আল বিদায়া ওয়া আন্নিহায়া

سنة ثلاث عشرة من الهجرة

ما وقع فيها من الأحداث

পৃষ্ঠা - ৫৩৬৯
দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ্র নামে

১৩ হিজরী সাল

এই বছরের শুরুতেই হযরত আবু বকর সিদ্দীক (বা) সৈন্য প্রস্তুত করছিলেন সিরিয়ার
অভিযান পরিচালনা করার জন্যে ৷ এটি তীর হজ্জ সম্পাদন করে ফিরে আসার পরের কার্যক্রম ৷
তিনি সৈন্য প্রস্তুত করছিলেন ৷

এই আয়াতের অনুসরণে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন



হে মুমিনগণ কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ কর এবং ওরা
তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখক জেনেরাখ  আল্লাহ মৃত্তাফীদের সাথে আছেন ৷ (সুরা ৯,
তাওবা : ১২৩)
আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন-


“যাদের প্ৰতি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহে ঈমান আগে না ও
পরকালেও নয় এবং আল্লাহ্ ও তার রাসুল যা নিষিদ্ধ করেছেন তা নিষিদ্ধ করে না এবং সত্য
দীন অনুসরণ করে না, তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা নত হয়ে নিজ হাতে-
জিযয়া-কর দেয় ৷ (সুরা ৯, তাওবাং ২৯)
হযরত আবু বকর (রা) এর এই সৈন্য সমাবেশ রাসুলুল্লাহ্(সঃ)  এর কর্মের অনুসরণও
বটে ৷ কারণ তাবুক যুদ্ধে তিনি সিরিয়ার বিরুদ্ধে সৈন্য সমাবেশ করেহ্যিলন ৷ এই মাত্রায় প্রচণ্ড
খাদ্যাভাব এবং তীব্র গরম ও দাবদাহ সত্বেও রাসুলুল্লাহ্(সঃ) তাবুক পর্যন্ত গিয়ে পৌছেছিলেন ৷
(অবশ্য শেষ পর্যন্ত ওখানে যুদ্ধ হয়নি) ৷ রাসুলুল্লাহ্(সঃ) দলবলসহ মদীনায় ফিরে আসেন ৷
এরপর তার ইনতিকালের পূর্বক্ষণে উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)-কে সিরিয়া অভিমুখে প্রেরণ


[سَنَةُ ثَلَاثَ عَشْرَةَ مِنَ الْهِجْرَةِ] [مَا وَقَعَ فِيهَا مِنَ الْأَحْدَاثِ] اسْتَهَلَّتْ هَذِهِ السَّنَةُ وَالصِّدِّيقُ عَازِمٌ عَلَى جَمْعِ الْجُنُودِ ; لِيَبْعَثَهُمْ إِلَى الشَّامِ، وَذَلِكَ بَعْدَ مَرْجِعِهِ مِنَ الْحَجِّ، وَذَلِكَ عَمَلًا بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ} [التوبة: 123] . وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ} [التوبة: 29] الْآيَةَ [التَّوْبَةِ: 29] . وَاقْتِدَاءً بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ; فَإِنَّهُ جَمَعَ الْمُسْلِمِينَ لِغَزْوِ الشَّامِ وَذَلِكَ عَامَ تَبُوكَ، حَتَّى وَصَلَهَا فِي حَرٍّ شَدِيدٍ وَجَهْدٍ، فَرَجَعَ عَامَهُ ذَلِكَ، ثُمَّ بَعَثَ قِبَلَ مُؤْتَةَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ مَوْلَاهُ ; لِيَغْزُوَ تُخُومَ الشَّامِ، كَمَا تَقَدَّمَ، وَلَمَّا فَرَغَ الصِّدِّيقُ مِنْ أَمْرِ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ بَسَطَ يَمِينَهُ إِلَى الْعِرَاقِ، فَبَعَثَ إِلَيْهَا خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَبْعَثَ إِلَى الشَّامِ كَمَا بَعَثَ إِلَى الْعِرَاقِ، فَشَرَعَ فِي جَمْعِ الْأُمَرَاءِ فِي أَمَاكِنَ مُتَفَرِّقَةٍ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ. وَكَانَ قَدِ اسْتَعْمَلَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ عَلَى صَدَقَاتِ قُضَاعَةَ، مَعَهُ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ فِيهِمْ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ يَسْتَنْفِرُهُ إِلَى الشَّامِ: إِنِّي كُنْتُ قَدْ رَدَدْتُكَ عَلَى الْعَمَلِ الَّذِي وَلَّاكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً، وَسَمَّاهُ لَكَ أُخْرَى، وَقَدْ أَحْبَبْتُ، أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، أَنْ أُفَرِّغَكَ لِمَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ فِي حَيَاتِكَ وَمَعَادِكَ مِنْهُ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ الَّذِي أَنْتَ فِيهِ أَحَبَّ إِلَيْكَ. فَكَتَبَ إِلَيْهِ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: إِنِّي سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ الْإِسْلَامِ، وَأَنْتَ فَعَبْدُ اللَّهِ الرَّامِي بِهَا، وَالْجَامِعُ لَهَا، فَانْظُرْ أَشَدَّهَا وَأَخْشَاهَا فَارْمِ بِي فِيهَا. وَكَتَبَ إِلَى الْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ 542
পৃষ্ঠা - ৫৩৭০


