথ্যা নয়, অপবাদ নয়, পথভ্রষ্টতাও নয় বরং এটাই সত্য বা যথা ৷র্থ ৷ সত্য দ্বারা পুষ্ট
রাসুল ব্যতীত অন্য কোন ধারক ও বাহকের এরুপ অত ত্যাশ্চর্য প্রদর্শন করা আর কারো পক্ষেই
সম্ভব না ৷ এভাবে আল্লাহ তা আলা তাদের অন্তর থেকে অজ্ঞতার পর্দা দুর করে দিলেন এবং
তাদের অন্তরকে হিদায়াতের নুর দ্বারা আলোকিত করে দিলেন ৷ তাকে কাঠিন্য মুক্ত করে
দিলেন ৷ ফলে তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে ঝুকে পড়ল এবং তার সন্তুষ্টির জন্যেই সিজদায়
নত হল ৷ তারা উপস্থিত জনতার পক্ষ থেকে কোন প্রকার শাস্তি বা নির্যাতনের আশংকা না করে
প্রকাশ্যভাত্ত বে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলতে লাগল, “আমরা মুসা ও হারুন এর
প্রতিপা ৷লকের প্রতি বিশ্বাস ন্থ৷ পন করলাম ৷”
أَنَّ يُوَاعِدَهُ إِلَى وَقْتٍ مَعْلُومٍ وَمَكَانٍ مَعْلُومٍ، وَكَانَ هَذَا مِنْ أَكْبَرِ مَقَاصِدِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ; أَنْ يُظْهِرَ آيَاتِ اللَّهِ وَحُجَجَهُ وَبَرَاهِينَهُ جَهْرَةً بِحَضْرَةِ النَّاسِ وَلِهَذَا قَالَ: {مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّينَةِ} [طه: 59] وَكَانَ يَوْمَ عِيدٍ مِنْ أَعْيَادِهِمْ، وَمُجْتَمَعٍ لَهُمْ {وَأَنْ يُحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى} [طه: 59] أَيْ; مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ، فِي وَقْتِ اشْتِدَادِ ضِيَاءِ الشَّمْسِ، فَيَكُونُ الْحَقُّ أَظْهَرَ وَأَجْلَى. وَلَمْ يَطْلُبْ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ لَيْلًا فِي ظَلَامٍ، كَيْمَا يُرَوِّجُ عَلَيْهِمْ مِحَالًا وَبَاطِلًا، بَلْ طَلَبَ أَنْ يَكُونَ نَهَارًا جَهْرَةً لِأَنَّهُ عَلَى بَصِيرَةٍ مِنْ رَبِّهِ، وَيَقِينٍ أَنَّ اللَّهَ سَيُظْهِرُ كَلِمَتَهُ وَدِينَهُ وَإِنْ رَغِمَتْ أُنُوفُ الْقِبْطِ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَتَوَلَّى فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَيْدَهُ ثُمَّ أَتَى - قَالَ لَهُمْ مُوسَى وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى - فَتَنَازَعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى - قَالُوا إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَنْ يُخْرِجَاكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ الْمُثْلَى - فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا وَقَدْ أَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلَى} [طه: 60 - 64]
[طه: 60 - 64] . يُخْبِرُ تَعَالَى عَنْ فِرْعَوْنَ أَنَّهُ ذَهَبَ، فَجَمَعَ مَنْ كَانَ بِبِلَادِهِ مِنَ السَّحَرَةِ، وَكَانَتْ بِلَادُ مِصْرَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ مَمْلُوءَةً سَحَرَةً، فُضَلَاءَ، فِي فَنِّهِمْ غَايَةٌ فَجَمَعُوا لَهُ مَنْ كُلِّ بَلَدٍ، وَمِنْ كُلِّ مَكَانٍ، فَاجْتَمَعَ مِنْهُمْ خُلُقٌ كَثِيرٌ وَجَمُّ غَفِيرٌ. فَقِيلَ: كَانُوا ثَمَانِينَ أَلْفًا. قَالَهُ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ. وَقِيلَ: سَبْعِينَ أَلْفًا. قَالَهُ الْقَاسِمُ بْنُ أَبِي بَزَّةَ وَقَالَ السُّدِّيُّ: بِضْعَةً وَثَلَاثِينَ أَلْفًا. وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ: تِسْعَةَ عَشَرَ أَلْفًا. وَقَالَ
পৃষ্ঠা - ৫৮৮
আল্লাহ্ তাআল৷ ইরশ ৷৷দ করেনং :
ধ্৷ ট্রু;;;; ৷ (াঢ ’;,ঠুর্চু;ঠু;,ঠুঝুএে , ট্রুদ্বু; @ ৷ ৷,াঢ ৷ ;ঘু;পু; র্চু£পুএ ৷ ফ্রোএে
১াএ
এ ট্র;এি;
&
,;;দ্বুএে ৷;,,া;ণ্ ^;;এার্চু :;১; ৷ ৷ ,ৰুব্লুর্চু; র্টুন্£;ণ্ ”fl; ঠুাঠু:ছু; ;,৷ ,াএে
এ
দ্বুাধ্ত্ষ্;ছুক্ট্রদ্বুর্বৃ১! ,;;ৰুঙ্কু,র্চুএে;,এো;,;; &;
é»; ৷ শুণুর্চু;
অর্থাৎ “তারপর জাদুকররা সিজদাবনত হল ও বলল, অড়ামরা হারুন ও মুসার
প্রতিপালকেব প্রতি ঈমান আনলাম ৷ ফিরআউন বলল৪ ,কী আমি তে তামাদেরকে অনুমতি
দেয়ার পুর্বেই তোমরা মুসাতে বিশ্বাস স্থাপন করলে ! দেখছি, সে তো তোমাদের প্রধান, সে
তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে ৷ সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক
থেকে কেটে ফেলব এবং আমি তােমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শুলবিদ্ধ করবই এবং তোমরা
অবশ্যই জ৷ নতে পারবে-আমাদের মধ্যে কার শাস্তি কঠােবত র ও অধিক স্থায়ী ৷ তারা বলল,
আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে৩ তার উপর এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার
উপর তোমাকে আমরা কিছুরুআ প্রাধান্য দেব না; সুতরাং তুমি যা করতে চাও তা করতে পার ৷
তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনের উপর কর্তৃৎ করতে পার ৷ আমরা নিশ্চয়ই আমাদের
প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি ক্ষমা করেন আমাদের অপরাধ এবং তুমি
আমাদেরকে যে জাদু করতে বাধ্য করেছ তাও ৷ আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও স্থায়ী, যে তার
প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হয়ে তার জন্য তো রয়েছে জাহান্নাম, সেথায় সে
মরবেও না, বীচবেও না ৷ যারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে ,
তাদের জন্যে রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা স্থায়ী জ ন্নাত যাব পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তারা
স্থায়ী হবে এবং এই পুরস্কার তাদেরই, যারা পবিত্র ৷ (সুরা তা-হ৷ ং ৭০ ৭৬)
সাঈদ ইবন জুব৷ ৷ইর (বা), ইকরিমা, কাসিম ইবন আবু বুরদা, ৷আওযায়ী (র) প্রমুখ বলেন,
যখন জাদৃকরর৷ মুসা (আ) এর মুজিয৷ প্রত্যক্ষ করে সিজদায় অবনত হলেন তখন তারা
জান্নাতে তাদের বসবাসের জন্য তৈ রি ও তাদের অভ্যর্থনার জন্যে সৃসজ্জিত ও দালানকােঠা
অবলোকন করলেন আর এজন্যই তারা ফিরআউনেব ভয়ভীতি, শান্তি ও হুমকির প্রতি
مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: خَمْسَةَ عَشَرَ أَلْفًا. وَقَالَ كَعْبُ الْأَحْبَارِ: كَانُوا اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا. وَرَوَى ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: كَانُوا سَبْعِينَ رَجُلًا. وَرَوَى عَنْهُ أَيْضًا أَنَّهُمْ كَانُوا أَرْبَعِينَ غُلَامًا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَمَرَهُمْ فِرْعَوْنُ أَنْ يَذْهَبُوا إِلَى الْعُرَفَاءِ، فَيَتَعَلَّمُوا السِّحْرَ. وَلِهَذَا قَالُوا: {وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى} [طه: 73] وَفِي هَذَا نَظَرٌ.
وَحَضَرَ فِرْعَوْنُ وَأُمَرَاؤُهُ وَأَهْلُ دَوْلَتِهِ وَأَهْلُ بَلَدِهِ عَنْ بَكْرَةِ أَبِيهِمْ; وَذَلِكَ أَنَّ فِرْعَوْنَ نَادَى فِيهِمْ أَنْ يَحْضُرُوا هَذَا الْمَوْقِفَ الْعَظِيمَ، فَخَرَجُوا وَهُمْ يَقُولُونَ: {لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِنْ كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ} [الشعراء: 40] . وَتَقَدَّمَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَى السَّحَرَةِ، فَوَعَظَهُمْ وَزَجَرَهُمْ عَنْ تَعَاطِي السِّحْرِ الْبَاطِلِ، الَّذِي فِيهِ مُعَارَضَةٌ لِآيَاتِ اللَّهِ وَحُجَجِهِ، فَقَالَ: {وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى - فَتَنَازَعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ} [طه: 61 - 62] قِيلَ: مَعْنَاهُ أَنَّهُمُ اخْتَلَفُوا فِيمَا بَيْنَهُمْ; فَقَائِلٌ يَقُولُ: هَذَا كَلَامُ نَبِيٍّ وَلَيْسَ بِسَاحِرٍ. وَقَائِلٌ مِنْهُمْ يَقُولُ: بَلْ هُوَ سَاحِرٌ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَأَسَرُّوا التَّنَاجِيَ بِهَذَا وَغَيْرِهِ قَالُوا {إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَنْ يُخْرِجَاكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا} [طه: 63] يَقُولُونَ: إِنَّ هَذَا وَأَخَاهُ هَارُونَ سَاحِرَانِ، عَلِيمَانِ، مُطْبِقَانِ مُتْقِنَانِ لِهَذِهِ الصِّنَاعَةِ، وَمُرَادُهُمْ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ عَلَيْهِمَا، وَيَصُولَا عَلَى الْمَلِكِ وَحَاشِيَتِهِ، وَيَسْتَأْصِلَاكُمْ عَنْ آخِرِكُمْ، وَيَسْتَأْمِرَا عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الصِّنَاعَةِ
পৃষ্ঠা - ৫৮৯
ভ্রাক্ষেপমাত্র করলেন না ৷ ফিরআউন যখন দেখতে পেল, জাদুকররা মুসলমান হয়ে গেছে এবং
তারা মুসা (আ) ও হারুন (আ)-এর প্রচারিত বাণী লোকসমাজে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে,
সে ভীত হয়ে পড়ল এবং ভবিষ্যত আশংকায় দুশ্চিম্ভাপ্রস্ত হয়ে পড়ল ৷ এতে যে হতবিহ্বল হয়ে
আপন অস্তর্বৃষ্টি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলল ৷ তার মধ্যে ছিল শঠতা, বোকাবাজী, প্রতারণা,
পথভ্রষ্টত৷ ও জনগণকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখার সুনিপুণ কৌশল ৷ এজন্যই সে জনতার
উপস্থিতিতে জাদুকরদের বলল, কী আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পুর্বেই তোমরা মুসাতে
বিশ্বাস স্থাপন করলে!’ অর্থাৎ আমার প্রজাদের সামনে এরুপ জঘন্য কাজটি করার পুর্বে কেন
আমার সাথে পরামর্শ করলে না ৷ অতঃপর সে তাদেরকে ধম্কি দিল, শান্তির ভয় দেখাল এবং
মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বলতে লাগল, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্র ধান ; সে-ই তোমাদেরকে
জাদৃশিক্ষা দিয়েছে ৷
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে০ ং
’
;,;র্দু;;ন্ ৷,া; ৷ ৷ন্ঠু; ৷,ন্নু,ছুট্রুএ দ্বুর্দুট্রু;;া^ ৷ ;৷ ;,;;,ৰুহু ,ব্লু ;৷ ৷ ;; ;,া
অর্থাৎ-“ফিরআউন বলল, কী! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পুর্বে তোমরা এটাতে
বিশ্বাস করলে? এ তো এক চক্রাত; তোমরা সজ্ঞানে এই চক্রাত করেছ নগরবাসীদেরকে এটা
হতে বহিষ্কারের জন্যে ৷ আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই এটার পরিণাম জানবে ৷” (সুরা আরাফ : ১২৩)
ফিরআউনের এ উক্তিটি একটি ভিত্তিহীন অপবাদ ব্যতীত কিছু নয় ৷ প্রতেকেটি বোধ-
শক্তিসষ্পন্ন লোকই জ সে যে, এটা ফিরআউনের কুফরী, মিথ্যাচারিতা ও প্রলাপ ছাড়া আর
কিছুই নয় বরং এরুপ কথা ছেলেমেয়েদের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয় ৷ কেননা তার অমাতাবর্গ ও
অন্য সকলেরই জানা ছিল যে, মুসা (আ)-কে জাদুকররা কোনদিনও দেখেননি, তিনি কেমন
করে তাদের প্রধান হতে পারেলঃ যিনি তাদেরকে জাদৃশিক্ষা দিয়েছেনঃ এছাড়া তিনি তাদেরকে
একত্র করেননি এবং তাদের একত্রিত হবার বিষয়টিও তার কাছে জানা ছিল না, বরং ফিরআউন
তাদেরকে ডেকেছে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, গ্রাম-গঞ্জ, শহর নগর, মিসরের শহরত লি ও
বিভিন্ন জায়গা থেকে বাছাই করে তাদেরকে সে মুসা (আ) এর সামনে উপস্থাপন করেছে ৷
সুরা আরাফে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
টুা,;,, ৷;
া
হ্র;ন্ছু; ,১৷ ৷ ১া৷ <ৰুা৷ <া৷প্ৰপ্রুা; া,:;া১৷ ট্রু,৷ ষ্া; ট্র£ ;;;র্পো ’ ’ ,;র্চুা’াঠুপুা৷ § ঠু,ঝু
’
{فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا وَقَدْ أَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلَى} [طه: 64] وَإِنَّمَا قَالُوا الْكَلَامَ الْأَوَّلَ لِيَتَدَبَّرُوا وَيَتَوَاصَوْا، وَيَأْتُوا بِجَمِيعِ مَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْمَكِيدَةِ وَالْمَكْرِ وَالْخَدِيعَةِ وَالسِّحْرِ وَالْبُهْتَانِ. وَهَيْهَاتَ، كَذَبَتْ وَاللَّهِ الظُّنُونُ وَأَخْطَأَتِ الْآرَاءُ، أَنَّى يُعَارِضُ الْبُهْتَانُ وَالسِّحْرُ وَالْهَذَيَانُ خَوَارِقَ الْعَادَاتِ، الَّتِي أَجْرَاهَا الدَّيَّانُ عَلَى يَدَيْ عَبْدِهِ الْكَلِيمِ وَرَسُولِهِ الْكَرِيمِ، الْمُؤَيَّدِ بِالْبُرْهَانِ الَّذِي يَبْهَرُ الْأَبْصَارَ، وَتَحَارُ فِيهِ الْعُقُولُ وَالْأَذْهَانُ. وَقَوْلُهُمْ: {فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ} [طه: 64] أَيْ; جَمِيعَ مَا عِنْدَكُمْ، {ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا} [طه: 64] أَيْ; جُمْلَةً وَاحِدَةً. ثُمَّ حَضَّ بَعْضُهُمْ بَعْضًا عَلَى التَّقَدُّمِ فِي هَذَا الْمَقَامِ; لِأَنَّ فِرْعَوْنَ كَانَ قَدْ وَعَدَهُمْ وَمَنَّاهُمْ، {وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا} [النساء: 120] .
{قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى - قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى - فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى - قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى} [طه: 65 - 68] وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى [طه: 65 - 69] . لَمَّا اصْطَفَّ السَّحَرَةُ وَوَقَفَ مُوسَى وَهَارُونُ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، تُجَاهَهُمْ، قَالُوا لَهُ: إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ قَبْلَنَا، وَإِمَّا أَنْ نُلْقِيَ قَبْلَكَ. قَالَ: بَلْ أَلْقُوا أَنْتُمْ. وَكَانُوا قَدْ عَمَدُوا إِلَى حِبَالٍ وَعِصِيٍّ فَأَوْدَعُوهَا الزِّئْبَقَ وَغَيْرِهِ مِنَ الْآلَاتِ الَّتِي تَضْطَرِبُ بِسَبَبِهَا تِلْكَ الْحِبَالُ وَالْعِصِيُّ اضْطِرَابًا يُخَيَّلُ لِلرَّائِي أَنَّهَا تَسْعَى
পৃষ্ঠা - ৫৯০
গ্লু,ঠুও;গ্লু, ৷ ঞাদ্ভু র্মুণ্ণ্ড্রএই গ্লু,৷ ঞ৷ ;;ট্রুরু;ঞশু ৷ ঞ ষ্ট্রু; ;ঞএ ৷ ট্রু,;পু ,;ও;া; ণ্;; পুঞ
এ
া;;ঞ; ৷ ; ;;এে ৷ ;;া২প্ ” ^ ^ ৷ও ঞ প্রু!;; ; হ্র;; ৷ ; এও; ঞ ঞ
; ;ঞ;
এ“; , ৷ ; ণ্ব্লু; ;;
ঞদ্বু
অর্থাৎ “তাদের পর মুসাকে আমার নিদর্শনসহ ফিরআউন ও তার পাবিষদবশ্চেবি নিকট
পাঠাই, কিন্তু তারা এটা অস্বীকার করে ৷ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পবিণাম কি হয়েছিল তা লক্ষ্য
কর ৷ মুসা বলল, হে ফিরআউন! আমি তো জগতসমুহের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রেরিত ৷
এটা স্থির নিশ্চিত যে, আমি আল্লাহ সম্বন্ধে স৩ ত্য ব্যতীত বলব না; তোমাদের প্রতিপালকের
নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণ আমি তোমাদের নিকট এসেছি সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে
যেতে দাও ৷ ফিরআউন বলল, যদি তুমি কো ন নিদর্শন এনে থাক তবে তুমি স৩ ৷বাদী হলেত
পেশ কর ৷ তারপর মুসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং তৎক্ষণাৎ এটা এক সাক্ষাৎ অজগর হল ৷
ফিরআউন সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, এতে৷ একজন সুদক্ষ জাদুকর, এ ৫তামাদেরকে
৫তামাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায় ৷ এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও?
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিঞ্চিৎ অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে
সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও, যেন তারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ জাদুকরকে উপস্থিত করে ৷
জাদুকরর৷ ফিরআউনের নিকট এসে বলল, আমরা যদি বিজয়ী হই তবে আমাদের জন্য পুরস্কার
থাকবে ৫তা?’ সে বলল, ভুব্রা, এবং তোমরা আমার সান্নিধ্য প্রাপ্তদেরও অন্তর্ভুক্ত হবে ৷ তারা
বলল, ৫হ মুসা ! তুমিই কি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই নিক্ষেপ করব? ’ সে বলল, ;৫তড়ামরাই
بِاخْتِيَارِهَا، وَإِنَّمَا تَتَحَرَّكُ بِسَبَبِ ذَلِكَ، فَعِنْدَ ذَلِكَ سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ، وَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَهُمْ يَقُولُونَ: {بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ} [الشعراء: 44] . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ} [الأعراف: 116] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى - فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى} [طه: 66 - 67] أَيْ; خَافَ عَلَى النَّاسِ أَنْ يَفْتَتِنُوا بِسِحْرِهِمْ وَمِحَالِهِمْ قَبْلَ أَنْ يُلْقِيَ مَا فِي يَدِهِ، فَإِنَّهُ لَا يَضَعُ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يُؤْمَرَ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ فِي السَّاعَةِ الرَّاهِنَةِ: {لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى - وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى} [طه: 68 - 69] فَعِنْدَ ذَلِكَ أَلْقَى مُوسَى عَصَاهُ وَقَالَ: {مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ - وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ} [يونس: 81 - 82]
[يُونُسَ: 81، 82] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَأَلْقَى مُوسَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ} [الشعراء: 45] . {فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ - فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ - وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ - قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ - رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ} [الأعراف: 118 - 122]
[الْأَعْرَافِ: 118 - 122] . وَذَلِكَ أَنَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، لَمَّا تَقَدَّمَ وَأَلْقَاهَا صَارَتْ حَيَّةً عَظِيمَةً ذَاتَ قَوَائِمَ - فِيمَا ذَكَرَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ عُلَمَاءِ السَّلَفِ - وَعُنُقٍ عَظِيمٍ، وَشَكْلٍ هَائِلٍ مُزْعِجٍ، بِحَيْثُ إِنَّ النَّاسَ انْحَازُوا مِنْهَا، وَهَرَبُوا سِرَاعًا، وَتَأَخَّرُوا عَنْ مَكَانِهَا وَأَقْبَلَتْ هِيَ عَلَى مَا أَلْقَوْهُ مِنَ الْحِبَالِ وَالْعِصِيِّ، فَجَعَلَتْ تَلَقَّفَهُ وَاحِدًا وَاحِدًا، فِي أَسْرَعِ مَا يَكُونُ مِنَ الْحَرَكَةِ،
পৃষ্ঠা - ৫৯১
নিক্ষেপ কর’ যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন তারা লোকের চোখে জাদু করল; তাদেরকে
আতৎকিত করল এবং৩ তারা এক বড় রকমের জাদু দেখাল ৷ আমি মুসার প্রতি প্রত্যাদেশ
করলাম, তৃমিও তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর, সহসা এটা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলােকে গ্রাস করতে
লাগল ৷ ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হল এবং তারা বা করছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হল ৷ সেখানে তারা
পরাভুত হল ও লাঞ্ছিত হল এবং জাদুকররা সিজদার্বনত হল ৷ তারা বলল, আমরা ঈমান
আনলাম জগতসমুহের প্রতিপালকের প্রতি — যিনি মুসা ও হ রুন এরও প্রতিপালক ৷
ফিরআউন বলল, কী! আমি তােমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পুর্বে তে তামরা এটাতে বিশ্বাস
করলে? এটা তো এক চক্রাম্ভ ৷ তোমরা সজ্ঞানে এ চক্রাম্ভ করেছ নগরবাসীদের নগর থেকে
বহিষ্কারের জন্যে ৷ আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই এটার পরিণাম জানবে ৷ আমি তো তোমাদের হাত-পা
বিপরীত দিক থেকে কর্তন করবই, তারপর তোমাদের সকলেরই শুলবিদ্ধও করব ৷ তারা বলল
৪ আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যাব ৷ তুমি তো আমাদেরকে শাস্তি দান করছ শুধু
এজন্য যে , আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনে ঈমান এসেছি ৷ যখন এটা আমাদের নিকট
এসেছে ৷ হে আমাদের প্রতিপালক৷ আমাদেরকে ধৈর্যদান কর এবং মুসলমানরুপে আমাদের
মৃত্যু ঘটাও ৷ (সুরা আরাফ ১০৩-১২৬)
আল্লাহ তাআলা সুরা ইউনুসে ইরশাদ করেন০ ং
;,ন্টুাৰু;, ধ্;,>পু ,,গ্লু
’
াদ্বুট্রুর্বৃহ্র;ঠুঢুপ্
এ
৫
া
দ্বুামোঃধ্া৷পুড্রুাটু ^শুএোধ্ ’ৰুর্মুট্প্রু’ ,ট্রুপ্রুপ্রু (াব্রোদ্বুব্লিামোঃ
স্পেন্
fi
অর্থাৎ — “পরে আমার নিদর্শনসহ মুসা ও হারুনকে ফিরআউন ও তার পারিষদবর্পের নিকট
প্রেরণ করি ৷ কিন্তু ওরা অহংকার করে এবং ওরা ছিল অপরাধী সম্প্রদায় ৷ তারপর যখন ওদের
কাছে আমার নিকট হতে সত্য এল তখন ওরা বলল, এটা তো নিশ্চয়ই স্পষ্ট জাদু ৷ মুসা
বলল, সভ্য যখন তোমাদের নিকট আসল, তখন সে সম্পর্কে তোমরা এরুপ বলছ? এটা কি
জাদুঃ জাদুকররা তো সফলকাম হয় না ৷’ ওরা বলল, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষপণকে যাতে
পেয়েছি তুমি কি তা থেকে আমাদেরকে বিচ্যুত করবার জন্যে আমাদের নিকট এসেছ এবং
যাতে দেশে তোমাদের দুজনের প্রতিপত্তি হয় এজন্য? আমরা তোমাদের প্রতি বিশ্বাসী নই ৷
وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهَا، وَيَتَعَجَّبُونَ مِنْهَا. وَأَمَّا السَّحَرَةُ فَإِنَّهُمْ رَأَوْا مَا هَالَهُمْ وَحَيَّرَهُمْ فِي أَمْرِهِمْ، وَاطَّلَعُوا عَلَى أَمْرٍ لَمْ يَكُنْ فِي خَلَدِهِمْ وَلَا بَالِهِمْ، وَلَا يَدْخُلُ تَحْتَ صِنَاعَاتِهِمْ وَأَشْغَالِهِمْ، فَعِنْدَ ذَلِكَ وَهُنَالِكَ تَحَقَّقُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ أَنَّ هَذَا لَيْسَ بِسِحْرٍ، وَلَا شَعْبَذَةٍ، وَلَا مِحَالٍ وَلَا خَيَالٍ وَلَا زُورٍ وَلَا بُهْتَانٍ وَلَا ضَلَالٍ، بَلْ حَقٌّ لَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ إِلَّا الْحَقُّ الَّذِي ابْتَعَثَ هَذَا الْمُؤَيَّدَ بِهِ بِالْحَقِّ، وَكَشَفَ اللَّهُ عَنْ قُلُوبِهِمْ غِشَاوَةَ الْغَفْلَةِ، وَأَنَارَهَا بِمَا خَلَقَ فِيهَا مِنَ الْهُدَى وَأَزَاحَ عَنْهَا الْقَسْوَةَ، وَأَنَابُوا إِلَى رَبِّهِمْ، وَخَرُّوا لَهُ سَاجِدِينَ، وَقَالُوا جَهْرَةً لِلْحَاضِرِينَ، وَلَمْ يَخْشَوْا عُقُوبَةً وَلَا بَلْوَى: آمَنَّا بِرَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ.
كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ هَارُونَ وَمُوسَى - قَالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ وَلَتَعْلَمُنَّ أَيُّنَا أَشَدُّ عَذَابًا وَأَبْقَى - قَالُوا لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلَى مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالَّذِي فَطَرَنَا فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا - إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى - إِنَّهُ مَنْ يَأْتِ رَبَّهُ مُجْرِمًا فَإِنَّ لَهُ جَهَنَّمَ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَى - وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَى - جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى} [طه: 70 - 76] قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَعِكْرِمَةُ، وَالْقَاسِمُ بْنُ أَبِي بَزَّةَ وَالْأَوْزَاعِيُّ، وَغَيْرُهُمْ: لَمَّا سَجَدَ السَّحَرَةُ، رَأَوْا مَنَازِلَهُمْ وَقُصُورَهُمْ فِي
পৃষ্ঠা - ৫৯২
ফিরআউন বলল, তােমরা আমার নিকট সকল সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে এস ৷ তারপর যখন
জাদুকররা এল তখন তাদেরকে মুসা বলল, তােমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর ৷ ’
যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন মুসা বলল, তােমরা যা কিছু এনেছ তা জাদু, আল্লাহ জাদৃকে
অসার করে দেবেন ৷ আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদেরকর্ম সার্থক করেন না ৷ অপরাধীরা অপ্রীতিকর
মনে করলেও আল্লাহ তার বাণী অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন ৷ ’ (সুরা ইউনুস : ৭৫ ৮২)
আল্লাহ তাআল৷ সুরা শুআরায় মুসা (আ) ও ফিরআউন সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনার্থে
ইরশাদ করেন :
দু
(
ষ্টুজ্যো প্ৰন্নে৷ এ৮ষ্
া
ঘ্রও; এ^,এ এের্দ্র,;,;া; ;াপু;;৷ ; ’ ৷,পু ৰুা৯া,ধ্ইশু,৷ ৷া,ছুএে ;,, ,প্ট্রু;র্দু fl
;; ৷ ত্বপু;দ্বু,
হৈান্
^ণ্র্দ্র;; ঙ,পু;;৷ ৷
াট্রু;এ @ ;,^,দ্বু;; ট্রু;; ৷ র্তু০ :,:;fi ৷ ঠু;ট্রুন্; ণ্প্৷ ; ও ;,র্দু;;প্রো ৷ ;,;া৷; ণ্ব্লু; ৷ ,
শু;৷ ৷,পুিাঢ ৷ট্রিএেৰুার্চু;ঠু
র্টগ্র
৷ শ্মি
ণ্হ্রা; , , দুবু;;;৷ ,;;;ন্থশ্ব ;,, ;া; ,;;; ,ইপু৷ ৷ ’ ;ত্র“াছুদ্বু,^;;ব্লুা
fl ৷ “ ^ ’ চ্যে৷ ৷ ১ ৷ ,;;৯ ১! ৷ টুা৷:; ;,;;;; ৷ ণ্ব্লুট্রু;াপু;?র্শ্বট্রুর্চু ন্ব্লু ন্শু১র্দুণ্; ;,;
অর্থাৎ ফিরঅ৷ উন বলল, তুমি (হে মুসা) যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে ইলাহরুপে গ্রহণ
কর আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করব ৷ ’ মুসা বলল, আমি তোমার নিকট স্পষ্ট কোন
নিদর্শন আনয়ন করলেওন্’ ফিরআউন বলল, তৃমি যদি সত্যবাদী হও তবে তা উপস্থিত কর ৷
তারপর মুসা (আ)৩ তার লাঠি নিক্ষেপ করলে তৎক্ষণাৎ তা এক সাক্ষাৎ অজগর হল এবং মুসা
হাত বের করল আর তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র ও উজ্জ্বল প্ৰতিভাত ৩হল ৷ ফিরআউন
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৭২-
الْجَنَّةِ تُهَيَّأُ لَهُمْ، وَتُزَخْرَفُ لِقُدُومِهِمْ، وَلِهَذَا لَمْ يَلْتَفِتُوا إِلَى تَهْوِيلِ فِرْعَوْنَ، وَتَهْدِيدِهِ وَوَعِيدِهِ. وَذَلِكَ لِأَنَّ فِرْعَوْنَ لَمَّا رَأَى هَؤُلَاءِ السَّحَرَةَ قَدْ أَسْلَمُوا وَأَشْهَرُوا ذِكْرَ مُوسَى وَهَارُونَ فِي النَّاسِ عَلَى هَذِهِ الصِّفَةِ الْجَمِيلَةِ، أَفْزَعَهُ ذَلِكَ، وَرَأَى أَمْرًا بَهَرَهُ، وَأَعْمَى بَصِيرَتَهُ وَبَصَرَهُ، وَكَانَ فِيهِ كَيْدٌ وَمَكْرٌ وَخِدَاعٌ، وَصَنْعَةٌ بَلِيغَةٌ فِي الصَّدِّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، فَقَالَ مُخَاطِبًا لِلسَّحَرَةِ بِحَضْرَةِ النَّاسِ: {آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ} [طه: 71] أَيْ; هَلَّا شَاوَرْتُمُونِي فِيمَا صَنَعْتُمْ مِنَ الْأَمْرِ الْفَظِيعِ بِحَضْرَةِ رَعِيَّتِي. ثُمَّ تَهَدَّدَ وَتَوَعَّدَ، وَأَبْرَقَ وَأَرْعَدَ، وَكَذَبَ فَأَبْعَدَ، قَائِلًا: {إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ} [طه: 71] وَقَالَ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: إِنَّ {هَذَا لَمَكْرٌ مَكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْهَا أَهْلَهَا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 123] . وَهَذَا الَّذِي قَالَهُ مِنَ الْبُهْتَانِ الَّذِي يَعْلَمُ كُلُّ فَرْدٍ عَاقِلٍ مَا فِيهِ مِنَ الْكُفْرِ وَالْكَذِبِ وَالْهَذَيَانِ، بَلْ لَا يَرُوجُ مَثَلَهُ عَلَى الصِّبْيَانِ; فَإِنَّ النَّاسَ كُلَّهُمْ، مِنْ أَهْلِ دَوْلَتِهِ وَغَيْرِهِمْ، يَعْلَمُونَ أَنَّ مُوسَى لَمْ يَرَهُ هَؤُلَاءِ يَوْمًا مِنَ الدَّهْرِ، فَكَيْفَ يَكُونُ كَبِيرَهُمُ الَّذِي عَلَّمَهُمُ السِّحْرَ؟! ثُمَّ هُوَ لَمْ يَجْمَعْهُمْ وَلَا عِلْمَ بِاجْتِمَاعِهِمْ، حَتَّى كَانَ فِرْعَوْنُ هُوَ الَّذِي اسْتَدْعَاهُمْ وَاجْتَبَاهُمْ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ وَوَادٍ سَحِيقٍ، وَمِنْ حَوَاضِرِ بِلَادِ مِصْرَ وَالْأَطْرَافِ، وَمِنَ الْمُدُنِ وَالْأَرْيَافِ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الْأَعْرَافِ "
পৃষ্ঠা - ৫৯৩
তার পারিষদবর্গকে বলল, এতে৷ এক সুদক্ষ জাদুকর ৷ এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে
তার জাদুবলেবহিষ্কার করতে চায় ৷ এখন তোমরা কি করতে বল? ’ ওরা বলল, তাকে ও তার
ভাইকে কিছুটা অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও যেন তারা তোমার
নিকট প্রতিটি সুদক্ষ জাদুকর উপস্থিত করে ৷’ তারপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে
জাদুকরদেরকে একত্র করা হল এবং লোকদেরকে বলা হল, তোমরাও সমবেত হচ্ছ কি?’ যেন
আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি ওরা বিজয়ী হয় ৷ তারপর জাদুকররা এসে
ফিরআউনকে বলল, আমরা যদি বিজয়ী হই আমাদের জন্য পুরস্কার থাকবে তো?’ ফিরআউন
বলল, হীা, তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের শামিল হবে ৷ ’ মৃস৷ তাদেরকে বলল,
তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর ৷’ তারপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ
করল এবং ওরা বলল, ফিরআউনের ইঘৃযতের শপথ ! আমরাই বিজয়ী হব ৷ ’ তারপর মুসা তার
লাঠি নিক্ষেপ করল; সহসা এটা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল ৷ তখন
জাদুকররা সিজদাবনত হয়ে পড়ল এবং বলল, আমরা ঈমান আনয়ন করলাম জগতসমুহের
প্রতিপালকের প্রতি; যিনি মুসা ও হারুন এরও প্রতিপালক ৷ ’ ফিরআউন বলল, কী! আমি
তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পুর্বেই তোমরা এটাতে বিশ্বাস করলে? সে ই তো তোমাদের
প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে ৷ শীঘ্রই তোমরা এটার পরিণড়াম জানবে ৷ আমি
অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক হতে কর্তন করব এবং তোমাদের
সকলকে শুলবিদ্ধ করবই ৷ ’ ওরা বলল, কোন ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট
প্রত্যাবর্তন করব ৷ আমরা আশা করি যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের অপরাধ মার্জনা
করবেন; কারণ আমরা মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী ৷ (সুরা ওআরা : ২৯-৫ ১ )
মােদ্দাকথা হল এই যে, ফিরআউন নিশ্চয়ই জাদুকরদেরকে এ কথা বলে যে, মুসা (আ)
ছিলেন তাদের প্রধান যিনি তাদের জাদু শিক্ষা দিয়েছেন ৷ এক্ষেত্রে ফিরআউন মিথ্যা বলেছে,
অপবাদ দিয়েছে এবং চরম পর্যায়ের কুফরী করেছে ৷ ফিরআউনের মুসা (আ ) এর প্রতি অপবাদ
সর্বজনবিদিত ৷ নিম্নে বর্ণিত আয়াতাহুশসমুহের মাধ্যমে বিজ্ঞমহলের নিকট ফিরআউনের ধৃষ্টতা
ও মুহতাি সুস্পষ্টভ৷ বে ধরা পড়েছে ৷ যেমন আয়াতাংশ
০া
“এটা একটা চক্রান্ত, এই চক্র ন্তের মাধ্যমে তোমরা নগরবাসীদেরকে তাদের ভিটামাটি
থেকে উৎখাতের চেষ্টা করছ; অচিরেই তোমরা জানতে পারবে ৷ এবং তার উক্তি : আমি
তোমাদের ডান হাত ও বাম পা কিৎবা বাম হাত ও ডান পা কর্তন করে দেব ৷ আর তোমাদের
সকলকে শুলবিদ্ধ করব যাতে তোমরা অন্যদের জন্যে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে ৷ রাজোর অন্য
কো ন ব্যক্তি ভবিষ্যতে এরুপ করার যেন আর সাহস না পায় ৷ এ জন্যেই ফিরআউন বলেছিল
তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শুলবিদ্ধ করব ৷ কেননা তা সবচ ইং উচু এবং সবচাইতে
চুবশি দৃষ্টিগ্নাহ্য ৷’ সে আরও বলেছিল, তোমরা বুঝতে পারবে যে, আমাদের মধ্যে দৃনিয়াতে কে
বেশি কঠোর স্থায়ী শান্তিদাতা ৷ মুমিন জাদুকরগণ বলেছিলেন, আমাদের কাছে যেসব নিদর্শন
ও অকাট্য প্রমাণাদি এসেছে ও আমাদের অম্ভরে স্থান নিয়েছে এগুলোকে ছেড়ে আমরা
কােনদিনও তোমার আনুগত্য করব না ৷ ’
{ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَظَلَمُوا بِهَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ - وَقَالَ مُوسَى يَا فِرْعَوْنُ إِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ - حَقِيقٌ عَلَى أَنْ لَا أَقُولَ عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ قَدْ جِئْتُكُمْ بِبَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَرْسِلْ مَعِيَ بَنِي إِسْرَائِيلَ - قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ - فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ - وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ - قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ - يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ - قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ - يَأْتُوكَ بِكُلِ سَاحِرٍ عَلِيمٍ - وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ - قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ - قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ - قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ - وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ - فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ - فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ - وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ - قَالُوا آمَنَّا بِرَبِ الْعَالَمِينَ - رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ - قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّ هَذَا لَمَكْرٌ مَكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْهَا أَهْلَهَا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ - لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ - قَالُوا إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنْقَلِبُونَ - وَمَا تَنْقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ} [الأعراف: 103 - 126]
[الْأَعْرَافِ: 103 - 126] .
وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " يُونُسَ ":
পৃষ্ঠা - ৫৯৪
আয়াতাৎশ fi) ! ¢ ;; §— এর ওয়াও সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, এটা পুর্ববর্তী
বাকেক্রর সাথে সৎযুক্তকারী অব্যয় ৷ আবার কেউ কেউ বলেন, এখানে এই অক্ষরটি শপথ
অর্থবােধক ৷
মুমিন জাদুকরগণ ফিরআউনকে আরো বললেন, তুমি যা পার তা কর; তোমার আদেশ
তো শুধুমাত্র এই পার্থিব জীবনেই চলতে পারে ৷ তবে যখন আমরা এই নশ্বর জগত ছেড়ে
আখিরাতে চলে যাব তখন ঐ সত্তার আদেশ বলবৎ থাকবে যার প্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন
করছি এবং আমরা যার প্রেরিত রাসুলগণের অনুসরণ করছি ৷ ন্
তারা আরো বললেন ং
চুঠা
ব্লুট্রুাদ্বু
অর্থাৎ আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যাতে তিনি আমাদের
যাবতীয় অন্যায় অপরাধ ও তুমি যে আমাদেরকে জোর জবরদস্তি করে জাদু করতে বাধ্য করেছ
সেই অন্যায় ক্ষমা করে দেন ৷ কেননা, আল্লাহ তা আলা কল্যাণময় এবং তুমি আমাদেরকে
সান্নিধ্য প্রদানের (পার্থিব জগতে) যে ওয়াদা অঙ্গীকা ৷র করেছ তার চেয়ে আল্লাহ তা আলা প্রদত্ত
সওয়াব অধিকতর কল্যাণকর ও অধিকতর স্থায়ী’ ৷ অন্য আয়াত ৎশে বলা হয়েছেং : মুমিন
জাদুকরগণ বলেছিলেন, আমাদের কোন ক্ষতি নেই, কেননা আমরা আমাদের প্রতিপালকের
নিকট ফিরে যাব ৷ আমরা আশা রাখি যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের কৃত পাপরাশি ও
অনড়াচারসমুহ ক্ষমা করে দেবেন ৷ আর আমরা কিবতীদের পুর্বেই মুসা (আ) ও হারুন (আ) এর
প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি বলে আমরা ঘোষিত হয় ৷ ’
তারা তাকে আরো বললেন :
সৌং
অর্থাৎ-তুমি তো আমাদেরকে শাস্তিদান করছো শুধু এ জন্য যে, আমরা আমাদের
প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করেছি যখন এগুলো আমাদের কাছে এসেছে ৷ এছাড়া
আমাদের অন্য কোন অপরাধ নেই ৷ হে আমাদের প্রতিপালক পরাত্রুমশালী অত্যাচারী হিংস্র
শাসক, তাপুত ও শয়তান আমাদেরকে যে অসহনীয় শাস্তি প্রদান করছে তা সহ্য করার
আমাদেরকে ধৈর্য দাও এবৎ আমাদেরকে আত্মসমর্পণকারীরুপে মৃত্যু দান কর ৷
তং পর তারা তাকে উপদেশস্বরুপ মহান প্রতিপ৷ ৷লকের শাস্তির প্রতি ভীতি প্রদর্শন করে
বললেন : ট্রু ০পু১ ণ্াট্রুা৷
অর্থাৎ যেত তার প্রতিপা ৷লকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হয়ে তার জন্য তো রয়েছে
জা,হান্নাম সেখানে সে মররেও না, বাচরেও না ৷ ’ তারা বললেন, সুতরাং সাবধান তুমি যেন
এসব অপরাধীর অন্তর্ভুক্ত না হও ৷’ কিন্তু ফিরআউন তাদের উপদেশ অমান্য করে তাদের
অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে ৷
{ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى وَهَارُونَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ بِآيَاتِنَا فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ - فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا إِنَّ هَذَا لَسِحْرٌ مُبِينٌ - قَالَ مُوسَى أَتَقُولُونَ لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءَكُمْ أَسِحْرٌ هَذَا وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُونَ - قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا الْكِبْرِيَاءُ فِي الْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِينَ - وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ - فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ - فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ - وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ} [يونس: 75 - 82]
[يُونُسَ: 75 - 82] .
وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ " الشُّعَرَاءِ " {قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ - قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُبِينٍ - قَالَ فَأْتِ بِهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ - فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ - وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ - قَالَ لِلْمَلَأِ حَوْلَهُ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ - يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ - قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ - يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ - فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ - وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنْتُمْ مُجْتَمِعُونَ - لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِنْ كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ - فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ - قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ - قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ - فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ - فَأَلْقَى مُوسَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ - فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ - قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ - رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ} [الشعراء: 29 - 48] قَالَ {آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ - قَالُوا لَا ضَيْرَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنْقَلِبُونَ - إِنَّا نَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَنْ كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 49 - 51]
[الشُّعَرَاءِ: 29 - 51] .
