سنة ثلاث عشرة من الهجرة
وقعة اليرموك
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৩
তাকে পরাজিত করেন ৷ সে দামেশকে পালিয়ে যায় ৷ পেছন ধাওয়৷ করে দামেশকে পৌছে
খালিদ ইবন সাঈদ মাহানের নিকট এসে যান ৷ শত্রুপক্ষের নিকট জিঘৃয়া কর দাবি করেন ৷
মুসলিম সৈন্যগণ মারজ আস সাফরা’ অঞ্চলে পৌছে যায় ৷ মাহড়ানের সৈন্যপণ মুসলমানদের
উপর পাল্টা আক্রমণ করে ৷ মাহান নিজে যুদ্ধে অংশ নেয় ৷ খালিদ ইবন সাঈদ পালিয়ে যান ৷
তিনি যুল মারওয়া’তে আসতে পারেন নি ৷ রোমান সৈনিকগণ প্রচণ্ড আক্রমণ পরিচালনা করে
মুসলিম সেনাবাহিনীর উপর ৷ তারা বিজয় লাভ করে ৷ অশ্বারোহী মুসলিম সৈনিকগণ পালিয়ে
যায় ৷ ইকরামা ইবন আবু জাহ্ল দৃঢ়ভ ৩াবে অবস্থান করেন ৷ তিনি সিরিয়া থেকে সামান্য কিল্ ছুদুর
পিছিয়ে আসেন ৷ যে সকল মুসলিম সৈনিক পালিয়ে আসছিল তিনি তাদেরকে আশ্রয়ও
বিশ্রামের ব্যবস্থা করছিলেন ৷ শুরাহ্বীল ইবন হাসানাহ্ (রা) ইরাকে অবস্থানরত খালিদ ইবন
ওয়ালীদের নিকট থেকে মদীনায় খলীফার নিকট ফিরে আসেন ৷ খলীফা তাকে সংশ্লিষ্ট
সৈনিকদের সেনাপতি মনোনীত করে সিরিয়ার দিকে পাঠিয়ে দেন ৷ যুল মারওয়াতে খালিদের
সৈনিকদের নিকট যখন তিনি পৌছেন তখন পলাতক সবলে সৈনিক তার সাথে যোগ দেয় ৷
এরপর কতক লোক হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর নিকট একত্রিত হয় ৷ তিনি মু আৰিয়া-
ইবন আবু সুফিয়ানকে ওদের সেনাপতি মনোনীত করেন এবং তার সহােদর ইয়াষীদ ইবন আবু
সুফয়ানের সহযোগিতার জন্যে প্রেরণ করেন ৷ তিনি খালিদ ইবন সাঈদের পাশ দিয়ে যাবার
সময় যুল মারওয়৷ তে অবস্থানকারী অন্যান্য সৈনিককে সাথে নিয়ে নেন এবং সিরিয়ার উদ্দেশ্যে
যাত্রা করেন ৷ এরপর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) খালিদ ইবন সাঈদকে মদীনায় প্রবেশের
অনুমতি দেন ৷ তিনি বলেন যে, খালিদ সম্পর্কে উমর (রা) অধিক অবগত ছিলেন ৷
ইয়ারমুকের যুদ্ধ
সায়ফ ইবন উমরের মতে এই বছরের দামেশক বিজয়ের পুর্বে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷
আবু জাফর ইবন জারীর তাবারী (র) এই মত সমর্থন করেছেন ৷ অন্যদিকে ইয়াযীদ ইবন আবু
উবায়দাহ্, ওয়ালীদ, ইবন লাহিআ, লায়ছ ও আবু মাশার প্রমুখের সুত্রে ইবন আসাকির (র)
উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৫ হিজরী সনে দামেশৃক বিজয়ের পর ৷
মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের বর্ণনায় এটি সংঘটিত হয়েছে ১৫ হিজরী সনের রজব মাসে ৷ খিয়াতের
পুত্র খলীফা ইবন কালবী সুত্রে বলেন যে, ইয়ারমুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৫ হিজরী সনের
৫ই রজব সােমবারে ৷ ইবন আসাকির মন্তব্য করেছেন যে, এই অভিমত অধিকতর বিশুদ্ধ ৷
সায়ফ (রা) বলেছেন যে, এটি সংঘটিত হয়েছে ১৩ হিজরী সনে দামেশৃক বিজয়ের পুর্বে, অন্য
কেউ তাকে এ বিষয়ে সমর্থন করেনি ৷
আমি বলি, ব্যাংক ও অন্যদের এসব বক্তব্য উদ্ধৃতি করা হয়েছে ইবন জারীর ও অন্যান্যের
অনুসরণে ৷ ইবন জারীর (র) বলেছেন, এই মুসলিম সেনাবাহিনী যখন সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা
করে তখন রােমানগণ ৰিচলিত হয়ে পড়ে এবং ডীতসন্ত্রস্ত হয়ে যায় ৷ রোমান সম্রাট
হিরাক্লিয়াসকে তারা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানায় ৷ হিরাক্লিয়াস তখন হিমৃস রাজ্যে অবস্থান
করছিলেন ৷ বলা হয় যে, ওই বছর সম্রাট বায়তু ল মুকাদ্দাসের হজ্জ পালন করেন ৷ মুসলিম
অভিযানের সৎব বাদ শুনে সম্রাট বললেন যে, ওরা নতুন ধর্মের অনুসারী ৷ ওদেরকে প্রতিহত
করার শক্তি কারো নেই ৷ তোমরা আমার কথা গোন ৷ তোমরা এই মর্মে ওদের সাথে সন্ধি করে
আল-ৰিদায়া ¥ ৩
يُقَالُ لَهُ: بَاهَانُ. فَكَسَرَهُ، وَلَجَأَ بَاهَانُ إِلَى دِمَشْقَ، فَلَحِقَهُ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَبَادَرَ الْجُيُوشَ إِلَى نَحْوِ دِمَشْقَ وَطَلَبَ الْحُظْوَةَ، فَوَصَلُوا إِلَى مَرْجِ الصُّفَّرِ فَانْطَوَتْ عَلَيْهِ مَسَالِحُ بَاهَانَ، وَأَخَذُوا عَلَيْهِمُ الطَّرِيقَ، وَزَحَفَ بَاهَانُ، فَفَرَّ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، فَلَمْ يَرِدْ إِلَى ذِي الْمَرْوَةِ، وَاسْتَحْوَذَ الرُّومُ عَلَى جَيْشِهِمْ إِلَّا مَنْ فَرَّ عَلَى الْخَيْلِ، وَثَبَتَ عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جَهْلٍ، وَقَدْ تَقَهْقَرَ عَنِ الشَّامِ قَرِيبًا، وَبَقِيَ رِدْءًا لِمَنْ نَفَرَ إِلَيْهِ، وَأَقْبَلَ شُرَحْبِيلُ ابْنُ حَسَنَةَ مِنَ الْعِرَاقِ ; مِنْ عِنْدِ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ إِلَى الصِّدِّيقِ، فَأَمَّرَهُ عَلَى جَيْشٍ وَبَعَثَهُ إِلَى الشَّامِ فَلَمَّا مَرَّ بِخَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ بِذِي الْمَرْوَةِ، أَخَذَ جُمْهُورَ أَصْحَابِهِ الَّذِينَ هَرَبُوا مَعَهُ إِلَى ذِي الْمَرْوَةِ، ثُمَّ اجْتَمَعَ عِنْدَ الصِّدِّيقِ طَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ، فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، وَأَرْسَلَهُ وَرَاءَ أَخِيهِ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، وَلَمَّا مَرَّ بِخَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ أَخَذَ مَنْ كَانَ بَقِيَ مَعَهُ بِذِي الْمَرْوَةِ إِلَى الشَّامِ، ثُمَّ أَذِنَ الصِّدِّيقُ لِخَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ فِي الدُّخُولِ إِلَى الْمَدِينَةِ وَقَالَ: كَانَ عُمَرُ أَعْلَمَ بِخَالِدٍ.
[وَقْعَةُ الْيَرْمُوكِ]
عَلَى مَا ذَكَرَهُ سَيْفُ بْنُ عُمَرَ فِي هَذِهِ السَّنَةِ قَبْلَ فَتْحِ دِمَشْقَ، وَتَبِعَهُ عَلَى ذَلِكَ، أَبُو جَعْفَرِ بْنُ جَرِيرٍ، رَحِمَهُ اللَّهُ. وَأَمَّا الْحَافِظُ ابْنُ عَسَاكِرَ، رَحِمَهُ اللَّهُ، فَإِنَّهُ نَقَلَ
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৪
নাও যে, সিরিয়ার মোট করের হু অংশ তোমরা ওদেরকে দিয়ে দিবে ৷ আর রোমান পর্বত
এককভাবে তোমাদের থাকবে ৷ তোমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওরা তোমাদের নিকট
থেকে সিরিয়া ছিনিয়ে নিয়ে এবং রোমান পর্বতে তোমাদের যাতায়াত সংকটময় করে তৃলবে ৷
এ কথা শুনে তারা জংলী গাধার ন্যায় চিৎকার দিয়ে উঠে ৷ ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ
সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং যুদ্ধ সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার কারণে তারা এরুপ চিৎকার দিয়েই থাকে ৷ এটা
হলো তাদের অভ্যাস ৷
এ সময় হিরাক্লিয়াস অবস্থান করছিলেন হিমৃস-এ ৷ তিনি রোমান সৈন্য নিয়ে অভিযানে বের
হবার নির্দেশ দিলেন ৷ তার নির্দেশ ছিল প্রত্যেক মুসলিম সেনাপতির মুকাবিলায় রোমান
সেনাপতিদের তত্ত্বাবধানে বিশাল বিশাল রোমান বাহিনী প্রস্তুত থাকতে হবে ৷ বন্তুত মুসলিম
সেনাপতি আমর ইবন আসকে মুকাবিলা করার জন্যে তিনি তার সহােদর ভাই তাযারুক’-কে
৯০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহনীসহ পাঠান ৷ জুরজাহ্ ইবন বুযীহাকে প্রেরণ করেন ইয়াযীদ
ইবন আবু সুফয়ানের মুকাবিলা করার জন্যে ৷ তার সাথে ছিল ৫০ থেকে ৬০ হাজার সৈন্য ৷
তার সেনাপতি দারাকিসকে পাঠালেন মুসলিম সেনাপতি শুরাহবীল ইবন হাসানাহ্ এর বিরুদ্ধে ৷
লাকীকার মতান্তরে তার নাম লাকী কালানকে পাঠালেন আবু উবায়দা (রা)-কে মুকাবিলা করার
জন্যে ৷ তার সাথে ছিল ৬০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী ৷ রােমনরা বলেছিল আল্লাহর
কসম, আমরা আবু বকর (বা) কে এত ব্যস্ত ও অস্থির করে রাখব যে, তিনি আমাদের বিরুদ্ধে
অশ্ববা ড়াহিনী প্রেরণের সুযােগই পাবেন না ৷
এই অভিযানে মুসলমানদের সৈন্য স ৰ্খ্যা ছিল সর্বমোট ২১ হাজার ৷ অবশ্য এই সংখ্যা
ছিল ইকরিমা ইবন আবু জাহলের সাথে থাকা সৈন্য ব্যতীত ৷ ইকরিমা অবস্থান করছিলেন
সিরিয়ার এক প্রান্তরে ৷ তার সাথে ছিল ছয় হাজার মুসলিম সৈন্য ৷ তিনি অবস্থান করছিলেন
যুদ্ধরত বাহিনীর সহযোগী-বাহিনী নিয়ে ৷ মুসলিম সেনাপতিগণ রোমানদের ব্যাপক যুদ্ধ প্রস্তুতি
ও বিশাল সেনাবাহিনী সম্পর্কে খলীফা আবু বকর (রা) কে জানালেন ৷ তিনি নির্দেশ দিয়ে
লিখলেন, আপনারা সবাই একত্রিত ৩হয়ে একটি মাত্র বাহিনী হন ৷ তারপর মুশরিকদের মুকাবিলা
করুন ৷ আপনারা আল্লাহ্র সাহায্যকারী ৷ যারা আল্লাহ্কে সাহায্য করে তিনি তাদের সাহায্য
করেন ৷ আর বাবা তাকে অস্বীকার করে তিনি তাদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন ৷
আপনাদের সৈন্য সংখ্যাকে কম বলা যায় না ৷ তার কথা হলো পাপাচারিতা ও অন্যায় থেকে
সকলকে যুক্ত থাকতে হবে ৷ আর সবাই নিজ নিজ সঙ্গীদের সাথে মিলিত হবে ৷
সিদ্দীক-ই-আকবর (রা) বললেন, আল্লাহ্র কসম সেনাপতি খালিদ ইবন ওয়ালীদকে নিয়োজিত
করে খ্রিক্টানদেরকে আমি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে দুরে সরিয়ে রাখব ৷ তিনি খালিদ (রা)-কে
ইরাক ছেড়ে সৈন্য-সামন্তসহ সিরিয়া চলে যেতে এবং সেখানে যারা আছে তাদের ৫ নতৃতু গ্রহণ
করতে পত্র লিখলেন ৷ তিনি এও লিখলেন সে, যুদ্ধ শেষে তিনি পুনরায় ইরাক ফিরে এসে
নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন ৷
মুসলিম সেনাপতিদের এক বাহিনীতে সমবেত হওয়ার বিষয়ে খলীফার নির্দোশর কথা
হিরাক্লিয়াস অবগত হলো ৷ তিনিও তার বাহিনীসমুহকে এক বাহিনীতে সমবেত হবার নির্দেশ
দেন ৷ তিনি এ নির্দেশও দেন যে, তারা যেন এমন একন্থানে অবস্থান নেয় যেখানে ময়দান
عَنْ يَزِيدَ بْنِ عُبَيْدَةَ وَالْوَلِيدِ وَابْنِ لَهِيعَةَ وَاللَّيْثِ وَأَبِي مَعْشَرٍ، أَنَّهَا كَانَتْ فِي سَنَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ بَعْدَ فَتْحِ دِمَشْقَ. وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ: كَانَتْ فِي رَجَبٍ سَنَةَ خَمْسَ عَشْرَةَ. وَقَالَ خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ: قَالَ ابْنُ الْكَلْبِيِّ: كَانَتْ وَقْعَةُ الْيَرْمُوكِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ لِخَمْسٍ مَضَيْنَ مِنْ رَجَبٍ سَنَةَ خَمْسَ عَشْرَةَ. قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ: وَهَذَا هُوَ الْمَحْفُوظُ، وَمَا قَالَهُ سَيْفٌ مِنْ أَنَّهَا قَبْلَ فَتْحِ دِمَشْقَ سَنَةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، فَلَمْ يُتَابَعْ عَلَيْهِ.
قُلْتُ: وَهَذَا ذِكْرُ سِيَاقِ سَيْفٍ وَغَيْرِهِ عَلَى مَا أَوْرَدَهُ ابْنُ جَرِيرٍ وَغَيْرُهُ، قَالُوا: وَلَمَّا تَوَجَّهَتْ هَذِهِ الْجُيُوشُ نَحْوَ الشَّامِ أَفْزَعَ ذَلِكَ الرُّومَ وَخَافُوا خَوْفًا شَدِيدًا، وَكَتَبُوا إِلَى هِرَقْلَ يُعْلِمُونَهُ بِمَا كَانَ مِنَ الْأَمْرِ، فَيُقَالُ: إِنَّهُ كَانَ يَوْمَئِذٍ بِحِمْصَ. وَيُقَالُ: بَلْ كَانَ حَجَّ عَامَهُ ذَلِكَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ. فَلَمَّا انْتَهَى إِلَيْهِ الْخَبَرُ قَالَ لَهُمْ: وَيَحَكُمْ! إِنَّ هَؤُلَاءِ أَهْلُ دِينٍ جَدِيدٍ، وَإِنَّهُمْ لَا قِبَلَ لِأَحَدٍ بِهِمْ، فَأَطِيعُونِي وَصَالِحُوهُمْ بِمَا تُصَالِحُونَهُمْ عَلَى نِصْفِ خَرَاجِ الشَّامِ، وَيَبْقَى لَكُمْ جِبَالُ الرُّومِ، وَإِنْ أَنْتُمْ أَبَيْتُمْ ذَلِكَ، أَخَذُوا مِنْكُمُ الشَّامَ وَضَيَّقُوا عَلَيْكُمْ جِبَالَ الرُّومِ. فَنَخَرُوا مِنْ ذَلِكَ نَخْرَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ، كَمَا هِيَ عَادَاتُهُمْ فِي قِلَّةِ الْمَعْرِفَةِ، وَالرَّأْيِ بِالْحَرْبِ وَالنُّصْرَةِ فِي الدِّينِ وَالدُّنْيَا، فَعِنْدَ ذَلِكَ سَارَ إِلَى حِمْصَ، وَأَمَرَ هِرَقْلُ بِخُرُوجِ الْجُيُوشِ الرُّومِيَّةِ صُحْبَةَ الْأُمَرَاءِ، فِي مُقَابَلَةِ كُلِّ أَمِيرٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৫
বিন্তুত, অবতরণ স্থল প্রশস্ত কিন্তু পালানাের পথ সংকীর্ণ ৷ রোমান বাহিনীর সেনাপতি ছিল তার
ভাই তযােরুক ৷ অগ্রবাহিনীর অধিনায়ক জু রজাহ্ ৷ দৃপড়ার্শ্ব বাহিনীর অধিনায়ক মাহান ও
দারাকিম ৷ মধ্য বাহিনীর অধিনায়ক কায়কালান ৷
মুহাম্মদ ইবন অইিয বলেছেন, আবদুল আ লা সুত্রে সাঈদ ইবন আবদুল আযীয থেকে যে,
ইয়ারমুক যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্য ছিল চব্বিশ হাজার ৷ সেনাপতি ছিলেন আবু উবায়দাহ্ ৷
রোমানদের সৈন্য ছিল এক লক্ষ বিশ হাজার ৷ ওদের সেনাপতি মাহান ও সাকলাব ৷
ইবন ইসহাকও অনুরুপ উল্লেখ করেছেন যে, সেদিন রোমানদের সেনাপতি ছিল সাকলাব
খাসী ৷ তার অধীনে ছিল এক লাখ সৈন্য ৷ সম্মুখ বাহিনীর অধিনায়ক ছিল জুরজাঘৃ ৷ তার অধীনে
ছিল ১২ হাজার আর্মেনীয় সৈন্য ৷ আরব খ্রিস্টানদের নেতৃত্বে ছিল জাবালাহ্ ইবন আয়হাম ৷
তারা ছিল সংখ্যায় ১২ হাজার ৷ মুসলিমদের মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার মাত্র ৷
মুসলমানপণ তা সত্বেও প্রচণ্ড যুদ্ধ করে রোমানদের বিরুদ্ধে ৷ পুরুষ যােদ্ধাদের সমর্থনে মুসলিম
মইিলারাও যুদ্ধে অংশ নেন এবং প্রচণ্ড যুদ্ধ চালিয়ে যান ৷
ওয়ালীদ আবদুর রহমান ইবন জুৰায়র থেকে বর্ণিত যে, মাহান আরমানীর নেতৃত্বে
রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস দুই লাখ সৈন্য প্রেরণ করেন ৷ সায়ক বলেন, রোমানগণ অগ্রসর
হলো ৷ ইয়ারমুকের নিকটবর্তী ওয়াকওয়াসা নামক স্থানে এসে তারা শিবির স্থাপন করে ৷ ওই
ময়দানে তারা পরিখ৷ খনন করে ৷ অতিরিক্ত সৈন্য সাহায্য চেয়ে এবং ইয়ারমুকে খ্রিস্টান সৈন্য
সমাবেশের সংবাদ জানিয়ে সড়াহাবিগণ খলীফার নিকট দুত পাঠান ৷ খলীফা এই মর্মে খালিদ
ইবন ওয়ালীদকে চিঠি লিখবেন যে, তিনি যেন ইরাকে অন্য কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নিজে
সেনাবাহিনীসহ দ্রুত ৩সিরিয়া গিয়ে পৌছেন ৷ ওখানে গিয়ে তিনিই হবেন যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ৷
তিনি মুছান্ন৷ ইবন হা ৷রিছাকে ইরাকের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দ্রুত ৩সিরিয়ার পথে যাত্রা করেন ৷
তার সাথে ছিল নয় হাজার পাচশ মুসলিম সৈন্য ৷ রাফি ইবন উমায়রা তাঈ হলো পথপ্রদর্শক ৷
সে অগ্রসর হতে লাগল পাহাড়ী পথে ৷ তারা এসে পৌছলেন কারাকির’ অঞ্চলে ৷ পথপ্রদর্শক
রাফি এমন পথে চলছিল যে পথে ইতোপুর্বে কেউ আসেনি ৷ তারা পাহাড়-পর্বত, মরুভুমি,
ধু-ধু ময়দান, পাছ-পাছড়া বিহীন বিরান ভুমি অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন ৷ কখনো পাহাড়ের
চুড়ায়, কখনো সমতল ভুমি পার হচ্ছিলেন তারা ৷ রাফি তাদেরকে এমন পথে নিয়ে এস্যেছ
যেখানে শুধু পানিবিহীন মরু প্রড়ান্তর ৷ উটগুলো হয়ে পড়ে তৃ ষ্ণার্ত ৷ র্তারা উটকে বার বার পানি
পান করিয়ে নেন ৷ তারপর সেগুলোর নিচের ঠোট কেটে মুখ বেধে ফেলা হয় যাতে সে মুখ
নাড়াচাড়া ও পেটের কিছু মুখে আনতে না পারে ৷ এগুলােৰক সাথে নিয়েই র্তারা পথ চলতে
লাগলেন ৷ যেতে যেতে যখন এমন স্থানে পৌছলেন যে, সেখানে কোন পানি নেই ৷ তখন তারা
এই উট জবইি করে সেগুলোর পেটে রক্ষিত পানি পান করলেন ৷
কথিত আছে যে, কোন জায়গায় পানি পাওয়া গেলে ওই পানি তারা তাদের
ঘোড়াগুলােকেও ভালভাবে পান করিয়েছেন ৷ আর পানিবিহীন স্থানে আসার পর ওই ঘোড়া
জবইি করে পেটে রক্ষিত পানি বের করে, পান করেছেন এবং ওগুলাের গোশত থেয়েছেন ৷
অবশেষে তারা সিরিয়া এসে পৌছলেন ৷ আলহাম্দুলিল্লাহ্৷ পড়াচদিনের একটানা সফরের পর
তারা এখানে এলেন ৷ তাদমুর অঞ্চল দিয়ে তারা রোমানদের উপর চড়াও হলেন ৷ তাদমুরের
جَيْشٌ كَثِيفٌ، فَبَعَثَ إِلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَخَاهُ لِأَبَوَيْهِ تَذَارِقَ فِي تِسْعِينَ أَلْفًا مِنَ الْمُقَاتِلَةِ، وَبَعَثَ جَرَجَةَ بْنَ تُوذْرَا إِلَى نَاحِيَةِ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، فَعَسْكَرَ بِإِزَائِهِ، وَبَعَثَ الدُّرَاقِصَ إِلَى شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ، وَبَعَثَ الْقَيْقَارَ - وَيُقَالُ: الْقَيْقَلَانُ. قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: وَهُوَ حَصِيُّ هِرَقْلَ - ابْنَ نَسْطُورِسَ، فِي سِتِّينَ أَلْفًا إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ. وَقَالَتِ الرُّومُ: وَاللَّهِ لَنَشْغَلَنَّ أَبَا بَكْرٍ عَنْ أَنْ يُورِدَ الْخُيُولَ إِلَى أَرْضِنَا. وَجَمِيعُ عَسَاكِرِ الْمُسْلِمِينَ أَحَدٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا سِوَى الْجَيْشِ الَّذِي مَعَ عِكْرِمَةَ بْنِ أَبِي جَهْلٍ، وَكَانَ وَاقِفًا فِي طَرَفِ الشَّامِ رِدْءًا لِلنَّاسِ فِي سِتَّةِ آلَافٍ، فَكَتَبَ الْأُمَرَاءُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ يُعْلِمُونَهُمَا بِمَا وَقَعَ مِنَ الْأَمْرِ الْعَظِيمِ، فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ أَنْ يَجْتَمِعُوا فَيَكُونُوا جُنْدًا وَاحِدًا، وَالْقَوْا جُنُودَ الْمُشْرِكِينَ، فَأَنْتُمْ أَعْوَانُ اللَّهِ، وَاللَّهُ نَاصِرٌ مَنْ نَصَرَهُ، وَخَاذِلٌ مَنْ كَفَرَهُ، وَلَنْ يُؤْتَى مِثْلُكُمْ عَنْ قِلَّةٍ، وَلَكِنْ مِنْ تِلْقَاءِ الذُّنُوبِ، فَاحْتَرِسُوا مِنْهَا، وَلْيُصَلِّ كُلُّ رَجُلٍ مِنْكُمْ بِأَصْحَابِهِ. وَقَالَ الصِّدِّيقُ: وَاللَّهِ لَأَشْغَلَنَّ النَّصَارَى عَنْ وَسَاوِسَ الشَّيْطَانِ بَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ. وَبَعَثَ إِلَيْهِ وَهُوَ بِالْعِرَاقِ لِيَقْدَمَ إِلَى الشَّامِ، فَيَكُونَ الْأَمِيرَ عَلَى مَنْ بِهِ، فَإِذَا فَرَغَ عَادَ إِلَى عَمَلِهِ بِالْعِرَاقِ. فَكَانَ مَا سَنَذْكُرُهُ. وَلَمَّا بَلَغَ هِرَقْلَ مَا أَمَرَ بِهِ الصِّدِّيقُ أُمَرَاءَهُ مِنَ الِاجْتِمَاعِ، بَعَثَ إِلَى أُمَرَائِهِ أَنْ يَجْتَمِعُوا أَيْضًا، وَأَنْ يَنْزِلُوا
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৬
অধিবাসিগণ আত্মসমর্পণ করেন এবং সন্ধি স্থাপন করে ৷ আযরা’ অঞ্চল অতিক্রমের সময়
সেখানকার ধন-সম্পদ সৎ হ বৈধ ঘোষণা করা হয় ৷ ফলে মুসলিম সৈন্যরা পাসৃসানী শত্রুদের
প্রচুর ধ্ন-সম্পদ করায়ত্ত করে নেয় ৷ তারা দামেশকের পুর্ব প্রান্ত দিয়ে বের হন ৷ তারপর যেতে
যেতে বুসরা গিয়ে পৌছলেন ৷ সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, সাহাবা-ই-কিরাম ওখানে
শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত ৷ খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা) সেখানে পৌছার পর এলাকাবাসী
তার সাথে সন্ধি স্থাপন করে এবং ওই অঞ্চল তার নিকট হস্তান্তর করে ৷ সিরিয়া এটিই প্রথম
বিজিত শহর ৷ গাসৃসান গোত্রের ধ্ন-সম্পদ যা মুসলিম সৈন্যদের অধিকার করেছিল
নিয়মানুযায়ী তার ষ্টু অংশ হযরত খালিদ (রা) খলীফা সিদ্দীক-ই-আকবার (রা)-এর নিকট
পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ৫বিলাল ইবন হারিছ মুযানীর মাধ্যমে ৷
এরপর হযরত খালিদ, আবু উবায়দা, মুরছাদ ও শুরাহ্বীল (রা) প্রমুখ সেনাপতি ৩হযরত
অড়ামর ইবন আস (রা) এর সাহাযার্থে এগিয়ে গেলেন ৷ মা ওয়ারের আর্বা অঞ্চলে রোমান
সৈন্যরা আমর ইবন আস (রা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছিল ৷ অবশেষে আজনাদায়ন’ যুদ্ধ
সংঘটিত হয় ৷ হযরত খালিদ (রা)-এর ওই অভিযানে অংশগ্রহণকারী জনৈক মুসলিম মুজাহিদ
এ সম্পর্কে নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেছেন :
পথ প্রদর্শনকারী রাফি-এর দুটো চোখ আল্পাহ্র জন্যে উৎসর্গ হোক, কীভাবে সে পথ
চিনল ? সদলবলে উর্টেটড়ে কারাকির থেকে নাওয়৷ গিয়ে পৌছল ?