করেছিলেন মুজাহিদ বাহিনীসহ ৷ উসামা ইবন যায়দ (রা) বাসুলুল্লড়াহ্ন্;:::ব্লুট্রুগু এর অড়াযাদকৃত দাস
ছিলেন ৷

আরব ভুখণ্ড সম্পর্কিত ঝামেলা শেষ করে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) ইরাকের প্ৰতি
মনোযোগ দিলেন ৷ খালিদ ইবন ওয়ালীদের সেনাপতিত্বে তিনি একটি বাহিনী ইরাকের উদ্দেশ্যে
প্রেরণ করলেন ৷ এরপর সিরিয়ার দিকে অভিযান প্রেরণের সৎকল্প করলেন ৷ আরবের বিভিন্ন
স্থান থেকে তিনি সেনাপতিদেরকে সমবেত করতে শুরু করলে আমর ইবনুল আস (রা)-কে
তিনি কুযাআ অঞ্চলে সাদাকাই উশুল করার জন্যে নিযুক্ত করেছিলেন ৷ তার সাথে ছিলেন
ওয়ালীদ ইবন উকবা ৷ সিরিয়ার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার জন্যে আমর ইবনুল অন্স (বা) যে
খলীফ৷ নির্দেশ দিলেন ৷ ৰু
ং দ্বুইৰ্ষ্র (রা) লিখলেন, “বাসৃলুল্লাহজ্যো আপনাকে এক সময় যে কাজের দায়িত্ব
দিয়েছিলেন আমি আপনাকে ওই কা ৷জেরই দ৷ ৷য়িতৃ দিয়েছিলাম, আপনার সহযোগী হিসেবে অন্য
একজনের নামও ঘোষণা করেছিলাম ৷ তবে ণ্,ন্থ রু আবু আবদুল্লাহ আমি এখন আপনাকে এমন
এক কাজে নিয়োজিত করতে চাচ্ছি যা আপনার জন্যে ইহকাল ও পরকালে অধিকতর
কল্যাণময় হবে ৷ অবশ্য আপনি এখন যে দায়িত্বে আছেন সেটি যদি আপনার নিকট অধিক প্রিয়
হয় তার সেটা আপনার ইচ্ছা, আমি জবরদস্তি করব না ৷” উত্তয়ে আমর ইব্ৰুল আস (রা)
লিথলেনষ্ “আমি ইসলামের একটি তীর, আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওই তীর নিক্ষেপের
দায়ি ছুশীল ৷ সুতরাং যে ন্থা ন৩ ভীর নিক্ষেপ অধিক জরুরী এবং যেখানে পরিস্থিতি গুরুতর
আমি৩ র্ণীর’ কে আপনি সেখানে নিক্ষেপ করুন ৷”