পৃষ্ঠা - ৫৯৫
র্তারাতাকে আরো বললেনং :
ট্রুট্রুব্লুগ্লু১ ;,é, ন্৷ ১১ ণ্া৷১দ্বু ৷র্চু;ট্রুঙু(ড্রু পু এার্দু ঝুাধ্১া৷ ৷র্চুৰু;;হুএ পুন্ং ঞষ্ও ১’^ এে ন্
অর্থাৎ যারা তার নিকট উপস্থিত ৩হবে মু মিন অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদের
জন্যে রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী
হবে এবং এই পুরস্কার তাদেরই যারা পবিত্র’ ৷ (সুরা ত ৷-হ৷ : ৭৫ ৭৬) ৷
সুতরাং তুমি এ দলের অন্তর্ভুক্ত হও ৷ কিন্তু ফিরআউন ও তার আমলের মধ্যে ভাপ্যলিপি
অন্তরায় হল যা ছিল অখণ্ডনীয় ও অপরিবব্জীয় ৷ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা তার
দুষ্কর্মের জন্য আদেশ দিলেন যে, “অভিশপ্ত ফিরআউন জাহান্নামী, সে মর্মভুদ শাস্তি ভোগ
করবে, তার মাথার উপর গরম পানি ঢালা হবে এবং তাকে তাপমানিত, লাঞ্ছিত ও তিরস্কৃত
করার উদ্দেশ্যে বলা হবে জাহান্নামের আমার আস্বাদন কর তুমি তো ছিলে সম্মানিত
অভিজাত ৷” ৷(সুরা দৃখান০ ং ৪৯)
উপরোক্ত আয়াত তসমুহের পুর্বাপর দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, ফিরআউন মুমিন জাদৃকরদের
শুলবিদ্ধ করেছিল ও তাদের মর্যভুদ শাস্তি দিয়েছিল ৷ আল্লাহ তা আলা তাদের প্ৰতি প্রসন্ন হোন ৷
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও উবায়দ ইবন উমায়র (রা) বলেন, তারা দিনের প্রথম অংশে ছিলেন
জাদুকর ৷ আর দিনের ণ্শবাংশে পুণ্যবান শহীদ হিসেবে পরিগণিত হলেন ৷ উপরোক্ত উক্তির
সত্যতা ৰু প্রমাণিত হয়েছে মুমিন জাদুকরদের নিম্নোক্ত মুনাজাতেষ্
সৌং
অর্থাৎ হে আমাদের প্ৰতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্যদান কর এবং মুসলিমরুপে আমাদের
মৃত্যু ঘটাও ! ’
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ فِرْعَوْنَ كَذَّبَ وَافْتَرَى، وَكَفَرَ غَايَةَ الْكُفْرِ فِي قَوْلِهِ: {إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ} [الشعراء: 49] وَأَتَى بِبُهْتَانٍ يَعْلَمُهُ الْعَالِمُونَ، بَلِ الْعَالَمُونَ فِي قَوْلِهِ: {إِنَّ هَذَا لَمَكْرٌ مَكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْهَا أَهْلَهَا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 123] وَقَوْلُهُ: {لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ} [الشعراء: 49] يَعْنِي: يَقْطَعُ الْيَدَ الْيُمْنَى وَالرِّجْلَ الْيُسْرَى وَعَكْسَهُ، {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ} [الشعراء: 49] أَيْ; لَيَجْعَلُهُمْ مَثُلَةً وَنَكَالًا; لِئَلَّا يَقْتَدِيَ بِهِمْ أَحَدٌ مِنْ رَعِيَّتِهِ وَأَهْلِ مِلَّتِهِ، وَلِهَذَا قَالَ: {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} [طه: 71] أَيْ; عَلَى جُذُوعِ النَّخْلِ; لِأَنَّهَا أَعْلَى وَأَشْهَرُ {وَلَتَعْلَمُنَّ أَيُّنَا أَشَدُّ عَذَابًا وَأَبْقَى} [طه: 71] يَعْنِي: فِي الدُّنْيَا قَالُوا {لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلَى مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ} [طه: 72] أَيْ; لَنْ نُطِيعَكَ وَنَتْرُكَ مَا وَقَرَ فِي قُلُوبِنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ، وَالدَّلَائِلِ الْقَاطِعَاتِ، وَالَّذِي فَطَرَنَا قِيلَ: مَعْطُوفٌ. وَقِيلَ: قَسَمٌ {فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ} [طه: 72] أَيْ; فَافْعَلْ مَا قَدَرْتَ عَلَيْهِ {إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا} [طه: 72] أَيْ; إِنَّمَا حُكْمُكَ عَلَيْنَا فِي هَذِهِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، فَإِذَا انْتَقَلْنَا مِنْهَا إِلَى الدَّارِ الْآخِرَةِ، صِرْنَا إِلَى حُكْمِ الَّذِي أَسْلَمْنَا لَهُ وَاتَّبَعْنَا رُسُلَهُ {إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى} [طه: 73] . أَيْ; وَثَوَابُهُ خَيْرٌ مِمَّا وَعَدَتْنَا بِهِ مِنَ التَّقْرِيبِ وَالتَّرْغِيبِ، وَأَبْقَى أَيْ; وَأَدْوَمُ مِنْ هَذِهِ الدَّارِ الْفَانِيَةِ. وَفِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: قَالُوا {لَا ضَيْرَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنْقَلِبُونَ - إِنَّا نَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا} [الشعراء: 50 - 51]
পৃষ্ঠা - ৫৯৬
৩ারাবলল৪ ;াদ্বুহুা৷দ্বু :৷ ,এ্শু ,,০,ন্ ৷ ১ ৷০া০০০০ৰু ৷ ৰু০হুদ্বু০ওঠু ত্বে’০০ঠু০০০ এা; ৷
অর্থাৎ আপনি কি মুসা ওত পর সম্প্রদায়কে রড়াজেদ্র বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে
ও আপনার দেবতাগণকে বর্জন করতে দেবেনঃ’ (আ রাফ৪ ১২৭) একক লা শরীক আল্লাহ
তাআলার ইবাদতের প্রতি আহ্বান করা এবং আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের ইবাদত থেকে
নিষেধ করাকে তারা বিপর্যয় সৃষ্টি বলে আখ্যায়িত করেছে ৷ আবার কেউ কেউ বলেন,
অড়ায়াতাৎশের অর্থ হচ্ছে, আপনি কি মুসা ও তার সম্প্রদায়কে রাজে৷ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং
আপনাকে ও আপনার ইবাদতকে বর্জন করতে দেবেন?’ দু’টি অর্থেরই এখানে সম্ভাবনা রয়েছে ৷
তার একটি হচ্ছে, যে আপনার ধর্মকে বর্জন করে চলে আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে যে আপনার
ইবাদত বর্জন করে ৷ শেষোক্ত সম্ভড়াবনাটির কথা এজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, তারা তাকে
উপাস্য বলেও ধারণা করত ৷ তার প্রতি আল্লাহর লানত ৷
সে (ফিরআউন) বলল, আমরা তাদের পুত্রদের হত্যা করব এবং নারীদেরকে জীবিত
রাখব’ অর্থাৎ যাতে তাদের মধ্যে যােদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে না পারে ৷ আমরা তাদের উপর
সর্বদা প্রভাবশালী থাকর ৷’ অর্থাৎ বিজয়ীরুপে থাকর ৷ তখন মুসা (আ) তার সম্প্রদায়কে
বললেন, আল্লাহ তাআলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং ধৈর্যধারণ কর ৷ অর্থাৎ যখন তারা
তোমাদেরকে দুঃখ-কষ্ট দিতে উদ্যত, তখন তোমরা তোমাদের প্ৰতিপালকের কাছে সাহায্যের
প্রার্থাং৷ কর এবং তোমাদের দুঃখ-কষ্টে তোমরা ধৈর্যধ্ড়ারণ কর ৷ জেনে ব্লেখো, এই পৃথিবীর
মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা, তিনি তার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চান এই পৃথিবীর
উত্তরাধিকারী করেন ৷ তবে শেষ শুভ পরিণতি মুত্তার্কীদের জন্যেই ৷ সুতরাং তোমরা মুত্তাকী
হতে সচেষ্ট হও যাতে তোমাদের পরিণাম শুভ হয় ৷
যেমন আল্লাহ তা জানা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন০ ং
ক্রো সৌং
অর্থাৎ মুসা (আ) বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনে
থাক, যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হও তবে তোমরা তারই উপর নির্ভর কর ৷ তারপর তারা
বলল, আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করলাম ৷ হে আমাদের প্ৰতিপালক৷ আমাদেরকে জালিম
সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র করো না এবং আমাদেরকে তোমার অনুগ্রহে কাফির সম্প্রদায় হতে
রক্ষা করা (সুরা ইউনুসং ৮৪, ৮৫, ৮৬)
আয়াতাংশ অর্থ
হচ্ছে, হে মুসা! তোমার আগমনের পুর্বে আমাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করা হতো এবং
তোমার আগমনের পরেও আমাদের পুত্র-সত্তানদের হত্যা করা হচ্ছে ৷ মুসা (আ) তাদেরকে
বললেন, অতি শীঘ্রই তোমাদের প্ৰতিপালক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন এবং
তোমাদেরকে যমীনে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন ৷’
أَيْ; مَا اجْتَرَمْنَاهُ مِنَ الْمَآثِمِ وَالْمَحَارِمِ أَنْ كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ أَيْ; مِنَ الْقِبْطِ، بِمُوسَى وَهَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ. وَقَالُوا لَهُ أَيْضًا: {وَمَا تَنْقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا} [الأعراف: 126] أَيْ لَيْسَ لَنَا عِنْدَكَ ذَنْبٌ إِلَّا إِيمَانُنَا بِمَا جَاءَنَا بِهِ رَسُولُنَا، وَاتِّبَاعُنَا آيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا، {رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا} [الأعراف: 126] أَيْ; ثَبِّتْنَا عَلَى مَا ابْتُلِينَا بِهِ مِنْ عُقُوبَةِ هَذَا الْجَبَّارِ الْعَنِيدِ، وَالسُّلْطَانِ الشَّدِيدِ، بَلِ الشَّيْطَانِ الْمَرِيدِ، وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ وَقَالُوا أَيْضًا يَعِظُونَهُ وَيُخَوِّفُونَهُ بِأْسَ رَبِّهِ الْعَظِيمِ: {إِنَّهُ مَنْ يَأْتِ رَبَّهُ مُجْرِمًا فَإِنَّ لَهُ جَهَنَّمَ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَا} [طه: 74] يَقُولُونَ لَهُ: فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ فَكَانَ مِنْهُمْ. {وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا} [طه: 75] أَيِ; الْمَنَازِلُ الْعَالِيَةُ {جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى} [طه: 76] فَاحْرِصْ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ. فَحَالَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ ذَلِكَ الْأَقْدَارُ الَّتِي لَا تُغَالَبُ، وَلَا تُمَانَعُ وَحُكْمُ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ بِأَنَّ فِرْعَوْنَ، لَعَنَهُ اللَّهُ، مِنْ أَهْلِ الْجَحِيمِ، لِيُبَاشِرَ الْعَذَابَ الْأَلِيمَ، يَصُبُّ مِنْ فَوْقِ رَأْسِهِ الْحَمِيمُ. وَيُقَالُ لَهُ، عَلَى وَجْهِ التَّقْرِيعِ وَالتَّوْبِيخِ، وَهُوَ الْمَقْبُوحُ الْمَنْبُوحُ، الذَّمِيمُ اللَّئِيمُ: {ذُقْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ} [الدخان: 49] .
[الدُّخَانِ: 49] . وَالظَّاهِرُ مِنْ هَذِهِ السِّيَاقَاتِ أَنَّ فِرْعَوْنَ، لَعَنَهُ اللَّهُ، صَلَبَهُمْ وَعَذَّبَهُمْ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَعُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ: كَانُوا مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ سَحَرَةً، فَصَارُوا مِنْ آخِرِهِ شُهَدَاءَ بَرَرَةً. وَيُؤَيِّدُ هَذَا قَوْلُهُمْ: {رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ} [الأعراف: 126] .
[تَحْرِيضُ فِرْعَوْنَ عَلَى قَتْلِ مُوسَى وَإِسْلَامُ السَّحَرَةِ]
فَصْلٌ
পৃষ্ঠা - ৫৯৭
আল্লাহ তাআলা সুরা মুমিনে ইরশাদ করেন০ :
?
র্চুঠুর্মী১র্বুর্দু £ ৷প্রুা৷ঘ্র এে,ঞের্চু
অর্থাৎ-আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্ৰমাণসহ মুসা (আ)-কে প্রেরণ করেছিলাম
ফিরআউন, হামান ও কারুণের নিকট কিভু তারা বলেছিল, এতে৷ এক জাদুকর, চরম
মিথ্যাবাদী ৷ ’ (সুরা মুমিন : ২৩-২৪ )
ফিরআউন ছিল রাজা, হামান ছিল তার মত্রী এবং কারুণ ছিল মুসা (আ)-এর সম্প্রদায়ের
একজন ইহুদী কিন্তু সে ছিল ফিরআউন ও তার অমাত্যদের ধর্মের অনুসারী, সে ছিল প্রচুর
ধন-সম্পদের মালিক ৷ তার ঘটনা পরে সবিস্তারে বর্ণনা করা হবে ৷
অন্য আয়াতে আল্লাহ তা আলা উল্লেখ করেন :
াৰুএে
৷ §
অর্থাৎ-অতঃপর মুসা আমার নিকট থেকে সত্য নিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হলে তারা
বলল, মুসার সাথে যারা ঈমান আনয়ন করেছে, তাদের পুত্রদের হত্যা কর এবং তাদের
নারীদেরকে জীবিত রাখ ৷ কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই ৷ (সুরা মুমিন : ২৫)
মুসা (আ)-এর নবুওত প্রাপ্তির পর পুরুষদের হত্যার উদ্দেশ্য ছিল, বনী ইসরাঈলকে
লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা এবং তাদের কর্মক্ষমদের সংখ্যা হ্রাস করা যাতে তাদের শান-শওকত
লোপ পেয়ে যায় এবং তাদের কোন প্রতিপত্তিই অবশিষ্ট না থাকে ৷ আর তারা যেন কিবভীদের
বিরুদ্ধে কোন সময় মাথা উচু করে র্দাড়াতে না পারে এবং কিবতীদেরকে তারা প্রতিহত না
করতে পারে ৷ অন্যদিকে কিবতীরা অবশ্য তাদেরকে যমের মত ভয় করত ৷ তবে এতে তাদের
কোন লাভ হয়নি এবং তাদের ভাণ্যলিপি যা আল্লাহ তাআলার মহাহুকুম ৰুকু এর মাধ্যমে
সংঘটিত হয়ে থাকে তা তারা রদ করতে পারেনি ৷
ফিরআউন বলতে লাগল :
অর্থাৎ “আমাকে ছেড়ে দাও আমি মুসাকে হত্যা করি এবং সে৩ তার প্রতিপালকের
শরণাপন্ন হউক ৷ আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দীনের পরিবর্ত্য৷ ঘটাবে অথবা সে
পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ৷” (সুরা মুমিন : ২৬)
এ জন্যই জনগণ ঠাট্টার ছলে বলত, ফিরআউন নির্দেশদাতা হয়ে গেছে ৷ কেননা
ফিরআউন তার ধারণায় জনগণকে ভয় দেখাত যেন মুসা (আ) তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে না
পারে ৷ আল্লাহ বলেন :
وَلَمَّا وَقَعَ مَا وَقَعَ مِنَ الْأَمْرِ الْعَظِيمِ، وَهُوَ الْغَلَبُ الَّذِي غُلِبَهُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ مِنَ الْقِبْطِ فِي ذَلِكَ الْمَوْقِفِ الْهَائِلِ، وَأَسْلَمَ السَّحَرَةُ، الَّذِينَ اسْتَنْصَرُوا رَبَّهُمْ لَمْ يَزِدْهُمْ ذَلِكَ إِلَّا كُفْرًا وَعِنَادًا وَبُعْدًا عَنِ الْحَقِّ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى، بَعْدَ قَصَصِ مَا تَقَدَّمَ فِي سُورَةِ " الْأَعْرَافِ ": {وَقَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ - قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ - قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 127 - 129]
[الْأَعْرَافِ: 127 - 129] . يُخْبِرُ تَعَالَى عَنِ الْمَلَأِ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ، وَهُمُ الْأُمَرَاءُ وَالْكُبَرَاءُ، أَنَّهُمْ حَرَّضُوا مِلَكَهُمْ فِرْعَوْنَ عَلَى أَذِيَّةِ نَبِيِّ اللَّهِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَمُقَابَلَتِهِ - بَدَلَ التَّصْدِيقِ بِمَا جَاءَ بِهِ - بِالْكُفْرِ وَالرَّدِّ وَالْأَذَى، فَقَالُوا {أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ} [الأعراف: 127] يَعْنُونَ، قَبَّحَهُمُ اللَّهُ، أَنَّ دَعْوَتَهُ إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَالنَّهْيَ عَنْ عِبَادَةِ مَا سِوَاهُ فَسَادٌ بِالنِّسْبَةِ إِلَى اعْتِقَادِ الْقِبْطِ، لَعَنَهُمُ اللَّهُ. وَقَرَأَ بَعْضُهُمْ:
পৃষ্ঠা - ৫৯৮
অর্থাৎ-মুসা বলল, যারা বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না, সেই সকল উদ্ধত ব্যক্তি থেকে
আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের শরণাপন্ন হয়েছি ৷ (সুরা ঘুমিন : ২৭)
অর্থাৎ আমি আল্লাহ তাআলার শাহী দরবারের শরণাপন্ন হচ্ছি যাতে ফিরআউন ও অন্যরা
আমার প্রতি অনিষ্টের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করতে না পারে , তারা এতই উদ্ধত যে, তারা আমার
প্রতি কােনরুপ ভ্রাক্ষেপই করে না এবং আল্লাহ তাঅড়ালার আমার ও গযবকে ভয় করে না;
কেননা তারা আখিরাতে ও হিসাব-নিকাশে বিশ্বাস রাখে না ৷
অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
া
গ্রার্দুএ-ণ্ং এ এত্রৈ
(,;
া
,অর্থাৎ-ফিরআউন বংশের এক ব্যক্তি যে মু’মিন ছিল এবং নিজ ঈমান গোপন রাখত;
বললেন, তোমরা কি এক ব্যক্তিকে এ জন্য হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার প্ৰতিপালক
আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট
এসেছেঃ সে মিথ্যাবাদী হলে তার মিথ্যাবাদিতার জন্যে সে দায়ী হবে আর যদি সে সতবােদী
হয়, সে তোমাদেরকে যে শাস্তির কথা বলে, তার কিছু তো তোমাদের উপর আপতিত হবেই ৷
নিশ্চয় আল্লাহ সীমালৎঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সৎপথে পরিচালিত করেন না ৷ হে আমার
সম্প্রদায় ! আজ কর্তৃত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল; কিন্তু আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি
এসে পড়লে কে আমাদেরকে সাহায্য করবো ফিরআউন বলল, “আমি যা বুঝি আমি তোমাদের
তাই বলছি ৷ আমি তোমাদের কেবল সৎপথই দেখিয়ে থাকি ৷ ’ (সুরা মুমিন ২৮-২৯ )
উপরোক্ত ব্যক্তিটি ফিরআউনের চাচাতাে ভাই ছিল ৷ সে তার সম্প্রদায়ের কাছে ঈমান
গোপন রাখত ৷ কেননা, সে তাদের তরফ থেকে তার জীবন নাশের ভয় করত ৷ কেউ কেউ
বলেন, এ লোকটি ছিল ইসরাঈলী ৷ এই অভিমতটি শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা অতম্ভে ক্ষীণ এবং
পুর্বাপরের সাথে শব্দ ও অর্থের দিক দিয়ে তার কোন মিল নেই ৷ আল্লাহ তাআলাই অধিক
জ্ঞাত ৷ ,
ইবন জুরায়জ (র) ইবন আব্বাস (রা)-এর বরাতে বলেন, এই লোকটি এবং যে লোকটি
শহরের শেষ প্রান্ত থেকে এসেছিলেন তিনি এবং ফিরআউনের শ্রী ব্যতীত কিবতীদের মধ্যকার
অন্য কেউ মুসা (আ)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন করেনি ৷ বর্ণনাঢি ইবন হাতিমের ৷ দারাকুতনী
" وَيَذَرَكَ وَإِلَاهَتَكَ " أَيْ ; وَعِبَادَتَكَ. وَيَحْتَمِلُ شَيْئَيْنِ ; أَحَدُهُمَا وَيَذْرُ دِينَكَ. وَتُقَوِّيهِ الْقِرَاءَةُ الْأُخْرَى. الثَّانِي، وَيَذَرُ أَنْ يَعْبُدَكَ، فَإِنَّهُ كَانَ يَزْعُمُ أَنَّهُ إِلَهٌ، لَعَنَهُ اللَّهُ {قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ} [الأعراف: 127] أَيْ ; لِئَلَّا تَكْثُرَ مُقَاتِلَتُهُمْ {وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ} [الأعراف: 127] أَيْ ; غَالِبُونَ {قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} [الأعراف: 128] أَيْ ; إِذَا هَمُّوا هُمْ بِأَذِيَّتِكُمْ وَالْفَتْكِ بِكُمْ فَاسْتَعِينُوا أَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ، وَاصْبِرُوا عَلَى بَلِيَّتِكُمْ، {إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} [الأعراف: 128] أَيْ ; فَكُونُوا أَنْتُمْ مِنَ الْمُتَّقِينَ ; لِتَكُونَ لَكُمُ الْعَاقِبَةُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {وَقَالَ مُوسَى يَا قَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ - فَقَالُوا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} [يونس: 84 - 86]
[يُونُسَ: 84 - 86] . وَقَوْلُهُمْ: {أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا} [الأعراف: 129] أَيْ ; قَدْ كَانَتِ الْأَبْنَاءُ تُقْتَلُ قَبْلَ مَجِيئِكَ، وَبَعْدَ مَجِيئِكَ إِلَيْنَا {قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 129] وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ " حم الْمُؤْمِنِ ": {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُبِينٍ - إِلَى فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَقَارُونَ فَقَالُوا سَاحِرٌ كَذَّابٌ} [غافر: 23 - 24]
[غَافِرٍ: 23، 24] . وَكَانَ فِرْعَوْنُ الْمَلِكَ، وَهَامَانُ الْوَزِيرَ، وَكَانَ
পৃষ্ঠা - ৫৯৯
(র) বলেছেন, শাম আন নামে ফিরআউন বংশের উক্ত মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো কথা
জানা যায় না ৷ সুহড়াইলী এরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ তাবারানী (র) তার ইতিহাস গ্রন্থে তার নাম
খইির বলে উল্লেখ করেছেন ৷ আল্লাহ ডাআলাই অধিকতর জ্ঞাত ৷ মুলত এই ব্যক্তিটি তার
ঈমান গোপন রেখেছিলেন ৷ যখন ফিরআউন মুসা (আ)-কে হত্যা করার ইছে করল এবং এই
ব্যাপারে দৃঢ় সংকর হল , তখন সে তার আমীরদের সাথে এ ব্যাপারে পরামর্শ করল ৷ মুমিন
বান্দাটি মুসা (আ) এর ব্যাপারে শস্কিত হয়ে পড়লেন ৷ তাই তিনি ফিরআউনকে
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও তয়ভীতিপুর্ণ কথাবার্তা দ্বারা সুকৌশলে এ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা
করলেন ৷ তিনি তাকে সৎপরামর্শ স্বরুপ এবং যাতে সেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এ জন্য
তার সাথে কথা বললেন ৷
রাসুসুল্লাহ (সা) থেকে হাদীস বর্ণিত রয়েছে ৷ তিনি বলেছেন :
ছোা
অর্থাত্ অত্যাচারী শাসকের সম্মুখে ন্যায় কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ ৷ আর এখানে এটার
মর্যাদা আরো অধিক ৷ কেননা, ফিরআউন হিল সর্বাধিক অত্যাচারী ৷ আর মুমিন বান্দার বক্তব্য
ছিল অত্যধিক ন্যায়তিত্তিক ৷ কেননা, এর উদ্দেশ্য ছিল নবীকে নিরাপদ রাখা ৷ আবার এটাও
সম্বাবনা রয়েছে যে, তিনি তাদের কাছে নিজের গোপন ঈমানকে প্রকাশ করতেই চেয়েছিলেন ৷
তবে প্রথম সম্ভাবনাই অধিকতর স্পষ্ট ৷ আল্লাহ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত ৷ তিনি বললেন, “হে
ফিরআউনা আপনি কি এমন একটি লোককে হত্যা করতে যাচ্ছেন যে বলে যে , তার প্রতিপালক
আল্লাহ তাআলা! এ ধরনের কথা বা দাবির প্রতিশোধ অবজ্ঞা ও লাষ্কৃনা-পঞ্জনা হয় না ৷ এ
ধরনের কথা যারা বলেন বা স্বীকার করেন তাদের সমান ও ইজ্জত করতে হয়; তাদের সাথে
ভদ্র ব্যবহার করতে হয় ৷ তাদের কোন কাজের প্ৰতিশোধ্ নিতে হয় না ৷ কেননা, তিনি
আপনাদের কাছে আপন প্রতিপড়ালকের নিকট থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন তথা মুজিযা নিয়ে এসেছেন;
যা তার সত্যতা প্রমাণ করে ৷ কাজেই যদি আপনারা তাকে তার কাজ চালিয়ে যেতে দেন
তাহলে আপনারা নিরাপদ থাকবেন ৷ কেননা, যদি তিনি মিণ্যাৰাদী হয়ে থাকেন, তাহলে এই
মিথ্যার দায়দায়িভু তার উপরেই বর্তাবে; এতে আপনাদের কোন ক্ষতি হবার আশংকা
একেবারেই নেই ৷ আর যদি তিনি সত্যৰাদী হয়ে থাকেন (আর আসলেও ভাই) এবং আপনারা
তার বিরোধিতা করেন, তাহলে আপনাদের উপর ঐসব মুসীবতের কিয়দংশ অবতীর্ণ হবে
যেগুলো আপনাদের উপর অবতীর্ণ হবে বলে তিনি সতর্ক করছেন ৷ আপনারা ঐসব আযাবের
কিয়দংশ অবতীর্ণ হওয়ার আশংকায় ভীত-সস্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন ৷ আর যদি ঐসব শাস্তির
সবগুলো অবতীর্ণ হয় তাহলে আপনাদের অবস্থা কিরুপ হবো সেই অবস্থায় ফিরআউনের প্রতি
মুমিন বড়ান্দার এরুপ উপদেশ প্রদান তার উশ্চমার্পের বুদ্ধিমত্তা, কর্মকুশলতা ও সতর্কতার
পরিচায়ক ৷
৩
অতঃপর তার উক্তি দ্বারা তিনি
তার সম্প্রদায়ের লোকজনদের সতর্ক করে দিলেন যে , তাদের এই গ্ৰাণপ্রিয় রাজ্য শীঘ্রই হরণ
করে নেয়া হবে ৷ কেননা, যে কোন বাদশাহ বা রাজা যদি ধর্মের বিরোধিতা করে তাহলে তাদের
আল-ৰিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খ্যাঃপ্া৷ইিট্রুষ্ট্যম্যাল্গুগাে০ওেপ্নে
قَارُونُ إِسْرَائِيلِيًّا مِنْ قَوْمِ مُوسَى، إِلَّا أَنَّهُ كَانَ عَلَى دِينِ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ، وَكَانَ ذَا مَالٍ جَزِيلٍ جِدًّا، كَمَا سَتَأْتِي قِصَّتُهُ فِيمَا بَعْدُ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
{فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا اقْتُلُوا أَبْنَاءَ الَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ وَاسْتَحْيُوا نِسَاءَهُمْ وَمَا كَيْدُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ} [غافر: 25] . وَهَذَا الْقَتْلُ لِلْغِلْمَانِ، مِنْ بَعْدِ بَعْثَةِ مُوسَى، إِنَّمَا كَانَ عَلَى وَجْهِ الْإِهَانَةِ وَالْإِذْلَالِ، وَالتَّقْلِيلِ لِمَلَأِ بَنِي إِسْرَائِيلَ ; لِئَلَّا تَكُونَ لَهُمْ شَوْكَةٌ يَمْتَنِعُونَ بِهَا أَوْ يَصُولُونَ عَلَى الْقِبْطِ بِسَبَبِهَا، وَكَانَتِ الْقِبْطُ مِنْهُمْ يَحْذَرُونَ، فَلَمْ يَنْفَعْهُمْ ذَلِكَ ; وَلَمْ يَرُدَّ عَنْهُمْ قَدَرَ الَّذِي يَقُولُ لِلشَّيْءِ: كُنْ. فَيَكُونُ. {وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِي أَقْتُلْ مُوسَى وَلْيَدْعُ رَبَّهُ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ} [غافر: 26] . وَلِهَذَا يَقُولُ النَّاسُ عَلَى سَبِيلِ التَّهَكُّمِ: صَارَ فِرْعَوْنُ مُذَكِّرًا. وَهَذَا مِنْهُ، فَإِنَّ فِرْعَوْنَ فِي زَعْمِهِ يَخَافُ عَلَى النَّاسِ أَنْ يُضِلَّهُمْ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ. {وَقَالَ مُوسَى إِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ مِنْ كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ الْحِسَابِ} [غافر: 27] . أَيْ ; عُذْتُ بِاللَّهِ، وَلَجَأْتُ إِلَيْهِ وَاسْتَجَرْتُ بِجَنَابِهِ مِنْ أَنْ يَسْطُوَ فِرْعَوْنُ أَوْ غَيْرُهُ عَلَيَّ بِسُوءٍ. وَقَوْلُهُ: {مِنْ كُلِّ مُتَكَبِّرٍ} [غافر: 27] أَيْ ; جَبَّارٍ عَنِيدٍ، لَا يَرْعَوِي وَلَا
পৃষ্ঠা - ৬০০
রাজ্য হরণ করে নেয়া হয় এবং তাদেরকে সম্মান প্রদানের পর লাঞ্ছিত করা হয় যা ফিরআউনেব
সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ঘটেছে ৷
অতঃপর মুসা (আ) যা কিছু নিয়ে এসেছিলেন এ সম্পর্কে ফিবআউনের অনুসারীরা সন্দেহ
পোষণ, বিরোধিতা ও বৈরীভাব পোষণ করায় তাদেরকে আল্লাহ তাআলা তাদের ঘরবাড়ি,
সহায় সম্পদ, বিত্তবৈভব, রাজতু ও সৌভাণ্য থেকে বহিষ্কার করলেন এবং লাঞ্ছিত ও অপমানিত
করে তাদেরকে সাগরের দিকে ঠেলে দেয়া হলো; আর তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান দানের
পর তাদের কর্মফলের দরুন তাদের রুহসমুহকে হীনতাগ্রস্তদের হীনত ম পর্যায়ে অধ৪পতিত করা
হয় ৷ এ জন্যই প্রা জ্ঞ, আপন সম্প্রদায়ের পরম শুভাক ৷ভকী সত্যের অনুসা ৷রী, স৩ বােদী পুণ্যবান
ও হিদায়াত প্রাপ্ত মুমিন বান্দাটি বললেন, হে আমার সম্প্রদায় ৷ আজ কর্তৃত্ব তোমাদের ,
জনগণের মধ্যে তোমরা অধিক মর্য্যদাসম্পন্ন এবং তাদের উপর তোমরা শাসন চালিয়ে যাচ্ছ,
তোমরা সংখ্যায়, সামর্থো, শক্তিতে ও দৃঢ়তায় যদি ব৩ মানের চেয়ে অধিক গুণে ৷প্রতিপত্তি অর্জন
করতে পার তাহলেও এটা আমাদের কোন উপকাংর আসবে না এবং আহকামুল হাকিমীন
আল্লাহ তাআলার আযাবকে আমাদের থেকে প্রতিহত করতে পারবে না ৷ জবাবে ফিরআউন
বলল, আমি যা বুঝি, আমি তাই তোমাদের বলছি, আমি৫ তামাদের কেবল সৎপথই প্রদর্শন
করে থাকি’ ৷ উপরোক্ত দুটি বাক্যেই ফিরআউন ছিল মিথ্যাবাদী ৷ কেননা, অন্তরের অন্তস্থল
থােক সে উপলব্ধি করত যে, মুসা (আ) এর আনীত বিষয়াদি নিশ্চিত ভা ৷বে আল্লাহ তাঅ ৷লার
তরফ থেকেই ৷৩ তবে সে হঠকারিতা, শত্রুতা, সীমালংঘন ও কুফরীর কারণে মুখে এর বিপরীত
প্রকাশ করত ৷
আল্লাহ তা আলা মুসা (আ) এর উক্তির বিবরণ দিয়ে ইরশাদ করেন০ :
চ
ড্রু)ংএ
;fl
ৰুপ্রু০
র্দুব্র০ট্রুএে ণ্ছুট্রু ৷
অর্থাৎ-“তুমি অবশ্যই অবগত আছ যে, এ সমস্ত স্পষ্ট নিদর্শন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর
প্ৰতিপালকই অবতীর্ণ করেছেন প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরুপ ৷ হে ফিরআউন আমি তাে দেখছি তোমার
ধ্বংস আসন্ন ৷ তারপর ফিরআ উন তাদেরকে দেশ হতে উচ্ছেদ করার সংকল্প করল, তখন আমি
ফিরআউন ও তার সঙ্গীদের সকলকে ডুবিয়ে দিলাম ৷ এরপর আমি বনী ইসরাঈলকে বললাম ,
তোমরা যমীনে বসবাস কর এবং যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে তখন তোমাদের
সকলকে আমি একত্র করে উপস্থিত করব ৷” (সুরা বনী ইসরাঈল : ১ : ২ ১ : : )
অন্যত্র আল্লাহ তা অ ৷লদ্বু ইরশাদ করেন :
ঢ় ণ্ধ্
র্তু,, ৷ দ্বুৰুৰু০পু:হু,
ণ্ড্রশ্রো ৷ é ৷
يَنْتَهِي، وَلَا يَخَافُ عَذَابَ اللَّهِ وَعِقَابَهُ ; لِأَنَّهُ لَا يَعْتَقِدُ مَعَادًا وَلَا جَزَاءً، وَلِهَذَا قَالَ {مِنْ كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ الْحِسَابِ} [غافر: 27] .
{وَقَالَ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ وَإِنْ يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ وَإِنْ يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ - يَا قَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ظَاهِرِينَ فِي الْأَرْضِ فَمَنْ يَنْصُرُنَا مِنْ بَأْسِ اللَّهِ إِنْ جَاءَنَا قَالَ فِرْعَوْنُ مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ} [غافر: 28 - 29]
[غَافِرٍ: 28، 29] . هَذَا الرَّجُلُ هُوَ ابْنُ عَمِّ فِرْعَوْنَ، وَكَانَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ مِنْ قَوْمِهِ، خَوْفًا مِنْهُمْ عَلَى نَفْسِهِ. وَزَعَمَ بَعْضُ النَّاسِ أَنَّهُ كَانَ إِسْرَائِيلِيًّا، وَهُوَ بَعِيدٌ وَمُخَالِفٌ لِسِيَاقِ الْكَلَامِ لَفْظًا وَمَعْنًى. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَمْ يُؤْمِنْ مِنَ الْقِبْطِ بِمُوسَى إِلَّا هَذَا، وَالَّذِي جَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ، وَامْرَأَةِ فِرْعَوْنَ. رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ. قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: لَا يُعْرَفُ مَنِ اسْمُهُ شَمْعَانُ - بِالشِّينِ الْمُعْجَمَةِ - إِلَّا مُؤْمِنُ آلِ فِرْعَوْنَ. حَكَاهُ السُّهَيْلِيُّ. وَفِي " تَارِيخِ الطَّبَرَانِيِّ " أَنَّ اسْمَهُ: جَبْرٌ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ هَذَا الرَّجُلَ كَانَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ، فَلَمَّا هَمَّ فِرْعَوْنُ، لَعَنَهُ اللَّهُ،
পৃষ্ঠা - ৬০১
তারপর যখন তাদের নিকট আমার স্পষ্ট নিদর্শন আসল তারা বলল, এটা স্পষ্ট জাদু ৷ তারা
অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শাৰগুলােকে প্রত্যাখ্যান করল যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য
বলে গ্রহণ করেছিল ৷ দেখ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল ৷ (সুরা নামল :
১৩ ১ : )
আয়াতাংশে বর্ণিত ফিরআউনের উক্তি চু; ট্রুপ্র ৷ ম্পে ? ৷ ন্হ্রএ ^ ৷ ৷ ঠু
অর্থাৎ “আমি তােমাদেরকে কেবল সৎপথই প্রদর্শন করে থাকি ৷” এডেও সে মিথ্যা কথা
বলেছে ৷ কেননা, যে সঠিক রাস্তায় ছিল না, সে ছিল পথভ্রষ্টতা, নির্বৃদ্ধিতা ও সন্ত্রাসের উপর
প্রতিষ্ঠিত ৷ সে প্রথমত নিজে দেবদেবী ও মুর্তিদের পুজা করে ৷ অতঃপর তার সুর্য ও পথভ্রষ্ট
সম্প্রদায়কে তার অনুকরণ ও অনুসরণ করতে এবং সে যে নিজেকে রব’ বলে দাবি করেছিল এ
ব্যাপারে তাকে সত্য বলে স্বীকার করার জন্যে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে ৷
আল্লাহ তাআল৷ ইরশাদ করেন০ ং
)
র্শ্ব
অর্থাৎ-ফিরআউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার সম্প্রদায়!
মিসর রাজ্য কি আমার নয়? এ নদীগুলো আমার পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা এটা দেখ না?
আমি তাে শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি থেকে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলতেও অক্ষম ৷ মুসাকেন্কেন দেয়া
হল না স্বর্ণবলয় অথবা তার সাথে কেন আসল না ফেরেশতাপণ দলবদ্ধভাবেঃ এভাবে সে তার
সম্প্রদ৷ য়কে হতবুদ্ধি করে দিল, ফলে ওরা তার কথা মেনে নিল ৷ ওরা তো ছিল এক স৩ ত্যত্যাগী
সম্প্রদায় ৷ যখন ওরা আমাকে ক্রোধাম্বিত করল আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত
করলাম ওদের সকলকে ৷ তৎপর পরবর্তীদের জন্যে আমি ওদেরকে করে রাখলাম অতীত
ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত ৷ (৪৩ যুখরুফ : ৫ ১ ৫৬)
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন :
,
অর্থাৎ-অতঃপর মুসা ওকে (ফিরআউনকে) মহা নিদর্শন দেখাল ৷ কিন্তু সে অস্বীকার করল
এবং অবাধ্য হল ৷ তারপর সে পেছন ফিরে প্রতিবিধানে সচেষ্ট হল ৷ সে সকলকে সমবেত
بِقَتْلِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَعَزَمَ عَلَى ذَلِكَ وَشَاوَرَ مَلَأَهُ فِيهِ، خَافَ هَذَا الْمُؤْمِنُ عَلَى مُوسَى، فَتَلَطَّفَ فِي رَدِّ فِرْعَوْنَ بِكَلَامٍ جَمَعَ فِيهِ التَّرْغِيبَ وَالتَّرْهِيبَ، فَقَالَ كَلِمَةَ الْحَقِّ عَلَى وَجْهِ الْمَشُورَةِ وَالرَّأْيِ. وَقَدْ ثَبَتَ فِي الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ» وَهَذَا مِنْ أَعْلَى مَرَاتِبِ هَذَا الْمَقَامِ، فَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَا يَكُونُ أَشَدُّ جَوْرًا مِنْهُ، وَهَذَا الْكَلَامُ لَا أَعْدَلَ مِنْهُ; لِأَنَّ فِيهِ عِصْمَةَ دَمِ نَبِيٍّ. وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ أَشَارَ لَهُمْ بِإِظْهَارِ إِيمَانِهِ، وَصَرَّحَ لَهُمْ بِمَا كَانَ يَكْتُمُهُ. وَالْأَوَّلُ أَظْهَرُ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ. قَالَ: {أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ} [غافر: 28] أَيْ; مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ قَالَ: رَبِّيَ اللَّهُ. فَمِثْلُ هَذَا لَا يُقَابَلُ بِمِثْلِ هَذَا، بَلْ بِالْإِكْرَامِ وَالِاحْتِرَامِ وَالْمُوَادَعَةِ وَتَرَكِ الِانْتِقَامِ، يَعْنِي: لِأَنَّهُ {وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ} [غافر: 28] أَيْ; بِالْخَوَارِقِ الَّتِي دَلَّتْ عَلَى صَدْقِهِ فِيمَا جَاءَ بِهِ عَمَّنْ أَرْسَلَهُ فَهَذَا إِنْ وَادَعْتُمُوهُ كُنْتُمْ فِي سَلَامَةٍ; لِأَنَّهُ {وَإِنْ يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ} [غافر: 28] وَلَا يَضُرُّكُمْ ذَلِكَ {وَإِنْ يَكُ صَادِقًا} [غافر: 28] وَقَدْ تَعَرَّضْتُمْ لَهُ {يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ} [غافر: 28] أَيْ; وَأَنْتُمْ تُشْفِقُونَ أَنْ يَنَالَكُمْ أَيْسَرُ جَزَاءٍ مِمَّا يَتَوَعَّدُكُمْ بِهِ، فَكَيْفَ بِكُمْ إِنَّ حَلَّ جَمِيعُهُ عَلَيْكُمْ؟ وَهَذَا
পৃষ্ঠা - ৬০২
করল এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করল আর বলল, আমিই ওে ৷মাদের শ্রেষ্ঠ প্ৰতিপালক ৷’ তারপর
আল্লাহ তাকে আখিরাতে ও দুনিয়ার কঠিন শ্ ৷৷ন্তিতে পাকড়াও করলেন ৷ যে ভয় করে তার জন্য
অবশ্যই এটাতে শিক্ষা রয়েছে ৷ (সুরা নাযিআত : ২০-২৬)
আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন :
^পুব্লুপুদ্বু
’¢§’:,(§”“ ৷ ন্দ্বুহ্র্চু’র্চুএে
)
া
অর্থাৎ-আমি তো মুসাকে আমার নিদশনিাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়ে ছিলাম ফিরআউন
ও তার প্ৰধানদের নিকট ৷ কিভু তারা ফিরআউনের কার্যকলাপের অনুরুপ করত এবং
ফিরআউনের কার্যকলাপ ভাল ছিল না ৷ সে কিয়ামতের দিনে তার সম্প্রদায়ের অগ্রতাগে থাকবে
এবং সে তাদেরকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করবে ৷ যেখানে প্রবেশ করানো হবে তা কত নিকৃষ্ট
স্থান৷ এ দুনিয়ার তাদেরকে করা হয়েছিল অভিশাপগ্রস্ত এবং অভিশাপগ্রস্ত হয়ে তারা কিয়ামতের
দিলেও ৷ কত নিকৃষ্ট সে পুরস্কার যা ওদেরকে দেওয়া হবে ৷ (সুরা হুদ৪ ৯৬-৯৯ )
ফিরআউনের উক্তি দুটি যে মিথ্যা৩ার ৷বর্ণন৷ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা আলা ইরশাদ করেন :
া
ন্
ণ্১#ম্
(
৷ র্মুহ্াব্লুর্দ্র
অর্থাৎ-ফিরাউন বলল, আমি যা বুঝি, আমি তোমাদের ত ই বলছি ৷ আমি তোমাদের
কেবল সৎপথই দেখিয়ে থাকি ৷ মুমিন ব্যক্তিটি বলল, হে আমার সম্প্রদায় ৷ আমি তোমাদের
জন্য পুর্ববর্তী সম্প্রদায়সমুহের শাস্তির দিনের অনুরুপ দৃদািনর আশংকা করি ৷ যেমন ঘটেছিল
নুহ, আদ, হুামুদ ও তাদের পুর্ববর্তীদের ব্যাপারে ৷ আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম
করতে চান না ৷ হে আমার সম্প্রদায়৷ আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি আর্ভাৰাদ দিবসের ৷
الْكَلَامُ فِي هَذَا الْمَقَامِ مِنْ أَعْلَى مَقَامَاتِ التَّلَطُّفِ وَالِاحْتِرَازِ وَالْعَقْلِ التَّامِّ. وَقَوْلُهُ: {يَاقَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ظَاهِرِينَ فِي الْأَرْضِ} [غافر: 29] يُحَذِّرُهُمْ أَنَّ يَسْلُبُوا هَذَا الْمُلْكَ الْعَزِيزَ، فَإِنَّهُ مَا تَعَرَّضَتِ الدُّوَلُ لِلدِّينِ إِلَّا سُلِبُوا مُلْكَهُمْ وَذَلُّوا بَعْدَ عِزِّهِمْ، وَكَذَا وَقْعَ لِآلِ فِرْعَوْنَ; مَا زَالُوا فِي شَكٍّ وَرَيْبٍ، وَمُخَالَفَةٍ وَمُعَانَدَةٍ لِمَا جَاءَهُمْ مُوسَى بِهِ، حَتَّى أَخْرَجَهُمُ اللَّهُ مِمَّا كَانُوا فِيهِ مِنَ الْمُلْكِ وَالْأَمْلَاكِ وَالدُّورِ وَالْقُصُورِ، وَالنِّعْمَةِ وَالْحُبُورِ، ثُمَّ حُوِّلُوا إِلَى الْبَحْرِ مُهَانِينَ، وَنُقِلَتْ أَرْوَاحُهُمْ بَعْدَ الْعُلُوِّ وَالرِّفْعَةِ إِلَى أَسْفَلِ السَّافِلِينَ. وَلِهَذَا قَالَ هَذَا الرَّجُلُ الْمُؤْمِنُ الصَّادِقُ، الْبَارُّ الرَّاشِدُ، التَّابِعُ لِلْحَقِّ النَّاصِحُ لِقَوْمِهِ، الْكَامِلُ الْعَقْلِ: {يَاقَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ظَاهِرِينَ فِي الْأَرْضِ} [غافر: 29] أَيْ; عَالِينَ عَلَى النَّاسِ حَاكِمِينَ عَلَيْهِمْ، {فَمَنْ يَنْصُرُنَا مِنْ بَأْسِ اللَّهِ إِنْ جَاءَنَا} [غافر: 29] أَيْ; لَوْ كُنْتُمْ أَضْعَافَ مَا أَنْتُمْ فِيهِ مِنَ الْعَدَدِ وَالْعُدَّةِ وَالْقُوَّةِ وَالشِّدَّةِ لَمَا نَفَعَنَا ذَلِكَ وَلَا رَدَّ عَنَّا بَأْسَ مَالِكِ الْمَمَالِكِ. {قَالَ فِرْعَوْنُ} [غافر: 29] أَيْ; فِي جَوَابِ هَذَا كُلِّهِ: {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى} [غافر: 29] أَيْ; مَا أَقُولُ لَكُمْ إِلَّا مَا عِنْدِي {وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ} [غافر: 29] وَكَذَبَ فِي كُلٍّ مِنْ هَذَيْنِ الْقَوْلَيْنِ، وَهَاتَيْنِ الْمُقَدِّمَتَيْنِ، فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ يَتَحَقَّقُ وَيَعْلَمُ فِي بَاطِنِهِ وَفِي نَفْسِهِ أَنَّ هَذَا الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى حَقٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لَا مَحَالَةَ، وَإِنَّمَا كَانَ يُظْهِرُ خِلَافَهُ بَغْيًا وَعُدْوَانًا، وَعُتُوًّا وَكُفْرَانًا.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى إِخْبَارًا عَنْ مُوسَى:
পৃষ্ঠা - ৬০৩
যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে, আল্লাহর শাস্তি থেকে তোমাদের রক্ষা করার
কেউ থাকবে না ৷ আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে কোন পথপ্রদর্শক নেই ৷ পুর্বেও
তোমাদের নিকট ইউসুফ এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শনসহ; কিন্তু সে তোমাদের নিকট যা নিয়ে
এসেছিল তোমরা তাতে বার বার সন্দেহ পোষণ করতে ৷ পরিশেষে যখন ইউসুফের মৃত্যু হল
তখন তোমরা বলেছিলে তার পরে আল্লাহ আর কোন রাসুল প্রেরণ করবেন না ৷ এভাবে আল্লাহ
বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী ও সংশয়বাদীদেরকে ৷ যায়৷ নিজেদের নিকট কোন দলীল-প্রমাণ
না থাকলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়, তাদের এই কর্ম আল্লাহ এবং
মুমিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণাহ ৷ এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়ে
মােহর মেরে দেন ৷ (সুরা মুমিন : ২৯-৩৫)
এমনিভা ৷বে আল্লাহত তা আলার এ ওলী মুমিন বান্দাটি তাদেরকে সতর্ক করে দেন যে, যদি
তারা আল্লাহর রাসুল মুসা (আ) কে মিথ্যা প্ৰতিপন্ন করে তাহলে তাদের প্রতি ৩অ ৷ল্লাহ তা জানার
আমার ও পযব অবতীর্ণ হবে, যেমনিভাবে তাদের পুর্ববর্তী উম্ম৩ তদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল ৷
তাদের পুর্ববর্তী উষ্মত যেমন নুহ (আ) এর সম্প্রদায়, আদ, ছামুদ ও তাদের পরবর্তী যুগের
উম্মতদের প্রতি আল্লাহ তাআলার পযব অবতীর্ণ হবার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে দলীলাদির দ্বারা
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত ছিল ৷ আরও প্রমাণিত ছিল যে, আম্বিয়ায়ে কিরাম যা কিছু নিয়ে
প্রেরিত হয়েছিলেন তা অস্বীক৷ ৷র করার কারণে তাদের শক্রদের প্রতি আল্লাহ তা আলার আযাব
ও পযব অবতীর্ণ হয়েছিল এবং তাদের অনুসরণ করার কারণে তাদের অনুসারীদেরকে আল্লাহ
তা আলা নজােত দিয়েছেন ৷ তিনি তাদেরকে কিয়ামত সম্পর্কে স৩ তর্ক করেন ৷ উক্ত আয়াতে
কিয়ামতের দিবসকে প্রুশ্রো ¢,: বা আহ্বানের দিবস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে ৷ উক্ত
দিবসে যখন লোকজন ছুটাছুটি করতে থাকবে, তখন তারা যদি সমর্থ হয় তবে একে অন্যকে
আহ্বান করবে অথচ এরুপ সুযোগ তাদের হয়ে উঠবে না ৷
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
এদ্বুষ্এ ১া৷ এন্ম্বুন্
অর্থাৎ-“সেদিন মানুষ বলবে, আজ পালাবার স্থান কোথায়? না, কোন আশ্রয়ন্থল নেই ৷
সেদিন ঠীই হবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট ৷ (সুরা কিয়ামা : ১ : ১২)
পুনরায় আল্লাহ তাআল৷ অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন০
৷ ,
অর্থাৎ “হে জিন ও মানব সম্প্রদায় ! আকড়াশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি
অতিক্রম করতে পার, অতিক্রম কর, কিন্তু তোমরা অতিক্রম করতে পারবে না সনদ
ব্যতিরেকে ৷ সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
{قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَافِرْعَوْنُ مَثْبُورًا} [الإسراء: 102] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ - وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ} [النمل: 13 - 14]
[النَّمْلِ: 13، 14] . وَأَمَّا قَوْلُهُ: {وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ} [غافر: 29] . فَقَدْ كَذَبَ أَيْضًا، فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ عَلَى رَشَادٍ مِنَ الْأَمْرِ، بَلْ كَانَ عَلَى سَفَهٍ وَضَلَالٍ، وَخَبَالٍ، وَكَانَ أَوَّلًا مِمَّنْ يَعْبُدُ الْأَصْنَامَ وَالْأَمْثَالَ، ثُمَّ دَعَا قَوْمَهُ الْجَهَلَةَ الضُّلَّالَ إِلَى أَنِ اتَّبَعُوهُ وَطَاوَعُوهُ، وَصَدَّقُوهُ فِيمَا زَعَمَ مِنَ الْكُفْرِ الْمُحَالِ فِي دَعْوَاهُ أَنَّهُ رَبٌّ، تَعَالَى اللَّهُ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَنَادَى فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِي أَفَلَا تُبْصِرُونَ - أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ - فَلَوْلَا أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ - فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ - فَلَمَّا آسَفُونَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ - فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِينَ} [الزخرف: 51 - 56]
[الزُّخْرُفِ: 51 - 56] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَأَرَاهُ الْآيَةَ الْكُبْرَى - فَكَذَّبَ وَعَصَى - ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى - فَحَشَرَ فَنَادَى - فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى - فَأَخَذَهُ اللَّهُ نَكَالَ الْآخِرَةِ وَالْأُولَى - إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِمَنْ يَخْشَى} [النازعات: 20 - 26]
[النَّازِعَاتِ: 20 - 26] . وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُبِينٍ - إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَإِيْهِ فَاتَّبَعُوا أَمْرَ فِرْعَوْنَ وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ - يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ - وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ} [هود: 23 - 99]
[هُودٍ: 96 - 99] . وَالْمَقْصُودُ بَيَانُ كَذِبِهِ فِي قَوْلِهِ: {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى} [غافر: 29] وَفِي قَوْلِهِ: {وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ} [غافر: 29] .