মাত্র পাচ দিলেই খালিদ এই পথ অতিক্রম করেছেন ৷ এই পথ এমন দুর্গম ও কঠিন ছিল
যে, চলতে গিয়ে সৈনিকগণ কেদে ফেল্যেছ ৷ আমার জানা মতে, এই পথে ইতিপুর্বে কোন
মানব সন্তান যাতায়াত করেনি ৷
এই যাত্রায় জনৈক আরব দলনেতা খা লিদকে বলেছিলেন, ভোরবেলা যদি আপনি অমুক
গাছের নিকট পৌছতে পারেন তবে আপনিও প্রাণে বাচবেন, আপনার সঙ্গী-সাথিগণও বেচে
যাবে ৷ অন্যথায় দলবলসহ আপনি ধ্বংস হয়ে যাবেন ৷ হযরত ৩খালিদ তার সাথীদেরকে নিয়ে
দ্রুত থেকে দ্রুততর গতিতে যাত্রা করলেন এবং ভোরবেলা ওই গাছের নিকট পৌছে গেলেন ৷
সেনাপতি খালিদ (রা) বললেন, “নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্পের প্রশংসা করা হয় ভোরবেলা-
এরপর এটি একটি প্রবাদ বাক্যে পরিণত হলো ৷ তিনিই সর্বপ্রথম এ বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন ৷
পুর্ববর্তী বর্ণনার উপসংহার স্বরুপ সায়ফ ইবন উমর এবং আবু নাহীফ প্রমুখ বলেছেন যে,
সেনাপতিগণসহ রোমান সৈন্যগণ ওয়াকওয়াসায়’ সমবেত হলো ৷ মুসলমানগণও তাদের
অবস্থান হল থেকে বের হন এবং রোমানদের কাছাকাছি এসে এমন এক রাস্তায় অবস্থান গ্রহণ
করেন যে, ওই রাস্তা ব্যতীত রোমানদের বের হওয়ার কোন রাস্তা ছিল না ৷ এ প্রেক্ষিতে আমর
ইবন আস উইচ্চ৪স্বরে ঘোষণা দিয়ে বললেন, হে লোক সকল! সবাই সুসংবাদ নিন ৷ আল্লাহ্র
কসম, ণ্রামানগণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ৷ আর অবরুদ্ধ ব্যক্তি খুব কমই কল্যাণ লাভ করে ৷
بِالْجَيْشِ مَنْزِلًا وَاسِعَ الْعَطَنِ، وَاسِعَ الْمَطْرَدِ، ضَيِّقَ الْمَهْرَبِ، وَعَلَى النَّاسِ أَخُوهُ تَذَارِقُ، وَعَلَى الْمُقَدِّمَةِ جَرَجَةُ، وَعَلَى الْمُجَنِّبَتَيْنِ بَاهَانُ وَالدُّرَاقِصُ، وَعَلَى الْحَرْبِ الْقَيْقَلَانُ. .
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ: إِنَّ الْمُسْلِمِينَ كَانُوا أَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ أَلْفًا، وَعَلَيْهِمْ أَبُو عُبَيْدَةَ، وَالرُّومُ كَانُوا عِشْرِينَ وَمِائَةَ أَلْفٍ، عَلَيْهِمْ بَاهَانُ وَسُقْلَابُ، يَوْمَ الْيَرْمُوكِ.
وَكَذَا ذَكَرَ ابْنُ إِسْحَاقَ أَنَّ سُقْلَابَ الْحَصِيَّ كَانَ عَلَى الرُّومِ يَوْمَئِذٍ فِي مِائَةِ أَلْفٍ، وَعَلَى الْمُقَدِّمَةِ جَرَجَةُ مِنْ أَرْمِينِيَّةَ فِي اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا، وَمِنَ الْمُسْتَعْرِبَةِ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا عَلَيْهِمْ جَبَلَةُ بْنُ الْأَيْهَمِ، وَالْمُسْلِمُونَ فِي أَرْبَعَةٍ وَعِشْرِينَ أَلْفًا، فَقَاتَلُوا قِتَالًا شَدِيدًا، حَتَّى قَاتَلَتِ النِّسَاءُ مِنْ وَرَائِهِمْ أَشَدَّ الْقِتَالِ.
وَقَالَ الْوَلِيدُ، عَنْ صَفْوَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: بَعَثَ هِرَقْلُ مِائَتَيْ أَلْفٍ، عَلَيْهِمْ بَاهَانُ الْأَرْمَنِيُّ.
قَالَ سَيْفٌ: فَسَارَتِ الرُّومُ فَنَزَلُوا الْوَاقُوصَةَ قَرِيبًا مِنَ الْيَرْمُوكِ، وَصَارَ الْوَادِي خَنْدَقًا عَلَيْهِمْ، وَبَعَثَ الصَّحَابَةُ إِلَى الصِّدِّيقِ يَسْتَمِدُّونَهُ، وَيُعْلِمُونَهُ بِمَا اجْتَمَعَ مِنْ
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৭
কথিত আছে যে, রোমানদের প্রতি অভিযান পরিচালনার নীতি ও কৌশল সম্পর্কে যখন
সাহাবীগণ পরামর্শ করছিলেন তখন সমরনেতাগণও সেখানে উপস্থিত হলেন ৷ এক পর্যায়ে
সেখানে উপস্থিত হলেন আবু সুফিয়ান ৷ তিনি বললেন, আমি ধারণা করতাম না যে, আমি এমন
আযু পাব যে, যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত এমন কোন শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হব অথচ ওদের বিরুদ্ধে
যুদ্ধে হাজির হতে পারব না৷ এরপর তিনি পরামর্শ দিলেন যে, পুরো মুজাহিদ বাহিনীকে তিন
ভাগে ভাগ করা হোক ৷ তারপর ৩অৎশ সবার আগে যাত্রা করে রোমানদের মুখোমুখি কোন
জায়গায় অবস্থান নিয়ে ৷ তারপর ৩অৎশ সৈন্যের ২য় দলটি মালপত্র এবং মহিলাদেরকে নিয়ে
অগ্রসর হবে ৷ খালিদ (রা) এর নেতৃত্বে অপর ই৩ ৎশ অপেক্ষা করতে থাকবে ৷ আপাতত
অগ্রসর হবে না ৷ মালপত্র ও মহিলাসহ ২য় দল ১ম দলের সাথে মিলিত হয়েছে এমন তথ্য
নিশ্চিত হয়ে খালিদ (রা)৩ তার সাথী সৈন্যদেরকে নিয়ে অগ্রসর হবেন ৷ তার বাহিনী নিয়ে তিনি
শিবির স্থাপন করবেন সম৩ ল ভুমি ও উন্মুক্ত ময়দান পেছনে রেখে ৷ যাতে বাহির থেকে
সাহায্য-সামগী ও রসদপত্র তাদের নিকট পৌছা নাে যায় ৷ বন্তুত আবুসুফিয়ান (বা) যে পরামশ
দিয়েছেন মুসলিম নেতৃত্ব তা ই গ্রহণ করেছেন ৷ ওই পরামর্শ খুবই উত্তম ছিল ৷
ওয়ালীদ উল্লেখ করেছেন সাফওয়ান সুত্রে আবদুর রহমান ইবন জুবায়র থেকে ৷ তিনি
বলেছেন যে, রোমানগণ অবস্থান করেছিল দিয়ার-ই-আইযুব ও ইয়ারমুকের মধ্যবর্তী স্থানে ৷
আর মুসলমড়ানগণ অবস্থান নিয়েছিল অন্য প্রান্তে নদীর পাশে ৷ আযরুআত অঞ্চলকে তারা
পেছনে রেখেছিল যাতে ওই পথে মদীনা থেকে তাদের নিকট সাহায্য পৌছতে পারে ৷
কেউ কেউ বলেন যে খালিদ (বা) ওখানে এসেছিলেন পরে ৷ প্রথমে সাহাবা-ই-কিরাম
(রা) রোমানদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ওদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ৷ পুরো রবিউল
আউয়াল মাস অবরোধ চলতে থাকে ৷ ওই মাস যখন শেষ হয় এবং এ সকল আক্রমণের
সম্ভাবনা দেখা দেয় তখন তারা অতিরিক্ত সাহায্য চেয়ে খলীফার নিকট দুত পাঠান ৷ খলীফা
সিদ্দীক-ই-আকবর (রা) বললেন, ওই দায়িত্ব পালনের জন্যে খালিদ আছে ৷ তিনি সিরিয়া
যাবার জন্যে খালিদকে নির্দেশ দেন ৷ এরপর রবিউল আখির মাসে হযরত খালিদ (রা) সিরিহ:হ্
গিয়ে মুল মুসলিম বাহিনীর সাথে যোগ দেন ৷ এদিকে খালিদ (রা) মুসলিম বাহিনীর সাথে
মিলিত হন আর ওদিকে রোমানদের সাহায্যে এগিয়ে আসে সেনাপতি মাহান’ ৷ তার সাথে ছিল
খ্রিষ্টান পাদ্বী, সন্না৷সী ও বায়তৃল মুকাদ্দাসের সেবাবয়তগণ ৷ খ্রিস্ট ধর্মের রক্ষা ও বিজয়ের জন্যে
তারা খ্রিষ্টান সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত ও উৎসাহিত করছিল ৷ অবশেষে রোমান সৈন্য সংখ্যা
গিয়ে দাড়৷ য় দু লাখ চল্লিশ হাজারে ৷৩ তাদের মধ্যে ৮০ হাজার হলো লোহার শিকলও রশিতে
বাধা ৷ ৮০ হাজার অশ্বা রাহী এবৎ ৮০ হাজার পদাতিক ৷ সায়ফ বলেন, যারা শিকলে বাধা ছিল
তাদের প্রতি দশজন এক শিকলে বাধা ছিল যাতে তারা যুদ্ধ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে ৷
এরুপ বাধা সৈন্যের সং থ্যা ছিল ত্রিশ হাজার ৷ আল্পাহ্ ভাল জানেন ৷
সায়ফ বলেন, এক পর্যায়ে সাথী সৈন্যদেরকে নিয়ে ইকরামা এসে যোগ দিলেন মুসলিম
বাহিনীর সাথে ৷ ফলে সাহাবীদের সৈন্য সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজারে উন্নীত হলো ৷
ইবন ইসহাক এবৎ মাদাইনী অনুরুপ অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, আজনাদায়ন’ যুদ্ধ
সংঘটিত হয়েছিল ইয়ারমুক যুদ্ধের পুর্বে ৷ ১৩ হিজরী সনের জুমড়াদাল উলা মাসের দুদিন
جَيْشِ الرُّومِ بِالْيَرْمُوكِ، فَكَتَبَ الصِّدِّيقُ عِنْدَ ذَلِكَ إِلَى خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ أَنْ يَسْتَنِيبَ عَلَى الْعِرَاقِ، وَأَنْ يَقْفِلَ بِمَنْ مَعَهُ إِلَى الشَّامِ فَإِذَا وَصَلَ إِلَيْهِمْ فَهُوَ الْأَمِيرُ عَلَيْهِمْ. فَاسْتَنَابَ الْمُثَنَّى بْنَ حَارِثَةَ عَلَى الْعِرَاقِ، فَسَارَ خَالِدٌ مُسْرِعًا فِي تِسْعَةِ آلَافٍ - وَيُقَالُ: ثَمَانِمِائَةٍ، أَوْ خَمْسُمِائَةٍ - وَدَلِيلُهُ رَافِعُ بْنُ عُمَيْرَةَ الطَّائِيُّ، فَأَخَذَ بِهِ عَلَى السَّمَاوَةِ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى قُرَاقِرَ، وَسَلَكَ بِهِ أَرَاضِيَ لَمْ يَسْلُكْهَا قَبْلَهُ أَحَدٌ، فَاجْتَابَ الْبَرَارِيَّ وَالْقِفَارَ، وَقَطَعَ الْأَوْدِيَةِ، وَتَصَعَّدَ عَلَى الْجِبَالِ، وَسَارَ فِي غَيْرِ مَهْيَعٍ، وَجَعَلَ رَافِعٌ يَدُلُّهُمْ فِي مَسِيرِهِمْ عَلَى الطَّرِيقِ وَهُوَ أَرْمَدُ، وَعَطَّشَ النُّوقَ وَسَقَاهَا الْمَاءَ عَلَلًا بَعْدَ نَهَلٍ، وَقَطَعَ مَشَافِرَهَا وَكَعَمَهَا حَتَّى لَا تَجْتَرَّ، وَخَلَّ أَدْبَارَهَا، وَاسْتَاقَهَا مَعَهُ، فَلَمَّا فَقَدُوا الْمَاءَ نَحَرَهَا فَشَرِبُوا مَا فِي أَجْوَافِهَا مِنَ الْمَاءِ، وَيُقَالُ: بَلْ سَقَاهُ الْخَيْلَ وَشَرِبُوا مَا كَانَتْ تَحْمِلُهُ مِنَ الْمَاءِ وَأَكَلُوا لُحُومَهَا، وَوَصَلَ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ، فِي خَمْسَةِ أَيَّامٍ، فَخَرَجَ عَلَى الرُّومِ مِنْ نَاحِيَةِ تَدْمُرَ، فَصَالَحَ أَهْلَ تَدْمُرَ وَأَرَكَ، وَلَمَّا مَرَّ بِعَذْرَاءَ أَبَاحَهَا وَغَنِمَ لِغَسَّانَ أَمْوَالًا عَظِيمَةً، وَخَرَجَ مِنْ شَرْقِيِّ دِمَشْقَ، ثُمَّ سَارَ حَتَّى وَصَلَ إِلَى قَنَاةِ بُصْرَى، فَوَجَدَ الصَّحَابَةَ مُحَاصِرِيهَا، فَصَالَحَهُ صَاحِبُهَا وَسَلَّمَهَا إِلَيْهِ، فَكَانَتْ أَوَّلَ مَدِينَةٍ
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৮
অবশিষ্ট থাকতে আজনাদায়ন যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৷ ওই যুদ্ধে বহু সাহাবী শহীদ হন ৷ শেষ পর্যন্ত
রোমানদের পরাজয় ঘটে ৷ বিজয়ী হয় মুসলমানগণ ৷ রোমান সেনাপতি কায়কালান ওই যুদ্ধে
নিহত হয় ৷
সেনাপতি কায়কালান একজন গুপ্তচর পাঠিয়েছিল মুসলমানদের অবস্থা জানার জন্যে ৷
গুপ্তচর সােকটি ছিল আরব খ্রিস্টান ৷ গুপ্তচর গোপনে মুসলমানদের অবস্থান দেখে এসে তাকে
বলে যে, আমি দেখলাম, ওরা এমন এক সম্প্রদায় রাতড্যা ইবাদত-বন্দেগী করে আর দিনভর
ঘোড়ার চড়ে যুদ্ধ করে ৷ আল্লাহর কসম ! ওদের কোন রাজপুত্রও যদি চুরি করে তবে তারা তার
হাত কেটে দেয় ৷ রাজপুত্রও যদি ব্যভিচড়ারে লিপ্ত হয় তবে তারা পাথর নিক্ষেপে ওকে হত্যা
করে ৷ একথা শুনে সেনাপতি কায়কালান বলল, আল্লাহ্র কসম ! তোমার বক্তব্য যদি সত্য হয়
তবে দুনিয়ার অভ্যম্ভর তার বহির্ভাগের চেয়ে ভাল ৷ পৃথিবীর পেট তার পিঠের চেয়ে উত্তম ৷ ’
সায়ফ ইবন উমর বলেন, খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা) এসে মুসলিম সৈন্যদের বিভিন্ন শাখায়
বিভক্ত দেখতে পান ৷ আবুউবায়দা ও আমর ইবন আসের নেতৃত্বাধীন সৈন্যগণকে পেলেন
একদিকে আর ইয়াযীদ ও শুরাহবীলের নেতৃত্বাধীন সৈন্যগণকে পেলেন একদিকে ৷ হযরত
খালিদ দাড়িয়ে সবাইকে লক্ষ্য করে খুতবা দিলেন ৷ তিনি সকলকে এক দলে অম্ভভুক্তি হবার
নির্দেশ দিলেন ৷ বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করলেন ৷ সবাই সমবেত ও একদলে অন্তর্ভুক্ত
হলো এবং শাক্রর বিরুদ্ধে সারিবদ্ধ হলো ৷ এটি হলো জুমাদাল উখরা মাসের প্রথম দিকের
ঘটনা ৷ হযরত খালিদ (বা) বক্তৃতার জন্যে দাড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলেন ৷ তার গুণপান
করলেন ৷ তারপর বললেন, এটি আল্লাহর দিনগুলাের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য দিন ৷ এই দিনে
পর্ব করাও উচিত নয়, সীমালং ৎঘন করাও সমীচীন নয় ৷ খাটি নিয়তে আপনারা জিন্ ড়াদ করুন ৷
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কাজ করুন ৷ আজকের এই দিন পরবর্তী দিনগুলোর জন্যে
মাইল ফলক ৷ আজ যদি আমরা ওদেরকে পরাজিত করতে পারি তবে ভবিষ্যতে আমরা
ওদেরকে পরাজিত করেই যাব ৷ আর আজ যদি ওরা আমাদেরকে পরাজিত করে তাহলে আমরা
পরবর্তীতে ওদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারব না ৷ সুতরাং আসুন আমরা পালাক্রমে নেতৃত্বের
দায়িত্ব পালন করি ৷ আমাদের কেউ আজ নেতা হয়ে, কেউ পরের দিন ৷ আর কেউ নেতা হবে
তারও পরের দিন ৷ এভাবে আপনাদের সকলে নেতৃত্বের আসনে আসীন হবেন ৷ আজকের
জন্যে সকলে নেতৃত্ব আমার নিকট হস্তান্তর করুন ৷ সকলে তাকে নেতৃত্ব হস্তান্তর করলেন ৷
সবাই ধারণা করেছিল যে, এই যুদ্ধ অনেক দীর্ঘস্থায়ী হবে ৷
ব্লোমানগণ পুর্ণ প্রস্তুতি ও সতর্কতা সহকারে বের হলো ৷ এমন প্রস্তুতি ইতিপুর্বে তারা
কখনো নেয়নি ৷ হযরত খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা)-ও এমন প্রস্তুতি ও সতর্কতা সহকারে বের
হলেন যা ইতিপুর্বে কখনো দেখা যায়নি ৷ তিনি সেনাবাহিনীকে ৩৬ থেকে ৪০টি গ্রুপে বিভক্ত
করে বের হলেন ৷ প্রতি গ্রুপে সৈনিক সং খ্যা ছিল এক হাজার ৷ প্রতি হাজারে একজন করে
সেনাপতি ৷ মুল বাহিনীর সেনাপতিত্বে নিয়োজিত করলেন আবুউবায়দাহ্ (রা)-কে ৷ ডান বাহু
বা ডান দিকের বাহিনীর অধিনায়কতৃ দেন আমর ইবন আস (রা)-ণ্ক এবং তার সহযোগী
হিসেবে নিয়োজিত করেন শুরাহবীল (রা)-কে ৷ বাম বাহু বা বাম দিকের বাহিনীর সেনাপতিতু
দিলেন ইয়াষীদ ইবন আবী সুফিয়ান (না)-কে ৷ প্রত্যেক বড় গ্রুপের জন্যে পৃথক পৃথক
فُتِحَتْ مَنِ الشَّامِ. وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.