হযরত আবু বকর (রা) ওয়া ৷লীদ ইবন উকবাকেও এ মমে চিঠি লিখলেন৷ তিনিও অনুরুপ
উত্তর দিলেন ৷ তারা দু জলে মদীনার ফিরে এলেন ৷৩ তার পরিধানে ছিল রেশমী জুব্বা ৷ এটি
দেখে হযরত উমর (রা) রেগে গেলেন ৷ তিনি উপস্থিত লোকজনকে ওই জুব্বা খুলে আগুনে
পুড়িয়ে ফেলার জন্যে নির্দেশ দিলেন ৷ এরু৩ তখালিদ ইবন সা ৷ঈদ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন এবং হযরত
আলী (বা) কে বললেন “হে হাসানের পিতা! হে আবৃদ মানাঃফর বং শধর আপনর৷ কী শাসন
ক্ষমতা গ্রহণে অক্ষম হয়ে পড়লেন ?” হযরত আলী (বা) উত্তরে বললেন, তুমি কি এটিকে
শাসন ক্ষমতা গ্রহণে জয় পরাজয় মনে কর, না কি ৷খলাফত মনে করা খ৷ লিদব:লেন, মুলত
এই পদের জন্যে আপনাদের চাইতে সঠিক উপযুক্ত কেউ নেই ৷ হযরত উমর (রা) খাগিদকে
বললেন, “চুপ কর, আল্পাহ্ তোমার মুখ ফাঢিয়ে দিন ৷ তুমি একজন মিথ্যাবাদী ৷ বানিয়ে
বানিয়ে মিথ্যা কথা বলছ আর নিজেরই সর্বনাশ করছ ৷ ” হযরত উমর (রা) আবু বকর (রা) কে
এই ঘটনা জানালেন ৷ কিন্তু তাতে তীর মধ্যে কােন বিরুপ প্রতিক্রিয়া হলো না ৷

পরিকল্পনা মুতাবিক কাম্য সেনাবাহিনী হযরত আবু বকর (রা) এর নিকট উপস্থিত হলাো
তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেষ্ গিয়ে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন ৷ তারপর
মানুষকে জিহাদ্বে উদ্বুদ্ধ করে বললেন, ”প্রত্যেক কর্মের জন্যে সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা দরকার ৷
যারা ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারে তারা হয় সফলকাম ৷ যে ব্যক্তি আল্লাহর সত্তুষ্টির
জন্যে কাজ করবে আল্লাহ্ তার জন্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করবেন ৷ প্রত্যেককেই সুদৃঢ় মনােবলও
অটুট সৎ কল্প রাখতে হবে ৷ কারণ সুদৃঢ় মনােবল সর্বাপেক্ষা কার্যকর ৷ সাবধান যার ঈমান নেই