পৃষ্ঠা - ৬০৪
তোমাদের প্রতি প্রেরিত হবে অগ্নিশিখা ও ধুম্রপুঞ্জ, তখন তোমরা প্রতিরোধ করতে পারবে না ৷
সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবো (সুরা
আর-রহমান০ ৩৩ ৩৬)
আয়াতে উল্লিখিত এ১এ ! হ্ কে কেউ কেউ সালে তাশদীদ দিয়ে পাঠ করেন তখন
তার ড়াঅর্থ ৷ এে-ন্ ! é$ বা পলায়নের দিন ৷ এটা কিয়ড়ামকৃ তর দিনও হতে পারে আবার এটার
দ্বারা আল্লাহ তা জানার পক্ষ থেকে আমার গযব অবতীর্ণ করার দিনও হতে পারে, যেদিন তারা
মুক্তির জন্যে পলায়ন করতে চইিবে, কিন্তু পবিত্রাণের কো ৷নই উপায় থাকবে না ৷ (সাদং : ৩)
আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন :
# fl
অর্থাৎ-অতং পর যখন ওরা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখনই ওরা জনপদ থেকে
পলায়ন করতে লাগল ৷ তাদেরকে বলা হয়েছিল পলায়ন কর না এবং ফিরে এস তোমাদের
ভোগ সম্ভারের নিকট ও তোমাদের আবাসগৃহে, হয়ত এ বিষয়ে তােমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা
যেতে পারে ৷ (সুরা আম্বিয়া : ১২ ১৩)
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মিসর দেশে ইউসুফ (আ)-এর নবুওত সম্পৃর্কে সংবাদ
দেন ৷ ইউসুফ (আ)এর নবুওত জনগণের কাছে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জন্যে একটি
নিয়ামত ও আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল ৷ মুসা (আ) ছিলেন তারই অশঃস্তন বংশধর ৷ তিনি জনগণকে
আল্লাহ তাআলার একত্বাদ ও ইবাদতের প্ৰতি আহ্বান করেছিলেন এবং মাখলুকের মধ্য হতে
কাউকেও আল্লাহ তাআলার অংশীদার ধারণা করতে বিরত রাখেন ৷ আল্লাহ তাআলা ঐ
সময়কার মিসরবাসীদের সত্যকে মিথ্যা এবং নবী-রাসুলগণের বিরোধিতা সম্পর্কে সংবাদ দিতে
গিয়ে বলেন০ ং
এএে
ৰ্খু
(
অর্থাৎ তারা রাসুলকে অস্বীকার করেছিল এ জন্যই আল্লাহ্ তা জানা বলেন০ :
া
অর্থাৎ-আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে তাদের কাছে আগত কোন প্রকার দলীল ও প্রমাণ
ব্যতীতই তারা আল্লাহ তাঅড়ালার প্রদত্ত খােদায়ী অস্তিতু ও একতুবাদের জন্যে দলীলাদি ও
প্রমাণাদি সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে ৷ আর জনগণ থেকে এ কাজে যারা লিপ্ত হয়ে তাদের প্রতি
আল্লাহ তাআলা চরম অসন্তুষ্ট হন ৷
এ জন্যই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন০ :
,
{قَالَ رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ - وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا إِنَّا مُهْلِكُوا أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ إِنَّ أَهْلَهَا كَانُوا ظَالِمِينَ - قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوطًا قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ - وَلَمَّا أَنْ جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالُوا لَا تَخَفْ وَلَا تَحْزَنْ إِنَّا مُنَجُّوكَ وَأَهْلَكَ إِلَّا امْرَأَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ - إِنَّا مُنْزِلُونَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ - وَلَقَدْ تَرَكْنَا مِنْهَا آيَةً بَيِّنَةً لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [العنكبوت: 30 - 35]
[الْعَنْكَبُوتِ: 30 - 35] . يُحَذِّرُهُمْ وَلِيُّ اللَّهِ، إِنْ كَذَّبُوا بِرَسُولِ اللَّهِ مُوسَى، أَنْ يَحِلَّ بِهِمْ مَا حَلَّ بِالْأُمَمِ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنَ النَّقِمَاتِ وَالْمَثُلَّاتِ، مِمَّا تَوَاتَرَ عِنْدَهُمْ وَعِنْدَ غَيْرِهِمْ; مَا حَلَّ بِقَوْمِ نُوحٍ، وَعَادٍ، وَثَمُودَ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ إِلَى زَمَانِهِمْ ذَلِكَ، مِمَّا أَقَامَ اللَّهُ بِهِ الْحُجَجَ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ قَاطِبَةً، فِي صِدْقِ مَا جَاءَتْ بِهِ الْأَنْبِيَاءُ، بِمَا أَنْزَلَ مِنَ النِّقْمَةِ بِمُكَذِّبِيهِمْ مِنَ الْأَعْدَاءِ، وَمَا أَنْجَى اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَهُمْ مِنَ الْأَوْلِيَاءِ، وَخَوَّفَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَهُوَ يَوْمُ التَّنَادِ أَيْ; حِينَ يُنَادِي النَّاسُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا حِينَ يُوَلُّونَ مُدْبِرِينَ إِنْ قَدَرُوا عَلَى ذَلِكَ، وَلَا إِلَى ذَلِكَ سَبِيلٌ. {يَقُولُ الْإِنْسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ - كَلَّا لَا وَزَرَ - إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ} [القيامة: 10 - 12]
[الْقِيَامَةِ: 10 - 12] . وَقَالَ تَعَالَى: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ - فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنْتَصِرَانِ - فَبِأَيِ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ} [الرحمن: 33 - 36]
পৃষ্ঠা - ৬০৫
অর্থাৎ এভাবে আল্লাহ তা জানা প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচা রী ব্যক্তির হৃদয়ে মােহর মেরে
দেন ৷ অত্র আয়াতাংদু শ উল্লিখিত ,র্চু কু -ৰু ,£ এ শব্দ দুটি বিশেষ্য বিশেষণরুপে বা সম্বন্ধ
পদ দু ভাবেই পড়া হয়ে থাকে এবং এ দুটির অইে এমন যে একটি অপরটির জন্যে
অবশ্যম্ভ৷ ৷বী ৷ যদি কোন সময় জনগণের হৃদয়সমুহ সত্যের বিরোধিতা করে তাহলে তা প্রমাণ
ব্যতিরেকেই করে থাকে ৷ এ জন্যই আল্লাহ তাআল ৷ লএসব হৃদয়ে মােহর মেরে দেন ৷
ফিরআউনের ঔদ্ধ৩ তা বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা অল ৷ইরশাদ করেন ও
ট্রু,ার্চু১ ৷র্টুশু,,ঠু,১ (া৷পুদ্ৰ,
া
অর্থাৎ “ফিরআউন বলল, হে হামান! আমার জ্যা৷ তুমি নির্মাণ ৷কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ
যাতে আমি পাই অবলম্বন-অবলম্বন আসমানে আরোহণের, যেন দেখতে পাই মুসার ইলাহকে;
তবে আমি তো ওকে মিথ্যাবাদীই মনে করি ৷ এভাবেই বিস্মআউনের নিকট শোতঘীয় করা
হয়েছিল তার মন্দ কর্ম এবং তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল সরল পথ থেকে এবং ফিরআউনের
ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল সম্পুর্ণরুপে” ৷ (সুরা মুমিন : ৩৬ ৩৭)
অন্য কথায়, মুসা (আ) দাবি করেছিলেন যে, আল্লাহ তাআল৷ তাকে প্রেরণ করেছেন আর
ফিরআউন তাকে মিথ্যাবাদী প্ৰতিপন্ন করেছিল এবং তার সম্প্রদায়কে সে বলেছিলং :
’
& ,
া
“হে পারিষদবর্গ! ণআমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ আছে বলে আমি জানি না ৷
হে হামান৷ তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরী কর; হয়ত আমি
এটাতে উঠে মুসার ইলাহকে দেখতে পাব ৷ তবে, আমি অবশ্য মনে করি, যে মিথ্যাবাদী ৷ ”
(কা সাস০ ৩৮)
সুরায়ে মুমিনের ৩৬ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, ফিরআউন বলেছিল : ব্লুপুণ্(ক্রো
৷ অর্থাৎ-যাতে আমি পাই অবলম্বন-অবলম্বন আর্সমানে
আরোহণের অর্থাৎ আসমানে আরোহণের রাস্তা ৷
অত০পর ফিরঅন্উন
অর্থাৎ-“হয়ত এটাতে উঠে আমি মুসার ইলাহকে দেখতে পাব ৷৩ তবে আমি অবশ্য মনে
করি যে মিথ্যাবাদী ৷” শেষোক্ত আয়াতাং শের দুটি সম্ভাব্য অর্থ রয়েছে একটি হল-ফিরআউন
বলল, মুসা যে বলেছে ফিরআউন ব্যতীত জগতের জন্যে অন্য কোন প্রতিপালক আছে, এই
কথায় আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি ৷ দ্বিতীয়টি হল-ফিরআউন বলল, মুসা যে বলেছে
তাকে আল্লাহ তা ৷আলা রসুলরুপে প্রেরণ করেছেন এই দাবিতে আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে
করি ৷ প্রথম অর্থটি ফিরআউনের অবস্থার প্রেক্ষিতে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে হয় ৷ কেননা, সে
[الرَّحْمَنِ: 33 - 36] . وَقَرَأَ بَعْضُهُمْ: (يَوْمَ التَّنَادِّ) بِتَشْدِيدِ الدَّالِ، أَي يَوْمَ الْفِرَارِ. وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ يَوْمَ يُحِلُّ اللَّهُ بِهِمُ الْبَأْسَ، فَيَوَدُّونَ الْفِرَارَ وَلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ. {فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَرْكُضُونَ - لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَى مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ} [الأنبياء: 12 - 13]
[الْأَنْبِيَاءِ: 12، 13] . ثُمَّ أَخْبَرَهُمْ عَنْ نُبُوَّةِ يُوسُفَ فِي بِلَادِ مِصْرَ; مَا كَانَ مِنْهُ مِنَ الْإِحْسَانِ إِلَى الْخَلْقِ فِي دُنْيَاهُمْ وَأُخْرَاهُمْ، وَهَذَا مِنْ سُلَالَتِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، وَيَدْعُو النَّاسَ إِلَى تَوْحِيدِ اللَّهِ وَعِبَادَتِهِ، وَأَنْ لَا يُشْرِكُوا بِهِ أَحَدًا مِنْ بَرِّيَّتِهِ، وَأَخْبَرَ عَنْ أَهْلِ الدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، أَنَّ مِنْ سَجِيَّتِهِمُ التَّكْذِيبَ بِالْحَقِّ وَمُخَالَفَةَ الرُّسُلِ; وَلِهَذَا قَالَ: {فَمَا زِلْتُمْ فِي شَكٍّ مِمَّا جَاءَكُمْ بِهِ حَتَّى إِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَنْ يَبْعَثَ اللَّهُ مِنْ بَعْدِهِ رَسُولًا} [غافر: 34] أَيْ; وَكَذَّبْتُمْ فِي هَذَا. وَلِهَذَا قَالَ: {كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ مُرْتَابٌ - الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ} [غافر: 34 - 35] أَتَاهُمْ أَيْ; يَرُدُّونَ حُجَجَ اللَّهِ وَبَرَاهِينَهُ وَدَلَائِلَ تَوْحِيدِهِ بِلَا حُجَّةٍ وَلَا دَلِيلٍ عِنْدَهُمْ مِنَ اللَّهِ، فَإِنَّ هَذَا أَمْرٌ يَمْقُتُهُ اللَّهُ غَايَةَ الْمَقْتِ; أَيْ يُبْغِضُ مَنْ تَلَبَّسَ بِهِ مِنَ النَّاسِ، وَمَنِ اتَّصَفَ بِهِ مِنَ الْخَلْقِ، {كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ} [غافر: 35] قُرِئَ بِالْإِضَافَةِ وَبِالنَّعْتِ، وَكِلَاهُمَا مُتَلَازِمٌ; أَيْ هَكَذَا إِذَا خَالَفَتِ الْقُلُوبُ الْحَقَّ، وَلَا تُخَالِفُهُ إِلَّا بِلَا بُرْهَانٍ، فَإِنَّ اللَّهَ يَطْبَعُ عَلَيْهَا; أَيْ يَخْتِمُ عَلَيْهَا.
পৃষ্ঠা - ৬০৬
সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছিল ৷ দ্বিতীয় অর্থটি শব্দগতভাবে সঠিক হওয়ার
সম্ভাবনা বেশি ৷ কেননা সে বলেছেং : :ঠু,দ্বুকু <৷ ৷ : ৷ প্লুা৷াণ্ অর্থাৎ আমি মুসার ইলাহর
কাছে পৌছব এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবো তিনি মুসাকে নবীরুপে প্রেরণ করেছেন কিনা ৷
অধিকন্তু তার কথা ) ^১াণ্ র্দু১ছু ১৷ ^ ’১াঠু এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য ছিল লোকজনকে
মুসা (আ) থেকে বিরত রাখা--তারা যেন মুসা (আ) কে বিশ্বাস না করে তাই তাকে মিথ্যাবাদী
ধারণা করার জন্য ফিরআউন জনগণকে উৎসাহিত করেছিল ৷
আল্লাহ তা আলা বলেন মোঃ ৷ ;,£ ণুও া ,(দ্বু ’; হু£ ;ঠু;ঠুটুএে :,: ঝু ;া৷ ৷ ন্হ্র )
আবার র্চু)ট্রু;প্রু;ট্রুা> ,; ৷ পড়া হয়ে থাকে ৷ আয়াতাংশ
ন্এে ^ ১ শ্মি ! ট্রু£ঠুঘুএে £§ £ণ্১ এর তাফ্সীর প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) ও
মুজাহিদ (র) ৷ অর্থাৎ যে ব্যর্থ হয়েছে
এতে তার কোন উদ্দেশ্যই হাসিল্ হয়নি ৷ কেননা, মানবজা ৷তির জন্য এটা সম্ভব নয় যে তাদের
শক্তি দ্বারণ্তারা ৷দৃনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে উঠতে পারে, তাহলে তারা কেমন করে উর্ধ্বতর
আসমানে কিত্ৰা তারও উরুর্ধ্বর সুউচ্চ আসমানে উঠতে পারবে যার সম্বন্ধে আল্লাহ ব্যতীত অন্য
কেউ জ্ঞাত নন ৷ একাধিক তাফসীরকার উল্লেখ করেছেন যে, এই সুউচ্চ প্রাসাদটি ফিরআউনের
মন্তী হামান ফিরআউনের জন্যে নির্মাণ করেছিল ৷ এর চাইতে উচ্চতর প্রাসাদ আর দ্বিতীয়টি
দেখতে পাওয়া যায়নি ৷ আর এটা ছিল পােড়ানাে ইটের তৈরী ৷ এ জন্যেই ফিরআউন হামানকে
বলেছিল, “হে হামান ! আমার জন্যে তুমি ইট পােড়াও তারপর এর দ্বারা আমার জন্যে একটি
সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর ৷”
কিতাবীশ্চেরে মতে, বনী ইসরাঈলকে ইট বানাবার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং তারা
ফিবআউনের অনুসারিপণ কর্তৃক প্রদত্ত বিজ্যি ধরনের ক্লেশজনক কাজকর্ম আঞ্জাম দিতে বাধ্য
হত ৷ তাদেরকে ফিরআউনের ত্তন্যে যে সব কাজ করতে বাধ্য করা হত তাতে তাদেরকে কেউ
সাহায্য করত না বরং তারা নিজেরইি ফিরআউসের জন্যে মাটি, ভুষি ও পানি সপ্রেহ করত এবং
ফিরআউন প্রত্যহ তাদের থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ করিয়ে নিত ৷ তারা যদি তা না
করত তাহলে তাদেরকে প্ৰহার করা হত, অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হত এবং তাদেরকে চরম
কষ্ট দেয়৷ হত ৷
এ জন্যই তারা মুসা (আ) কে লক্ষ্য করে বলেছিল :
খ্যাঃ এে
’ fl ,ধ্
া
অর্থাৎ-আমাদের নিকট তোমার আমার পুর্বে আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তোমার
আমার পরেও ৷ তিনি বলল্দো, শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শক্রকে ধ্বংস করবেন
এবং তিনি তােমাদেরকে রাজ্যে তাদ্যে৷ তুলাত্তিষিক্ত করবেন ৷ অতঃপর তোমরা কি কর তা তিনি
লক্ষ্য করবেন ৷ ”
{وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ - أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا وَكَذَلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوءُ عَمَلِهِ وَصُدَّ عَنِ السَّبِيلِ وَمَا كَيْدُ فِرْعَوْنَ إِلَّا فِي تَبَابٍ} [غافر: 36 - 37]
[غَافِرٍ: 36، 37] . كَذَّبَ فِرْعَوْنُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فِي دَعْوَاهُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَهُ، وَزَعَمَ فِرْعَوْنُ لِقَوْمِهِ مَا كَذَّبَهُ وَافْتَرَاهُ، فِي قَوْلِهِ لَهُمْ: {مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَلْ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِنَ الْكَاذِبِينَ} [القصص: 38] . وَقَالَ هَاهُنَا: {لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ} [غافر: 36] أَيْ; طُرُقَهَا وَمَسَالِكَهَا {فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر: 37] وَيَحْتَمِلُ هَذَا مَعْنَيَيْنِ; أَحَدُهُمَا، وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا فِي قَوْلِهِ: إِنَّ لِلْعَالَمِ رَبًّا غَيْرِي. وَالثَّانِي، فِي دَعْوَاهُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَهُ. وَالْأَوَّلُ أَشْبَهُ بِظَاهِرِ حَالِ فِرْعَوْنَ، فَإِنَّهُ كَانَ يُنْكِرُ ظَاهِرَ إِثْبَاتِ الصَّانِعِ، وَالثَّانِي أَقْرَبُ إِلَى اللَّفْظِ; حَيْثُ قَالَ: {فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى} [غافر: 37] أَيْ; فَأَسْأَلَهُ هَلْ أَرْسَلَهُ أَمْ لَا، {وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر: 37] أَيْ; فِي دَعْوَاهُ ذَلِكَ. وَإِنَّمَا كَانَ مَقْصُودُ فِرْعَوْنَ أَنْ يَصُدَّ النَّاسَ عَنْ تَصْدِيقِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَأَنْ يَحُثَّهُمْ عَلَى تَكْذِيبِهِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوءُ عَمَلِهِ وَصُدَّ عَنِ السَّبِيلِ} [غافر: 37] وَقُرِئَ: (وَصَدَّ عَنِ السَّبِيلِ) قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمُجَاهِدٌ: يَقُولُ: إِلَّا فِي خَسَارٍ. أَيْ بَاطِلٍ، لَا يَحْصُلُ لَهُ شَيْءٌ مِنْ مَقْصُودِهِ الَّذِي رَامَهُ، فَإِنَّهُ لَا سَبِيلَ لِلْبَشَرِ أَنْ يَتَوَصَّلُوا بِقُوَاهُمْ إِلَى نَيْلِ السَّمَاءِ أَبَدًا - أَعْنِي السَّمَاءَ الدُّنْيَا - فَكَيْفَ بِمَا بَعْدَهَا مِنَ السَّمَاوَاتِ الْعُلَى، وَمَا فَوْقَ
পৃষ্ঠা - ৬০৭
এমনি করে মুসা (আ) তার সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, কিবতীদের
বিরুদ্ধে পরিণামে তাদেরই জয় হবে ৷ আর কালে এরুপই সংঘটিত হয়েছিল ৷ এটা ছিল
নবুওতের সভ্যতার একটি প্রমাণ ৷ এখন আমরা আবার মুমিন বান্দার উপদেশ, নসীহত ও
যুক্তি প্রমাণের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি ৷
আল্লাহ তা জানা ইবশাদ করেনং :
§
এ
গু
া
“মুমিন ব্যক্তিটি বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি
তােমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালনা করব ৷ হে আমার সম্প্রদায় ! এই পার্থিব জীবন তাে ৷অস্থায়ী
উপতােগের বন্তু এবং আখিরাতই হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস ৷ কেউ মন্দ কাজ করলে যে কেবল তার
কর্মের অনুরুপ শাস্তি পাবে এবং পুরুষ কিৎবা নারীর মধ্যে যারা মুমিন হয়ে সৎকর্ম করবে তারা
দাখিল হবে জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে দেয়৷ হবে অপরিমিত জীবনােপকরণ ৷ (সুরা মুমিন০ ং
৩৮ ৪০)
অর্থাৎ মুমিন বান্দাটি তাদেরকে সঠিক ও সত্য পথের দিকে আহ্বান করছেন ৷ আর তা
হচ্ছে আল্লাহর নবী মুসা (আ) এর অনুসরণ করা এবং তিনি আপন প্রতিপালকের কাছ থেকে যা
কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে স্বীকার করা ৷ অতঃপর তিনি তাদেরকে নশ্বর ও নিকৃষ্ট
দুনিয়ার মোহ হতে বিরত থাকার উপদেশ দিচ্ছেন যা নিঃসন্দেহে ধ্বং স ও শেষ হয়ে যাবে এবং
তিনি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার কাছে সওয়ার অন্বেষণের জন্যে অনুপ্রাণিত করছেন, যিনি
কোন আমলকারীর আমলকে বিনষ্ট করেন না ৷ তিনি এমনই শক্তিশালী র্যার কাছে প্রতিটি বস্তুর
কর্তৃতৃ রয়েছে, যিনি কম আমলের জন্যে বেশি নওয়াব প্রদান করেন, এবং মন্দ কর্মের প্রতিদান
তার বেশি প্রদান করেন না ৷ মুমিন বান্দাটি তাদেরকে আরো সংবাদ দিচ্ছেন যে, আখিরাতই
হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস, যারা আখিরাতের প্রতি অটল ঈমান রেখে সৎকাজ করে যায়, তাদের
জন্য রয়েছে জান্নাতের সুউচ্চ ও নিরাপদ প্রাসাদমালা, অসংখ্য কল্যাণ, এর চিরস্থায়ী অক্ষয়
রিযিক ও ক্রমবর্ধমান কল্যাণসমুহ ৷
অতংপর তারা যে মতবাদে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে তার অসারতা এবং যেখানে প্রত্যাবর্তন করবে
তা সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করেও তিনি বলেন ং
,
র্ধ্বট্রুএ
এ
ذَلِكَ مِنَ الِارْتِفَاعِ الَّذِي لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ.
وَذَكَرَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ أَنَّ هَذَا الصَّرْحَ، وَهُوَ الْقَصْرُ الَّذِي بَنَاهُ وَزِيرُهُ هَامَانُ لَهُ، لَمْ يُرَ بِنَاءٌ أَعْلَى مِنْهُ، وَأَنَّهُ كَانَ مَبْنِيًّا مِنَ الْآجُرِّ الْمَشْوِيِّ بِالنَّارِ، وَلِهَذَا قَالَ: {فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَلْ لِي صَرْحًا} [القصص: 38] وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا يُسَخَّرُونَ فِي ضَرْبِ اللَّبِنِ، وَكَانَ مِمَّا حَمَلُوا مِنَ التَّكَالِيفِ الْفِرْعَوْنِيَّةِ أَنَّهُمْ لَا يُسَاعَدُونَ عَلَى شَيْءٍ مِمَّا يَحْتَاجُونَ إِلَيْهِ فِيهِ، بَلْ كَانُوا هُمُ الَّذِينَ يَجْمَعُونَ تُرَابَهُ وَتِبْنَهُ وَمَاءَهُ، وَيُطْلَبُ مِنْهُمْ كُلَّ يَوْمٍ قِسْطٌ مُعَيَّنٌ، إِنْ لَمْ يَفْعَلُوهُ وَإِلَّا ضُرِبُوا وَأُهِينُوا غَايَةَ الْإِهَانَةِ، وَأُوذُوا غَايَةَ الْأَذِيَّةِ. وَلِهَذَا قَالُوا لِمُوسَى: {أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 129] فَوَعَدَهُمْ بِأَنَّ الْعَاقِبَةَ لَهُمْ عَلَى الْقِبْطِ، وَكَذَلِكَ وَقَعَ، وَهَذَا مِنْ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ.
وَلْنَرْجِعْ إِلَى نَصِيحَةِ الْمُؤْمِنِ وَمَوْعِظَتِهِ وَاحْتِجَاجِهِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ - يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ - مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ} [غافر: 38 - 40]
[غَافِرٍ: 38 - 40] . يَدْعُوهُمْ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، إِلَى طَرِيقِ الرَّشَادِ وَالْحَقِّ، وَهِيَ مُتَابَعَةُ نَبِيِّ اللَّهِ
পৃষ্ঠা - ৬০৮
(
৷ ষ্পু ৷
:;£: ণ্দ্বুর্বুশু প্রেদ্বু ৷ক্ট্রকুকু: ৷ধ্পু ;া ঠুক্কু১দ্বুব্লুটু এে৷ ৷ ধ্ন্ ৷ ;শ্৷ ৷ é;£ (,দ্বুৰুঠুঙ্কুঙু
ন্ার্দুপুপু৷ ট্রুশু;;৷ র্টু,ণ্,ব্লু; (া৷ ৷দ্বুৰুছুপ্লুট্রি৷ ৰু;াট্রুা৷
অর্থাৎ হে আমার সম্প্রদায় কি আশ্চর্য আ ৷মি তে ৷মাদেবকে আহ্বান করছি মুক্তির দিকে
আর তোমরা আমাকে ডাকছ আগুনের দিকে ৷ তোমরা আমাকে বলছ আল্লাহকে অস্বীকার
করতে এবং র্তারসমকক্ষ দাড় করাতে, যার সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই ৷ পক্ষাস্তবে আমি
তােমাদেরকে আহ্বান করছি পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে ৷ নিঃসন্দেহে তোমরা
আমাকে আহ্বান করছে৷ এমন একজনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতের কোথাও
আহ্বানযােগ্য নয় ৷ বন্তুত আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহর নিকট এবং সীমাল ত্ঘনকারীর৷ ই
জাহান্নামের অধিবাসী ৷ আমি তােমাদেরকে যা বলছি তোমরা তা অচিরেই স্মরণ করবে এবং
আমি আমার ব্যাপার আল্লাহতে অর্পণ করছি ৷ আল্লাহ্ তার বান্দাদের প্রতি সৰিশেষ দৃষ্টি
রাখেন ৷ তারপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যব্রের অনিষ্ট হতে রক্ষা করলেন, এবং কঠিন শাস্তি
পরিবেষ্টন করল ফিরআউন সম্প্রদায়কে ৷ তাদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে সকাল ও
সন্ধ্যড়ায় এবং যেদিন কিয়ড়ামত ঘটবে সেদিন বলা হবে ফিরআউন সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ কর কঠিন
শান্তিতে ৷’ (সুরা মুমিন : ৪ ১-৪৬)
অন্য কথায় মুমিন বান্দাটি ফিরআউনের সম্প্রদায়কে পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীর এমন
প্রতিপালকের ইবাদতের প্রতি আহ্বান করছিলেন যিনি কোন বস্তুকে সৃষ্টি করতে হলে বলে
থাকেন ,হ্র অর্থাৎ হয়ে যাও’ তখন হয়ে যায় ৷ অন্যদিকে ত ৷রা তাকে পথভ্রষ্ট সুর্য ও অতিশপ্ত
ফিরআউনের ইবাদতে তর প্রতি আহ্বান করছিল, এজন্যই তিনি তাদেরকে তাদের অনুসরণ না
করার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন ং
)ষ্হ্রর্বু
,এে ৷
অতঃপর তিনি তাদের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরলেন যে, তারা আল্লাহ তা জানা
ব্যতীত ৩এমন দেব-দেবীর ও মুর্তির পুজাঅর্চনা করছে, যারা তাদের কোন প্রকার উপকার বা
ক্ষতিসাধন করতে পারে না ৷
এ জন্যই তিনি বলেনং : (
র্বু,ার্চুৰুট্রু,ৰুর্ণীঢু
র্বু
ণ্ ষ্)১
অর্থাৎ দেব দেবীগুলো এ দুনিয়ার কোন প্রকার ক্ষমতা প্রয়োগ বা কর্কুত্বের অধিকারী নয়
বলে প্রমাণিত ,তাহলে চিরস্থায়ী আবাসস্থুলে৩ তারা কেমন করে এসবের অধিকারী হবে? তবে
مُوسَى، وَتَصْدِيقُهُ فِيمَا جَاءَ بِهِ مِنْ رَبِّهِ، ثُمَّ زَهَّدَهُمْ فِي الدُّنْيَا الدَّنِيَّةِ الْفَانِيَةِ الْمُنْقَضِيَةِ لَا مَحَالَةَ، وَرَغَّبَهُمْ فِي طَلَبِ الثَّوَابِ عِنْدَ اللَّهِ، الَّذِي لَا يُضَيِّعُ عَمَلَ عَامِلٍ لَدَيْهِ، الْقَدِيرِ الَّذِي مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ بِيَدَيْهِ، الَّذِي يُعْطِي عَلَى الْقَلِيلِ كَثِيرًا، وَمِنْ عَدْلِهِ لَا يُجَازَى عَلَى السَّيِّئَةِ إِلَّا مِثْلَهَا. وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ، الَّتِي مِنْ وَافَاهَا مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ، فَلَهُمُ الْجَنَّاتُ الْعَالِيَاتُ، وَالْغُرَفُ الْآمِنَاتُ، وَالْخَيْرَاتُ الْكَثِيرَةِ الْفَائِقَاتُ، وَالْأَرْزَاقُ الدَّائِمَةُ الَّتِي لَا تَبِيدُ، وَالْخَيْرُ الَّذِي كُلُّ مَا لَهُمْ مِنْهُ فِي مَزِيدٍ.
ثُمَّ شَرَعَ فِي إِبْطَالِ مَا هُمْ عَلَيْهِ، وَتَخْوِيفِهِمْ مِمَّا يَصِيرُونَ إِلَيْهِ فَقَالَ: {وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ - تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ - لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ - فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ - فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ - النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ} [غافر: 41 - 46]
[غَافِرٍ: 41 - 46] . كَانَ يَدْعُوهُمْ إِلَى عِبَادَةِ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي يَقُولُ لِلشَّيْءِ: كُنْ. فَيَكُونُ، وَهُمْ يَدْعُونَهُ إِلَى عِبَادَةِ فِرْعَوْنَ الْجَاهِلِ الضَّالِّ الْمَلْعُونِ، وَلِهَذَا قَالَ لَهُمْ عَلَى سَبِيلِ الْإِنْكَارِ: {وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ - تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ} [غافر: 41 - 42] ،
পৃষ্ঠা - ৬০৯
আল্লাহ্ তড়াআলা পরাক্রমশালী, সৃষ্টিকর্তা এবং নেককার ও বদকার সকলের রিযিকদাতা, তিনি
বান্দাদের জীবিত করেন, মৃতৃদাে ন করেন এবং তাদের মৃত্যুর পর পুনরুথিত করবেন ৷ অতঃপর
তাদের মধ্যে যারা নেককার, তাদেরকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন ৷ এবং অবাধ্যদেরকে জাহান্নামে
প্রবিষ্ট করাবেন ৷
অতঃপর তারা যখন তাদের অবাধ্যতড়ায় অটল থাকে, তখন তিনি তাদেরকে সতর্ক করে
দিয়ে বলেন, “আমি তােমাদেকে যা বলছি তা অচিরেই তোমরা স্মরণ করবে এবং আমি আমার
ব্যাপারে আল্লাহতে অর্পণ করছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি সর্বশেষ দৃষ্টি রাখেন ৷
ত৪পর আল্লাহ অর্থাৎ-মুমিন
বান্দাঢি ফিরআউন সম্প্রদায়ের অনুসরণকে অম্বীকা ৷র করার তাদের কুফরীর দরুনত তাদের উপর
আল্লাহ তা জানা যে কঠিন আযাব-গযব অবতীর্ণ করেন তা থেকে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন ৷
আর তারা তার বিরুদ্ধে ও আল্লাহ তাআলড়ার সরল পথ থেকে জনগণকে ৰিপথে রাখার জন্যে
বিভিন্ন মনগড়া ধ্যান ধারণা প্রচার করে তারা মুমিন বড়ান্দ৷ ও বনী ইসরা ঈলের অন্যান্য সদস্যের
বিরুদ্ধে যে ষড়যস্তের জাল বিস্তার করেছিল তা থেকে তিনি তাকে নিরাপদে রাখলেন ৷
অন্যদিকে তাদেরকে আল্লাহ্ তাআলার আযড়াব-গযব বেষ্টন করলো ৷
আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন : “ফিরআউন সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন
করল ৷” কবরে তাদের রুহ্সমুহকে সকাল-সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয় আর
যেদিন কিয়ামত ঘটবে সেদিন বলা হবে, “ফিরআউন সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ
কর ৷” এই আয়াত্তের মাধ্যমে প্রমাণিত কবর আমার সম্বন্ধে তড়াফসীরে বিস্তারিত আলোচনা করা
হয়েছে ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই ৷
মােদ্দা কথা হল, আল্লাহ্ তাআলা যেমন কোন সম্প্রদায়কে দলীল পুর্ণ করণ ও রাসুল
প্রেরণ ব্যতীত ধ্বংস করেন না, তদ্রাপ ফিরআউন সম্প্রদায়ের কাছে দলীল-প্ৰমাণাদি ও রাসুল
প্রেরণ করে আল্লাহ তাআলার প্রমাণাদির ব্যাপারে তাদের সন্দেহ নিরসন করে এবং কখনও
ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কখনো অনুপ্রেরণা দানের মাধ্যমে তাদের প্রতি রাসুল প্রেরণের পর তারা
অমান্য করাতে তিনি তাদেরকে ধ্বংস করেন ৷
আল্লাহ তা জানা ইরশাদ করেন :
ন্
৷ এ(া’৷ ৷র্চু;;র্মু৷ ১ট্রুণ্পুঠু
াপুট্রুব্লু ৷ট্রুপুব্রেদ্বু ;,সৌং১াণ্ প্রু, হ্রা র্দুব্লুাদ্বু;পুা৷ পুশুৰুন্দ্বু ,ওা৷ষ্ ৷ ১া
াদ্বুঠুহ্রব্লুপুারু র্দুাব্লু পা১ ট্রুা৷ট্রু ছু;ঢুপুা ৷এ ঢো ৷দ্বু শো£ার্চুএাঠু §£:,fl
া
ثُمَّ بَيَّنَ لَهُمْ بُطْلَانَ مَا هُمْ عَلَيْهِ مِنْ عِبَادَةِ مَا سِوَى اللَّهِ مِنَ الْأَنْدَادِ وَالْأَوْثَانِ، وَأَنَّهَا لَا تَمْلِكُ مِنْ نَفْعٍ وَلَا إِضْرَارٍ. فَقَالَ: {لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ} [غافر: 43] أَيْ; لَا تَمْلِكُ تَصَرُّفًا وَلَا حُكْمًا فِي هَذِهِ الدَّارِ، فَكَيْفَ تَمْلِكُهُ يَوْمَ الْقَرَارِ؟ وَأَمَّا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّهُ الْخَالِقُ الرَّازِقُ لِلْأَبْرَارِ وَالْفُجَّارِ، وَهُوَ الَّذِي أَحْيَا الْعِبَادَ وَيُمِيتُهُمْ وَيَبْعَثُهُمْ، فَيُدْخِلُ طَائِعَهُمُ الْجَنَّةَ وَعَاصِيَهُمُ النَّارَ. ثُمَّ تَوَعَّدَهُمْ إِنْ هُمُ اسْتَمَرُّوا عَلَى الْعِنَادِ بِقَوْلِهِ: {فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ} [غافر: 44] قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا} [غافر: 45] أَيْ; بِإِنْكَارِهِ سَلِمَ مِمَّا أَصَابَهُمْ مِنَ الْعُقُوبَةِ عَلَى كُفْرِهِمْ بِاللَّهِ، وَمَكْرِهِمْ فِي صَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مِمَّا أَظْهَرُوا لِلْعَامَّةِ مِنَ الْخَيَالَاتِ وَالْمُحَالَاتِ الَّتِي لَبَّسُوا بِهَا عَلَى عَوَامِّهِمْ وَطَغَامِهِمْ; وَلِهَذَا قَالَ: وَحَاقَ أَيْ; أَحَاطَ {بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ - النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا} [غافر: 45 - 46] أَيْ; تُعْرَضُ أَرْوَاحُهُمْ فِي بَرْزَخِهِمْ صَبَاحًا وَمَسَاءً عَلَى النَّارِ، {وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ} [غافر: 46] وَقَدْ تَكَلَّمْنَا عَلَى دَلَالَةِ هَذِهِ الْآيَةِ عَلَى عَذَابِ الْقَبْرِ فِي " التَّفْسِيرِ ". وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يُهْلِكْهُمْ إِلَّا بَعْدَ إِقَامَةِ الْحُجَجِ عَلَيْهِمْ، وَإِرْسَالِ الرَّسُولِ إِلَيْهِمْ، وَإِزَاحَةِ الشُّبَهِ عَنْهُمْ، وَأَخْذِ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ مِنْهُمْ، فَبِالتَّرْهِيبِ تَارَةً
পৃষ্ঠা - ৬১০
আমি তো ফিরআউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষ ও ফল-ফসলের ক্ষতির দ্বারা আক্রান্ত
করেছি যাতে তারা অনুধাবন করে ৷ যখন তাদের কোন কল্যাণ হত, তারা বলত; এটাতো
আমাদ্যেল্ক প্রাপ্য ৷ আর যখন কোন অকল্যাণ হতো তখন তারা মুসা ও তার সঙ্গীদেরকে
অলক্ষুণে গণ্য করত; তাদের অকল্যাণঅ আল্লাহর নিয়স্ত্রণাধীন; কিতুা তাদের অধিকাৎশ এটা জানে
না ৷ তারা বলল, আমাদেরকে জাদু করার জঃন্য তুমি যে কো ন নিদর্শন আমাদের নিকট পেশ
করনা যেপ্স, আমরা তােমাতে বিশ্বাস করবো না ৷ তারপর আমি তাদেরকে প্লাবন, পঙ্গপাল,
উকুন, ভেক ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি ৷ এগুলি স্পষ্ট নিদর্শন, কিন্তু তারা দান্ধিকই রয়ে পেল ৷ আর
তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায় ৷ (সুরা আরাফ : ১৩০ ১৩৩)
এখানে আল্লাহ্ তাআলা জানাচ্ছেন যে, তিনি ফিরআউনের সম্প্রদায়কে দুর্ভিক্ষ দ্বারা ক্লিষ্ট
করেছেন ৷ ফিরআউনের সম্প্রদায় হচ্ছে কিবতীগণ ৷ লোঃবা ৷দুর্তিক্ষের বছবগুলো বলতে
এমন সব বছরকে বুঝানো হয়, যে গুলোর ফসল হয় না এবং গবাদি পশুর দুধ দ্বারাও মানুষ
উপকৃত হতে পারে না ৷ আয়াতে উল্লেখিত ণ্ ,,পুছু৷ ৷ ,০ ওেণ্;প্রু-এর অর্থ হচ্ছে গাছের
ফলফলাদি ও কম হওয়া ৷ আয়াতাৎশ §’§’$$ , ” এর দ্বারা ৷ইংগিত করা হয়েছে যে,
তারা দৃর্তিক্ষে আক্রান্ত হওয়া সচত্ত্বওত তারা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেনি
বরং তারা আরো অবাধ্য হয়ে উঠে ও কুফরী হঠকারিতার মধ্যে অবিচল থাকে ৷ যখন তাদের
কোন কল্যাণ হত, অর্থাৎ প্রচুর ফসলাদি হত তখন তারা বলত আমাদেরই, অর্থাৎ এটা
আমাদের ন্যায্য পাওনা এবং আমরাই এর উপযুক্ত ৷ আর যখন কোন অকল্যাণ হত তখন তারা
বলত, এটা মুসা ও তার সঙ্গীরা অলক্ষুণে হওয়ার কারণে আমাদের উপর আরোপিত হয়েছে ৷
অথচ তারা কল্যাণের সময় বলত না যে এটা ৷মুসা ও ত ৷র ৷সঙ্গীদের ররকতে ৎব৷ তাদের শুভ
অবস্থানের দরুন হয়েছে ৷ তাদের অন্তরসমুহ দাম্ভিক ও অস্বীকারকারী এবং সত্য থেকে বিযুখ ৷
যখন তাদের প্রতি কো ন অকল্যাণ আপতিত হয়, তখন তারা এটা মুসা (আ) ও তার সঙ্গীদের
প্রতি আরোপ করে আর যখন তারা কোন প্রকার কল্যাণ দেখতে পেতো, তখন তারা এটাকে
নিজেদের কৃতিত্ব বলে দাবি করতো ৷
এ প্রেক্ষিতে আল্পাহ্ ত৷ আলা ইরশাদ করেন০ : ধ্া৷ ৷া; ন্পুাঝুওএে ৷০ট্ট৷ ৰুা৷ তাদের
অকল্যাণ আল্লাহর নিয়স্ত্রণাধীন অর্থাৎ আল্লাহ্ তাদেরকে একথার জন্যে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান
করবেন ৷ তারা বলে :
পে
,পু;০দ্বুন্দ্বু০ এ৷ ;,শ্১ র্টু০পুহু; ৷,প্রু ৷শুদ্দৌ,ৰু ণ্র্ভু৷ ট্রু,০ এে;, ৷ঠুছু০০
অর্খাৎ তারা বলল, আমাদেরকে জাদু করার জন্যে তুমি আমাদের কাছে যে কোন নিদর্শন
বা মুজিযা ৷পেশ কর না কেন, আমরা ণ্তামাতে বিশ্বাস করব না, এবং তোমার আনুগত্য
করব না
অনুরুপভ৷ বে আল্লাহ্ তাআল৷ অন্য আয়াতে তাদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন :
রুা১৷ ৷ ;, ৷ & ৷ দ্বুদ্বুন্ র্বৃ
وَالتَّرْغِيبِ أُخْرَى، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ - فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ - وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ - فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ} [الأعراف: 130 - 133] الْأَعْرَافِ: 130 - 133] . يُخْبِرُ تَعَالَى أَنَّهُ ابْتَلَى آلَ فِرْعَوْنَ، وَهُمْ قَوْمُهُ مِنَ الْقِبْطِ، بِالسِّنِينَ، وَهِيَ أَعْوَامُ الْجَدْبِ الَّتِي لَا يُسْتَغَلُّ فِيهَا زَرْعٌ وَلَا يُنْتَفَعُ بِضَرْعٍ. وَقَوْلُهُ: {وَنَقْصٍ مِنَ الثَّمَرَاتِ} [الأعراف: 130] وَهِيَ قِلَّةُ الثِّمَارِ مِنَ الْأَشْجَارِ، {لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ} [الأعراف: 26] أَيْ; فَلَمْ يَنْتَفِعُوا وَلَمْ يَرْعَوُوا، بَلْ تَمَرَّدُوا وَاسْتَمَرُّوا عَلَى كُفْرِهِمْ وَعِنَادِهِمْ {فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ} [الأعراف: 131] وَهُوَ الْخِصْبُ وَنَحْوُهُ {قَالُوا لَنَا هَذِهِ} [الأعراف: 131] أَيْ; هَذَا الَّذِي نَسْتَحِقُّهُ وَهَذَا الَّذِي يَلِيقُ بِنَا، {وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ} [الأعراف: 131] أَيْ; يَقُولُونَ هَذَا; بِشُؤْمِهِمْ أَصَابَنَا هَذَا. وَلَا يَقُولُونَ فِي الْأَوَّلِ: إِنَّهُ بَرَكَتُهُمْ وَحُسْنُ مُجَاوَرَتِهِمْ، وَلَكِنَّ قُلُوبَهُمْ مُنْكِرَةٌ مُسْتَكْبِرَةٌ نَافِرَةٌ عَنِ الْحَقِّ، إِذَا جَاءَ الشَّرُّ أَسْنَدُوهُ إِلَيْهِ، وَإِنْ رَأَوْا خَيْرًا ادَّعَوْهُ لِأَنْفُسِهِمْ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ} [الأعراف: 131] أَيِ; اللَّهُ يَجْزِيهِمْ عَلَى هَذَا أَوْفَرَ الْجَزَاءِ {وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ - وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 131 - 132] أَيْ; مَهْمَا جِئْتَنَا بِهِ مِنَ الْآيَاتِ، وَهِيَ الْخَوَارِقُ لِلْعَادَاتِ فَلَسْنَا نُؤْمِنُ بِكَ وَلَا نَتَّبِعُكَ وَلَا نُطِيعُكَ وَلَوْ جِئْتَنَا بِكُلِّ آيَةٍ. وَهَكَذَا أَخْبَرَ اللَّهُ عَنْهُمْ فِي
পৃষ্ঠা - ৬১১
অর্থাৎ-নিশ্চয়ই যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সাবম্ভে হয়ে গিয়েছে তারা ঈমান
আনবে না যদিও তাদের নিকট প্রত্যেকটি নিদর্শন আসে, যতক্ষণ না তারা মর্মন্তুদ শান্তি প্রত্যক্ষ
করবে ৷ (সুরা ইউনুস : ৯৬-৯ ৭)
তাদের শাস্তি সম্পর্কে অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
;,াঠু ৷ র্দুশ্দ্বুঘ্র ৷ § ব্লু;াশু র্দু এ ৷ § পু£’ছু৷ ৷ ; ও ৷ ,ট্রু; ৷ ৷ § ট্রু, ঠেদ্বুাকুপ্র ৷ ;;¢ ; ; এেট্রুটুছুর্চুন্
সু,ট্রুন্ৰু,, প্লুদ্বু ৷র্দুশুটুর্চুব্র ৷ ট্রুর্মু১ (ও § ৷ §’,;’ র্দু^ ৷ৰু ছু,মৈংং
“অতঃপর আমি তাদেরকে প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ভেক ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি ৷ এগুলো
ষ্ন্ংষ্টি নিদর্শন; কিত্তু তারা দান্তিকই রয়ে গেল আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায় ৷
আয়াতে উল্লেখিত ট্রুর্চু১ট্রুর্দুন্ শব্দটির অর্থ নিয়ে তাফসীরকারদের মধ্যে মতানৈক্য
পরিলক্ষিত হয় ৷ ট্রুাপুহুট্রুশুার্দু-এর অর্থ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (বা) হতে বর্ণিত
রয়েছে ৷ তিনি বলেন, অত্যধিক বৃষ্টিপাত যাতে ফসলাদি ও ফলমুল বিনষ্ট হয় ৷ সাঈদ ইবন
জুবাইর, কাতাদা, সুদ্দী এবং যাহ্হড়াক (র)ও এ মত পোষণ করেন ৷ আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস
(রা) ও আতা (র) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় বলা হুয়ােহু যে, তুফানের অর্থ বিপুল হারে
মৃত্যুবরণ ৷ মুজাহিদ বলেন, তৃফান’-এর অর্থ সর্বাবস্থায়ই প্লাবন এবং প্লেগ ৷ আব্দুল্লাহ ইবন
আব্বাস (রা) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তৃফানের অর্থ হচ্ছে প্রতিটি মুসীবত যা
জনগণকে কৌন করে ফেলে ৷ ইবন জারীর ও ইবন মারদুইয়াহ (র) হতে বর্ণিত ৷ তারা আয়েশা
(রা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেন, তৃফানের অর্থ মুতৃব্র’ ৷
এই হাদীসটি গরীব পর্যায়ের ৷
আয়াতে উল্লেখিত ৰু!ওশু১^া! শব্দটির অর্থ যে পঙ্গপাল তা সুবিদিত ৷ সালমান ফারসী (বা)
হতে বর্ণিত , তিনি বলেন, রাসুলুল্পাহ (না)-কে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইরশাদ করেন,
আল্লাহ তাআলার বাহিনীসমুহের মধ্যে এগুলোর সংখ্যাই সৰ্বাধিক , এগুলো আমি থাই না এবং
এগুলো খাওয়াকে হারামও বলি না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর রুচি বিরুদ্ধ হওয়ার জন্যেই তিনি
পঙ্গপাল খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন ৷ যেমন তিনি গুইসাপ খাওয়া থেকে বিরত ছিলেন এবং
পিয়াজ ও রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন ৷ বুখারী ও মুসলিম গ্রহুদ্বয়ে আব্দুল্লাহ ইবন আবু
আওফা (রা) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (না)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে যোগদান
করেছি ৷ সে সময় আমরা পঙ্গপাল থেতাম ৷ এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসসমুহ নিয়ে তাফসীরে
বিশভোবে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ সার কথা হঘে এই যে, আল্লাহ্ তাআলা তাদের শস্য-শ্যামল
মাঠ ধ্বংস করে দিলেন ৷ তাদের ফল-ফসলাদি ও গবাদি পশু কিছুই বাকি রইলো না, সবই
ধ্বংস হয়ে গেল ৷
আয়াতে উল্লেখিত ?এোএর অর্থ নিয়ে মতানৈক্য দেখা যায় ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস
(ব) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পু;ছুৰু হচ্ছে এমন একটি পোকা যা গমেৱ মধ্য থেকে বের হয়ে
আসে ৷ এই বর্ণনাকারী থেকে অন্য একটি বর্ণনা বর্ণিত রয়েছে ৷ তিনি বলেন, ৰু)র্দু,শু-এর অর্থ
হচ্ছে এমন ছোট পঙ্গপাল যার পাখা নেই ৷ মুজাহিদ, ইকরিমা ও কাতাদা (র)ও এমত পোষণ
قَوْلِهِ: {إِنَّ الَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ - وَلَوْ جَاءَتْهُمْ كُلُّ آيَةٍ حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ} [يونس: 96 - 97]
[يُونُسَ: 96، 97] . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ} [الأعراف: 133] .