وَبَعَثَ خَالِدٌ بِأَخْمَاسِ مَا غَنِمَ مِنْ غَسَّانَ مَعَ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِيِّ إِلَى الصِّدِّيقِ، ثُمَّ سَارَ خَالِدٌ وَأَبُو عُبَيْدَةَ وَيَزِيدُ وَشُرَحْبِيلُ إِلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَقَدْ قَصَدَهُ الرُّومُ بِأَرْضِ الْعَرَبَاتِ مِنَ الْغَوْرِ فَكَانَتْ وَاقِعَةُ أَجْنَادِينَ، وَقَدْ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فِي مَسِيرِهِمْ هَذَا مَعَ خَالِدٍ:
لِلَّهِ عَيْنَا رَافِعٍ أَنَّى اهْتَدَى ... فَوَّزَ مِنْ قُرَاقِرٍ إِلَى سُوَى
خَمْسًا إِذَا مَا سَارَهَا الْجَيْشُ بَكَى ... مَا سَارَهَا قَبْلَكَ إِنْسِيٌّ أَرَى
وَقَدْ كَانَ بَعْضُ الْعَرَبِ قَالَ لَهُ فِي هَذَا الْمَسِيرِ: إِنْ أَنْتَ أَصْبَحَتْ عِنْدَ الشَّجَرَةِ الْفُلَانِيَّةِ، نَجَوْتَ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ، وَإِنْ لَمْ تُدْرِكْهَا هَلَكْتَ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ. فَسَارَ خَالِدٌ بِمَنْ مَعَهُ وَسَرَوْا سَرْوَةً عَظِيمَةً، فَأَصْبَحُوا عِنْدَهَا، فَقَالَ خَالِدٌ: عِنْدَ الصَّبَاحِ يَحْمَدُ الْقَوْمُ السُّرَى. فَأَرْسَلَهَا مَثَلًا، وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ قَالَهَا، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
قَالَ غَيْرُ ابْنِ إِسْحَاقَ كَسَيْفِ بْنِ عُمَرَ وَأَبِي مِخْنَفٍ وَغَيْرِهِمَا فِي تَكْمِيلِ السِّيَاقِ الْأَوَّلِ: حِينَ اجْتَمَعَتِ الرُّومُ مَعَ أُمَرَائِهَا بِالْوَاقُوصَةِ، وَانْتَقَلَ الصَّحَابَةُ مِنْ مَنْزِلِهِمُ الَّذِي كَانُوا فِيهِ فَنَزَلُوا قَرِيبًا مِنَ الرُّومِ فِي طَرِيقِهِمُ الَّذِي لَيْسَ لَهُمْ طَرِيقٌ غَيْرُهُ، فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: أَبْشِرُوا أَيُّهَا النَّاسُ، فَقَدْ حُصِرَتْ وَاللَّهِ الرُّومُ،
পৃষ্ঠা - ৫৩৭৯
وَقَلَّمَا جَاءَ مَحْصُورٌ بِخَيْرٍ. وَيُقَالُ: إِنَّ الصَّحَابَةَ لَمَّا اجْتَمَعُوا لِلْمَشُورَةِ فِي كَيْفِيَّةِ الْمَسِيرِ إِلَى الرُّومِ، جَلَسَ الْأُمَرَاءُ لِذَلِكَ، فَجَاءَ أَبُو سُفْيَانَ فَقَالَ: مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنِّي أُعَمَّرُ حَتَّى أُدْرِكَ قَوْمًا يَجْتَمِعُونَ لِحَرْبٍ وَلَا أَحْضُرُهُمْ. ثُمَّ أَشَارَ أَنْ يَتَجَزَّأَ الْجَيْشُ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ، فَيَسِيرُ ثُلْثُهُ فَيَنْزِلُونَ تُجَاهَ الرُّومِ، ثُمَّ تَسِيرُ الْأَثْقَالُ وَالذَّرَارِيُّ فِي الثُّلْثِ الْآخَرِ، وَيَتَأَخَّرُ خَالِدٌ بِالثُّلْثِ الْآخِرِ، حَتَّى إِذَا وَصَلَتِ الْأَثْقَالُ إِلَى أُولَئِكَ سَارَ بَعَدَهُمْ، وَنَزَلُوا فِي مَكَانٍ تَكُونُ الْبَرِّيَّةُ مِنْ وَرَاءِ ظُهُورِهِمْ ; لِيَصِلَ إِلَيْهِمُ الْبُرُدُ وَالْمَدَدُ. فَامْتَثَلُوا مَا أَشَارَ بِهِ، وَنِعْمَ الرَّأْيُ هُوَ.
وَذَكَرَ الْوَلِيدُ عَنْ صَفْوَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّ الرُّومَ نَزَلُوا فِيمَا بَيْنَ دَيْرِ أَيُّوبَ وَالْيَرْمُوكَ، وَنَزَلَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ وَرَاءِ النَّهْرِ مِنَ الْجَانِبِ الْآخَرِ، وَأَذْرِعَاتُ خَلْفَهُمْ ; لِيَصِلَ إِلَيْهِمُ الْمَدَدُ مِنَ الْمَدِينَةِ.
وَيُقَالُ: إِنَّ خَالِدًا إِنَّمَا قَدِمَ عَلَيْهِمْ بَعْدَمَا نَزَلَ الصَّحَابَةُ تُجَاهَ الرُّومِ، بَعْدَمَا صَابَرُوهُمْ وَحَاصَرُوهُمْ شَهْرَ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ بِكَمَالِهِ، فَلَمَّا انْسَلَخَ وَأَمْكَنَ الْقِتَالُ لِقِلَّةِ الْمَاءِ، بَعَثُوا إِلَى الصِّدِّيقِ يَسْتَمِدُّونَهُ، فَقَالَ: خَالِدٌ لَهَا. فَبَعَثَ إِلَى خَالِدٍ، فَقَدِمَ عَلَيْهِمْ فِي رَبِيعٍ الْآخِرِ، فَعِنْدَ وُصُولِ خَالِدٍ إِلَيْهِمْ أَقْبَلَ بَاهَانُ مَدَدًا لِلرُّومِ، وَمَعَهُ الْقَسَاقِسَةُ، وَالشَّمَامِسَةُ وَالرُّهْبَانُ، يَحُثُّونَهُمْ وَيُحَرِّضُونَهُمْ عَلَى الْقِتَالِ لِنَصْرِ دِينِ النَّصْرَانِيَّةِ، فَتَكَامَلَ جَيْشُ الرُّومِ أَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْ أَلْفٍ ; ثَمَانُونَ أَلْفَ مُسَلْسَلٍ بِالْحَدِيدِ وَالْحِبَالِ، وَثَمَانُونَ أَلْفَ فَارِسٍ وَثَمَانُونَ أَلْفَ رَاجِلٍ.
পৃষ্ঠা - ৫৩৮০
সেনাপতি নিয়োগ দিলেন ৷ একটি দলের অধিনায়ক কুবাব ইবন আশীম এবং অপর একটি
দলের অধিনায়ক নিয়োগ করেন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) কে ৷ বিচারক নিযুক্ত করলেন
আবু দারদা (রা) কে ৷ সৈনিকদের উপদেশ দাতা ও উৎ সাহ দানকারী ছিলেন আবু সুফিয়ান
ইবন হারব ৷ কুরআন৩ তিলাওয়াতকারী দিলেন মিকদাদ ইবন আসওয়াদ (বা) কে ৷ তিনি
এখানে-ওখানে গিয়ে গিয়ে সৈনিকদের নিকট সুরা আনফাল ও জিহাদের আয়াতগুলো
তিলাওয়াত করছিলেন ৷
ইসহাক ইবন ইয়াসার আপন সনদে বর্ণনা করেছেন যে, সেদিন সেনাবাহিনীর চার বাহুতে
চারজন সেনাপতি দ ৷য়িতৃ পালন করেছিলেন ৷৩ তারা হলেন আবু উবায়দাহ, আমর ইবন আস,
শুরাহ্বীল ইবন হাসানাহ্ এবং ইয়াযীদ ইবন আবী সুফিয়ান (রা) ৷ মুজাহিদপণ নিজ নিজ
পতাকা অনুসরণ করে যাত্রা করলেন ৷ সেনাবাহিনীর ডান বাহুতে ৩অধিনায়ক ছিলেন মুআয ইবন
জাবাল (রা) ৷ বাম বাহুতে নাফাছা হ্ ইবন উসামা ক্লিনানী ৷ পদাতিক বাহিনীর অধিনায়ক হাশিম
ইবন উতবা ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং সশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন খালিদ ইবন
ওয়ালীদ (রা) ৷ তিনি ছিলেন যুদ্ধের মুল পরিকল্পনাকারী ও উপদেষ্টা ৷৩ তার সিদ্ধান্তে সকলে
সন্তুষ্ট ছিল
প্রচণ্ড বীরতু, অহংকা ৷র ও গৌরব প্রদর্শন করে রোমান বাহিনী ময়দানে নেমে এল ৷ সমতল
ও পার্বত্য সকল স্থান জুড়ে ওই দিক অন্ধকার করে তারা এগুতে লাগল ৷ তারা যেন কালো
মেঘ ৷ উভৈতঃস্বরে হাক ডাক দিতে দিতে তারা অগ্রসর হচ্ছিল ৷ তাদের ধর্মযাজকগণ ইনজীল
পাঠ করছিল এবং ওদেরকে যুদ্ধের জন্যে উত্তেজিত করছিল ৷ হযরত খালিদ (রা) অশ্বারোহী
বাহিনীর নে৩ ট্রুতু নিয়ে সেনাবাহিনীর সম্মুখে ছিলেন ৷ হঠাৎ তিনি ঘোড়৷ ছুটিয়ে আবু উবায়দা
(রা)এর নিকট পেলেন ৷ তাকে বললেন, আমি একটি পরামর্শ দিতে চাই ৷ আবু উবায়দা
বললেন, আল্লাহ যে নির্দেশ গিয়েছেন তা আমাদেরকে বলুন, আমরা তা শুনব ও মানব ৷
খালিদ (রা) বললেন, ওই শত্রুপক্ষে র উপর একটি প্রচণ্ড আক্রমণ পরিচালনা করা জরুরী ৷
যে আক্রমণ সামলাতে তারা অক্ষম হয়ে পড়বে ৷ তবে আমি আমাদের সেনাবাহিনীর ভাল ও
বাম বাহু সম্পর্কে শংকিৎ ৷ আমি মনে করি, আমার অশ্বারােহী বাহিনীকে দৃ’ভাগে বিভক্ত করে
ডান বাহু ও বাম বাহুর পেছনে নিয়ে যাই ৷ তাহলে মুল সেনাবাহিনী অক্ষম হয়ে পড়লে
অশ্বারােহী বাহিনী ওদেরকে সাহায্য ,করবে ৷ আবু উবায়দা (বা) বললেন, আপনার অভিমত
অতি উত্তম ৷ তারপর হযরত খালিদ (বা) সেনাবাহিনীর ডান বাহুর পেছনে অশ্বারােহী বাহিনীর
এক অংশের নেতৃত্বে থাকলেন আর অশ্বারোহী বাহিনীর অপর অংশের নেতৃত্ব দিলেন কায়স
ইবন হুরায়রাকে ৷ তিনি আবু উবায়দা (রা) কে নির্দেশ দিলেন মুল বাহিনী থেকে সরেণ্ গিয়ে
পুরো সেনাবাহিনীর পেছনে গিয়ে অবস্থান নিতে ৷ যাতে কোন সৈন্য পালিয়ে যেতে চাইলে
র্তাকে দেখে লজ্জা পায় এবং যুদ্ধে ফিরে আসে ৷ আবুউবায়দাতার স্থলে মুল বাহিনীতে সাঈদ
ইবন যায়দ (রা)-কে দায়িত্ব দিলেন ৷ সাঈদ ইবন যায়দ ছিলেন আশারায়ে মুবাশশারা বা
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন ৷ ঘোড়া ছুটিয়ে সর্ব্যধিনায়ক খালিদ (রা)
সেনাবাহিনীর পেছনে অবস্থানকারী মহিলাদের নিকট এলেন ৷ ওদের নিকট কতক তরবারি, বর্ম
ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র ছিল ৷ মহিলাদেরকে তিনি বললেন, যদি তোমরা কোন সৈন্যকে দেখতে পাও
وَقِيلَ: بَلْ كَانَ الَّذِينَ تَسَلْسَلُوا - كُلُّ عَشَرَةٍ فِي سِلْسِلَةٍ ; لِئَلَّا يَفِرُّوا - ثَلَاثِينَ أَلْفًا. فَاللَّهُ أَعْلَمُ.
قَالَ سَيْفٌ: وَقَدِمَ عِكْرِمَةُ بِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْجُيُوشِ، فَتَكَامَلَ جَيْشُ الصَّحَابَةِ سِتَّةً وَثَلَاثِينَ أَلْفًا إِلَى الْأَرْبَعِينَ أَلْفًا.
وَعِنْدَ ابْنِ إِسْحَاقَ وَالْمَدَائِنِيِّ أَيْضًا أَنَّ وَقْعَةَ أَجْنَادِينَ قَبْلَ وَقْعَةِ الْيَرْمُوكِ وَكَانَتْ وَاقِعَةُ أَجْنَادِينَ لِلَيْلَتَيْنِ بَقِيَتَا مِنْ جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَقُتِلَ بِهَا بَشَرٌ كَثِيرٌ مِنَ الصَّحَابَةِ، وَهُزِمَ الرُّومُ وَقُتِلَ أَمِيرُهُمُ الْقَيْقَلَانُ. وَكَانَ قَدْ بَعَثَ رَجُلًا مِنْ نَصَارَى الْعَرَبِ يَجُسُّ لَهُ أَمْرَ الصَّحَابَةِ، فَلَمَّا رَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ: وَجَدْتُ قَوْمًا رُهْبَانًا بِاللَّيْلِ فُرْسَانًا بِالنَّهَارِ، وَاللَّهِ لَوْ سَرَقَ فِيهِمُ ابْنُ مَلِكِهِمْ قَطَعُوهُ، أَوْ زَنَى لَرَجَمُوهُ. فَقَالَ لَهُ الْقَيْقَلَانُ: وَاللَّهِ لَئِنْ كُنْتَ صَادِقًا لَبَطْنُ الْأَرْضِ خَيْرٌ مِنْ ظَهْرِهَا.
وَقَالَ سَيْفُ بْنُ عُمَرَ فِي سِيَاقِهِ: وَوَجَدَ خَالِدٌ الْجُيُوشَ مُتَفَرِّقَةً فَجَيْشُ أَبِي عُبَيْدَةَ وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ نَاحِيَةً، وَجَيْشُ يَزِيدَ وَشُرَحْبِيلَ نَاحِيَةً، فَقَامَ خَالِدٌ فِي النَّاسِ خَطِيبًا، فَأَمَرَهُمْ بِالِاجْتِمَاعِ وَنَهَاهُمْ عَنِ التَّفَرُّقِ وَالِاخْتِلَافِ، فَاجْتَمَعَ النَّاسُ وَتَصَافُّوا مَعَ عَدُوِّهِمْ فِي أَوَّلِ جُمَادَى الْآخِرَةِ، وَقَامَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ: إِنَّ هَذَا يَوْمٌ مِنْ أَيَّامِ اللَّهِ، لَا يَنْبَغِي فِيهِ الْفَخْرُ وَلَا
পৃষ্ঠা - ৫৩৮১
যে, সে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে তবে তোমরা ওকে খুন করে ফেলবে ৷ এরপর
হযরত খালিদ নিজ স্থানে ফিরে এলেন ৷
উভয় দল মুখোমুখি হলো ৷ দু দলই যুদ্ধের আহ্বান জানাল ৷ তখন হযরত আবু উবায়দা
(রা) উপদেশ দিতে গিয়ে মুসলমানদের বললেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ৷ আপনারা আল্লাহ্কে
সাহায্য করুন, আল্লাহ্ আপনাদেরকে সাহায্য করবেন এবং আপনাদেরকে স্থির ও অৰিচল
রাখবেন ৷ হে মুসলিমগণ ! ধৈর্য অবলম্বন করুন, কারণ ধৈর্য হলো কুফরী থেকে মুক্তির উপায়,
প্রতিপালকের সভুষ্টি লাভের মাধ্যম এবং অপমান ও লজ্জা দমনকারী ৷ আপনারা সারি ত্যাগ
করবেন না ৷ সাধারণ অবস্থায় ওদের দিকে এক কদমও অগ্রসর হবেন না ৷ প্রথমে নিজেরা
যুদ্ধের সুচনা করবেন না ৷ শত্রুর লক্ষ্য করে তীর তাক করে থাকবেন ৷ ঢাল দ্বারা আত্মরক্ষা
করবেন ৷ অবশ্যই নির্বাক ও নীরব থাকবেন ৷ মনে মনে আল্লাহর যিক্র করবেন ৷ আমার
নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত, এভাবে থাকবেন ৷
বর্ণনাকারীগণ বলেন, মুআয ইবন জাবাল (রা) সম্মুখে এলেন ৷ তিনি মুসলিম
সেনাবাহিনীকে উপদেশ দিয়ে বলতে লাগলেন, হে কুরআন অনুসারী লোকজন কিতাব
রক্ষাকারী মানুষগণষ্ স৩ তা হিদায়াত্৩ র সাহাষ্যকারিগণ ৷ জেনে রাখুন, শুধু কামনা ও বাসনা
দিয়ে আল্লাহর রহমত ও জান্নাত পাওয়া যায় না ৷ সতাবাদী ও সত্যায়র্নকারী ছাড়া অন্য কাউকে
আল্লাহ তা জানা তার মাগফিরাত ও প্রশস্ত রহমত দান করেন না ৷ আপনারা কি শুনেন নি?
আল্লাহ তা আল৷ তো বলেছেন ং
া
া
ণ্ ;
,
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আসে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে,
তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেনই যেমন তিনি দান করেছিলেন তাদের
পুর্ববর্তীদেরকে ৷ এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্যে সুদৃঢ় করবেন তাদের দীনকে যা তিনি
তাদের জন্যে মনোনীত করেছেন ৷ এবং তাদেরকে ভয়ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই নিরাপত্তা প্রদান
করবেন ৷ তারা আমার ইবাদত করবে, আমার কোন শৰীক করবে না ৷ তারপর যারা অকৃতজ্ঞ
হয়ে তারা (তা সত্যতা৷গী ৷ (সুরা ২৪ , নুর : ৫৫)
আল্লাহ আপনাদেরকে অনুগ্রহ করুন ৷ আপনারা শত্রুর মুকাবিলায় পালিয়ে যাচ্ছেন এমনটি
আল্লাহর নজরে পড়বে বলে লজ্জা করুন ৷ আপনারা সকলেই তাে তার কর্তৃতুাধীন ৷ তিনি ছাড়া
কোন আশ্র য় নেই, তিনি ব্যতীত কোন শক্তিদাত৷ নেই ৷
আমর ইবন আস বলেন, হে মুসলিম জনতা! দৃষ্টি অবনত রেখো ৷ সওয়ারীতে বস
মজবুতভাবে ৷ তীর তাক করে থেকাে ৷ ওরা তােমাদের উপর হামলা করলে ওদেরকে একটু
সুযোগ দিয়ে ঘিরে ৷ ওরা যখন তোমাদের বর্শার নাগালে এসে যাবে তখন সিংহের ন্যায় বাপিয়ে
الْبَغْيُ، أَخْلِصُوا جِهَادَكُمْ وَأَرِيدُوا اللَّهَ بِعَمَلِكُمْ، وَإِنَّ هَذَا يَوْمٌ لَهُ مَا بَعْدَهُ، إِنْ رَدَدْنَاهُمُ الْيَوْمَ إِلَى خَنْدَقِهِمْ فَلَا نَزَالُ نَرُدُّهُمْ، وَإِنْ هَزَمُونَا لَا نُفْلِحُ بَعْدَهَا أَبَدًا، فَتَعَالَوْا فَلْنَتَعَاوَرِ الْإِمَارَةَ، فَلْيَكُنْ عَلَيْهَا بَعْضُنَا الْيَوْمَ، وَالْآخَرُ غَدًا، وَالْآخَرُ بَعْدَ غَدٍ، حَتَّى يَتَأَمَّرَ كُلُّكُمْ، وَدَعُونِي الْيَوْمَ أَلِيكُمْ. فَأَمَّرُوهُ عَلَيْهِمْ، وَهُمْ يَظُنُّونَ أَنَّ الْأَمْرَ يَطُولُ جِدًّا، فَخَرَجَتِ الرُّومُ فِي تَعْبِئَةٍ لَمْ يُرَ مِثْلُهَا قَطُّ، وَخَرَجَ خَالِدٌ فِي تَعْبِئَةٍ لَمْ تُعَبِّهَا الْعَرَبُ قَبْلَ ذَلِكَ ; فَخَرَجَ فِي سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ كُرْدُوسًا إِلَى الْأَرْبَعِينَ، كُلُّ كُرْدُوسٍ أَلْفُ رَجُلٍ عَلَيْهِمْ أَمِيرٌ، وَجَعَلَ أَبَا عُبَيْدَةَ فِي الْقَلْبِ، وَعَلَى الْمَيْمَنَةِ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَمَعَهُ شُرَحْبِيلَ ابْنَ حَسَنَةَ، وَعَلَى الْمَيْسَرَةِ يَزِيدَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، وَأَمَّرَ عَلَى كُلِّ كُرْدُوسٍ أَمِيرًا، وَعَلَى الطَّلَائِعِ قُبَاثَ بْنَ أَشْيَمَ، وَعَلَى الْأَقْبَاضِ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَالْقَاضِي يَوْمَئِذٍ أَبُو الدَّرْدَاءِ، وَقَاصُّهُمُ الَّذِي يَعِظُهُمْ وَيَحُثُّهُمْ عَلَى الْقِتَالِ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ، وَقَارِئُهُمِ الَّذِي يَدُورُ عَلَى النَّاسِ فَيَقْرَأُ سُورَةَ " الْأَنْفَالِ " وَآيَاتِ الْجِهَادِ الْمِقْدَادُ بْنُ الْأَسْوَدِ.