بِمِثْلِ ذَلِكَ، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَهُ، وَأَقْبَلَا - بَعْدَمَا اسْتَخْلَفَا فِي عَمَلِهِمَا - إِلَى الْمَدِينَةِ. وَقَدِمَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ مِنَ الْيَمَنِ، فَدَخَلَ الْمَدِينَةَ وَعَلَيْهِ جُبَّةُ دِيبَاجٍ، فَلَمَّا رَآهَا عُمَرُ عَلَيْهِ أَمَرَ مَنْ هُنَاكَ مِنَ النَّاسِ بِتَمْزِيقِهَا عَنْهُ، فَغَضِبَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَقَالَ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: يَا أَبَا الْحَسَنِ، أَغُلِبْتُمْ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ عَنِ الْإِمْرَةِ؟ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ: أَمُغَالَبَةً تَرَاهَا أَمْ خِلَافَةً؟ فَقَالَ: لَا يُغَالِبُ عَلَى هَذَا الْأَمْرِ أَوْلَى مِنْكُمْ. فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: اسْكُتْ فَضَّ اللَّهُ فَاكَ، وَاللَّهِ لَا تَزَالُ كَاذِبًا تَخُوضُ فِيمَا قُلْتَ، ثُمَّ لَا تَضُرُّ إِلَّا نَفْسَكَ، وَأَبْلَغَهَا عُمَرُ أَبَا بَكْرٍ، فَلَمْ يَتَأَثَّرْ لَهَا أَبُو بَكْرٍ، وَلَمَّا اجْتَمَعَ عِنْدَ الصِّدِّيقِ مِنَ الْجُيُوشِ مَا أَرَادَ، قَامَ فِي النَّاسِ خَطِيبًا، فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ حَثَّ النَّاسَ عَلَى الْجِهَادِ فَقَالَ: أَلَا لِكُلِّ أَمْرٍ جَوَامِعُ، فَمَنْ بَلَغَهَا فَهِيَ حَسْبُهُ، وَمَنْ عَمِلَ لِلَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ، عَلَيْكُمْ بِالْجِدِّ وَالْقَصْدِ، فَإِنَّ الْقَصْدَ أَبْلَغُ، أَلَا إِنَّهُ لَا دِينَ لِأَحَدٍ لَا إِيمَانَ لَهُ، وَلَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا حِسْبَةَ لَهُ، وَلَا عَمَلَ لِمَنْ لَا نِيَّةَ لَهُ، أَلَا وَإِنَّ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الثَّوَابِ عَلَى الْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَمَا يَنْبَغِي لِلْمُسْلِمِ أَنْ يُحِبَّ أَنْ يُخَصَّ بِهِ، هِيَ التِّجَارَةُ الَّتِي دَلَّ اللَّهُ عَلَيْهَا، وَنَجَّى بِهَا مِنَ الْخِزْيِ، وَأَلْحَقَ بِهَا الْكَرَامَةَ. ثُمَّ شَرَعَ الصِّدِّيقُ فِي تَوْلِيَةِ الْأُمَرَاءِ، وَعَقْدِ الْأَلْوِيَةِ وَالرَّايَاتِ، فَيُقَالُ: إِنْ أَوَّلَ لِوَاءٍ عَقَدَهُ لِخَالِدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَثَنَاهُ عَنْهُ وَذَكَّرَهُ بِمَا قَالَ، فَلَمْ يَتَأَثَّرْ بِهِ الصِّدِّيقُ كَمَا تَأَثَّرَ بِهِ عُمَرُ، بَلْ عَزَلَهُ عَنِ الشَّامِ وَوَلَّاهُ أَرْضَ
পৃষ্ঠা - ৫৩৭১