أَمَّا الطُّوفَانُ، فَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: هُوَ كَثْرَةُ الْأَمْطَارِ الْمُتْلِفَةِ لِلزُّرُوعِ وَالثِّمَارِ. وَبِهِ قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَقَتَادَةُ، وَالسُّدِّيُّ، وَالضَّحَّاكُ. وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَطَاءٍ: هُوَ كَثْرَةُ الْمَوْتِ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ: الطُّوفَانُ الْمَاءُ، وَالطَّاعُونُ عَلَى كُلِّ حَالٍ. وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَمْرٌ طَافَ بِهِمْ. وَقَدْ رَوَى ابْنُ جَرِيرٍ وَابْنُ مَرْدَوَيْهِ، مِنْ طَرِيقِ يَحْيَى بْنِ يَمَانٍ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطُّوفَانُ الْمَوْتُ» وَهُوَ غَرِيبٌ.
وَأَمَّا الْجَرَادُ فَمَعْرُوفٌ. وَقَدْ رَوَى أَبُو دَاوُدَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْجَرَادِ، فَقَالَ «: أَكْثَرُ جُنُودِ اللَّهِ، لَا آكُلُهُ وَلَا أُحَرِّمُهُ» وَتَرْكُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْلَهُ إِنَّمَا هُوَ عَلَى وَجْهِ التَّقَذُّرِ لَهُ; كَمَا تَرَكَ أَكْلَ الضَّبِّ، وَتَنَزَّهَ عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالثُّومِ وَالْكُرَّاثِ، لِمَا ثَبَتَ فِي
পৃষ্ঠা - ৬১২
করেন ৷ সাঈদ ইবন জুবাইর (বা) ও হাসান বসরী (র) বলেন ঝুইষ্ই০ হচ্ছে এমন একটি জীব যা
কাল ও ছোট ৷ আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন আসলাম (র) বলেন ট্রুই£গু হচ্ছে পক্ষবিহীন
মাছিসমুহ ৷ ইবন জারীর (র) আরবী ভাষাতাষীদের বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, র্টুর্দুটুগু এর অর্থ
হচ্ছে উকুন বা পরজীবী কীট বিশেষ ৷ উকুন দলে দলে তাদের ঘরে ও বিছানায় প্রবেশ করে
এবং তাদের প্রতি অশান্তি ঘটায় ৷ ফলে তাদের পক্ষে ঘুমানােও সম্ভব হতোন ন ৷এবং জীবন
দুর্বিষহ হয়ে ওঠে ৷ আত ৷ ইবন সাইব (র) ট্র’রু কে সাধারণ উকুন বলে ব্যাখ্যা করেছেন ৷
হাসান বসরী (র) fl;fi কে ণ্ এর তাশদীদ ব্যতিরেকে কুমাল’ রুপে পাঠ করেছেন ৷ ব্যাঙ
একটি বহুল পরিচিত প্রাণী ৷ এগুলো তাদের খাবারে ও বাসনপত্রে লাফিয়ে পড়ত ৷ এমন কি
তাদের কেউ যদি খাওয়ার বা পান করার জন্যে মুখ খুলত অমনি ওগুলো মুখে ঢুকে পড়ত ৷
রক্তের ব্যাপারটিও ছিল অনুরুপ ৷ যখন তারা পানি পান করতে যেত তখনই পানিকে রক্ত
মিশ্রিত পেত ৩৷ যখনি তারা নীল নদে পানি পান করতে নামত, অমনি তার পানি রক্ত মিশ্রিত
পেত ৷ এমনিভাবে কোন নদী-নালা বা কুয়া ছিল না যার পানি ব্যবহারের সময় রক্ত মিশ্রিত মনে
না হত ৷ বনী ইসরাঈল বংশীয়রা এসব উপদ্রব থেকে যুক্ত ছিল ৷ এগুলো ছিল পরিপুর্ণ
অলৌকিক ঘটনা ও অকাট্য প্রমাণাদি যা মুসা (আ)-এর কাজের মাধ্যমে তাদের জন্যে প্রকাশ
পেয়েছিল ৷ বনী ইসরাঈলের আবাল বৃদ্ধবনিতা সকলেই এভাবে লাভবান হয়েছিল ৷ এসব
ব্যাপার ছিল তাদের জন্য উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত ও প্রমাণ ৷ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, জাদুকররা
যখন প্রতিযোগিতায় পরাস্ত ও ব্যর্থকাম হয়ে ঈমান আনয়ন করল তখনও আল্লাহর শত্রু
ফিরআউন তার কুফরী ও দৃষ্কর্মে অবিচল রইল ৷ তখন আল্লাহ একে একে তার সম্মুখে
নিদর্শনড়াদি প্রকাশ করেন ৷ প্রথমে দৃর্তিক্ষ এবং৩ তারপর তৃফান অবতীর্ণ করেন ৷ এরপর পঙ্গপাল,
উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে পর পর প্রেরণ করেন ৷ প্লাবনের ফলে তারা ঘর থেকে
বের হতে পারতে৷ না এবং কোন প্রকার কাজ-কর্মও করতে পারতে৷ না ৷ ফলে তারা দৃর্তিক্ষে
আক্রান্ত হয় ৷
এশোরুপে তারা যখন দৃব্ধিক্ষ আক্রান্ত হল তখন তারা মুসা (আ) ৫ক বলতে লাগলং :
এেশুদুাঢুএি @
ক্রোদ্বুএে৷ §
অর্থাৎ-হে মুসা! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্যে প্রার্থনা কর, তোমার
সাথে তিনি যে অঙ্গীকার করেছেন যে মতে; যদি তুমি আমাদের ওপর থেকে শান্তি অপসারিত
কর তবে আমরা তো তােমাতে ঈমান আনবই এবং বনী ইসরাঈলকেও তোমার সাথে অবশ্যই
যেতে দেব ৷ (সুরা আরাফ : ১৩৪)
তখন মুসা (আ) তার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ্ তাআলা তাদের
ওপর থেকে তার প্রেরিত শান্তি অপসারিত করেন ৷ কিত্তু তারা তখন তাদের অঙ্গীকার পুরণ
করল না ৷ আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি পঙ্গপড়াল অবতীর্ণ করেন ৷ পঙ্গপাল তাদের গাছপালা
সব নিঃশেষ করে ফেলে এমনকি তাদের ঘরের দরজাসমুহের লোহার পেরেকগুলাে পর্যন্ত খেতে
" الصَّحِيحَيْنِ "، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ: «غَزْونَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَ غَزَوَاتٍ نَأْكُلُ الْجَرَادَ» . وَقَدْ تَكَلَّمْنَا عَلَى مَا وَرَدَ فِيهِ مِنَ الْأَحَادِيثِ وَالْآثَارِ فِي " التَّفْسِيرِ ".
وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ اسْتَاقَ خَضْرَاءَهُمْ، فَلَمْ يَتْرُكْ لَهُمْ زُرُوعًا وَلَا ثِمَارًا، وَلَا سَبَدًا وَلَا لَبَدًا.
وَأَمَّا الْقُمَّلُ، فَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: هُوَ السُّوسُ الَّذِي يَخْرُجُ مِنَ الْحِنْطَةِ، وَعَنْهُ، أَنَّهُ الْجَرَادُ الصِّغَارُ الَّذِي لَا أَجْنِحَةَ لَهُ. وَبِهِ قَالَ مُجَاهِدٌ، وَعِكْرِمَةُ، وَقَتَادَةُ. وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَالْحَسَنُ: هُوَ دَوَابُّ سُودٌ صِغَارٌ. وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ: هِيَ الْبَرَاغِيثُ. وَحَكَى ابْنُ جَرِيرٍ عَنْ أَهْلِ الْعَرَبِيَّةِ أَنَّهَا الْحَمْنَانُ. وَهُوَ صِغَارُ الْقِرْدَانِ فَوْقَ الْقَمْقَامَةِ، فَدَخَلَ مَعَهُمُ الْبُيُوتَ وَالْفُرُشَ، فَلَمْ يَقِرَّ لَهُمْ قَرَارٌ، وَلَمْ يُمْكِنْهُمْ مَعَهُ الْغَمْضُ وَلَا الْعَيْشُ. وَفَسَّرَهُ عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ بِهَذَا الْقُمَّلِ الْمَعْرُوفِ. وَقَرَأَهَا الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ كَذَلِكَ بِالتَّخْفِيفِ.
وَأَمَّا الضَّفَادِعُ فَمَعْرُوفَةٌ، لَبَّسَتْهُمْ حَتَّى كَانَتْ تَسْقُطُ فِي أَطَعِمَاتِهِمْ وَأَوَانِيهِمْ، حَتَّى إِنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا فَتَحَ فَمَهُ لِطَعَامٍ أَوْ شَرَابٍ، سَقَطَتْ فِي فِيهِ ضِفْدِعَةٌ مِنْ تِلْكَ الضَّفَادِعِ.
পৃষ্ঠা - ৬১৩
থাকে ৷ ফলে তাদের ঘরবাড়িগুলে৷ পড়ে যেতে থাকে ৷ তখন তারা পুর্বের মত মুসা (আ)-কে
আল্লাহ্ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ জানায় ৷ মুসা (আ) তার প্রতিপালকের
কাছে প্রার্থনা করার তাদের উপর থেকে আবার রহিত হয়ে যায় ৷ কিন্তু তারা তাদের অঙ্গীকার
পুর্ণ করল না ৷ তখন আল্লাহ্ তাআলা তাদের প্রতি উকুন প্রেরণ করেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন যে,
মুসা (আ) কে একটি বালুর ঢিবির কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেয়৷ হয়েছিল ৷ আরো আদেশ দেয়া
হয়েছির তিনি যেন তার লাঠি৷ দ্ব ৷রা তাতে আঘাত করেন ৷ তারপর মুসা (আ) একটি বড় ঢিবির
দিকে নিয়ে তাতে আপন লাঠি দ্বারা আঘাত করলেন তাতে তাদের উপর উকুন ছড়িয়ে পড়ল ৷
এমনকি উকুন ঘরবাড়ি ও খাদ্য-সল্কারের উপর ছড়িয়ে পড়তে লাগল ৷ তাদের নিদ্র৷ ও শান্তি
বিন্নিত হতে লাগল ৷ যখন তারা এই ঘুসীবতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠল তখন তারা মুসা (আ )-কে
পুর্বের মত আল্লাহ্র দরবারে দুআর জন্য অনুরোধ জানাতে লাগল ৷ অতঃপর মুসা (আ) তার
প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করলেন এবং আল্লাহ্ তাআলা তাদের উপর থেকে আমার হটিয়ে
দিলেন কিত্তু তারা তাদের অঙ্গীকার কিছুই পুরণ করল না ৷ তাতে আল্লাহ্ তা জানা তাদের উপর
ব্যাঙ প্রেরণ করেন ৷ তাদের ঘরবাড়ি, খানাপিনা, ও ইাড়ি পাতিল ব্যাঙে পরিপুর্ণ হয়ে গেল ৷
তাদের কেউ যখন কোন কাপড় কিংবা খাবারের ঢাকন৷ উঠাত, অমনি তারা দেখতে পেত যে,
সেগুলো ব্যাঙ দখল করে ব্লেখেছে ৷ এই মুসীবতে যখন তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠল, তখন তারা
আগের মত মুসা (আ) এর কাছে দৃআর জন্য অনুরোধ জানাতে লাগল ৷ মুসা (আ) তার
প্রতিপালককে ডাকলেন এবং তিনি তাদের উপর থেকে আবার বিদুরিত করলেন ৷ কিন্তু তারা
তাদের প্রতিশ্রুতি মোটেও রক্ষা করল না ৷ তাই আল্লাহ তা আলা তাদের প্রতি রক্তের শাস্তি
প্রেরণ করেন ৷ ফিরআউন সম্প্রদায়ের পানির উৎসগুলে৷ রক্তে পরিপুর্ণ হয়ে গেল ৷ তারা যখনই
কে ন কুয়া, নদীনালা ও পাত্র থেকে পানি পান করতে ইচ্ছে করত এগুলো রক্তে পরিণত হয়ে
যেত ৷ যায়দ ইবন আসলাম বলেন, আয়াত ৷ত্শে উল্লেখিত ণ্ন্ শব্দটির অর্থ এ্া বা নাক
থেকে ঝর৷ রক্ত ৷ বর্ণনাটি ইবন আবী হ৷ ৷তিমের ৷
অন্যত্র আল্লাহ্ তাঅ৷ ৷লা ইরশা ৷৷দ করেন :
ব্লুট্রু প্রেটু
এে
ন্ছুর্দুশু
ণ্প্রুৰুর্চুঠুর্চুছুর্দুব্
অর্থাত্ এবং যখন তাদের উপর শাস্তি আসত তারা বলত, হে মুসা! তুমি তোমার
প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, তোমার সাথে তিনি যে অঙ্গীকার করেছেন সে
অনুযায়ী ৷ যদি তুমি আমাদের উপর থেকে শাস্তি অপসারিত কর, তবে আমরা তো তােমাতে
ঈমান আনবই এবং বনী ইসরাঈলকেও তোমার সাথে অবশ্যই যেতে দেব ৷ আমি যখনই
তাদের উপর থেকে শাস্তি অপসারিত করতাম এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে যা তাদের উপর
নির্ধারিত ছিল, তারা তখনই তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করত ৷ সুতরাং আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি
وَأَمَّا الدَّمُ فَكَانَ قَدْ مُزِجَ مَاؤُهُمْ كُلُّهُ بِهِ، فَلَا يَسْتَقُونَ مِنَ النِّيلِ شَيْئًا إِلَّا وَجَدُوهُ دَمًا عَبِيطًا، وَلَا مِنْ نَهْرٍ وَلَا بِئْرٍ وَلَا شَيْءٍ إِلَّا كَانَ دَمًا فِي السَّاعَةِ الرَّاهِنَةِ. هَذَا كُلُّهُ، وَلَمْ يَنَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ بِالْكُلِّيَّةِ. وَهَذَا مِنْ تَمَامِ الْمُعْجِزَةِ الْبَاهِرَةِ، وَالْحُجَّةِ الْقَاطِعَةِ أَنَّ هَذَا كُلَّهُ يَحْصُلُ لَهُمْ عَنْ فِعْلِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَيَنَالُهُمْ عَنْ آخِرِهِمْ، وَلَا يَحْصُلُ هَذَا لِأَحَدٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَفِي هَذَا أَدَلُّ دَلِيلٍ.
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: فَرَجَعَ عَدُوُّ اللَّهِ فِرْعَوْنُ حِينَ آمَنَتِ السَّحَرَةُ مَغْلُوبًا مَفْلُولًا، ثُمَّ أَبَى إِلَّا الْإِقَامَةَ عَلَى الْكُفْرِ وَالتَّمَادِيَ فِي الشَّرِّ، فَتَابَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْآيَاتِ، فَأَخَذَهُ بِالسِّنِينَ، فَأَرْسَلَ عَلَيْهِ الطُّوفَانَ، ثُمَّ الْجَرَادَ، ثُمَّ الْقُمَّلَ، ثُمَّ الضَّفَادِعَ، ثُمَّ الدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ; فَأَرْسَلَ الطُّوفَانَ - وَهُوَ الْمَاءُ - فَفَاضَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ ثُمَّ رَكَدَ لَا يَقْدِرُونَ عَلَى أَنْ يَحْرُثُوا وَلَا أَنْ يَعْمَلُوا شَيْئًا، حَتَّى جُهِدُوا جُوعًا، فَلَمَّا بَلَغَهُمْ ذَلِكَ، {وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوا يَا مُوسَى ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الأعراف: 134] . فَدَعَا مُوسَى رَبَّهُ، فَكَشْفَهُ عَنْهُمْ، فَلَمَّا لَمَّ يَفُوا لَهُ بِشَيْءٍ، فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَرَادَ، فَأَكَلَ الشَّجَرَ، فِيمَا بَلَغَنِي، حَتَّى إِنْ كَانَ لَيَأْكُلُ مَسَامِيرَ الْأَبْوَابِ مِنَ الْحَدِيدِ، حَتَّى تَقَعَ دُورُهُمْ وَمَسَاكِنُهُمْ، فَقَالُوا مِثْلَ مَا قَالُوا، فَدَعَا رَبَّهُ فَكَشَفَ عَنْهُمْ، فَلَمْ يَفُوا لَهُ بِشَيْءٍ مِمَّا قَالُوا، فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْقُمَّلَ، فَذَكَرَ لِي أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أُمِرَ أَنْ يَمْشِيَ إِلَى كَثِيبٍ حَتَّى يَضْرِبَهُ بِعَصَاهُ فَمَشَى إِلَى كَثِيبٍ أَهْيَلَ عَظِيمٍ، فَضَرَبَهُ بِهَا، فَانْثَالَ
পৃষ্ঠা - ৬১৪
এবং তাদেরকে অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত করেছি ৷ কারণ তারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকা ৷র করত
এবং এই সম্বন্ধে তারা ছিল গাফিল ৷ (সুরা আ রাফ ১৩৪ ১৩৬)
ৰু আল্লাহ তাআলা এখানে ফিরআউনের ও তার সম্প্রদায়ের কুফরী, জোর-জুলুম, পথভ্রষ্টতা
ও মুর্থতায় লিপ্ত থাকা এবং আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাদির অনুসরণ ও তার রাসুলের প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন থেকে বিৰুখতা ইত্যাদি সম্বন্ধে বর্ণনা করছেন ৷ অথচ আল্লাহর রাসুলের প্রতি
বিশ্বাস স্থাপনের বিষয়টি বিভিন্ন প্রকার অলৌকিক নিদর্শনাদি ও অকাট্য প্রমাণাদি দ্বারা প্রমাণিত
ও সুপ্রতিষ্ঠিত ৷ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নিদর্শনাদি প্রদর্শন করেছেন এবং এগুলোকে তাদের
বিরুদ্ধে দলীল ও প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন ৷ যখনই তারা আল্লাহর কোন নিদর্শন প্রত্যক্ষ করত
এবং মুসীবতের শিকার হত তখনই তারা মুসা (আ)-এর কাছে শপথ করে ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়
যে, যদি তাদের উপর থেকে এসব মুসীবত দুরীভুত হয়ে যায় তাহলে ফিরআউন মুসা (আ) এর
প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং মুসা (অড়া)-এর দলের লোকদ্দোকে মুসা (আ)-এর সাথে যেতে
দেবে ৷ অথচ যখনি তাদের উপর থেকে এরুপ আযাব-গযব উঠিয়ে নেয়া হত, তখনি তারা
দুষ্কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ত এবং প্রেরিত সভ্যকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করত ৷ আর মুসা (আ )-এর
দিকে ফিরেও ডাকাত না ৷ তখন আল্লাহ্ তাআলা তাদের প্রতি অন্য একটি নিদর্শন বা মুসীবত
অবতীর্ণ করতেন যা পুর্বের ৫প্ররিতংনিদর্শন ও মুসীবত থেকে অধিকতর কষ্টদায়ক হত ৷ তখন
তারা মুসা (আ) এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের মৌখিক অঙ্গীকার করত ৷ কিত্তু পরে তারা মিথ্যাচারে
লিপ্ত হত ৷ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হত কিত্তু তা পুরণ করত না ৷
ফিরআউন ও তার সম্প্রদ৷ য় বলত, হে মুসা! যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এই মুসীবত
দুরীভুত ৩কর, আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব এবং তোমার সাথে বনী ইসরাঈলকে
যেতে দেব ৷ তখন তাদের উপর থেকে এই কঠিন আমার ও শান্তি দুর করা হত কিত্তু পুনরায়
তারা তাদের নিরেট মুর্থত৷ ও বোকামিতে ফিরে যেত ৷ মহা পরাক্রমশালী, ধৈর্যশীল আল্লাহ্
তাআলা তাদেরকে অবকাশ দিতেন এবং তড়িঘড়ি করে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করতেন না,
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সংশোধনের সুযোগ দিতেন এবং আযাৰ-গযবের ব্যাপারে সতর্ক
করতেন ৷ তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি পুর্ণ করার পর তাদেরকে কঠােরভাবে পাকড়াও করলেন
যাতে এটা পরবর্তীদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকে এবং তাদের মত অন্যান্য কাফিরের জন্য এটা
নজীর স্বরুপ এবং মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে যারা নসীহত গ্রহণ করে তাদের জন্যে একটি
দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে ৷
যেমন আল্লাহ তাআলা সুরা যুখরুফে ইরশাদ করেন :
ঐর্মীর্চু
রুি ৷
৷ ৷ৰুপুা
ন্
’ষ্
عَلَيْهِمْ قُمَّلًا حَتَّى غَلَبَ عَلَى الْبُيُوتِ وَالْأَطْعِمَةِ، وَمَنَعَهُمُ النَّوْمَ وَالْقَرَارَ، فَلَمَّا جَهَدَهُمْ، قَالُوا لَهُ مِثْلَ مَا قَالُوا لَهُ، فَدَعَا رَبَّهُ، فَكَشَفَ عَنْهُمْ، فَلَمَّا لَمْ يَفُوا لَهُ بِشَيْءٍ مِمَّا قَالُوا، فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الضَّفَادِعَ، فَمَلَأَتِ الْبُيُوتَ وَالْأَطْعِمَةَ وَالْآنِيَةَ، فَلَمْ يَكْشِفْ أَحَدٌ ثَوْبًا وَلَا طَعَامًا إِلَّا وَجَدَ فِيهِ الضَّفَادِعَ قَدْ غَلَبَتْ عَلَيْهِ، فَلَمَّا جَهَدَهُمْ ذَلِكَ، قَالُوا لَهُ مِثْلَ مَا قَالُوا، فَدَعَا رَبَّهُ فَكَشَفَ عَنْهُمْ، فَلَمْ يَفُوا لَهُ بِشَيْءٍ مِمَّا قَالُوا، فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الدَّمَ فَصَارَتْ مِيَاهُ آلِ فِرْعَوْنَ دَمًا، لَا يَسْتَقُونَ مِنْ بِئْرٍ، وَلَا نَهْرٍ وَلَا يَغْتَرِفُونَ مِنْ إِنَاءٍ، إِلَّا عَادَ دَمًا عَبِيطًا. وَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ: الْمُرَادُ بِالدَّمِ الرُّعَافُ. رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوا يَا مُوسَى ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ - فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ إِلَى أَجَلٍ هُمْ بَالِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ - فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ} [الأعراف: 134 - 136]
[الْأَعْرَافِ: 134 - 136] . يُخْبِرُ تَعَالَى، عَنْ كُفْرِهِمْ وَعُتُوِّهِمْ وَاسْتِمْرَارِهِمْ عَلَى الضَّلَالِ وَالْجَهْلِ، وَالِاسْتِكْبَارِ عَنِ اتِّبَاعِ آيَاتِ اللَّهِ، وَتَصْدِيقِ رَسُولِهِ، مَعَ مَا أَيَّدَ بِهِ مِنَ الْآيَاتِ الْعَظِيمَةِ الْبَاهِرَةِ وَالْحُجَجِ الْبَلِيغَةِ الْقَاهِرَةِ، الَّتِي أَرَاهُمُ اللَّهُ إِيَّاهَا عِيَانًا، وَجَعَلَهَا عَلَيْهِمْ دَلِيلًا وَبُرْهَانًا، وَكُلَّمَا شَاهَدُوا آيَةً وَعَايَنُوهَا وَجَهَدَتْهُمْ وَأَضْنَكَتْهُمْ، حَلَفُوا وَعَاهَدُوا مُوسَى; لَئِنْ كَشَفَ عَنْهُمْ
পৃষ্ঠা - ৬১৫
?
মুসাকে তো আমি আমার নিদর্শনসহ ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট
পাঠিয়েছিলাম ৷ সে বলেছিল, আমি তাে জগতসমুহের প্রতিপালকের প্রেরিত ৷ সে ওদের নিকট
আমার নিদর্শনসহ আসা মাত্র তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল ৷ আমি তাদেরকে এমন
কোন নিদর্শন দেখাইনি যা এটার অনুরুপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয় ৷ আমি তাদেরকে শান্তি
দিলাম যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে ৷ তারা বলেছিল, হে জাদুকর ! তোমার প্রতিপালকের নিকট
তুমি আমাদের জন্য তা প্রার্থনা কর যা তিনি তোমার সাথে অঙ্গীকার করেছেন; তা হলে আমরা
অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করব ৷ তারপর যখন আমি তাদের উপর থেকে শাস্তি বিদুরিত
করলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ব সল ৷ ফিরআউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে
ঘোষণা করল, হে আমার সম্প্রদায় ! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? আর এ নদীগুলাে আমার
পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা এটা দেখ না? আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হতে, যে হীন এবং স্পষ্ট
কথা বলতেও অক্ষম ৷ মুসাকে কেন দেয়া হল না স্বর্ণবলয় অথবা তার সংগে কেন আসল না
ফেরেশতাগণ দলবদ্ধভাবে? এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিল, ফলে ওরা তার
কথা মেনে নিল ৷ ওরা তেড়া ছিল এক সত্যত্যাপী সম্প্রদায় ! যখন ওরা আমাকে ক্রোধাষিত করল
আমি তাদেরকে শান্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত করলাম তাদের সকলকে ৷ তারপর পরবর্তীদের
জন্য আমি তাদেরকে করে রাখলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত ৷ (সুরা যুখরুফ : ৪ ৬-৫৬)
নীচাশয় ও দৃরাচার ফিরআউনের নিকট আপন সম্মানিত বন্দো ও রাসুলকে প্রেরণের ঘটনা
আল্পাহ্ তাআলা উপারাক্ত আয়াতসমুহে ব্যক্ত করেছেন ৷ আল্লাহ্ তাআলা তার রাসুলকে এমন
সুস্পষ্ট নিদর্শনাদিসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে ভীরা জনগণের সমান ও আস্থা অর্জনে সমর্থ হন ৷
এবং তারা কুফর ও শিরক পরিত্যাগ করে সত্য ও সরল পথের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে ৷ অথচ
তারা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন না করে ঐ সব নিদর্শন নিয়ে ঠাট্টা ও হাসিতামাশায় লিপ্ত হয়
এবং আল্লাহ প্রেরিত সত্যপথ থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় ৷ তারপর আল্লাহ তাআলা তাদের
প্রতি পরপর নিদর্শনাদি প্রেরণ করেন ৷ যার প্রতিঢিই তার পুর্বরর্তীটির তুলনায় অধিকতর
গুরুতুবহ ও তাৎপর্যপুর্ণ ছিল ৷
এ প্রসংগে আল্লাহ্ তড়াআলা ইরশাদ করেন :
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ড) ৭৫ -
هَذِهِ لِيُؤْمِنُنَّ بِهِ، وَلَيُرْسِلُنَّ مَعَهُ مَنْ هُوَ مِنْ حِزْبِهِ، فَكُلَّمَا رُفِعَتْ عَنْهُمْ تِلْكَ الْآيَةُ عَادُوا إِلَى شَرٍّ مِمَّا كَانُوا عَلَيْهِ، وَأَعْرَضُوا عَمَّا جَاءَهُمْ بِهِ مِنَ الْحَقِّ، وَلَمْ يَلْتَفِتُوا إِلَيْهِ، فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ آيَةً أُخْرَى، هِيَ أَشَدُّ مِمَّا كَانَتْ قَبْلَهَا وَأَقْوَى، فَيَقُولُونَ، فَيَكْذِبُونَ. وَيَعِدُونَ وَلَا يَفُونَ {لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الأعراف: 134] فَيُكْشَفُ عَنْهُمْ ذَلِكَ الْعَذَابُ الْوَبِيلُ. ثُمَّ يَعُودُونَ إِلَى جَهْلِهِمُ الْعَرِيضِ الطَّوِيلِ. هَذَا، وَالْعَظِيمُ الْحَلِيمُ الْقَدِيرُ يُنْظِرُهُمْ وَلَا يَعْجَلُ عَلَيْهِمْ، وَيُؤَخِّرُهُمْ وَيَتَقَدَّمُ بِالْوَعِيدِ إِلَيْهِمْ، ثُمَّ أَخَذَهُمْ - بَعْدَ إِقَامَةِ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ، وَالْإِعْذَارِ إِلَيْهِمْ - أَخْذَ عَزِيزٍ مُقْتَدِرٍ، فَجَعَلَهُمْ عِبْرَةً وَنَكَالًا وَسَلَفًا لِمَنْ أَشْبَهَهُمْ مِنَ الْكَافِرِينَ، وَمَثَلًا لِمَنِ اتَّعَظَ بِهِمْ مِنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ.
وَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، وَهُوَ أَصْدَقُ الْقَائِلِينَ فِي سُورَةِ " حم وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ ": {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ - فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِآيَاتِنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَضْحَكُونَ - وَمَا نُرِيهِمْ مِنْ آيَةٍ إِلَّا هِيَ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا وَأَخَذْنَاهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ - وَقَالُوا يَا أَيُّهَا السَّاحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ إِنَّنَا لَمُهْتَدُونَ - فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ - وَنَادَى فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِي أَفَلَا تُبْصِرُونَ - أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ - فَلَوْلَا أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ - فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ - فَلَمَّا آسَفُونَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ - فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِينَ} [الزخرف: 46 - 56]
[الزُّخْرُفِ: 46 - 56] ..
পৃষ্ঠা - ৬১৬
“আমি তাদেরকে শান্তি দিলাম যাতে তারা ফিরে আসে ৷ তারা বলেছিল, হে জাদুকর !
তোমার প্রতিপালকের নিকট তুমি আমাদের জন্য তা প্রার্থাংড়া কর, যা তিনি তোমার সাথে
অঙ্গীকার করেছেন, তাহলে আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলহীন করব ৷” (সুরা যুখরুফ : ৪ ৮ : ৯ )
তাদের সময়ে জাদুকর সম্বোধন সে যুগে দুষণীয় বলে বিবেচিত হতো না ৷ কেননা, তাদের
আলিমদেরকে ঐ যুগে জাদুকর বলে আখ্যায়িত করা হতো ৷ এজন্যই তারা প্রয়োজনের সময়
মুসা (আ) কে জাদুকর বলে সম্বোধন করে এবং তার কাছে অনুনয়-বিনয়, করে তাদের আর্জি
, পেশ করে ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন : পুড্রুঠুৰুকুার্বৃ
“যখন আমি তাদের থেকে শাস্তি বিদুরিত করলাম তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে
বসল ৷ ”
তারপর আল্লাহ তাআলা ফিরআউনের দান্তিকতড়ার বর্ণনা দেন ৷ ফিরঅড়াউনও তার রাজ্যের
বিশালতা, সৌন্দর্য এবং রহমান নদী-নালা নিয়ে গর্ববােধ করত ৷ নীল নদের সাথে সংযুক্ত করার
এসব বাড়তি খাল, নালা দেশের শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় ৷ অতঃপর ফিরঅড়াউন তার নিজের দৈহিক
সৌন্দর্য নিয়েও পর্ব করে এবং আল্লাহর রাসুল মুসা (আ)-এর দােষত্রুটি বর্ণনা করতে শুরু
করে ৷ স্পষ্ট কথাবার্তা বলতে মুসা (আ)-এর অক্ষমতাকেও সে ত্রুটিরুপে চিহ্নিত করে ৷
বাল্যকালে তার জিহ্বায় কিছুটা জড়তা দেখা দেয়, যা তার জন্যে ছিল পরিপুর্ণ ব্যক্তিত্ব , সৌন্দর্য
ও সম্মানের ব্যাপার না তার সাথে আল্লাহ তাআলার কথোপকথন, তার নিকট ওহী প্রেরণ; এর
পর তার কাছে তৌরাত অবতীর্ণ করার ক্ষেত্রে এটা কোন প্রকার অন্তরায় হয়নি ৷ অথচ
ফিরআউন এটাকে উপলক্ষ করে মুসা (আ)-এর ত্রুটি নির্দেশ করেছিল ৷ ফিরঅড়াউন মুসা
(অড়া)-এর স্বর্ণবলয় ও শরীরে সাজসজ্জা না থাকাকেও ত্রুটি বলে আখ্যায়িত করে অথচ এটা
হল নারীদের ভুষণ, পুরুষের ব্যক্তিত্বের সাথে এটা সম্পৃক্ত নয় ৷ তাই নবীদের ব্যক্তিত্বের
সাথে তা মোটেই সামঞ্জস্যপুর্ণ নয়, কেননা নবীগণ পুরুষদের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি, মারেফাত,
সাহস, পরহেজগারী ও জ্ঞানের দিক দিয়ে অধিকতর পরিপুর্ণ ৷ র্তারা দুনিয়ায় অধিকতর
সড়াবধানতড়া অবলম্বনকারী এবং আখিরাতে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তার ওলীদের জন্যে যে সব
নিয়ামতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সে সম্বন্ধে অধিকতর জ্ঞাত ৷
)
আয়াতে উল্লেখিত ১হু;প্রুট্টগু অড়ায়াতাংশ দ্বারা দুটি অর্থ নেয়া যায় ৷ প্রথমত, যদি
ফিরআউনের উদ্দেশ্য হয় যে, ফেরেশতাগণ কেন মুসা (আ)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না ৷
তাহলে তার এই আপত্তি যুক্তিযুক্ত নয় ৷ কেননা, মুসা (আ)-এর চাইতে কম মর্যাদাসম্পন্ন
লোকেরও ফেরেশতাগণ অনেক সময় সম্মান করে থাকেন ৷ কাজেই ফেরেশত৷ দলবদ্ধভাবে মুসা
(আ)-এর সাথে আগমন করা নবুওতের মর্যাদার জন্য শর্ত নয় ৷ যেমন হাদীস শরীফে
রয়েছে-রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, যখন শিক্ষাথীগণ আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে
ইল্ম শিক্ষার জন্যে ঘরের বের হয় তখন তাদের সষ্মড়ানার্থে ফেরেশতড়াগণ তাদের চলার পথে
তাদের পাখা বিস্তার করে দেন ৷ সুতরাং মুসা (আ)-এর প্রতি ফেরেশতাগণের সম্মান, বিনয়
প্রদর্শন যে কী পর্যায়ের ছিল তা সহজেই অনুমেয় ৷ আর যদি এই কথার দ্বারা ফিরআউনের
উদ্দেশ্য হয়ে থাকে যে মুসা (আ)-এর নবুওতের পক্ষে ফেরেশতাগণ সাক্ষীরুপে উপস্থিত হন না
يَذْكُرُ تَعَالَى إِرْسَالَهُ عَبْدَهُ الْكَلِيمَ الْكَرِيمَ، إِلَى فِرْعَوْنَ الْخَسِيسِ اللَّئِيمِ، وَأَنَّهُ تَعَالَى أَيَّدَ رَسُولَهُ بِآيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَاضِحَاتٍ، تَسْتَحِقُّ أَنْ تُقَابَلَ بِالتَّصْدِيقِ وَالتَّعْظِيمِ، وَأَنْ يَرْتَدِعُوا عَمَّا هُمْ فِيهِ مِنَ الْكُفْرِ، وَيَرْجِعُوا إِلَى الْحَقِّ وَالصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ، فَإِذَا هُمْ مِنْهَا يَضْحَكُونَ، وَبِهَا يَسْتَهْزِئُونَ، وَعَنْ سَبِيلِ اللَّهِ يَصُدُّونَ، وَعَنِ الْحَقِّ يَحِيدُونَ، فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْآيَاتِ تَتْرَى، يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا، وَكُلُّ آيَةٍ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا الَّتِي تَتْلُوهَا; لِأَنَّ الْمُؤَكَّدَ أَبْلَغُ مِمَّا قَبْلَهُ، {وَأَخَذْنَاهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ - وَقَالُوا يَا أَيُّهَا السَّاحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ إِنَّنَا لَمُهْتَدُونَ} [الزخرف: 48 - 49] لَمْ يَكُنْ لَفْظُ السَّاحِرِ فِي زَمَانِهِمْ نَقْصًا وَلَا عَيْبًا; لِأَنَّ عُلَمَاءَهُمْ، فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ، هُمُ السَّحَرَةُ; وَلِهَذَا خَاطَبُوهُ بِهِ فِي حَالِ احْتِيَاجِهِمْ إِلَيْهِ، وَضَرَاعَتِهِمْ لَدَيْهِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ} [الزخرف: 50] ثُمَّ أَخْبَرَ تَعَالَى عَنْ تَبَجُّحِ فِرْعَوْنَ بِمُلْكِهِ وَعَظْمَةِ بَلَدِهِ وَحُسْنِهَا وَتَخَرُّقِ الْأَنْهَارِ فِيهَا، وَهِيَ الْخُلْجَانُ الَّتِي يَكْسِرُونَهَا أَمَامَ زِيَادَةِ النِّيلِ ثُمَّ تَبَجَّحَ بِنَفْسِهِ وَحِلْيَتِهِ وَأَخَذَ يَتَنَقَّصُ رَسُولَ اللَّهِ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَيَزْدَرِيهِ بِكَوْنِهِ {وَلَا يَكَادُ يُبِينُ} [الزخرف: 52] يَعْنِي كَلَامَهُ، بِسَبَبِ مَا كَانَ فِي لِسَانِهِ مِنْ بَقِيَّةِ تِلْكَ اللُّثْغَةِ، الَّتِي هِيَ شَرَفٌ لَهُ، وَكَمَالٌ وَجَمَالٌ، وَلَمْ تَكُنْ مَانِعَةً لَهُ أَنْ كَلَّمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَأَوْحَى إِلَيْهِ، وَأَنْزَلَ بَعْدَ ذَلِكَ التَّوْرَاةَ عَلَيْهِ، وَتَنَقَّصَهُ فِرْعَوْنُ، لَعَنَهُ اللَّهُ، بِكَوْنِهِ لَا
পৃষ্ঠা - ৬১৭
কেন, তাহলে তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা মুসা (আ)-এর রিসালতকে এমন
সব মু’জিযা ও মজবুত দলীলাদি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন যা জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ এবং সত্য
সন্ধানীদের কাছে সুপ্রমাণিত হিসেবে বিবেচ্য ৷ তবে এসব মুজিমা ও মজবুত দলীলাদির ব্যাপারে
ঐসব ব্যক্তি অন্ধ, যারা সারবন্তু ছেড়ে কেবল ছাল-বাকল নিয়েই ব্যস্ত থাকে ৷ যাদের অম্ভরে
আল্লাহ্ তাআলা মােহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের অন্তর সংশয় সন্দেহের দ্বারা পরিপুর্ণ করে
দিয়েছেন যেমনটি কিবতী বংশীয় ক্ষমতার মােহে অন্ধ ও মিথ্যাচারী ফিরআউনের ক্ষেত্রে
ঘটেছিল ৷
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন অর্থাৎ-এভাবে সে
তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিল, তখন তারা তাকে যেনে নিল এবং তার প্রভুতুকেও স্বীকার
করে নিল ৷ যেহেতু তারা ছিল একটি সত্যভ্যাগী সম্প্রদায় ৷
অতংপর আল্লাহ তা অড়ালা বলেন ং ন্শু মোঃ ৷ ৷ৰু£ ৷ র্চুর্দুর্ন্ত অর্থাৎ-যখন তারা
আমাকে ক্রোধাম্বিত করল, আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম অর্থাৎ নিমজ্জিত করলাম অবমাননা,
লাছনা-পঞ্জনায়, নিয়ামত দানের পর আযাবে নিপতিত করে, সুখের পর দুঃখ দিয়ে, আনন্দের
পর বিষাদ্মাস্ত করে এবং সুখের জীবনের পর দােযখের কঠিন আমার দিয়ে ৷ অতঃপর আমি
তাদেরকে তাদের অনুসারীদের জন্যে অতীত ইতিহাস এবং তাদের থেকে যারা শিক্ষা গ্রহণ
করতে চায় ও আযাবকে ভয় করতে চায় তাদের জন্যে দৃষ্টাস্তে পরিণত করলাম ৷
তাদের পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করে আল্লাহ্ তাআলা বলেন :
মোঃ
’
প্রুগ্রাএ
’)র্দ্রপুএ ৷ র্চুৰুছুা৷ব্লু
’
এে ৷
;
অর্থাৎ-মুসা (আ) যখন ওদের নিকটে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে আসল-ওরা
বলল, এটড়াতো অলীক ইন্দ্রজাল মাত্র ৷ আমাদের পুর্ব-পুরুষগণের কালে কখনও এরুপ কথা
শুনিনি ৷ মুসা বলল, আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তার নিকট থেকে পথ-নির্দেগ
এসেছে এবং আখিরাতে কার পরিণাম শুভ হবে ৷ জালিমরা কখনও সফলকাম হবে না ৷
أَسَاوِرَ فِي يَدَيْهِ وَلَا زِينَةَ عَلَيْهِ، وَإِنَّمَا ذَلِكَ مِنْ حِلْيَةِ النِّسَاءِ، لَا يَلِيقُ بِشَهَامَةِ الرِّجَالِ، فَكَيْفَ بِالرُّسُلِ الَّذِينَ هُمْ أَكْمَلُ عَقْلًا، وَأَتَمُّ مَعْرِفَةٌ، وَأَعْلَى هِمَّةً، وَأَزْهَدُ فِي الدُّنْيَا، وَأَعْلَمُ بِمَا أَعَدَّ اللَّهُ لِأَوْلِيَائِهِ فِي الْأُخْرَى. وَقَوْلُهُ: {أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ} [الزخرف: 53] لَا يَحْتَاجُ الْأَمْرُ إِلَى ذَلِكَ إِنْ كَانَ الْمُرَادُ أَنْ تُعَظِّمَهُ الْمَلَائِكَةُ. فَالْمَلَائِكَةُ يُعَظِّمُونَ وَيَتَوَاضَعُونَ لِمَنْ هُوَ دُونَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِكَثِيرٍ كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: «إِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًى بِمَا يَصْنَعُ» فَكَيْفَ يَكُونُ تَوَاضُعُهُمْ وَتَعْظِيمُهُمْ لِمُوسَى الْكَلِيمِ، عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالتَّسْلِيمُ وَالتَّكْرِيمُ؟ وَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ شَهَادَتَهُمْ لَهُ بِالرِّسَالَةِ، فَقَدْ أُيِّدَ مِنَ الْمُعْجِزَاتِ بِمَا يَدُلُّ قَطْعًا لِذَوِي الْأَلْبَابِ، وَلِمَنْ قَصَدَ إِلَى الْحَقِّ وَالصَّوَابِ، وَيَعْمَى عَمَّا جَاءَ بِهِ مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْحُجَجِ الْوَاضِحَاتِ، مَنْ نَظَرَ إِلَى الْقُشُورِ، وَتَرَكَ لُبَّ اللُّبَابِ، وَطَبَعَ عَلَى قَلْبِهِ رَبُّ الْأَرْبَابِ، وَخَتَمِ عَلَيْهِ بِمَا فِيهِ مِنَ الشَّكِّ وَالِارْتِيَابِ، كَمَا هُوَ حَالُ فِرْعَوْنَ الْقِبْطِيِّ الْعَمِيِّ الْكَذَّابِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ} [الزخرف: 54] أَيْ; اسْتَخَفَّ عُقُولَهُمْ، وَدَرَّجَهُمْ مِنْ حَالٍ إِلَى حَالٍ، إِلَى أَنْ صَدَّقُوهُ فِي دَعْوَاهُ الرُّبُوبِيَّةِ، لَعَنَهُ اللَّهُ وَقَبَّحَهُمْ، {إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ - فَلَمَّا آسَفُونَا} [الزخرف: 54 - 55] أَيْ; أَغْضَبُونَا; {انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ} [الزخرف: 55] أَيْ; بِالْغَرَقِ وَالْإِهَانَةِ، وَسَلْبِ الْعِزِّ، وَالتَّبَدُّلِ بِالذُّلِّ وَبِالْعَذَابِ بَعْدَ النِّعْمَةِ، وَالْهَوَانِ بَعْدَ الرَّفَاهِيَةِ، وَالنَّارِ بَعْدَ طِيبِ الْعَيْشِ، عِيَاذًا بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنْ ذَلِكَ، {فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا} [الزخرف: 56] أَيْ; لِمَنِ اتَّبَعَهُمْ فِي الصِّفَاتِ، وَمَثَلًا أَيْ; لِمَنِ اتَّعَظَ بِهِمْ، وَخَافَ مِنْ وَبِيلِ
পৃষ্ঠা - ৬১৮
ফিরআউন বলল, হে পারিষদবর্গ! আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ রয়েছে বলে আমি
জানি না ৷ হে হামান ৷ তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি কর, হয়ত
আমি এতে উঠে মুসার ইলাহকে দেখতে পাব ৷ তবে আমি অবশ্য মনে করি, যে মিথ্যাবাদী ৷
ফিরআউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করেছিল এবং ওরা মনে করেছিল
যে, ওরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না ৷ অতএব, আমি তাকে ও তার বাহিনীকে ধরলাম
এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম ৷ দেখ, জালিমদের পরিণাম কী হয়ে থাকে ৷ ওদেরকে
আমি নেতা করেছিলাম ৷ ওরা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করত; কিয়ামতের দিন
ওদেরকে সাহায্য করা হবে না ৷ এ পৃথিবীতে আমি ওদের পশ্চাতে লাগিয়ে দিয়েছি অভিসম্পাত
এবং কিয়ামতের দিন ওরা হবে ঘৃণিত ৷ (সুরা কাসাস : ৩৬ : ২)
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, যখন ফিরআউন ও তার দলের
লোকেরা সত্যের অনুসরণ থেকে অহংকারভরে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং তাদের বাদশাহ মিথ্যা
দাবি করল, তারা তাকে মেনে নিল ও তার আনুগত্য করল ৷ তখন মহাশক্তিশালী ,
মহাপরাক্রমশালী প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার ৫ক্রাধ তীব্র আকার ধারণ করল যার বিরুদ্ধে
কেউ জয়লাভ করতে পারে না এবং যাকে কেউ প্রতিহত করতে পারে না ৷ অতঃপর আল্লাহ
তাআলা তাদেরকে কঠিন শান্তি দিলেন, ফিরআউন ও তার সৈন্য-সামন্তকে একদিন গ্রত্যুষে
ডুবিয়ে দিলেন, ফলে তাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি বা তাদের বাসন্থানের কোন অস্তিত্ব বাকি
রইল না ৷ তারা সকলে ডুবে গেল ও দোযখবাসী হল ৷ এই পৃথিবীতে বিশ্ববাসীর মাঝে তারা
অভিসম্পাতের শিকার হল এবং কিয়ামতের দিনেও ৷ কিয়ামতের দিনে তাদের পুরস্কার কতই না
নিকৃষ্ট হবে এবং তারা হবে ঘৃণিতদের অন্তর্ভুক্ত ৷
مَصْرَعِهِمْ، مِمَّنْ بَلَغَهُ جَلِيَّةُ خَبَرِهِمْ، وَمَا كَانَ مِنْ أَمْرِهِمْ; كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَلَمَّا جَاءَهُمْ مُوسَى بِآيَاتِنَا بَيِّنَاتٍ قَالُوا مَا هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُفْتَرًى وَمَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ - وَقَالَ مُوسَى رَبِّي أَعْلَمُ بِمَنْ جَاءَ بِالْهُدَى مِنْ عِنْدِهِ وَمَنْ تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ - وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَلْ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِنَ الْكَاذِبِينَ - وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ - فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ - وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُونَ - وَأَتْبَعْنَاهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُمْ مِنَ الْمَقْبُوحِينَ} [القصص: 36 - 42]
[الْقَصَصِ: 36 - 42] . يُخْبِرُ تَعَالَى أَنَّهُمْ لَمَّا اسْتَكْبَرُوا عَنِ اتِّبَاعِ الْحَقِّ، وَادَّعَى مِلْكُهُمُ الْبَاطِلَ، وَوَافَقُوهُ عَلَيْهِ، وَأَطَاعُوهُ فِيهِ، اشْتَدَّ غَضَبُ الرَّبِّ الْقَدِيرِ الْعَزِيزِ، الَّذِي لَا يُغَالَبُ وَلَا يُمَانَعُ، عَلَيْهِمْ، فَانْتَقَمَ مِنْهُمْ أَشَدَّ الِانْتِقَامِ، وَأَغْرَقَهُ هُوَ وَجُنُودَهُ فِي صَبِيحَةٍ وَاحِدَةٍ، فَلَمْ يُفْلِتْ مِنْهُمْ أَحَدٌ، وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ دَيَّارٌ، بَلْ كَانَ قَدْ غَرِقَ، فَدَخَلَ النَّارَ، وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ الدَّارِ لَعْنَةً بَيْنَ الْعَالَمِينَ، وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ، بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ، وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُمْ مِنَ الْمَقْبُوحِينَ.