وَذَكَرَ إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ بِإِسْنَادِهِ، أَنَّ أُمَرَاءَ الْأَرْبَاعِ يَوْمَئِذٍ كَانُوا أَرْبَعَةً ; أَبُو عُبَيْدَةَ، وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، وَشُرَحْبِيلُ ابْنُ حَسَنَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، وَخَرَجَ النَّاسُ عَلَى رَايَاتِهِمْ، وَعَلَى الْمَيْمَنَةِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَعَلَى الْمَيْسَرَةِ قُبَاثُ بْنُ أَشْيَمَ
পৃষ্ঠা - ৫৩৮২
পড়বে ওদের উপর ৷ কসম সেই মহান সত্তার যিনি সতবােদিতা পছন্দ করেন এবং তাতে
পুরস্কৃত করেন ৷ যিনি মিথ্যাবাদিতাকে ঘৃণা করেন ৷ যিনি শ্সৎকর্মের প্ৰতিদান সৎকর্য দিয়েই
প্রদান-করেন ৷ আমি শুনেছি মুসলমানগণ এই দেশ জয় করবে ৷ প্রত্যেক কাফিরের উপর বিজয়ী
হবে ৷ প্রতিটি প্রাসাদ দখল করবে ৷ সুতরাং শত্রুপক্ষের বিশাল সমাবেশ ও সংখ্যাধিক্যে তোমরা
ভীত হয়ো না, ভয় পেয়ো না ৷ এটা নিশ্চিত যে, তোমরা যদি য়থোচিত হামলী চালাতে পার
তবে ওরা উড়ে যাবে, পালিয়ে যাবে ডাহুকের ৰাচ্চার ন্যায় ৷
আবুসুফিয়ান বললেন, হে মুসলিমগণ৷ আপনারা আরব জাতি ৷ এখন, আপনারা অবস্থান
করছেন অনারব অঞ্চলে ৷ তবে পরিবার-পরিজন থেকে এখন আপনারা বিচ্ছিন্ন ৷ মুসলিম শহর
নগর থেকে এবং আমীরুল মু’মিনীন-খলীফা থেকে এখন আপনারা দুরে, বহু দুরে ৷ এখন
আপনারা শত্রুদের মুখোমুখি ৷ শত্রু সংখ্যা বহু বেশি ৷ আপনাদের প্রতি ওরা ক্ষ্যাপা ,
মহাক্ষ্যড়াপা ৷ ইতেড়াপুর্বে আপনারা ওদের দেশে এসে ওদের পরিবার-পরিজনের নিকট এসে
ওদের মালের ক্ষতি করেছেন , ওদের উপর আক্রমণ করেছেন ৷ মনে রাখবেন, সততা ও নিষ্ঠার
সাথে ওদের মুকাবিলা না করলে এবং বিপদসঙ্কুল স্থানে ধৈর্য না ধরলে আল্লাহ্ৰুআপনাদেরকে
ওদের হাত থেকে মুক্তি দিবেন না ৷ এবং তিনি আপনাদের প্রতি সন্তুষ্টও হবেন না ৷ মনে
রাখবেন এটিই চিরাচরিত নিয়ম ৷ আপনাদের জন্মভুমি আপনাদের নিকট থেকে অনেক দুরে ৷
আমীরুল মু’মিনীন-খলীফা এবং মুসলিম জনগণ আর আপনাদের মাঝে রয়েছে বহু মাঠ-প্রান্তর
পাহাড়-পর্বতের ব্যবধান ৷ এখানে ধৈর্য ও আল্লাহ্র দেয়া প্রতিশ্রুতি পুরণের আশা ব্যতীত কোন
আশ্রয় ও রক্ষান্থল নেই ৷ আল্লাহ্ই সর্বোত্তম সাহায্যকারী ৷ আপনারা নিজ নিজ তরবারির
সাহায্যে আত্মরক্ষা করুন ৷ একে অন্যকে সাহায্য করুন ৷ এটি যেন আপনার জন্যে দুর্গ ও
নিরাপত্তা-স্থান হয় ৷ এরপর আবু সুফিয়ান (রা) পেলেন মহিলাদের নিকট ৷ ওদেরকে ঘোষ ও
নসীহত করলেন ৷ তারপর ফিরে এসে ডেকে ডেকে বললেন, হে মুসলিম জনতা ৷ উপস্থিত হয়ে
গিয়েছে যা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ৷ এই যে, রাসুলুল্লাহ্য়ুদইদ্বু ও জান্নাত আপনাদের সম্মুখে ৷
শয়তান ও জাহান্নাম আপনাদের পেছনের দিকে ৷ তারপর আবু সুফিয়ান স্বস্থানে ফিরে পেলেন ৷
সেদিন আবু হুরায়রা (রা)-ও নােকদেরকে উপদেশ দিয়েছেন ৷ তিনি বলছিলেন ,
মুসলিমগণ! দ্রুত অগ্রসর হোন আয়তলোচনা হুরদের প্ৰতি এবং আপন প্ৰতিপালক্যে৷ সান্নিধ্য
অর্জনের প্রতি, নিআমডে ভরপুর জান্নড়াতের প্রতি ৷ এখানে আপনারা আপনাদের প্ৰতিপালকের
যত প্রিয় স্থানে অবস্থান করছেন অন্য কোন স্থানে তা হয় না ৷ জেনে রাখুন, ধৈর্যশীলদের জন্যে
তাদের মর্যাদা রয়েছেই ৷
সায়ফ ইবন উমর তার শায়খদের সনদ উল্লেখ করে বলেছেন যে, ঐতিহাসিকদের অভিমত
যে, ওই মুসলিম সেনাবাহিনীতে এক হাজার সাহাৰী ছিলেন এবং তাদের একশ ছিলেন যারা
বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ৷ আবু সুফিয়ান সৈন্যদের সকল ডিভিশনে গিয়ে গিয়ে বলছিলেন,
আল্লাহ্, আল্লাহ্ হে সৈনিকগণ ৷ তোমরা আরবদের প্রতিনিধি এবং ইসলামের সাহায্যকারী ৷ ওরা
খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি এবং শিরকবাদের সাহায্যকারী ৷ হে আল্পাহ্ ! আপনার দিনগুলোর মধ্যে
আজকের এই দিন খুবই গুরুত্বপুর্ণ ৷ হে আল্লাহ্ ৷ আপনার বড়ান্দাদের উপর আপনার সাহায্য
নাযিল করুন ৷
আল-বিদায়া — :
الْكِنَانِيُّ، وَعَلَى الرَّجَّالَةِ هَاشِمُ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصِ، وَعَلَى الْخَيَّالَةِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَهُوَ الْمُشِيرُ فِي الْحَرْبِ الَّذِي يَصْدُرُ النَّاسُ كُلُّهُمْ عَنْ رَأْيِهِ.
وَلَمَّا أَقْبَلَتِ الرُّومُ فِي خُيَلَائِهَا وَفَخْرِهَا قَدْ سَدَّتْ أَقْطَارَ تِلْكَ الْبُقْعَةِ سَهْلِهَا وَوَعْرِهَا، كَأَنَّهُمْ غَمَامَةٌ سَوْدَاءُ يَصِيحُونَ بِأَصْوَاتٍ مُرْتَفِعَةٍ، وَرُهْبَانُهُمْ يَتْلُونَ الْإِنْجِيلَ وَيُحِثُّونَهُمْ عَلَى الْقِتَالِ، وَكَانَ خَالِدٌ فِي الْخَيْلِ بَيْنَ يَدَيِ الْجَيْشِ، فَسَاقَ بِفَرَسِهِ إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ، فَقَالَ لَهُ: إِنِّي مُشِيرٌ بِأَمْرٍ. فَقَالَ: قُلْ مَا أَرَاكَ اللَّهُ، أَسْمَعْ لَكَ وَأُطِعْ. فَقَالَ لَهُ خَالِدٌ: إِنَّ هَؤُلَاءِ الْقَوْمَ لَا بُدَّ لَهُمْ مِنْ حَمْلَةٍ عَظِيمَةٍ لَا مَحِيدَ لَهُمْ عَنْهَا، وَإِنِّي أَخْشَى عَلَى الْمَيْمَنَةِ وَالْمَيْسَرَةِ، وَقَدْ رَأَيْتُ أَنْ أُفَرِّقَ الْخَيْلَ فِرْقَتَيْنِ وَأَجْعَلَهَا مِنْ وَرَاءِ الْمَيْمَنَةِ وَالْمَيْسَرَةِ، حَتَّى إِذَا صَدَمُوهُمْ كَانُوا لَهُمْ رِدْءًا مِنْ وَرَائِهِمْ. فَقَالَ لَهُ: نِعْمَ مَا رَأَيْتَ. فَكَانَ خَالِدٌ فِي أَحَدِ الْخَيَلِينَ مِنْ وَرَاءِ الْمَيْمَنَةِ، وَجَعَلَ قَيْسَ بْنَ هُبَيْرَةَ فِي الْخَيْلِ الْأُخْرَى، وَأَمَرَ أَبَا عُبَيْدَةَ أَنْ يَتَأَخَّرَ عَنِ الْقَلْبِ إِلَى وَرَاءِ الْجَيْشِ كُلِّهِ ; لِكَيْ إِذَا رَآهُ الْمُنْهَزِمُ اسْتَحْيَى مِنْهُ، وَرَجَعَ إِلَى الْقِتَالِ، فَجَعَلَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَكَانَهُ فِي الْقَلْبِ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ الْعَدَوِيَّ أَحَدَ الْعَشْرَةِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، وَسَاقَ خَالِدٌ إِلَى النِّسَاءِ مِنْ وَرَاءِ الْجَيْشِ، وَمَعَهُنَّ عَدَدٌ مِنَ السُّيُوفِ وَغَيْرِهَا، فَقَالَ لَهُنَّ: مَنْ رَأَيْتُمُوهُ مُولِّيًا فَاقْتُلْنَهُ. ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَوْقِفِهِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
وَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ وَتَبَارَزَ الْفَرِيقَانِ، وَعَظَ أَبُو عُبَيْدَةَ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ: عِبَادَ اللَّهِ، انْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ، يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ، اصْبِرُوا ; فَإِنَّ
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৩
ঐতিহাসিকপণ বলেন, খালিদইব ন ওয়ালীদ যখন ইরাক থেকে এখানে এলেন তখন
জনৈক আরব খ্রিষ্টান খালিদ ইবন ওয়ালীদকে বলেছিলেন, হার ! ব্লোমানপণ সংখ্যায় কত
বেশি! আর মুসলমানপণ কত কম! হযরত থালিদ (রা) তাকে বললেন, তুমি কি আমাকে
রোমানদের সংখ্যাধিক্য দ্বারা ভয় দেখাচ্ছ ৷ মনে রেখ, আল্লাহর সাহায্য পেলে কম সংখ্যক
সৈন্য বেশি সংখ্যক সৈন্যে পরিণত হয় আর লাস্থনা ও অবমাননা এসে গোলে বহু সংখ্যক
সৈন্যও কম সংখ্যার ন্যায় হয়ে যায় ৷ জয় পরাজয় সৈন্য সংখ্যার উপর নির্ভর করে না ৷ আমি
কামনা করছি যে, আশকার যদি তার ব্যাথ৷ থেকে মুক্ত হয়ে এখানে আসতে পারত ৷ আর ওই
শত্রুরা যদি স০ ×থ্যাধিক্য সত্বেও দুর্বল হয়ে যেত ৷ মুলত আশকার এর ঘোড়া তাকে আহত করে
দিয়েছে এবং তিনি ইরাক ছেড়ে আসতে অপারগ হয়ে পড়েছেন ৷
মুসলিম ও রোমান সৈন্যগণ যখন মুখোমুখি তখন মুসলমানদের পক্ষ থেকে এগিয়ে গেলেন
আবু উবায়দা ও ইয়াষীদ ইবন আবু সুফিয়ান (রা) ৷ র্তাদের সাথে ছিলেন দিরার ইবন
আয়ওয়ার, হারিছ ইবন হিশাম এবং আবু জানদাল ইবন সুহায়ল ৷ রোমানদের নিকট গিয়ে র্তারা
ডাক দিয়ে বললেন, আমরা তোমাদের সেনাপতির সাথে সাক্ষাত করতে এবং কথা বলতে চাই ৷
ওরা তাদেরকে সেনাপতি তাযারুক’ এর নিকট যাবার অনুমতি দিল ৷৩ তারা সেখানে০ গিয়ে
দেখলেন, তাযারুক বসে আছে ব্লেশমের তৈরি এক তাবুর মধ্যে ৷ র্তারা বললেন এমন স্থানে
প্রবেশ করা আমরা বৈধ মনে করি না ৷ সে৩ তাদের জন্যে বাইরে রেশমের বিছানা বিছিয়ে দেয়ার
নির্দেশ দিল ৷ সাহাবা-ই-কিরাম (রা) বললেন, আমরা এটির উপর বসব না ৷ তারপর
সাহাবা ই কিরামের পছন্দমত স্থানে তাযা রুক’ র্তাদের সাথে আলোচনায় বসল এবং উভয় পক্ষ
সন্ধি স্থাপনে রাজী হলো ৷ ওদেরকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাহারা -ই কিরাম (রা)
ওখান থেকে ফিরে এলেন ৷ কিন্তু তারা এই দাওয়াত গ্রহ ন্ করল না ৷
ওয়ালীদ ইবন মুসলিম উল্লেখ করেছেন যে, মাহান খালিদ (রা) কে তলব করেছিল উভয়
পক্ষের মাঝখানে এসে আলোচনায় অংশ নিতে ৷ যে মাহান ও রাগিব (রা) দুজনে আলোচনা
করে এমন সিদ্ধান্ত নিবেন যা উভয় দলের জন্যে কল্যাণকর হবে ৷ দু’জনে আলোচনায়
বসলেন৷ মাহান বলল, আমরা জানি যে, অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষ আপনাদেরকে এ কাজে
ঠেলে দিয়েছে ৷ সুতরাং আসুন আমরা এ বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হই যে, আমরা আপনাদের প্রত্যেক
ব্যক্তিকে দশ দিনার, কিছু জামা-কাপড় ও খাদ্য প্রদান করব আর আপনারা তা নিয়ে দেশে
ফিরে যাবেন ৷ আগামী বছরও আমরা আপনাদের জন্যে অনুরুপ দান-দক্ষিণ৷ প্রেরণ করব ৷
খালিদ (রা) বললেন, আপনি যা বলেছেন মুলত আমরা সেজন্যে বের হইনি ৷ আমরা বর০ বের
হয়েছি এজন্যে যে, আমরা রক্ত-পিপাসু জাতি ৷ আর আমরা জানতে পেয়েছি যে, রোমানদের
রক্ত খুব ভাল ও মজাদার ৷ আমরা ওই রক্ত পান করার জন্যে এসেছি ৷
মাহান বলল, হার এটা তো সে কথইি আরবদের সম্পর্কে যা আমরা বলাবলি করতাম ৷
এরপর খালিদ (রা) এগিয়ে গেলেন ইকরিমা ইবন আবু জাহ্লেৱ নিকট এবং বাবা ইবন
আমরের নিকট ৷ তারা দু জনে মুল বাহিনীর দু পাশে দায়িত্রত ছিলেন ৷ তিনি তাদেরকে যুদ্ধ
শুরুর নির্দেশ দিলেন ৷ তারা অবিলম্বে রণ-সঙ্গীত গেয়ে ঐ শত্রু পক্ষকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহ্বান
জানান ৷ উভয় পক্ষের সাহসী যােদ্ধাগণ বেরিয়ে এল এবং সাহসিকতার সাথে পায়চারি করতে
الصَّبْرَ مَنْجَاةٌ مِنَ الْكُفْرِ، وَمَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ، وَمَدْحَضَةٌ لِلْعَارِ، وَلَا تَبْرَحُوا مَصَافَّكُمْ، وَلَا تَخْطُوا إِلَيْهِمْ خُطْوَةً، وَلَا تَبْدَأُوهُمْ بِالْقِتَالِ، وَأَشْرِعُوا الرِّمَاحَ وَاسْتَتِرُوا بِالدَّرَقِ، وَالْزَمُوا الصَّمْتَ إِلَّا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ فِي أَنْفُسِكُمْ، حَتَّى آمُرَكُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
قَالُوا: وَخَرَجَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ عَلَى النَّاسِ، فَجَعَلَ يُذَكِّرُهُمْ وَيَقُولُ: يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ وَمُسْتَحْفِظِي الْكِتَابِ، وَأَنْصَارَ الْهُدَى وَالْحَقِّ، إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ لَا تُنَالُ وَجَنَّتَهُ لَا تُدْخَلُ بِالْأَمَانِيِّ، وَلَا يُؤْتِي اللَّهُ الْمَغْفِرَةَ وَالرَّحْمَةَ الْوَاسِعَةَ إِلَّا الصَّادِقَ الْمُصَدِّقَ، أَلَمْ تَسْمَعُوا لِقَوْلِ اللَّهِ: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [النور: 55] الْآيَةَ [النُّورِ: 55] . فَاسْتَحْيُوا، رَحِمَكُمُ اللَّهُ، مِنْ رَبِّكُمْ أَنْ يَرَاكُمْ فُرَّارًا مِنْ عَدُّوِّكُمْ وَأَنْتُمْ فِي قَبْضَتِهِ، وَلَيْسَ لَكُمْ مُلْتَحَدٌ مِنْ دُونِهِ، وَلَا عِزٌّ بِغَيْرِهِ.
وَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: يَا أَيُّهَا الْمُسْلِمُونَ، غُضُّوا الْأَبْصَارَ، وَاجْثُوَا عَلَى الرُّكَبِ، وَأَشْرِعُوا الرِّمَاحَ، فَإِذَا حَمَلُوا عَلَيْكُمْ فَأَمْهِلُوهُمْ، حَتَّى إِذَا رَكِبُوا أَطْرَافَ الْأَسِنَّةِ فَثِبُوا إِلَيْهِمْ وَثْبَةَ الْأَسَدِ، فَوَالَّذِي يَرْضَى الصِّدْقَ وَيُثِيبُ عَلَيْهِ، وَيَمْقُتُ الْكَذِبَ، وَيَجْزِي بِالْإِحْسَانِ إِحْسَانًا، لَقَدْ سَمِعْتُ أَنَّ الْمُسْلِمِينَ سَيَفْتَحُونَهَا كَفْرًا كَفْرًا، وَقَصْرًا قَصْرًا، فَلَا يَهُولَنَّكُمْ جُمُوعُهُمْ وَلَا عَدَدُهُمْ، فَإِنَّكُمْ لَوْ صَدَقْتُمُوهُمُ الشَّدَّ تَطَايَرُوا تَطَايُرَ أَوْلَادِ الْحَجَلِ وَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ، أَنْتُمُ الْعَرَبُ، وَقَدْ أَصْبَحْتُمْ فِي دَارِ الْعَجَمِ مُنْقَطِعِينَ عَنِ الْأَهْلِ، نَائِينَ عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَأَمْدَادِ الْمُسْلِمِينَ، وَقَدْ وَاللَّهِ أَصْبَحْتُمْ بِإِزَاءِ عَدُوٍّ كَثِيرٍ عَدَدُهُ، شَدِيدٌ عَلَيْكُمْ حَنَقُهُ، وَقَدْ وَتِرْتُمُوهُمْ فِي أَنْفُسِهِمْ
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৪
লাগল ৷ যুদ্ধ তীব্রতা গেল এবং প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল ৷ একদল দুঃ সাহসী বীর যোদ্ধা
সহকারে হযরত খালিদ সারির সম্মুখে অবস্থান নিলেন ৷ উভয় পক্ষের বীর যােদ্ধাগণ পরস্পর
হামলা ও আক্রমণ চালাচ্ছি ল ৷ তিনি দাড়িয়ে-দাড়িয়ে তা পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং তার পক্ষের
প্রত্যেক সেনা ইউনিটকে গুরুত্বপুর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার
সাথে যুদ্ধের যথোচিত পরিকল্পনা গ্রহণ করছিলেন ৷
ইসহাক ইবন বাশীর সাঈদ ইবন আবদুল আযীয সুত্রে এবং তিনি দামেশকের প্রাচীন
শায়খদের থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তার৷ বলেছেন, এরপর রোমান সেনাপতি মাহান যুদ্ধের
ময়দানে বেরিয়ে এল ৷ এদিক থেকে বের হলেন সেনাপতি আবু উবায়দাহ্ তিনি মুসলিম
বাহিনীর ডান বাহ্ব সেনাপতি নিযুক্ত করেছিলেন মুআয ইবন জাবাল (রা)-কে ৷ বাম বাহ্ব
সেনাপতি কুবাব ইবন আশীম কিনানী ৷ পদাতিক ডিভিশনের সেনাধ্যক্ষ হাশিম ইবন উতবা
ইবন আবী ওয়াক্কাস এবং অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন খালিদ ইবন ওয়ালীদ ৷
সৈন্যগণ নিজ নিজ পতাকা অনুসরণ করে যুদ্ধে নেমে পড়ল ৷ আবুউবায়দাহ্ (রা) মুসলমানদের
নিকট যাচ্ছিলেন আর তাদেরকে ডেকে বলছিলেন, হে আল্লাহ্র বন্দোগণ ! আপনারা আল্লাহকে
সাহায্য করুন, তিনি আপনাদেরকে সাহায্য করবেন এবং আপনাদ্দেরকে অৰিচল রাখবেন ৷ হে
মুসলিম সম্প্রদায় ৷ ধৈর্য অবলম্বন করুন ৷ ধৈর্য হলো কুফরী থেকে মুক্তির পথ ৷ প্রতি পালকের
সন্তুষ্টি লাভের উপায় এবং লজ্জা ও অপমান দুরীকরণের মাধ্যম ৷ আপনারা নিজ নিজ সারিতে
স্থির থাকুন ৷ শত্রুর দিকে পা বাড়াবেন না ৷ নিজেরা যুদ্ধের সুচনা করবেন না ৷ তীরগুলাে
সাজিয়ে প্রস্তুত থাকুন ৷ ঢাল দিয়ে নিজেদেরকে আড়াল করে রাখুন ৷ নীরবতা অবলম্বন করুন ৷
অবশ্য আল্লাহর যিক্র তাে করবেনই ৷
মুআয ইবন জাবাল (রা) বেরিয়ে এলেন ৷ তিনি উপদেশ দিয়ে বলছিলেন, হে কুরআন
পন্থিগণ ! আল্লাহ্র কিতাবের হিফাজতকারিগণ , হিদায়াত ও সত্যের সাহাষ্যকারিগণ , শুধু কামনা
ও আকাভক্ষা দ্বারা জান্নাত ও রহমত পাওয়া যায় না, সত্যবাদী ও সত্যায়নকারী ব্যতীত অন্য
কাউকে আল্লাহ্ তা আলা মাগরিফরাত ও তার বিন্তুত রহমত দান করেন না ৷ আপনারা কি
মহান আল্লাহ্র বাণী শোনেন নিঃ আল্লাহ্ তা“ জানা বলেছেন
৷ ;,
ষ্ষ্ষ্ষ্ষ্ষ্ ষ্ :
ছুাএগ্লু!ষ্
চুগ্লুক্রো ণ্১
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আসে ও সৎকর্ম করে আল্লাহর তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন
যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিৎ দান করবেনই, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান
করেছিলেন তাদের পুর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্যে সুদৃঢ় করবেন তাদের
দীনকে যা তিনি তাদের জন্যে মনোনীত করেছেন ৷ এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে
তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন ৷ তারা আমার ইবাদত করবে আমার কোন শ্বরীক
বল্মবে না ৷ অতঃপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা তো সত্যত্যাগী ৷ (সুরা ২৪-, নুর : ৫৫)
وَبِلَادِهِمْ وَنِسَائِهِمْ، وَاللَّهِ لَا يُنَجِّيكُمْ مِنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ، وَلَا يُبْلَغُ بِكُمْ رِضْوَانَ اللَّهِ غَدًا، إِلَّا بِصِدْقِ اللِّقَاءِ وَالصَّبْرِ فِي الْمَوَاطِنِ الْمَكْرُوهَةِ، أَلَا وَإِنَّهَا سُنَّةٌ لَازِمَةٌ، وَإِنَّ الْأَرْضَ وَرَاءَكُمْ، بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَجَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ صَحَارَى وَبَرَارِيُّ، لَيْسَ لِأَحَدٍ فِيهَا مَعْقِلٌ وَلَا مَعْدِلٌ إِلَّا الصَّبْرُ وَرَجَاءُ مَا وَعَدَ اللَّهُ، فَهُوَ خَيْرُ مُعَوَّلٍ، فَامْتَنِعُوا بِسُيُوفِكُمْ وَتَعَاوَنُوا، وَلْتَكُنْ هِيَ الْحُصُونُ. ثُمَّ ذَهَبَ إِلَى النِّسَاءِ فَوَصَّاهُنَّ، ثُمَّ عَادَ فَنَادَى: يَا مَعَاشِرَ أَهْلِ الْإِسْلَامِ، حَضَرَ مَا تَرَوْنَ فَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْجَنَّةُ أَمَامَكُمْ، وَالشَّيْطَانُ وَالنَّارُ خَلْفَكُمْ. ثُمَّ سَارَ إِلَى مَوْقِفِهِ، رَحِمَهُ اللَّهُ.
وَقَدْ وَعَظَ النَّاسَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَيْضًا فَجَعَلَ يَقُولُ: سَارِعُوا إِلَى الْحُورِ الْعِينِ، وَجِوَارِ رَبِّكُمْ، عَزَّ وَجَلَّ، فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ، مَا أَنْتُمْ إِلَى رَبِّكُمْ فِي مَوْطِنٍ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْكُمْ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ، أَلَا وَإِنَّ لِلصَّابِرِينَ فَضْلَهُمْ.