তার দীনও (নই, আর যার মধ্যে আল্লাহ্ভীতি ৫নই তার মধ্যে ঈমান নেই, যার নিয়ত ও সং কল্প
(নই তার কার্য বিবেচন্যাযাগ্য নয় ৷ সাবধান! আল্লাহর কিভাবে আল্লাহর পথে লড়াই করার এত
সাওয়াব ও পুরস্কার বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রত্যেক মুসলিমের ওই জিহাদে অংশ গ্রহণ করাকে
প্রিয় মনে করা উচিত ৷ জিহাদই মুক্তি, ও নাজাতের পথ ৷ আল্লাহ্তা-ই বলেছেন ৷ জিহাদের
মাধ্যমে লাঞ্চুনা থেকে মুক্তি লাভ করা যায় এবং জিহাদের মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতের
মর্যাদা ও সম্মান অর্জিত হয় ৷”
এরপর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) সেনাপতিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়৷ এবং পতাক ৷
রেখে দেয়া শুরু করলেন ৷ কথিত আছে যে,৩ তিনি সর্বপ্রথম খালিদ ইবন সাঈদ ইবন আসের
পতাকা বেধে দিয়েছেন ৷ হযরত ৩উমর (রা) এসে খালিদের পুর্ব বক্তব্য উল্লেখ করে তাকে বাদ
তচাইলেন ৷ কিন্তু হযরত আবুবকর (রা) তাতে তে মন বিচলিত হননি যেমন বিচলিত
হভৃয়ছিলেন হযরত ৩উমর (রা) ৷ হযরত আবুবকর (রা) এতট্রুকু করেছিলেন যে, তাকে সিরিয়ার
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তায়মা অঞ্চলের দ য়িহু দিয়েছিলেন যে, পরবর্তী নির্দেশ না
দেয়া পর্যন্ত, তার সাথী সৈন্য-সামম্ভসহ ওখানেই থাকতে হবে ৷
এরপর তিনি ইয়াষীদ ইবন আবু সুফয়ানের পতাকা বেধে দেন ৷ এই দলে বহু লোক
ছিল ৷ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সুহায়ল ইবন আমর এবং তার সমসাময়িক মকী লোকগণ
ছিলেন ৷ তিনি ওই দলের সাথে কিছুদুর অগ্রসর হলেন ৷ দলপতি ইয়াষীদ ও দলভুক্ত সৈনিকদের
প্রতি খলীফার গভীর আস্থা ছিল ৷ সেই আলোকে তিনি ওদেরকে উপদেশ দিলেন ৷ তাকে
দামেশকের দ যি দিলেন ৷ এরপর খঃলীফা আবু বকর সিদ্দীক (রা) আবু উবায়দা ইবনুল
জাররাহ ও তার সাথীদের পতাকা বেধে দিলেন ৷ উপদেশ দিতে দিতে তিনি পায়ে হেটে তাদের
সাথে কিছুটা অগ্রসর হলেন ৷ আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা)-কে হিম্স’ অঞ্চলের দা ৷য়িতৃ
দিলেন ৷ আমর ইবনুল আসের নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠালেন ফিলিস্তিনের দিকে ৷ প্রত্যেক
দলপতিকে এ নির্দেশ দিলেন যে, ওদের কেউ যেন অন্যজনের পথে অপ্রসর না হয় ৷ কারণ এর
মধ্যে বহু কল্যাণ রয়েছে ৷ এই ক্ষেত্রে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) আল্লাহর নবী হযরত
ইয়৷ ৷কুবের নীতি ৩তানুসরণ করেছেন ৷ হযরত ইয়াকুব (আ)৩ তার পৃত্রদেরকে বলেছিলেন ;


শ্শ্শ্শ্শ্শ্ ন্ণ্ ! ৷ ৷

হে আমার পুত্রগণ তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ
করবে ৷ আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে আমি তে ড়ামাদের জন্যে কিছু করতে পারি না ৷ বিধান
আল্লাহ্রই ৷ আমি তারই উপর নির্ভর করি এবং যারা নির্ভর করতে চায় তারা আল্পাহ্রই উপর
নির্জ্য করুক ৷ (সুরা ১ ২, ইউসুফং : ৬৭)
বন্তুত ইয়াষীদ ইবন আবু সুফিয়ান তাবুকের পথে যাত্রা করলেন ৷ নিজ শায়খদের উদ্ধৃতি
দিয়ে মাদইিনী বলেছেন যে, তাদের মতে, হযরত আবু বকর (বা) এই সেনাদল প্রেরণ
করেছিলেন ১৩ হিজরীর শুরুতে ৷