পৃষ্ঠা - ৬১৯
ফিরআউন ও তার বাহিনী ধ্বংসের বিবরণ
বাদশাহ ফিরআউনের আনুগত স্বীকার এবং আল্লাহর নবী ও তার রাসুল মুসা ইবনে
ইমরান (আ) এর বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়ে মিসরের কিবভীদের যখন তাদের কুফরী,
অবাধ্যত৷ ও সত্য বিমুখতায় অবস্থান দীর্ঘায়িত হতে লাগল; আল্লাহ তাআলা তখন মিসরবাসীর
নিকট বিস্ময়কর ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি পেশ করেন এবং তাদেরকে এমন সব অলৌকিক ঘটনা
দেখান যাতে চোখ ঝলসে যায় এবং মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে ৷ এতদসত্বেও তাদের কিছু
সংখ্যক ব্যতীত কেউ বিশ্বাস স্থাপন করেনি; অন্যায় থেকে প্রত্যাবর্তন করেনি;
জোর-জুলুম-অভ্যাচার থেকে বিরত থাকেনি এবং কেউ কেউ বলেন তাদের মধ্যে মাত্র তিন
ব্যক্তি ঈমান এসেছিলেন ৷ একজন হচ্ছেন ফিরআউনের শ্রী, কিতাবীরা তার সম্বন্ধে মোটেও
অব তনয় ৷ দ্বিভীয়জন হচ্ছেন ফিরআউনের সম্প্রদায়ের মুমিন ব্যক্তিটি যার নসীহত প্রদান,
পরামর্শ দান ও তাদের বিরুদ্ধে দলীলাদি পেশ করার বিষয়টি ইতিপুর্বেই সবিস্তারে বর্ণনা করা
হয়েছে ৷ তৃভীয়জন হচ্ছেন উপদেশ প্রদানকারী ব্যক্তিটি যিনি শহরের দুর প্রান্ত থেকে ছুটে এসে
মুসা (আ)-কে তার বিরুদ্ধে সাজানো ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অবহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, হে
মুসা (আ) ফিরআউনের পারিষদরর্গ আপনাকে হত্যা করার জন্য সলাপরামর্শ করছে ৷ সুতরাং
আপনি বের হয়ে পড়েন ৷ আমি আপনার একজন মঙ্গলকামী বৈ নই ৷ এটি আবদুল্লাহ ইবন
আব্বাস (রা)-এর অভিমত ৷ যা ইবন আবু হাতিম (র)ও বর্ণনা করেছেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন
আব্বাস (রা)-এর অভিমত হল, এরা তিনজন হচ্ছেন জাদুকরদের অতিরিক্ত ৷ কেননা
জাদৃকরগণও কিবভীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷
আবার কেউ কেউ বলেন, ফিরআউনের সম্প্রদায় কিবভীদের মধ্য হতে একটি দল ঈমান
এনেছিল ৷ জাদুকরদের সকলে এবং বনী ইসরাঈলদের সকল গোত্রই ঈমান এনেছিল ৷ কুরআন
মজীদে নিম্নোক্ত আয়াতে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় :
দ্বুৰু ৷ দ্বু ন্ট্রুর্দুশ্ড়র্ন্ত
অর্থাৎ “ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গ নির্যাতন করবে এ আশৎকায় তার সম্প্রদায়ের
একদল ব্যতীত আর কেউই তার প্রতি ঈমান আনেনি ৷ যমীনে তে তা ফিরআউন পরাক্রমশালী
ছিল এবং সে অবশ্যই সীমা ৷লৎঘনক৷ ৷রীদের অন্তর্ভুক্ত ৷’ (সুরা ইউনুসং ৮৩)
আয়াতাৎশ ১ ণ্গ্লুষ্ তে ; সর্বনামটিতে ফিরআউনকেই নির্দেশ করা হয়েছে ৷ কেননা,
বাক্যের পুর্বাপর দৃষ্টেত তা স্পষ্ট বোঝা যায় ৷ আবার কেউ কেউ নিকটতম শব্দ মুসা (আ) এর
[هَلَاكُ فِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ]
ذِكْرُ هَلَاكِ فِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ
لَمَّا تَمَادَى قِبْطُ مِصْرَ عَلَى كُفْرِهِمْ، وَعُتُوِّهِمْ، وَعِنَادِهِمْ، مُتَابَعَةً لِمَلِكِهِمْ فِرْعَوْنَ، وَمُخَالَفَةً لِنَبِيِّ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَكَلِيمِهِ، مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَأَقَامَ اللَّهُ عَلَى أَهْلِ مِصْرَ الْحُجَجَ الْعَظِيمَةَ الْقَاهِرَةَ وَأَرَاهُمْ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَاتِ مَا بَهَرَ الْأَبْصَارَ وَحَيَّرَ الْعُقُولَ، وَهُمْ مَعَ ذَلِكَ لَا يَرْعَوُونَ، وَلَا يَنْتَهُونَ، وَلَا يَنْزِعُونَ، وَلَا يَرْجِعُونَ، وَلَمْ يُؤْمِنْ مِنْهُمْ إِلَّا الْقَلِيلُ، قِيلَ: ثَلَاثَةٌ; وَهُمُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وَلَا عِلْمَ لِأَهْلِ الْكِتَابِ بِخَبَرِهَا، وَمُؤْمِنُ آلِ فِرْعَوْنَ، الَّذِي تَقَدَّمَ حِكَايَةُ مَوْعِظَتِهِ، وَمَشُورَتِهِ، وَحُجَّتِهِ عَلَيْهِمْ، وَالرَّجُلُ النَّاصِحُ، الَّذِي جَاءَ يَسْعَى مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ، فَقَالَ: {يَامُوسَى إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ} [القصص: 20] قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، فِيمَا رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ عَنْهُ. وَمُرَادُهُ غَيْرُ السَّحَرَةِ، فَإِنَّهُمْ كَانُوا مِنَ الْقِبْطِ. وَقِيلَ: بَلْ آمَنَ بِهِ طَائِفَةٌ مِنَ الْقِبْطِ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ، وَالسَّحَرَةُ كُلُّهُمْ، وَجَمِيعُ شَعْبِ بَنِي إِسْرَائِيلَ. وَيَدُلُّ عَلَى هَذَا قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَمَا آمَنَ لِمُوسَى إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ عَلَى خَوْفٍ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ أَنْ يَفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِينَ} [يونس: 83] . فَالضَّمِيرُ فِي قَوْلِهِ: {إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ} [يونس: 83] عَائِدٌ عَلَى فِرْعَوْنَ;
পৃষ্ঠা - ৬২০
প্রতি নির্দেশ করে বলে বলেছেন ৷ তবে প্রথম অভিমতটিই বেশি স্পষ্ট ৷ তাফসীরে এ সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷ আর তারা ঈমান এনেছিল গোপনে ৷ কেননা, তারা
ফিরআউন ও তার প্রতিপত্তি এবং তার সম্প্রদায়ের অত্যাচার, অবিচার ও নিষ্ঠুরতাকে ভয়
করত ৷ তারা আরো ভয় করত যে, যদি ফিরআউনের লোকেরা তাদের ঈমানের কথা জানতে
পারে তাহলে তারা তাদেরকে ধর্মচ্যুত করে ফেলবে ৷ ফিরআউনের ঘটনা আল্লাহ বর্ণনা
করেছেন আর আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট ৷ আল্লাহ তাআলা বলেন :
’ ’ ’
পু;হুন্,-গু,ট্টএএ ণ্ণ্এ ণ্এ)দ্বু ষ্ৰুষ্১ম্বি^৷ ষ্ব্লু প্রুএে ১শ্রু ৰুৰু র্দু>দ্বু
অর্থাৎ “নিশ্চয়ই দেখে তো ফিরআউন পরাক্রমশালী ছিল ৷ সে ছিল স্বৈরাচারী , হঠকারী ও
অন্যায়তাবে দান্ধিক ৷ ” আবার সে তার প্রতিটি কাজে, আচরণে ও ব্যবহারে ছিল
সীমালংঘনকারী ৷ রন্তুত সে ছিল এমন একটি মারাত্মক জীবাণু যার ধ্বংস ছিল অত্যাসন্ন; যে
এমন একটি নিকৃষ্ট ফল যার কাটার সময় ছিল অত্যাসন্ন, এমন অভিশপ্ত অগ্নিশিখা যার নির্বাপন
ছিল সৃনিশ্চিত ৷
তখন মুসা (আ) তার সম্প্রদায়কে বললেন :
প্’শু
৫হ আমার সম্প্রদায় ! যদি তোমরা আল্লাহতে ঈমান এনে থাক ,’ যদি তোমরা
আত্মসমর্পণকারী হও তবে তোমরা তারই উপর নির্ভর কর ৷ তারপর তারা বলল, আমরা
আল্লাহর উপর নির্ভর করলাম ৷ হে আমাদের প্ৰতিপালক৷ আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের
উৎপীড়নের পাত্র করো না এবংঅড়ামাদেরকে তোমার অনুগ্রহে কাফির সম্প্রদায় হতে রক্ষা কর ৷ ’
(সুরা ইউনুস : ৮৪ ৮৬)
অর্থাৎ মুসা (আ) তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা, আল্লাহ তাআলার কাছে
সাহায্য প্রার্থনা এবং আল্লাহ তাআলড়ার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করার জন্যে হুকুম দিলেন ৷ তারা তা
মান্য করলেন ৷ তইি আল্লাহ তাআলাও তাদেরকে তাদের বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করলেন ৷
আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন :
অর্থাৎ-“আমি মুসা (আ) ও তার ভাইয়ের নিকট প্রত্যাদেশ করলাম, মিসরে তোমাদের
সম্প্রদায়ের জন্য গৃহ স্থাপন কর, তোমাদের গৃহগুলােকে ইবাদত গৃহ কর, সালাত কায়েম কর
এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও ৷ ” (সুরা ইউনুস : ৮ ৭)
অন্য কথায় আল্লাহ তাআলা মুসা (আ) ও তার ভ্রাতা হারুন (আ) কে ওহী মারফত নির্দেশ
দিলেন যেন তারা তাদের সম্প্রদায়ের জন্যে কিবতীদের থেকে আলাদা ধরনের গৃহ নির্মাণ করেন
لِأَنَّ السِّيَاقَ يَدُلُّ عَلَيْهِ. وَقِيلَ: عَلَى مُوسَى; لِقُرْبِهِ. وَالْأَوَّلُ أَظْهَرُ، كَمَا هُوَ مُقَرَّرٌ فِي " التَّفْسِيرِ ". وَإِيمَانُهُمْ كَانَ خُفْيَةً; لِمَخَافَتِهِمْ مِنْ فِرْعَوْنَ وَسَطْوَتِهِ، وَجَبَرُوتِهِ وَسُلْطَتِهِ، وَمِنْ مَلَئِهِمْ أَنْ يَنِمُّوا عَلَيْهِمْ إِلَيْهِ، فَيَفْتِنَهُمْ عَنْ دِينِهِمْ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى مُخْبِرًا عَنْ فِرْعَوْنَ، وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا: {وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِي الْأَرْضِ} [يونس: 83] أَيْ; جَبَّارٌ، عَنِيدٌ، مُسْتَعْلٍ بِغَيْرِ الْحَقِّ، {وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِينَ} [يونس: 83] أَيْ; فِي جَمِيعِ أُمُورِهِ وَشُئُونِهِ وَأَحْوَالِهِ، وَلَكِنَّهُ جُرْثُومَةٌ قَدْ حَانَ انْجِعَافُهَا، وَثَمَرَةٌ خَبِيثَةٌ قَدْ آنَ قِطَافُهَا، وَمُهْجَةٌ مَلْعُونَةٌ قَدْ حُتِمَ إِتْلَافُهَا. وَعِنْدَ ذَلِكَ قَالَ مُوسَى: {وَقَالَ مُوسَى يَا قَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ - فَقَالُوا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} [يونس: 84 - 86]
[يُونُسَ 84 - 86] . يَأْمُرُهُمْ بِالتَّوَكُّلِ عَلَى اللَّهِ، وَالِاسْتِعَانَةِ بِهِ وَالِالْتِجَاءِ إِلَيْهِ، فَأْتَمَرُوا بِذَلِكَ، فَجَعَلَ اللَّهُ لَهُمْ مِمَّا كَانُوا فِيهِ فَرَجًا وَمَخْرَجًا. {وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّءا لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [يونس: 87] أَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ هَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، أَنْ يَتَّخِذُوا لِقَوْمِهِمَا بُيُوتًا مُتَمَيِّزَةً فِيمَا بَيْنَهُمْ عَنْ بُيُوتِ الْقِبْطِ; لِيَكُونُوا عَلَى أُهْبَةٍ مِنَ الرَّحِيلِ، إِذَا أَمَرُوا بِهِ، لِيَعْرِفَ بَعْضُهُمْ بُيُوتَ بَعْضٍ. وَقَوْلُهُ: {وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً} [يونس: 87] قِيلَ: مَسَاجِدَ. وَقِيلَ: مَعْنَاهُ كَثْرَةُ الصَّلَاةِ فِيهَا. قَالَهُ مُجَاهِدٌ، وَأَبُو مَالِكٍ، وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ، وَالرَّبِيعُ، وَالضَّحَّاكُ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، وَابْنُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَغَيْرُهُمْ.
পৃষ্ঠা - ৬২১
যাতে তারা নির্দেশ পাওয়া মাত্রইভ্রমণের জন্যে তৈরি হতে পারে এবং একে অন্যের ঘর সহজে
চিনতে পারে ও প্রয়োজনে বের হয়ে পড়ার জন্যে সংবাদ দিতে পারে ৷
,fi
আয়াতে উল্লেখিত আয়াতাংশ শ্রদ্বৰুধু;প্রু প্রু ৷স্পে ৷ § এর অর্থ হচ্ছে, তােমাদের
গৃহগুলােকে ইবাদত গৃহ কর ৷’ কেউ কেউ বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে গৃহগুলােতে বেশি বেশি
সালাত আদায় করবে ৷ ’ মুজাহিদ (র), আবুমালিক (র), ইব্রাহীম আন-নাখয়ী (র), আর রাবী
(র), যাহযাক (র), যায়িদ ইবন অড়াসলাম (র), তার পুত্র আবদুর রহমান (র) ও অন্যান্য
তাফসীরকার এ অভিমত পোষণ করেন ৷ এ অভিমত অনুযায়ী আয়াতাৎশের অর্থ হবে ;; তারা
যেসব অসুবিধা, ক্লেশ, কষ্ট ও সংকীংতািয় ভুগছে তা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্যে অধিক হারে
সালাত আদায় করে আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা ৷
যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন হ্র
৷ প্রুর্দুক্কুব্লুর্দু ৷ ও
অর্থাৎ “ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর ৷ (সুরা বাকারা : ৪৫)
হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, রাসুল (না) যখন কোন কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি
সালাত আদায় করতেন ৷
আবার কেউ কেউ বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের অত্যাচারের
ভয়ে মসজিদ বা মজলিসে প্রকাশ্য ইরাতদ কষ্টসাধ্য হওয়ায় গৃহের নির্দিষ্ট স্থানে তাদেরকে
সালাত আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছিল ৷ প্রথম অর্থটি অধিক গ্রহণযোগ্য ৷ তবে দ্বিতীয়
অর্থটিও অগ্নহণযােগ্য নয় ৷ আল্পাহই অধিক জ্ঞাত ৷
সাঈদ ইবন জুবাইর (র) আয়াতাংশ র্বা ষ্টু ধ্ট্রুকুর্দুদ্বুছু পু ৷ ষ্£৯ ৷ ,’ এর তাফসীর প্রসঙ্গে
বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে, তোমরা তোমাদের বড়াড়িগুলােকে মুখোমুখি করে তৈরি কর ৷ ’
আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন :
০
,
ৰু;;;
)
াট্রুব্লু১গ্লুষ্ট্রশু £;র্টু ৷ ^;র্দ্ধ (ার্দুদ্ব গ্লুপ্রুর্বৃা^৷ ; ৷ র্দু;শুএ ৷ ৷ দ্বুদ্বুর্মু ;; fi ৷ হুৰুব্লু ;§ র্বুাঝু১ ন্ দ্বুশুন্
ও
অর্থাৎ মুসা বলল, হে আমাদের প্ৰতিপালক৷ তুমি ফিরআউন ও তার পারিষদবর্পকে
পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পদ দান করেছ যা দিয়ে হে আমাদের প্রতিপালক ! তারা মানুষকে
তোমার পথ থেকে ভ্রষ্ট করে ৷ হে আমাদের প্রতিপালক ! তাদের সম্পদ বিনষ্ট কর, তাদের হৃদয়
কঠিন করে দাও ৷ তারা তো মর্মভুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না ৷ তিনি প্ৰতি
উত্তরে বললেন, তোমাদের দুজনের প্রার্থনা গৃহীত হল ৷ সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং তোমরা
কখনও অজ্ঞদের পথ অনুসরণ করবে না ৷ (সুরা ইউনুস দ্ভ ৮৮-৮৯)
وَمَعْنَاهُ عَلَى هَذَا الِاسْتِعَانَةِ عَلَى مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الضُّرِّ، وَالشِّدَّةِ، وَالضِّيقِ، بِكَثْرَةِ الصَّلَاةِ; كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ} [البقرة: 45] . وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ صَلَّى. وَقِيلَ: مَعْنَاهُ أَنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا حِينَئِذٍ يَقْدِرُونَ عَلَى إِظْهَارِ عِبَادَتِهِمْ فِي مُجْتَمَعَاتِهِمْ، وَمَعَابِدِهِمْ، فَأُمِرُوا أَنْ يُصَلُّوا فِي بُيُوتِهِمْ، عِوَضًا عَمَّا فَاتَهُمْ مِنْ إِظْهَارِ شِعَارِ الدِّينِ الْحَقِّ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، الَّذِي اقْتَضَى حَالُهُمْ إِخْفَاءَهُ; خَوْفًا مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ. وَالْمَعْنَى الْأَوَّلُ أَقْوَى; لِقَوْلِهِ: {وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} [يونس: 87] وَإِنْ كَانَ لَا يُنَافِي الثَّانِيَ أَيْضًا، وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ {وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً} [يونس: 87] أَيْ; مُتَقَابِلَةً.
{وَقَالَ مُوسَى رَبَّنَا إِنَّكَ آتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُ زِينَةً وَأَمْوَالًا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِكَ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ - قَالَ قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَانِّ سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [يونس: 88 - 89]
[يُونُسَ 88 - 89] . هَذِهِ دَعْوَةٌ عَظِيمَةٌ، دَعَا بِهَا كَلِيمُ اللَّهِ مُوسَى، عَلَى عَدُوِّ اللَّهِ فِرْعَوْنَ; غَضَبًا لِلَّهِ عَلَيْهِ، لِتَكَبُّرِهِ عَنِ اتِّبَاعِ الْحَقِّ وَصَدِّهِ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، وَمُعَانَدَتِهِ، وَعُتُوِّهِ، وَتَمَرُّدِهِ، وَاسْتِمْرَارِهِ عَلَى الْبَاطِلِ، وَمُكَابَرَتِهِ الْحَقَّ الْوَاضِحَ الْجَلِيَّ الْحِسِّيَّ وَالْمَعْنَوِيَّ، وَالْبُرْهَانَ الْقَطْعِيَّ، فَقَالَ: {رَبَّنَا إِنَّكَ آتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُ} [يونس: 88] يَعْنِي: قَوْمَهُ مِنَ الْقِبْطِ، وَمَنْ كَانَ عَلَى مِلَّتِهِ، وَدَانَ بِدِينِهِ {زِينَةً وَأَمْوَالًا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِكَ} [يونس: 88]
পৃষ্ঠা - ৬২২
উপরোক্ত আয়াতে একটি বিরাট অতিশাপের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে ৷ আল্লাহ তড়াআলার
শত্রু ফিরআউনের বিপক্ষে মুসা (আ) আল্লাহ তড়াআলার আমার-গযব অবতীর্ণ হবার জন্যে
বদদুআ করলেন ৷ কেননা, সে সত্যের অনুসরণ ও আল্লাহ তাআলার সহজ সরল পথ থেকে
বিমুখ ও বিচ্যুত ছিল ৷ আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সৎ, সহজ-সরল পথের বিরোধিতা করত,
অসত্যকে আকডে ধরেছিল, ইশ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ এবং যুক্তিগ্রড়াহ্য দলীলাদি দ্বারা সুপ্রমাণিত
বাস্তবতাকে সে অস্বীকার, অগ্রাহ্য ও উপেক্ষা করত ৷ মুসা (আ) আরব করলেন, হে আমাদের
প্ৰতিপালক ! তুমি ফিরআউন, তার সম্প্রদায় কিবতী ও তার অনুসারী এবং তার ধর্মকর্মের
অনুগড়ামীদেরকে পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পদ প্রদান করেছ, তারা পার্থিব সম্পদকে অধিক
গুরুৎ দিয়ে থাকে এবং তারা অজ্ঞ তাই তাদের এসব সম্পদ, শোভা যথা দামী দামী
কাপড়-চােপড়, আরামপ্রদ সুন্দর সুন্দর যানবাহন, সুউচ্চ প্রাসাদ ও প্রশস্ত ঘরবাড়ি,
দেশী-বিদেশী সুপ্রসিদ্ধ খাবার-দাবার , শোভাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জনপ্রিয় রাজত্ব, প্রতিপত্তি ও
পার্থিব হীকডাক ইত্যাদি থাকাকে বিরাট কিছু মনে করে ৷
আয়াতে উল্লিখিত ,^গ্লু)ক্কুহুর্দু ঠো ,পু৬ ঞ ও আয়াতাৎণের অর্থ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ
ইবন আব্বাস (রা) ও মুজাহিদ (র) বলেন, আয়াতাংশে উল্লেখিত ণ্,৬৷ এর অর্থ ধ্বংস করে
দাও ৷ প্
আবুল আলীয়া (র), আর রাবী ইবন আনাস (র) ও যাহ্হাক (র) বলেন,এটার অর্থ
হচ্ছে-এগুলােকে, এদের আকৃতি যেভাবে রয়েছে ঠিক সেভাবে নকশা খচিত পাথরে পরিণত
করে দাও ৷ ’
কাতাদা (র) বলেন, এটার অর্থ সম্পর্কে আমাদের কাছে যে বর্ণনা পৌছেছে তা
হচ্ছে-তাদের ক্ষেত-খামার সব কিছুই পাথরে পরিণত হয়ে গিয়েছিল ৷ ’ মুহাম্মদ ইবন কাব
(র) বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে তাদের চিনি জাতীয় দ্ৰব্যাদি পাথরে পরিণত হয়ে গিয়েছিল ৷ তিনি
আরো বলেন, এটার অর্থ এও হতে পারে যে, তাদের সমুদয় সম্পদ পাথরে পরিণত হয়ে
গিয়েছিল ৷ ’ এ সম্পর্কে উমর ইবন আবদুল আযীয (র)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি তার
একটি দাসকে বললেন, আমার কাছে একটি থলে নিয়ে এস ৷ নির্দেশানুযায়ী সে একটি থলে
নিয়ে আসলে দেখা গেল থলের মধ্যকার ছোলা ও ডিমগুলাে পাথরে পরিণত হয়ে রয়েছে ৷
রর্ণনড়াটি ইবন আবুহড়াতিম (র)-এর ৷
আয়াতাংশ ( ^াৰুহুা৷ ৷ ঠুন্দু ৷ ,ষ্টু শুব্লুশু ৷ দ্বুৰুন্ষ্ট্রু ট্রু র্বুাট্রু১ ,^ৰু, ;ট্রুর্চুাক্ট্র শুপু£ ক্ট্রদ্বু টু১ ৷ দ্বু এর
তাফসীর প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) বলেন, এটার অর্থ হচ্ছে, তাদের অন্তরে মােহর
করে দাও ৷ আল্লাহ তড়াআলার প্রেরিত ধর্ম ও নিদর্শনাদিকে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায় কতুকি
অমান্য করার দরুন মুসা (আ) তাদের প্রতি আল্লাহ, তার নীল ও তার নিদর্শনাদির পক্ষে ক্রুন্ব
হয়ে যখন বদদুআ করলেন, অমনি আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন এবং আবার-দো
অবতীর্ণ করেন ৷
যেমন-নুহ (আ)-এর বদদুআ তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাঅল্যে fl!
করেছিলেন ৷ যখন তিনি বলেছিলেন : ন্ন্
أَيْ; وَهَذَا يَغْتَرُّ بِهِ مَنْ يُعَظِّمُ أَمْرَ الدُّنْيَا، فَيَحْسَبُ الْجَاهِلُ أَنَّهُمْ عَلَى شَيْءٍ; لِكَوْنِ هَذِهِ الْأَمْوَالِ، وَهَذِهِ الزِّينَةِ; مِنَ اللِّبَاسِ، وَالْمَرَاكِبِ الْحَسَنَةِ الْهَنِيَّةِ، وَالدُّورِ الْأَنِيقَةِ، وَالْقُصُورِ الْمَبْنِيَّةِ، وَالْمَآكِلِ الشَّهِيَّةِ، وَالْمَنَاظِرِ الْبَهِيَّةِ، وَالْمُلْكِ الْعَزِيزِ، وَالتَّمْكِينِ، وَالْجَاهِ الْعَرِيضِ، فِي الدُّنْيَا لَا الدِّينِ، {رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ} [يونس: 88] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمُجَاهِدٌ. أَيْ; أَهْلِكْهَا. وَقَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ، وَالرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ، وَالضَّحَّاكُ: اجْعَلْهَا حِجَارَةً مَنْقُوشَةً كَهَيْئَةِ مَا كَانَتْ. وَقَالَ قَتَادَةُ: بَلَغَنَا أَنَّ زُرُوعَهُمْ صَارَتْ حِجَارَةً. وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ: جَعَلَ سُكَّرَهُمْ حِجَارَةً. وَقَالَ أَيْضًا: صَارَتْ أَمْوَالُهُمْ كُلُّهَا حِجَارَةً. ذُكِرَ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لِغُلَامٍ لَهُ: ائْتِنِي بِكِيسٍ. فَجَاءَهُ بِكِيسٍ، فَإِذَا فِيهِ. . . . وَبَيْضٌ قَدْ قُطِّعَ، قَدْ حُوِّلَ حِجَارَةً. رَوَاهُ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ. وَقَوْلُهُ: {وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ} [يونس: 88] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَيِ; اطْبَعْ عَلَيْهَا. وَهَذِهِ دَعْوَةُ غَضَبٍ لِلَّهِ تَعَالَى وَلِدِينِهِ، وَلِبَرَاهِينِهِ، فَاسْتَجَابَ اللَّهُ تَعَالَى لَهَا، وَحَقَّقَهَا وَتَقَبَّلَهَا; كَمَا اسْتَجَابَ لِنُوحٍ فِي قَوْمِهِ، حَيْثُ قَالَ: {رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا - إِنَّكَ إِنْ تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا} [نوح: 26 - 27] وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى، مُخَاطِبًا لِمُوسَى حِينَ دَعَا عَلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ، وَأَمَّنَ أَخُوهُ هَارُونُ عَلَى دُعَائِهِ، فَنَزَلَ ذَلِكَ مَنْزِلَةَ الدَّاعِي أَيْضًا:
পৃষ্ঠা - ৬২৩
এর্দ্রা দ্বু; ৷টুাৰুওট্রু
“হে আমার প্রতিপালক ! পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকৈ অব্যাহতি দিও
না ৷ তুমি তাদেরকে অব্যাহতি দিলে তারা তোমার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করবে এবং জন্ম দিতে
থাকবে কেবল দৃকৃতকারী ও কাফির ৷
যখন মুসা (আ) ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের প্রতি অভিশাপ দিয়েছিলেন, তার ভাই হারুন
(আ) তার দু আর সমর্থনে আমীন’ বলেছিলেন এবং হারুন (আ) ও দু আ করেছেন বলে গণ্য
করা হয়েছিল, তাই আল্লাহ তা আলা ইরশাদ করেন ং
অর্থাৎ-“তোমাদের দুজনের দু আ কবুল হল ৷ সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং তোমরা কখনও
অজ্ঞদের পথ অনুসরণ করবে না ৷ ” (সুরা ইউনুস : ৮৯)
তাফসীরকা ৷রগণ এবং আহলি কিতাবের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বনী ইসরাঈল তাদের ঈদের
উৎসব পালনের উদ্দেশ্যে শহরের বাইরে যাবার জন্যে ফিরআউনের নিবল্ট অনুমতি প্রার্থনা
করলে ফিরআউন অনিচ্ছা সত্বেও তাদেরকে অনুমতি প্রদান করল ৷ তারা বের হবার জন্যে
প্রস্তুতি নিতে লাগল এবং পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেল ৷ প্রকৃত তপক্ষে এটা ছিল ফিরআউন ও তার
সম্প্রদায়ের সাথে বনী ইসরাঈলের একটি চালাকি মাত্র, যাতে তারা ফিরআউন ও তার
সম্প্রদায়ের অত্যাচার-অবিচার থেকে মুক্তি পেতে পারে ৷
কিবাভীরা আরো উল্লেখ করেছে যে, আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে কিবতীদের থেকে
স্বর্ণালং ৷র কর্জ নেয়ার জন্যে হুকুম দিয়েছিলেন; তাই তারা কিবতীদের থেকে বহু অলৎকারপত্র
কর্জ নিয়েছিল এবং রাতের অন্ধকারে তারা বের হয়ে পড়ল ও বিরামহীনভাবে অতি দ্রুত পথ
অতিক্রম করতে লাগল — যাতে তারা অনতিবিলন্বে সিরিয়ার অঞ্চলে পৌছতে পারে ৷ ফিরআউন
যখন তাদের মিসর ত্যাগের কথা জানতে পারল, সে তখন তাদের প্রতি ৩ক্রুদ্ধ হল এবং তাদের
বিরুদ্ধে তার রাগ চরম আকার ধারণ করল ৷ সে৩ তার সেনাবাহিনীকে প্ররােচিত করল এবং বনী
ইসরাঈলকে পাকড়াও করার ও তাদের সমুলে ধ্বংস করার জন্যে তাদের সমবেত করল ৷
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনং :
গ্লো ষ্টী গুওষ্ষ্টিৰ্ওস্ র্থাংএাপ্
;
০১
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম্ খল্গু২ণোঞ্জোঢিরু৪গাে০ওেয়ো
{قَالَ قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَانِّ سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [يونس: 89] قَالَ الْمُفَسِّرُونَ وَغَيْرُهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ: اسْتَأْذَنَ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِرْعَوْنَ، فِي الْخُرُوجِ إِلَى عِيدٍ لَهُمْ، فَأَذِنَ لَهُمْ وَهُوَ كَارِهٌ، وَلَكِنَّهُمْ تَجَهَّزُوا لِلْخُرُوجِ وَتَأَهَّبُوا لَهُ، وَإِنَّمَا كَانَ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ مَكِيدَةٌ بِفِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ; لِيَتَخَلَّصُوا مِنْهُمْ، وَيَخْرُجُوا عَنْهُمْ، وَأَمَرَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى - فِيمَا ذَكَرَهُ أَهْلُ الْكِتَابِ - أَنْ يَسْتَعِيرُوا حُلِيًّا مِنْهُمْ، فَأَعَارُوهُمْ شَيْئًا كَثِيرًا، فَخَرَجُوا بِلَيْلٍ فَسَارُوا مُسْتَمِرِّينَ ذَاهِبِينَ مِنْ فَوْرِهِمْ طَالِبِينَ بِلَادَ الشَّامِ، فَلَمَّا عَلِمَ بِذَهَابِهِمْ فِرْعَوْنُ، حَنِقَ عَلَيْهِمْ كُلَّ الْحَنَقِ، وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ عَلَيْهِمْ، وَشَرَعَ فِي اسْتِحْثَاثِ جَيْشِهِ، وَجَمْعِ جُنُودِهِ لِيَلْحَقَهُمْ، وَيَمْحَقَهُمْ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي إِنَّكُمْ مُتَّبَعُونَ - فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ - إِنَّ هَؤُلَاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ - وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ - وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ - فَأَخْرَجْنَاهُمْ مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ - كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ - فَأَتْبَعُوهُمْ مُشْرِقِينَ - فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَابُ مُوسَى إِنَّا لَمُدْرَكُونَ - قَالَ كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ - فَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ - وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِينَ - وَأَنْجَيْنَا مُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَجْمَعِينَ - ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ - إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ - وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ} [الشعراء: 52 - 68]
[الشُّعَرَاءِ: 52 - 68] . قَالَ عُلَمَاءُ التَّفْسِيرِ: لَمَّا رَكِبَ فِرْعَوْنُ فِي جُنُودِهِ، طَالِبًا بَنِي إِسْرَائِيلَ، يَقْفُو أَثَرَهُمْ، كَانَ فِي جَيْشٍ كَثِيفٍ عَرَمْرَمٍ،
পৃষ্ঠা - ৬২৪
,
০
ঢ
টু
ষ্টুহু
১
:fl ১১১শুএ ১র্ন্তএ ১; দ্বু ১ এ ১১১১১র্ষ
আমি মুসা (আ) এর প্রতি ওহী অবতীর্ণ করেছিলাম এই মর্মেং আমার বান্দাদেরকে নিয়ে
রাতের বেলা বের হয়ে পড়; তোমাদের তো পশ্চাদ্ধাবন করা হবে ৷ তারপর ফিরআউন শহরে
শহরে লোক সগ্রেহকারী পাঠাল এই বলে যে, এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল; ওরা তাে আমাদের
ক্রোধ উদ্রেক করেছে এবং আমরা তো সকলেই সদা সতর্ক ৷ পরিণামে আমি ফিরআউন
গােষ্ঠীকে বহিকৃত করলাম ওদের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ থেকে এবং ধনভাণ্ডার ও সুরম্য
সৌধমালা থেকে ৷ এরুপই ঘটেছিল এবং বনী ইসরাঈলকে এসবের অধিকারী করেছিলাম ৷ ওরা
সুর্যোদয়কালে তাদের পশ্চাতে এসে পড়ল ৷ অতঃপর যখন দৃদল পরস্পরকে দেখল, তখন
মুসার সঙ্গীরা বলল, আমরা তো ধরা পড়ে পেলাম ৷ মুসা বলল, কখনই নয় আমার সঙ্গে
আছেন আমার প্রতিপালক; সতু র তিনি আমাকে পথ-নির্দেশ করবেন ৷ তারপর মুসার প্রতি ওহী
করলাম, তোমার লাঠি৷ দ্ব ৷রা সমুদ্রে আঘাত কর, ফলে এটা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ বিশাল
পর্বতের মত হয়ে গেল ৷ আমি সেখানে উপনীত করলাম অপর দলটিকে এবং আমি উদ্ধার
করলাম মুসা ও তার সঙ্গী সকলকে ৷ তৎপর নিমজ্জিত করলাম অপর দলটিকে ৷ এতে অবশ্যই
নিদর্শন রয়েছে কিভু তাদের অধিকাৎশই মুমিন নয় ৷ তোমার প্রতিপালক তিনি তো
পরাক্রমশালী; পরম দয়ালু ৷ (সুরা শুআরা : ৫২-৮০) ৷
তাফসীরকারপণ বলেন, ফিরআউন যখন বনী ইসরাঈলকে পিছু যাওয়ার জন্যে সৈন্যসামন্ত
নিয়ে বের হল তখন তার সাথে ছিল একটি বিরাট সৈন্যদল ৷ এ সৈন্যদলের ব্যবহৃত ঘোড়ার
মধ্যে ছিল একলাখ উন্নতমানের কালো ঘোড়া এবং সৈন্য সংখ্যা ছিল সােল লাখের উঃর্ধ্ব ৷
প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত ৷
কেউ কেউ বলেন, শিশুদের সংখ্যা বাদ দিয়ে বনী ইসরাঈলের মধ্যেই ছিল প্রায় ছয় লাখ
যোদ্ধা ৷ মুসা (আ)-এর সাথে বনী ইসরাঈলের মিসর ত্যাগ ও তাদের আদি পিতা ইয়াকুব (আ)
বা ইসরাঈলের সাথে মিসর প্রবেশের মধ্যে ছিল ঢাকা ছাব্বিশ সৌর বছরের ব্যবধান ৷
মােদ্দা কথা, ফিরআউন সৈন্যসামন্ত নিয়ে বনী ইসরাঈলকে ধরার জন্যে অগ্রসর হল এবং
সুর্যোদয়ের সময়ে তারা পরস্পরের দেখা পেল ৷ তখন সামনাসামনি যুদ্ধ ছাড়া গতাত্তর ছিল না ৷
এ সময়ই মুসা (আ)-এর অনুসারিপণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বলতে লাগল, আমরা তাহলে ধরা পড়ে
গেলাম ৷ তাদের ভীত হবার কারণ হল, তাদের সম্মুখে ছিল উত্তাল সাগর ৷ সাগরে বাপিয়ে
পড়া ছাড়া তাদের আর কোন পথ বা গতি ছিল না ৷ আর সাগর পাড়ি দেয়ার শক্তিও ছিল না ৷
তাদের বাম পাশে ও ডান পাশে ছিল সুউচ্চ খাড়া পাহাড় ৷ ফিরআউন তাদেরকে একেবারে
আটকে ফেলেছিল ৷ মুসা (আ)-এর অনুসারীরা ফিরআউনকে তার দলবল ও বিশাল সৈন্যসামন্ত
সহকারে অবলোকন করছিল ৷ তারা ফিরআউনের ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়ছিল ৷ কেননা, তারা
ফিরআউনের রাজ্যে ফিরআউন কর্তৃক লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছিল ৷ সুতরাং তারা আল্লাহর
নবী মুসা (আ)-এর কাছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অনুযােগ করল ৷
حَتَّى قِيلَ: كَانَ فِي خُيُولِهِ مِائَةُ أَلْفِ فَحْلٍ أَدْهَمَ. وَكَانَتْ عِدَّةُ جُنُودِهِ تَزِيدُ عَلَى أَلْفِ أَلْفٍ، وَسِتِّمِائَةِ أَلْفٍ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقِيلَ: إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا نَحْوًا مِنْ سِتِّمِائَةِ أَلْفِ مُقَاتِلٍ غَيْرَ الذُّرِّيَّةِ، وَكَانَ بَيْنَ خُرُوجِهِمْ مِنْ مِصْرَ صُحْبَةَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَدُخُولِهِمْ إِلَيْهَا صُحْبَةَ أَبِيهِمْ إِسْرَائِيلَ، أَرْبَعُمِائَةِ سَنَةٍ وَسِتٍّ وَعِشْرِينَ سَنَةً شَمْسِيَّةً.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ فِرْعَوْنَ لَحِقَهُمْ بِالْجُنُودِ، فَأَدْرَكَهُمْ عِنْدَ شُرُوقِ الشَّمْسِ، وَتَرَاءَى الْجَمْعَانِ، وَلَمْ يَبْقَ ثَمَّ رَيْبٌ، وَلَا لَبْسٌ، وَعَايَنَ كُلٌّ مِنَ الْفَرِيقَيْنِ صَاحِبَهُ، وَتَحَقَّقَهُ وَرَآهُ، وَلَمْ يَبْقَ إِلَّا الْمُقَاتَلَةُ، وَالْمُجَاوَلَةُ، وَالْمُحَامَاةُ، فَعِنْدَهَا قَالَ أَصْحَابُ مُوسَى، وَهُمْ خَائِفُونَ: {إِنَّا لَمُدْرَكُونَ} [الشعراء: 61] وَذَلِكَ لِأَنَّهُمُ اضْطُرُّوا فِي طَرِيقِهِمْ إِلَى الْبَحْرِ، فَلَيْسَ لَهُمْ طَرِيقٌ وَلَا مَحِيدٌ إِلَّا سُلُوكُهُ وَخَوْضُهُ، وَهَذَا مَا لَا يَسْتَطِيعُهُ أَحَدٌ وَلَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ، وَالْجِبَالُ عَنْ يَسْرَتِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ، وَهِيَ شَاهِقَةٌ مُنِيفَةٌ، وَفِرْعَوْنُ قَدْ غَالَقَهُمْ وَوَاجَهَهُمْ، وَعَايَنُوهُ فِي جُنُودِهِ وَجُيُوشِهِ وَعَدَدِهِ وَعُدَدِهِ، وَهُمْ مِنْهُ فِي غَايَةِ الْخَوْفِ وَالذُّعْرِ، لِمَا قَاسَوْا فِي سُلْطَانِهِ مِنَ الْإِهَانَةِ وَالنُّكْرِ، فَشَكَوْا إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ مَا هُمْ فِيهِ، مِمَّا قَدْ شَاهَدُوهُ وَعَايَنُوهُ، فَقَالَ لَهُمُ الرَّسُولُ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ: {كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ} [الشعراء: 62] وَكَانَ فِي السَّاقَةِ، فَتَقَدَّمَ إِلَى الْمُقَدِّمَةِ، وَنَظَرَ إِلَى الْبَحْرِ، وَهُوَ يَتَلَاطَمُ بِأَمْوَاجِهِ، وَيَتَزَايَدُ زَبَدُ أُجَاجِهِ، وَهُوَ يَقُولُ: هَاهُنَا أُمِرْتُ. وَمَعَهُ أَخُوهُ هَارُونُ; وَيُوشَعُ بْنُ نُونٍ، وَهُوَ يَوْمَئِذٌ مِنْ سَادَاتِ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَعُلَمَائِهِمْ،
পৃষ্ঠা - ৬২৫
তখন আল্লাহর নবী মুসা (আ) তাদেরকে অভয় দিয়ে বললেন ও ,ট্রুন্হুদ্বু ,;হুছু ;, ৷
;,ঠুৰু;ট্রুশুপুপ্রুঅর্থাত্-কখনও না; নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রতিপালক রয়েছেন, তিনি
আমাকে পরিত্রাণের সঠিক পথ-নির্দোণ করবেন ৷’ মুসা (আ) তার অনুসারীদের পশ্চাৎভাগে
ছিলেন ৷ তিনি অগ্রসর হয়ে সকলের সম্মুখে গেলেন এবং সাগরের দিকে তাকালেন ৷ সাগরে
তখন উত্তাল তরঙ্গ ছিল ৷ তখন তিনি বলছিলেন : আমাকে এখানেই আসার জন্য নির্দেশ দেয়া
হয়েছে ৷ তার সাথে ছিলেন তার ভাই হারুন (আ) এবং ইউশা ইবন নুন যিনি বনী ইসরাঈলের
বিশিষ্ট নেতা, আলিম ও আবিদ ৷ মুসা (আ) ও হারুন (আ) এর পরে আল্লাহ তা আলা তার
কাছে ওহী প্রেরণ করেন ও তাকে নবুওত দান করেন ৷ পরবর্তীতে তার সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা
আসবে ৷ মুসা (আ) ও তার দলবলের সাথে ফিরআউন সম্প্রদায়ের মু মিন বান্দা ৷টিও ছিলেন ৷
তারা থমকে দাড়িয়েছিলেন আর গো টা বনী ইসরাঈল গোত্র তাদের ঘিরে দাড়িয়েছিল ৷ কথিত
আছে, ফিরআউন সম্প্রদায়ের মুমিন বান্দাটি ঘোড়া নিয়ে কয়েকবার সাগরে ঝাপ দেবার চেষ্টা
করেন কিন্তু তার পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠল না ৷ তাই তিনি মুসা (আ)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে
আল্লাহর নবী (আ) আমাদেরকে কি এখানেই আসার নির্দেশ দেয়৷ হয়েছে? মুসা (আ)
বললেন, হ্যা ৷ যখন ব্যাপারটি তুঙ্গে উঠল, অবস্থা সঙ্গীন হয়ে দাড়াল, ব্যাপারটি ভয়াবহ
আকার ধারণ করল; ফিরআউন ও তার গোষ্ঠী সশস্ত্র সৈন্য সড়ামস্ত নিয়ে ক্রোধভরে অতি
সন্নিকটে এসে পৌছাল; অবস্থা বেগতিক হয়ে র্দাড়াল; চক্ষু স্থির হয়ে গেল এবং প্রাণ ওষ্ঠাগত
হয়ে উঠল, তখন ধৈর্যশীল মহান শক্তিমান, আরশের মহান অধিপতি, প্রতিপালক আল্লাহ
তা জানা মুসা কালিমুল্লাহ (আ) এর কাছে ওহী প্রেরণ করলেনচ্ ¢fl ,ন্০ ৷ ;,া
,^;ন্ট্রু৷ অর্থাৎ নিজ লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত কর ৷ যখন তিনি লাগবে আঘাত করলেন, কর্থিত
আছে তিনি সাগরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, আল্লাহর হুকুমে বিভক্ত হয়ে যাও ৷’ যেমন আল্লাহ
তা আল৷ ইরশাদ করেন০
?