قَالَ سَيْفُ بْنُ عُمَرَ بِإِسْنَادِهِ عَنْ شُيُوخِهِ: إِنَّهُمْ قَالُوا: كَانَ فِي ذَلِكَ الْجَمْعِ أَلْفُ رَجُلٍ مِنَ الصَّحَابَةِ ; مِنْهُمْ مِائَةٌ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ. وَجَعَلَ أَبُو سُفْيَانَ يَقِفُ عَلَى كُلِّ كُرْدُوسٍ وَيَقُولُ: اللَّهَ اللَّهَ، إِنَّكُمْ دَارَةُ الْعَرَبِ وَأَنْصَارُ الْإِسْلَامِ، وَإِنَّهُمْ دَارَةُ الرُّومِ وَأَنْصَارُ الشِّرْكِ، اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا يَوْمٌ مِنْ أَيَّامِكَ، اللَّهُمَّ أَنْزِلْ نَصْرَكَ عَلَى عِبَادِكَ. قَالُوا: وَلَمَّا أَقْبَلَ خَالِدٌ مِنَ الْعِرَاقِ قَالَ رَجُلٌ مِنْ نَصَارَى الْعَرَبِ لِخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ: مَا أَكْثَرَ الرُّومَ وَأَقَلَّ الْمُسْلِمِينَ! فَقَالَ خَالِدٌ: وَيْلَكَ، أَتُخَوِّفُنِي بِالرُّومِ؟
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৫
إِنَّمَا تَكْثُرُ الْجُنُودُ بِالنَّصْرِ، وَتَقِلُّ بِالْخِذْلَانِ لَا بِعَدَدِ الرِّجَالِ، وَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنَّ الْأَشْقَرَ بَرَاءٌ مِنْ تَوَجِّيهِ وَأَنَّهُمْ أَضْعَفُوا فِي الْعَدَدِ. وَكَانَ فَرَسُهُ قَدْ حَفِيَ وَاشْتَكَى فِي مَجِيئِهِ مِنَ الْعِرَاقِ. وَلَمَّا تَقَارَبَ النَّاسُ تَقَدَّمَ أَبُو عُبَيْدَةَ وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، وَمَعَهُمَا ضِرَارُ بْنُ الْأَزْوَرِ، وَالْحَارِثُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو جَنْدَلِ بْنُ سُهَيْلٍ، وَنَادَوْا: إِنَّمَا نُرِيدُ أَمِيرَكُمْ لِنَجْتَمِعَ بِهِ. فَأُذِنَ لَهُمْ فِي الدُّخُولِ عَلَى تَذَارِقَ، وَإِذَا هُوَ جَالَسٌ فِي خَيْمَةٍ مِنْ حَرِيرٍ، فَقَالَ الصَّحَابَةُ: لَا نَسْتَحِلُّ دُخُولَهَا. فَأَمَرَ لَهُمْ بِفُرُشٍ ; بُسُطٍ مِنْ حَرِيرٍ، فَقَالُوا: وَلَا نَجْلِسُ عَلَى هَذِهِ. فَجَلَسَ مَعَهُمْ حَيْثُ أَحَبُّوا، وَتَرَاضَوْا عَلَى الصُّلْحِ، وَرَجَعَ عَنْهُمُ الصَّحَابَةُ بَعْدَمَا دَعَوْهُمْ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، فَلَمْ يَتِمَّ ذَلِكَ.
وَذَكَرَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ أَنَّ بَاهَانَ طَلَبَ خَالِدًا ; لِيَبْرُزَ إِلَيْهِ فِيمَا بَيْنَ الصَّفَّيْنِ، فَيَجْتَمِعَا فِي مَصْلَحَةٍ لَهُمْ، فَقَالَ بَاهَانُ: إِنَّا قَدْ عَلِمْنَا أَنَّ مَا أَخْرَجَكُمْ مِنْ بِلَادِكُمُ الْجَهْدَ وَالْجُوعَ، فَهَلُمُّوا إِلَى أَنْ أُعْطِيَ كُلَّ رَجُلٍ مِنْكُمْ عَشَرَةَ دَنَانِيرَ وَكِسْوَةً وَطَعَامًا، وَتَرْجِعُونَ إِلَى بِلَادِكُمْ، فَإِذَا كَانَ مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ بَعَثْنَا لَكُمْ بِمِثْلِهَا. فَقَالَ خَالِدٌ: إِنَّهُ لَمْ يُخْرِجْنَا مِنْ بِلَادِنَا مَا ذَكَرْتَ، غَيْرَ أَنَّا قَوْمٌ نَشْرَبُ الدِّمَاءَ، وَأَنَّهُ بَلَغَنَا أَنَّهُ لَا دَمَ أَطْيَبُ مِنْ دَمِ الرُّومِ، فَجِئْنَا لِذَلِكَ. فَقَالَ أَصْحَابُ بَاهَانَ: هَذَا وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُحَدَّثُ بِهِ عَنِ الْعَرَبِ.
قَالُوا: ثُمَّ تَقَدَّمَ خَالِدٌ إِلَى عِكْرِمَةَ بْنِ أَبِي جَهْلٍ وَالْقَعْقَاعِ بْنِ عَمْرٍو - وَهُمَا
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৬
আল্লাহ আপনাদেরকে দয়া করুন ৷ আপনারা এটাকে লজ্জাকর মনে করুন যে, শত্রুর
মুকাবিলায় আপনারা পালিয়ে যাচ্ছেন আল্লাহ তেমনঢি দেখবেন ৷ আপনারা তো তারই
অধীনস্থ ৷ তিনি ব্যতীত আপনাদের কোন আশ্রয়ন্থল নেই ৷
সেনাপতি আমর ইবন আস মুজাহিদদের সম্মুখে পায়চারি করছিলেন আর বলছিলেন, হে
মুসলিমগণ দৃষ্টি অবনত রাখুন ৷ সওয়ারীতে দৃঢ়ভা বে বসুন ৷ তীর ও বর্শা প্রস্তুত করে ওদের
দিকে তাক করে রাখুন ৷ ওরা আপনাদের ওপর হামলা করলে আপনারা ওদেরকে অবকাশ
দিবেন ৷ ওরা যখন আপনাদের বর্শার নাপালে পৌছে যাবে তখন ওদের উপর ঝাপি য়ে পড়বেন
সিংহের ন্যায় ৷ সেই মহান সত্তার কলম! যিনি স৩ বােদিতা পছন্দ করেন এবং সত্যবাদিতার
পুরস্কার দেন ৷ যিনি মিথ্যাবাদিতাকে ধ্বৎ স করেন এবং উত্তম কর্মের বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান
দান করেন ৷ আমি শুনেছি মুসলিমগণ এই অঞ্চল জয় করবে শীঘ্রই ৷ প্রতিটি কাফিরকে তারা
পরাস্ত করবে এবং প্রতিটি দালান-কোঠা দখল করবে ৷ সুতরাৎ শত্রুসেনাদের এই সমাবেশ ও
ৎথ্যাধিক্যে যেন আপনারা ভয় না পান ৷ কারণ আপনারা যদি খালিস নিয়তে ওদের উপ র
সজােরে হামলা করেন তাহলে ওরা ডাহুকের ছানার ন্যায় পালিয়ে প্রাণ বাচাবে ৷ ,
এরপর কথা বললেন আবু সুফিয়ান ৷ তিনি সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন এবং দীর্ঘ বক্তৃতার
মাধ্যমে ঘুসলমানদেরকে উৎসাহিত করেছেন ৷ সেনাসদস্যদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, হে
ইসলাম অনুসারী ব্যক্তিবর্গ ৷ আপনারা যা দেখছেন তাভাে উপস্থিত রয়েছেই ৷ এই যে,
রাসুলুল্পাহ্ৰু,গা;চ্,ব্দু এবং জান্নাত আপনাদের সম্মুখেই ৷ শয়তান ও জ্যহান্নাম রয়েছে আপনাদের
পেছনে ৷ তিনি মহিলাদেরকেও উৎসাহিত করলেন ৷ তাদেরকে বললেন যে, কাউকে যুদ্ধের
ময়দান থেকে পালিয়ে যেতে দেখলে এই পাথর ও লাঠি দিয়ে তোমরা ওকে মারবে, যতক্ষণ না
সে যুদ্ধ ময়দানে ফেরত না যায় ৷
সৰ্বাধিনায়ক খালিদ (বা) নির্দেশ দিলেন যে, সাঈদ ইবন যায়দ মুল বাহিনীতে থাকবেন ৷
আবুউবায়দা (রা) থাকবেন সকলের পেছনে ৷ পলায়নকারীদের তিনি ফেরত পাঠাবেন ৷ খালিদ
(রা) অশ্বারোহী বাহিনীকে দৃ’তাগে বিভক্ত করলেন ৷ এক ভাগ নিয়োজিত করলেন ডান পার্শ্ব
বাহিনীর পেছনে আর অপর ভাগ থাকল বাম পার্শ্ব বাহিনীর পেছনে ৷ যাতে মানুষ পালিয়ে যেতে
না পারে ৷ আর অশ্বারােহী যেন সাধারণ বাহিনীর পেছনে থেকে তাদেরকে সাহায্য করতে
পারে ৷ তার সাথীগণ যুদ্ধ পরিকল্পনায় তাকে সমর্থন দিয়ে বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে যেমন ষ্
বুঝিয়ে দেন আপনি তেমন করে চালিয়ে যান ৷ ক্রুশ চিহ্ন উধের্ব তুলে বো মানগণ অ্যাসর হলো ৷
তারা বজ্রনিনাদের ন্যায় শব্দ ও চিৎকার করছিল ৷ ধর্মযাজক ও পণ্ডিতগণ তাদের যুদ্ধের জন্যে
উৎসাহিত করছিল ৷ সৈন্য স ণ্যা ও যুদ্ধ প্রন্তুতিতে তারা এত উন্নত ছিল যে, তা ইতিপুর্বে
কখনো দেখা যায়নি ৷ মহান আল্লাহ্ই সাহায্যকারী এবং তার উপরই নির্ভবতা ৷
ইয়ারমুক যুদ্ধে বাবা ছিলেন তাদের একজন হযরত যুৰায়র ইবন আওয়াম (রা) ৷ সেখানে
উপস্থিত সকল সাহারীর মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বোত্তম ৷ তিনি দক্ষ অশ্বারােহী ও সাহসী যোদ্ধা
ছিলেন ৷
সেদিন কতক মুসলিম নেতা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলল, আপনি শত্রুর উপর
হামলা চালাচ্ছেন না কেনা তাহলে আমরা আপনার সাথে একযোগে ওদের উপর হামলা
عَلَى مُجَنِّبَتَيِ الْقَلْبِ - أَنْ يُنْشِئَا الْقِتَالَ، فَبَدَرَا يَرْتَجِزَانِ وَدَعَوْا إِلَى الْبِرَازِ، وَتَنَازَلَ الْأَبْطَالُ، وَتَجَاوَلُوا وَحَمِيَ الْحَرْبُ، وَقَامَتْ عَلَى سَاقٍ، هَذَا وَخَالِدٌ مَعَهُ كُرْدُوسٌ مِنَ الْحُمَاةِ الشُّجْعَانِ الْأَبْطَالِ بَيْنَ يَدَيِ الصُّفُوفِ، وَالْأَبْطَالُ يَتَصَاوَلُونَ مِنَ الْفَرِيقَيْنِ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَهُوَ يَنْظُرُ وَيَبْعَثُ إِلَى كُلِّ قَوْمٍ مِنْ أَصْحَابِهِ بِمَا يَعْتَمِدُونَهُ مِنَ الْأَفَاعِيلِ، وَيُدَبِّرُ أَمْرَ الْحَرْبِ أَتَمَّ تَدْبِيرٍ.
وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ قُدَمَاءِ مَشَايِخِ دِمَشْقَ قَالُوا: ثُمَّ زَحَفَ بَاهَانُ فَخَرَجَ أَبُو عُبَيْدَةَ وَقَدْ جَعَلَ عَلَى الْمَيْمَنَةِ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، وَعَلَى الْمَيْسَرَةِ قُبَاثَ بْنَ أَشْيَمَ الْكِنَانِيَّ، وَعَلَى الرَّجَّالَةِ هَاشِمَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، وَعَلَى الْخَيْلِ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ، وَخَرَجَ النَّاسُ عَلَى رَايَاتِهِمْ وَسَارَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِالْمُسْلِمِينَ وَهُوَ يَقُولُ: عِبَادَ اللَّهِ، انْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ، يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ اصْبِرُوا، وَصَابِرُوا، فَإِنَّ الصَّبْرَ مَنْجَاةٌ مِنَ الْكُفْرِ، وَمَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ، وَمَدْحَضَةٌ لِلْعَارِ، وَلَا تَبْرَحُوا مَصَافَّكُمْ، وَلَا تَخْطُوا إِلَيْهِمْ خُطْوَةً، وَلَا تَبْدَأُوهُمْ بِالْقِتَالِ، وَأَشْرِعُوا الرِّمَاحَ وَاسْتَتِرُوا بِالدَّرَقِ وَالْزَمُوا الصَّمْتَ إِلَّا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَخَرَجَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، فَجَعَلَ يُذَكِّرُهُمْ وَيَقُولُ: يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ، وَمُسْتَحْفِظِي الْكِتَابِ، وَأَنْصَارَ الْهُدَى وَالْحَقِّ، إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ لَا تُنَالُ، وَجَنَّتَهُ لَا تُدْخَلُ بِالْأَمَانِيِّ، وَلَا يُؤْتِي اللَّهُ الْمَغْفِرَةَ وَالرَّحْمَةَ الْوَاسِعَةَ إِلَّا الصَّادِقَ الْمُصَدِّقَ، أَلَمْ تَسْمَعُوا لِقَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [النور: 55]
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৭
চালাতাম ৷ তিনি বললেন, আপনারা তো স্থির থাকতে পারবেন না ৷ ওরা বলল, “অবশ্যই
আমরা স্থির থাকতে পারব ৷’ তারপর তিনি শত্রুপক্ষের উপর হামলা করলেন ৷ সাথী নেতারাও
হামলা করলেন ৷ রোমানদের মুখোমুখি হবার পর তার সাথীগণ ফিরে এলে আর তিনি এগিয়ে
গেলেন ৷ তরবারি পরিচালনা করতে করতে তিনি রোমানদের সারি র্কাক করে সোজা অন্যদিক
দিয়ে বেরিয়ে গেলেন এবং তার সাথীদের নিকট ফিরে এলেন ৷ তার সাথীগণ পুনরায় তার
নিকট আসেন ৷ তারা প্রথমে যেমন বলেছিল পুনরায় তেমনি বলল ৷ দ্বিতীয়বারেও তারা
প্রথমবারের অনুরুপ আচরণ করল সেদিন তিনি তার দৃ’র্কাধে দৃ’টো আঘাত পুেয়েছিলেন ৷ এক
বর্ণনায় আছে যে, তিনি একটি আঘাত পেয়েছিলেন ৷ আমরা যা উল্লেখ করেছি এই মর্মের
হাদীস ইমাম বুখারী (র) তার সহীহ্ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ৷
এই যুদ্ধে হযরত মু আয ইবন জাবাল (বা) যখনই খ্রিষ্টান যাজক ও পাদ্রীদের শব্দ শুনতেন
তখনই বলতেনশ্
ছু১ট্রুন্,পুাট্র৷ এ ১এট্ট ণ্ণ্র্মো
এেট্রুদ্বু;৷ ৷
“হে আল্লাহ্৷ ওদের পা টলটলায়মান করে দিন ৷ ওদের অম্ভার ভয় সঞ্চার করে দিন ৷
আমাদের উপর শাস্তি নাযিল করুন ৷ আমাদেরকে তাকওয়ার উপর অবিচল থাকতে দিন ৷
শত্রুর মুখোমুখি হওয়াকে আমাদের নিকট পছন্দনীয় করে দিন এবং আপনার ফায়সালায় রাজী
ও সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দিন ৷”
থ্রিক্টান সেনাপতি মাহান বেরিয়ে এল ৷ তার বাম বাহু সৈন্যের সেনাপতি দাবারীজান-কে
সে মুসলমানদের উপর আক্রমণের নির্দেশ দিল ৷ আল্পাহ্র এই দৃশমন ওদের মধ্যে ভাল
উপাসনাকারী ছিল ৷ সে মুসলিম সেনাদলের ডান বাহুর উপর আক্রমণ করল ৷ ওখানে ছিল
আয্দ, মুযহাজ, হদােরা-মাওতপ্ ও খড়াওলান গোত্রের সৈন্যগ্যা ৷ তারা খ্রিস্টানদের আক্রমণ
প্রতিহত করল এবং ত্মাল্লাহ্র দৃশমনদেরকে রুখে দিল ৷ এরপর পাহাড়ের ন্যায় রোমান সৈন্যগণ
মুসলমানদের উপর হামলা করে ৷ মুসলিম সৈন্যগণ ডান বাহু থেকে সরে গিয়ে মুল সেনাদলের
সাথে মিলিত হয় ৷ শত্রুপক্ষের কিছু লোক মুল দল অতিক্রা করে মুসলিমদের মধ্যে ঢুকে
পড়ে ৷ মুসলমানগ৭ নিজ নিজ পতাকার ছত্রছায়ায় বীর বিক্রমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে ৷
এরপর উভয় পক্ষ পণর্বুদ্ধ আহ্বান করে ৷ একে অপরের উপর আক্রমণ চালাতে থাকে ৷ শেষ
পর্যন্ত মুসলমানগণ তাদের সমুখস্থ রোমান সৈন্যদেরকে হঢিয়ে দেয় এবং দলছুট্ র্লোকদের
সাথে মিলিত হতে বাধা দেয় ৷ ওদিকে মুসলিম সৈন্যদের মধ্য থেকে অস্থির ও অধৈর্য সৈন্যগণ
যুদ্ধ ময়দান থেকে পালিয়ে যেতে চাইলে অপেক্ষমাণ মইিলাগণ ওদেরকে পাথর নিক্ষেপ করে ও
কাঠ দিয়ে প্ৰহার শুরু করে ৷ এ সময়ে খাওলাহ্ বিনৃত ছালাবাহ নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেন :
” শ্শ্
হে পলাতক ব্যক্তি তুমি পালাচ্ছ সতী-সাধবী মহিলাদেরকে ফেলে রেখে ৷ জেনে রহ্বখ,
অবিলম্বে তুমি ওদেরকে খ্রিস্টানদের হাতে বন্দী দেখতে পাবে ৷
إِلَى آخِرِ الْآيَةِ [النُّورِ: 55] . فَاسْتَحْيُوا، رَحِمَكُمُ اللَّهُ، مِنْ رَبِّكُمْ أَنْ يَرَاكُمْ فُرَّارًا مِنْ عَدُّوِّكُمْ، وَأَنْتُمْ فِي قَبْضَتِهِ، وَلَيْسَ لَكُمْ مُلْتَحَدٌ مِنْ دُونِهِ.
وَسَارَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ فِي النَّاسِ وَهُوَ يَقُولُ: أَيُّهَا الْمُسْلِمُونَ، غُضُّوا الْأَبْصَارَ، وَاجْثُوا عَلَى الرُّكَبِ، وَأَشْرِعُوا الرِّمَاحَ، فَإِذَا حَمَلُوا عَلَيْكُمْ فَأَمْهِلُوهُمْ، حَتَّى إِذَا رَكِبُوا أَطْرَافَ الْأَسِنَّةِ فَثِبُوا وَثْبَةَ الْأَسَدِ، فَوَالَّذِي يَرْضَى الصِّدْقَ وَيُثِيبُ عَلَيْهِ، وَيَمْقُتُ الْكَذِبَ، وَيَجْزِي الْإِحْسَانَ إِحْسَانًا، لَقَدْ سَمِعْتُ أَنَّ الْمُسْلِمِينَ سَيَفْتَحُونَهَا كَفْرًا كَفْرًا، وَقَصْرًا قَصْرًا، فَلَا يَهُولَنَّكُمْ جُمُوعُهُمْ وَلَا عَدَدُهُمْ، فَإِنَّكُمْ لَوْ صَدَقْتُمُوهُمُ الشَّدَّ لَتَطَايَرُوا تَطَايُرَ أَوْلَادِ الْحَجَلِ.
ثُمَّ تَكَلَّمَ أَبُو سُفْيَانَ فَأَحْسَنَ وَحَثَّ عَلَى الْقِتَالِ، فَأَبْلَغَ فِي كَلَامٍ طَوِيلٍ ثُمَّ قَالَ حِينَ تَوَاجَهَ النَّاسُ: يَا مَعْشَرَ أَهْلِ الْإِسْلَامِ، حَضَرَ مَا تَرَوْنَ، فَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْجَنَّةُ أَمَامَكُمْ، وَالشَّيْطَانُ وَالنَّارُ خَلْفَكُمْ. وَحَرَّضَ أَبُو سُفْيَانَ النِّسَاءَ فَقَالَ: مَنْ رَأَيْتُنَّهُ فَارًّا فَاضْرِبْنَهُ بِهَذِهِ الْأَحْجَارِ وَالْعِصِيِّ حَتَّى يَرْجِعَ. وَأَشَارَ خَالِدٌ أَنْ يَقِفَ فِي الْقَلْبِ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، وَأَنْ يَكُونَ أَبُو عُبَيْدَةَ مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ لِيَرُدَّ الْمُنْهَزِمَ، وَقَسَمَ خَالِدٌ الْخَيْلَ قِسْمَيْنِ ; فَجَعَلَ فِرْقَةً وَرَاءَ الْمَيْمَنَةِ، وَفِرْقَةً وَرَاءَ الْمَيْسَرَةِ ; لِئَلَّا يَفِرَّ النَّاسُ وَلِيَكُونُوا رِدْءًا لَهُمْ مِنْ وَرَائِهِمْ، فَقَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ: افْعَلْ مَا أَرَاكَ اللَّهُ. وَامْتَثَلُوا مَا أَشَارَ بِهِ خَالِدٌ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَأَقْبَلَتِ الرُّومُ رَافِعَةً صُلْبَانَهَا، وَلَهُمْ أَصْوَاتٌ مُزْعِجَةٌ كَالرَّعْدِ، وَالْقَسَاقِسَةُ وَالْبَطَارِقَةُ تُحَرِّضُهُمْ عَلَى الْقِتَالِ، وَهُمْ فِي عَدَدٍ وَعُدَدٍ لَمْ يُرَ مِثْلُهُ. فَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْهِ التُّكْلَانُ.