تَيْمَاءَ يَكُونُ بِهَا فِيمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يَأْتِيَهُ أَمْرُهُ. ثُمَّ عَقَدَ لِوَاءَ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، وَمَعَهُ جُمْهُورُ النَّاسِ، وَمَعَهُ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو وَأَشْبَاهُهُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ، وَخَرَجَ مَعَهُ مَاشِيًا يُوصِيهِ بِمَا اعْتَمَدَهُ فِي حَرْبِهِ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَجَعَلَ لَهُ دِمَشْقَ. وَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ عَلَى جُنْدٍ آخَرَ، وَخَرَجَ مَعَهُ مَاشِيًا يُوصِيهِ، وَجَعَلَ لَهُ نِيَابَةَ حِمْصَ. وَبَعَثَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ وَمَعَهُ جُنْدٌ آخَرُ، وَجَعَلَهُ عَلَى فِلَسْطِينَ. وَأَمَرَ كُلَّ أَمِيرٍ أَنْ يَسْلُكَ طَرِيقًا غَيْرَ طَرِيقِ الْآخَرِ ; لِمَا لَحَظَ فِي ذَلِكَ مِنَ الْمَصَالِحِ، وَكَانَ الصِّدِّيقُ اقْتَدَى فِي ذَلِكَ بِنَبِيِّ اللَّهِ يَعْقُوبَ حِينَ قَالَ لِبَنِيهِ: {يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُتَفَرِّقَةٍ وَمَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ} [يوسف: 67] . فَكَانَ سُلُوكُ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَلَى تَبُوكَ. قَالَ الْمَدَائِنِيُّ بِإِسْنَادِهِ عَنْ شُيُوخِهِ، قَالُوا: وَكَانَ بَعْثُ أَبِي بَكْرٍ هَذِهِ الْجُيُوشَ فِي أَوَّلِ سَنَةِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ. قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ: خَرَجَ أَبُو بَكْرٍ مَاشِيًا وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ رَاكِبًا، فَجَعَلَ يُوصِيهِ، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: أُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَأَسْتَوْدِعُكَ اللَّهَ. ثُمَّ انْصَرَفَ وَمَضَى يَزِيدُ فَأَخَذَ التَّبُوكِيَّةَ، ثُمَّ تَبِعَهُ شُرَحْبِيلُ ابْنُ حَسَنَةَ، ثُمَّ أَبُو عُبَيْدَةَ مَدَدًا لَهُمَا، فَسَلَكُوا ذَلِكَ الطَّرِيقَ، وَخَرَجَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ حَتَّى نَزَلَ الْعَرَبَاتِ مِنْ أَرْضِ الشَّامِ وَيُقَالُ: إِنَّ يَزِيدَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ نَزَلَ الْبَلْقَاءَ أَوَّلًا، وَنَزَلَ شُرَحْبِيلُ بِالْأُرْدُنِّ، وَيُقَالُ: بِبُصْرَى. وَنَزَلَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِالْجَابِيَةِ، وَجَعَلَ
পৃষ্ঠা - ৫৩৭২


মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেছেন সালিহ্ ইবন কায়সান থেকে যে, হযরত আবু বকর (বা)
পায়ে হীটছিলেন আর ইয়াষীদ ইবন আবু সুফিয়ান অগ্রসর হচ্ছিলেন সওয়ারীতে আরোহণ
করে ৷ তিনি অনবরত উপদেশ দিচ্ছিলেন ইয়াষীদকে ৷ সবশেষে তিনি বললেন, আমি তোমাকে
সালাম জানাচ্ছি এবং তোমাকে আল্পাহ্র নিকট সােপর্দ করছি ৷ হযরত আবু বকর (বা) ফিরে
এলেন ৷ ইয়াষীদ দ্রুত অশ্ব চালিয়ে এগিয়ে গেলেন ৷ এরপর ইয়াযীদের সাহড়ায্যার্থে বের হলেন
শুরড়াহ্বীল ইবন হাসানাহ্ (বা) এবং আবু উবায়দাহ্ (রা) বের হলেন তাদের দুজনের সহায়তার
জন্যে ৷ র্তারা ভিন্ন পথে অগ্রসর হলেন ৷ আমর ইবনুল আস যাত্রা করে সিরিয়ার আল
আরামাত’ নামক স্থানে গিয়ে যাত্রা বিরতি করেন ৷