;দ্বু
é
াহ্র
অর্থাৎ-আমি মুসার প্রতি ওহী করলাম, আপন লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর, ফলে তা
বিভক্তহয়ে প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতের মত হয়ে গেল ৷ (সুরা শুঅড়ারা : ৬৩)
কথিত আছে, সমুদ্বটি বারটি খণ্ডে বা রাস্তায় বিভক্ত হয়েছিল ৷ প্রতিটি গোত্রের জন্যে একটি
করে রাস্তা হয়ে গেল, যাতে তারা নিজ নিজ নির্ধারিত রাস্তায় সহজে পথ চলতে পারে ৷ এ
রান্তাগুলোর মধ্যে জানালা ছিল বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন, যাতে তারা একদল
অন্যদলকে অনায়াসে রাস্তা চলার সময় দেখতে পড়ায় ৷ কিন্তু এই অভিমতটি শুদ্ধ নয় ৷ কেননা,
পানি যেহেতু স্বচ্ছ পদার্থ তাই তার পিছনে আলো থাকলে দৃষ্টি বাধাপ্রাপ্ত হয় না ৷ সুতরাং
একদল অন্যদলকে দেখার জন্যে জানালা থাকার প্রয়োজন হয় না ৷ যেই সত্তা কোন বস্তুকে সৃষ্টি
করতে ;,£ হয়ে যাও বললে সাথে সাথে তা হয়ে যায়, সেই সত্তার মহান কুদরতের কারণেই
সমুদ্রের পানি ছিল পর্বতের মত দণ্ডায়মান ৷ অতঃপর আল্লাহ তাআলা সমুদ্রে বিশেষ ধরনের
বায়ু প্রেরণ করেন যার ধাক্কায় পানি সরে রাস্তাগুলে৷ শুকিয়ে যায়, যাতে ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণীর
থুর না আটকিয়ে যায় ৷ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَعُبَّادِهِمُ الْكِبَارِ، وَقَدْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَهُ نَبِيًّا بَعْدَ مُوسَى وَهَارُونَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، كَمَا سَنَذْكُرُهُ فِيمَا بَعْدُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، وَمَعَهُمْ أَيْضًا مُؤْمِنُ آلِ فِرْعَوْنَ، وَهُمْ وُقُوفٌ، وَبَنُو إِسْرَائِيلَ بِكَمَالِهِمْ عَلَيْهِمْ عُكُوفٌ. وَيُقَالُ: إِنَّ مُؤْمِنَ آلِ فِرْعَوْنَ جَعَلَ يَقْتَحِمُ بِفَرَسِهِ مِرَارًا فِي الْبَحْرِ، هَلْ يُمْكِنُ سُلُوكُهُ؟ فَلَا يُمْكِنُ، وَيَقُولُ لِمُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَهَاهُنَا أُمِرْتَ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ. فَلَمَّا تَفَاقَمَ الْأَمْرُ، وَضَاقَ الْحَالُ وَاشْتَدَّ الْأَمْرُ، وَاقْتَرَبَ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ فِي جِدِّهِمْ، وَحَدِّهِمْ وَحَدِيدِهِمْ، وَغَضَبِهِمْ، وَحَنَقِهِمْ، وَزَاغَتِ الْأَبْصَارُ، وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ، فَعِنْدَ ذَلِكَ أَوْحَى الْحَلِيمُ الْعَظِيمُ الْقَدِيرُ، رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ إِلَى مُوسَى الْكَلِيمِ: {أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ} [الشعراء: 63] فَلَمَّا ضَرَبَهُ، يُقَالُ: إِنَّهُ قَالَ لَهُ: انْفَلِقْ بِإِذْنِ اللَّهِ. وَيُقَالُ: إِنَّهُ كَنَّاهُ بِأَبِي خَالِدٍ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ} [الشعراء: 63] وَيُقَالُ: إِنَّهُ انْفَلَقَ اثْنَيْ عَشْرَةَ طَرِيقًا، لِكُلِّ سِبْطٍ طَرِيقٌ يَسِيرُونَ فِيهِ، حَتَّى قِيلَ: إِنَّهُ صَارَ أَيْضًا شَبَابِيكَ; لِيَرَى بَعْضُهُمْ بَعْضًا. وَفِي هَذَا نَظَرٌ; لِأَنَّ الْمَاءَ جِرْمٌ شَفَّافٌ، إِذَا كَانَ مِنْ وَرَائِهِ ضِيَاءٌ حَكَاهُ. وَهَكَذَا كَانَ مَاءُ الْبَحْرِ قَائِمًا مِثْلَ الْجِبَالِ مَكْفُوفًا بِالْقُدْرَةِ الْعَظِيمَةِ الصَّادِرَةِ عَنِ الَّذِي يَقُولُ لِلشَّيْءِ: كُنْ. فَيَكُونُ. وَأَمَرَ اللَّهُ رِيحَ الدَّبُورِ فَلَفَحَتْ حَالَ الْبَحْرِ، فَأَذْهَبَتْهُ حَتَّى صَارَ يَابِسًا لَا يَعْلَقُ فِي سَنَابِكِ الْخُيُولِ وَالدَّوَابِّ.
পৃষ্ঠা - ৬২৬
ঞা এ
এে; ৷হুও< ’;§ র্বৃ;দ্বুৰু;;ঙু র্চুা£র্মুাদ্বু ন্ব্লু পু;দ্বুাপু স্পে ৷
অর্থাৎ“আমি অবশ্যই মুসা (আ) এর প্রতি প্র৩ ৷৷দেশ করেছিলাম এ মর্মে, আমার
বান্দা দেরকে নিয়ে রাতের বেলা বেরিয়ে পড় এবং তাদের জন্যে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে এক শুকনো
পথ নির্মাণ কর ৷ পশ্চাৎ হতে এসে তোমাকে ধরে ফেলা হবে এরুপ আশংকা করো না এবং
ভয়ও করো না ৷ অতঃপর ফিরআউন তার সৈন্য-সামন্তসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল, তারপর
সমুদ্র তাদেরকে সম্পুর্ণরুপে নিমজ্জিত করল আর ফিরআউন তার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিল
এবং সৎপথ দেখায়নি ৷ (সুরা তা-হ৷ : ৭ ৭ ৭৯) ৷
বন্তুত পরম পরাক্রমশালী সৃষ্টিকর্তা প্ৰতিপালকের আদেশে যখন সমুদ্রের অবস্থা এরুপ
ং দাড়াল বনী ইসরাঈলকে নিয়ে সমুদ্র পার হবার জন্যে মুসা (আ) ৫-ক নির্দেশ দেয়া হল তখন
তারা সকলে আ ৷নন্দচিত্তে অতি দ্রুত সমুদ্রে অবতরণ করেন ৷৩ তারা অবশ্য দৃষ্টি নিক্ষেপকারীদের
দৃষ্টি ঝলসিয়ে দেয় ও তাদের অবাক করে দেয় ৷ আর এরুপ দৃশ্য মুমিনদের অম্ভরসমুহকে
সঠিক পথের সন্ধান দেয় ৷ যখন তারা এরুপে সমুদ্র পার হবার জন্যে সমুদ্রে অবতরণ করেন,
নির্বিঘ্নে র্তারা সমুদ্র পার হলেন এবং তাদের শেষ সদস্যও সমুদ্র পার হলেন ৷ আর যখন তারা
সমুদ্র পার হলেন, ঠিক তখনই ফিরআউনের সৈন্য-সামস্তের প্রথমাংশ ও অ্যাগামীদল সমুদ্রের
কিনারায় পৌছাল ৷ তখন মুসা (আ) ইচ্ছে করেছিলেন যে, পুনরায় সমুদ্রে লাঠি দিয়ে আঘাত
করবেন যাতে সমুদ্রের অবস্থা পুর্ববৎ হয়ে যায় এবং ফিরআউনের দল তাদেরকে ধরতে না পারে
ও তাদের পৌছার কো ন বাহনই না থাকে ৷ কিন্তু আল্লাহ তাআলা সমুদ্রকে এ অবস্থায় ছেড়ে
দিতে মুসা (আ) কে নির্দেশ দিলেন ৷ যেমন আল্লাহ্৩ তা জানা ইরশাদ করেন :
৷ ;াপু৷ ৷
)
ট্রু-ঠু
?
^ণ্ব্লুন্ ৷ ১এে পু;াঢুগ্ণ্ ,শুঢু ট্রুন্র্দুন্দ্বুশুপুষ্ ন্প্রুর্চু ; দ্বু ১ ৷ ধ্র্দুদ্বু ৷;ম্ণ্ ১^দ্বুাপ্রুপু;া;ৰু
স্ক্ট১র্চু১ ট্রু)
?
াদ্বুৰু;এে এঠু ৷ §
)
১ট্রু;ট্রুপ্রু ওে
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِيقًا فِي الْبَحْرِ يَبَسًا لَا تَخَافُ دَرَكًا وَلَا تَخْشَى - فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُودِهِ فَغَشِيَهُمْ مِنَ الْيَمِّ مَا غَشِيَهُمْ - وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهُ وَمَا هَدَى} [طه: 77 - 79]
[طه: 77 - 79] . وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ لَمَّا آلَ أَمْرُ الْبَحْرِ إِلَى هَذِهِ الْحَالِ، بِإِذْنِ الرَّبِّ الْعَظِيمِ الشَّدِيدِ الْمِحَالِ، أُمِرَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَنْ يَجُوزَهُ بِبَنِي إِسْرَائِيلَ، فَانْحَدَرُوا فِيهِ مُسْرِعِينَ، مُسْتَبْشِرِينَ، مُبَادِرِينَ، وَقَدْ شَاهَدُوا مِنَ الْأَمْرِ الْعَظِيمِ مَا يُحَيِّرُ النَّاظِرِينَ، وَيَهْدِي قُلُوبَ الْمُؤْمِنِينَ، فَلَمَّا جَاوَزُوهُ، وَجَاوَزَهُ، وَخَرَجَ آخِرُهُمْ مِنْهُ، وَانْفَصَلُوا عَنْهُ، كَانَ ذَلِكَ عِنْدَ قُدُومِ أَوَّلِ جَيْشِ فِرْعَوْنَ إِلَيْهِ، وَوُفُودِهِمْ عَلَيْهِ، فَأَرَادَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَنْ يَضْرِبَ الْبَحْرَ بِعَصَاهُ لِيَرْجِعَ كَمَا كَانَ عَلَيْهِ; لِئَلَّا يَكُونَ لِفِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ وَصُولٌ إِلَيْهِ، وَلَا سَبِيلٌ عَلَيْهِ، فَأَمَرَهُ الْقَدِيرُ ذُو الْجَلَالِ، أَنَّ يَتْرُكَ الْبَحْرَ عَلَى هَذِهِ الْحَالِ، كَمَا قَالَ، وَهُوَ الصَّادِقُ فِي الْمَقَالِ.
{وَلَقَدْ فَتَنَّا قَبْلَهُمْ قَوْمَ فِرْعَوْنَ وَجَاءَهُمْ رَسُولٌ كَرِيمٌ - أَنْ أَدُّوا إِلَيَّ عِبَادَ اللَّهِ إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ - وَأَنْ لَا تَعْلُوا عَلَى اللَّهِ إِنِّي آتِيكُمْ بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ - وَإِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ أَنْ تَرْجُمُونِ - وَإِنْ لَمْ تُؤْمِنُوا لِي فَاعْتَزِلُونِ - فَدَعَا رَبَّهُ أَنَّ هَؤُلَاءِ قَوْمٌ مُجْرِمُونَ - فَأَسْرِ بِعِبَادِي لَيْلًا إِنَّكُمْ مُتَّبَعُونَ - وَاتْرُكِ الْبَحْرَ رَهْوًا إِنَّهُمْ جُنْدٌ مُغْرَقُونَ - كَمْ تَرَكُوا مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ - وَنِعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ - كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا آخَرِينَ - فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ - وَلَقَدْ نَجَّيْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنَ الْعَذَابِ الْمُهِينِ - مِنْ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ كَانَ عَالِيًا مِنَ الْمُسْرِفِينَ - وَلَقَدِ اخْتَرْنَاهُمْ عَلَى عِلْمٍ عَلَى الْعَالَمِينَ - وَآتَيْنَاهُمْ مِنَ الْآيَاتِ مَا فِيهِ بَلَاءٌ مُبِينٌ} [الدخان: 17 - 33]
[الدُّخَانِ: 17 - 33] .
পৃষ্ঠা - ৬২৭
অর্থাৎ তাদের পুর্বে আমি তো ফিরআউন সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের
নিকটও এসেছিল এক সম্মানিত রাসুল ৷ সে বলল, আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার নিকট প্রতদ্রর্পণ
কর ৷ আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসুল এবং তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ
করো না ৷ আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত করছি স্পষ্ট প্রমাণ ৷ তোমরা যাতে আমাকে
প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে না পার, সে জন্য আমি আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালকের
শরণ নিচ্ছি ৷ যদি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না কর, তবে তোমরা আমার নিকট
থেকে দুরে থাক ৷
তারপর মুসা তার প্রতিপালকের নিকট নিবেদন করল, এরা তো এক অপরাধী সম্প্রদায় ৷ ’
আমি বলেছিলাম, ভুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলা বের হয়ে পড়; তোমাদের
পশ্চাদ্ধাবন করা হবে ৷ সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, ওরা এমন এক বাহিনী যা নিমজ্জিত হবে ৷
ওরা পশ্চাতে রেখে গিয়েছিল কত উদ্যান ও প্ৰস্রবণ, কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদ, কত
বিলাস-উপকরণ, ওতে তারা আনন্দ পেভাে ৷ এরুপই ঘটেছিল এবং আমি এ সমুদয়ের
উত্তরাধিকারী করেছিলাম ভিন্ন সম্প্রদড়ায়কে ৷ আকাশ এবং পৃথিবী কেউই ওদের জন্যে অশ্রুপাত
করেনি এবং ওদেরকে অবকাশও দেয়া হয়নি ৷ আমি তো উদ্ধার করেছিলাম বনী ইসরাঈলকে
লাঞ্চুনাদায়ক শাস্তি হতে ফিরআউনের; সে তো ছিল পরাক্রান্ত সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ৷
আমি জেনে-শুনেই ওদেরকে বিশ্বে শ্রেষ্ঠতু দিয়েছিলাম এবং ওদেরকে দিয়েছিলাম
নিদর্শনাবলী-যাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা ৷ (সুরা দৃথান : ১ ৭-৩৩)
আয়াতাত্শ ৷ট্রুব্লুদ্বু র্চুর্মু ৰু৷ ! ৰুঠুহুাদ্বু এর অর্থ হচ্ছে সমুদ্রকে তার অবস্থায় স্থির থাকতে
দাও, তার ব্যতয়ে ঘটড়ায়াে না ৷ এ মতটি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা) , মুজাহিদ (র) , ইকরিমা
(র) , রাবী (ব) , যাহ্হাক (র) , কাতাদা (র) , কাব আল-আহবার (রা) , সেমাক ইবন হারব (র)
এবং আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন আসলাম (র) প্রমুখের ৷
সমুদ্রের সেই স্থিতারস্থায়ই ফিরআউন সমুদ্রের তীরে পৌছলো, সবকিছু (দখল এবং সমুদ্রের
আশ্চর্যজনক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করল ৷ আর পুরোপুরি বুঝতে পারল যেমন পুর্বেও বুঝত যে,
এটা মহাসম্মানিত আরশের মহান মালিক প্রতিপালকেরই কুদরতের লীলাখেলা ৷ সে থমকে
দীড়াল, সম্মুখে অগ্রসর হলো না এবং বনী ইসরাঈল ও মুসা (আ) কে পিছু ধাওয়া করার জন্যে
মনে মনে অনুতপ্ত হল, তবে এ অবস্থায় অনুতাপ যে তার কোন উপকারে আসবে না, যে তা
ভাল করে বুঝতে পারল ৷ তা সত্বেও সে তার সেনাবাহিনীর নিকট তার অটুট মনােবলের কথা
ও আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করল ৷ যে সম্প্রদায়কে সে হতবুদ্ধি করে দিয়েছিল, ফলে তারা তার
আনুগত্য স্বীকার করেছিল, বাবা তাকে বাতিলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা সত্বেও তার অনুসরণ
করেছিল নিজ কুফরীতে লিপ্ত ফাসিক ও ফাজির নাফসের প্ররােচনায় তাদেরকে উদ্দেশ করে সে
বলল, তোমরা একটু লক্ষ্য করে দেখ, সমুদ্র আমার জন্যে সরে গিয়ে কিরুপে পথ করে
দিয়েছে-যাতে আমি আমার ঐসব পলাতক দাসদেরকে ধরতে পারি-যারা আমার আনুগত্য
স্বীকার না করে আমার রাজতৃ থেকে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করছে ৷ মুখে এরুপ উচ্চবাচ্য
করলেও অম্ভার সে দ্বন্থের মধ্যে ছিল যে , সে কি তাদের পিছু ধাওয়া করবে, নাকি আত্মরক্ষার্থে
فَقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَاتْرُكِ الْبَحْرَ رَهْوًا} [الدخان: 24] أَيْ; سَاكِنًا عَلَى هَيْئَتِهِ، لَا تُغَيِّرْهُ عَنْ هَذِهِ الصِّفَةِ. قَالَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ، وَعِكْرِمَةُ، وَالرَّبِيعُ، وَالضَّحَّاكُ، وَقَتَادَةُ، وَكَعْبُ الْأَحْبَارِ، وَسِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، وَغَيْرُهُمْ. فَلَمَّا تَرَكَهُ عَلَى هَيْئَتِهِ وَحَالَتِهِ، وَانْتَهَى فِرْعَوْنُ، فَرَأَى مَا رَأَى، وَعَايَنَ مَا عَايَنَ، هَالَهُ هَذَا الْمَنْظَرُ الْعَظِيمُ وَتَحَقَّقَ مَا كَانَ يَتَحَقَّقُهُ قَبْلَ ذَلِكَ، مِنْ أَنَّ هَذَا مِنْ فِعْلِ رَبِّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ، فَأَحْجَمَ وَلَمْ يَتَقَدَّمْ، وَنَدِمَ فِي نَفْسِهِ عَلَى خُرُوجِهِ فِي طَلَبِهِمْ، وَالْحَالَةُ هَذِهِ، حَيْثُ لَا يَنْفَعُهُ النَّدَمُ، لَكِنَّهُ أَظْهَرَ لِجُنُودِهِ تَجَلُّدًا، وَعَامَلَهُمْ مُعَامَلَةَ الْعِدَا، وَحَمَلَتْهُ النَّفْسُ الْكَافِرَةُ وَالسَّجِيَّةُ الْفَاجِرَةُ، عَلَى أَنْ قَالَ لِمَنِ اسْتَخَفَّهُمْ فَأَطَاعُوهُ، وَعَلَى بَاطِلِهِ تَابَعُوهُ: انْظُرُوا كَيْفَ انْحَسَرَ الْبَحْرُ لِي; لِأُدْرِكَ عَبِيدِي الْآبِقِينَ مِنْ يَدِي، الْخَارِجِينَ عَنْ طَاعَتِي وَبَلَدِي؟ وَجَعَلَ يُورِي فِي نَفْسِهِ أَنْ يَذْهَبَ خَلْفَهُمْ، وَيَرْجُو أَنْ يَنْجُوَ وَهَيْهَاتَ، وَيُقْدِمُ تَارَةً، وَيُحْجِمُ تَارَاتٍ. فَذَكَرُوا أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، تَبَدَّى فِي صُورَةِ فَارِسٍ، رَاكِبٍ عَلَى رَمَكَةِ حَائِلٍ، فَمَرَّ بَيْنَ يَدَيْ فَحْلِ فِرْعَوْنَ، لَعَنَهُ اللَّهُ، فَحَمْحَمَ إِلَيْهَا، وَأَقْبَلَ عَلَيْهَا، وَأَسْرَعَ جِبْرِيلُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَاقْتَحَمَ الْبَحْرَ، وَاسْتَبَقَ الْجَوَادَ، وَقَدْ أَجَادَ فَبَادَرَ مُسْرِعًا، هَذَا وَفِرْعَوْنُ لَا يَمْلِكُ
পৃষ্ঠা - ৬২৮
পিছু হটে যাবে? হয়ে! তার হটে যাবার কোন উপায় ছিল না, সে এক কদম সামনে অগ্রসর
হলে কয়েক কদম পিছু হটবার চেষ্টা করছিল ৷
তাফসীরকারগণ উল্লেখ করেন, এরুপ অবস্থায় জিবরাঈল (আ) একটি আকর্ষণীয় ঘোটকীর
উপর সওয়ার হয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং ফিরআউন যে ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিল তার
সম্মুখ দিয়ে সমুদ্রের দিকে ঘোটকীটি অগ্রসর হল ৷ তার ঘোড়াঢি ঘোটকীর প্রতি আকৃষ্ট হল এবং
ঘোড়াঢি ঘোটকীর পিছু পিছু ছুটতে লাগল ৷ জিবরাঈল (আ) দ্রুত তার সামনে গেলেন এবং
সমুদ্রে ঝাপ দিলেন ৷ ঘোড়া ও মাদী ঘোড়াঢি ছুটতে লাগল ৷ ঘোড়াঢি সামনের দিকে দ্রুত
অগ্রসর হতে লাগল ৷ ঘোড়ার উপর ফিরআউনের আর নিয়ন্ত্রণ রইল না ৷ ফিরআউন তার
তাল-মন্দ কিছুই চিন্তা করতে সক্ষম ছিল না ৷ সেনাবাহিনী যখন ফিরআউনকে দ্রুত সামনের
দিকে অগ্রসর হতে দেখল, তারাও অতি দ্রুত তার পিছনে সমুদ্রে ঝাপ দিল ৷ যখন তারা
সকলেই পরিপুংতািবে সমুদ্রে ঢুকে গেল এবং সেনাবাহিনীর প্রথম ভাগ সমুদ্র থেকে বের হবার
উপক্রম হল আল্লাহ তাআলা মুসা (আ)-কে আদেশ করলেন; তিনি যেন তার লাঠি দিয়ে
পুনরায় সমুদ্রে আঘাত করেন ৷ তিনি সুমদ্রে আঘাত করলেন ৷ তখন সমুদ্র পুর্বের আকার ধারণ
করে ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনীর মাথার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলো ৷ ফলে তাদের কেউই
আর রক্ষা গেল না, সকলেই ডুবে মরল ৷ আল্পাহ্ তাআলা বলেন :
()ৰুহ্র মোঃ
অর্থাৎ এবং আমি উদ্ধার করলাম মুসা ও তার সঙ্গী সকলকে ৷ তারপর নিমজ্জিত করলাম
অপর দলটিকে ৷ এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে কিন্তু তাদের অধিকাৎশই মু’মিন নয় ৷ তোমার
প্রতিপালক তিনি তাে পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু ৷ (সুরা শুআরা : ৬৫৬৮ )
অর্থাৎ তিনি তার পছন্দনীয় মুমিন বড়ান্দাদের উদ্ধারের ব্যাপারে পরাক্রমশালী ৷ তাই তাদের
একজনও ডুবে মার৷ যাননি ৷ পক্ষান্তরে তার দৃশমনদেরকে ডুবিয়ে মারার ব্যাপারেও তিনি
পরাক্রমশালী ৷ তাই তাদের কেউই রক্ষা পায়নি ৷ এতে রয়েছে আল্লাহ তাআলার অসীম
কুদরতের একটি মহা নিদর্শন ও প্রকৃষ্ট প্রমাণ ৷ আবার অন্যদিকে রাসুল (না) যে মহান শরীয়ত
ও সরল-সঠিক তরীকড়া নিয়ে আবির্ভুত হয়েছেন, তার সভ্যতার জ্বলম্ভ প্রমাণও বটে ৷
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ;;
এএ্হৃা;এ৷ ধ্;;ন্হ্নন্ এে১ওএেন্ও
া
ৰুণ্
া
مِنْ نَفْسِهِ وَلَا لِنَفْسِهِ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا، فَلَمَّا رَأَتْهُ الْجُنُودُ قَدْ سَلَكَ الْبَحْرَ، اقْتَحَمُوا وَرَاءَهُ مُسْرِعِينَ، فَحَصَلُوا فِي الْبَحْرِ أَجْمَعِينَ أَكْتَعِينَ أَبْصَعِينَ، حَتَّى هَمَّ أَوَّلُهُمْ بِالْخُرُوجِ مِنْهُ، فَعِنْدَ ذَلِكَ، أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى كَلِيمَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا أَوْحَاهُ إِلَيْهِ، أَنْ يَضْرِبَ الْبَحْرَ بِعَصَاهُ، فَضَرَبَهُ، فَارْتَطَمَ عَلَيْهِمُ الْبَحْرُ كَمَا كَانَ، فَلَمْ يَنْجُ مِنْهُمْ إِنْسَانٌ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَأَنْجَيْنَا مُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَجْمَعِينَ - ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ - إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ - وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ} [الشعراء: 65 - 68] أَيْ فِي إِنْجَائِهِ أَوْلِيَاءَهُ فَلَمْ يَغْرَقْ مِنْهُمْ أَحَدٌ، وَإِغْرَاقِهِ أَعْدَاءَهُ، فَلَمْ يَخْلُصْ مِنْهُمْ أَحَدٌ، آيَةٌ عَظِيمَةٌ، وَبُرْهَانٌ قَاطِعٌ عَلَى قُدْرَتِهِ تَعَالَى الْعَظِيمَةِ، وَصِدْقِ رَسُولِهِ فِيمَا جَاءَ بِهِ عَنْ رَبِّهِ مِنَ الشَّرِيعَةِ الْكَرِيمَةِ، وَالْمَنَاهِجِ الْمُسْتَقِيمَةِ.
وَقَالَ تَعَالَى: {وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْوًا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ - فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ} [يونس: 90 - 92]
[يُونُسَ: 90 - 92] . يُخْبِرُ تَعَالَى، عَنْ كَيْفِيَّةِ غَرَقِ فِرْعَوْنَ، زَعِيمِ كَفَرَةِ الْقِبْطِ، وَأَنَّهُ لَمَّا جَعَلَتِ الْأَمْوَاجُ تَخْفِضُهُ تَارَةً، وَتَرْفَعُهُ أُخْرَى، وَبَنُو إِسْرَائِيلَ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ، وَإِلَى جُنُودِهِ، مَاذَا أَحَلَّ اللَّهُ بِهِ وَبِهِمْ مِنَ الْبَأْسِ الْعَظِيمِ وَالْخَطْبِ الْجَسِيمِ، لِيَكُونَ أَقَرَّ لِأَعْيُنِ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَأَشْفَى لِنُفُوسِهِمْ، فَلَمَّا عَايَنَ فِرْعَوْنُ الْهَلَكَةَ وَأُحِيطَ بِهِ، وَبَاشَرَ سَكَرَاتِ
পৃষ্ঠা - ৬২৯
অর্থাৎ-আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করলাম; এবং ফিরআউন ও তার সৈন্যবাহি নী
ঔদ্ধতাসহকারে সীমালংঘন করেত তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল ৷ পরিশেষে যখন সে নিমজ্জমান হল
তখন বলল, অমি বিশ্বাস করলাম বনী ইসরাঈল যাতে বিশ্বাস করে ৷ নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত অন্য
কোন ইলাহ নেই এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ৷ এখন ! ইতিপুর্বে তো তুমি অমান্য
করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে ৷ আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব
যাতে তুমি ওে ৷মার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক ৷ অবশ্যই মানুষের মধ্যে অনেকে
আমার নিদর্শন সম্বন্ধে গাফিল ৷ (সুরা ইউনুসং ; ৯০-৯২)
অন্য কথায়, অত্র আয়াতে আল্লাহ্ তাআল৷ কিবতী কাফিরদের প্রধান ফিরআউনের ডুবে
মরার বিবরণ দেন ৷ উত্তাল তরঙ্গ যখন তাকে একবার উপরের দিকে উঠাচ্ছিল এবং অন্যবার
নিচের দিকে নামাচ্ছিল এবং ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনী কিরুপ মহাসংক কট ও দুর্ভেদ্য
মুসীবতে পতিত হয়েছিল তা বনী ইসরা ঈলরা দাড়িয়ে দাড়িয়ে প্ৰ৩ তাক্ষ করছিল যা তাদের চোখ
জুড়াচ্ছিল ও হৃদয়ের জ্বালা প্রশমিত করছিল ৷ ফিরাউন যখন নিজের ধ্বংস প্রত্যক্ষ করল; যে
কোণঠাসা হয়ে পড়ল এবং তার মৃত্যুযস্ত্রণ৷ শুরু হয়ে গেল তখন সে বিনম্র হল; তওবা করল
এবং এমন সময় ঈমান আনয়ন করল, যখন তার ঈমান কারো উপকারে আসে না ৷
যেমন আল্লাহ্ তাআ ৷লা ইরশাদ করেন :
স্পো
ন্র্যো^৷ র্বৃ;ার্দুপুধ্৷ ৷ ৷দ্বুদ্বু;র্তৃ
অর্থাৎ-যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে তারা ঈমান
আনবে না যদি তাদের নিকট প্রত্যেকটি নিদশ্নি আসে যতক্ষণ না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ
করবে ৷ (সুরা ইউনুস : ৯৬-৯ ৭)
আল্লাহ্ তাআলা এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ করেছেন :
ব্লু
নৌ
৷ ’
অর্থাৎ-তারপর তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন বলল, আমরা এক আল্পাহ্তে
ঈমান আনলাম এবং আমরা তার সাথে যাদেরকে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান
করলাম ৷ ওরা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন ওদের ঈমান ওদের কোন উপকারে
আসল না ৷ আল্লাহ্র এই বিধান পুর্ব থেকেই তার বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং এ ক্ষেত্রে
কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৷ (সুরা মুমিন : ৮৪ ৮৫)
অনুরুপ মুসা (আ) ফিরাউন ও তার গোষ্ঠীর ব্যাপারে বদ দুআ করেছিলেন, যাতে আল্লাহ্
তাআলা তাদের সম্পদ ধ্বংস করে দেন এবং তাদের অম্ভরে আল্লাহ্ তাআলা মােহর মেরে
الْمَوْتِ، أَنَابَ حِينَئِذٍ وَتَابَ، وَآمَنَ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا; كَمَا قَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ - وَلَوْ جَاءَتْهُمْ كُلُّ آيَةٍ حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ} [يونس: 96 - 97]
[يُونُسَ: 96، 97] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ - فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} [غافر: 84 - 85]
[غَافِرٍ: 84، 85] .
وَهَكَذَا دَعَا مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ، أَنْ يُطْمَسَ عَلَى أَمْوَالِهِمْ، وَيُشْدَدَ عَلَى قُلُوبِهِمْ، {فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ} [يونس: 88] أَيْ; حِينَ لَا يَنْفَعُهُمْ ذَلِكَ، وَيَكُونُ حَسْرَةً عَلَيْهِمْ، وَقَدْ قَالَ تَعَالَى لَهُمَا; أَيْ لِمُوسَى وَهَارُونَ، حِينَ دَعَوْا بِهَذَا: {قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا} [يونس: 89] فَهَذَا مِنْ إِجَابَةِ اللَّهِ تَعَالَى دَعْوَةَ كَلِيمِهِ وَأَخِيهِ هَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ.
وَمِنْ ذَلِكَ، الْحَدِيثُ الَّذِي رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَمَّا قَالَ فِرْعَوْنُ: آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالَ: قَالَ لِي جِبْرِيلُ: لَوْ رَأَيْتَنِي وَقَدْ أَخَذْتُ مِنْ حَالِ الْبَحْرِ فَدَسَسْتُهُ فِي فِيهِ مَخَافَةَ أَنْ تَنَالَهُ الرَّحْمَةُ» وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، وَابْنُ جَرِيرٍ، وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، عِنْدَ هَذِهِ الْآيَةِ، مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ.
পৃষ্ঠা - ৬৩০
দেন, যাতে তারা মর্মত্তুদ শান্তি প্রত্যক্ষ করার পুর্বে ঈমান না আনতে পারে ৷ অর্থাৎ তখন তাদের
ঈমান তাদের কোন কাজে আসবে না আর এটা হবে তাদের জন্যে আক্ষেপের কারণ ৷ মুসা
(আ) ও হারুন (আ) যখন এরুপ বদ দুঅ৷ করছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ
করলেনং : — ৷;ঙ্
অর্থড়াৎ তােমাদের দুজনের দুআ কবুল হল ৷’ এ প্রসঙ্গে নিম্নে বর্ণিত হাদীসটি
প্রগিধানযোগ্য ৷ ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি
বলেন, রাসুলুল্পাহ (সা) ইরশাদ করেছেন ফিরআউনের উক্তিং
“আমি বিশ্বাস করলাম বনী ইসরা ঈল যাতে বিশ্বাস করে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত অন্য কোন
ইলাহ নেই ৷ ” (সুরা ইউনুস : ৯০)
এ প্রসঙ্গে জিবরাঈল আমাকে বললেন, (হে রাসুল!) ঐ সময়ের অবস্থা যদি আপনি
দেখতেন! সমুদ্রের তলদেশ থেকে কাদা নিয়ে তার মুখে পুরে দিলাম, পাছে সে আল্লাহ
তা জানার রহমত না পেয়ে যায় ৷ এই আয়াতে র ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইমাম তিরমিযী (র) ইবন
জারীর (র) ও ইবন আবুহাতিম (র) প্রমুখ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ তিরমিযী (র) হাদীসটি
হাসান পর্যায়ের বলে মত প্রকাশ করেছেন ৷ আবু দাউদ তাবলিসী (র)ও অনুরুপ হাদীস বর্ণনা
করেছেন ৷ ইবন আবুহাতিম (র) ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷
আল্লাহ্ তাআলা যখন ফিরআউনকে ডুবিয়ে দিলেন, তখন সে তার আঙ্গুল দ্বারা ইশারা
করল এবং উট্চ্চক্কস্বরে বলল :
এ্যা
রাসুল (সা) বলেন, জিবরাঈল (আ) তখন আশঙ্কা করছিলেন যে, আল্লাহ্ তাআলার
রহমত আল্লাহ তাআলার গযবের উপর প্রাধান্য না পেয়ে যায় ৷ তিনি তখন তার পাখা দ্বারা
কাল মাটি তুলে ফিরআ উনের মুখে ছুড়ে মারল যাতে করে তার মুখ ঢাকা পড়ে যায় ৷
ইবন জারীর (র) অন্য এক সুত্রে আবু হুরায়র৷ (রা) থেকে এ মর্মের হাদীস বর্ণনা
করেছেন ৷ ইব্রাহীম তায়মী (র), কাতাদা (র), মাইমুন ইবন মিহরান (র) প্রমুখ হাদীসটি
মুরসালরুপে বর্ণনা করেছেন ৷
কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, জিবরাঈল (আ) বলেছেন, আমি ফিরআউনের মত অন্য
কাউকে এত বেশি ঘৃণা করি নাই যখন সে বলেছিল প্লে;ৰুন্ ন্কুপুর্চু ঠো অর্থাৎ আমিই
তোমাদের শ্রেষ্ঠতম প্রতিপালক ৷ ’
আয়াতা শে উল্লেখিত প্রশ্নটি
অস্বীকৃতি বোঝাবার জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে ৷ আর আল্লাহ তা জানা যে তার ঈমান কবুল
করেননি এটি তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ ৷ কেননা, আল্লাহ্ তাআলা জানতেন যে, যদি তাকে পুনরায়
وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ وَعَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ لِي جِبْرِيلُ: لَوْ رَأَيْتَنِي وَأَنَا آخِذٌ مِنْ حَالِ الْبَحْرِ فَأَدُسُّهُ فِي فَمِ فِرْعَوْنَ; مَخَافَةَ أَنْ تُدْرِكَهُ الرَّحْمَةُ» وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ جَرِيرٍ، مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ، وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ. وَأَشَارَ ابْنُ جَرِيرٍ فِي رِوَايَةٍ إِلَى وَقْفِهِ.
وَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْلَى الثَّقَفِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا أَغْرَقَ اللَّهُ فِرْعَوْنَ أَشَارَ بِإِصْبَعِهِ وَرَفَعَ صَوْتَهُ: {آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ} [يونس: 90] قَالَ: فَخَافَ جِبْرِيلُ أَنْ تَسْبِقَ رَحْمَةُ اللَّهِ فِيهِ غَضَبَهُ، فَجَعَلَ يَأْخُذُ الْحَالَ بِجَنَاحَيْهِ، فَيَضْرِبُ بِهِ وَجْهَهُ فَيَرْمُسُهُ. وَرَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ، مِنْ حَدِيثِ أَبِي خَالِدٍ بِهِ. وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ مِنْ طَرِيقِ كَثِيرِ بْنِ زَاذَانَ، وَلَيْسَ بِمَعْرُوفٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ لِي جِبْرِيلُ: يَا مُحَمَّدُ، لَوْ رَأَيْتَنِي، وَأَنَا أُغَطُّهُ، وَأَدُسُّ مِنَ الْحَالِ فِي فِيهِ، مَخَافَةَ أَنْ تُدْرِكَهُ رَحْمَةُ; اللَّهِ فَيَغْفِرَ لَهُ» يَعْنِي
পৃষ্ঠা - ৬৩১
দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হত তাহলে সে পুনরায় পুর্বের ন্যায় আচরণ করত ৷ যেমন আল্লাহ
তাআলা অন্যান্য কাফিরের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, যখন তারা জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করবে
তখন বলে উঠবেং :
াট্রু,ক্ট্রওট্রু ১৷ এে,; ,পু,
“তুমি যদি দেখতে পেতে যখন তাদেরকে আগুনের পার্থেড়া দা ড় করানো হবে এবং তারা
বলবে, হায় ! যদি আমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটত তবে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনকে
অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম ৷” (সুরা আন্অড়াম : ২৭)
জবাবে আল্লাহ তাআলা বলবেন০ ং
“না, পুর্বে তারা যা গোপন করত তা এখন তাদের নিকট প্রকাশ পেয়েছে এবং তারা
প্রত্যাবর্তিত হলেও যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল পুনরায় তারা তাই করত এবং
নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী ৷” (সুরা আনৃআম : ২৮)
আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা) প্রমুখ মুফাসৃসির বর্ণনা করেছেন যে, বনী ইসরাঈলের কেউ
কেউ ফিরআউনের মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছিল এবং তারা বলেছিল, ফিরআউন
কখনও মরবে না; এ জন্য আল্লাহ্ তাআলা সমুদ্রকে নির্দেশ দেন, যাতে ফিরআউনকে কোন
একটি উচু জায়গায় নিক্ষেপ করে ৷ কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ পানির উপরে ৷ আবার কেউ
কেউ বলেন, মাটির একটি ঢিৰির উপরে ৷ তার পায়ে ছিল তার বর্ম যা ছিল সুপরিচিত যাতে
ফিরআউনের লাশ বলে বনী ইসরাঈল সহজে শনাক্ত করতে পারে, আল্লাহ্ তাআলার
কুদরতের পরিচয় পেতে পারে ৷
’
এজন্যই আল্লাহ বলেন
অর্থাৎ-আজ আমি তোমার দেহটা রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্যে
নিদর্শন হয়ে থাক ৷’ তোমার পরিচিত বর্মসহ তোমাকে রক্ষা করব যাতে তুমি বনী ইসরাঈলের
কাছে শক্তিমান আল্লাহ্ তাআলার কুদরতের একটি নিদর্শন হয়ে থাক ৷ ’ এ জন্যই কেউ কেউ
আয়াতাৎশটিকে নিম্নরুপ পাঠ করেছেন অর্থাৎ-যড়াতে তুমি
তোমার সৃষ্টিকর্তার একটি নিদর্শন হয়ে থাক ৷ আয়াতা শের অর্থ নিম্নরুপও হতে পারে ৷
তােমাকে রক্ষা করেছি তোমার বর্মসহ যাতে তোমার বর্ম তোমার পরবর্তী বনী ইসরাঈলের
জন্যে তোমাকে চেনার ব্যাপারে এবং তোমার ধ্বংসের ব্যাপারে একটি প্রতীক হিসেবে গণ্য
হয় ৷ ’ কোন অর্থটি সঠিক, আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত ৷ ফিরআউন ও তার সৈনাবাহিনী আশুরার দিন
ৎস হয়েছিল ৷
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১য খমোঃণোশুর্কুব্লুড্রিন্তোশুন্^া০চ্০গ্ন্
فِرْعَوْنَ. وَقَدْ أَرْسَلَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ السَّلَفِ; كَإِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، وَقَتَادَةَ، وَمَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، وَيُقَالُ إِنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ قَيْسٍ خَطَبَ بِهِ النَّاسَ. وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ: «إِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ: مَا بَغَضْتُ أَحَدًا بُغْضِي لِفِرْعَوْنَ، حِينَ قَالَ: أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى. وَلَقَدْ جَعَلْتُ أَدُسُّ فِي فِيهِ الطِّينَ حِينَ قَالَ مَا قَالَ» وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} [يونس: 91] اسْتِفْهَامُ إِنْكَارٍ، وَنَصٌّ عَلَى عَدَمِ قَبُولِهِ تَعَالَى مِنْهُ; ذَلِكَ لِأَنَّهُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، لَوْ رُدَّ إِلَى الدُّنْيَا كَمَا كَانَ، لَعَادَ إِلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ، كَمَا أَخْبَرَ تَعَالَى عَنِ الْكُفَّارِ، إِذَا عَايَنُوا النَّارَ وَشَاهَدُوهَا، أَنَّهُمْ يَقُولُونَ: {يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} [الأنعام: 27] . قَالَ اللَّهُ: {بَلْ بَدَا لَهُمْ مَا كَانُوا يُخْفُونَ مِنْ قَبْلُ وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} [الأنعام: 28] . وَقَوْلُهُ: {فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً} [يونس: 92] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ: شَكَّ بَعْضُ بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي مَوْتِ فِرْعَوْنَ، حَتَّى قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّهُ لَا يَمُوتُ. فَأَمَرَ اللَّهُ الْبَحْرَ، فَرَفَعَهُ عَلَى مُرْتَفَعٍ - قِيلَ: عَلَى وَجْهِ الْمَاءِ. وَقِيلَ: عَلَى نَجْوَةٍ مِنَ الْأَرْضِ - وَعَلَيْهِ دِرْعُهُ الَّتِي يَعْرِفُونَهَا مِنْ مَلَابِسِهِ; لِيَتَحَقَّقُوا بِذَلِكَ هَلَاكَهُ، وَيَعْلَمُوا قُدْرَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ; وَلِهَذَا قَالَ: {فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ} [يونس: 92] أَيْ; مُصَاحِبًا دِرْعَكَ الْمَعْرُوفَةَ بِكَ لِتَكُونَ أَيْ; أَنْتَ آيَةً {لِمَنْ خَلْفَكَ} [يونس: 92] أَيْ; مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، دَلِيلًا عَلَى قُدْرَةِ اللَّهِ الَّذِي أَهْلَكَهُ. وَلِهَذَا قَرَأَ بَعْضُ السَّلَفِ: (لِتَكُونَ لِمَنْ خَلَقَكَ آيَةً) . وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ: نُنَجِّيكَ مُصَاحِبًا دِرْعَكَ; لِيَكُونَ دِرْعُكَ عَلَامَةً لِمَنْ
পৃষ্ঠা - ৬৩২
ইমাম বৃখারী (র) তার কিতাব সহীহ বুখারী শরীফে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা ) সুত্রে
একটি হাদীস বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন, রাসুলুল্পাহ (সা) মদীনা শরীফ আগমন করলে
দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিন সিয়াম পালন করে থাকে ৷ (কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে) তারা
বলল, এটা এমন একটি দিন যেদিনে ফিরআউনের বিরুদ্ধে মুসা (আ)এৱ বিজয় সুচিত
হয়েছিল ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন : — ৷প্রুপ্রু১ স্পো প্রুন্ ,;;ৰু ৰুপ্রু;৷ ণ্; ৷
অর্থাৎ মুসা (আ) সস্খার্ক বনী ইসরাঈল থেকে তোমরা (ঘৃসলমানরা) বেশি হকদার ৷
কাজেই ণ্তামরা ঐ দিন সিয়াম পালন কর ৷ বুখারী ও মুসলিম শরীফ ব্যতীত অন্যান্য হাদীস
গ্রন্থেও এ মর্মের হাদীসটি পাওয়া যায় ৷
দ্যোদ্যো :০য়ো
وَرَاءَكَ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، عَلَى مَعْرِفَتِكَ، وَأَنَّكَ هَلَكْتَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ. وَقَدْ كَانَ هَلَاكُهُ وَجُنُودِهِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ.