وَقَدْ كَانَ فِيمَنْ شَهِدَ الْيَرْمُوكَ الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ، وَهُوَ أَفْضَلُ مَنْ هُنَاكَ مِنَ الصَّحَابَةِ، وَكَانَ مِنْ فُرْسَانِ النَّاسِ وَشُجْعَانِهِمْ، فَاجْتَمَعَ إِلَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الْأَبْطَالِ يَوْمَئِذٍ فَقَالُوا: أَلَا تَحْمِلُ فَنَحْمِلَ مَعَكَ؟ فَقَالَ: إِنَّكُمْ لَا تَثْبُتُونَ. فَقَالُوا:
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৮
ৰুাটু
এই বুদ্ধিমতী বিচক্ষণ ও পছন্দের মহিলাদেরকে তোমরা আর দেখতে পাবে না ৷ বর্ণনাকারী
বলেন, তারপর সবাই স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যায় ৷
সায়ফ ইবন উমর আবু উসমান পাসৃসানী সুত্রে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তার পিতা
বলেছেন যে, ইয়ারমুক যুদ্ধের দিন ইকরিমা ইবন আবু জা হল বলেছিলেন, রাসুলুল্লাহ্মোঃ-এ
বিরুদ্ধে আমি বহু যুদ্ধ করেছি আর হে খ্রিক্টানগণ তোমাদের মুকাৰিলায় আজ আমি পালিয়ে
যাব ? তারপর তিনি ঘোষণা দিলেন, কে আছু মৃত্যুবরণের জন্যে শপথ করতে পার ?’ তার
আহ্বানে তার চাচা হারিছ এবং দিরার ইব্র্নআযওয়ার সহ প্রায় চারশ নেতৃস্থানীয় অশ্বারােহী
মুজাহিদ শহীদ হবার জন্যে শপথ করেন ৷ তারা সবাই হযরত খালিদ (রা) এর তীব্র সম্মুখে
অবস্থান নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হন ৷ তাদের সকলে আহত হন ৷ অনেকেই
শাহাদাতবরণ করেন ৷ শাহাদাত বরণকারীদের অন্যতম হলেন দিরার ইবন আয়ওয়ার (রা) ৷
ওয়াকিদী ও অন্যান্য ঐতিহাসিক বলেছেন যে, তারা যখন আহত হয়ে মাটিতে লুঢিয়ে
পড়েছিলেন তখন তারা পানি চেয়েছিলেন ৷ কিছু পরিমাণ পানি সেখানে আনা হলো ৷ তাদের
একজনের নিকট পানি আনা হলে অন্য একজন সেদিকে তাকিয়েছিলেন ৷ তাই প্রথমজন
বললেন, পানি আগে তাকে দিন ৷’ তার নিকট পানি আনা হলে অন্য একজন সেদিকে
তাকিয়েছিলেন ৷ ফলে দ্বিতীয়জন পানি পান না করে বললেন, অমুককে দিন ৷ ’ এভাবে তারা
একে অন্যের নিকট পানি পাঠাতে লাপলেন ৷ অবশেষে সকলে মারা গেলেন ৷ কেউই পানি পান
করলেন না ৷ (আল্লাহ তাদের প্রতি সভুষ্ট হোন) ৷ বর্ণিত আছে যে, ইয়ারমুক যুদ্ধের দিন
সর্বপ্রথম শহীদ হয়েছিলেন যে ব্যক্তি তিনি হযরত আবু উবায়দাহ্ (রা) এর নিকট উপস্থিত
হয়েছিলেন ৷ তারপর আবু উবায়দাহ্কে বললেন, আমি আমার লক্ষ্য হাসিলের জন্যে পুর্ণ
প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি ৷ আপনি রাসুলুল্লাহ্মোঃ এর প্রতি কি কোন স বাদ পড়াঠড়াবেন : তার সাথে
কি আপনার কোন প্রয়োজন আছে ? আবু উবায়দাহ্ (রা) বললেন, হ্যা, আছে ৷ আপনি
রাসুলুল্লাহ্খ্যাঃ কে আমার সালাম জানাবেন আর বলবেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমাদের
প্রতিপালক আমাদেরকে যে ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমরা তার সবগুলেইি সত্য ও
সঠিক পেয়েছি’ ৷
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ওই লোক সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং যুদ্ধ করতে
করতে শহীদ হয়ে গেলেন ৷ সেদিন প্রত্যেক দল নিজ নিজ পতাকার অধীনে অবিচল থাকে ৷
রােমানগণ তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল ৷ যেন তারা যাতাকল ৷ ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিনে ইতস্তত
বিক্ষিপ্ত মগজ, ছড়ানাে ছিটানাে হাতের কবৃজি ও উড়ত্ত হাতের তালু ছাড়া কিছুই দেখা যায়নি ৷
হযরত খালিদ (বা) তার ঘ্রথী অশ্বারোহীদেরকে নিয়ে শত্রু সৈন্যের বাম বাহুর উপর আক্রমণ
চালালেন ৷ ওরা ইতিপুর্বে মুসলিম সৈন্যদের ডান বাহুর উপর আক্রমণ করেছিল ৷ তারা ওদের
বাম বাহুকে আক্রমণে আক্রমণে অস্থির করে মুল সৈন্যদলে মিশিয়ে দিলেন ৷ এই হামলার প্রায়
ছয় হাজার রোমান সৈন্য নিহত হয় ৷ তারপর হযরত খালিদ (বা) বলেন, তখন শত্রুপক্ষের আর
ধৈর্য ও শক্তি নেই ৷ আমি আশা করছি যে, আল্লাহ ত৷ আলা ওদের ঘাড়গুলো তােমাদেরকে দান
করবেন ৷’ অর্থাৎ অবিলম্বে তোমরা ওদের উপর বিজয়ী হয়ে ৷ তিনি মুখোমুখি হলেন শত্রু
بَلَى. فَحَمَلَ وَحَمَلُوا، فَلَمَّا وَاجَهُوا صُفُوفَ الرُّومِ أَحْجَمُوا وَأَقْدَمَ هُوَ ; فَاخْتَرَقَ صُفُوفَ الرُّومِ حَتَّى خَرَجَ مِنَ الْجَانِبِ الْآخَرِ وَعَادَ إِلَى أَصْحَابِهِ، ثُمَّ جَاءُوا إِلَيْهِ مَرَّةً ثَانِيَةً، فَفَعَلَ كَمَا فَعَلَ فِي الْأُولَى، وَجُرِحَ يَوْمَئِذٍ جُرْحَيْنِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: جُرْحٌ. وَقَدْ رَوَى الْبُخَارِيُّ مَعْنَى مَا ذَكَرْنَاهُ فِي " صَحِيحِهِ ".
وَجَعَلَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ كَلَّمَا سَمِعَ أَصْوَاتَ الْقِسِّيسِينَ وَالرُّهْبَانِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ زَلْزِلْ أَقْدَامَهُمْ، وَأَرْعِبْ قُلُوبَهُمْ، وَأَنْزِلْ عَلَيْنَا السَّكِينَةَ، وَأَلْزِمْنَا كَلِمَةَ التَّقْوَى، وَحَبِّبْ إِلَيْنَا اللِّقَاءَ، وَرَضِّنَا بِالْقَضَاءِ. وَخَرَجَ بَاهَانُ فَأَمَرَ صَاحِبَ الْمَيْسَرَةِ، وَهُوَ الذَّرْبِيجَانُ، وَكَانَ عَدُوُّ اللَّهِ مُتَنَسِّكًا فِيهِمْ، فَحَمَلَ عَلَى الْمَيْمَنَةِ، وَفِيهَا الْأَزْدُ وَمَذْحِجٌ وَحَضْرَمَوْتُ وَخَوْلَانُ، فَثَبَتُوا حَتَّى صَدَقُوا أَعْدَاءَ اللَّهِ، ثُمَّ رَكِبَهُمْ مِنَ الرُّومِ أَمْثَالُ الْجِبَالِ، فَزَالَ الْمُسْلِمُونَ مِنَ الْمَيْمَنَةِ إِلَى نَاحِيَةِ الْقَلْبِ، وَانْكَشَفَتْ طَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ إِلَى الْعَسْكَرِ، وَثَبَتَ صَدْرٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَظِيمٌ يُقَاتِلُونَ تَحْتَ رَايَاتِهِمْ، وَانْكَشَفَتْ زُبَيْدٌ، ثُمَّ تَنَادَوْا فَتَرَاجَعُوا وَحَمَلُوا حَتَّى نَهْنَهُوا مَنْ أَمَامَهُمْ مِنَ الرُّومِ، وَأَشْغَلُوهُمْ عَنِ اتِّبَاعِ مَنِ انْكَشَفَ مِنَ النَّاسِ، وَاسْتَقْبَلَ النِّسَاءُ مَنِ انْهَزَمَ مِنْ سَرَعَانِ النَّاسِ يَضْرِبْنَهُمْ بِالْخَشَبِ وَالْحِجَارَةِ، وَجَعَلَتْ خَوْلَةُ بِنْتُ ثَعْلَبَةَ تَقُولُ:
يَا هَارِبًا عَنْ نِسْوَةٍ تَقِيَّاتْ ... فَعَنْ قَلِيلٍ مَا تَرَى سَبِيَّاتْ
وَلَا حَظِيَّاتٍ وَلَا رَضِيَّاتْ
قَالَ: فَتَرَاجَعَ النَّاسُ إِلَى مَوَاقِفِهِمْ.
পৃষ্ঠা - ৫৩৮৯
সৈন্যের ৷ তার সাথী একশ’ অশ্বারােহীকে নিয়ে প্রায়; এক লাখ শত্রু সৈন্যের উপর আক্রমণ
করলেন ৷ যেদিকেই আক্রমণ করছিলেন সেদিকেই শত্রু সৈন্যদেরকে খতম করে এগিয়ে
যাচ্ছিলেন ৷ সকল মুসলমান সেদিন একযোগে এক সাথে ওদের উপর হামলা চালিয়েছিল ৷
হামলা প্রতিহত করতে না পেরে ওরা পিছু হটতে থাকে ৷ মুসলমানপণ ওদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে
যায় ৷ ওরা পরাজিত হয় ৷
বর্ণিত আছে যে, উভয় পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ লেছিল ৷ প্রত্যেক পক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ
বীর-বিক্রমে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ চালাচ্ছিল ৷ তখনই আরব থেকে এক পত্ররাহকন্আসে ৷ সে
খালিদ ইবন ওয়ালীদের নিকট খলীফার পত্র হস্তান্তর করে ৷ খালিদ বললেন, খবর কী ? পত্রে
কী সংবা দ রয়েছে ? পত্রবাহক একান্তে গিয়ে খালিদ (না)-কে জানালেন যে, হযরত আবু বকর
সিদ্দীক (রা) ইন্তিকাল করেছেন ৷ হযরত উমর (রা) খলীফা নিযুক্ত হয়েছেন ৷ এই
সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে খলীফা আপনার স্থলে আবু উবায়দা আমির ইবনুল
জাবৃরাহ (রা)-কে নিয়োগ করেছেন ৷ হযরত খালিদ (রা) বৃহত্তর স্বার্থে এই সংবাদ গোপন
রাখলেন ৷ এটি সর্বসমক্ষে প্রকাশ করলেন না ৷ এই আশংকায় যে, তাহলে সৈনিকদের মধ্যে
দুর্বলতা ও হতাশা সৃষ্টি হতে পারে ৷ তিনি সােকজনকে গুলিয়ে পত্রৰাহককে বললেন, আপনি
খুব ভাল কাজ করেছেন ৷ তিনি চিঠিখানা গ্রহণ করলেন এবং নিজের ঝুড়িতে রাখলেন এবং
পুর্বের ন্যায় আক্রমণ পরিচালনা ও যুদ্ধ পরিকল্পনায় মনোযোগ দিলেন ৷ পত্রবাহক ঘুনাজ্জামাহ্
ইবন যানীমকে তার পাশে রাখলেন ৷ ইবন জারীর আপন সনদে এরুপই উল্লেখ করেছেন ৷
ঐতিহাসকিগণ বলেন, এক পর্যায়ে রোমান সৈন্য দলের অন্যতম সেনাপতি জুরজা বেরিয়ে
এসে হযরত খালিদ (রা)-এর সাথে কথা বলার প্রস্তাব দিল ৷ হযরত খালিদ (বা) তার নিকট
গেলেন ৷ উভয়ের ঘোড়ার র্কাধ মিলে গেল, দুজন খুব কাছাকাছি হয়ে গেলেন ৷ জুরজা বলল,
হে খালিদ! আপনি আমার সাথে সত্য কথা বলবেন, মিথ্যা নয় ৷ কারণ স্বাধীন ও সাহসী ব্যক্তি
মিথ্যা কথা বলে না ৷ আমার সাথে প্রতারণা করবেন না ৷ কারণ সঘ্রান্ত ব্যক্তি প্রতারণা করে না ৷
বলুন তো, আল্লাহ তাআলা কি আপনাদের নবীর নিকট আকাশ থেকে কোন তরবারি নাযিল
করেছিলেন যে, নবী নিজে ওই তরবারি আপনাকে হস্তান্তর করেছেন ৷ আর ওই তরবারি আপনি
যার উপর চালান সে-ই পরাজিত হয় পরাস্ত হয় ৷ হযরত খালিদ (রা) বললেন, না, তা তাে
নয় ৷ আল্লাহ তাআলা সরাসরি কোন তরবারি নাযিল করেননি ৷ জুরজা বলল, তাহলে
আপনাকে সায়ফুল্লাহ্ আল্লাহর তরবারি বলা হয় কেন ? ’ উত্তরে খালিদ (বা) বললেন, আল্লাহ
তাআলা আমাদের নিকট তার নবীকে প্রেরণ করেছেন ৷ তিনি আমাদেরকে আল্লাহর পথে
ড়েকেছেন, আমরা সকলে তার নিকট থেকে পালিয়েছিলাম এবং দুরে বহু দুরে সরে
সিরেছিলাম ৷ এরপর আমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাকে সত্য বলে মেনে নেয় এবং তার
শ্বষুসরণ করে ৷ আমাদের কতকর্তীকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তার থেকে বহু দুরে চলে যায় ৷
ষ্াষি হ্নিা৷ম তাদের দলে যারা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দুরে সরে গিয়েছে ৷ তারপর
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তর ও কপাল চেপে ধরলেন এবং তীর মাধ্যমে আমাদেরকে
হিদায়াত ও সত্য পথ দেখিয়েছেন ৷ আমরা তার হাতে বড়ায়আত করেছি ৷ তার অনুসরণের
অঙ্গীকার করেছি ৷ রাসুলুল্লাহ্ড্রা আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তুমি আল্লাহর একটি
وَقَالَ سَيْفُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ الْغَسَّانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جَهْلٍ: يَوْمَ الْيَرْمُوكِ قَاتَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَوَاطِنَ وَأَفِرُّ مِنْكُمُ الْيَوْمَ؟ ! ثُمَّ نَادَى: مَنْ يُبَايِعُ عَلَى الْمَوْتِ؟ فَبَايَعَهُ عَمُّهُ الْحَارِثُ بْنُ هِشَامٍ، وَضِرَارُ بْنُ الْأَزْوَرِ فِي أَرْبَعِمِائَةٍ مِنْ وُجُوهِ الْمُسْلِمِينَ وَفُرْسَانِهِمْ، فَقَاتَلُوا قُدَّامَ فُسْطَاطِ خَالِدٍ حَتَّى أُثْبِتُوا جَمِيعًا جِرَاحًا، وَقُتِلَ مِنْهُمْ خَلْقٌ، مِنْهُمْ ضِرَارُ بْنُ الْأَزْوَرِ، رِضَى اللَّهِ عَنْهُمْ.
وَقَدْ ذَكَرَ الْوَاقِدِيُّ وَغَيْرُهُ، أَنَّهُمْ لَمَّا صُرِعُوا مِنَ الْجِرَاحِ اسْتَسْقَوْا مَاءً، فَجِيءَ إِلَيْهِمْ بِشَرْبَةِ مَاءٍ، فَلَمَّا قُرِّبَتْ إِلَى أَحَدِهِمْ نَظَرَ إِلَيْهِ الْآخَرُ، فَقَالَ: ادْفَعْهَا إِلَيْهِ. فَلَمَّا دُفِعَتْ إِلَيْهِ نَظَرَ إِلَيْهِ الْآخَرُ، فَقَالَ: ادْفَعْهَا إِلَيْهِ. فَتَدَافَعُوهَا بَيْنَهُمْ، مِنْ وَاحِدٍ إِلَى وَاحِدٍ حَتَّى مَاتُوا جَمِيعًا، وَلَمْ يَشْرَبْهَا أَحَدٌ مِنْهُمْ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ.
وَيُقَالُ: إِنَّ أَوَّلَ مَنْ قُتِلَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَئِذٍ شَهِيدًا رَجُلٌ جَاءَ إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ فَقَالَ: إِنِّي قَدْ تَهَيَّأْتُ لِأَمْرِي، فَهَلْ لَكَ مِنْ حَاجَةٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ، تُقْرِأُهُ عَنِّي السَّلَامَ وَتَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا. قَالَ: فَتَقَدَّمَ هَذَا الرَّجُلُ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ، رَحِمَهُ اللَّهُ.
قَالُوا: وَثَبَتَ كُلُّ قَوْمٍ عَلَى رَايَتِهِمْ حَتَّى صَارَتِ الرُّومُ تَدُورُ كَأَنَّهَا الرَّحَى، فَلَمْ يُرَ يَوْمَ الْيَرْمُوكِ أَكْثَرَ قِحْفًا سَاقِطًا وَمِعْصَمًا نَادِرًا، وَكَفًّا طَائِرَةً، مِنْ
পৃষ্ঠা - ৫৩৯০
তরবাবি, এই খোলা তরবারি আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের উপর নিয়োজিত করে দিয়েছেন ৷
তিনি আমাকে সাহায্য করার জন্যে মহান আল্লাহর দরবারে দু আ করলেন ৷ এই প্রেক্ষাপটে
আমি সায়ফুল্লাহ্ বা আল্লাহর তরবারি নামে আখ্যায়িত হয়েছি ৷ আর আমি মুশরিকদের জন্যে
সর্বাধিক কঠোর ব্যক্তি ৷
জুরজা বলল, খালিদা আপনারা কোন বিষয়ের দিকে মানুষকে ডাকেন ? তিনি বললেন,
আমরা ডাকি এই বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই আর মুহাম্মদ
:::: তার বান্দা ও রাসুল এবং এ বিষয়ে স্বীকৃতি তদিবে যে, মুহ ম্মদ মোঃ আল্লাহ তাআলার পক্ষ
থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা সত তা ৷ জুরজা বলল, যদি কেউ আপনাদের আহ্বানে সাড়া না দেয়
তার কী অবস্থা হবে ৷ খালিদ বললেন,ত তাহলে সে জিষিয়া কর দিবে এবং বিনিময়ে আমরা
তার জানমালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব ৷ সে বলল, যদি ওই ব্যক্তি জিষিয়া কর দিতে
অস্বীকৃতি জানায় তাহলে কী হবে ? হযরত খালিদ (রা) বললেন, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে
যুদ্ধের ঘোষণা দিব এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব ৷ সে বলল, আজকের এই মুহুা৩ যদি কেউ
আপনাদের ডাকে সাড়া দেয় এবং ইসলামে প্রবেশ করেত তাহলে তার কি অবস্থা হবে ? হযরত
খালিদ (রা) বললেন তাহলে আল্লাহর দেয়৷ বিধান অনুসারে সে এবং আমরা সকলের অবস্থান
এক হয়ে যাবে ৷ সে আমাদের সমমর্যাদার হয়ে যাবে ৷ আশরাফআতরাফ উচু-নীচ ও
পুর্ববর্তী পরবর্তী সব একই মর্যাদার অধিকারী ৷ জুরজা বলল, যে ব্যক্তি আজ ইসলাম গ্রহণ
করবে আপনাদের দলভুক্ত হবে তার আর আপনাদের সওয়াব ও পুণ৷ কি এক সমান হবো
তিনি বললেন হ্যা, তা ই, তবে সে আরো উত্তম পুণ্য পাবে ৷ সে বলল, ওই ব্যক্তি কীভাবে
আপনাদের সমান হবে অথচ ইসলাম গ্রহণে আপনারা তার চেয়ে অ্যাবর্তী ও পুরাতন ৷ খালিদ
(রা) বললেন, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি বাধ্য হয়ে ৷ তারপর আমরা নবী মোঃএর হাতে
বায়আত করেছি যখন তিনি জীবিত ছিলেন ৷ তার কাছে আসমান থেকে সংবাদ আসত ৷ তিনি
আমাদেরকে কুরআনের আলোকে বিভিন্ন বিষয় জানাতেন ৷ তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন নিদর্শন ও
ঘু জিয৷ দেখাতেন ৷ আমরা যা দেখেছি কেউ তা দেখলে এবং আমরা যা শুনেছি তা কেউ শুনলে
সে ইসলাম গ্রহণ ও বায়আত সম্পাদনে সে বাধ্য হয়ে পড়ে ৷ ইসলাম গ্রহণ ও বায়আত সম্পাদন
তার কর্তব্য হয়ে যায় ৷ আমরা যা হচক্ষে দেখেছি আপনারা ওে ৷ তা দেখেন নি ৷ আমরা যে সব
আশ্চর্যজনক ঘটনা ও প্রমাণাদি শুনেছি আপনারা তা শুনেন নি ৷ তসাত্ত্বও আপনাদের কেউ যদি
র্খা টি নিয়তে-স্বচ্ছ বিশ্বাসে এই ইসলামে প্রবেশ করে সে আমাদের চাইতে উত্তম হবে না বা
কেন ৷ প্ প্
জুরজা বলল, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি আমার নিকট সত্য বলেছেন তো ৷
প্রতারণা করেন নি তাে ? হযরত ৩খালিদ (বা) বললেন, আল্লাহর কসম৷ আমি আপনার নিকট
সত্য বলেছি এবং আল্লাহ সম্পর্কে আপনি যা জিজ্ঞেস করেছেন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে
আল্লাহ অবগত আছেন ৷ তখনি জুরজা তার ঢাল উল্টিয়ে ধরেন এবং হযরত খালিদ (রা)-এর
দিকে ঝুকে প ড়েন ৷ জুরজা বলেন, আপনি আমাকে ইসলাম শিখিয়ে দিন ৷ হযরত খালিদ
জুরজাকে নিয়ে নিজ তাবুতে যান ৷ মশক থেকে পানি ঢেলে তাকে ওবুকরিয়ে দেন এবং তাকে
নিয়ে হযরত খালিদ (রা) দু রাকআত নামায আদায় করেন, জুরজা হযরত খালিদ (রা)-এর
সঙ্গে বাবার সাথে সাথে রােমানগণ মুসলমানদের উপর আক্রমণ করে ৷ জুরজা-এর গমনকে
তারা মনে করেছিল তাদের পক্ষে ওটা আক্রমণস্বরুপ ৷ হঠাৎ আক্রমণে তারা ঘুসলমানদেরকে
ذَلِكَ الْمَوْطِنِ، ثُمَّ حَمَلَ خَالِدٌ بِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْخَيَّالَةِ عَلَى الْمَيْسَرَةِ الَّتِي حَمَلَتْ عَلَى مَيْمَنَةِ الْمُسْلِمِينَ فَأَزَالُوهُمْ إِلَى الْقَلْبِ، فَقَتَلَ فِي حَمْلَتِهِ هَذِهِ سِتَّةَ آلَافٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَمْ يَبْقَ عِنْدَهُمْ مِنَ الصَّبْرِ وَالْجَلَدِ غَيْرَ مَا رَأَيْتُمْ، وَإِنِّي لَأَرْجُوَ أَنْ يَمْنَحَكُمُ اللَّهُ أَكْتَافَهُمْ. ثُمَّ اعْتَرَضَهُمْ فَحَمَلَ بِمِائَةِ فَارِسٍ مَعَهُ عَلَى نَحْوٍ مِنْ مِائَةِ أَلْفٍ. فَمَا وَصَلَ إِلَيْهِمْ حَتَّى انْفَضَّ جَمْعُهُمْ، وَحَمَلَ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِمْ حَمْلَةَ رَجُلٍ وَاحِدٍ فَانْكَشَفُوا وَتَبِعَهُمُ الْمُسْلِمُونَ لَا يَمْتَنِعُونَ مِنْهُمْ.
قَالُوا: وَبَيْنَمَا هُمْ فِي جَوْلَةِ الْحَرْبِ وَحَوْمَةِ الْوَغَى، وَالْأَبْطَالُ يَتَصَاوَلُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ، إِذْ قَدِمَ الْبَرِيدُ مِنْ نَحْوِ الْحِجَازِ، فَدُفِعَ إِلَى خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَقَالَ لَهُ: مَا الْخَبَرُ؟ فَقَالَ لَهُ، فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ: إِنَّ الصِّدِّيقَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَدْ تُوُفِّيَ، وَاسْتُخْلِفَ عُمَرَ، فَاسْتَنَابَ عَلَى الْجُيُوشِ أَبَا عُبَيْدَةَ عَامِرَ بْنَ الْجَرَّاحِ. فَأَسَرَّهَا خَالِدٌ، وَلَمْ يُبْدِ ذَلِكَ لِلنَّاسِ ; لِئَلَّا يَحْصُلَ ضَعْفٌ وَوَهَنٌ فِي تِلْكَ الْحَالِ، وَقَالَ لَهُ وَالنَّاسُ يَسْمَعُونَ: أَحْسَنْتَ. وَأَخَذَ مِنْهُ الْكِتَابَ فَوَضَعَهُ فِي كِنَانَتِهِ، وَاشْتَغَلَ بِمَا كَانَ فِيهِ مِنْ تَدْبِيرِ الْحَرْبِ وَالْمُقَاتِلَةِ، وَأَوْقَفَ الرَّسُولَ الَّذِي جَاءَ بِالْكِتَابِ - وَهُوَ مَحْمِيَةُ بْنُ زُنَيْمٍ - إِلَى جَانِبِهِ. كَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ جَرِيرٍ بِأَسَانِيدِهِ.