কেউ কেউ বলেছেন যে, ইয়াষীদ ইবন আবু সুফিয়ান প্রথমে অবতরণ করেছিলেন বালকী
অঞ্চলে ৷ শুরাহ্ৰীল র্তাবু খটিড়ালেন ডানে কেউ বলেছেন যে, শুরাহ্বীল শিবির স্থাপন
করেছিলেন বুসরা নগরীতে ৷ আবু উবায়দা (বা) গিয়ে পৌছলেন জাবিয়া অঞ্চলে ৷ খলীফা
হযরত সিদ্দীক-ই-আকবর (রা) দলে দলে সৈন্য প্রেরণ করে তাদেরকে সাহায্য করছিলেন ৷
পরবর্তীতে পাঠানোসৈন্যদেরকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ওরা যেন ওদের পছন্দমত যে
কোন সেনাপতির সাথে যোগ দেয় ৷ বর্ণিত আছে যে, ৰালকা’ অঞ্চল অতিক্রম করার সময়
আবু উবায়দাহ্ (রা) স্থানীয় লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন৷ শেষ পর্যন্ত ওরা সন্ধি স্থাপন করে ৷
সিরিয়া অঞ্চলে এটি প্রথম সন্ধি চুক্তি ৷

সিরিয়া অঞ্চলে সর্বপ্রথম সংঘটিত যুদ্ধ সম্পর্কে বলা হয় যে, রোমান সৈন্যগণ ফিলিস্তিনী
এলাকা আল আরয়াহতে সমবেত হয়েছিল ৷ মুসলিম সেনাপতি আবু উসামা (রা) বাহিনী
অ্যাসর হলেন ওদেরকে মুকাব্লিলা করার জন্যে ৷ তার সাথে ছিল একদল মুসলিম সৈনিক ৷
ব্লোমানদেরকে পরাজিত ও হত্যা করে মুসলমানপর্ণ অনেক ধন-সম্পদ লাভ করেন ৷
মুসলমানগণ শত্রুপক্ষের জ্যনক প্রসিদ্ধ নেতাকে হত্যা করেন ৷ এরপর ওই অঞ্চলে সংঘটিত হয়
আরজ আস সাফরা’-এর যুদ্ধ ৷ ওই যুদ্ধে খালিদ ইবন সাঈদ ইবন আস সহ বহু মুসলমান প্
শহীদ হন ৷ কারো কারো মনে মার্জ আল সাফরা’ যুদ্ধে খালিদের পুত্র নিহত হয়েছিলেন ৷
খালিদ নিজে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে হিজায অঞ্চলে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিলেন : আল্লাহ ভাল
জানেন ৷ এটি ইবন জারীর (র)-এর বর্ণনা ৷

ইবন জারীর (র) বলেন, খালিদ ইবন সাঈদ তায়মা’ পৌছলেন ৷ আরব খ্রিক্টানসহ বিপুল

ৎখ্যক রোমান সৈন্য তার মুকাৰিলা করার জন্যে প্রস্তুত হয় ৷ গায়রা, তানুখ, বানু কালব,
মুলায়হ, লাখম ও জুযাম এবং গাসৃসান প্রমুখ আরব গোত্রের বহু খ্রিষ্টান শত্রু বহিনীত্তে যোগ
দিয়েছিল ৷ খালিদ ইবন সাঈদ তাদেরকে প্রতিহত করার জন্যে এগিয়ে গেলেন ৷ তিনি কাছে
গিয়ে পৌছতেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে পেল ৷ ওদের মধ্য থেকে বহু লোক ইসলাম গ্রহণ
করল ৷ খালিদ ইবন সাঈদ খলীফা সিদ্দীক-ই-আকবর (রা)-এর নিকট বিজয়ের সুসংৰাদ
পাঠালেন ৷ তিনি র্তাকে ফিরে না এলে সম্মুখের দিকে এগিয়ে যাবার নির্দেশ দিলেন ৷ ওয়ালীদ
ইবন উকবা, ইকরামা ইবন আবু জাহ্লও একদল সৈনিক পাঠিয়ে খলীফা তার শক্তি বৃদ্ধি
করলেন ৷ তিনি যেতে যেতে ঈলিচুয়হ্ব’-এর কাছাকাছি পৌছে পেলেন ৷ সেখানে তিনি রোমান
বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন ৷ ওই রোমান সেনাপতির নাম ছিল মাহান’ ৷ খালিদ