كَمَا قَالَ الْإِمَامُ الْبُخَارِيُّ فِي " صَحِيحِهِ ": حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَالْيَهُودُ تَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَقَالُوا: هَذَا يَوْمٌ ظَهَرَ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتُمْ أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْهُمْ فَصُومُوا» وَأَصْلُ هَذَا الْحَدِيثِ فِي " الصَّحِيحَيْنِ " وَغَيْرِهِمَا. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
পৃষ্ঠা - ৬৩৩
ফিরআউনের ধ্বংস্যেত্তর যুগে রনী ইসরাঈলের অবস্থা
আল্লাহ তা জানার বাণী প্
এ১,১৷ ৷
৷ ঢুপ্ন্,র্চুঙুপুট্রুঠু
া
%;$ ;’$§ fl&; দ্বুর্চুা৷ন্র্টুপু র্চুহ্র ঞ ৷ “ ’ “ এ;;াপু,পুপু“রুদ্বুর্ভু-াট্রুএাপুও ণ্ট্রুর্দু ৰুঢ়টুর্ধা
ষ্এ ৷ ৷
সুতরাং আমি তাদেরকে শান্তি দিয়েছি এবং তাদেরকে অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত করেছি ৷
কারণ তারা আমার নিদনিকে অস্বীকার করত এবং এ সম্বন্ধে তারা ছিল গাফিল ৷ যে
সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হত তাদেরকে আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্যের পুর্ব ও পশ্চিমের
অধিকারী করি; এবং বনী ইসরাঈল সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালকের শুভবাণী সত্যে পরিণত হল ৷
যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল, আর ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের শিল্প এবং যে সব প্রাসাদ
তারা নির্মাণ করেছিল তা ধ্বংস করেছি ৷ আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পড়ার করিয়ে দেই;
তারপর তারা প্ৰতিমাপুজায় রত এক সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হয় ৷ তারা বলল, হে মুসা !
তাদের দেবতার মত আমাদের জন্যও একটি দেবতা গড়ে দাও; যে বলল, তোমরা তো এক
মুর্থ সম্প্রদায় ৷ এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তা তো বিধ্বস্ত হবে এবং তারা বা করছে তাও
অমুলক ৷ সে আবারো বলল, আল্পাহ্ ব্যতীত তোমাদের জন্য আমি কি অন্য ইলাহ্ খুজব অথচ
তিনি তােমাদেরকে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠতু দিয়েছেন? স্মরণ কর, আমি তােমাদেরকে
ফিরআউনের অনুসারীদের হাত হতে উদ্ধার করেছি, যারা তােমাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিত ৷
[فَصْلٌ فِيمَا كَانَ مِنْ أَمْرِ بَنِي إِسْرَائِيلَ بَعْدَ هَلَاكِ فِرْعَوْنَ]
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ - وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ - وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ - إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ - قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَهًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ - وَإِذْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُقَتِّلُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَلِكُمْ بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَظِيمٌ} [الأعراف: 136 - 141]
[الْأَعْرَافِ: 136 - 141] . يَذْكُرُ تَعَالَى مَا كَانَ مِنْ أَمْرِ فِرْعَوْنَ وَجُنُودِهِ، فِي غَرَقِهِمْ، وَكَيْفَ سَلَبَهُمْ عِزَّهُمْ، وَمَالَهُمْ، وَأَنْفُسَهُمْ، وَأَوْرَثَ بَنِي إِسْرَائِيلَ جَمِيعَ أَمْوَالِهِمْ وَأَمْلَاكِهِمْ، كَمَا قَالَ: {كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الشعراء: 59] . وَقَالَ: {وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ} [القصص: 5] .
পৃষ্ঠা - ৬৩৪
তারা তোমাদের পুত্র সন্তানকে হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিতব ৷খত; এতে
ছিল তোমাদের প্রতিপালকের এক মহাপরীক্ষা ৷ (সুরা ৷আ রাফং : ১৩৬ ১৪১)
উপরোক্ত আয়াতে আল্পাহ্ তাআলা বর্ণনা দিচ্ছেন যে, কিভাবে তিনি ফিরআউন ও তার
সেনাবাহিনীকে ডুবিয়ে যেরেছিলেন এবং কিভাবে তাদের ইজ্জতসম্মান ভুলুষ্ঠিত করেছিলেন ৷
আর তাদের মাল-সম্পদ আল্লাহ্ তাআলা কেমনভাবে ধ্বংস করে বনী ইসরাঈলকে তাদের
সমস্ত ধন-সস্পদের উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলেন ৷
যেমন আল্লাহ্ তা জানা বলেনহ’০ ৰুা ৷ প্রুন্ ^০ ৷১ান্ত্রঠুট্রু,র্দুদ্ভু এা;হু “এরুপই
ঘটেছিল এবং বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম এ সষুদয়ের মেঅধিক্যরী ৷” (সুরা শুআরা : ৫৯)
র্শ্বপেঅনুরুপভাবে আল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ করেনং :
,
আমি ইচ্ছে করেছিলাম, সে দেশে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল, তাদের প্রতি অনুগ্রহ
করতে; তাদেরকে নেতৃত্ব দান করতে ও উত্তরাধিকারী করতে ৷ (সুরা কাসাস : ৫)
আবার অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনৰু, ং
ণ্া
াব্লুএার্চু
র্ভুছোা
,ৰুদ্বু পুদ্বু০
যে সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হত তাদেরকে আমি আমার কল্যাণ প্রাপ্ত রাংজ্যর পুর্বও
পশ্চিমের উত্তরাধিকারী করি এবং বনী ইসরাঈল সম্বন্ধে তে তামার প্রতিপ৷ ৷লকের শুভ বাণী সাত্য
পরিণত হল, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল আর ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের শিল্প এবং
যে সব প্রাসাদ তারা নির্মাণ করেছিল তা ধ্বংস করেছি ৷ (সুরা আরাফ : ১৩৭ )
আল্লাহ্ তাআলা ফিরআউন ও তার গোষ্ঠীর সকলকে ধ্বংস করে দিলেন ৷ দুনিয়ায়
বিরাজমান তাদের মহা সম্মান ঐতিহ্য তিনি বিনষ্ট করে দিলেন ৷ তাদের রাজা , আমীর-উমারা ও
সৈন্য-সামত্ত ধ্বংস হয়ে গেল ৷ মিসর দেশে সাধারণ প্রজাবর্গ ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট রইল
না ৷ ইবন আবদুল হাকাম মিসরের ইতিহাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, ঐদিন থেকে মিসয়ের শ্রী
লোকেরা পুরুষদের উপর প্রাধান্য লাভ করেছিল, কেননা আমীর-উমারাদের ত্রীরা তাদের চেয়ে
নিম্ন শ্রেণীর সাধারণ লোকদেরকে বিয়ে করতে হয়েছিল ৷ তাই তাদের স্বামীদের উপর স্বভাবতই
তাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠি হয় ৷ এ প্রথা মিসরে আজ পর্যন্ত চলে আসছে ৷
কিতাবীদের মতে, রনী ইসরাঈলকে যে মাসে মিসর ত্যাগের নির্দেশ ৷দেয়৷ ৷হয়েছিল, সে
মাসকেই আল্লাহ তা আলা তাদের বছরের প্রথম মাস বলে নির্ধারণ করে দেন ৷ তাদেরকে হুকুম
দেওয়া হয় যে, তাদের প্রতিটি পরিবার যেন একটি মেষশাবক যবেহ করে ৷ যদি প্রতিটি
পরিবার একটি করে যেষশাবক সংগ্রহ করতে না পারে তাহলে পড়শীর সাথে অংশীদার হয়ে তা
وَقَالَ هَاهُنَا: {وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ} [الأعراف: 137] أَيْ: أَهْلَكَ ذَلِكَ جَمِيعَهُ، وَسَلَبَهُمْ عِزَّهُمُ الْعَزِيزَ الْعَرِيضَ فِي الدُّنْيَا، وَهَلَكَ الْمَلِكُ وَحَاشِيَتُهُ، وَأُمَرَاؤُهُ، وَجُنُودُهُ، وَلَمْ يَبْقَ بِبَلَدِ مِصْرَ سِوَى الْعَامَّةِ وَالرَّعَايَا. فَذَكَرَ ابْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ، فِي " تَارِيخِ مِصْرَ "، أَنَّهُ مِنْ ذَلِكَ الزَّمَانِ تَسَلَّطَ نِسَاءُ مِصْرَ عَلَى رِجَالِهَا; بِسَبَبِ أَنَّ نِسَاءَ الْأُمَرَاءِ وَالْكُبَرَاءِ تَزَوَّجْنَ بِمَنْ دُونَهُنَّ مِنَ الْعَامَّةِ فَكَانَتْ لَهُنَّ السَّطْوَةُ عَلَيْهِمْ وَاسْتَمَرَّتْ هَذِهِ سُنَّةَ نِسَاءِ مِصْرَ إِلَى يَوْمِكَ هَذَا.
وَعِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمَّا أُمِرُوا بِالْخُرُوجِ مِنْ مِصْرَ، جَعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ الشَّهْرَ أَوَّلَ سَنَتِهِمْ، وَأُمِرُوا أَنْ يَذْبَحَ كُلُّ أَهْلِ بَيْتٍ حَمَلًا مِنَ الْغَنَمِ، فَإِنْ كَانُوا لَا يَحْتَاجُونَ إِلَى حَمَلٍ، فَلْيَشْتَرِكِ الْجَارُ وَجَارُهُ فِيهِ، فَإِذَا ذَبَحُوهُ فَلْيَنْضَحُوا مِنْ دَمِهِ عَلَى أَعْتَابِ أَبْوَابِهِمْ; لِيَكُونَ عَلَّامَةً لَهُمْ عَلَى بُيُوتِهِمْ، وَلَا يَأْكُلُونَهُ مَطْبُوخًا، وَلَكِنْ مَشْوِيًّا بِرَأْسِهِ، وَأَكَارِعِهِ، وَبَطْنِهِ، وَلَا يُبْقُوا مِنْهُ شَيْئًا، وَلَا يَكْسِرُوا لَهُ عَظْمًا، وَلَا يُخْرِجُوا مِنْهُ شَيْئًا إِلَى خَارِجِ بُيُوتِهِمْ، وَلْيَكُنْ خُبْزُهُمْ فَطِيرًا سَبْعَةَ أَيَّامٍ ابْتِدَاؤُهَا مِنَ الرَّابِعَ عَشَرَ مِنَ الشَّهْرِ الْأَوَّلِ مِنْ سَنَتِهِمْ، وَكَانَ ذَلِكَ فِي فَصْلِ الرَّبِيعِ، فَإِذَا أَكَلُوا، فَلْتَكُنْ أَوْسَاطُهُمْ مَشْدُودَةً، وَخِفَافُهُمْ فِي أَرْجُلِهِمْ، وَعِصِيُّهُمْ فِي أَيْدِيهِمْ، وَلْيَأْكُلُوا بِسُرْعَةٍ قِيَامًا، وَمَهْمَا فَضَلَ عَنْ
পৃষ্ঠা - ৬৩৫
করবে ৷ যবেহ করার পর মেষশাবকের রক্ত তাদের ঘরের দরজার চৌকাটে ছিটিয়ে দিতে হবে,
যাতে তাদের ঘরগুলো চিহ্নিত হয়ে থাকে ৷ তারা এটাকে রান্না করে যেতে পারবে না ৷ তবে
ইা, মেষশাবকের মাথা, পায়া ও পেট ভুনা করে যেতে পারবে ৷ তারা মেষশাবকের কিছুই
অবশিষ্ট রাখবে না এবং ঘরের বাইরেও ফেলতে পারবে না, তারা সাতদিন রুটি দিয়ে নাশৃতা
করবে ৷ সাত দিনের শুরু হবে তাদের বছরের প্রথম মাসের ১৪ তারিখ হতে ৷ আর এটা ছিল
বসম্ভকাল ৷ যখন তারা থানা খাবে তাদের কােমর কােমরবন্দ দ্বারা বাধা থাকবে, পায়ে মুজা
থাকবে, হাতে লাঠি থাকবে, দাড়িয়ে দাড়িয়ে দ্রুত খাবে, রাতের বেলায় খাবারের পর কিছু
খাবার বাকি থাকলে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে; এটাই তাদের ও পরবতীদৈর জন্যে
ঈদ বা পর্বের দিন রুপে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ৷ এই নিয়ম যতদিন বলবৎ ছিল তাওরাতের
বিধান ততদিন পর্যন্ত বলবৎ ছিল ৷ তাওরাতের বিধান যখন বাতিল হয়ে যায়, তখন এরুপ
নিয়মও রহিত হয়ে যায় ৷ আর পরবর্তীতে এরুপ নিয়ম প্রকৃত পক্ষে রহিত হয়ে গিয়েছিল ৷
কিতাবীরা আরো বলে থাকেন, ফিরআউনের ধ্বংসের পুর্ব রাতে আল্লাহ্ তাআলা
কিবতীদের সকল নবজাতক গ্রিণ্ডে ও নবজাতক প্রার্ণীকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন, যাতে তারা
বনী ইসরাঈলের পিছু যাওয়া থেকে বিরত থাকে ৷ দুপুরের সময় বনী ইসরাঈল বের হয়ে
পড়ল ৷ মিসরের অধিবাসিগণ তখন তাদের নবজাতক সন্তান ও পশুপালের গােকে অভিভুত
ছিল ৷ এমন কোন পরিবার ছিল না, যারা এরুপ গােকে শোকাহত ছিল না ৷ অন্যদিকে মুসা
(আ)-এর প্রতি ওহীর মাধ্যমে নির্দেশ আমার সাথে সাথে বনী ইসরাঈলরা অতি দ্রুত ঘর থেকে
বের হয়ে পড়ল ৷ এমনকি তারা নিজেদের আটার খামিরও তৈরি করে সারেনি, তাদের
পাথেয়াদি চাদরে জড়িয়ে এগুলো কাধে ঝুলিয়ে নিল ৷ তারা মিসরবাসীদের নিকট থেকে বিপুল
পরিমাণ স্বর্ণালংকড়ার ধারস্বরুপ নিয়েছিল ৷ তারা যখন মিসর থেকে বের হয়, তখন শ্ৰীলোক
ব্যতীত তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ, তাদের সাথে ছিল তাদের পশুপাল ৷ আর তাদের
মিসরে অবস্থানের মেয়াদ ছিল চারশ ত্রিশ বছর ৷ এটা তাদের কিতাবের কথা ৷ ঐ বছরটিকে
তারা নিকৃতির বছর (ব্লুরু৷ ! হ) আর তাদের ঐ ঈদকে নিষ্কৃতির ঈদ’ বলে অভিহিত
করে ৷ তাদের আরো দুটি ঈদ ছিল-ঈদৃল ফাতির ও ঈদুল হামল ৷ ঈদুল হড়ামল ছিল বছরের
প্রথম দিন ৷ এই তিন ঈদ তাদের কাছে খুবই গুরুতুপুর্ণ ছিল এবং তাদের কিভাবে এগুলোর
উল্লেখ ছিল ৷
তারা যখন মিসর থেকে বের হয়ে পড়ল তখন তারা তাদের সাথে দিয়েছিল ইউসুফ
(আ)-এর কফিন এবং তার সুফ নদীর রাস্তা ধরে চলছিল ৷ তার দিনের বেলায় ভ্রমণ করত;
মেঘ তাদের সামনে সামনে ভ্রমণ করত ৷ মেঘের মধ্যে ছিল নুরের স্তম্ভ এবং রাতে তাদের
সামনে ছিল আগুনের স্তম্ভ ৷ এ পথ ধরে তরো সমুদ্রের উপকুলে গিয়ে উপস্থিত হল ৷ সেখানে
তারা পৌছতে না পৌছতেই ফিরআউন ও তার মিসরীয় সৈন্যদল তাদের নিকটে পৌছে গেল ৷
বনী ইসরাঈলরা তখন সমুদ্রের কিনারায় অবতরণ করেছিল ৷ তাদের অনেকেই শঙ্কিত হয়ে
পড়ল ৷ এমনকি তাদের কেউ কেউ বলতে লাগল, এরুপ প্রান্তয়ে এসে মৃত্যুবরণ করার চেয়ে
মিসরের হীনতম জীবন যাপনই বরং উত্তম ছিল ৷ তাদের উদ্দেশে মুসা (আ) বললেন, ভয়
করো না’ ৷ কেননা, ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনী এর পর আর তাদের শহরে ফিরে যেতে
عَشَائِهِمْ، فَمَا بَقِيَ إِلَى الْغَدِ فَلْيَحْرِقُوهُ بِالنَّارِ، وَشَرَعَ لَهُمْ هَذَا عِيدًا لِأَعْقَابِهِمْ، مَا دَامَتِ التَّوْرَاةُ مَعْمُولًا بِهَا، فَإِذَا نُسِخَتْ بَطَلَ شَرْعُهَا، وَقَدْ وَقَعَ. قَالُوا: وَقَتَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ أَبْكَارَ الْقِبْطِ، وَأَبْكَارَ دَوَابِّهِمْ، لِيَشْتَغِلُوا عَنْهُمْ وَخَرَجَ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ انْتَصَفَ النَّهَارُ، وَأَهَّلُ مِصْرَ فِي مَنَاحَةٍ عَظِيمَةٍ، عَلَى أَبْكَارِ أَوْلَادِهِمْ، وَأَبْكَارِ أَمْوَالِهِمْ، لَيْسَ مِنْ بَيْتٍ إِلَّا وَفِيهِ عَوِيلٌ. وَحِينَ جَاءَ الْوَحْيُ إِلَى مُوسَى، خَرَجُوا مُسْرِعِينَ، فَحَمَلُوا الْعَجِينَ قَبْلَ اخْتِمَارِهِ، وَحَمَلُوا الْأَزْوَادَ فِي الْأَرْدِيَةِ، وَأَلْقَوْهَا عَلَى عَوَاتِقِهِمْ، وَكَانُوا قَدِ اسْتَعَارُوا مِنْ أَهْلِ مِصْرَ حُلِيًّا كَثِيرًا، فَخَرَجُوا وَهُمْ سِتُّمِائَةِ أَلْفِ رَجُلٍ، سِوَى الذَّرَّارِيِّ، بِمَا مَعَهُمْ مِنَ الْأَنْعَامِ، وَكَانَتْ مُدَّةُ مُقَامِهِمْ بِمِصْرَ أَرْبَعَمِائَةِ سَنَةٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً. هَذَا نَصُّ كِتَابِهِمْ. وَهَذِهِ السَّنَةُ عِنْدَهُمْ تُسَمَّى سَنَةَ الْفَسْخِ وَهَذَا الْعِيدُ عِيدُ الْفَسْخِ، وَلَهُمْ عِيدُ الْفَطِيرِ وَعِيدُ الْحَمَلِ، وَهُوَ أَوَّلُ السَّنَةِ. وَهَذِهِ الْأَعْيَادُ الثَّلَاثَةُ آكَدُ أَعْيَادِهِمْ، مَنْصُوصٌ عَلَيْهَا فِي كِتَابِهِمْ. وَلَمَّا خَرَجُوا مِنْ مِصْرَ أَخْرَجُوا مَعَهُمْ تَابُوتَ يُوسُفَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَخَرَجُوا عَلَى طَرِيقِ بَحْرِ سُوفَ. وَكَانُوا فِي النَّهَارِ يَسِيرُونَ وَالسَّحَابُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ يَسِيرُ أَمَامَهُمْ، فِيهِ عَامُودُ نُورٍ، وَبِاللَّيْلِ أَمَامَهُمْ عَامُودُ نَارٍ، فَانْتَهَى بِهِمُ الطَّرِيقُ إِلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ، فَنَزَلُوا هُنَالِكَ، وَأَدْرَكَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ مِنَ الْمِصْرِيِّينَ، وَهُمْ هُنَاكَ حُلُولٌ عَلَى شَاطِئِ الْيَمِّ، فَقَلِقَ كَثِيرٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، حَتَّى قَالَ قَائِلُهُمْ: كَانَ بَقَاؤُنَا بِمِصْرَ أَحَبَّ إِلَيْنَا مِنَ الْمَوْتِ بِهَذِهِ الْبَرِّيَّةِ. وَقَالَ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، لِمَنْ قَالَ هَذِهِ الْمَقَالَةَ: لَا
পৃষ্ঠা - ৬৩৬
পারবে না ৷ কিতাবীরা আরও বলেন, আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন
সমুদ্রে নিজ লাঠি দ্বারা আঘাত করে সমুদ্র বিভক্ত করে দেন-যাতে তারা সমুদ্রে প্রবেশ করে ও
শুকনো পথ পড়ায় ৷ দুই দিকে পানি সরে গিয়ে দুই পাহাড়ের আকার ধারণ করল; আর মাঝখানে
শুকনো পথ বেরিয়ে আসে ৷ কেননা, আল্লাহ তাআলা তখন গরম দক্ষিণা বায়ু প্রবাহিত করে
দেন ৷ তখন বনী ইসরাঈলরা সমুদ্র পার হয়ে গেল ৷ আর ফিরআউন তার সেনাবাহিনীসহ বনী
ইসরাঈলকে অনুসরণ করল ৷ যখন সে সমুদ্রের মধ্যভাগে পৌছল, তখন আল্পাহ্ তাআলা মুসা
(আ)-কে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তার লাঠি দ্বারা সমুদ্রকে আঘাত করেন ৷ ফলে পানি পুর্বের
আকার ধারণ করল ৷ তবে কিতাবীদের মতে, এ ঘটনাটি ঘটেছিল রাতের বেলায় এবং সমুদ্র
তাদের উপর ন্থির হয়েছিল সকাল বেলায় ৷ এটা তাদের বোঝার ভুল এবং এটা অনুবাদ
বিভ্রার্টের কারণে হয়েছে ৷ আল্লাহ্ তড়াআলাই অধিকতর জ্ঞড়াত ৷ তারা আরো বলেন, যখন
আল্লাহ্ তাআলা ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনীকে ডুবিয়ে মারলেন, তখন মুসা (আ) ও বনী
ইসরাঈল প্রতিপালকের উদ্দেশে নিম্নরুপ তাসবীহ পাঠ করলেন :
অর্থাৎ-সেই জোতির্ময় প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ করছি, যিনি সেনাবাহিনীকে পর্বুদস্ত
করেছেন এবং অশ্বারোহীদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছেন, যিনি উত্তম প্ৰতিরােধকারী ও
ৎসিত ৷ এটা ছিল একটি দীর্ঘ তাসবীহ ৷ তারা আরো বলেন, হড়ারুনের বোন নাবীয়াহ
মারয়াম নিজ হাতে একটি দফ১ ধারণ করেছিলেন এবং অন্যান্য ন্তীলোক তার অনুসরণ
করেছিল, সকলেই দফ ও তবলা নিয়ে পথে বের হলো, মারয়াম তাদের জন্যে সুর করে
গাইছিলেন :
“পরাক্রমণড়ালী পবিত্র সেই প্ৰতিপালক যিনি ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ
করে প্রতিহত করেছেন ৷” এরুপ বর্ণনা তাদের কিভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে ৷
এরুপ বর্ণনা সম্ভবত, মুহাম্মদ ইবন কাব আল কুৱাযী (র) থেকে নেয়া হয়েছে, যিনি
কুরআনের আয়াত র্চু,ট্রুদ্বুণ্ঠে ;হুই fl এর ব্যাখ্যার বলতেন যে, ইমরানের কন্যা মারয়াম , ঈসা
(আ)-এর মা হচ্ছেন মুসা (আ) ও হারুন (আ)-এর বোন ৷ তার বর্ণনাটি যে অমুলক , তাফসীরে
তা আমরা বর্ণনা করেছি ৷ এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার ৷ কেননা, কেউ এরুপ মত পোষণ
করেননি বরং প্রত্যেক তাফসীরকার এটার বিরোধিতা করেছেন ৷ যদি ধরে নেয়া হয় যে, এরুপ
হতে পারে তাহলে তার ব্যাখ্যা হবে এরুপ : মুসা (আ) ও হারুন (আ) এর কোন মারয়াম বিনৃত
ইমরান এবং ঈসা (আ)-এর মা মারয়াম বিনৃত ইমরানের মধ্যে নাম, পিতার নাম ও ভাইয়ের
নামের মধ্যে মিল রয়েছে ৷ যেমন একদা মুগীরা ইবন শুবা (বা) সাহাবীকে নাজরানের
অধিবাসীরা (,;fl$ ণ্;£ ৰু আয়াতাৎশের তাফসীর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিল ৷ তিনি জানতেন
১ দফ্ এমন একটি বাদ্যযন্ত্র যায় এক দিকে চামড়া লাগানো থাকে
تَخْشَوْا فَإِنَّ فِرْعَوْنَ وَجُنُودَهُ لَا يَرْجِعُونَ إِلَى بَلَدِهِمْ بَعْدَ هَذَا. قَالُوا: وَأَمَرَ اللَّهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، أَنْ يَضْرِبَ الْبَحْرَ بِعَصَاهُ، وَأَنْ يَقْسِمَهُ; لِيَدْخُلَ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِي الْبَحْرِ وَالْيَبَسِ. وَصَارَ الْمَاءُ مِنْ هَاهُنَا وَهَاهُنَا كَالْجَبَلَيْنِ وَصَارَ وَسَطُهُ يَبَسًا; لِأَنَّ اللَّهَ سَلَّطَ عَلَيْهِ رِيحَ الْجَنُوبِ وَالسَّمُومِ، فَجَازَ بَنُو إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ، وَأَتْبَعُهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ، فَلَمَّا تَوَسَّطُوهُ، أَمَرَ اللَّهُ مُوسَى فَضَرَبَ الْبَحْرَ بِعَصَاهُ، فَرَجَعَ الْمَاءُ كَمَا كَانَ عَلَيْهِمْ. لَكِنَّ عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَنَّ هَذَا كَانَ فِي اللَّيْلِ، وَأَنَّ الْبَحْرَ ارْتَطَمَ عَلَيْهِمْ عِنْدَ الصُّبْحِ، وَهَذَا مِنْ غَلَطِهِمْ، وَعَدَمِ فَهْمِهِمْ فِي تَعْرِيبِهِمْ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ. قَالُوا: وَلَمَّا أَغْرَقَ اللَّهُ فِرْعَوْنَ وَجُنُودَهُ، حِينَئِذٍ سَبَّحَ مُوسَى وَبَنُو إِسْرَائِيلَ بِهَذَا التَّسْبِيحِ لِلرَّبِّ، وَقَالُوا: نُسَبِّحُ الرَّبَّ الْبَهِيَّ الَّذِي قَهَرَ الْجُنُودَ، وَنَبَذَ فُرْسَانَهَا فِي الْبَحْرِ الْمَنِيعِ الْمَحْمُودِ. وَهُوَ تَسْبِيحٌ طَوِيلٌ. قَالُوا: وَأَخَذَتْ مَرْيَمُ النَّبِيَّةُ، أُخْتُ هَارُونَ دُفًّا بِيَدِهَا، وَخَرَجَ النِّسَاءُ فِي أَثَرِهَا، كُلُّهُنَّ بِدُفُوفٍ وَطُبُولٍ، وَجَعَلَتْ مَرْيَمُ تُرَتِّلُ لَهُنَّ وَتَقُولُ: سُبْحَانَ الرَّبِّ الْقَهَّارِ، الَّذِي قَهَرَ الْخُيُولَ وَرُكْبَانَهَا، إِلْقَاءً فِي الْبَحْرِ. هَكَذَا رَأَيْتُهُ فِي كِتَابِهِمْ. وَلَعَلَّ هَذَا هُوَ مِنَ الَّذِي حَمَلَ مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ عَلَى زَعْمِهِ أَنَّ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ، أُمَّ عِيسَى، هِيَ أُخْتُ هَارُونَ وَمُوسَى، مَعَ قَوْلِهِ: {يَا أُخْتَ هَارُونَ} [مريم: 28] وَقَدْ بَيَّنَّا غَلَطَهُ فِي ذَلِكَ، وَأَنَّ هَذَا لَا يُمْكِنُ أَنْ يُقَالَ، وَلَمْ يُتَابِعْهُ أَحَدٌ عَلَيْهِ، بَلْ كُلُّ وَاحِدٍ خَالَفَهُ فِيهِ، وَلَوْ قُدِّرَ أَنَّ هَذَا مَحْفُوظٌ، فَهَذِهِ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ، أُخْتُ مُوسَى وَهَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، وَأُمُّ عِيسَى عَلَيْهَا السَّلَامُ، وَافَقَتْهَا فِي
পৃষ্ঠা - ৬৩৭
না তাদেরকে কি বলবেন ৷ তাই তিনি রাসুল (না)-কে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন, জবাবে
রাসুলুল্লাহ (সা) র্তাকে বললেন, তুমি কি জান না তারা আম্বিয়ায়েকিরামের নামের সাথে মিল
রেখে নামকরণ করতেন? ইমাম মুসলিম (র) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷
মারয়ড়ামকে তারা মাবিয়াহ বলত, যেমন রাজার পরিবারের শ্ৰীকে রানী বলা হয়ে থাকে ৷
আমীরের শ্ৰীকে অড়ামীরাহ বলা হয়ে থাকে, যদিও তাদের বাদশাহী কিংবা প্রশাসনে কোন হাত
নেই ৷ নবী পরিবারের সদস্যা হিসাবে র্তাকে মাবিয়াহ বলা হয়েছে ৷ এটি রুপকভাবে বলা
হয়েছে ৷ সত্যি সত্যি তিনি নবী ছিলেন না এবং তার কাছে আল্লাহ তআলার ওহী আসত না ৷
আর মহা খুশির দিন ঈদে তার দফ বাজানো হচ্ছে এ কথার প্রমাণ যে, ঈদে দফ বাজানো
আমাদের পুর্বে তাদের শরীয়তেও বৈধ ছিল ৷ এমনকি এটা আমাদের শ্ারীয়তেও মেয়েদের জন্য
ঈদের দিনে বৈধ ৷ এ প্রসঙ্গে নিম্নে বর্ণিত হাদীসটি প্রণিধানযােগ্য ৷ মিনার দিনসমুহে তথা
কুরবানীর ঈদের সময়ে দুটি বালিকা আয়েশা সিদ্দীকা (বা)এর কাছে দফ বাজাচ্ছিল এবং
রাসুলুল্পাহ (সা) তাদের দিকে পিঠ দিয়ে শুয়ে ছিলেন, হুবুরের চেহারা ছিল দেয়ালের দিকে ৷
যখন আবু বকর (রা) ঘরে ঢুকলেন তখন তাদেরকে ধমক দািলন এবং বললেন, রাসুলুল্পাহ
(সা)এর ঘরে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র? রাসুলুল্লাহ (না) বললেন, হে আবু বকর ! তাদেরকে এটা
করতে দাও ৷ কেননা, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যেই রয়েছে উৎসবের দিন এবং এটা আমাদের
উৎসবের দিন ৷ অনুরুপভাবে বিয়ে-শাদীর মজলিসে এবং প্রবাসীকে সংবর্ধনা জানানোর ক্ষেত্রে
একটি বিশেষ ধরনের দফ বাজানো জায়েয আছে-ষ্যা সংশ্লিষ্ট গ্রস্থাদিতে বর্ণিত রয়েছে ৷
কিতাবিগণ আরো বলেন যে, বনী ইসরাঈলরা যখন সমুদ্র অতিক্রম করল এবং সিরিয়ার
উদ্দেশে যাত্রা করল তখন তারা একটি স্থানে তিনদিন অবস্থান করে ৷ সেখানে পানি ছিল না ৷
তাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক লোক এ নিয়ে নানারুপ সমালোচনা করে ৷ তখন তারা লবণাক্ত
বিস্বাদ পানি খুজে পেল, যা পান করার উপযোগী ছিল না ৷ তখন আল্লাহ্ তাআল লামুসা
(আ) কে নির্দেশ দিলে তিনি একটি কাঠের টুকরো পানির উপর রেখে দিলেন ৷ তখন তা মিঠা
পানিতে পরিণত হল এবং পানকারীদের জন্যে উপাদেয় হয়ে গেল ৷ তখন আল্লাহ তা অ ৷লা মুসা
(আ) কে ফরজ, সুন্নাত ইত্যাদি শিক্ষা দান করলেন এবং প্রচুর নসীহত প্রদান করলেন ৷
মহাপরাক্রমশালী ও আপন কিতাবের রক্ষণাবেক্ষণকারী আল্লাহ্ তাআলা তার কালামে
ইরশাদকরেন
()টুর্দুর্মু১ণ্এে ( ট্রুএ৷ প্ৰা ৰুৰু;৷ ৷ ণ্প্রু;,৷ ৷র্দুশুহ্র ঠো ৷ এোপুহ্র৷ ,ন্পুষ্ ৷াঠুএে ট্টছুৰ্বা
“আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে দেই ৷৩ তারপর তারা প্রতিমা পুজায় রত
এক সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হয় ৷ তারা বলল, হে মুসা! তাদের দেবতার মত আমাদের
জন্যেও একটি দেবতা গড়ে দাও ৷ সে বলল, তোমরা তো এক মুর্থ সম্প্রদায়; এসব লোক যাতে
লিপ্ত রয়েছে তাতে৷ বিধ্বস্ত হয়ে এবং তারা বা করেছে তাও অমুলক ৷ (৭ আরাফ :
১৩৮ ১৩৯ )
الِاسْمِ، وَاسْمِ الْأَبِ، وَاسْمِ الْأَخِ; لِأَنَّهُمْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لِلْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ لَمَّا سَأَلَهُ أَهْلُ نَجْرَانَ، عَنْ قَوْلِهِ: {يَا أُخْتَ هَارُونَ} [مريم: 28] فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ لَهُمْ، حَتَّى سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُسَمَّوْنَ بِأَسْمَاءِ أَنْبِيَائِهِمْ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَقَوْلُهُمْ: النَّبِيَّةُ. كَمَا يُقَالُ لِلْمَرْأَةِ مِنْ بَيْتِ الْمَلِكِ: مَلِكَةٌ. وَمِنْ بَيْتِ الْإِمْرَةِ: أَمِيرَةٌ. وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مُبَاشِرَةً شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ، فَكَذَا هَذِهِ اسْتِعَارَةٌ لَهَا، لَا أَنَّهَا نَبِيَّةٌ حَقِيقَةً يُوحَى إِلَيْهَا. وَضَرْبُهَا بِالدُّفِّ فِي مِثْلِ هَذَا الْيَوْمِ - الَّذِي هُوَ أَعْظَمُ الْأَعْيَادِ عِنْدَهُمْ - دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ قَدْ كَانَ شَرْعُ مَنْ قَبْلَنَا ضَرْبَ الدُّفِّ فِي الْعِيدِ. وَهَذَا مَشْرُوعٌ لَنَا أَيْضًا فِي حَقِّ النِّسَاءِ; لِحَدِيثِ الْجَارِيَتَيْنِ اللَّتَيْنِ كَانَتَا عِنْدَ عَائِشَةَ تَضْرِبَانِ بِالدُّفِّ فِي أَيَّامِ مِنًى، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُضْطَجِعٌ، مُوَلٍّ ظَهْرَهُ إِلَيْهِمْ، وَوَجْهُهُ إِلَى الْحَائِطِ، فَلَمَّا دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ زَجَرَهُنَّ، وَقَالَ: أَبِمَزْمُورِ الشَّيْطَانِ فِي بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: «دَعْهُنَّ يَا أَبَا بَكْرٍ، فَإِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا، وَهَذَا عِيدُنَا» وَهَكَذَا يُشْرَعُ عِنْدَنَا فِي الْأَعْرَاسِ، وَلِقُدُومِ الْغُيَّابِ، كَمَا هُوَ مُقَرَّرٌ فِي مَوْضِعِهِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَذَكَرُوا أَنَّهُمْ لَمَّا جَاوَزُوا الْبَحْرَ، وَذَهَبُوا قَاصِدِينَ إِلَى بِلَادِ الشَّامِ، مَكَثُوا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، لَا يَجِدُونَ مَاءً، فَتَكَلَّمَ مَنْ تَكَلَّمَ مِنْهُمْ بِسَبَبِ ذَلِكَ، فَوَجَدُوا مَاءً زُعَاقًا أُجَاجًا، لَمْ يَسْتَطِيعُوا شُرْبَهُ، فَأَمَرَ اللَّهُ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَأَخَذَ خَشَبَةً فَوَضَعَهَا فِيهِ، فَحَلَا وَسَاغَ شُرْبُهُ، وَعَلَّمَهُ الرَّبُّ هُنَالِكَ فَرَائِضَ وَسُنَنًا، وَوَصَّاهُ وَصَايَا كَثِيرَةً. وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ، الْمُهَيْمِنِ عَلَى مَا
পৃষ্ঠা - ৬৩৮
তারা এরুপ মুর্থতা ও পথভ্রষ্টতার কথা মুসা (আ)-এর কাছে আরব করছিল অথচ তারা
আল্লাহ্ তাআলার নিদর্শনাদি ও কৃদৱত প্রত্যক্ষ করছিল যা প্রমাণ করে যে, মহাসম্মানিত ও
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাআলার রাসুল যা কিছু নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা যথার্থ ৷ তারা
এমন একটি সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলো, যারা মুর্তি পুজায় রত ছিল ৷ কেউ কেউ বলেন,
এই মুর্তিগুলো ছিল গরুর আকৃতির ৷ তারা তাদেরকে প্রশ্ন করেছিল যে কেন তারা ব্এগুলোর
পুজা করে? তখনও বা বলেজ্যি যে, এগুলো তাদের উপকার ও অপকার সাধন করে থাকে
এবং প্রয়োজনে তাদের কাচইে উপজীবিকা চাওয়া হয় ৷ বনী ইসরাঈলের কিছু মুর্থ লোক তাদের
কথায় বিশ্বাস করল ৷ তখন এই মুর্থরা তাদের নবী মুসা (আ)-এর কাছে আরব করল যে, তিনি
যেন তাদের জন্যেও দেব-দেবী গড়ে দেন যেমন ঐসব লোকের দেব-দের্বী রয়েছে ৷
মুসা (আ) তাদেরকে প্রতিউত্তরেরললেন, প্রতিমা পুজাকাৰিপণ নির্বোধ এবং তারা
হিদারাঃঙ্ঘ পথে পরিচালিত নয় ৷ আর এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তা তো বিধ্বস্ত হবে এবং
তারা যা করেছে তাও অমুলক ৷ তারপর মুসা (আ) তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ্ তাআলার
নিয়ামতরাজি এবং সমকালীন বিশ্বের জাতিসমুহের মধ্যে তাদেরকে জ্ঞানে, শরীয়তের এবং
তাদের মধ্য থেকে রাসুল প্রেরাণর মাধ্যমে গ্রেষ্ঠতু দানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন ৷ তিনি
তাদেরকে আরো স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহাশজ্যি অধিকারী ফিরআউনের কবল থেকে আল্লাহ্
তাআলা তাদেরকে উদ্ধার করেছেন এবং ফিরাউনকেতাদের সম্মুখেই ধ্বংস করে দিয়েছেন ৷
তাছাড়া ফিরআউন ও তার ঘনিষ্ঠ অনুচরগণ যেসব সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা নিজেদের জন্যে
সঞ্চিত ও সংরক্ষিত করে রেখেছিল ও সুরম্য প্রাসাদ গড়েছিল, আল্পাহ্ তাআলা তাদেরকে সে
সবের উত্তরাধিকারী করেছেন ৷ তিনি তাদের কাছে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন যে, এক
লা-শরীফ আল্পাহ্ তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদতের যোগ নয় ৷ কেননা তিনিই সৃষ্টিকর্তা,
রিযিকদাতা ও মহাপরাক্রমশালী ৷ তবে বনী ইসরাঈলের সকলেই তাদের জন্যে দেব-দেবী গড়ে
দেবার দরখাস্ত করেনি বরং কিছু সংখ্যক সুর্য ও নির্বোধ্ লোক এরুপ করেছিল ৷ তাই
আয়াতাৎশ০ বা সম্প্রদায় বলতে তাদের সকল
লোককে নয়, কিছু সং ৎখদ্রকবুবৰ্বা বুঝানো হয়েছে ৷ যেমন সুরায়ে কাহাফের আয়াতে আল্লাহ
তা আলা ইরশাদ করেন :
?
এ্যাশুএ ণ্
’(;§:£ ন্হ্রপু র্মুার্মু^শু :-;fi ৷ র্চুব্লুপুষ্ট্রশু, র্দুপু ও র্দুদ্বু ¢§’“’ হ্রমোঃ এে র্চু ষ্টুঝুট্রু;ও;
অর্থাৎ-“সেদিন তাদের সকলকে আমি একত্রকরণ এবং তাদের কাউকেও অব্যাহতি দেব
না এবং তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত করা হবে সারিবদ্ধডাবে এবং বলা
হবে, তােমাদেরকে প্রথমবার যেভাবে সৃষ্টি করেছিলাম সেভাবেই তোমরা আমার নিকট উপস্থিত
হবেই অথচ তোমরা মনে করতে যে, তোমাদের জন্য প্রতিশ্রুত ক্ষণে আমি তােমাদেয়কে
উপস্থিত করব না ৷” (সুরা কড়াহড়াফ : ৪ ৭ : ৮)
উক্ত আয়াতে বর্ণিত অথচ তোমরা মনে করতে দ্বারা তাদের সকলকে বুঝানো হয়নি বরং
কতক সং খ্যককে বুঝানো হয়েছে ৷ ইমাম আহমদ (র)এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, আবু ওয়াকিদ
عَدَاهُ مِنَ الْكُتُبِ: {وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ - إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 138 - 139] قَالُوا هَذَا الْجَهْلَ وَالضَّلَالَ، وَقَدْ عَايَنُوا مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ، مَا دَلَّهُمْ عَلَى صِدْقِ مَا جَاءَهُمْ بِهِ رَسُولُ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، وَذَلِكَ أَنَّهُمْ مَرُّوا عَلَى قَوْمٍ يَعْبُدُونَ أَصْنَامًا، قِيلَ: كَانَتْ عَلَى صُوَرِ الْبَقَرِ. فَكَأَنَّهُمْ سَأَلُوهُمْ: لِمَ يَعْبُدُونَهَا، فَزَعَمُوا لَهُمْ أَنَّهَا تَنْفَعُهُمْ وَتَضُرُّهُمْ، وَيَسْتَرْزِقُونَ بِهَا عِنْدَ الضَّرُورَاتِ، فَكَأَنَّ بَعْضَ الْجُهَّالِ مِنْهُمْ صَدَّقُوهُمْ فِي ذَلِكَ، فَسَأَلُوا نَبِيَّهُمُ الْكَلِيمَ الْكَرِيمَ الْعَظِيمَ، أَنْ يَجْعَلَ لَهُمْ آلِهَةً كَمَا لِأُولَئِكَ آلِهَةٌ، فَقَالَ لَهُمْ مُبَيِّنًا لَهُمْ أَنَّهُمْ لَا يَعْقِلُونَ وَلَا يَهْتَدُونَ: {إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 139] . ثُمَّ ذَكَّرَهُمْ نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْهِمْ، فِي تَفْضِيلِهِ إِيَّاهُمْ عَلَى عَالِمِي زَمَانِهِمْ بِالْعِلْمِ، وَالشَّرْعِ، وَالرَّسُولِ الَّذِي بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ، وَمَا أَحْسَنَ بِهِ إِلَيْهِمْ، وَمَا امْتَنَّ بِهِ عَلَيْهِمْ، مِنْ إِنْجَائِهِمْ مِنْ قَبْضَةِ فِرْعَوْنَ الْجَبَّارِ الْعَنِيدِ، وَإِهْلَاكِهِ إِيَّاهُ وَهُمْ يَنْظُرُونَ، وَتَوْرِيثِهِ إِيَّاهُمْ مَا كَانَ فِرْعَوْنُ وَمَلَؤُهُ يَجْمَعُونَهُ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالسَّعَادَةِ، وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ، وَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ لَا تَصْلُحُ الْعِبَادَةُ إِلَّا لِلَّهِ وَحْدَهُ، لَا شَرِيكَ لَهُ; لِأَنَّهُ الْخَالِقُ الرَّازِقُ الْقَهَّارُ، وَلَيْسَ كُلُّ بَنِي إِسْرَائِيلَ سَأَلَ هَذَا السُّؤَالَ، بَلِ الضَّمِيرُ عَائِدٌ عَلَى الْجِنْسِ فِي قَوْلِهِ: {وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَامُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ} [الأعراف: 138] أَيْ; قَالَ بَعْضُهُمْ كَمَا فِي قَوْلِهِ:
পৃষ্ঠা - ৬৩৯
লায়সী (রা) বলেন, হুনাইন যুদ্ধের সময় আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে বের হলাম ৷ যখন
আমরা একটি কুল গাছের কাছে উপস্থিত হলাম তখন আমরা বললাম, হে আল্পাহ্র রাসুল (সা) !