قَالُوا: وَخَرَجَ جَرَجَةُ أَحَدُ الْأُمَرَاءِ الْكِبَارِ مِنَ الصَّفِّ، وَاسْتَدْعَى خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ فَجَاءَ إِلَيْهِ حَتَّى اخْتَلَفَتْ أَعْنَاقُ فَرَسَيْهِمَا، فَقَالَ جَرَجَةُ: يَا خَالِدُ، أَخْبِرْنِي فَاصْدُقْنِي وَلَا تَكْذِبْنِي، فَإِنَّ الْحُرَّ لَا يَكْذِبُ، وَلَا تُخَادِعْنِي، فَإِنَّ الْكَرِيمَ لَا يُخَادِعُ الْمُسْتَرْسِلَ بِاللَّهِ، هَلْ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى نَبِيِّكُمْ سَيْفًا مِنَ السَّمَاءِ فَأَعْطَاكَهُ فَلَا تَسُلُّهُ
পৃষ্ঠা - ৫৩৯১
عَلَى أَحَدٍ إِلَّا هَزَمْتَهُمْ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: فَبِمَ سُمِّيتَ سَيْفَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ فِينَا نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَعَانَا فَنَفَرْنَا مِنْهُ وَنَأَيْنَا عَنْهُ جَمِيعًا، ثُمَّ إِنَّ بَعْضَنَا صَدَّقَهُ وَتَابَعَهُ، وَبَعْضَنَا كَذَّبَهُ وَبَاعَدَهُ، فَكُنْتُ فِيمَنْ كَذَّبَهُ وَبَاعَدَهُ، ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ أَخَذَ بِقُلُوبِنَا وَنَوَاصِينَا فَهَدَانَا بِهِ وَبَايَعْنَاهُ، فَقَالَ لِي: «أَنْتَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ سَلَّهُ اللَّهُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ» . وَدَعَا لِي بِالنَّصْرِ، فَسُمِّيتُ سَيْفَ اللَّهِ بِذَلِكَ، فَأَنَا مِنْ أَشَدِّ الْمُسْلِمِينَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ. فَقَالَ جَرْجَةُ: يَا خَالِدُ، إِلَامَ تَدْعُونَ؟ قَالَ: إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَالْإِقْرَارِ بِمَا جَاءَ بِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ. قَالَ: فَمَنْ لَمْ يُجِبْكُمْ؟ قَالَ: فَالْجِزْيَةُ وَنَمْنَعُهُمْ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ يُعْطِهَا؟ قَالَ: نُؤْذِنُهُ بِالْحَرْبِ ثُمَّ نُقَاتِلُهُ. قَالَ: فَمَا مَنْزِلَةُ مَنْ يُجِيبُكُمْ وَيَدْخُلُ فِي هَذَا الْأَمْرِ الْيَوْمَ؟ قَالَ: مَنْزِلَتُنَا وَاحِدَةٌ فِيمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْنَا، شَرِيفُنَا وَوَضِيعُنَا وَأَوَّلُنَا وَآخِرُنَا. قَالَ جَرَجَةُ: فَلِمَنْ دَخَلَ فِيكُمُ الْيَوْمَ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ مَا لَكَمَ مِنَ الْأَجْرِ وَالذُّخْرِ؟ قَالَ: نَعَمْ، وَأَفْضَلُ. قَالَ: وَكَيْفَ يُسَاوِيكُمْ وَقَدْ سَبَقْتُمُوهُ؟ فَقَالَ خَالِدٌ: إِنَّا دَخَلْنَا فِي هَذَا الْأَمْرِ وَبَايَعْنَا نَبِيَّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ حَيٌّ بَيْنَ أَظْهُرِنَا تَأْتِيهِ أَخْبَارُ السَّمَاءِ، وَيُخْبِرُنَا بِالْكُتُبِ وَيُرِينَا الْآيَاتِ، وَحُقَّ لِمَنْ رَأَى مَا رَأَيْنَا وَسَمِعَ مَا سَمِعْنَا أَنْ يُسْلِمَ وَيُبَايِعَ، وَإِنَّكُمْ أَنْتُمْ لَمْ تَرَوْا مَا رَأَيْنَا، وَلَمْ تَسْمَعُوا مَا سَمِعْنَا مِنَ الْعَجَائِبِ وَالْحُجَجِ، فَمَنْ دَخَلَ فِي هَذَا الْأَمْرِ مِنْكُمْ بِحَقِيقَةٍ وَنِيَّةٍ كَانَ أَفْضَلَ مِنَّا. فَقَالَ جَرَجَةُ: بِاللَّهِ لَقَدْ صَدَقْتَنِي وَلَمْ تُخَادِعْنِي؟ قَالَ: بِاللَّهِ لَقَدْ صَدَقْتُكَ، وَإِنَّ
পৃষ্ঠা - ৫৩৯২
পিছু সরিয়ে দেয় ৷ তবে বিশেষ রক্ষী বাহিনীকে পারেনি ৷ ওখানে নেতৃত্বে ছিলেন ইকরিমা ইবন
আবু জাহ্ল এবং হারিছ ইবন হিশাম ৷ হযরত খৃালিদ সওয়ারীতে উঠে এগিয়ে গেলেন ৷ তার
সাথে ছিলেন জ্বাজা ৷ রোমান সৈন্যগণ তখন মুসলিম সৈন্যদের ভেতরে ঢুকে গিয়েছে ৷
হযরত খালিদের উপস্থিতিতে মুসলিম সৈন্যগণ ংণ্াৰ্স্পৰ্ ডাকাডাকি করে পাল্টা আক্রমণ
চালায় ৷ রোমানগণ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে যায় ৷ হযরত খালিদ (বা) মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে
প্রচণ্ড আক্রমণ চালান ৷ তরবারি’-তরবচারতে সংঘর্ষ শুরু হয় ৷ দুপুর থেকে সুর্যান্তের পুর্বক্ষণ
পর্যন্ত হযরত খালিদ ও জুরজা প্রচণ্ড আক্রমণ অব্যাহত রাখেন ৷ মুসলমানগণ জোহর ও
আসরের নামায আদায় করলেন ইশারায় ৷ জুরজা (র) আহত হলেন এবং শহীদ হলেন ৷ খালিদ
(রা)-এর সাথে উক্ত দৃ’রাকআত ব্যতীত তিনি আর নামায পড়তে পারলেন না ৷ রোমানপণ
ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল ৷ মুল সৈন্যদল নিয়ে হযরত খালিদ অগ্রসর হলেন ৷ তিনি শত্রু সৈন্য খতম
করে করে রোমানদের মাঝখানে গিয়ে পৌছলেন, তখন রোমানদের সকল অশ্বারােহী পালিয়ে
যায়, মুসলমানপণ নিজেদের ঘোড়া নিয়ে ওদেরকে তাড়া করেন ৷ শেষ পর্যন্ত ওরা সকলে
পালিয়ে যায় ৷ সেদিন মাগরিব ও ইশার নামায বিলম্বিত হয় ৷ বিজয় অর্জনের পর এই দু নামায
আদায় করা হয় ৷ হযরত খালিদ (রা) রোমানদের একটি কাফেলার দিকে এগিয়ে যান ৷ ওরা
ছিল পদাতিক বাহিনী ৷ তিনি তাদের সবাইকে হত্যা করলেন ৷ একজনও অবশিষ্ট রাখেন নি ৷
তাদের পতিত লাশগুলােকে মনে হচ্ছিল ভেঙ্গে পড়া প্রাচীর, ওদের যে সকল অশ্বড়ারোহী পালিয়ে
গিয়েছিল মুসলমানণণ ওদের পেছনে ছুটলেন ৷ হযরত খালিদ ৰীরবিক্রমে ওদের পরিখা
এলাকায় প্রবেশ করলেন ৷
বেচে যাওয়া ণ্রামানগণ রাতের অন্ধকারে ওয়াক ওয়াসায়’ গিয়ে পৌছে ৷ একই রশিতে
ৰীধা কয়েদিদেরকে যখন সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল তখন একজন পরিখার মধ্যে পড়ে গেলে তার
সাথে যারা ছিল তারাও পড়ে যাচ্ছিল ৷ ইবন জারীর ও অন্যরা বলেছেন যে, ওইদিন পরিখার
মধ্যে পড়ে ওদের এক লাখ বিশ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছিল ৷ এগুলো হলো যুদ্ধ ক্ষেত্রে
নিহতদের অতিরিক্ত ৷ ইয়ারমুক যুদ্ধের এই দিনে মুসলিম মহিলাগণও যুদ্ধ করেছেন ৷ তারা বহু
রোমান সৈন্যকে হত্যা করেছেন ৷ মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে যারা পালিয়ে যেতে চেয়েছিল
মহিলাগণ ওদেরকেও প্রহার করেছেন আর বলেছেন, আমাদেরকে নাস্তিকদের হাতে ছেড়ে
তোমরা কোথায় যাচ্ছ :’ ওদের ধমক শুনে কোন মুসলমান সৈন্যই পালাতে পারেনি ৷ বরং যুদ্ধ
ক্ষেত্রে ফিরে এসেছে ৷ —
কায়কালান নিজে এবং বড় বড় রোমান নেতৃবৃন্দ জমকালো শিরত্রাণ ও মুকুট পরিধান করে
বীরত্বের সাথে বের হয় ৷ তারা বলেছিল যে, খ্রিস্ট ধর্ম যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি তাহলে
খ্রিক্ট ধর্মে অবিচল থেকে মরে যাওয়ইি ভাল ৷ অবিলম্বে মুসর্লমানগণ তাদের উপর আক্রমণ করে
এবং সকলকে হত্যা করে ৷ ঐতিহাসিকগণ বলেন যে, ওই দিন তিন হাজার মুসলমান শহীদ
হয়েছিলেন ৷ তাদের মধ্যে ছিলেন ইকরিমা (রা) , তার পুত্র আমর, সালড়ামা ইবন হিশাম, অড়ামর
ইবন সাঈদ, আবান ইবন সাঈদ ৷ খালিদ ইবন সাঈদ যুদ্ধে অবিচল ছিলেন তবে শেষ পর্যন্ত
তার পরিণতি কি হয়েছে তা জানা যায়নি ৷ ওই যুদ্ধে আরো শহীদ হয়েছেন দিরার ইবন
আযওয়ার, হিশাম ইবন অসে, আমর ইবন তুফায়ল ইবন আমর দাওসী ৷ ইয়ামামা যুদ্ধের দিনে
আলবিদয়ো — ৫
اللَّهَ وَلِيُّ مَا سَأَلَتْ عَنْهُ. فَعِنْدَ ذَلِكَ قَلَبَ جَرَجَةُ التُّرْسَ وَمَالَ مَعَ خَالِدٍ، وَقَالَ: عَلِّمْنِي الْإِسْلَامَ. فَمَالَ بِهِ خَالِدٌ إِلَى فُسْطَاطِهِ، فَشَنَّ عَلَيْهِ قِرْبَةً مِنْ مَاءٍ، ثُمَّ صَلَّى بِهِ رَكْعَتَيْنِ، وَحَمَلَتِ الرُّومُ مَعَ انْقِلَابِهِ إِلَى خَالِدٍ وَهُمْ يَرَوْنَ أَنَّهَا مِنْهُ حَمْلَةٌ، فَأَزَالُوا الْمُسْلِمِينَ عَنْ مَوَاقِفِهِمْ إِلَّا الْمُحَامِيَةَ، عَلَيْهِمْ عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جَهْلٍ وَالْحَارِثُ بْنُ هِشَامٍ، فَرَكِبَ خَالِدٌ وَجَرَجَةُ مَعَهُ، وَالرُّومُ خِلَالَ الْمُسْلِمِينَ، فَتَنَادَى النَّاسُ وَثَابُوا وَتَرَاجَعَتِ الرُّومُ إِلَى مَوَاقِفِهِمْ، وَزَحَفَ خَالِدٌ بِالْمُسْلِمِينَ حَتَّى تَصَافَحُوا بِالسُّيُوفِ، فَضَرَبَ فِيهِمْ خَالِدٌ وَجَرَجَةُ مِنْ لَدُنِ ارْتِفَاعِ النَّهَارِ إِلَى جُنُوحِ الشَّمْسِ لِلْغُرُوبِ، وَصَلَّى الْمُسْلِمُونَ صَلَاةَ الظُّهْرِ وَصَلَاةَ الْعَصْرِ إِيمَاءً، وَأُصِيبَ جَرَجَةُ، رَحِمَهُ اللَّهُ وَلَمْ يُصَلِّ لِلَّهِ إِلَّا تِلْكَ الرَّكْعَتَيْنِ مَعَ خَالِدٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، وَتَضَعْضَعَتِ الرُّومُ عِنْدَ ذَلِكَ، ثُمَّ نَهَدَ خَالِدٌ بِالْقَلْبِ حَتَّى صَارَ فِي وَسَطِ خُيُولِ الرُّومِ، فَعِنْدَ ذَلِكَ هَرَبَتْ خَيَّالَتُهُمْ، وَاشْتَدَّتْ بِهِمْ فِي تِلْكَ الصَّحْرَاءِ، وَأَفْرَجَ الْمُسْلِمُونَ بِخُيُولِهِمْ حَتَّى ذَهَبُوا، وَأَخَّرَ النَّاسُ صَلَاتَيِ الْعِشَاءِ حَتَّى اسْتَقَرَّ الْفَتْحُ وَعَمَدَ خَالِدٌ إِلَى رَجْلِ الرُّومِ - وَهُمُ الرَّجَّالَةُ - فَفَصَلُوهُمْ عَنْ آخِرِهِمْ، حَتَّى صَارُوا كَأَنَّهُمْ حَائِطٌ قَدْ هُدِمَ، ثُمَّ تَبِعُوا مَنْ فَرَّ مِنَ الْخَيَّالَةِ، وَاقْتَحَمَ خَالِدٌ عَلَيْهِمْ خَنْدَقَهُمْ، وَجَاءَ الرُّومُ فِي ظَلَامِ اللَّيْلِ إِلَى الْوَاقُوصَةِ، فَجَعَلَ الَّذِينَ تَسَلْسَلُوا وَقَيَّدُوا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ إِذَا سَقَطَ وَاحِدٍ مِنْهُمْ سَقَطَ الَّذِينَ مَعَهُ. قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ وَغَيْرُهُ: فَسَقَطَ فِيهَا وَقُتِلَ عِنْدَهَا مِائَةُ أَلْفٍ وَعِشْرُونَ أَلْفًا سِوَى مَنْ قُتِلَ فِي الْمَعْرَكَةِ.
পৃষ্ঠা - ৫৩৯৩
তার বাবা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আল্লাহ তাআলা ওই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে দিলেন ৷ ওই দিন বহু
লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ােছে ৷ সেদিন আমর ইবন অড়াসসহ চারজন পরাজিত হয়ে পেছনে চলে
যাচ্ছিলেন ৷ পেছনে অবস্থানকারী মহিলাদের নিকট আসার পর মহিলাগণ তাদেরকে ধমক দেয়
ও তিরস্কার করে ৷ ফলে তারা মুল যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যান ৷ শুরাহ্ৰীল ইবন হাসান৷ এবং তার
সাথীরাও পালিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ পরবর্তীতে তারা ফিরে আসেন যুদ্ধক্ষেত্রে, যখন তাদের সেনাপতি
তাদেরকে নসীহত করেন উপদেশ দেন ৷ তাদের সেনাপতি উপদেশ দানকালে কুরআন
মজীদের এই আয়াতের উদ্ধৃতি ৫দনং
৷ ৰুএপু ৷
১দ্দৌ ৷
আল্লাহ মু ’মিনদের নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন, তাদের জন্যে
জান্নাত আছে এর বিনিময়ে ৷ তারা আল্লাহর পথে স ৎগ্ৰাম করে, নিধন করে ও নিহত হয় ৷
তাওরাত, ইনৃজীল ও কুরআনে এই সম্পর্কে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ৩রয়েছে ৷ নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে
আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে : তে আমরা যে সওদা করেছ সেই সওদার জন্যে আনন্দ কর
এবং সেটিই মহাসাফল্য ৷ (সুরা ৯, তাওবা ১১১)
ইয়াযীদ ইবন আবু সুফিয়ান ওই যুদ্ধে সুদৃঢ় এবং অবিচল ছিলেন ৷ তিনি সেদিন ভীষণ যুদ্ধ
করেছেন, তার বাবা সেদিন তার নিকট গিয়ে বলেছিলেন, ণ্পুত্র! অবশ্যই আল্লাহর তাকওয়া
অবলম্ব করবে এবং ধৈর্যধারণ করবে ৷ কারণ এখন এই ময়দানে এমন কোন মুসলমান নেই, যে
যুদ্ধ দ্বারা পরিবেষ্টিত নয় ৷ তাহলে তুমি সহ তোমার মত অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতাদের কী
ভুমিকা পালন করা দরকার ? তারা-ই তো ধৈর্যধারণ ও উপদেশ গ্রহণে অধিকতর উপযুক্ত ৷
সুতরাং হে পুত্র! আল্পাহ্কে ভয় কর ৷ আর সওয়াব অর্জন, যুদ্ধে ধৈর্যধারণ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে
দৃসোহসী অভিযান পরিচালনায় তোমার কোন সাথী যেন তোমার চেয়ে অধিক উদ্যমী ও
অগ্রগামী হতে না পারে ৷ ইয়াযীদ বললেন, ইনশাআল্পাহ্, আমি তা করব ৷’ সেদিন তিনি প্রচণ্ড
যুদ্ধ চালিয়েছিলেন ৷ তিনি মুল বাহিনীর একপাশে দায়িত্ব পালনকারী ছিলেন ৷
সাঈদ ইবন মুসায়্যাব৩ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে, ইয়ারমুক
দিবসে প্রচণ্ড হৈ-চৈ, ভৈররৈ শব্দ সৃষ্টি হয়েছিল ৷ তখন আমরা একটি আহ্বান শুনলাম ৷ ওই
আহ্বান প্রায় সকল মুসলিম সেনা শুনেছে ৷ বলা হচ্ছিল, ওহে আল্লাহর সাহায্য; নিকটবর্তী হও ৷
ওহে মুসলিম সৈন্য বাহিনী স্থির থাক, অবিচল থাক ৷ বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকিয়ে দেখলাম
ওই আহ্বানকারী হলেন আবু সুফিয়ান ৷ তিনি তার পুত্র ইয়াষীদের পতাকার নিচেশ্ অবস্থান
করছিলেন ৷
ন্ হযরত খালিদ (রা) ওই রাত পুরোটাই অতিবাহিত করেছেন তাযারুক’-এর র্তীৰুতে
তাযারুক হলো হিরাক্লিয়াসের ভাই ৷ সকল রোমান সৈন্যের সে ছিল সর্বাধিনায়ক, পলায়নকারী
وَقَدْ قَاتَلَ نِسَاءُ الْمُسْلِمِينَ فِي هَذَا الْيَوْمِ، وَقَتَلُوا خَلْقًا كَثِيرًا مِنَ الرُّومِ. وَكُنَّ يَضْرِبْنَ مَنِ انْهَزَمَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَيَقُلْنَ: أَيْنَ تَذْهَبُونَ وَتَدَعُونَنَا لِلْعُلُوجِ؟ ! فَإِذَا زَجَرْنَهُمْ لَا يَمْلِكُ أَحَدٌ نَفْسَهُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْقِتَالِ.
قَالَ: وَتَجَلَّلَ الْقَيْقَلَانُ وَأَشْرَافٌ مِنْ قَوْمِهِ مِنَ الرُّومِ بِبَرَانِسِهِمْ، وَقَالُوا: إِذَا لَمْ نَقْدِرْ عَلَى نَصْرِ دِينِ النَّصْرَانِيَّةِ، فَلْنَمُتْ عَلَى دِينِهِمْ. فَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ فَقَتَلُوهُمْ عَنْ آخِرِهِمْ.
قَالُوا: وَقُتِلَ فِي هَذَا الْيَوْمِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ثَلَاثَةُ آلَافٍ؛ مِنْهُمْ عِكْرِمَةُ وَابْنُهُ عَمْرٌو، وَسَلَمَةُ بْنُ هِشَامٍ، وَعَمْرُو بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبَانُ بْنُ سَعِيدٍ - وَأُثْبِتَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ فَلَا يُدْرَى أَيْنَ ذَهَبَ، وَضِرَارُ بْنُ الْأَزْوَرِ - وَهِشَامُ بْنُ الْعَاصِ وَعَمْرُو بْنُ الطُّفَيْلِ بْنِ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ، وَحَقَّقَ اللَّهُ رُؤْيَا أَبِيهِ يَوْمَ الْيَمَامَةِ.