الصِّدِّيقُ يُمِدُّهُمْ بِالْجُيُوشِ، وَأَمَرَ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَنْ يَنْضَافَ إِلَى مَنْ أَحَبَّ مِنَ الْأُمَرَاءِ. وَيُقَالُ: إِنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ لَمَّا مَرَّ بِمَآبَ مِنْ أَرْضِ الْبَلْقَاءِ قَاتَلَهُمْ حَتَّى صَالَحُوهُ، وَكَانَ أَوَّلَ صُلْحٍ وَقَعَ بِالشَّامِ. وَيُقَالُ: إِنَّ أَوَّلَ حَرْبٍ وَقَعَ بِالشَّامِ أَنَّ الرُّومَ اجْتَمَعُوا بِمَكَانٍ يُقَالُ لَهُ: الْعَرَبَةُ. مِنْ أَرْضِ فِلَسْطِينَ، فَوَجَّهَ إِلَيْهِمْ يَزِيدُ أَبَا أُمَامَةَ فِي سَرِيَّةٍ فَقَتَلَهُمْ وَغَنِمَ مِنْهُمْ، وَقَتَلَ مِنْهُمْ بِطْرِيقًا عَظِيمًا. ثُمَّ كَانَتْ بَعْدَ هَذِهِ وَقْعَةُ مَرْجِ الصُّفَّرِ، اسْتُشْهِدَ فِيهَا خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ وَجَمَاعَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ. وَيُقَالُ: إِنَّ الَّذِي اسْتُشْهِدَ فِي مَرْجِ الصُّفَّرِ ابْنٌ لِخَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ. وَأَمَّا هُوَ فَفَرَّ حَتَّى انْحَازَ إِلَى أَرْضِ الْحِجَازِ. فَاللَّهُ أَعْلَمُ. حَكَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ. قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: وَلَمَّا انْتَهَى خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ إِلَى تَيْمَاءَ اجْتَمَعَ لَهُ جُنُودٌ مِنَ الرُّومِ فِي جَمْعٍ كَثِيرٍ مِنْ نَصَارَى الْعَرَبِ ; مِنْ بَهْرَاءَ، وَتَنُوخَ، وَبَنِي كَلْبٍ، وَسَلِيحٍ، وَلَخْمٍ، وَجُذَامَ، وَغَسَّانَ، فَتَقَدَّمَ إِلَيْهِمْ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، فَلَمَّا اقْتَرَبَ مِنْهُمْ تَفَرَّقُوا عَنْهُ وَدَخَلَ كَثِيرٌ مِنْهُمْ فِي الْإِسْلَامِ، وَبَعَثَ إِلَى الصِّدِّيقِ يُعَلِمُهُ بِمَا وَقَعَ مِنَ الْفَتْحِ، فَأَمَرَهُ الصِّدِّيقُ أَنْ يَتَقَدَّمَ وَلَا يُحْجِمَ، وَأَمَدَّهُ بِالْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ وَعِكْرِمَةَ بْنِ أَبِي جَهْلٍ، وَجَمَاعَةٍ، فَسَارَ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ آبِلَ، فَالْتَقَى هُوَ وَأَمِيرٌ مَنِ الرُّومِ