কাফিরদের যেরুপ তরবারি রাখার জায়গা রয়েছে, আমাদের সেরুপ তরবারি রাখার জায়গার
ব্যবস্থা করে দিন ৷ কাফিররা তাদের তরবারি কুল গাছে ঝুলিয়ে রাখে ও তার চারপাশে ঘিরে
বসে ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) তখন (আশ্চর্যাৰিত হয়ে) বললেনষ্ক আল্লাহ আকবার! এবং বললেন এটা
হচ্ছে ঠিক তেমনি, যেমনটি বনী ইসরাঈলরা মুসা (আ) কে বলেছিল৪ < ৷গ্লু ৷ ৷ র্চুর্দু৷ টুট্রু ৷
রুর্দুপু ৷ ণ্ট্রুপু অর্থাৎ হে মুস) তাদের দেবতাদের মত আম৷ ৷দের জন্যেও একটি দেবতা গড়ে
দাও ৷’ তোমরা তো তোমাদের পুর্ববর্তীদের রীতিনীতিই অনুসরণ করছ ৷ ইমাম নাসা ঈ (র) এবং
তিরমিযী (র)ও ভিন্ন সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটিকে হাসান
সহীহ বলে অভিহিত করেছেন ৷ ইবন জারীর (র) আবু ওয়াকিদ আল লাইসী (রা)-এর বরাতে
বর্ণনা করেছেন যে, সাহাবায়ে কিরড়াম (রা) রাসুলুল্লাহ (না)-এর সাথে খায়বারের উদ্দেশে মক্কা
ত্যাগ করেন ৷ বর্ণনাকারী বলেন, কাফিরদের একটি কুলগাছ ছিল , তারা এটার কাছে অবস্থান
করত এবং তাদের হাতিয়ার এটার সাথে ঝুলিয়ে রাখত ৷ এ পাছটাকে বলা হত যাতৃ
আনওয়াত ৷ ’ বর্ণনাকারী বলেন, একটি বড় সবুজ রংয়ের কুল গাছের কাছে পৌছে আমরা
বললাম, ইয়৷ রড়াসুলাল্পাহা আমাদের জন্যেও একটি যাতু আনওয়াত-এব ব্যবস্থা করুন, যেমনটি
কাফিরদের রয়েছে ৷ রসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন : যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার
শপথ, তোমরা এরুপ কথা বললে, যেমন মুসা (আ)-এর সম্প্রদায় মুসা (আ)-কে বলেছিল,
আমাদের জন্য এ সম্প্রদায়ের দেবতাদের মত একটি দেবতা গড়ে দাও ৷ সে বলল, তোমরা তো
এক মুর্থ সম্প্রদায় ৷ এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তা তো বিধ্বস্ত হবে এবং তারা বা করছে
তাও অমুলক ৷ ” (সুরা আরাফ ষ্ক ১৩৮-১৩৯)
বন্তুত মুসা (আ) যখন মিসর ত্যাগ করে বায়তৃল মুকদ্দোসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে সেখানে
পৌছলেন, তখন সেখানে হায়সানী, ফাযারী ও কানআনী ইত্যাদি গোত্র সম্বলিত একটি দুর্দান্ত
জাতিকে বসবাসরত দেখতে পান ৷ মুসা (আ) তখন বনী ইসরস্কিৰকে শহরে প্রবেশ করার এবং
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে বায়তৃল মুকাদ্দাস থেকে বিতাড়িত করতে হুকুম দিলেন ৷
আল্পাহ্ তাআলা তাদেরকে ইব্রাহীম (আ) কিংবা মুসা (আ)-এর মাধ্যমে এই শহরটি বিজয়ের
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু তারা মুসা (আ)-এর নির্দেশ মানতে অস্বীকার করল এবং যুদ্ধ থেকে
বিরত রইল ৷ তখন আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে ভীতিগ্রস্ত করলেন এবং তীহ প্রান্তরে নিক্ষেপ
করেন, যেখানে তারা সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত উড্রান্তের মত ইতস্তত ঘোরাফেরা করতে
থাকেন
যেমন আল্লাহ্ তা আলা ইরশাদ করেনং :
ণ্ব্লু ১গ্
নৌ
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১ম খণ্ডপ্)ণো
{وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا - وَعُرِضُوا عَلَى رَبِّكَ صَفًّا لَقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّنْ نَجْعَلَ لَكُمْ مَوْعِدًا} [الكهف: 47 - 48]
[الْكَهْفِ: 47، 48] . فَالَّذِينَ زَعَمُوا هَذَا بَعْضُ النَّاسِ، لَا كُلُّهُمْ.
وَقَدْ قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ: «خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَبْلَ حُنَيْنٍ، فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ، كَمَا لِلْكُفَّارِ ذَاتُ أَنْوَاطٍ. وَكَانَ الْكَفَّارُ يَنُوطُونَ سِلَاحَهُمْ بِسِدْرَةٍ، وَيَعْكُفُونَ حَوْلَهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، هَذَا كَمَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى: اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ. إِنَّكُمْ تَرْكَبُونَ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ» وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ بِهِ. وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ بِهِ. ثُمَّ قَالَ: حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَقَدْ رَوَى ابْنُ جَرِيرٍ، مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، وَمَعْمَرٍ، وَعَقِيلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سِنَانِ بْنِ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، «أَنَّهُمْ خَرَجُوا مِنْ مَكَّةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى حُنَيْنٍ قَالَ: وَكَانَ لِلْكُفَّارِ سِدْرَةٌ يَعْكُفُونَ عِنْدَهَا، وَيُعَلِّقُونَ بِهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا: ذَاتُ أَنْوَاطٍ. قَالَ: فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ خَضْرَاءَ عَظِيمَةٍ، قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ
পৃষ্ঠা - ৬৪০
া
গ্লু;;পু ৷ষ্াশুদ্বু১ ট্রু,পু রু’স্ ট্রু, £,র্চুর্ন্ত
(,
র্চএ
>
(ব্লু
;
>
১ ১
৭০ি
স্মরণ কর , মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল হে আমার সম্প্রদায় ৷ তোমরা তোমাদের প্ৰতি
আল্লাহ্র অনুগ্রহ স্মরণ কর; যখন তিনি তোমাদের মধ্য থেকে নবী করেছিলেন ও তােমাদেরকে
রাজাধিপতি করেছিলেন এবং বিশ্বজগভে কাউকেও যা তিনি দেননি তা তােমাদেরকে
দিয়েছিলেন ৷ হে আমার সম্প্রদায় ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভুমি নির্দিষ্ট করেছেন
তাতে তোমরা প্রবেশ কর এবং পশ্চাদপসরণ করবে না, করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে ৷
তারা বলল, হে মুসা সেখানে এক দুর্দান্ত সম্প্রদায় রয়েছে এবং তারা যে স্থান থেকে বের না
হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে কিছুণ্ডে ই প্রবেশ করব না, বসেই স্থান থেকে বের হয়ে গেলেই
আমরা প্রবেশ করব ৷ যারা ভয় করছিল তাদের মধ্যে দুজন, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ
করেছিলেন তারা বলল, তোমরা তাদের মুকাবিলা করে দরজায় প্রবেশ করলেই৫ তামরা জয়ী
হবে আর তোমরা মু মিন হলে আল্লাহর উপরই নির্ভর কর ৷ তারা বলল, হে মুসা৩ তারা যতদিন
সেখানে থাকবে, ততদিন আমরা সেখানে প্রবেশ করবই না ৷ সুতরাং তুমি আর তোমার
প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর; আমরা এখানেই বসে থাকবে৷ ৷ সে বলল, হে আমার
প্রতিপালক ! আমার ও আমার ভাই ব্যতীত অপর কারও উপর আমার আধিপত্য নেই ৷ সুতরাং
তুমি আমাদের ও সত্যত্যাপী সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে দাও ৷ আল্লাহ বললেন, তবে এটা
চল্লিশ বছর তাদের জন্য নিষিদ্ধ রইল, তারা পৃথিবীতে উদ ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে, সুতরাং তুমি
সতাত্যাগী সম্প্রদায়ের জন্য দু৪খ করবে না ৷ (সুরা মায়িদা : ২০ ২৬)
এখানে আল্লাহর নবী মুসা (আ) বনী ইসরাঈলেব উপর আল্লাহ তাআলা যে অনুগ্রহ
করেছিলেন, তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ৷ আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি ইহলৌকিক ও
পারলৌকিক নিয়াম৩ তসমুহ দান করে অনুগ্রহ করেছিলেন ৷ তাই আল্লাহর নবী তাদেরকে
আল্লাহর রাহে আল্লাহর দুশমনের বিরুদ্ধে জিহড়াদ করার জন্যে আদেশ দিচ্ছেন ৷
তিনি বললেন :
ষ্পুপ্রু ৷ক্ট্রত্রর্দুপ্রু£শ্ব র্বৃদ্বু^ ইট্রু৷ ৷ ; :é র্শে৷ ৷ ধ্ন্র্দুপু ৷ ঠুশ্ব ৷ ,£$$ ব্লু,দ্বুঙু
স্পো
اللَّهِ، اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ. قَالَ: قُلْتُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى لِمُوسَى " {اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ - إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 138 - 139] » .
وَالْمَقْصُودُ أَنَّ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، لَمَّا انْفَصَلَ مِنْ بِلَادِ مِصْرَ، وَوَاجَهَ بِلَادَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ وَجَدَ فِيهَا قَوْمًا مِنَ الْجَبَّارِينَ، مِنْ الْحَيْثَانِيِّينَ، وَالْفَزَارِيِّينَ، وَالْكَنْعَانِيِّينَ، وَغَيْرِهِمْ فَأَمَرَهُمْ مُوسَى، عَلَيْهِ السَّلَامُ، بِالدُّخُولِ عَلَيْهِمْ، وَمُقَاتَلَتِهِمْ وَإِجْلَائِهِمْ إِيَّاهُمْ عَنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَإِنَّ اللَّهَ كَتَبَهُ لَهُمْ، وَوَعَدَهُمْ إِيَّاهُ، عَلَى لِسَانِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ، وَمُوسَى الْكَلِيمِ الْجَلِيلِ، فَأَبَوْا وَنَكَلُوا عَنِ الْجِهَادِ، فَسَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْخَوْفَ، وَأَلْقَاهُمْ فِي التِّيهِ; يَسِيرُونَ، وَيَحِلُّونَ، وَيَرْتَحِلُونَ، وَيَذْهَبُونَ، وَيَجِيئُونَ، فِي مُدَّةٍ مِنَ السِّنِينَ طَوِيلَةٍ، هِيَ مِنَ الْعَدَدِ أَرْبَعُونَ; كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنْبِيَاءَ وَجَعَلَكُمْ مُلُوكًا وَآتَاكُمْ مَا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ - يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ - قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ - قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ - قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا أَبَدًا مَا دَامُوا فِيهَا فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ - قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ - قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [المائدة: 20 - 26]
[الْمَائِدَةِ: 20 - 26] .
পৃষ্ঠা - ৬৪১
অর্থাৎ হে আমার সম্প্রদায় ৷ পবিত্র ভুমিতে তোমরা প্রবেশ কর আর এটা তোমাদের
প্রতিপালক তোমাদের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন ৷ তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে না এবং
দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হতে বিরত থাকবে না ৷ যদি পশ্চাদপসরণ কর ও বিরত থাক
লাভের পর ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিপুর্ণতা ৷অর্জনের পর অপরিপুর্ণতার শিকার হয়ে ৷
প্রতিউত্তার তারা বলল,
সেখানে রয়েছে একটি দৃর্ধর্ষ, দুর্দাত ও কা ৷ফির সম্প্রদায় ৷ত তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বলতে লাগল
ট্ ’ ’ “’ “’ ৷;ৰুাদ্বু
অর্থাৎ যতক্ষণ না ঐ সম্প্রদায়টি সেখান থেকে বের হয়ে যায় আমরা যেখানে প্রবেশ
করব না ৷ যখন তারা বের হয়ে যাবে আমরা সেখানে প্রবেশ করব, অথচ তারা ফিরআউনের
ৎস ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ করেছে ৷ আর সে ছিল এদের তুলনায় অধিকতর দুর্দান্ত, অধিকতর
যুদ্ধ-কুশলী এবং সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে প্রবলতর ৷ এ থেকে বোঝা যায় যে, তারা তাদের
এরুপ উজ্যি ফলে ভব্লুসনার যােগ্য এবং থােদাদ্রোহী হতভাগ্য, দৃর্দাম্ভ শত্রুদের মুকাবিল৷ থেকে
বিরত থেকে লাঞ্চুন৷ ও নিন্দার যোগ্য ৷
এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বহু তাফসীরকার বিভিন্ন ধরনের কল্প-কাহিনী ও বিবেকের
কাছে অ্যাহণীয় এবং বিশুদ্ধ বর্ণনা বিবর্জিত তথ্যাদি পেশ করেছেন ৷ যেমন কেউ কেউ
বলেছেন, বনী ইসরাঈলের প্রতিপক্ষ দৃর্দাত্ত সম্প্রদায়ের লোকজন বিরাট দেহের অধিকারী ও
ভীষণ আকৃতির ছিল ৷ তারা এরুপও বর্ণনা করেছেন যে, বনী ইসরাঈলের দুতরা যখন তাদের
কাছে পৌছল , তখন সে দৃদত্তি সম্প্রদায়ের দুতদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি তাদের সাথে সাক্ষাত
করল এবং তাদেরকে একজন একজন করে পাকড়াও করে আন্তিনের মধ্যে ও পায়জামার
ফিতার সাথে জড়াতে লাগল, দুতরা সংখ্যায় ছিল বারজন ৷ সােকঢি তাদেরকে তাদের বাদশাহর
সম্মুখে ফেলল ৷ বাদশাহ বলল, এগুলো কি? তারা যে আদম সন্তান সে চিনতেই পারল না ৷
অবশেষে তারা তার কাছে তাদের পরিচয় দিল ৷
এসব কল্প-কাহিনী ভিত্তিহীন ৷ এ সম্পর্কে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, বাদশাহ তাদের ফেরৎ
যাওয়ার সময় তাদের সাথে কিছু আঙ্গুর দিয়েছিল ৷ প্রতিটি আঙ্গুর একজন লোকের জন্যে যথেষ্ট
ছিল ৷ তাদের সাথে আরো কিছু ফলও সে দিয়েছিল, যাতে তারা তাদের দেহের আকার-আকৃতি
সম্বন্ধে ধারণা করতে পারে ৷ এই বর্ণনাটিও বিশুদ্ধ নয় ৷ এ প্রসঙ্গে তারা আরো বর্ণনা করেছেন
যে, দৃর্ধষ ব্যক্তিদের মধ্য হতে ৩উক্ত ইবন অ ৷নাক নামী এক ব্যক্তি বনী ইসরাঈলকে ধ্বংস করার
জন্যে বনী ইসরাঈলের দিকে এগিয়ে আসল ৷ তার উচ্চতা ছিল ৩৩৩তুষ্টু হাত ৷ বাগড়াবী প্রমুখ
তাফসীরকারগণ এরুপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা শুদ্ধ নয় ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) এর হাদীস :
অর্থাৎ-অ ল্লআাহ আদমকে যা ৷ট হাত উচ্চতা বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেন তারপর ক্রমে ক্রমে
কমতে কমতে তা এ পর্যায়ে এসে পৌছেছে এর ব্যাখ্যা বর্ণনা প্রসঙ্গে তা বিস্তারিত আলোচনা
يُذَكِّرُهُمْ نَبِيُّ اللَّهِ نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْهِمْ، إِحْسَانَهُ عَلَيْهِمْ بِالنِّعَمِ الدِّينِيَّةِ وَالدُّنْيَوِيَّةِ، وَيَأْمُرُهُمْ بِالْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمُقَاتَلَةِ أَعْدَائِهِ، فَقَالَ: {يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ} [المائدة: 21] أَيْ; تَنْكِصُوا عَلَى أَعْقَابِكُمْ، وَتَنْكِلُوا عَلَى قِتَالِ أَعْدَائِكُمْ. {فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ} [المائدة: 21] أَيْ; فَتَخْسَرُوا بَعْدَ الرِّبْحِ، وَتَنْقُصُوا بَعْدَ الْكَمَالِ. {قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ} [المائدة: 22] أَيْ; عُتَاةً كَفَرَةً مُتَمَرِّدِينَ، {وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ} [المائدة: 22] ، خَافُوا مِنْ هَؤُلَاءِ الْجَبَّارِينَ، وَقَدْ عَايَنُوا هَلَاكَ فِرْعَوْنَ، وَهُوَ أَجْبَرُ مِنْ هَؤُلَاءِ، وَأَشَدُّ بَأْسًا، وَأَكْثَرُ جَمْعًا، وَأَعْظَمُ جُنْدًا. وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُمْ مَلُومُونَ فِي هَذِهِ الْمَقَالَةِ، وَمَذْمُومُونَ عَلَى هَذِهِ الْحَالَةِ، مِنَ الذِّلَّةِ عَنْ مُصَاوَلَةِ الْأَعْدَاءِ، وَمُقَاوَمَةِ الْمَرَدَةِ الْأَشْقِيَاءِ.
وَقَدْ ذَكَرَ كَثِيرٌ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ هَاهُنَا آثَارًا، فِيهَا مُجَازَفَاتٌ كَثِيرَةٌ بَاطِلَةٌ، يَدُلُّ الْعَقْلُ وَالنَّقْلُ عَلَى خِلَافِهَا; مِنْ أَنَّهُمْ كَانُوا أَشْكَالًا هَائِلَةً ضِخَامًا جِدًّا، حَتَّى إِنَّهُمْ ذَكَرُوا أَنَّ رُسُلَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، لَمَّا قَدِمُوا عَلَيْهِمْ، تَلَقَّاهُمْ رَجُلٌ مِنْ رُسُلِ الْجَبَّارِينَ، فَجَعَلَ يَأْخُذُهُمْ وَاحِدًا وَاحِدًا، وَيَلُفُّهُمْ فِي أَكْمَامِهِ وَحُجْزَةِ سَرَاوِيلِهِ، وَهُمُ اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا، فَجَاءَ بِهِمْ، فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْ مَلِكِ الْجَبَّارِينَ، فَقَالَ: مَا هَؤُلَاءِ؟ وَلَمْ يَعْرِفْ أَنَّهُمْ مِنْ بَنِي آدَمَ حَتَّى عَرَّفُوهُ. وَكُلُّ هَذِهِ هَذَيَانَاتٌ
পৃষ্ঠা - ৬৪২
করা হয়েছে ৷ তারা আরো বলেন, উজ নামের উক্ত ব্যক্তিটি একটি পাহাড়ের চুড়ার প্রতি তাকাল
তা উপড়িয়ে নিয়ে আসল এবং মুসা (আ)-এর সৈন্য-সামন্তের উপর রেখে দেবার মনস্থ
করল, এমন সময় একটি পাখি আসল ও পাথরের পাহাড়টিকে ঠোকর দিল এবং তা ছিদ্র করে
ফেলল ৷ ফলে উজের গলায় তা বেড়ীর মত বসে গেল ৷ তখন মুসা (আ) তার দিকে অগ্রসর
হয়ে লাফ দিয়ে ১০ হাত উপরে উঠলেন ৷ তার উচ্চতা ছিল ১০ হাত তখন মুসা (আ)-এর
সাথে তার লাঠিটি ছিল ৷ আর লাঠিটির উচ্চতাও ছিল ১০ হাত ৷ মুসা (আ) এর লাঠি তার
পায়ের পির্টের কাছে পৌছল এবং মুস৷ (আ)৩ তাকে লাঠি দ্বারা বধ করলেন ৷ উক্ত বর্ণনাটি
আওফ আল-বাকালী (র) থেকে বর্ণিত হয়েছে ৷ ইবন জারীর (র) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা)
থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তার এ বর্ণনার সনদের বিশুদ্ধতড়ায় মত বিরােধ রয়েছে ৷ এ ছাড়াও
এগুলো সবই হচ্ছে ইসরাঈলী বর্ণনা ৷ এর সব বর্ণনা বনী ইসরাঈলের মুর্থদের রচিত ৷ এসব
মিথ্যা বর্ণনার সংখ্যা এত অধিক যে, এগুলোর মধ্যে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা খুবই দৃরুহ
ব্যাপার ৷ এগুলোকে সত্য বলে মেনে নিলে বনী ইসরাঈলকে যুদ্ধে যোগদান না করার কিৎবা
যুদ্ধ হতে বিরত থাকার ব্যাপারে ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচনা করতে হয় ৷ কিন্তু আল্লাহ তাআলা
তাদেরকে যুদ্ধ হতে বিরত থাকার জন্যে শাস্তি প্রদান করেছেন, জিহাদ না করার জন্যে এবং
তাদের রাসুলের বিরোধিতা করার জন্যে তাদেরকে র্তীহের ময়দানে চল্লিশ বছর যাবত ভবঘুরে
জীবন যাপন করার শাস্তি দিয়েছেন ৷ দুজন পুণবােন ব্যক্তি তাদেরকে যুদ্ধ করার জন্যে অগ্রসর
হতে এবং যুদ্ধ পরিহড়ারের মনোভাব প্রত্যাহার করার জন্যে যে উপদেশ দান করেছিলেন, তা
আল্লাহ্ তাআলা উপরোক্ত আয়াতে ইংগিত করেছেন ৷ কথিত আছে, উক্ত দু’জন ছিলেন ইউশা
ইবন নুন (আ) ও কালিব ইবন ইউকান্ন৷ ৷ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (বা), মুজাহিদ (র) ,
ইকরিমা (র), আতীয়্যা (র) , সুদ্দী (র), রবী ইবন আনাস (র) ও আরো অনেকে এ মত ব্যক্ত
করেছেন ৷
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ং
অর্থাৎ যারা ভয় করে কিৎব৷ যারা ভীত তাদের মধ্য হতে দুইজন যাদেরকে আল্লাহ
তাআলা ঈমান, ইসলাম, আনুগত্য ও সাহস প্রদান করেছেন, তারা বললেন, দরজা দিয়ে
তাদের কাছে ঢুকে পড় এবং ঢুকে পড়লেই তোমরা জয়ী হয়ে যাবে ৷ আর যদি তোমরা আল্লাহ
৷ আলাব উপর তাওয়াক্কুল রাখ তার কাভ্রুইে সাহায্য চাও এবং তার কাছেই আশ্রয় চাও,
আল্লাহ তা জানা তােমাদেরকে তোমাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন এবং তােমাদেরকে
বিজয়ী করবেন ৷ তখন তারা বলল, হে মুসা ! যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্দান্ত সম্প্রদায় উক্ত শহরে অবস্থান
করবে, আমরা সেখানে প্রবেশ করব না ৷ তুমি ও তোমার প্রতিপালক তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর,
আমরা এখানেই বসে রইলাম ৷ ’ (সুরা মায়িদা : ২৩ ২৪ )
যোটকথা, বনী ইসরাঈলের সর্দাররা জিহাদ হতে ৩বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিল ৷ এর ফলে
বিরটি বিপর্যয় ঘটে গেল ৷ কথিত আছে, ইউশা (আ) ও কালিব (আ) য়খন তাদের এরুপ উক্তি
وَخُرَافَاتٌ لَا حَقِيقَةَ لَهَا، وَأَنَّ الْمَلِكَ بَعَثَ مَعَهُمْ عِنَبًا، كُلُّ عِنَبَةٍ تَكْفِي الرَّجُلَ، وَشَيْئًا مِنْ ثِمَارِهِمْ; لِيَعْلَمُوا ضَخَامَةَ أَشْكَالِهِمْ، وَهَذَا لَيْسَ بِصَحِيحٍ. وَذَكَرُوا هَاهُنَا أَنَّ عُوجَ بْنَ عُنُقَ، خَرَجَ مِنْ عِنْدِ الْجَبَّارِينَ إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ; لِيُهْلِكَهُمْ، وَكَانَ طُولُهُ ثَلَاثَةَ آلَافِ ذِرَاعٍ، وَثَلَاثَمِائَةِ ذِرَاعٍ، وَثَلَاثَةً وَثَلَاثِينَ ذِرَاعًا، وَثُلْثَ ذِرَاعٍ، هَكَذَا ذَكَرَهُ الْبَغَوِيُّ وَغَيْرُهُ، وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ، كَمَا قَدَّمْنَا بَيَانَهُ عِنْدَ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ، طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، ثُمَّ لَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ حَتَّى الْآنَ» . قَالُوا: فَعَمَدَ عُوجُ إِلَى قِمَّةِ جَبَلٍ، فَاقْتَلَعَهَا، ثُمَّ أَخَذَهَا بِيَدَيْهِ; لِيُلْقِيَهَا عَلَى جَيْشِ مُوسَى، فَجَاءَ طَائِرٌ، فَنَقَرَ تِلْكَ الصَّخْرَةَ، فَخَرَقَهَا، فَصَارَتْ طَوْقًا فِي عُنُقِ عُوجَ بْنِ عُنُقَ، ثُمَّ عَمَدَ مُوسَى إِلَيْهِ، فَوَثَبَ فِي الْهَوَاءِ عَشَرَةَ أَذْرُعٍ، وَطُولُهُ عَشَرَةُ أَذْرُعٍ، وَبِيَدِهِ عَصَاهُ، وَطُولُهَا عَشَرَةُ أَذْرُعٍ، فَوَصَلَ إِلَى كَعْبِ قَدَمِهِ فَقَتَلَهُ. يُرْوَى هَذَا عَنْ نَوْفٍ الْبِكَالِيِّ، وَنَقَلَهُ ابْنُ جَرِيرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَفِي إِسْنَادِهِ إِلَيْهِ نَظَرٌ. ثُمَّ هُوَ مَعَ هَذَا كُلِّهِ مِنَ الْإِسْرَائِيلِيَّاتِ، وَكُلُّ هَذِهِ مِنْ وَضْعِ جُهَّالِ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَإِنَّ الْأَخْبَارَ الْكِذْبَةَ قَدْ كَثُرَتْ عِنْدَهُمْ، وَلَا تَمْيِيزَ لَهُمْ بَيْنَ صَحِيحِهَا وَبَاطِلِهَا. ثُمَّ لَوْ كَانَ هَذَا
পৃষ্ঠা - ৬৪৩
শুনতে পেলেন (তখনকার নিয়ম অনুযায়ী) তারা তাদের কাপড় ছিড়ে ফেলেন এবং মুসা (আ)
ও হারুন (আ) এই অশ্রাব্য কথার জন্য আল্লাহ্ তাআলার গযব থেকে পরিত্রাণের জন্যে বনী
ইসরাঈলের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমত কামনা করে সিজদায় পড়ে পেলেন ৷
মুসা (আ) বললেন :
শুতৃাএ
হে আমার প্ৰতিপালক ! আমার ও আমার ভাই ছাড়া আর কারো উপর আমার
আধিপত্য সেই ৷ সুতরাং তুমি আমাদের ও সতত্যাগী সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে দাও ৷
(সুরা মায়িদা : ২৫)
উক্ত আয়াতে উল্লেখিত আয়াতাংশের অর্থ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) বলেন,
এটার অর্থ হচ্ছে আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন ৷
আল্লাহ্তাআলা বলেন : (
ণ্
অর্থাৎ জিহাদ হতে বিরত থাকার জন্য তাদেরকে এ শাস্তি দেয়া হয়েছিল যে , তারা
চল্লিশ বছর যাবত দিন-রাত সকাল-সন্ধ্যড়া তীহ ময়দানে উদ্দেশ্যৰিহীনভাবে ভবঘুরে জীবন
যাপন করবে ৷ (সুরা মায়িদা : ২৬)
কথিত আছে, তাদের যারা তীহ ময়দানে প্রবেশ করেছিল তাদের কেউ বের হতে পারেনি
বরং তাদের সকলে এই চল্লিশ বছরে সেখানে মৃত্যুবরণ করেছিল ৷ কেবল তাদের ছেলে মেয়েরা
এবং ইউশা (আ) ও কালিব (আ) বেচে ছিলেন ৷ বদরের দিন রাসুলুল্লাহ (না)-এর সাহাবীপণ
মুসা (আ)-এ্যার সম্প্রদায়ের ন্যায় বলেননি ৷ বরং তিনি যখন তাদের কাছে যুদ্ধে যাবার বিষয়ে
পরামর্শ করলেন, তখন আবু বকর সিদ্দীক (বা) এ ব্যাপারে কথা বললেন, আবু বকর (রা) ও
অন্যান্য মুহাজির সাহাবী এ ব্যাপারে উত্তম পরামর্শ দিলেন ৷ অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন,
তোমরা আমাকে এ ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান কর ৷ ’ শেষ পর্যন্ত সাদ ইবন মুযায (বা) বলেন,
সম্ভবত আপনি আমাদের দিকেই ইঙ্গিত করছেন ইয়া রাসুলাল্পাহ৷ সেই সত্তার শপথ, যিনি
আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, যদি আপনি আমাদেরকে নিয়ে এ সমুদ্র পাড়ি দিতে
চান অতঃপর আপনি এটাতে বাড়াপিয়ে পড়েন, তবে আমরাও আপনার সাথে বাপিয়ে পড়তে
প্রস্তুত ৷ আমাদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তিই পিছু হটে থাকবে না ৷ আগামীকালই যদি
আমাদেরকে শত্রুর মুকাবিলা করতে হয় আমরা যুদ্ধে ধৈর্যের পরিচয় দেব এবং মুকাৰিলার সময়
দৃঢ় থাকর ৷ হয়ত শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে এমন আচরণ প্রদর্শন
করাবেন যাতে আপনার চোখ জুড়াবে ৷ সুতরাং আপনি আল্লাহ্ তাআলার উপর ভরসা করে
রওয়ানা হতে পারেন ৷ তার কথায় রাসুলুল্পাহ (সা) অত্যন্ত প্রীত হলেন ৷
صَحِيحًا لَكَانَ بَنُو إِسْرَائِيلَ مَعْذُورِينَ فِي النُّكُولِ عَنْ قِتَالِهِمْ، وَقَدْ ذَمَّهُمُ اللَّهُ عَلَى نُكُولِهِمْ، وَعَاقَبَهُمْ بِالتِّيهِ عَلَى تَرْكِ جِهَادِهِمْ، وَمُخَالَفَتِهِمْ رَسُولَهُمْ، وَقَدْ أَشَارَ عَلَيْهِمْ رَجُلَانِ صَالِحَانِ مِنْهُمْ بِالْإِقْدَامِ، وَنَهَيَاهُمْ عَنِ الْإِحْجَامِ. وَيُقَالُ: إِنَّهُمَا يُوشَعُ بْنُ نُونٍ، وَكَالِبُ بْنُ يُوفَنَّا. قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٌ، وَعِكْرِمَةُ، وَعَطِيَّةُ، وَالسُّدِّيُّ، وَالرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ.
{قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ} [المائدة: 23] أَيْ; يَخَافُونَ اللَّهَ وَقَرَأَ بَعْضُهُمْ: (يُخَافُونَ) ; أَيْ يُهَابُونَ، {أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا} [المائدة: 23] أَيْ; بِالْإِسْلَامِ، وَالْإِيمَانِ، وَالطَّاعَةِ، وَالشَّجَاعَةِ: {ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [المائدة: 23] أَيْ; إِذَا تَوَكَّلْتُمْ عَلَى اللَّهِ، وَاسْتَعَنْتُمْ بِهِ، وَلَجَأْتُمْ إِلَيْهِ، نَصَرَكُمْ عَلَى عَدُوِّكُمْ، وَأَيَّدَكُمْ عَلَيْهِمْ، وَأَظْفَرَكُمْ بِهِمْ.
{قَالُوا يَامُوسَى إِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا أَبَدًا مَا دَامُوا فِيهَا فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] فَصَمَّمَ مَلَؤُهُمْ علىالنُّكُولِ عَنِ الْجِهَادِ، وَوَقَعَ أَمْرٌ عَظِيمٌ، وَوَهَنٌ كَبِيرٌ. فَيُقَالُ: إِنَّ يُوشَعَ، وَكَالِبَ لَمَّا سَمِعَا هَذَا الْكَلَامَ شَقَّا ثِيَابَهُمَا، وَإِنَّ مُوسَى وَهَارُونَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، سَجَدَا; إِعْظَامًا لِهَذَا الْكَلَامِ وَغَضَبًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَشَفَقَةً عَلَيْهِمْ مِنْ وَبِيلِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ.
{قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [المائدة: 25]
পৃষ্ঠা - ৬৪৪
ইমাম আহমদ (ব) ইবন শিহাব (র) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, সাহাবী হযরত
মিকদাদ (রা) রাসুলুল্লাহ (সা)-কে বদরের যুদ্ধের দিন বললেন, হে আল্লাহর রাসুল ৷ আমরা
আপনাকে যেরুপ বলব না, যেরুপ বনী ইসরাঈল মুসা (আ) কে বস্তুলজ্জিং
অর্থাৎ ভুমি ও তোমার প্রতিপালক যুদ্ধ কর আমরা এখানে বসে বইলাম, বরং আমরা
বলব, আপনি ও আপনার প্রতিপালক যুদ্ধে যাত্রা করুন, আমরাও আপনাদের সাথে যুদ্ধে শরীক
থাকবাে ৷ ’
উল্লেখিত হাদীসের এ সনদটি উত্তম ৷ অন্য অনেক সুত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ৷
ইমাম আহমদ (র) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আমি
মিকদাদ (রা)-কে এমন একটি যুদ্ধে উপস্থিত হতে দেখেছি, যে যুদ্ধে তার অবস্থান এত
গৌরবজনক ছিল যে, আমি যদি সে অবস্থানে থাকতাম তবে তা অন্য যে কোন কিছুর চাইতে
আমার কাছে প্রিয়তর হতো ৷ ’ রাসুলুল্লাহ (সা) মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়ায় রত ছিলেন,
এমন সময় মিকদাদ (রা) রাসুল (সা) এর খিদমতে হাযির হয়ে আরব করলেন, আল্লাহ্র শপথ
হে আল্লাহ্র রাসুল! আমরা আপনাকে এরুপ বলব না, যেরুপ বনী ইসরাঈলরা মুসা (আ ) কে
বলেছিল৪ ৷পু;ছুণ্, ৷দ্বু৷ ১াওাম্বুণ্ এভুদ্বুর্চু পুট্রু ৷ এ্যা৷ ৷ বরং আমরা যুদ্ধ করব, আপনার
ডানপাশে আপনার বামপাশে, আপনার সামনে ও পিছন থেকে আমরা প্রাণ দিয়ে কাফিরদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব ৷ এ কথা শুনাবপর আমি রাসুল (না)-এর চেহারা মুবারক উজ্জ্বল হয়ে উঠতে
দেখতে পেলাম ৷ তিনি এতে খুশী হয়েছিলেন ৷
ইমাম বুখারী (র) তার গ্রন্থের তাফসীর এবং মাপাযী অধ্যায়ে এ বর্ণনা পেশ করেছেন ৷
হাফিজ আবু বকর মারদােয়েহ্ (ব) আনাস (বা) হতে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ
(সা) যখন বদরের দিকে বওয়ানা হলেন, তখন তিনি মুসলমানদের সাথে পরামর্শ করলেন ৷
উমর (রা) র্তাকে সুপরামর্শ দিলেন ৷ তারপর হুযুব (সা) আনসারগণের পরামর্শ চাইলেন ৷ কিছু
ৎখ্যক আনসার অন্যান্য আনসারকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায় ৷ রাসুলুল্লাহ
(সা) যুদ্ধের ব্যাপারে তোমাদের পরামর্শ চাইছেন ৷ তখন আনসারগণ বললেন আমরা
রাসুলুল্লাহ (সা) কে এরুপ বলব না যেরুপ বনী ইসরাঈল মুসা (আ) কে বলেছিল৪া১ ১
§:“fi ৷১ছুই১ ৷ ৷ ১র্দুাএোর্দ্র ’§ ১১ ৷ যে সত্তা আপনাকে সত্যসহকারে প্রেরণ
করেছেন তার শপথ, আমাদেরকে যদি পৃথিবীর অতি দুরতম অংশে ও মুকাবিলার জন্যে যেতে
বলা হয়, নিশ্চয়ই আমরা আপনার আনুগত্য করব ৷ ইমাম আহমদ (র) বিভিন্ন সুত্রে আনাস
(রা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা পেশ করেছেন ৷ ইবন হিব্বান (র) তার সহীহ গ্রন্থেও অনুরুপ বর্ণনা
করেছেন ৷
বনী ইসরাঈলের তীহ প্রাম্ভরে প্রবেশ ও অত্যাশ্চর্য ঘটনাবলী
পুর্বোল্লিখিত দৃর্দান্ত জাতির বিরুদ্ধে বনী ইসরাঈলের জিহাদ করা হতে বিরত থাকার
বিষয়টি উপরে বর্ণনা করা হয়েছে ৷ এ কারণে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে তীহ প্রাম্ভার
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ. {قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [المائدة: 26] عُوقِبُوا عَلَى نُكُولِهِمْ بِالتَّيَهَانِ فِي الْأَرْضِ، يَسِيرُوا إِلَى غَيْرِ مَقْصِدٍ، لَيْلًا وَنَهَارًا، وَصَبَاحًا وَمَسَاءً. وَيُقَالُ: إِنَّهُ لَمْ يَخْرُجْ أَحَدٌ مِنَ التِّيهِ مِمَّنْ دَخَلَهُ، بَلْ مَاتُوا كُلُّهُمْ فِي مُدَّةِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، وَلَمْ يَبْقَ إِلَّا ذَرَّارِيُّهُمْ سِوَى يُوشَعَ، وَكَالِبَ، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ.
لَكِنَّ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَوْمَ بَدْرٍ، لَمْ يَقُولُوا لَهُ كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى لِمُوسَى، بَلْ لَمَّا اسْتَشَارَهُمْ فِي الذَّهَابِ إِلَى النَّفِيرِ، تَكَلَّمَ الصِّدِّيقُ فَأَحْسَنَ، وَغَيْرُهُ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ: «أَشِيرُوا عَلَيَّ حَتَّى قَالَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ: كَأَنَّكَ تُعَرِّضُ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَوِ اسْتَعْرَضْتَ بِنَا هَذَا الْبَحْرَ فَخُضْتَهُ لَخُضْنَاهُ مَعَكَ، مَا تَخَلَّفَ مِنَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ، وَمَا نَكْرَهُ أَنْ يَلْقَى بِنَا عَدُوَّنَا غَدًا، إِنَّا لَصُبُرٌ فِي الْحَرْبِ صُدُقٌ فِي اللِّقَاءِ، لَعَلَّ اللَّهَ يُرِيكَ مِنَّا مَا تَقَرُّ بِهِ عَيْنُكَ. فَسِرْ بِنَا عَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ. فَسُرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِ سَعْدٍ، وَبَسَطَهُ ذَلِكَ.»
وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَحْمَسِيِّ، عَنْ طَارِقٍ هُوَ ابْنُ شِهَابٍ، أَنَّ الْمِقْدَادَ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ بَدْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا لَا نَقُولُ لَكَ كَمَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى:
পৃষ্ঠা - ৬৪৫
{فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] وَلَكِنِ اذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا مَعَكُمْ مُقَاتِلُونَ. وَهَذَا إِسْنَادٌ جَيِّدٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلَهُ طُرُقٌ أُخْرَى.
قَالَ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مُخَارِقٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: لَقَدْ شَهِدْتُ مِنَ الْمِقْدَادِ مَشْهَدًا، لَأَنْ أَكُونَ أَنَا صَاحِبَهُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا عُدِلَ بِهِ; أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ يَدْعُو عَلَى الْمُشْرِكِينَ، فَقَالَ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا نَقُولُ لَكَ كَمَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى: {فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] وَلَكُنَّا نُقَاتِلُ عَنْ يَمِينِكَ، وَعَنْ يَسَارِكَ، وَمِنْ بَيْنِ يَدَيْكَ، وَمِنْ خَلْفِكَ. فَرَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُشْرِقُ لِذَلِكَ، وَسُرَّ بِذَلِكَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي التَّفْسِيرِ وَالْمَغَازِي، مِنْ طُرُقٍ عَنْ مُخَارِقٍ بِهِ. وَقَالَ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدَوَيْهِ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا سَارَ إِلَى بَدْرٍ اسْتَشَارَ الْمُسْلِمِينَ، فَأَشَارَ عَلَيْهِ عُمَرُ، ثُمَّ اسْتَشَارَهُمْ، فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ، إِيَّاكُمْ يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالُوا: إِذًا لَا نَقُولُ لَهُ كَمَا قَالَ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى: {فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} [المائدة: 24] وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَوْ ضَرَبْتَ أَكْبَادَهَا إِلَى بَرْكِ الْغِمَادِ لَاتَّبَعْنَاكَ» . رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ، عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ حُمَيْدٍ
পৃষ্ঠা - ৬৪৬
ভবঘুরের মত বিচরণের শান্তি দেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, চল্লিশ বছর তারা সেখান
থেকে বের হতে পারবে না ৷ কিতাবীদের প্রন্থাদিতে জিহাদ থেকে বিরত থাকার বিষয়টি আমার
চোখে পড়েনি বরং তাদের কিভাবে রয়েছে, “মুসা (আ) একদিন ইউশা (আ) কে কড়াফিরদের
একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করার প্রস্তুতি নিতে হুকুম দিলেন ৷ আর মুসা (আ), হড়ারুন
(আ) ও পাের নামক এক ব্যক্তি একটি টিলার চুড়ায় বলেছিলেন ৷ মুসা (আ) তার লাঠি উপরের
দিকে উঠালেন, যখনই তিনি তার লড়াঠি উপরের দিকে উঠিয়ে রাখতেন, তখনই ইউশা (আ)
শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ী হতেন ৷ আর যখনই লড়াঠিসহ তার হাত ক্লান্তি কিংবা অন্য কারণে নিচে
নেমে আসত তখনই শত্রুদল বিজয়ী হতে থাকত ৷ তাই হারুন (আ) ও পাের মুসা (আ) এর
দুই হাতকে সুর্ষাস্ত পর্যন্ত ডানে, বামে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন ৷ ইউশা (আ)-এর সৈন্য দল
জয়লাভ করল ৷
কিতাবীদের মতে, ইউশা (আ)-এর সেনাবাহিনী সকলে মাদায়ানকে পছন্দ করত ৷ মুসা
(আ)-এর শ্বশুরের কাছে মুসা (আ)-এর যাবতীয় ঘটনার সংবাদ পৌছল ৷ আর এ খবর পৌছল
যে, কিভাবে আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আ)-কে তার শত্রু ফিরআউনের বিরুদ্ধে বিজয় দান
করেছেন ৷ তাই তিনি মুসা (আ)-এর কাছে আনুগত্য সহকারে উপস্থিত হলেন ৷ তার সাথে
ছিলেন তার মেয়ে সাকুরা ৷ সাকুরা ছিলেন মুসা (আ)-এর শ্রী ৷ তার সাথে মুসা (আ)-এর দুই
পুত্র জারশুন এবং আটিরও ছিলেন ৷ মুসা (আ) তার শ্বশুরের সাথে সাক্ষাত করলেন ৷ তিনি
তাকে সম্মান প্রদশ্নি করলেন ৷ তার সাথে বনী ইসরাঈলের মুরুববীগণও সাক্ষাত করলেন,
র্তারাও তার প্রতি সমান প্রদর্শন করলেন ৷
কিতাবীরা আরো উল্লেখ করে যে, মুসা (আ)-এর শ্বশুর দেখলেন যে, ঝগড়া বিবাদের সময়
বনী ইসরাঈলের একটি দল মুসা (আ)-এর কাছে ভিড় জমায় ৷ তাই তিনি মুসা (আ)-কে
পরামর্শ দিলেন, তিনি যেন জনগণের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক আমানতদাব, পরহেযপার ও
চরিত্রবান প্রশাসক নিযুক্ত করেন ৷ যারা ঘুষ ও খিয়ড়ানতকে ঘৃণা করেন ৷ তিনি যেন তাদেরকে
বিভিন্ন স্তরের প্রধানরুপে নিযুক্ত করেন ৷ যেমন প্রতি হাজারের জন্যে, প্রতি শতের জন্যে, প্রতি
পঞ্চাশজনের জন্য এবং প্রতি দশজনের জন্য একজন করে ৷ তারা জনগণের মধ্যে বিচড়ারকার্য
সমাধা করবেন ৷ তাদের কর্তব্য সমাধানে যদি কোন প্রকার সমস্যা দেখা দেয়, তখন তারা
আপনার কাছে ফায়সালার জন্যে আসবে এবং আপনি তাদের সমস্যার সমাধান দেবেন ৷ মুসা
(আ) সেরুপ শাসনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেন ৷
কিতাবীরা আরো বলেন, মিসর থেকে বের হবার তৃতীয় মাসে বনী ইসরাঈলরা সিনাইর
কাছে সমতল ভুমিতে অবতরণ করেন ৷ তারা তাদের কাছে চলতি বছরের প্রথম মাসে মিসর
থেকে বের হয়েছিলেন ৷ এটা ছিল বসন্ত ঋতৃর সুচনাকাল ৷ কাজেই তারা যেন গ্রীষ্মের প্রারম্ভে
তীহ নামক ময়দানে প্রবেশ করেছিলেন ৷ আল্লাহই অধিকতর জ্ঞাত ৷
কিতাবীরা বলেন, বনী ইসরাঈলগণ সিনাইয়ের তুর পাহাড়ের পাশেই অবতরণ করেন ৷
অতঃপর মুসা (আ) তুর পাহাড়ে আরোহণ করেন এবং তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বলেন ৷
আল্লাহ্ তাআলা তাকে হুকুম দিলেন, তিনি যেন বনী ইসরাইলকে আল্লাহ্ তাআলা যেসব
الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسٍ بِهِ. وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ بِهِ نَحْوَهُ. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي " صَحِيحِهِ "، عَنْ أَبِي يَعْلَى، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ حَمَّادٍ، عَنْ مُعْتَمِرٍ عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ بِهِ نَحْوَهُ.