وَقَدِ انْكَشَفَ فِي هَذَا الْيَوْمِ جَمَاعَةٌ مِنَ النَّاسِ ; انْهَزَمَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ فِي أَرْبَعَةٍ، حَتَّى وَصَلُوا إِلَى النِّسَاءِ، ثُمَّ رَجَعُوا حِينَ زَجَرَهُمُ النِّسَاءُ، وَانْكَشَفَ شُرَحْبِيلُ ابْنُ حَسَنَةَ وَأَصْحَابُهُ، ثُمَّ تَرَاجَعُوا حِينَ وَعَظَهُمُ الْأَمِيرُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ} [التوبة: 111] الْآيَةَ [التَّوْبَةِ: 111] . وَثَبَتَ يَوْمَئِذٍ يَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، وَقَاتَلَ قِتَالًا شَدِيدًا، وَذَلِكَ أَنَّ أَبَاهُ مَرَّ بِهِ فَقَالَ
পৃষ্ঠা - ৫৩৯৪
রোমান সৈন্যদের সাথে সর্বাধিনায়ক তাযারুকও পলায়ন করেছিল ৷ মুসলিম অশ্বারােহী সৈ-ণ্ারড়া
হযরত থালিদ (রা) এর র্তাবুর সম্মুখে বীরদর্পে টহল দিচ্ছিল ৷ ওইপথে যাতায়াতকারী সকল
রোমান সৈন্যকে তারা হত্যা করছিল ৷ ভোর পর্যন্ত তারা এভাবে অভিযান পরিচালনা করে ৷
শেষ পর্যন্ত তাযারুক নিহত হয় ৷ তার ৩০টি র্তাবু ও ৩০টি বিলাসবহুল আসন ছিল ৷ ওই
সবগুলোর বিছানাপত্র ছিল রেশমের তৈরি ৷ সকাল বেলা মুসলমান সৈন্যগণ গনীমতের মাল
সংগ্রহে লিপ্ত হয় ৷ প্রচুর ধনসষ্ন্াদ তারা হস্তপত করেন ৷ ইতিমধ্যে হযরত খালিদ (রা)
তাদেরকে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর ওফাতের সংবাদ জানান ৷ খলীফা আবু বকর
(রা)-এর ইনৃতিকালে তারা যে ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছে গনীমতলব্ধ বহু ধন-সম্পদ প্রাপ্তির
আনন্দ ওই ব্যথাকে দুর করতে পারেনি ৷ বন্তুত হযরত আবু বকর (রড়া)-এর স্থলে আল্লাহ
তাআলা তাদের জন্যে হযরত উমর (রা)-কে মনোনীত করে দিয়েছেন এই ছিল সান্তুনা ৷
হযরত আবু বকর (রা)-এর বিদায় ব্যথায় মুসলমানগণ যখন , শ্যেকাহত্বত তখন হযরত
থালিদ (রা) বললেন, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্র যিনি হযরত আবু রকরের জন্যে মৃত্যুর
ফায়সালা করে দিয়েছেন ৷ তিনি আমার নিকট হযরত উমর অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় ছিলেন
এবং সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্র, যিনি হযরত উমর (রা)-কে শাসনকর্তারুপে মনোনীত ,
করেছেন ৷ হযরত উমর (বা) আমার নিকট আবু বকর (রা)-এর অপেক্ষা কম প্রিয় ছিলেন ৷
এখন তাকে ভালবাসা অত্ত্বল্লাহ্ তাআলা আমার জন্যে বাধ্যতামুলক করে দিয়েছেন ৷
রোমানদের মধ্যে যারা পালিয়ে গিয়েছিল সেনাপতি থালিদ (রা) তাদেরকে ধাওয়া
করলেন ৷ ওদেরকে তাড়া করতে করতে তিনি দামেশৃক পর্যন্ত গিয়ে পৌছলেন ৷ দামেশকের
অধিবাসীগণ তার নিকট এসে উপস্থিত হয় ৷ তারা বলল, আমরা কি আমাদের অঙ্গীকার ও
সন্ধির উপর বিদ্যমান নেই? হযরত খালিদ (রা) বললেন, “হয়; তা তাে আছই ৷ ’ এরপর তিনি
রোমানদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে ছানিয়াতৃল উকাব পর্যন্ত পৌছেন ৷ তিনি ওদের বহু লোককে
ওখানে হত্যা করেন ৷ তারপর তিনি ওদের পেছনে যেতে যেতে হিমৃস পর্যন্ত পৌছে যান ৰু
সেখানকার অধিবাসিগণ তার নিকট উপস্থিত হয় ৷ তিনি ওদের সাথে সন্ধি চুক্তি স্থাপন করেন ;:
যেমন সন্ধি স্থাপন করেছিলেন দামেশৃকের অবিশ্বাসীদের সাথে ৷ অন্যদিকে সেনাপতি আবু
উৰায়দা ইয়াস ইবন গানবামকেপ্প্রেরণ করেন রোমানদের তাড়া করতে ৷ ইয়ায ইবন গানাম
ওদেরকে তাড়া করতে করতে মালতিয়া পর্যন্ত পৌছেন এবং তাদের সাথে সন্ধির চুক্তিতে
আবদ্ধ হন ৷ পরে তিনি ফিরে যান ৷ রােমানগণ পালিয়ে গিয়ে হিরাক্লিয়াস-এর নিকট এ সংবাদ
দিলে তিনি সেনাবাহিনী মালতিয়াকে জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন ৷ হিরাক্লিয়াস তখন অবন্থন্নঃ
ৰুৰুছিলেন হিম্ন অঞ্চলে ৷ মুসলমানগণ তখনো ওদেরকে তাড়া করছিলেন এবং হত্যা ও বন্দী
ৰ্দুব্ৰ তাদের ধন-সম্পদ হস্তগত করছিলেন ৷ হিরাক্লিয়াসের নিকট এই সংবাদ পৌছে ৷ তিনি
রুিস ছেড়ে চলে যান ৷ হিন্দ-এর দখল ছেড়ে দিয়ে তিনি এটিকে মুসলমানদের আক্রমণ থেকে
প্লিক রক্ষা করার উপায় হিসেবে গণ্য করেছিলেন ৷ হিরাক্লিয়াস বলেছিলেন, সিরিয়া আর
ক্ষ সিরিয়া নেই ৷ আর অশুভ সিরিয়ার নন্তানরা রোমানদের জন্যে দুর্ভোপ বয়ে এসেছে ৷
ইয়ারমুক যুদ্ধের দিনে যে সকল কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে তার একটি হলো কাকা ইবন
মোঃ কবিতা ৷ তিনি বলেছেন :
لَهُ: يَا بُنَيَّ، عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالصَّبْرِ ; فَإِنَّهُ لَيْسَ رَجُلٌ بِهَذَا الْوَادِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا مَحْفُوفًا بِالْقِتَالِ، فَكَيْفَ بِكَ وَبِأَشْبَاهِكَ الَّذِينَ وُلُّوا أُمُورَ الْمُسْلِمِينَ؟ أُولَئِكَ أَحَقُّ النَّاسِ بِالصَّبْرِ وَالنَّصِيحَةِ، فَاتَّقِ اللَّهَ يَا بُنَيَّ، وَلَا يَكُونَنَّ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِكَ بَأَرْغَبَ فِي الْأَجْرِ وَالصَّبْرِ فِي الْحَرْبِ، وَلَا أَجْرَأَ عَلَى عَدُوِّ الْإِسْلَامِ مِنْكَ، فَقَالَ: أَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. فَقَاتَلَ يَوْمَئِذٍ قِتَالًا شَدِيدًا، وَكَانَ مِنْ نَاحِيَةِ الْقَلْبِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: هَدَأَتِ الْأَصْوَاتُ يَوْمَ الْيَرْمُوكِ فَسَمِعْنَا صَوْتًا يَكَادُ يَمْلَأُ الْعَسْكَرَ يَقُولُ: يَا نَصْرَ اللَّهِ اقْتَرِبْ، الثَّبَاتَ الثَّبَاتَ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ. قَالَ: فَنَظَرْنَا فَإِذَا هُوَ أَبُو سُفْيَانَ تَحْتَ رَايَةِ ابْنِهِ يَزِيدَ. .
وَأَكْمَلَ خَالِدٌ لَيْلَتَهُ فِي خَيْمَةِ تَذَارِقَ أَخِي هِرَقْلَ، وَهُوَ أَمِيرُ الرُّومِ كُلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ، هَرَبَ فِيمَنْ هَرَبَ، وَبَاتَتِ الْخُيُولُ تَجُولُ نَحْوَ خَيْمَةِ خَالِدٍ يَقْتُلُونَ مَنْ مَرَّ بِهِمْ مِنَ الرُّومِ حَتَّى أَصْبَحُوا، وَقُتِلَ تَذَارِقُ، وَكَانَ لَهُ ثَلَاثُونَ سُرَادِقًا وَثَلَاثُونَ رُوَاقًا مِنْ دِيبَاجٍ بِمَا فِيهَا مِنَ الْفُرُشِ وَالْحَرِيرِ، فَلَمَّا كَانَ الصَّبَاحُ حَازُوا مَا كَانَ هُنَالِكَ مِنَ الْغَنَائِمِ، وَمَا فَرِحُوا بِمَا وَجَدُوا بِقَدْرِ حُزْنِهِمْ عَلَى الصِّدِّيقِ حِينَ أَعْلَمَهُمْ خَالِدٌ بِذَلِكَ، وَلَكِنْ عَوَّضَهُمُ اللَّهُ بِالْفَارُوقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. وَقَالَ خَالِدٌ حِينَ عَزَّى الْمُسْلِمِينَ فِي الصِّدِّيقِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي قَضَى عَلَى أَبِي بَكْرٍ بِالْمَوْتِ وَكَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ عُمَرَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَلَّى عُمَرَ وَكَانَ أَبْغَضَ إِلَيَّ مِنْ أَبِي بَكْرٍ، وَأَلْزَمَنِي حُبَّهُ.
পৃষ্ঠা - ৫৩৯৫
তুমি কি আমাদেরকে দেখনি যে, আমরা ইয়ারমুক যুদ্ধে জয়ী হয়েছি ৷ যেমন জয়ী
হয়েছিলাম ইরাক যুদ্ধে ৷
৷া,;গ্র
মাদায়েন-এর রাজ্যগুলো আমরা জয় করেছি ৷ সুদক্ষ অশ্ববাছিনী দিয়ে আমরা মারজ-আল
সাফর’ এলাকাও জয় করেছি ৷
ইতিপুর্বে আমরা বুসরা জয় করেছি ৷ সেটি ছিল কাক রঙের হাবশীদের দখলে ৷
০ :
আমাদেরকে বাধা দেয়ার জন্যে র্দাড়িয়েছিল যারা আমরা তাদের সকলকে হত্যা করেছি ৷
ভীক্ষ্ণধার তরবারির মাধ্যমে ওদেরক নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মত সাহসী যোদ্ধা আছে আমাদের
মধ্যে ৷
০ :
আমরা রামানদেরকে হত্যা করেছি ৷ ইয়ারমুকর যুদ্ধে ওরা সামান্যতমণ্ড প্রতিরোধ সৃষ্টি
করতে পারেনি ৷
fi ’
ওরা যখন ওয়াকওয়াস অঞ্চলে পর্বের সাথে ঘোরাঘুরি করছিল তখন সুভীক্ষ্ণ তরবারির
আঘাতে আমরা ওদের সমাবশক ছত্রভঙ্গ করে দিই ৷
ওই ভোরে তারা মাটিতে লুটিয়ে পডেছিল ৷ তারপর তারা এমন এক পরিস্থিতিতে
পৌছেছিল, যার স্বাদ খুব৩ তিক্ত ৷
ইয়ারমুক যুদ্ধের দিন আসওয়াদ ইবন মুকাররিন তামীমী নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেজ্জিং
০
× : —
এই যুদ্ধে আমর ইবন আস বলেছিলেন ং
০ — : —
যুদ্ধের জন্যে যোগ্য সম্প্রদায় হলো লাখম ও জুযাম সম্প্রদায় ৷ আমরা আর রামানগণ
মারজ’ নামক স্থানে মুখোমুখি তরবারি বিনিময় করছি ৷
وَقَدِ اتَّبَعَ خَالِدٌ مَنِ انْهَزَمَ مِنَ الرُّومِ حَتَّى وَصَلَ إِلَى دِمَشْقَ، فَخَرَجَ إِلَيْهِ أَهْلُهَا فَقَالُوا: نَحْنُ عَلَى عَهْدِنَا وَصُلْحِنَا؟ قَالَ: نَعَمْ. ثُمَّ اتَّبَعَهُمْ إِلَى ثَنِيَّةِ الْعُقَابِ، فَقَتَلَ مِنْهُمْ خَلْقًا كَثِيرًا، ثُمَّ سَاقَ وَرَاءَهُمْ إِلَى حِمْصَ، فَخَرَجَ إِلَيْهِ أَهْلُهَا فَصَالَحَهُمْ كَمَا صَالَحَ أَهْلُ دِمَشْقَ، وَبَعَثَ أَبُو عُبَيْدَةَ عِيَاضَ بْنَ غَنْمٍ وَرَاءَهُمْ أَيْضًا، فَسَاقَ حَتَّى وَصَلَ مَلَطْيَةَ فَصَالَحَهُ أَهْلُهَا وَرَجَعَ، فَلَمَّا بَلَغَ هِرَقْلَ ذَلِكَ بَعَثَ إِلَى مُقَاتِلِيهَا فَحَضَرُوا بَيْنَ يَدَيْهِ، وَأَمَرَ بِمَلَطْيَةَ فَحُرِقَتْ، وَانْتَهَتِ الرُّومُ مُنْهَزِمَةً إِلَى هِرَقْلَ وَهُوَ بِحِمْصَ، وَالْمُسْلِمُونَ فِي آثَارِهِمْ يَقْتُلُونَ وَيَأْسِرُونَ وَيَغْنَمُونَ، فَلَمَّا وَصَلَ الْخَبَرُ إِلَى هِرَقْلَ ارْتَحَلَ مِنْ حِمْصَ، وَجَعَلَهَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمُسْلِمِينَ، وَتَرَّسَ بِهَا، وَقَالَ هِرَقْلُ: أَمَّا الشَّامُ فَلَا شَامَ، وَوَيْلٌ لِلرُّومِ مِنَ الْمَوْلُودِ الْمَشْئُومِ.
وَمِمَّا قِيلَ مِنَ الْأَشْعَارِ فِي يَوْمِ الْيَرْمُوكِ قَوْلُ الْقَعْقَاعِ بْنِ عَمْرٍو:
أَلَمْ تَرَنَا عَلَى الْيَرْمُوكِ فُزْنَا ... كَمَا فُزْنَا بِأَيَّامِ الْعِرَاقِ
فَتَحْنَا قَبْلَهَا بُصْرَى وَكَانَتْ ... مُحَرَّمَةَ الْجَنَابِ لَدَى الْبُعَاقِ
وَعَذْرَاءَ الْمَدَائِنِ قَدْ فَتَحْنَا ... وَمَرَجَ الصُّفَّرَيْنِ عَلَى الْعِتَاقِ
قَتَلْنَا مَنْ أَقَامَ لَنَا وَفِينَا ... نِهَابُهُمُ بِأَسْيَافٍ رِقَاقِ
قَتَلْنَا الرُّومَ حَتَّى مَا تُسَاوِي ... عَلَى الْيَرْمُوكِ ثُفْرُوقَ الْوِرَاقِ
পৃষ্ঠা - ৫৩৯৬
াট্রুট্রুটুছুঠু ছু,র্চুপ্
ওরা ওখানে ফিরে এলেও আমরা ওদের সাথে সহ অবস্থান মেনে বের না ৷ বরং ওদের
পলায়নকারী সৈন্যদেরকে আমরা প্রচণ্ড তরবাবি-আঘাতে ধ্বংস করে দিব ৷
আহমদ ইবন মারওয়ান মালিকী তার নিয়মিত বৈঠকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু ইসমাঈল
তিরমিষী আবু ইসহাক থােক বর্ণিত ৷ তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্পু, এর সাহাবিগণ এমন
ছিলেন যে , তাদের মুকাবিলায় দত্ত ৷য়মান শত্রুগণ আক্রমণের মুখে সামান্য সময়ও টিকে থাকতে
পারত না ৷ এক সময় হিরাক্লিয়াস অবন্থ ন করছিলেন ইনতাকিয়া গ্রামে ৷ তখন রােমানগণ
পরাজিত হয়ে তার নিকট এসে একত্রিত ৩হয় ৷ তিনি তাদেরকে বলেছিলেন, তােদের সর্বনাশ
হোক! বলভাে, যারা তােমাদেরকে হত্যা করেছে, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হচ্ছে
ওরা কি তোমাদের মত মানুষ নয় ? ওরা বলল, হীড়া মানুষই তাে ৷ তিনি বললেন, সংহুখ্যায় ওরা
বেশি না তোমরা ?’ ওরা বলল, বরং আমরইি বেশি ৷ সর্বক্ষে’ত্রে আমাদের সংখ্যা ওদের চেয়ে
বহুগুণ বেশি ৷ তিনি বললেন তাহলে কী হলো যে, তোমরা একের পর এক পরাজয় বরণ
করছ? তখন ওদের জনৈক প্রধান ও বিজ্ঞ লোক বলেছিল, আমাদের পরাজয় আর ওদের বিজয়
এজন্যে যে, ওরা রাতভর ইরাদত-বন্দেগী করে আর দিনভর রোযা রাখে ৷ ওরা প্রতিশ্রুতি পালন
করে, সৎ কাজের নির্দেশ দেয় ৷ অসৎ কাজে ধারণ করে, নিজেদের মধ্যে ইনসাফ ও ন্যায়
বিচার প্রতিষ্ঠা করে ৷ অন্যদিকে আমরা রোমানগণ মদ পান করি, ব্যভিচারে লিপ্ত হই, হারামষ্ শ্ন্
অবৈধ কাজ কবি, অঙ্গীকড়ার৩ ভঙ্গ করি, রাগাম্বিত হই এবং জুলুম বেইনসাফী করি ৷ আল্লাহর
অপছন্দ বিষয় বাস্তবায়নের নির্দেশ দিই ৷ আল্লাহ যাতে সন্তুষ্ট তা থেকে নিজেরাও বিরত থাকি
অন্যকেও বিরত রাখি ৷ আর আমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় ও অশান্তি সৃষ্টি করি ৷ এ প্রেক্ষিতে
হিরাক্লিয়াস বললেন, আপনি আমাকে ঠিক থ্যটিইত দিয়েছেন ৷
ওয়ালীদ ইবন মুসলিম বলেছেন, ইয়াহ্য়া ইবন ইয়াহ্য়া পাসৃসানীর বর্ণনা শুনেছেন এমন
জনৈক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে , ইয়াহ্য়া ইবন ইয়াহ্য়া গাস্সানী তার সম্প্রদায়ের দুজন
লোক থােক বর্ণনা করেছেন যে , মুসলমানগণ যখন জর্ডানের এক প্রান্তে এসে পৌছলেন তখন
আমরা দুজনে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম যে, অবিলম্বে দামেশৃক অবরোধ করা হবে ৷
তাই অবন্থরাধ করার পুর্বে আমরা অন্যত্র চলে যাচ্ছিলাম ৷ এমন সময় দামেশকের খ্রিস্টান শাসক
আমাদেরকে ডেকে পাঠায় ৷ আমরা দু জনতার নিকট যাই ৷ সে বলল, আপনারা কি আরব
লোক ?’ আমরা বললাম, হ্যা, তাই’ ৷ সে বলল, আপনারা খ্রিস্টান ৷ আমরা বললাম, হ্যা’ ৷
সে বলল, আপনাদের দু’জনের একজন সদ্যাগত মুসলমান লোকদের নিকট গিয়ে গোপন তথ্য
নিয়ে আসবেন ৷ ওদের জীবনাচার ও মতাদর্শ সম্পর্কে গোপনে জেনে নিবেন ৷ অন্যজন নিজ
সাথীৱ মালপত্র রক্ষা করবেন ৷ আমাদের একজন তাই করল ৷ সে কিছুক্ষণ মুসলমানদের নিকট
অবস্থান করে শাসকের নিকট ফিরে আসল ৷ ওদের তথ্য সম্পর্কে যে বলল, আমি ফিরে এসেছি
এমন একদল লোকের নিকট থেকে যারা হালকা-পাতলা দেহ বিশিষ্ট ৷ ৫তজী অশ্বে আরোহণে
ৰ্ত্যস্ত ৷ রাতের বেলায় তারা ইবাদতকারী, দিনের বেলায় অশ্বরোহী ৷ তারা নিজেরা বর্শা তৈরি
করে এবং যার দেয় ৷ তারা নিজেরা তীর বানায় ৷ ওরা এত উভৈতঃস্বরে কুরআন পাঠ ও যিক্র ,
করে যে, আপনি যদি যেখানে আপনার সাথীকে কোন কথা বলেন ওদের শব্দের কারণে সে
فَضَضْنَا جَمْعَهُمْ لَمَّا اسْتَحَالُوا
عَلَى الْوَاقُوصِ بِالْبُتْرِ الرِّقَاقِ ... غَدَاةَ تَهَافَتُوا فِيهَا فَصَارُوا
إِلَى أَمْرٍ يُعَضِّلُ بِالذَّوَاقِ
وَقَالَ الْأَسْوَدُ أَبُو مُفَزِّرٍ التَّمِيمِيُّ:
وَكَمْ قَدْ أَغَرْنَا غَارَةً بَعْدَ غَارَةٍ ... وَيَوْمًا وَيَوْمًا قَدْ كَشَفْنَا أَهَاوِلَهْ
وَلَوْلَا رِجَالٌ كَانَ حَشْوُ غَنِيمَةٍ ... لَدَى مَأْقَطٍ رَجَّتْ عَلَيْنَا أَوَائِلُهْ
لَقِينَاهُمُ الْيَرْمُوكَ لَمَّا تَضَايَقَتْ ... بِمَنْ حَلَّ بِالْيَرْمُوكِ مِنْهُ حَمَائِلُهْ
فَلَا يَعْدَمَنْ مِنَّا هِرَقْلُ كَتَائِبًا ... إِذَا رَامَهَا رَامَ الَّذِي لَا يُحَاوِلُهْ
وَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ:
الْقَوْمُ لَخْمٌ وَجُذَامٌ فِي الْحَرِبْ ... وَنَحْنُ وَالرُّومُ بِمَرْجٍ نَضْطَرِبْ
فَإِنْ يَعُودُوا بَعْدَهَا لَا نَصْطَحِبْ ... بَلْ نَعْصِبُ الْفُرَّارَ بِالضَّرْبِ الْكَلِبْ
وَرَوَى أَحْمَدُ بْنُ مَرْوَانَ الْمَالِكِيُّ فِي " الْمُجَالَسَةِ " ثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ: كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا
পৃষ্ঠা - ৫৩৯৭
يَثْبُتُ لَهُمُ الْعَدُوُّ فُوَاقَ نَاقَةٍ عِنْدَ اللِّقَاءِ. فَقَالَ هِرَقْلُ وَهُوَ عَلَى أَنْطَاكِيَةَ لَمَّا قَدِمَتْ مُنْهَزِمَةُ الرُّومِ: وَيَلَكُمُ! أَخْبِرُونِي عَنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ، أَلَيْسُوا هُمْ بَشَرًا مِثْلَكُمْ؟ ! قَالُوا: بَلَى. قَالَ: فَأَنْتُمْ أَكْثَرُ أَمْ هُمْ؟ قَالُوا: بَلْ نَحْنُ أَكْثَرُ مِنْهُمْ أَضْعَافًا فِي كُلِّ مَوْطِنٍ. قَالَ: فَمَا بَالُكُمْ تَنْهَزِمُونَ كُلَّمَا لَقِيتُمُوهُمْ؟ ! فَقَالَ شَيْخٌ مِنْ عُظَمَائِهِمْ: مِنْ أَجْلِ أَنَّهُمْ يَقُومُونَ اللَّيْلَ، وَيَصُومُونَ النَّهَارَ، وَيُوفُونَ بِالْعَهْدِ، وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ، وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَيَتَنَاصَفُونَ بَيْنَهُمْ، وَمِنْ أَجْلِ أَنَّا نَشْرَبُ الْخَمْرَ، وَنَزْنِي، وَنَرْكَبُ الْحَرَامَ، وَنَنْقُضُ الْعَهْدَ، وَنَغْصَبُ، وَنَظْلِمُ، وَنَأْمُرُ بِمَا يُسْخِطُ اللَّهَ، وَنَنْهَى عَمَّا يُرْضِي اللَّهَ، وَنُفْسِدُ فِي الْأَرْضِ. فَقَالَ: أَنْتَ صَدَقْتَنِي.
وَقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ: أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ يَحْيَى بْنَ يَحْيَى الْغَسَّانِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ رَجُلَيْنِ مِنْ قَوْمِهِ، قَالَا: لَمَّا نَزَلَ الْمُسْلِمُونَ بِنَاحِيَةِ الْأُرْدُنِّ تَحَدَّثْنَا بَيْنَنَا أَنَّ دِمَشْقَ سَتُحَاصَرُ، فَذَهَبْنَا نَتَسَوَّقُ مِنْهَا قَبْلَ ذَلِكَ، فَبَيْنَا نَحْنُ فِيهَا إِذْ أَرْسَلَ إِلَيْنَا بِطْرِيقُهَا فَجِئْنَاهُ فَقَالَ: أَنْتُمَا مِنَ الْعَرَبِ؟ قُلْنَا: نَعَمْ. قَالَ: وَعَلَى النَّصْرَانِيَّةِ؟ قُلْنَا: نَعَمْ. فَقَالَ: لِيَذْهَبْ أَحَدُكُمَا فَلْيَتَجَسَّسْ لَنَا عَنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ وَرَأْيِهِمْ، وَلِيَثْبُتِ الْآخَرُ عَلَى مَتَاعِ صَاحِبِهِ. فَفَعَلَ ذَلِكَ أَحَدُنَا، فَلَبِثَ مَلِيًّا ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ: جِئْتُكَ مِنْ عِنْدِ رِجَالٍ دِقَاقْ، يَرْكَبُونَ خُيُولًا عِتَاقْ، أَمَّا اللَّيْلُ فَرُهْبَانْ، وَأَمَّا النَّهَارُ فَفُرْسَانْ، يَرِيشُونَ النَّبْلَ وَيَبْرُونَهَا، وَيُثَقِّفُونَ الْقَنَا، لَوْ حَدَّثْتَ جَلِيسَكَ حَدِيثًا مَا فَهِمَهُ عَنْكَ ; لِمَا عَلَا مِنْ أَصْوَاتِهِمْ بِالْقُرْآنِ وَالذِّكْرِ. قَالَ: فَالْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ وَقَالَ: أَتَاكُمْ مِنْهُمْ مَا لَا طَاقَةَ لَكُمْ بِهِ.